Islamic Jahan

Islamic Jahan Islamic discussion,Seminar,Waz,Mahfil,Islamic Cultural event.Page is running as a Dawah!

03/20/2026

تَقَبَّلَ اللهُ مِنَّا وَمِنكُم
মহান আল্লাহ আমার আপনার সকল সৎকর্ম গুলো কবুল করুন।
ঈদ মোবারক 🩷,২০২৬@
Noor Albayan Islamic center.

03/16/2026

আজকে পবিত্র লাইলাতুল কদরের রাত্রি ।মহান আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন।
রহমত বরকত ও মাগফেরাত নসীব করুন।

👉লাইলাতুল কদর বা শবে কদরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিশুদ্ধ দোয়া। নবী করীম (সা.) আম্মাজান আয়েশা (রা.)-কে এই দোয়ার মাধ্যমে কদরের রাতে ক্ষমা চাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন।

দোয়া: اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা 'আফুউন তুহিব্বুল 'আফওয়া ফা'ফু 'আন্নি

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।

03/10/2026

আল্লাহর ৯৯ টা নাম:
১. আল্লাহ, ২. আর-রহমান, ৩. আর-রহিম, ৪. আল-মালিক, ৫. আল-কুদ্দুস, ৬. আস-সালাম, ৭. আল-মু’মিন, ৮. আল-মুহাইমিন, ৯. আল-আযিজ, ১০. আল-জব্বার, ১১. আল-মুতাকাব্বির, ১২. আল-খালিক, ১৩. আল-বারি, ১৪. আল-মুসাওয়ির, ১৫. আল-গাফফার, ১৬. আল-কাহ্হার, ১৭. আল-ওয়াহ্হাব, ১৮. আর-রজ্জাক, ১৯. আল-ফাত্তাহ, ২০. আল-আলিম, ২১. আল-কাবিদ, ২২. আল-বাসিত, ২৩. আল-খাফিদ, ২৪. আর-রাফি, ২৫. আল-মু’ইজ, ২৬. আল-মুযিল, ২৭. আস-সামি, ২৮. আল-বাসির, ২৯. আল-হাকাম, ৩০. আল-আদল, ৩১. আল-লতিফ, ৩২. আল-খবির, ৩৩. আল-হালিম, ৩৪. আল-আজিম, ৩৫. আল-গফুর, ৩৬. আশ-শাকুর, ৩৭. আল-আলিই, ৩৮. আল-কবির, ৩৯. আল-হাফিজ, ৪০. আল-মুকিত, ৪১. আল-হাসিব, ৪২. আল-জলিল, ৪৩. আল-করিম, ৪৪. আর-রকিব, ৪৫. আল-মুজিব, ৪৬. আল-বাসি, ৪৭. আল-হাকিম, ৪৮. আল-ওয়াদুদ, ৪৯. আল-মাজিদ, ৫০. আল-বা’ইস, ৫১. আশ-শাহিদ, ৫২. আল-হক্ক, ৫৩. আল-ওাকিল, ৫৪. আল-কাউই, ৫৫. আল-মাতিন, ৫৬. আল-ওয়ালি, ৫৭. আল-হামিদ, ৫৮. আল-মুহসি, ৫৯. আল-মুবদি, ৬০. আল-মু’ইদ, ৬১. আল-মুহই, ৬২. আল-মুমিত, ৬৩. আল-হাইয়্য, ৬৪. আল-কাইয়্যুম, ৬৫. আল-ওয়াজিদ, ৬৬. আল-মাজিদ, ৬৭. আল-ওয়াহিদ, ৬৮. আস-সামাদ, ৬৯. আল-কাদির, ৭০. আল-মুকতাদির, ৭১. আল-মুকাদ্দিম, ৭২. আল-মুয়াখখির, ৭৩. আল-আওয়াল, ৭৪. আল-আখির, ৭৫. আজ-জাহির, ৭৬. আল-বাতিন, ৭৭. আল-ওয়ালি, ৭৮. আল-মুতা’আলি, ৭৯. আল-বার, ৮০. আত-তাওয়াব, ৮১. আল-মুনতাকিম, ৮২. আল-আফুও, ৮৩. আর-রউফ, ৮৪. মালিকুল-মুল্ক, ৮৫. যুল-জালালি ওয়াল-ইকরাম, ৮৬. আল-মুকসিত, ৮৭. আল-জামি, ৮৮. আল-গানি, ৮৯. আল-মুগনি, ৯০. আল-মানি, ৯১. আদ-দার, ৯২. আন-নাফি, ৯৩. আন-নূর, ৯৪. আল-হাদি, ৯৫. আল-বাদি, ৯৬. আল-বাকি, ৯৭. আল-ওয়ারিস, ৯৮. আর-রশিদ, ৯৯. আস-❤️‍🩹❤️‍🩹সবুর।

