11/09/2026
যেনার দ্বারা হুরমতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হয়, অর্থাৎ যার সাথে যেনা করা হয়, তার মূল তথা বাবা মা ইত্যাদি ও শাখা তথা সন্তান সন্ততি সে যেনাকারী/যেনাকারিনীর সাথে বিয়ে করা হারাম হয়ে যায়।
যেনার দ্বারা হুরমতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে অস্বীকারকারীদের ভ্রান্ত ধারণা নিরসনে কিছু যৌক্তিক দলিল আলোচনা করা হল। [ যারা সুন্দররূপে গোছানো কালারিং লেখা পড়তে চান, তারা এ পোস্টটি আমাদের ওয়েবসাইটে পড়ুন। লিংক কমেন্টে। ]
🔸**এক |**
যারা বলেন, যেনার দ্বারা সম্পর্ক হারাম হয়না। তাদেরকে যদি প্রশ্ন করা হয় যে, কেউ যদি প্রেমিকার সাথে যেনা করার পর কন্যা জন্ম নেয়, তাহলে সে ব্যক্তি সেই কন্যাকে বিয়ে করতে পারবে কিনা?
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল র; কে এ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন— “নাউযুবিল্লাহ! সে তার মেয়েকে বিয়ে করবে?!” *(মাসায়িলুল ইমাম আহমদ, পৃ:৩৩১)*
وفي "مسائل الإمام أحمد من رواية ابنه عبد الله"، ص331: " سَأَلت أبي عَن رجل زنا بِامْرَأَة فَجَاءَت بابنة من فجور، ثمَّ كَبرت الِابْنَة، هَل يجوز أن يتَزَوَّج بهَا؟
قَالَ: معَاذ الله؛ يتَزَوَّج ابْنَته! هَذَا قَول سوء"
তাহলে আপনারা যারা বলেন- যেনার দ্বারা সম্পর্ক হারাম হয়না, তারা কি তার যেনার দ্বারা জন্ম নেয়া কন্যকে বিয়ে করা হারাম মনে করেন না? যদি হারাম মরে করেন, তাহলে তো মেনেই নিলেন যে, যেনার দ্বারাও সম্পর্ক হারাম হয়। এটাই হল হুরমতে মুসাহারাহ। আর যদি হারাম মনে না করেন, তাহলে জেনে রাখুন- এটা হবে ইসলামের নামে চরম নিকৃষ্ট চিন্তা ধারা!
🔸**দুই |**
অনেকে যুক্তি তোলেন যে, যেনার দ্বারা দোষ করলো একজন, অথচ অন্যকে শাস্তি পোহাতে হবে কেন? অথচ কারো দোষে অন্যকে শাস্তি দেয়া তো জুলুম!
আমরা বলবো—
কোন চোরকে তার চুরির অপরাধে হাত কেটে দিলে তার তো ইনকাম বন্ধ হয়ই, তার পরিবারও তখন সে শাস্তির কারণে কষ্টে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করতে পারে। তাদের ইনকাম সোর্স কমে যায় কিংবা প্রচন্ড হয়রানিতে পড়তে হয়। তখন কি কুরআনের বিধানে এই আপত্তি তুলবেন যে, একজনের দোষের শাস্তি পুরো পরিবার কেন পাচ্ছে?
অথবা কাউকে ব্যভিচারের শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদন্ড দেয়ক হলে তার পরিবারের অনেক কষ্ট হয়, আর সে ব্যক্তি যদি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হয়, তাহলে তার মৃত্যুতে পরিবারের অবস্থা কোথায় দাঁড়ায়?? এখানে কি বলবেন যে— একজনের দোষের শাস্তি তার পরিবার কেন পাবে? এসব তো জুলুম? এসব বলবেন কি?
