01/06/2026
দেড় বছরের শিশু আরভের মা রতি দেবী পারিবারিক বিবাদের কারণে তার স্বামী সুমিতের থেকে আলাদা থাকছিলেন।
অভিযুক্ত জিতেন্দ্র পাঠক সম্পর্কে রতির স্বামীর আত্মীয় এবং পেশায় একজন মুদি দোকানদার। রতি যখন স্বামীর থেকে আইনিভাবে আলাদা হওয়ার (ডিভোর্স) প্রক্রিয়া শুরু করেন, তখন জিতেন্দ্র তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে।
এই আইনি প্রক্রিয়ার খোঁজখবর নেওয়ার উসিলায় রতির কাছাকাছি আসার চেষ্টা করে জিতেন্দ্র এবং একপর্যায়ে সে রতি দেবীকে ভালোবেসে ফেলে। এরপর সে বারবার রতিকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে থাকে। কিন্তু রতি দেবী প্রতিবারই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
গত ২৯ মে, রতি দেবী এবং তার মা পিঙ্কি দেবী আইনি পরামর্শ নেওয়ার জন্য শিকোহাবাদে গিয়েছিলেন। জিতেন্দ্র সেখানেও তাদের পিছু নেয় এবং আবারও রতিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। রতি আবারও তাকে সরাসরি ‘না’ বলে দেন।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়ে জিতেন্দ্রর মনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম হয়। সে ধরে নেয়, রতি ও তার স্বামীর দেড় বছরের সন্তান আরভ-ই তাদের সম্পর্কের মূল বাধা। আরভ না থাকলে রতি হয়তো তাকে মেনে নেবে—এই ভয়ঙ্কর ও বি'কৃ'ত মানসিকতা থেকেই সে শিশুটিকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে।
সিসিটিভিতে ধরা পড়ল পৈশাচিক বর্বরতা গত শনিবার দুপুর আড়াইটা নাগাদ জিতেন্দ্র সুকৌশলে রতির বাড়িতে যায় এবং চকলেট কিনে দেওয়ার নাম করে ছোট্ট আরভকে কোলে তুলে বাইরে নিয়ে যায়। এরপর সে শিশুটিকে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যায়।
এবং সে ওই দেড় বছরের অবুঝ শিশুটিকে তুলে রাস্তার শক্ত পিচের ওপর বারবার আ'ছা'ড় মারছে। ঘটনার পর র/ক্তা/ক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় শিশুটিকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় জিতেন্দ্র। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা আরভকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একজন মানুষ কতটা নিষ্ঠুর হলে নিজের প্রত্যাখ্যাত প্রেমের প্রতিশোধ নিতে দেড় বছরের একটি নিষ্পাপ শিশুকে হ'ত্যা করতে পারে?
ছোট্ট আরভ কোনো অপরাধ করেনি। সে শুধু তার মায়ের সন্তান ছিল। অথচ একজন বি'কৃ'ত মানসিকতার মানুষ তাকে নিজের পথে বাধা মনে করে নির্মমভাবে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিল।
হিংস্র প্রাণীরাও সাধারণত ক্ষুধা বা আত্মরক্ষার জন্য হ'ত্যা করে। কিন্তু মানুষ কখনো কখনো ঘৃ'ণা, প্র'তি'শোধ, অ'হংকা'র আর বি'কৃ'ত চিন্তার কারণে এমন নি'ষ্ঠু'রতা দেখায়, যা প'শু'ত্বকেও হার মানায়।
ছোট্ট আরভের জন্য গভীর শোক। তার মায়ের জন্য অসীম সমবেদনা।