03/06/2026

[] সূরা লাহাব []

কে ছিল এই আবু লাহাব? তার নামে কেন একটি সূরা নাজিল হয়েছিল? জানার ইচ্ছা নিশ্চয়ই সবার আছে? আসুন, জেনে নেই-

আবু লাহাব ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর আপন চাচা। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর পিতা এবং এই আবু লাহাব ছিল একই পিতার সন্তান। আবু লাহাব ছিলেন কুরায়েশ নেতা আব্দুল মুত্ত্বালিবের দশজন পুত্রের অন্যতম। তার আসল নাম আব্দুল ওযযা। অর্থ, ‘ওযযা দেবীর গোলাম’। লালিমাযুক্ত গৌরবর্ণ ও সুন্দর চেহারার অধিকারী হওয়ায় তাকে ‘আবু লাহাব’ বা ‘অগ্নিস্ফুলিঙ্গওয়ালা’ বলা হ’ত। তার আসল নাম কুরআনে উল্লেখ করা হয়নি। কেননা তা ছিল তাওহীদের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। তাছাড়া মূল নামের পরিবর্তে ডাক নামেই সে বেশী পরিচিত ছিল। এ সূরায় তার যে পরিণতি বর্ণনা করা হয়েছে তার সাথে তার এ ডাক নামই বেশী সম্পর্কিত।

আবু লাহাব রাসূল (সাঃ)-এর নিকটতম শত্রু প্রতিবেশীও ছিলেন। উল্লেখ্য যে, রাসূল (সাঃ)-এর আপন চাচাদের মধ্যে তিন ধরনের মানুষ ছিলেন। ১. যারা উনার উপরে ঈমান এনেছিলেন ও উনার সাথে জিহাদ করেছিলেন। যেমন হামযাহ ও আববাস (রাঃ)। ২. যারা উনাকে সাহায্য করেছিলেন। কিন্তু জাহেলিয়াতের উপর মৃত্যুবরণ করেন। যেমন আবু তালিব। ৩. যারা শুরু থেকে মৃত্যু অবধি শত্রুতা করেন। যেমন আবু লাহাব।

আবু লাহাব কখনোই তার ভাতিজার রাসূল (সাঃ)-এর সুনাম-সুখ্যাতি ও নবুয়ত লাভের মত উচ্চ মর্যাদা অর্জনের বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। যেমন মেনে নিতে পারেননি উনার অন্যতম বংশীয় চাচা আবু জাহেল ও তার সাথীরা। ফলে শুরু হয় শত্রুতা। তার পক্ষে সম্ভব কোনরূপ শত্রুতাই তিনি বাকী রাখেননি।

যখন রাসূল (সাঃ)-এর প্রতি নিম্নোক্ত আয়াতটি নাযিল হল,
“আর আপনি আপনার গোত্রের নিকট আত্মীয়দের ভীতি প্রদর্শন করুন।”[সূরা আশ-শু’আরা ২৬: ২১৪]

তখন রাসূল (সাঃ) সাফা পর্বতে উঠে সকলকে ডাক দিয়ে একত্রিত করলেন। রাসূল (সাঃ) বললেন, “আমি যদি বলি যে একটি শত্রুদল ক্রমশই এগিয়ে আসছে এবং সকাল বিকাল যে কোনো সময় তোমাদের উপর ঝাপিয়ে পড়বে। তোমরা কি আমার কথা বিশ্বাস করবে? সবাই এক বাক্যে বলে উঠল, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই করবো।’ তখন রাসূল (সাঃ) বললেন, “আমি (শিরক ও কুফরের কারণে আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে নির্ধারিত শাস্তি) এক ভীষণ আযাব সম্পর্কে তোমাদেরকে সতর্ক করছি।” একথা শুনে আবু লাহাব বলল, “ধ্বংস হও তুমি! এজন্যই কি আমাদেরকে একত্রিত করেছো?” একথা বলে তিনি রাসূল (সাঃ)-কে পাথর মারতে উদ্যত হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সূরা লাহাব অবতীর্ণ হয়।

