A Temporary passenger

A Temporary passenger I want to be a bee to gather knowledge.

সবসময় মানুষের কাছ থেকে ভালোবাসা,বোঝাপড়া কিংবা প্রতিদান আশা করবেন না।কারণ মানুষ বদলে যায়।মানুষ দূরে চলে যায়।মানুষ কখনো কখ...
14/09/2026

সবসময় মানুষের কাছ থেকে ভালোবাসা,
বোঝাপড়া কিংবা প্রতিদান আশা করবেন না।

কারণ মানুষ বদলে যায়।
মানুষ দূরে চলে যায়।
মানুষ কখনো কখনো আপনার সবচেয়ে কাছের হয়েও আপনাকে কষ্ট দিতে পারে।

কিন্তু আল্লাহ কখনো বদলে যান না।

তাই মানুষের ভালোবাসা হারিয়ে ভেঙে পড়বেন না।

যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর ভালোবাসাই আপনার জন্য যথেষ্ট।

আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন।
আপনার জন্য যা লেখা আছে, তা কোনো মানুষ আটকাতে পারবে না। 🤍

যেনার দ্বারা হুরমতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হয়, অর্থাৎ যার সাথে যেনা করা হয়, তার মূল তথা বাবা মা ইত্যাদি ও শাখা তথা সন্তান সন...
11/09/2026

যেনার দ্বারা হুরমতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হয়, অর্থাৎ যার সাথে যেনা করা হয়, তার মূল তথা বাবা মা ইত্যাদি ও শাখা তথা সন্তান সন্ততি সে যেনাকারী/যেনাকারিনীর সাথে বিয়ে করা হারাম হয়ে যায়।

যেনার দ্বারা হুরমতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে অস্বীকারকারীদের ভ্রান্ত ধারণা নিরসনে কিছু যৌক্তিক দলিল আলোচনা করা হল। [ যারা সুন্দররূপে গোছানো কালারিং লেখা পড়তে চান, তারা এ পোস্টটি আমাদের ওয়েবসাইটে পড়ুন। লিংক কমেন্টে। ]

🔸**এক |**

যারা বলেন, যেনার দ্বারা সম্পর্ক হারাম হয়না। তাদেরকে যদি প্রশ্ন করা হয় যে, কেউ যদি প্রেমিকার সাথে যেনা করার পর কন্যা জন্ম নেয়, তাহলে সে ব্যক্তি সেই কন্যাকে বিয়ে করতে পারবে কিনা?
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল র; কে এ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন— “নাউযুবিল্লাহ! সে তার মেয়েকে বিয়ে করবে?!” *(মাসায়িলুল ইমাম আহমদ, পৃ:৩৩১)*
وفي "مسائل الإمام أحمد من رواية ابنه عبد الله"، ص331: " سَأَلت أبي عَن رجل زنا بِامْرَأَة فَجَاءَت بابنة من فجور، ثمَّ كَبرت الِابْنَة، هَل يجوز أن يتَزَوَّج بهَا؟
قَالَ: معَاذ الله؛ يتَزَوَّج ابْنَته! هَذَا قَول سوء"
তাহলে আপনারা যারা বলেন- যেনার দ্বারা সম্পর্ক হারাম হয়না, তারা কি তার যেনার দ্বারা জন্ম নেয়া কন্যকে বিয়ে করা হারাম মনে করেন না? যদি হারাম মরে করেন, তাহলে তো মেনেই নিলেন যে, যেনার দ্বারাও সম্পর্ক হারাম হয়। এটাই হল হুরমতে মুসাহারাহ। আর যদি হারাম মনে না করেন, তাহলে জেনে রাখুন- এটা হবে ইসলামের নামে চরম নিকৃষ্ট চিন্তা ধারা!

🔸**দুই |**

অনেকে যুক্তি তোলেন যে, যেনার দ্বারা দোষ করলো একজন, অথচ অন্যকে শাস্তি পোহাতে হবে কেন? অথচ কারো দোষে অন্যকে শাস্তি দেয়া তো জুলুম!
আমরা বলবো—
কোন চোরকে তার চুরির অপরাধে হাত কেটে দিলে তার তো ইনকাম বন্ধ হয়ই, তার পরিবারও তখন সে শাস্তির কারণে কষ্টে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করতে পারে। তাদের ইনকাম সোর্স কমে যায় কিংবা প্রচন্ড হয়রানিতে পড়তে হয়। তখন কি কুরআনের বিধানে এই আপত্তি তুলবেন যে, একজনের দোষের শাস্তি পুরো পরিবার কেন পাচ্ছে?
অথবা কাউকে ব্যভিচারের শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদন্ড দেয়ক হলে তার পরিবারের অনেক কষ্ট হয়, আর সে ব্যক্তি যদি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হয়, তাহলে তার মৃত্যুতে পরিবারের অবস্থা কোথায় দাঁড়ায়?? এখানে কি বলবেন যে— একজনের দোষের শাস্তি তার পরিবার কেন পাবে? এসব তো জুলুম? এসব বলবেন কি?
জেনে রাখুন, প্রতিটি গুনাহের একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। সেটা অন্যদেরকেও ভোগায়! যেমন কেউ যেনা করলে বা কবিরা গুনাহ করতে থাকলে রহমত উঠে যেতে থাকে, গযব পড়ে! অথচ সেখানে দ্বীনদার ব্যক্তি থাকলে তাকেও অন্যদের পাপের গযবে নিপতিত হতে হয়। বনী ইসরায়েলের এক দরবেশের ঘটনা তো জানাই যে, অন্যদের পাপের গযবের কারণে তাকেসহ উল্টিয়ে দেয়া হয়েছিল।