জেনে রাখুন, প্রতিটি গুনাহের একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। সেটা অন্যদেরকেও ভোগায়! যেমন কেউ যেনা করলে বা কবিরা গুনাহ করতে থাকলে রহমত উঠে যেতে থাকে, গযব পড়ে! অথচ সেখানে দ্বীনদার ব্যক্তি থাকলে তাকেও অন্যদের পাপের গযবে নিপতিত হতে হয়। বনী ইসরায়েলের এক দরবেশের ঘটনা তো জানাই যে, অন্যদের পাপের গযবের কারণে তাকেসহ উল্টিয়ে দেয়া হয়েছিল।
🔸**তিন |**
একদল একটি হাদিস দেখিয়ে হুরমতে মুসাহারাতের বিরোধীতা করে। হাদিসটি হল—
“হারাম হালালকে হারাম করতে পারে না।“* (ইবনে মাজাহ)*
এটি কি ঢালাওভাবে সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? তাহলে উপরের যুক্তিটি খেয়াল করলেই বুঝবেন হাদিসটি সবক্ষেত্রেই নয়। বরং তা নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে অথবা ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। (প্রয়োজনে আবার পড়ে নিন উপরের যুক্তিটি।)
আরেকটি উদাহরণ টানি। পেশাব হারাম, দুধ হালাল। যদি সে হালাল দুধের মাঝে হারাম পেশাবের অংশ প্রবেশ করে, তাহলে কি দুধ হারাম হবে না? এখানে তো দেখাই যাচ্ছে হারাম হালালকেও হারাম করে দিল!
তদ্রুপ পিতা যদি পুত্রের হালাল লজ্জাস্থানে হারাম পানি প্রবেশ করায়, তখন সেখানে পিতার অংশ স্থাপিত হল। সুতরাং পিতার অংশ হওয়াতে সে যৌনাঙ্গ পুত্রের জন্যও হারাম হয়ে গেল। পিতার জন্য তো আগ থেকে হারাম ছিলই।
সবারই তো জানা যে, কোন বাচ্চা যে নারীর দুধ খাবে, সেই তারজন্য হারাম হয়ে যায়, সে নারীর মা কন্যাকেও বিয়ে করা হারাম হয়ে যায়। কারণ কি? বাচ্চার মধ্যে অংশ প্রবেশ করা। এজন্য যার সহবাসের কারণে দুধ আসলো, সে পুরুষও ঐ দুধ পানকারী বাচ্চার জন্য হারাম হয়ে যায়। আয়েশা রা: বিষয়টি যখন না বুঝে রাসূলকে ﷺ প্রশ্ন করলেন যে- “তিনি তো পুরুষের দুধ খাননি, তাহলে পুরুষ কেন হারাম হবে?” তখন রাসূল ﷺ যুক্তি দিয়েছিলেন যে, নারীর স্তনে দুধ এসেছে তো সে পুরুষের সহবাসের কারণেই। তাই সে পুরুষও মাহরাম হয়ে গেছে।
তাই যেনা করার ফলে কারো বুকে দুধ আসলে সে দুধপানকারী সকল বাচ্চার সাথে ঐ যেনাকারী পুরুষ নারীর বিয়ে হারাম হয়ে যায়। *(আল-ফিকহু আলাল মাযাহিবিল আরবাআহ-৪/৬৩)*
আর যখন বুঝাই যাচ্ছে যে, যেই অংশ প্রবেশের কারণে দুধ আসলে সেটা পান করলেও সম্পর্ক হারাম হয়ে যায়, তাহলে সে পানি (বীর্য) আরোও উত্তমরূপে বিয়ে করাকে হারাম করে দেয়।
হারাম হালালকে হারাম করতে পারে না, এটি সম্পর্কে
মজা করে অঙ্কের সূত্র অনুযায়ীও যদি চিন্তা করি, তাহলে হারাম হল মাইনাস (-), আর হালাল হল প্লাস (+)। আর আমরা সবাই জানি, (-)+(+)=(-) অর্থাৎ মাইনাস আর প্লাস একত্রিত হলে তা মাইনাস হয়। মানে হালাল হারাম একত্রিত হলে তা হারাম হয়ে যায়।
