10/02/2017
#ইসলামে পতিতাবৃত্তি নিয়ে কথা
পতিতাবৃত্তি ইসলামে নিষিদ্ধ। কুরআনে বলা হয়েছে,
আর শুধু পার্থিব জীবনে তোমরা কিছু স্বার্থ লাভ করার উদ্দেশ্যে তোমাদের দাসীদেরকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করো না, যদি তারা সতীত্ব বজায় রাখতে চায়।
—কুরআন 24:33
কোন মুসলিম যদি এ কাজে সম্পৃক্ত হয় অবে তাকে পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে আরবে এর প্রচলন ছিল। ইসলাম আগমনের পর নবী মুহাম্মাদ সকল স্তরে পতিতাবৃত্তিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। আবু মাসুদ আল আনসারি বর্ণিত:
"আল্লাহর বার্তাবাহক কুকুরের মূল্য, পতিতাবৃত্তি থেকে অর্জিত অর্থ এবং জাদুকরের আয়করা অর্থ নিতে নিষেধ করেছেন।"।
—সহীহ বুখারী, ৩:৩৪:৪৩৯ (ইংরেজি)
তবে, দাসপ্রথার সময়কালে উপপত্নীত্ব নামক যৌন দাসত্বকে ইসলামে পতিতাবৃত্তি হিসেবে গণ্য করা হত না এবং মধ্যযুগে এবং আধুনিক যুগের সূচনাকালে আরব দাস ব্যবসার সময় তা বহুলভাবে প্রচলিত ছিল, এসময় ককেশাস, আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া ও ইউরোপের মহিলা ও নারীদেরকে বন্দী করে নিয়ে আসা হতো এবং আরব বিশ্বের হেরেমগুলোতে উপপত্নী হিসেবে পরিবেশন করা হতো।[২৭] ইবনে বতুতা তার ভ্রমণকথায় বহুবার দাসী কেনার বা উপহার পাবার কথা উল্লেখ করেছেন।[২৮]
শিয়া মুসলিমদের মতানুযায়ী, নবী মুহাম্মাদ নিকাহ মুতাহ নামক নির্দিষ্টকালের জন্য বিয়ের অণুমতি দিয়েছিলেন — যা ইরাক ও ইরানে এখনো সেখানকার যৌনকর্মীদের জন্য নিষিদ্ধ পতিতাবৃত্তির বিকল্প বৈধ মোড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।[২৯] তবে সুন্নি মুসলিমগণের বক্তব্য হল, মুতাহ বিয়ের চর্চা নবী মুহাম্মাদ নিজেই বাতিল করেছিলেন এবং খলিফা আবু বকরের সময় তা পুনরাবির্ভাব ঘটার পর খলিফা ওমর পুনরায় এটি নিষিদ্ধ করেছিলেন।[৩০][৩১][৩২]
" আয়াশ ইবনে সালামাহ তার পিতার সূত্রে বলেছেন, আল্লাহর রাসুল (সা) আওতাস যুদ্ধের বছর তিনদিনের (মুতাহ) বিবাহের অণুমতি দান করেছিলেন। তারপর তিনি তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে খলিফা ওমরও এই কাজ করতে নিষেধ করেন।"
—বুখারী
সডোমি
মূল নিবন্ধ: পায়ুসঙ্গমের ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি
নবী লূত-এর সম্প্রদায়ের "সীমালঙ্ঘনমূলক কাজগুলোকে" সডোমি বলা হয়, এগুলো হল অজাচার, সমকামিতা, পশুকামিতা ও পায়ুসঙ্গম। কুরআনে লুতের সম্প্রদায়ের ঘটনার মাধ্যমে সডোমিকে উল্লেখ করা হয়েছে।[৩৩]। নবী মুহাম্মাদ (সা) তার অণুসারীদের মাঝে লূত-এর সম্প্রদায়ের এই সকল "সীমালঙ্ঘনমূলক কর্মকাণ্ড" ছড়িয়ে পড়ার ব্যপারে সতর্ক করেছেন এবং তার অণুসারীদের মাঝে এসব কর্মে জড়িত ব্যক্তিদের মৃত্যুদন্ড দেয়ার আদেশ দিয়েছেন। আবু বকর তার খিলাফতের সময় এ ধরনের ব্যক্তিদের উপর দেয়াল ধ্সিয়ে দিতেন এবং আলী তার খিলাফতের সময় এদের আগুনে পুড়িয়ে মারতেন। ইসলামী বিধান অণুযায়ী মানবদেহে পায়ূতে লিঙ্গ প্রবেশ হারাম।[৩৪] নিজ স্ত্রীর সঙ্গেও পায়ূমৈথুন হারাম বা নিষিদ্ধ।[৩৫][৩৬] কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে পায়ুসঙ্গমের প্রস্তাব স্ত্রীর কর্তব্য হল তা বাধা দেয়া, এবং স্বামী যদি জোর করে তবে স্ত্রী চাইলে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করতে পারে।[৩৭] স্বামী স্ত্রীর পায়ুসঙ্গমে বিবাহ বাতিল না হলেও স্ত্রী যদি চায় এ অভিযোগে তালাকের আবেদন করতে পারবে।[৩৮] ইসলামী বিধান অণুসারে, পায়ুসঙ্গম কবিরা গুনাহ বা সর্বোচ্চ পাপসমূহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে, কিছু মুসলিম দেশে সডোমি মৃত্যুদণ্ড-যোগ্য অপরাধ, যাদের অন্যতম হল সৌদি আরব, ইয়েমেন ও নাইজেরিয়ার শরিয়া আদালত।[৩৯]