🔸**তিন |**

একদল একটি হাদিস দেখিয়ে হুরমতে মুসাহারাতের বিরোধীতা করে। হাদিসটি হল—
“হারাম হালালকে হারাম করতে পারে না।“* (ইবনে মাজাহ)*

এটি কি ঢালাওভাবে সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? তাহলে উপরের যুক্তিটি খেয়াল করলেই বুঝবেন হাদিসটি সবক্ষেত্রেই নয়। বরং তা নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে অথবা ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। (প্রয়োজনে আবার পড়ে নিন উপরের যুক্তিটি।)

আরেকটি উদাহরণ টানি। পেশাব হারাম, দুধ হালাল। যদি সে হালাল দুধের মাঝে হারাম পেশাবের অংশ প্রবেশ করে, তাহলে কি দুধ হারাম হবে না? এখানে তো দেখাই যাচ্ছে হারাম হালালকেও হারাম করে দিল!

তদ্রুপ পিতা যদি পুত্রের হালাল লজ্জাস্থানে হারাম পানি প্রবেশ করায়, তখন সেখানে পিতার অংশ স্থাপিত হল। সুতরাং পিতার অংশ হওয়াতে সে যৌনাঙ্গ পুত্রের জন্যও হারাম হয়ে গেল। পিতার জন্য তো আগ থেকে হারাম ছিলই।
সবারই তো জানা যে, কোন বাচ্চা যে নারীর দুধ খাবে, সেই তারজন্য হারাম হয়ে যায়, সে নারীর মা কন্যাকেও বিয়ে করা হারাম হয়ে যায়। কারণ কি? বাচ্চার মধ্যে অংশ প্রবেশ করা। এজন্য যার সহবাসের কারণে দুধ আসলো, সে পুরুষও ঐ দুধ পানকারী বাচ্চার জন্য হারাম হয়ে যায়। আয়েশা রা: বিষয়টি যখন না বুঝে রাসূলকে ﷺ প্রশ্ন করলেন যে- “তিনি তো পুরুষের দুধ খাননি, তাহলে পুরুষ কেন হারাম হবে?” তখন রাসূল ﷺ যুক্তি দিয়েছিলেন যে, নারীর স্তনে দুধ এসেছে তো সে পুরুষের সহবাসের কারণেই। তাই সে পুরুষও মাহরাম হয়ে গেছে।

তাই যেনা করার ফলে কারো বুকে দুধ আসলে সে দুধপানকারী সকল বাচ্চার সাথে ঐ যেনাকারী পুরুষ নারীর বিয়ে হারাম হয়ে যায়। *(আল-ফিকহু আলাল মাযাহিবিল আরবাআহ-৪/৬৩)*

আর যখন বুঝাই যাচ্ছে যে, যেই অংশ প্রবেশের কারণে দুধ আসলে সেটা পান করলেও সম্পর্ক হারাম হয়ে যায়, তাহলে সে পানি (বীর্য) আরোও উত্তমরূপে বিয়ে করাকে হারাম করে দেয়।
হারাম হালালকে হারাম করতে পারে না, এটি সম্পর্কে
মজা করে অঙ্কের সূত্র অনুযায়ীও যদি চিন্তা করি, তাহলে হারাম হল মাইনাস (-), আর হালাল হল প্লাস (+)। আর আমরা সবাই জানি, (-)+(+)=(-) অর্থাৎ মাইনাস আর প্লাস একত্রিত হলে তা মাইনাস হয়। মানে হালাল হারাম একত্রিত হলে তা হারাম হয়ে যায়।

তাই বুঝা গেল, হাদিসটি সবক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। তাহলে হাদিসটির ব্যাখ্যা কি? চলুন জেনে নিই।

ইবনে জুরাইজ র: বলেন, আতা র: কে জিজ্ঞেস করা হল-
“বলা হয়ে থাকে: ‘কোনো হারাম কাজ হালালকে হারাম করে দেয় না।’ তিনি বলেন: ‘এর অর্থ হলো—কোনো ব্যক্তি যদি কোনো দাসীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত থাকে এবং পরবর্তীতে তাকে কিনে নেয়; অথবা কোনো স্বাধীন নারীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়ে পরবর্তীতে তাকে বিবাহ করে, তবে সে পূর্বে যে কাজ (ব্যভিচার) করেছিল, তার কারণে পরবর্তীতে তা (বিবাহের মাধ্যমে সহবাস) হারাম হয়ে যায় না।” *(মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক-৭/১৯৮)*
يُقَالُ :لَا يُحَرِّمُ حَرَامٌ حَلَالًا ؟ قَالَ : " ذَلِكَ فِي الْأَمَةِ كَانَ يَبْغِي بِهَا ، ثُمَّ يَبْتَاعُهَا - أَوْ يَبْغِي بِالْحُرَّةِ - ثُمَّ يَنْكِحُهَا فَلَا يَحْرُمُ حِينَئِذٍ مَا كَانَ صَنَعَ مِنْ ذَلِكَ

