24/03/2026
ছোট্ট ছেলেটির নাম আরিয়ান। বয়স মাত্র ৮ বছর। সে একটি ছোট গ্রামে তার দাদু-দাদির সাথে থাকে। কয়েক মাস আগে তার মা-বাবা শহরে একটি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। তারপর থেকে আরিয়ানের জগৎ একদম নিঃশব্দ ও ধূসর হয়ে গেছে। সে খুব কম কথা বলে, স্কুলে যায় না, বন্ধুদের সাথে খেলে না। বেশিরভাগ সময় সে একা একা এই পুরনো বটগাছের নিচে বসে থাকে, হাঁটুতে মাথা গুঁজে, চুপচাপ কাঁদে বা শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।
গ্রামের লোকেরা বলাবলি করে, “ছেলেটা আর হাসবে না।” তার দাদু-দাদি অনেক চেষ্টা করেও তার মন ভেঙে দেওয়া দুঃখটা সারাতে পারেননি।
সেদিনও, বিকেলের দিকে আকাশ মেঘলা ছিল। হালকা ঠান্ডা বাতাস বইছিল। আরিয়ান আবার সেই গাছের নিচে বসে ছিল। তার চোখে জল, বুকে ভারী একটা পাথর। সে ভাবছিল—মা আর বাবা আর কখনো ফিরবে না।
ঠিক তখনই, কোথা থেকে যেন ধীর পায়ে এগিয়ে এলো একটা চকচকে কালো বিড়াল। গ্রামে কেউ তাকে আগে দেখেনি। তার চোখ দুটো ছিল গভীর সবুজ, আর তার চলার ভঙ্গিটা ছিল অদ্ভুত শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী।
বিড়ালটা সোজা আরিয়ানের কাছে চলে এলো। প্রথমে তার পায়ের কাছে আলতো করে ঘষল, তারপর পাশে বসে পড়ল। আরিয়ান অবাক হয়ে মাথা তুলল। অনেকদিন পর কেউ তার এত কাছে এসে বসল।
তারপর বিড়ালটা যেন বুঝতে পারল ছেলেটির মনের কথা। সে হঠাৎ লেজ নাড়তে শুরু করল, ছোট ছোট লাফ দিল, গড়াগড়ি খেল, আর এমন মজার মজার ভঙ্গি করতে লাগল যে আরিয়ানের ঠোঁটের কোণে প্রথমবারের মতো একটু হাসি ফুটে উঠল। তারপর সেই হাসি ধীরে ধীরে বড় হতে লাগল। অনেকদিন পর সে হালকা করে হেসে ফেলল।
ঠিক সেই মুহূর্তে আকাশের মেঘ সরে গেল। সূর্যের সোনালি আলো গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে ঝরে পড়ল। চারদিকের ফুলগুলো যেন হঠাৎ প্রাণ পেয়ে উঠল। দূরের গাছে পাখিরা গান গাইতে শুরু করল।
আরিয়ান হাত বাড়িয়ে বিড়ালটাকে আদর করল। বিড়ালটা তার হাতের তালুতে মাথা ঘষল। তারপর ছেলেটি উঠে দাঁড়াল। তার চোখে আবার আলো ফিরে এসেছে। সে বিড়ালটার সাথে ধীরে ধীরে হাঁটতে শুরু করল—প্রথমবারের মতো হালকা পায়ে, খুশি মনে।
গ্রামের লোকেরা দূর থেকে দেখে অবাক হয়ে গেল। কেউ কেউ বলল, “ওই কালো বিড়ালটা বুঝি স্বর্গ থেকে এসেছে...”
আরিয়ানের জীবনে সেদিন থেকে একটা নতুন অধ্যায় শুরু হলো। বিড়ালটা (যার নাম সে পরে রেখেছিল শ্যাডো) তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু হয়ে উঠল। আর সেই দুঃখী ছোট্ট ছেলেটি আবার হাসতে শিখল।❤️🙋♂️