আবু লাহাবের স্ত্রী ছিলেন আবু সুফিয়ানের বোন ‘আওরা বিনতে হারব উম্মে জামীল’। কুরায়েশদের নেতৃস্থানীয় মহিলাদের অন্যতম এই মহিলা রাসূল (সাঃ)-এর বিরুদ্ধে সকল প্রকার চক্রান্তে ও দুষ্কর্মে তার স্বামীর পূর্ণ সহযোগী ছিলেন। সর্বদা রাসূল (সাঃ)-এর বিরুদ্ধে গীবত, তোহমত ও চোগলখুরীতে লিপ্ত থাকতেন। কবি হওয়ার সুবাদে ব্যঙ্গ কবিতার মাধ্যমে তার নোংরা প্রচারণা অন্যদের চাইতে বেশী ছিল। চোগলখুরীর মাধ্যমে সংসারে ভাঙ্গন ধরানো ও সমাজে অশান্তির আগুন জ্বালানো দু’মুখো ব্যক্তিকে আরবরা ‘ইন্ধন বহনকারী বা খড়িবাহক’ বলত। সে হিসাবে এই মহিলাকে কুরআনে উক্ত নামেই আখ্যায়িত করা হয়েছে। নিকটতম প্রতিবেশী হওয়ার সুযোগে উক্ত মহিলা রাসূল (সাঃ)-এর যাতায়াতের পথে বা উনার ‏বাড়ীর দরজার মুখে কাঁটা ছড়িয়ে বা পুঁতে রাখতেন। যাতে রাসূল (সাঃ) কষ্ট পান।

সূরা লাহাব নাযিল হ’লে রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে উক্ত মহিলা হাতে প্রস্তরখন্ড নিয়ে রাসূল (সাঃ)-কে মারার উদ্দেশ্যে কা‘বা চত্বরে গমন করেন। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় রাসূল (সাঃ) সামনে থাকা সত্ত্বেও তিনি তাঁকে দেখতে পাননি।

আবু লাহাবের মৃত্যুও ছিল বড়ই ভয়াবহ ও শিক্ষাপ্রদ। বদর যুদ্ধে পরাজয়ের দুঃসংবাদ মক্কায় পৌঁছবার সপ্তাহকাল পরে আবু লাহাবের গলায় গুটিবসন্ত দেখা দেয় এবং তাতেই সে মারা পড়ে। রোগ সংক্রমণের ভয়ে পরিবারের লোকেরা তাকে ছেড়ে পালিয়ে যায়। কুরায়েশরা এই ব্যাধিকে মহামারী হিসাবে দারুণ ভয় পেত। মরার পরও তিন দিন পর্যন্ত তার ধারে কাছে কেউ ঘেঁষেনি। ফলে তার লাশে পচন ধরে। চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। শেষে লোকেরা তার ছেলেদেরকে ধিক্কার দিতে থাকে। একটি বর্ণনা অনুসারে তখন তারা মজুরীর বিনিময়ে তার লাশ দাফন করার জন্য কয়েকজন হাবশীকে নিয়োগ করে এবং তারা তার লাশ দাফন করে।

অন্য এক বর্ণনা অনুসারে, তারা গর্ত খুঁড়ে লম্বা লাঠি দিয়ে তার লাশ তার মধ্যে ফেলে দেয় এবং ওপর থেকে তার ওপর মাটি চাপা দেয়। এবং তার সন্তানরাও তাকে অসহায়ভাবে মৃত্যুবরণ করার জন্য ফেলে রেখে দিয়েছিল। ইসলাম বিদ্বেষী আল্লাহ ও রাসূলের শত্রু এইসব অহংকারী যালেমের পতন এভাবেই হয়। এই সূরার ভবিষ্যতবাণী সত্যে প্রমানিত হয়েছে। আর কুরআনের কথা এভাবেই সত্য প্রমাণিত হয়। আবু লাহাবের মাল-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তার কোন কাজেই আসেনি। এভাবে এ সূরায় আবু লাহাব সম্পর্কে যে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই তা সত্য হতে দেখলো।