🔸**চার |**

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন,
وَلاَ تَنكِحُواْ مَا نَكَحَ آبَاؤُكُم مِّنَ النِّسَاء إِلاَّ مَا قَدْ سَلَفَ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَمَقْتاً وَسَاء سَبِيلاً
“আর তোমাদের পিতা যেসব স্ত্রীলোককে নিকাহ করেছে, তাদেরকে কোনোক্রমেই নিকাজ করো না; তবে পূর্বে যা হয়ে গেছে তা হয়ে গেছে। আসলে এটা একটা নির্লজ্জতাপ্রসূত কাজ, অত্যন্ত ঘৃণ্য ও নিকৃষ্ট আচরণ। এমনকি এটি একটি পাপ ও আল্লাহর ক্রোধের কারণ।” *(সূরা নিসা:২২)*

**প্রথম ব্যাখ্যা:**

আয়াতটিতে বিবাহের দ্বারা হারাম হওয়া দুইভাবে।
১. শুধুমাত্র বিবাহের আকদ সংঘটিত হবার দ্বারা হারাম হয়। যেমন: সূরা নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে শাশুড়ীকে বিয়ে হারাম বলা হয়েছে।
২. শুধুমাত্র বিয়ের আকদের দ্বারা হারাম হয়না, বরং বিয়ের পর সহবাস করা হলে তারপর হারাম হয়। যেমন: স্ত্রীর আগের স্বামীর সাথে বিবাহে থাকাবস্থায় স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নেয়া কন্যা। *(সূরা নিসা:২৩)*
খেয়াল করুন- শাশুড়ী হারাম হচ্ছে এ কারণে যে, বিয়ের সাথে সাথেই সে স্বামীর মা হয়ে যাচ্ছে। তাই মাকে বিয়ে করা হারাম। কিন্তু স্ত্রীর আগের স্বামীর সাথে বিবাহে থাকাবস্থায় স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নেয়া কন্যা বিয়ের দ্বারাও হারাম হচ্ছে না। বরং স্ত্রীর যৌনাঙ্গে দ্বিতীয় স্বামীর অংশ প্রবেশ করার মাধ্যমে তার কন্যা হারাম হচ্ছে।
যেহেতু নারীর যৌনাঙ্গে পুরুষের অংশ প্রবেশ করাতে তার আগের কন্যা হারাম হয়ে যাচ্ছে, ঠিক এভাবে যেনার দ্বারাও অংশ প্রবেশ করলে সে নারীর কন্যা ইত্যাদি তারা হারাম হয়ে যাচ্ছে। এটাই হুরমতে মুসাহারাহ।
একটি হাদিস দেখলে এটা বুঝে আসবে। রাসূল ﷺ বলেন, لا ينظر الله إلى رجلٍ، نَظَرَ إلى فرْج امرأة وابنتها
অর্থাৎ, “আল্লাহ এমন ব্যক্তির দিকে তাকাবেন না, যে কোন নারীর লজ্জাস্থানে ও সে নারীর কন্যার লজ্জাস্থানে দৃষ্টিপাত করে।”
আল্লাহ কিন্তু সূরা নিসা:২৩ এ বলেছেন বিয়ের পর সহবাস ছাড়া স্ত্রীর আগের বিয়েতে জন্ম নেয়া কন্যা হারাম হয়না। কিন্তু হাদিসে স্ত্রী উল্লেখ না করে امرأة উল্লেখ করা হয়েছে, মানে স্ত্রী অথবা যে কোন নারী। আর এখানে সহবাস করার কথা বলা হয়নি, বরং লজ্জাস্থানে তাকালেই তার কন্যার লজ্জাস্থানে আর তাকানো যাবে না। মানে হুরমতে মুসাহারাহ হয়ে গেছে। রাসূল স্ত্রী কিংবা সে স্বামীর বিবাহিত হতে হবে এমন কিছু বলেননি।

সুতরাং হাদিসটি প্রমাণ করে যে, কুরআনে সূরা নিসা:২২ আয়াতে وَلاَ تَنكِحُواْ مَا نَكَحَ آبَاؤُكُم مِّنَ النِّسَاء অর্থাৎ, “তোমরা নিকাহ করো না যাদেরকে তোমাদের বাবা নিকাহ করেছে” আয়াতটি শুধুমাত্র বিয়ের কথা নয়, বরং লজ্জাস্থানে তাকালেও হারাম হয়। এমন ব্যাখ্যা আমরা হাদিস থেকে পেলাম।

