28/09/2023
গতকাল বিয়ে করা নতুন বউ কে, বাড়ির ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো জাহিদ। মায়া ছাদ থেকে পড়ার সময় অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো জাহিদের দিকে।
যেন মায়া কিছু বলতে চাচ্ছে। বলতে চাচ্ছে, কেন এমন করলে?? আমি তো তোমায় ভালোবাসতে চেয়েছিলাম। আমি তো তোমার জীবন সঙ্গী হয়ে বাঁচতে চেয়েছিলাম।
মূহুর্তের মধ্যেই মাটিতে পড়ে গেল মায়া। আর জাহিদ একটা মুচকি হাসি হেসে বললো: আমার পথের কাঁটা শেষ। এখন কাউকে বুঝতে দেওয়া যাবে না, যে আমি মেরেছি মায়াকে।
জাহিদ দৌড়ে নিচে যাচ্ছে। আর চিৎকার করে বলছে মায়াকে বাঁচাও, মায়াকে বাঁচাও। মায়া পড়ে গেছে। জাহিদ দৌড়ে নিচে গিয়ে, মায়ার রক্তাক্ত মাথাটা কোলে নিয়ে, চিৎকার করে বলে মায়া তোমার কি হয়েছে?? তুমি চিন্তা করোনা। আমি তোমার কিছু হতে দেবো না।
মায়া ধীর গলায় বলল: আমি তোমাকে কখনোই ক্ষমা করবো না। কথা শেষ হওয়ার আগেই, জাহিদের কোলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলো মায়া।
জাহিদ চিৎকার করে কেঁদে বলছে: মায়া তুমি আমাকে ছেড়ে যেতে পারো না। তুমি না রাতে বললে সারাজীবন আমার পাশে থাকবে?? তাহলে কেন আমায় ছেড়ে যাচ্ছো। আমি তোমায় কোথাও যেতে দিবো না। তুমি আমায় ছেড়ে কোথাও যেতে পারবে না মায়া।
★★
বাড়ির সবাই স্তব্ধ হয়ে গেছে। কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। নতুন বউয়ের এইরকম মৃত্যু কেউ কল্পনাও করেনি। জাহিদ কে কি বলে শান্তনা দিবে, তারা ভেবে পাচ্ছে না।
জাহিদের মা রেহেনা বেগম আরিফ সাহেব কে জরিয়ে ধরে কাঁদছে। আর বলছে: আমি কি ভাবে মায়ার বাবাকে বলবো। তার আদরের মেয়েটা মারা গেছে। কীভাবে তার মুখের দিকে তাকাবো। আমাকে বিশ্বাস করেই তো আমার ছেলের সাথে মায়ার বিয়ে দিয়েছিলো।
কেঁদে না রেহেনা। তুমি কাঁদলে আমাদের ছেলেটা কে কীভাবে শান্তনা দিবো?? সে তো পুরোপুরি ভেঙ্গে পরবে। (আরিফ সাহেব, জাহিদের বাবা )
সবাই চেষ্টা করছে। জাহিদ কে মায়ার কাছ থেকে সরানোর। কিন্তু জাহিদ কিছুতেই মায়া কে ছাড়বে না। জাহিদ মায়াকে জরিয়ে ধরে শুধু কাঁদছে। আর বলছে আমি তোমাকে কখনই ছাড়বো না মায়া। আমি তোমাকে ভালোবাসি মায়া। তোমার কিছু হবেনা। তুমি চিন্তা করো না।
★★
একটু পর মায়ার বাড়ির লোকজন মায়াকে নিতে জাহিদদের বাড়িতে এসেছে। (বিয়ের পরের দিন বিয়ের নিয়ম পালন করতে এসেছে)। মায়ার বাবা জাহিদ দের বাড়ির উঠোনে
এসে মায়ার এই রক্তাক্ত চেহারা দেখে, চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। মায়ার বাবা কখনো কল্পনাও করেনি