তাই বুঝা গেল, হাদিসটি সবক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। তাহলে হাদিসটির ব্যাখ্যা কি? চলুন জেনে নিই।
ইবনে জুরাইজ র: বলেন, আতা র: কে জিজ্ঞেস করা হল-
“বলা হয়ে থাকে: ‘কোনো হারাম কাজ হালালকে হারাম করে দেয় না।’ তিনি বলেন: ‘এর অর্থ হলো—কোনো ব্যক্তি যদি কোনো দাসীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত থাকে এবং পরবর্তীতে তাকে কিনে নেয়; অথবা কোনো স্বাধীন নারীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়ে পরবর্তীতে তাকে বিবাহ করে, তবে সে পূর্বে যে কাজ (ব্যভিচার) করেছিল, তার কারণে পরবর্তীতে তা (বিবাহের মাধ্যমে সহবাস) হারাম হয়ে যায় না।” *(মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক-৭/১৯৮)*
يُقَالُ :لَا يُحَرِّمُ حَرَامٌ حَلَالًا ؟ قَالَ : " ذَلِكَ فِي الْأَمَةِ كَانَ يَبْغِي بِهَا ، ثُمَّ يَبْتَاعُهَا - أَوْ يَبْغِي بِالْحُرَّةِ - ثُمَّ يَنْكِحُهَا فَلَا يَحْرُمُ حِينَئِذٍ مَا كَانَ صَنَعَ مِنْ ذَلِكَ
🔸**চার |**
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন,
وَلاَ تَنكِحُواْ مَا نَكَحَ آبَاؤُكُم مِّنَ النِّسَاء إِلاَّ مَا قَدْ سَلَفَ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَمَقْتاً وَسَاء سَبِيلاً
“আর তোমাদের পিতা যেসব স্ত্রীলোককে নিকাহ করেছে, তাদেরকে কোনোক্রমেই নিকাজ করো না; তবে পূর্বে যা হয়ে গেছে তা হয়ে গেছে। আসলে এটা একটা নির্লজ্জতাপ্রসূত কাজ, অত্যন্ত ঘৃণ্য ও নিকৃষ্ট আচরণ। এমনকি এটি একটি পাপ ও আল্লাহর ক্রোধের কারণ।” *(সূরা নিসা:২২)*
**প্রথম ব্যাখ্যা:**
আয়াতটিতে বিবাহের দ্বারা হারাম হওয়া দুইভাবে।
১. শুধুমাত্র বিবাহের আকদ সংঘটিত হবার দ্বারা হারাম হয়। যেমন: সূরা নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে শাশুড়ীকে বিয়ে হারাম বলা হয়েছে।
২. শুধুমাত্র বিয়ের আকদের দ্বারা হারাম হয়না, বরং বিয়ের পর সহবাস করা হলে তারপর হারাম হয়। যেমন: স্ত্রীর আগের স্বামীর সাথে বিবাহে থাকাবস্থায় স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নেয়া কন্যা। *(সূরা নিসা:২৩)*
খেয়াল করুন- শাশুড়ী হারাম হচ্ছে এ কারণে যে, বিয়ের সাথে সাথেই সে স্বামীর মা হয়ে যাচ্ছে। তাই মাকে বিয়ে করা হারাম। কিন্তু স্ত্রীর আগের স্বামীর সাথে বিবাহে থাকাবস্থায় স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নেয়া কন্যা বিয়ের দ্বারাও হারাম হচ্ছে না। বরং স্ত্রীর যৌনাঙ্গে দ্বিতীয় স্বামীর অংশ প্রবেশ করার মাধ্যমে তার কন্যা হারাম হচ্ছে।
যেহেতু নারীর যৌনাঙ্গে পুরুষের অংশ প্রবেশ করাতে তার আগের কন্যা হারাম হয়ে যাচ্ছে, ঠিক এভাবে যেনার দ্বারাও অংশ প্রবেশ করলে সে নারীর কন্যা ইত্যাদি তারা হারাম হয়ে যাচ্ছে। এটাই হুরমতে মুসাহারাহ।