**দ্বিতীয় ব্যাখ্যা:**

আয়াতটিতে নিকাহ (نكاح) শব্দ উল্লেখ করা হয়েছে, যেওয়াজ (زواج) শব্দ নয়।
এ দুটো শব্দের পার্থক্য বুঝুন আগে। নিকাহ শব্দের হাকিকি বা মূল অর্থ হল সহবাস করা। এটি রূপক অর্থে বিবাহ ব্যবহৃত হয়। কারণ বিয়ের দ্বারা সহবাসই উদ্দেশ্য হয়। (ফাতহুল কাদীর-৩/১৮৫, আল-ইনসাফ-৮/৪, আল-মুবদি’-৬/৮২) আর যেওয়াজ শব্দের অর্থ বিবাহ। বা স্বামী স্ত্রী বানানো।
নিকাহ শব্দের মূল অর্থ সহবাস, তা আমরা হাদিসেই পাই।

**হাদিস-১:**
রাসূল ﷺ কারো হায়েযগ্রস্ত স্ত্রী সম্পর্কে বলেন,
اصنعوا كل شيء إلا النكاح
“তোমরা তারসাথে সব করতে পারো নিকাহ ব্যতীত।”
*(সহীহ মুসলিম-৩০২)*
এখানে নিজের বিবাহিত স্ত্রীকে নিশ্চয়ই আবার বিয়ে করতে বলেননি, অথবা বিয়ে ছাড়া অনৈতিক কাজ করতে বলেননি, বরং নিকাহ অর্থ এখানে সহবাস। মানে তোমার হায়েযগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে নিকাহ (সহবাস) ছাড়া সবকিছু করতে পারো।
**হাদিস-২:**
“সাত ব্যক্তির প্রতি কেয়ামতে আল্লাহ দৃষ্টি দেবেন না....যে নিজের হাতকে নিকাহ করে, পশুকে নিকাহ করে, স্ত্রীর পেছনের রাস্তায় নিকাহ করে।”
*(তাফসীরে ইবনে কাসির-১/৩৮৫, আত-তালখীসুল হাবীর-৩/১২১৬, ضعيف)*
নিজ হাতকে, পশুকে, স্ত্রীর নিতম্বকে তো বিয়ে করা যায়না, সুতরাং এখানে নিকাহ করার দ্বারা উদ্দেশ্য সহবাস করা।
সুতরাং বুঝা গেল, নিকাহ শব্দের মূল অর্থ সহবাস।
সূরা নিসা:২২ আয়াতে وَلاَ تَنكِحُواْ مَا نَكَحَ آبَاؤُكُم مِّنَ النِّسَاء অর্থাৎ, “তোমরা নিকাহ করো না যাদেরকে তোমাদের বাবা নিকাহ করেছে” এখানে শুধু বিবাহ উদ্দেশ্য নয়, বরং যেনার দ্বারা সহবাস হলেও হারাম হয়ে যাবে। তাকে আর বিয়ে করা যাবে না।

আর আমরা আগেই দেখিয়েছি যে, সহবাসের দ্বারা নারীর লজ্জাস্থানে পুরুষের অংশ প্রবিষ্ট হয়। ফলে সে লজ্জাস্থানধারী নারীর সাথে হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হয়ে যায়।
এজন্য বহু সাহাবী তাবেয়ী ও ইমামগণের ফতোয়া এটাই যে, যেনার দ্বারা হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হয়। এর বিবরণ সামনে আসছে।

