
29/07/2025
✍️ চীনের উন্নয়ন থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন....
চীন পৃথিবীর সর্বাধিক জনসংখ্যার দেশ হওয়া সত্ত্বেও যেভাবে দ্রুত উন্নতি করেছে, তা সত্যিই বিস্ময়কর। এর পেছনে তাদের কর্মনিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থে একাগ্রতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তারা বিশ্বাস করে, উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হলো কঠোর পরিশ্রম এবং উদ্ভাবন।
অন্যদিকে, আমাদের বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, দুর্নীতি এবং সম্পদের অপচয়ের কারণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারছি না। রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা এখন যেন সাধারণ ঘটনা। যারা সৎ, তারা হয় দেশের অভাব-অনটনে জর্জরিত, অথবা বিদেশে কর্মসংস্থানের আশায় পাড়ি জমায়। অনেকে আবার শিক্ষা ও সুযোগের অভাবে দেশের বাইরেই থেকে যেতে বাধ্য হন।
বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত প্রবাসীদের রেমিট্যান্স ছাড়া রাষ্ট্র বড় কোনো অবদান পেয়েছে কিনা, তা ভেবে দেখা জরুরি। আমাদের উচিত, চীনের মতো দেশের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া—কীভাবে কর্মনিষ্ঠা ও রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিভঙ্গি বদলে একটি জাতিকে এগিয়ে নেওয়া যায়।
আজ এমন কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠান নেই, যেখানে ‘মেইড ইন চায়না’ পণ্য নেই। প্রযুক্তি, কনস্ট্রাকশন, ইন্ডাস্ট্রি—সবখানেই চীনের সরব উপস্থিতি। তারা এখন শুধু নিজেদের উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফ্লাইওভার, সড়ক, ব্রিজ, বহুতল ভবনসহ অবকাঠামোগত বিনিয়োগ করেও এগিয়ে যাচ্ছে।
আমাদের প্রয়োজন নিজেদের ভেতরের দুর্বলতা চিহ্নিত করে, তা থেকে বেরিয়ে এসে একটি উন্নত ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
আজকের বাংলাদেশে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার, যে রাজনীতির প্রতিযোগিতায় নেই। যেন দেশের ভবিষ্যৎ জাহান্নামেই যাক, কারও কিছু যায় আসে না — সবার মাথায় একটাই চিন্তা: আমার দল, আমার ক্ষমতা।
আমাদের সমাজে এখন দলীয় রাজনীতি এমন এক নেশা, যেখানে দেশ গেলো কোথায়, কে ভাবছে? সবাই ব্যস্ত কে কারে হারাবে, কে ক্ষমতায় যাবে। যেন দেশের দুঃখ-কষ্টের দায় কারও নয়, শুধু দলই আসল! (লেখা: এস এ রানা হামিদ)