একটি হাদিস দেখলে এটা বুঝে আসবে। রাসূল ﷺ বলেন, لا ينظر الله إلى رجلٍ، نَظَرَ إلى فرْج امرأة وابنتها
অর্থাৎ, “আল্লাহ এমন ব্যক্তির দিকে তাকাবেন না, যে কোন নারীর লজ্জাস্থানে ও সে নারীর কন্যার লজ্জাস্থানে দৃষ্টিপাত করে।”
আল্লাহ কিন্তু সূরা নিসা:২৩ এ বলেছেন বিয়ের পর সহবাস ছাড়া স্ত্রীর আগের বিয়েতে জন্ম নেয়া কন্যা হারাম হয়না। কিন্তু হাদিসে স্ত্রী উল্লেখ না করে امرأة উল্লেখ করা হয়েছে, মানে স্ত্রী অথবা যে কোন নারী। আর এখানে সহবাস করার কথা বলা হয়নি, বরং লজ্জাস্থানে তাকালেই তার কন্যার লজ্জাস্থানে আর তাকানো যাবে না। মানে হুরমতে মুসাহারাহ হয়ে গেছে। রাসূল স্ত্রী কিংবা সে স্বামীর বিবাহিত হতে হবে এমন কিছু বলেননি।
সুতরাং হাদিসটি প্রমাণ করে যে, কুরআনে সূরা নিসা:২২ আয়াতে وَلاَ تَنكِحُواْ مَا نَكَحَ آبَاؤُكُم مِّنَ النِّسَاء অর্থাৎ, “তোমরা নিকাহ করো না যাদেরকে তোমাদের বাবা নিকাহ করেছে” আয়াতটি শুধুমাত্র বিয়ের কথা নয়, বরং লজ্জাস্থানে তাকালেও হারাম হয়। এমন ব্যাখ্যা আমরা হাদিস থেকে পেলাম।
**দ্বিতীয় ব্যাখ্যা:**
আয়াতটিতে নিকাহ (نكاح) শব্দ উল্লেখ করা হয়েছে, যেওয়াজ (زواج) শব্দ নয়।
এ দুটো শব্দের পার্থক্য বুঝুন আগে। নিকাহ শব্দের হাকিকি বা মূল অর্থ হল সহবাস করা। এটি রূপক অর্থে বিবাহ ব্যবহৃত হয়। কারণ বিয়ের দ্বারা সহবাসই উদ্দেশ্য হয়। (ফাতহুল কাদীর-৩/১৮৫, আল-ইনসাফ-৮/৪, আল-মুবদি’-৬/৮২) আর যেওয়াজ শব্দের অর্থ বিবাহ। বা স্বামী স্ত্রী বানানো।
নিকাহ শব্দের মূল অর্থ সহবাস, তা আমরা হাদিসেই পাই।
**হাদিস-১:**
রাসূল ﷺ কারো হায়েযগ্রস্ত স্ত্রী সম্পর্কে বলেন,
اصنعوا كل شيء إلا النكاح
“তোমরা তারসাথে সব করতে পারো নিকাহ ব্যতীত।”
*(সহীহ মুসলিম-৩০২)*
এখানে নিজের বিবাহিত স্ত্রীকে নিশ্চয়ই আবার বিয়ে করতে বলেননি, অথবা বিয়ে ছাড়া অনৈতিক কাজ করতে বলেননি, বরং নিকাহ অর্থ এখানে সহবাস। মানে তোমার হায়েযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে নিকাহ (সহবাস) ছাড়া সবকিছু করতে পারো।
**হাদিস-২:**
“সাত ব্যক্তির প্রতি কেয়ামতে আল্লাহ দৃষ্টি দেবেন না....যে নিজের হাতকে নিকাহ করে, পশুকে নিকাহ করে, স্ত্রীর পেছনের রাস্তায় নিকাহ করে।”
*(তাফসীরে ইবনে কাসির-১/৩৮৫, আত-তালখীসুল হাবীর-৩/১২১৬, ضعيف)*
নিজ হাতকে, পশুকে, স্ত্রীর নিতম্বকে তো বিয়ে করা যায়না, সুতরাং এখানে নিকাহ করার দ্বারা উদ্দেশ্য সহবাস করা।
সুতরাং বুঝা গেল, নিকাহ শব্দের মূল অর্থ সহবাস।
সূরা নিসা:২২ আয়াতে وَلاَ تَنكِحُواْ مَا نَكَحَ آبَاؤُكُم مِّنَ النِّسَاء অর্থাৎ, “তোমরা নিকাহ করো না যাদেরকে তোমাদের বাবা নিকাহ করেছে” এখানে শুধু বিবাহ উদ্দেশ্য নয়, বরং যেনার দ্বারা সহবাস হলেও হারাম হয়ে যাবে। তাকে আর বিয়ে করা যাবে না।