আসুন, এবার সূরাটি পড়ে নেই-

(১) تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ
“তাব্বাত ইয়াদা আবী লাহাবিওঁ ওয়াতাব্বা”
‘ধ্বংস হোক আবু লাহাবের হস্তদ্বয় এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও।’

এখানে ‘তাব্‌বাত’ অর্থ ধ্বংস হোক। ‘ইয়াদা আবী লাহাব’ অর্থ আবু লাহাবের দুই হস্ত। অর্থাৎ আবু লাহাব স্বয়ং। আবু লাহাব রাসুল (সাঃ)কে আঘাত করার জন্য হাতে পাথর তুলে নিয়েছিলো। তাই এখানে বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছে তার হস্তদ্বয়ের কথা। এখানে হস্তদ্বয় অর্থ ইহজগত ও পরজগত। অর্থাৎ তার ইহকাল-পরকাল দুই কালই ধ্বংসের মধ্যে নিপতিত। অথবা এখানে হস্তদ্বয় কথাটির দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে তার বিত্ত ও প্রভুত্বকে।

(২) مَا أَغْنَىٰ عَنْهُ مَالُهُ وَمَا كَسَبَ
“মা আগনা আনহু মালুহু ওয়ামা কাছাব”
‘তার ধন-সম্পদ আর সে যা অর্জন করেছে তা তার কোন কাজে আসল না’।

রাসূল (সাঃ) যখন উনার স্বজনদেরকে ইসলাম গ্রহণের আমন্ত্রণ জানালেন, তখন আবু লাহাব বললো, ভাতিজা! তুমি আমাকে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছো। কিন্তু আমি তো শাস্তির পরোয়াই করি না। প্রয়োজন হলে আমি আমার সন্তান-সন্ততি-ধন-সম্পদ সবকিছুর বিনিময়ে তোমার কথিত শাস্তি থেকে পরিত্রাণ লাভ করবো। তখন এই আয়াত অবতীর্ণ হয়। তার ধন সম্পদ ও তার উপার্জন তার কোনো কাজে আসেনি। অর্থাৎ তার সঞ্চিত বিপুল বিত্ত-বৈভব ও উপার্জিত সম্পদ তাকে আল্লাহ্‌র শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না।

(৩) سَيَصْلَىٰ نَارًا ذَاتَ لَهَبٍ
“সাইয়াছলা না রান যা তালাহাবিওঁ”
‘অচিরেই সে শিখা বিশিষ্ট জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করবে’।

"জাতা লাহাব" অর্থ লেলিহান অগ্নি। অর্থাৎ সেদিন আর বেশী দূরে নয়, যখন আবু লাহাব দগ্ধীভূত হতে থাকবে দোজখের লেলিহান আগুনে।

(৪) وَامْرَأَتُهُ حَمَّالَةَ الْحَطَبِ
“ওয়ামরাআতুহু, হাম্মা লাতাল হাত্বোয়াব”
‘এবং তার স্ত্রীও; যে ইন্ধন বহনকারিণী’।

এখানে ‘ওয়াম্‌রাআতুহু’ অর্থ তার স্ত্রীও অর্থাৎ আবু লাহাবের স্ত্রী উম্মে জামিলকেও ভোগ করতে হবে একই পরিণতি। এবং ‘হাম্‌মালাতাল হাত্বব’ (অর্থ যে ইন্ধন বহন করে) আরবী ভাষায় পরনিন্দুককে বলা হয় কাষ্ঠ, বা ইন্ধন বহনকারিণী। অর্থাৎ পর নিন্দাকারিণী।

(৫) فِي جِيدِهَا حَبْلٌ مِّن مَّسَدٍ
“ফী-জী-দিহা হাবলুম মিম মাসাদ”
‘তার গলদেশে খর্জুরপত্রের পাকানো রশি’।