🔸**পাঁচ |**

হুরমতে মুসাহারা কি শুধু হানাফীদের ফতোয়া?
এ ধারণা একদম ভুল। বরং এটি
— হানাফী মাযহাবের ফতোয়া *(আল-বিনায়া-৫/৩৩, আল-ফিকহু আলাল মাযাহিবিল আরবাআহ-৪/৬২)*
— হাম্বলী মাযহাবের ফতোয়া *(ইবনু আবী শায়বা, আল-বিনায়া-৫/৩৩, আল-ফিকহু আলাল মাযাহিবিল আরবাআহ-৪/৬৬)*
— ইমাম মালেক এর একটি মত অনুযায়ী *(আল-মুদাওয়ানা, ইবনু আবী শায়বা, আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
— বহু সাহাবী তাবেয়ীগণের ফতোয়া। তন্মধ্যে রয়েছেন:
১. হযরত ইমরান বিন হুসাইন রাঃ। *(আহকামুল কুরআন লিররাজী-২/১৩৭, আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
২. হযরত উবাই বিন কা’ব রাঃ। *(ইলাউস সুনান-১১/২০, আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
৩. হযরত উমর রাঃ। *(আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
৪. হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ। *(আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
৫. হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ। [সহীহ কওল অনুপাতে] *(আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
৬. জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ। *(আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
৭. হযরত আয়েশা রাঃ। *(আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
৮. হাসান বসরী রহঃ। *(আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
১০. উরওয়া বিন যুবায়ের রঃ।* (মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক-৭/১৯৮ (১২৭৩৩)*
১১. কাতাদা বিন দাআমা রহঃ।
১২. সাঈদ বিন মুসাইয়িব রহঃ। *(মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক-৭/১৯৮ (১২৭৩৩), আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
১৩. সুলাইমান বিন ইয়াসার রহঃ। *(আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
১৪. সালেম বিন আব্দুল্লাহ রহঃ। *(আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
১৫. মুজাহিদ রহঃ। *(ইবনু আবী শায়বা-১৬৪৯৮, ৯/৯৯)*
১৬. আতা রহঃ। *(ইবনু আবী শায়বা-১৬৪৯৮, ৯/৯৯)*
১৭. ইবরাহীম নাখয়ী রহঃ। *(ইবনু আবী শায়বা-৯/১০০ (১৬৪৯০), আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
১৮. আমের রহঃ*। (আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
১৯. হাম্মাদ রহঃ। *(আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
২০. শাবী রহঃ। *(আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
এছাড়াও রয়েছেন, ইমাম মুহাম্মদ রহঃ, ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ, ইমাম যুফার রহঃ, ইমাম সুফিয়ান বিন সাঈদ সওরী রহঃ, ইমাম আওযায়ী রহঃ, জাবের বিন জায়েদ রহঃ, তাউস রহঃ, ইমাম ইসহাক রহঃ প্রমূখ মুহাদ্দিস ও ফক্বহগণ।
*(আহকামুল কুরআন লিলজাসসাস, উমদাতুল কারী, ফাতহুল কাদীর, আল-বিনায়া-৫/৩৩)*
সুতরাং এটি শুধু হানাফীদের ফতোয়া, এমন দাবি করা স্পষ্ট মিথ্যাচার।

🔸ছয় |

ولنا أن الوطء سبب الجزئية
যুক্তির নিরিখে হুরমাতে মুসাহারাতের মূল কারণ হল সহবাসকারীর অংশ হওয়া। *(আল-বিনায়া-৫/৩৩)* যার সাথে সহবাস করা হয়, তার মাঝে সহবাসকারীর একটি অংশ থাকে। পিতা যদি কারো সাথে সহবাস করে, তাহলে উক্ত মহিলার মাঝে পিতার একটি অংশ চলে যায়, আর সন্তানও পিতার একটি অংশ। আর এক অংশ অন্য অংশকে বিবাহ করতে পারে না। এ কারণে পিতা যার সাথে সহবাস করবে, সন্তানের জন্য উক্ত মহিলা হারাম হয়ে যাবে। তাহলে বুঝা গেল, হুরমাতের মূল কারণ হল অংশ হওয়া তথা বাচ্চা হওয়া। আর যেহেতু বাচ্চা হওয়াটি দেখা যায় না, এটি লুকায়িত বিষয়। তাই হুরমাতে মুসাহারাতের বাহ্যিক কারণ ধরা হয় বিবাহকে। তথা বিয়ের মাধ্যমে হুরমাতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হয়ে যায়।আর একথাতো পরিস্কার যে, বাচ্চা হওয়া হুরমতে মুসাহারাতের মূল কারণ হলেও তা লুকায়িত থাকায় বিয়েকে রাখা হয়েছে তার বাহ্যিক কারণ। তাহলে বিবাহ ছাড়াই যদি বাচ্চা হওয়ার কারণ পাওয়া যায়, তাহলে কেন হুরমাতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হবে না? যেখানে দূরবর্তী কারণ বিবাহকে হুরমাতে মুসাহারাতের কারণ সাব্যস্ত করা হয়েছে, সেখানে নিশ্চিত ও মূল কারণ পাওয়া যাওয়া সত্বেও হুরমাত সাব্যস্ত না করার কি যৌক্তিকতা থাকতে পারে? এ কারণেই যেহেতু পিতা ছেলের স্ত্রীর সাথে জিনা করেছে, এ কারণে উক্ত স্ত্রী ছেলের জন্য হারাম হয়ে গেছে।

সুতরাং, যেনার দ্বারা হুরমতে মুসাহারা সাব্যস্ত হয়; এটি একটি প্রমাণিত বিষয়।

📌
তাহকীক ও গবেষণায়
**মুফতি রাকিবুল ইসলাম হোযায়ফী**
*প্রধান মুফতি, মারকাযুল বাইয়্যিনাত ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার।*
*মাস্টার্স (দাওরা) ইন হাদিস এন্ড ফিকহ, দারুল ঊলূম হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।*
*এমফিল (ইফতা / ইসলামী আইন ও বিচারবিভাগ), দারুল ঊলূম হাটহাজারী।*
*জাস্টিস কোর্স (হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি, আমেরিকা (by HarvardX) ও ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আমেরিকা (by BerkeleyX)*

আমার হাতের সিগ্নেচার আইটেম গুলোর মধ্যে ইলিশ পোলাও একটা ❤️
03/09/2026

আমার হাতের সিগ্নেচার আইটেম গুলোর মধ্যে ইলিশ পোলাও একটা ❤️

আমি ব্যাক্তিগতভাবে কখনো ফেসবুকে আলেম ওলামাদের বিষয়ে কোন লেখালেখি করিনা কিন্তু আমার কেন জানি মনে হয় ওনার মাদরাসা থেকে বিশ...
03/09/2026