আর আমরা আগেই দেখিয়েছি যে, সহবাসের দ্বারা নারীর লজ্জাস্থানে পুরুষের অংশ প্রবিষ্ট হয়। ফলে সে লজ্জাস্থানধারী নারীর সাথে হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হয়ে যায়।
এজন্য বহু সাহাবী তাবেয়ী ও ইমামগণের ফতোয়া এটাই যে, যেনার দ্বারা হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হয়। এর বিবরণ সামনে আসছে।
🔸**পাঁচ |**
হুরমতে মুসাহারা কি শুধু হানাফীদের ফতোয়া?
এ ধারণা একদম ভুল। বরং এটি
— হানাফী মাযহাবের ফতোয়া *(আল-বিনায়া-৫/৩৩, আল-ফিকহু আলাল মাযাহিবিল আরবাআহ-৪/৬২)*
— হাম্বলী মাযহাবের ফতোয়া *(ইবনু আবী শায়বা, আল-বিনায়া-৫/৩৩, আল-ফিকহু আলাল মাযাহিবিল আরবাআহ-৪/৬৬)*
— ইমাম মালেক এর একটি মত অনুযায়ী *(আল-মুদাওয়ানা, ইবনু আবী শায়বা, আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
— বহু সাহাবী তাবেয়ীগণের ফতোয়া। তন্মধ্যে রয়েছেন:
১. হযরত ইমরান বিন হুসাইন রাঃ। *(আহকামুল কুরআন লিররাজী-২/১৩৭, আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
২. হযরত উবাই বিন কা’ব রাঃ। *(ইলাউস সুনান-১১/২০, আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
৩. হযরত উমর রাঃ। *(আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
৪. হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ। *(আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
৫. হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ। [সহীহ কওল অনুপাতে] *(আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
৬. জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ। *(আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
৭. হযরত আয়েশা রাঃ। *(আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
৮. হাসান বসরী রহঃ। *(আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
১০. উরওয়া বিন যুবায়ের রঃ।* (মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক-৭/১৯৮ (১২৭৩৩)*
১১. কাতাদা বিন দাআমা রহঃ।
১২. সাঈদ বিন মুসাইয়িব রহঃ। *(মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক-৭/১৯৮ (১২৭৩৩), আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
১৩. সুলাইমান বিন ইয়াসার রহঃ। *(আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
১৪. সালেম বিন আব্দুল্লাহ রহঃ। *(আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
১৫. মুজাহিদ রহঃ। *(ইবনু আবী শায়বা-১৬৪৯৮, ৯/৯৯)*
১৬. আতা রহঃ। *(ইবনু আবী শায়বা-১৬৪৯৮, ৯/৯৯)*
১৭. ইবরাহীম নাখয়ী রহঃ। *(ইবনু আবী শায়বা-৯/১০০ (১৬৪৯০), আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
১৮. আমের রহঃ*। (আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
১৯. হাম্মাদ রহঃ। *(আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