অর্থাৎ খেজুরপাতা দিয়ে পাকানো রশি দিয়ে কাঁটাযু্ক্ত লতাগুল্ম বেঁধে ঘাড়ে করে বা গলায় ঝুলিয়ে সে বহন করে আনত। ‘মাসাদ’ হ’ল ইয়ামনে উৎপন্ন এক প্রকার গাছের পাকানো রশি। যা গাছের ছালপাতা দিয়ে বা চামড়া দিয়ে বা অন্যকিছু দিয়ে তৈরী হ’তে পারে। ঐ রশিই ক্বিয়ামতের দিন তার জন্য আগুনের রশি হবে। আবু লাহাবের স্ত্রীর মণিমুক্তাখচিত বহু মূল্যবান একটি কণ্ঠহার ছিল। যেটা দেখিয়ে সে লোকদের বলত, ‘লাত ও ওযযার কসম! এটা আমি অবশ্যই ব্যয় করব মুহাম্মাদের শত্রুতার পিছনে’। অথচ এ কণ্ঠহারই তার জন্য ক্বিয়ামতের দিন আযাবের কণ্ঠহার হবে।

••••এই সূরা থেকে আমাদের জন্য কি ম্যাসেজ আছে??

কালের বিবর্তনে হাজারো ইসলাম বিদ্বেষী ও আল্লাহ রাসূলের শত্রু আবু লাহাবের চরিত্রের লোক আসতেই থাকবে। আর এইরকম ধ্বংস তাদের জন্যও প্রযোজ্য হবে।

এই সূরায় আল্লাহ আবু লাহাবের সমস্ত চেষ্টা সাধনা ও উপায় উপকরন (হাত, কর্ম, ধন-সম্পদ, আয়-উপার্জন)সহ তার ধ্বংসের কথা বলেছেন। এমনকি তার স্ত্রীর কথাও। যে ছিলো ইসলামের বিরোধিতায় তার সহযোগী। ইসলাম বিদ্বেষী এবং তাদের সহযোগীরা যে শুধু এই দুনিয়ায় পরাজিত হবে তা নয় বরং আখিরাতেও একে অপরের সহায়তা করতে করতে ভয়াবহ পরাজয়ের স্বাদ পাবে।

আল্লাহ ও তাঁর রাসুল(সাঃ) এর সাথে শত্রুতা ও বিদ্রোহের পরিনতি যে কী হতে পারে, এই সুরা তো তারই সাক্ষ্য বহন করছে। আল্লাহর রাসুলের(সাঃ) শত্রুর ভয়ঙ্কর পরিনতির ব্যাপারে এখানে একটি ভবিষ্যতবাণী রয়েছে। এবং ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে এ ভবিষ্যতবাণী সত্যে পরিনত হচ্ছে।

সেদিনের মত হাজারো আবু লাহাব ও উম্মে জামীলের ন্যায় ইসলামের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য শত্রু চিরকাল থাকবে। এবং তারা অবশ্যই জাহান্নামী হবে। কিন্তু আল্লাহর নিকটে মযলূম মুমিনরাই প্রকৃত বিজয়ী এবং যালেমরা সর্বদাই পরাজিত।

ইসলাম ধর্মে গোষ্ঠী বা সম্প্রদায় সৃষ্টি হয় নবীজীর দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার পর। শিয়া এবং সুন্নীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় মতপার্থ...
03/04/2026

ইসলাম ধর্মে গোষ্ঠী বা সম্প্রদায় সৃষ্টি হয় নবীজীর দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার পর। শিয়া এবং সুন্নীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় মতপার্থক্য দেখা দেয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর প্রতিষ্ঠিত মুসলমান সমাজের কে হবেন পরবর্তী নেতা তা নিয়ে।

গোড়ার দিকে ইসলামে কিভাবে গোষ্ঠী সৃষ্টি হলো তা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে আলোচনা করলে আজকের আধুনিক মুসলিম সমাজকে বুঝতে সুবিধা হবে। এই বিভক্তি ১৩শ’বছর ধরে মুসলমানদের কাছ থেকে মুসলমানদেরকে পৃথক করে রেখেছে।