আমি ব্যাক্তিগতভাবে কখনো ফেসবুকে আলেম ওলামাদের বিষয়ে কোন লেখালেখি করিনা কিন্তু
আমার কেন জানি মনে হয় ওনার মাদরাসা থেকে বিশ্বমানের হাফেজ হওয়া মানে এখানেই জীবন শেষ হয়ে যাওয়া, এইত কয়দিন আগে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান হল হাফেজ জাকারিয়া, তাকে তিনি মোবাইল কিনে দিলেন আরেকটা ভিডিওতে দেখলাম ছেলেটা মোবাইল টিপছে আর হাটছে তাহলে কি শুধু মাত্র হাফেজ হয়েই তার জন্য উস্তাদের সামনে মোবাইল চালানো বৈধ হয়ে গেল? সেও কি রায়হানের মত নিয়মিত ভিডিও করবে পেইজ খুলবে এবং উস্তাদের সাথে শুধু ঘুরাঘুরি করবে..!
আবু রায়হান ছেলেটা খুবই নম্র ভদ্র কিন্তু বিশ্বমানের হাফেজ হওয়ার পরও উস্তাদের কারনে সে আর আলেম হয়নি, ঘুরাঘুরি তে ব্যস্ত ভিডিও ব্লগ তৈরী করছে
এগুলোতে আমার কোন সমস্যা না কিন্তু যেহেতু সে একজন ভালো হাফেজ এবার সে একজন ভালো আলেম হওয়ারও দরকার ছিল তাহলে তার মাধ্যমে জাতি আরো বেশি উপকৃত হত
ভাগ্য ভালো যে হাফেজ তাকরিম ওনার মাদরাসায় পড়েনি, না হয় তাকরিমের জীবনটাও এখানেই শেষ হয়ে যেত, হাফেজ তাকরিম একজন ভালো বাবা পেয়েছেন এবং ওর উস্তাদ ও একজন ভালো মনের মানুষ না হয় উনি চাইলেও তাকরিমের মাধ্যমে অনেক কিছু করতে পারতেন।©

27/08/2026

একটা কায়দা বলি; AI আবিষ্কার হওয়ার পর যারা লেখক হয়েছে; তাদেরকে সন্দেহ করুন। 🙄

©

👩‍🎓 মেয়েরা আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন কোন বিষয়ে পড়তে পারে?মিশরের ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্বখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদে...
26/08/2026

👩‍🎓 মেয়েরা আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন কোন বিষয়ে পড়তে পারে?

মিশরের ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্বখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের জন্য পৃথক ফ্যাকাল্টি ও ক্যাম্পাস রয়েছে। ইসলামিক স্টাডিজ থেকে শুরু করে মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং, কমার্স, ভাষা ও অনুবাদ—বিভিন্ন বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে।

📚 তুলনামূলকভাবে ফ্রি/সাধারণ প্রোগ্রাম

মেয়েদের জন্য প্রচলিত ইসলামি ও আরবি শিক্ষার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—

১. Islamic Studies – Arabic
২. Shariah Islamiyyah (শরিয়াহ ইসলামিয়া)
৩. Arabic Language (আরবি ভাষা)
৪. Shariah & Law (শরিয়াহ ও আইন)
৫. History (ইতিহাস)
৬. Education / Tarbiyah (তারবিয়াহ)
৭. Tafsir (তাফসির)
৮. Hadith (হাদিস)
৯. Qira’at (ক্বিরাআত)
১০. Aqidah & Philosophy (আকিদাহ ও দর্শন)

💰 যেসব ক্ষেত্রে সাধারণত ফি/বিশেষ প্রোগ্রাম থাকতে পারে

১. Medicine – মেডিকেল
২. Pharmacy – ফার্মেসি
৩. Nursing – নার্সিং
৪. Dentistry – ডেন্টিস্ট্রি
৫. Media & Journalism – মিডিয়া ও জার্নালিজম
৬. Commerce – কমার্স/বিজনেস
৭. Physical Education & Sports Science
৮. Engineering – ইঞ্জিনিয়ারিং
৯. Geography – জিওগ্রাফি
১০. Agriculture – এগ্রিকালচার
১১. Islamic Sciences – ইসলামিক সায়েন্সেস
১২. Psychology – মনোবিজ্ঞান
১৩. Languages & Translation – ভাষা ও অনুবাদ
১৪. Family & Childhood Studies – পরিবার ও শিশু প্রতিপালন
১৫. Science – সায়েন্স

«📌 নোট: কোনো বিষয়কে “সম্পূর্ণ ফ্রি” বা “ফি-যুক্ত” বলার আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষের অফিসিয়াল ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ও ফি কাঠামো যাচাই করা জরুরি। বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ফি ও শর্ত আলাদা হতে পারে।»

