04/03/2026
- কোরআনে অলৌকিকত্ব..!!
মানুষ যখন নিজের শরীরের দিকে গভীরভাবে তাকায়, তখন সে যেন আল্লাহর অসীম কুদরতের নিদর্শনই দেখতে পায়। আমাদের শরীরের প্রতিটি অঙ্গ যেন একেকটি নিখুঁত শিল্পকর্ম। তার মধ্যে ছোট্ট একটি অঙ্গ—কান যা শুধু শব্দ শোনার জন্যই নয়, বরং আমাদের ভারসাম্য রক্ষা করার জন্যও অপরিহার্য।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, আজকের আধুনিক বিজ্ঞান যেটা আবিষ্কার করেছে, কুরআন বহু আগেই মানুষের কান সম্পর্কে গভীর ইঙ্গিত দিয়েছে।
কুরআনে মানুষের কানকে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে কারণ এটি শুধু শোনার মাধ্যম নয়, বরং মানুষের উপলব্ধি ও স্থিরতারও প্রতীক।
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেন—
“আর আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মাতৃগর্ভ থেকে বের করেছেন এমন অবস্থায় যে তোমরা কিছুই জানতে না। আর তিনি তোমাদের দিয়েছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি এবং অন্তর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও।”
(সূরা আন-নাহল ১৬:৭৮)।
এই আয়াতে প্রথমেই উল্লেখ করা হয়েছে শ্রবণশক্তি। অর্থাৎ কান মানুষের জ্ঞানার্জনের অন্যতম প্রধান দরজা। একটি নবজাতক পৃথিবীতে আসার পর প্রথম যে অনুভূতিগুলোর একটি পায় তা হলো শব্দ শোনা। কান আমাদের পৃথিবীর সাথে সংযোগ স্থাপন করে।
কিন্তু কান শুধু শব্দ শোনার জন্যই নয়। এর ভেতরে রয়েছে এমন এক জটিল ব্যবস্থা, যা আমাদের শরীরের ভারসাম্য (balance) বজায় রাখে।
কানের ভিতরের অংশ—যাকে আধুনিক বিজ্ঞান ভেস্টিবুলার সিস্টেম বলে—আমাদের দাঁড়ানো, হাঁটা ও চলাফেরার সময় শরীরকে স্থির রাখে।
যখন আমরা দৌড়াই, হাঁটি, কিংবা মাথা ঘোরাই তখন এই ক্ষুদ্র অঙ্গটি নীরবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা বুঝতেও পারি না, কিন্তু আল্লাহ এমন নিখুঁতভাবে আমাদের সৃষ্টি করেছেন যে শরীর নিজেই ভারসাম্য ধরে রাখে।
কুরআন মানুষকে বারবার আহ্বান করেছে নিজের সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করতে।
কুরআনে মহান বলছেন,
“আর তোমাদের নিজেদের মধ্যেই রয়েছে বহু নিদর্শন। তবুও কি তোমরা লক্ষ্য করো না?”
(সূরা আয-যারিয়াত ৫১:২১)।
এই আয়াত যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমাদের শরীরের প্রতিটি অঙ্গ আল্লাহর ক্ষমতার নিদর্শন। ছোট্ট কানটিও তার ব্যতিক্রম নয়। এর মাধ্যমে আমরা শুধু পৃথিবীর শব্দ শুনি না, বরং স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারি, হাঁটতে পারি, চলতে পারি।
ভাবুন তো যদি এই ভারসাম্যের ব্যবস্থা না থাকত, তাহলে মানুষ দাঁড়াতেই পারত না। পৃথিবীর প্রতিটি পদক্ষেপই হয়ে যেত অনিশ্চিত। অথচ আমরা প্রতিদিন স্বাভাবিকভাবে হাঁটি, কাজ করি, দৌড়াই—কিন্তু খুব কমই ভাবি, এর পেছনে কত সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণ কাজ করছে।
কুরআনে মহান আল্লাহ আরও বলেন—
“তিনি সেই সত্তা, যিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও হৃদয়; কিন্তু তোমরা খুবই কম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।”
(সূরা আল-মুমিনূন ২৩:৭৮)।
এই আয়াত যেন মানুষের প্রতি এক অকৃপণ ভালোবাসা স্মরণ করিয়ে দেওয়া। আল্লাহ আমাদের কত অসংখ্য নিয়ামত দিয়েছেন, কিন্তু আমরা কত কম তা উপলব্ধি করি। নিয়ামতের শুকরিয়া কি আদায় করা হয় ঠিকঠাক?
কানের ভেতরের সূক্ষ্ম গঠন, তার মাধ্যমে ভারসাম্য রক্ষা, আর সেই ব্যবস্থার নিখুঁত কার্যকারিতা—সবই প্রমাণ করে মানুষের সৃষ্টি কোনো দৈব ঘটনা নয়; বরং এটি এক মহান পরিকল্পনার অংশ।
যখন মানুষ নিজের শরীরের দিকে তাকায়, তখন সে বুঝতে পারে তার প্রতিটি অঙ্গের ভেতরেই লুকিয়ে আছে স্রষ্টার অসীম জ্ঞান ও কুদরতের নিদর্শন।
তাই আমাদের উচিত শুধু এই নিয়ামতগুলো ব্যবহার করা নয়, বরং হৃদয়ের গভীর থেকে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া।
কারণ, সত্যিই মানুষের শরীর নিজেই আল্লাহর কুদরতের এক জীবন্ত কুরআন।
মহান আল্লাহ আমাদেরকে কুরআন বুঝে মানার তাওফিক দান করুন।
আমিন।