২০. শাবী রহঃ। *(আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
এছাড়াও রয়েছেন, ইমাম মুহাম্মদ রহঃ, ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ, ইমাম যুফার রহঃ, ইমাম সুফিয়ান বিন সাঈদ সওরী রহঃ, ইমাম আওযায়ী রহঃ, জাবের বিন জায়েদ রহঃ, তাউস রহঃ, ইমাম ইসহাক রহঃ প্রমূখ মুহাদ্দিস ও ফক্বহগণ।
*(আহকামুল কুরআন লিলজাসসাস, উমদাতুল কারী, ফাতহুল কাদীর, আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
সুতরাং এটি শুধু হানাফীদের ফতোয়া, এমন দাবি করা স্পষ্ট মিথ্যাচার।
🔸ছয় |
ولنا أن الوطء سبب الجزئية
যুক্তির নিরিখে হুরমাতে মুসাহারাতের মূল কারণ হল সহবাসকারীর অংশ হওয়া। *(আল-বিনায়া-৫/৩৩)* যার সাথে সহবাস করা হয়, তার মাঝে সহবাসকারীর একটি অংশ থাকে। পিতা যদি কারো সাথে সহবাস করে, তাহলে উক্ত মহিলার মাঝে পিতার একটি অংশ চলে যায়, আর সন্তানও পিতার একটি অংশ। আর এক অংশ অন্য অংশকে বিবাহ করতে পারে না। এ কারণে পিতা যার সাথে সহবাস করবে, সন্তানের জন্য উক্ত মহিলা হারাম হয়ে যাবে। তাহলে বুঝা গেল, হুরমাতের মূল কারণ হল অংশ হওয়া তথা বাচ্চা হওয়া। আর যেহেতু বাচ্চা হওয়াটি দেখা যায় না, এটি লুকায়িত বিষয়। তাই হুরমাতে মুসাহারাতের বাহ্যিক কারণ ধরা হয় বিবাহকে। তথা বিয়ের মাধ্যমে হুরমাতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হয়ে যায়।আর একথাতো পরিস্কার যে, বাচ্চা হওয়া হুরমতে মুসাহারাতের মূল কারণ হলেও তা লুকায়িত থাকায় বিয়েকে রাখা হয়েছে তার বাহ্যিক কারণ। তাহলে বিবাহ ছাড়াই যদি বাচ্চা হওয়ার কারণ পাওয়া যায়, তাহলে কেন হুরমাতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হবে না? যেখানে দূরবর্তী কারণ বিবাহকে হুরমাতে মুসাহারাতের কারণ সাব্যস্ত করা হয়েছে, সেখানে নিশ্চিত ও মূল কারণ পাওয়া যাওয়া সত্বেও হুরমাত সাব্যস্ত না করার কি যৌক্তিকতা থাকতে পারে? এ কারণেই যেহেতু পিতা ছেলের স্ত্রীর সাথে জিনা করেছে, এ কারণে উক্ত স্ত্রী ছেলের জন্য হারাম হয়ে গেছে।
সুতরাং, যেনার দ্বারা হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হয়; এটি একটি প্রমাণিত বিষয়।
📌
তাহকীক ও গবেষণায়
**মুফতি রাকিবুল ইসলাম হোযায়ফী**
*প্রধান মুফতি, মারকাযুল বাইয়্যিনাত ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।*
*মাস্টার্স (দাওরা) ইন হাদিস এন্ড ফিকহ, দারুল ঊলূম হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।*
*এমফিল (ইফতা / ইসলামী আইন ও বিচারবিভাগ), দারুল ঊলূম হাটহাজারী।*
*জাস্টিস কোর্স (হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি, আমেরিকা (by HarvardX) ও ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আমেরিকা (by BerkeleyX)*