🏫 মেয়েদের জন্য আলাদা ফ্যাকাল্টি

আল-আজহারে মেয়েদের জন্য পৃথকভাবে বিভিন্ন ফ্যাকাল্টি রয়েছে। যেমন—

- كلية الدراسات الإسلامية والعربية للبنات — ইসলামিক ও আরবি স্টাডিজ
- كلية أصول الدين والدعوة للبنات — উসূলুদ্দীন ও দাওয়াহ
- كلية اللغة العربية للبنات — আরবি ভাষা
- كلية التربية للبنات — তারবিয়াহ/শিক্ষা
- كلية التجارة للبنات — কমার্স
- كلية الإعلام للبنات — মিডিয়া
- كلية اللغات والترجمة — ভাষা ও অনুবাদ
- كلية العلوم للبنات — সায়েন্স
- كلية الطب للبنات — মেডিকেল
- كلية الصيدلة للبنات — ফার্মেসি
- كلية طب الأسنان للبنات — ডেন্টিস্ট্রি
- كلية التمريض للبنات — নার্সিং
- كلية الزراعة للبنات — এগ্রিকালচার
- كلية الهندسة للبنات — ইঞ্জিনিয়ারিং

🏠 থাকার ব্যবস্থা

মেয়েদের জন্য আলাদা ছাত্রী হোস্টেল রয়েছে। তবে হোস্টেলে আসন পাওয়া, বৃত্তি, আবাসন খরচ ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের থাকার নিয়ম সংশ্লিষ্ট বছরের নীতিমালা অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।

📌 মাহরাম: ভর্তি আবেদনের ক্ষেত্রে মাহরাম থাকা আবশ্যক—এমন কথা সাধারণভাবে বলা ঠিক নয়। তবে মিশরে এসে কোথায় ও কীভাবে থাকবেন, সে বিষয়ে পরিবারের দায়িত্বশীল অভিভাবকের পরিকল্পনা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

🇪🇬 বাংলাদেশি মেয়েরাও আল-আজহারে পড়াশোনার জন্য আবেদন করতে পারেন, তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স, সার্টিফিকেট সমমান, আরবি ভাষার দক্ষতা, ভর্তি প্রক্রিয়া ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ম অবশ্যই যাচাই করতে হবে।

আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় | মিশর 🇪🇬

#আজহার #আরবি #মিশর

অল্প ঘুমে ক্লান্তি দূর এবং সুস্থতা র একটা দুয়া আছে ﺍَﻟﻠّﻬُﻢَّ ﺍﺷْﻔِﻨِﻲْ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﻮْﻡِ ﺑِﻴَﺴِﻴْﺮٍ، ﻭَﺍﺭْﺯُﻗْﻨِﻲْ ﺳَﻬَﺮًﺍ...
15/08/2026

অল্প ঘুমে ক্লান্তি দূর এবং সুস্থতা র একটা দুয়া আছে
ﺍَﻟﻠّﻬُﻢَّ ﺍﺷْﻔِﻨِﻲْ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﻮْﻡِ ﺑِﻴَﺴِﻴْﺮٍ، ﻭَﺍﺭْﺯُﻗْﻨِﻲْ ﺳَﻬَﺮًﺍ ﻓِﻲْ ﻃَﺎﻋَﺘِﻚَ .

আল্লাহুম্মাশফিনী মিনান নাওমি বিইয়াসীর, ওয়ারযুক্বনী সাহারন ফী ত্বআতিক।

অর্থ: ইয়া আল্লাহ! সামান্য ঘুম দ্বারাই আমার প্রয়োজন পূরণ করুন এবং আপনার আদেশ পালনে রাত্রিজাগরণের তাওফীক দিন।

13/08/2026

এইযে আমার ফোনে যে হুটহাট স্টোরি / পোস্ট দেখেন এটাই তার কারণ। 🤦‍♀️

এই মূহুর্তে ঘটে যাওয়া বিষয়ের সাথে পুরো পুরি ই মিলে গেলো,আর ফেসবুকে ঢুকেই পোস্ট টা ও পেলাম,একসময় আমি গবেষণা করেছি, কী করল...
12/08/2026

এই মূহুর্তে ঘটে যাওয়া বিষয়ের সাথে পুরো পুরি ই মিলে গেলো,আর ফেসবুকে ঢুকেই পোস্ট টা ও পেলাম,
একসময় আমি গবেষণা করেছি, কী করলে মানুষ আমার মন থেকে উঠে যায়?

রাগ দেখালে?
বকা দিলে?
অপমান করলে?
আমাকে ছেড়ে গেলে?
মিথ্যা বললে?
ইগ্নোর করলে?
ঠিক কী করলে?

