14/12/2025
আমার আর আমার স্ত্রীর সংসার ছিল পাঁচ বছরের। আমি একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে উচ্চপদে চাকরি করি। কাজের চাপ ছিল, সময় কম ছিল! কিন্তু আমার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল আমার স্ত্রী। আমি বিশ্বাস করতাম, আমাদের সম্পর্কটা দাঁড়িয়ে আছে নিখাদ বিশ্বাস আর সততার ওপর। বুঝিনি, সেই বিশ্বাসের ভিতটা ভেতর থেকে কতটা নড়বড়ে হয়ে গেছে।
সবকিছু শুরু হয়েছিল খুব ছোট একটি পরিবর্তন দিয়ে। আমার স্ত্রী আগে কখনোই ফোনে পাসওয়ার্ড লুকাত না। হঠাৎ একদিন দেখি, তার ফোনের লক বদলে গেছে। জিজ্ঞেস করতেই বলল- "প্রাইভেসি দরকার।"
আমি মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু এরপর লক্ষ্য করলাম, ফোনটা সে সবসময় নিজের সাথে রাখে- "এমনকি বাথরুমেও। গভীর রাতে মেসেজের শব্দে ঘুম ভাঙলে দেখতাম, সে তড়িঘড়ি করে ফোনটা লুকিয়ে ফেলে।"
কয়েক মাস পর সে জানাল, তার ইউনিভার্সিটির রিইউনিয়ন আছে, সারাদিন বাইরে থাকবে। আমি খুশি মনেই রাজি হলাম। কিন্তু সেদিন দুপুরে শহরের একটি নামকরা রেস্তোরাঁয় হঠাৎ দেখি- "সে কোনো বান্ধবীর সাথে নয়, বরং এক অপরিচিত পুরুষের সাথে বসে আছে। তার হাত আমার স্ত্রীর হাতের ওপর। আমি তখন সেখানে যাইনি। নিজেকে সামলে নিয়েছিলাম।"
রাতে ফিরলে জিজ্ঞেস করলাম- "রিইউনিয়ন কেমন হলো?" সে চোখে চোখ রেখে নির্দ্বিধায় মি"থ্যা বলল- "সবাই এসেছিল, খুব মজা হয়েছে।" সেই মুহূর্তে বুঝলাম, সে অনায়াসে মি/থ্যা বলতে পারে। আমি চুপ করে গেলাম, কিন্তু ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ছিলাম।
এরপর থেকে সে প্রায়ই অকারণে ঝ/গড়া শুরু করত। আমি অফিস থেকে দেরি করে ফিরলে আগে যেখানে সে চিন্তা করত, এখন সেখানে উল্টো আমাকে দো/ষ দিত- "আমি নাকি তাকে সময় দিই না, তার জীবন একঘেয়ে। বুঝতে পারলাম, নিজের অপ/রাধ ঢাকার জন্য সে আমাকে দো/ষী বানাচ্ছে।"
সে অন্য একজনের সাথে নিয়মিত কথা বলত, সবসময় পরিচয় দিত “বান্ধবী” বলে।
একদিন ব্যাংকের স্টেটমেন্ট দেখে দেখি, জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে বড় অঙ্কের টাকা তোলা হয়েছে। প্রশ্ন করতেই সে রেগে গিয়ে বলল- "আমার কি নিজের খরচ থাকতে পারে না?" তখনো প্রমাণ ছিল না, কিন্তু বুঝছিলাম- "সে শুধু মন নয়, ধীরে ধীরে আমাকে আর্থিকভাবেও নিঃস্ব করছে।"
একদিন সে গোসলে গেলে তার ল্যাপটপ খোলা ছিল। হঠাৎ একটি সোশ্যাল মিডিয়া নোটিফিকেশন এল। কৌতূহলবশত চ্যাট খুললাম। ছয় মাসের কথোপকথন। ভালোবাসার কথা, হোটেলে তাদের ভীষণ আনন্দে শা/রী"রিক মেলা-মে/শার কথা! ভবিষ্যতের পরিকল্পনা, আর আমার সম্পর্কে ঠাট্টা।"
সেখানে আরও লেখা- “আর কিছুদিন অপেক্ষা করো, ডি/ভোর্স নিলেই আমরা সেটল হব। তখন শুধু তুমি আর আমি দিনরাত যত খুশি সে*** করব! মনের যত তৃষ্ণা সব মিটিয়ে নিবো।”
সেই মুহূর্তে আমার পৃথিবী থেমে গেল। যাকে আমি ভালোবাসতাম, সে মানুষটা বহু আগেই ম/রে গেছে। সামনে যে দাঁড়িয়ে ছিল, সে শুধু আমার স্ত্রী! আমার মানুষ নয়।
সে বের হয়ে এসে আমাকে ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে থমকে গেল। তখন আর কিছু অস্বীকার করার জায়গা ছিল না। কান্না, দোষারোপ, সবই হলো। কিন্তু আমি শান্তভাবে বললাম- "যে বিশ্বাস একবার ভেঙে যায়, তা আর জোড়া লাগে না। তুমি যেখানে সুখ খুঁজেছ, সেখানেই যাও। আমার মুক্তি দরকার।
সেই রাতেই আমি বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছি। কষ্ট আছে, কিন্তু মি/থ্যা"র সাথে বেঁচে থাকার চেয়ে সত্য মেনে নিয়ে একা থাকা অনেক বেশি সম্মানের।
প্রতা/রণা শুধু শা''রী/রিক সম্পর্ক নয়।
প্রতা/রণা হলো বিশ্বাস, সম্মান আর প্রতিশ্রুতির হ/ত্যা। সে সুন্দর শরীরের অধিকারী হলেও- "নিঃসন্দেহে সে একটা বিশ্বাস-ঘা/তক ছলনাময়ী। "
>নাম প্রকাশ করবেন না।