সমকাম
মূল নিবন্ধগুলি: যিনা § সমকামিতা এবং সমকামিতা ও ইসলাম
সমলিঙ্গীয় যৌনাচার বা সমকামিতা ইসলামে নিষিদ্ধ[৪০], এছাড়াও ইসলামের দৃষ্টিতে এটি একটি নিকৃষ্টতম পাপ।[৪১][৪১][৪২][৪৩][৪৪][৪৫] ইসলামের দৃষ্টিতে এটি একটি বিকৃত যৌনাচার যা সৃষ্টিগতভাবে "মানব জাতিতে" যৌনতার বিপরীতকামী-স্বাভাবিকতা-বিবর্জিত এবং মানব যৌনতার মৌলিক ও কেন্দ্রীয় উদ্দেশ্য "প্রাকৃতিকভাবে সহজাত প্রজনন"-এর পরিপন্থী।[৪৬] ইসলাম কেবল স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অর্থাৎ বৈধভাবে বিবাহিত নারী ও পুরুষের মধ্যে এবং মুসলিম পুরুষ ও তার উপপত্নীর মধ্যে যৌনসঙ্গম অণুমোদন করে।[৪০] এর বাইরে সকল যৌনাচার ইসলামে নিষিদ্ধ।[৪০] সমলিঙ্গীয় যৌনাচারের কারণে অতীতে নবী লূত-এর সম্প্রদায়কে ঐশী বিপর্যয়ের ধ্বংস করে দেয়ার সাবধানকারী ঘটনা কুরআনের একাধিক সূরা[৪৭] ও হাদীসে উল্লেখ রয়েছে।[৪২][৪৩][৪৮] এছাড়া নবী মুহাম্মদ(সাঃ) সমকামীদের অভিসম্পাত করেছেন, নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্রস জেন্ডার বিহেভিয়ারকে (আন্তঃলিঙ্গীয় আচরণ, নারী কর্তৃক পুরূষের পোশাক বা আচরণ এবং পুরুষ কর্তৃক নারীর পোশাক বা আচরণ অণুকরণ) অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, সমাজকে সমকামিতার প্রভাবমুক্ত রাখতে সমকামীদেরকে (পুরুষ পায়ুকামী জোড়দের[৪৯]) মৃত্যুদণ্ড প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন[৪৩][৫০][৫১]: এছাড়া চারখলিফা সহ প্রাথমিক খলিফাগণও সমকামী জোড়কে বিভিন্নভাবে প্রাণদণ্ড প্রদানের মাধ্যমে এ ব্যাপারে ঐকমত্য প্রদর্শন করেছেন।[৩৩] তবে সমকামিতা নিষিদ্ধ হলেও প্লেটোনিক সম্পর্ককে ইসলামে ব্যাপকভাবে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। ইসলামে সমকামিতা বিষয়ক আলোচনা মূলত পুরুষদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত; ফুকাহাগণ (ইসলামী আইনবিদ) এব্যাপারে সম্মত হয়েছেন যে "নারী সমকামিতার জন্য কোন হুদুদ শাস্তি নেই, কারণ এটি জিনা নয়। তবে একটি তাজির শাস্তি অবশ্যই প্রয়োগ করতে হবে, কারণ এটি একটি পাপ..'".[৫২] যদিও নারীদের সমকামিতার কথা ইসলামের ইতিহাসে পাওয়া যায় না বললেই চলে, আল-তাবারি আল হাদির শাসনকালে তার কার্যক্রম নিয়ে লোকমুখে প্রচলিত ও সমালোচিত কাহিনীর সংকলনে উক্ত খলিফার হেরেমে একজোড়া সমকামী দাসীর অপ্রচলিত শাস্তির কথা উদ্ধৃত করেন।[৫৩] কিছু আইনবিদ মনে করেন যৌনসঙ্গম একমাত্র সে ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব যার শিশ্ন বা শিশ্নের ন্যায় নিম্নাঙ্গ আছে;[৩৯] তাই যৌনমিলনের উক্ত সংজ্ঞানুযায়ী এটি সঙ্গীর ছিদ্রপথে ন্যূনতম পরিমাণ হিসেবে অন্ততপক্ষে শিশ্নাঙ্গের অগ্রভাগ প্রবেশ করানোর উপর নির্ভরশীল।[৩৯] যেহেতু নারীদের শিশ্ন বা অণুরূপ কোন নিম্নাঙ্গ নেই এবং একে অপরের ছিদ্রপথে অঙ্গ সঞ্চালনে সক্ষম নয়, তাই উক্ত সংজ্ঞানুযায়ী তারা একে অপরের সঙ্গে শারীরিকভাবে জিনায় লিপ্ত হতে অক্ষম বলে গণ্য হয়।
যৌনতা মহান আল্লাহর অশেষ রহমত, তাই এর অপব্যবহার করবেন না প্লিজ।
https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%80_%E0%A6%AF%E0%A7%8C%E0%A6%A8_%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0