কিছুই খুঁজে পাই নাই, কারণ সবিশেষে আমি মাফ করে দিতাম, আবার ভুলেও যেতাম। সম্পর্ক আবার আগের মতো হয়ে যেতো, ঠিকঠাক।

এরপর একদিন আমার খুব আপন একজন মানুষের আমাকে নিয়ে অন্য কারো কাছে বলা কথার একটা স্ক্রিনশট দেখলাম, আর চুপচাপ তার থেকে সরে আসলাম। যাকে ছাড়া আমার একটা সকাল, একটা সন্ধ্যা কাটতো না তার সাথে নির্বিঘ্নে ছয় মাস কথা বলি নাই। ছয় মাস পর তার সম্পর্কে তাকে প্রথমবার বলছিলাম "আপনি আমার কাছে এমন ছিলেন যে আপনার মতো আর কেউ ছিলো না, এরপর আপনি এমন হয়ে গেছেন যেন কোনোদিন আপনি আমার কিছুই ছিলেন না।"

সেদিনও আমি বুঝে উঠি নাই কী করলে মানুষ আমার মন থেকে উঠে যায়।

লাস্টবার আমার সবচেয়ে ক্লোজ দুইজন ফ্রেন্ডের মধ্যে থেকে একজনকে দেখছি আমার ব্যাপারে হওয়া ইস্যুতে আমার সাথে কথা না বলে অন্যদের সাথে কথা বলতে। এরপর তার সাথেও ওই একই ব্যাপার। বিশ্বাস করেন, আমি চাইলেও আমার আর সফট কর্ণার আসে না, এমনকি আমি দু'আ করলেও কিছু ঠিকঠাক হয় না। মনে অবিশ্বাস গেঁথে যায়। অবিশ্বাস খুব খারাপ জিনিস। মনে হয় যে আমাকে নিয়ে আড়ালে একবার আলোচনা করতে পারেছে, সে নানান সময়ে আরো পারবে।

জানেন? এমন অনেক মানুষের সাথে আমার গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হয়েছে, যাদের সাথে এক সময় জবরদস্ত যুক্তিতর্ক করেছি।

প্রকাশ্যে আমার ভুল নিয়ে সমালোচনা করা মানুষের চেয়েও কিছুটা বেশি ভয় আমার তাদেরকে লাগে যারা আড়ালে ভুলের পর্যালোচনা করে। এবং যারা শোনে।

যেজন্য বলছিলাম...
এই যে সেদিন এক আপু বললো, অমুক পোস্টটা কি আপনি নিজের লাইফ থেকে দিয়েছেন? আপনার কি হারাম কোনো রিলেশনশীপ আছে আপু?

এতোটুকু লেখা দেখে আমি খুব সুন্দর করে তাকে রিপ্লে দিচ্ছি, ঠিক এই সময় দেখলাম এইটা নাকি তার নিজের প্রশ্ন না। অন্য কেউ তাকে বলেছে এবং সে সত্যটা জানতে এসেছে।

আমার যে কী পরিমাণ বিরক্ত লাগছে আমি বলে বুঝাতে পারবো না। আমার সব পোস্ট দেখলে তো এমনিতেই বোঝা যায় সবই আমার লাইফ রিলেটেড না। এমনও হয় আজকে সকালে যেই টপিকে লিখি, কালকে পুরোই তার বিপরীত। আলাদা আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। আবার অনেক সময় কোনো আপু কোনো টপিকে লিখতে বললেও লিখি। অনেক সময় বই পড়ে নিজে গল্প বানাই, কথা বানাই। অনেক সময় কবিতা কিংবা কারো লেখা থেকে নিজের থটস শেয়ার করি।

যা হোক, এরপর আমি ওই সুন্দর রিপ্লেটা তাকে আর সেন্ড করি নাই।
হ্যাঁ, তোমার আমার ব্যাপারে প্রশ্ন থাকলে আমাকে জিজ্ঞেস করতে পারো, যদিও অপরিচিত হইলে বাউন্ডারি রেখে নিজের কিউরিওসিটিকে চাপা দেয়া দরকার। তবুও জিজ্ঞেস করতে পারো।

কিন্তু একজন মানুষ আমাকে নিয়ে কিছু ধারণা করেই তোমার কাছে ছুটলো, তুমি সে কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলে, তাকে উত্তর দিলে, তারপর তার প্রশ্ন নিয়ে আমার কাছে আসলে সত্যতা যাচাই করতে, এই পুরো ঘটনায় আমি খুবই ইনসাল্টেড ফীল করি।

সামনে আমাকে নিয়ে অভিযোগের লম্বা ফিরিস্তি রাখতে পারো, আদর করে আমার কোনো ভুল শুধরে দিলে হয়তো তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা ক্রমশ বাড়বে।

তবে আড়ালে আমাকে নিয়ে সামান্য থেকে সামান্যতর সমালোচনা করলেও আমার আত্মসম্মান বোধে আঘাত লাগে, আমি দূরত্ব বাড়িয়ে নেই, আমার মন থেকে উঠে যায়।

হ্যাঁ, শুধু এবং শুধুমাত্র এই একটা জিনিস আমি একেবারেই নিতে পারি না- শুধু এই একটা কাজ করলেই মানুষ অবলীলায় আমার মন থেকে উঠে যায়।
সামিয়া আনান।

Address

Makkah

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when A Temporary passenger posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share