15/01/2026
ছবিতে যাকে দেখছেন তিনি লিবিয়ার সাবেক নেতা শহীদ কর্নেল মুয়াম্মার আল গাদ্দাফির কন্যা 'আইশা গাদ্দাফী' যিনি বর্তমানে ওমানে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন।
ইসরায়েল ও আমেরিকার প্রত্যক্ষ মদদে উত্তাল ইরানের জনগণের উদ্দেশে এই নারী, তার জীবনের লদ্ধ অভিজ্ঞতা হতে, নিম্নবর্ণিত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠিয়েছেন:--
“হে দৃঢ়চেতা ও স্বাধীনতাপ্রেমী ইরানের জনগণ!
আমি কথা বলছি এক বিধ্বস্ত, বেদনাভরা ও বিশ্বাসঘাতকতায় ক্ষতবিক্ষত হৃদয় থেকে।
আমি সেই এক নারীর কণ্ঠস্বর, যিনি নিজের দেশকে ধ্বংস হতে দেখেছেন—খোলাখুলি শত্রুর হাতে নয়, বরং পশ্চিমাদের প্রতারণামূলক হাসি ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়ে।
আমি আপনাদের সতর্ক করছি—পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীদের প্রতারণামূলক কথা ও স্লোগানে বিশ্বাস করবেন না।
তারা একসময় আমার পিতা কর্নেল গাদ্দাফিকে বলেছিল,
‘আপনি যদি আপনার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগ করেন, তবে বিশ্বের দরজা আপনার জন্য খুলে যাবে।’
আমার পিতা সৎ উদ্দেশ্য ও সংলাপের প্রতি আস্থা রেখে ছাড় দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা দেখেছি কীভাবে ন্যাটোর বোমাবর্ষণে আমাদের ভূমি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলো। লিবিয়া রক্তে ডুবে গেল, আর তার জনগণ দারিদ্র্য, নির্বাসন ও ধ্বংসের মধ্যে বন্দি হয়ে পড়ল।
হে আমার ইরানি ভাই ও বোনেরা, নিষেধাজ্ঞা, গুপ্তচর ও অর্থনৈতিক যুদ্ধের মুখেও আপনাদের সাহস, মর্যাদা ও দৃঢ়তা প্রমাণ করে—আপনাদের জাতির সম্মান ও প্রকৃত স্বাধীনতা।
শত্রুর কাছে ছাড় দেওয়া মানেই ধ্বংস, বিভাজন ও দুর্ভোগ ডেকে আনা।
নেকড়ের সঙ্গে আলোচনা করলে ভেড়ার রক্ষা হয় না, স্থায়ী শান্তিও আসে না—বরং তা কেবল পরবর্তী খাবারের তারিখ নির্ধারণ করে দেয়!
ইতিহাস প্রমাণ করেছে—যারা দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে ছিল, কিউবা, ভেনেজুয়েলা, উত্তর কোরিয়া থেকে শুরু করে ফিলিস্তিন পর্যন্ত—তারা আজও বিশ্বের বীরদের হৃদয়ে জীবিত এবং সম্মানের সঙ্গে ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।
আর যারা আত্মসমর্পণ করেছিল, তারা ছাই হয়ে গেছে, তাদের নাম হারিয়ে গেছে বিস্মৃতির অতলে।
ইরানের সাহসী জনগণকে সালাম!
ইরানি প্রতিরোধকে সালাম!
ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে বৈশ্বিক সংহতিকে সালাম!"
ভালোবাসা ও সহমর্মিতাসহ,
আইশা গাদ্দাফি”