রাসুলুল্লাহ(সঃ)-এর দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার পর মুসলমানদের যারা শাসন করেছেন তাদের খলিফা বলা হয়। শিয়ারা বিশ্বাস করে যে প্রথম খলিফা ছিলেন হজরত আলী। আলী ছিলেন রাসুল (সঃ)-এর চাচাতো ভাই এবং নবীজির কন্যা ফাতিমাকে বিয়ে করেছিলেন। হজরত আলী হলেন রাসুলের দৌহিত্রদের পিতা। কিন্তু সুন্নীরা আবু বকরকেই প্রথম খলিফা বলে মনে করে। শিয়া এবং সুন্নীরা হলো ইসলামের সবচেয়ে বড় দুটি গোষ্ঠী। তাদের ধর্মীয় মতবাদ এবং ইতিহাস জানা ও বোঝা জরুরি।

শিয়া ও সুন্নীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় মতপার্থক্য দেখা দেয় নবী মোহাম্মদের প্রতিষ্ঠিত মুসলমান সমাজের কে হবেন পরবর্তী নেতা তা নিয়ে। শিয়ারা দাবি করে, নবী মুহাম্মদ শেষবার হিজরতকালে পথিমধ্যে দাঁড়িয়ে পড়েন এবং তার সহযাত্রীদের সম্মুখে ঘোষণা করেন হজরত আলী হবেন পরবর্তী উত্তরাধিকারী। কিন্তু সুন্নীরা বিশ্বাস করে, দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার সময় নবী তার আরেক স্ত্রীর পিতা আবু বকরকে উত্তরাধিকার নির্বাচন করেন। শিয়াদের বক্তব্য হলো, আলী যখন নবীকে কবর দিতে ব্যস্ত তখন হজরত উমর (পরবর্তীতে ২য় খলিফা নির্বাচিত হন) সাহাবাদেরকে ডাকেন এবং আবু বকরকে নেতা নির্বাচিত করেন। সুন্নী মুসলমানরা বলে, আবু বকরের নির্বাচনই সঠিক। শিয়ারা বলে প্রকৃতপক্ষে আলী প্রথম খলিফা এবং ইমাম।

আবু বকরের পর উমর এবং উসমান খলিফা নির্বাচিত হন। উসমানের হত্যাকাণ্ডের পর আলী চতুর্থ খলিফা হিসেবে নিযুক্ত হন এবং সকলেই তা মেনে নেন, শুধু বর্তমান সিরিয়ার তখনকার বাসিন্দারা ব্যতীত। ৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দে উসমানের হত্যার পর আলী ক্ষমতায় আসেন, কিন্তু তার শাসনকাল ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। অবশেষে আলী ৬৬১ খ্রিষ্টাব্দে আততায়ীর হাতে নিহত হন এবং তার পুত্র ও নবীর দৌহিত্র হোসেন ক্ষমতারোহন করেন।

কিন্তু মুসলিম বিশ্বের নেতা হয়ে উঠা মোয়াবিয়া তাকে অস্বীকার করেন। মোয়াবিয়ার মৃত্যুর পর তার পুত্র ইয়াজিদ ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করেন। তৎকালীন ইরাকিরা আলীর দ্বিতীয় পুত্র হুসেনকে সমর্থন করেন। হুসেন ইরাকের নগরী কুফায় গমন করেন এবং খিলাফতের দাবিতে রাজধানী দামাস্কাস অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। পথে কারবালা নামক স্থানে তিনি ইয়াজিদ বাহিনীর হামলার শিকার হন। ইয়াজিদ বাহিনী হুসেনের পরিবারসহ শিশুদের খাবার পানি সরবরাহ করতে অস্বীকার করেন এবং তাদেরকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। নবী মোহাম্মদের দৌহিত্র হুসেনের শিরচ্ছেদ করা হয় এবং তার বোন জয়নাবকে ইয়াজিদের দরবারে নিয়ে যাওয়া হয়। শিয়ারা এই ঘটনাকে তাদের ইতিহাসের উৎস মনে করে। তারা আলী, হুসেন এবং নবী পরিবারের যারা নিহত হয়েছেন তাদেরকে জীবন্ত প্রতীক হিসেবে স্মরণ করে। এখান থেকেই তারা একটি গোষ্ঠী হিসেবে আবির্ভূত হয়। তাদের চিন্তায় থেকে যায় অত্যাচার, করুণ ঘটনা এবং শহীদ হওয়ার কাহিনী।

সুন্নী ইসলামে আইন বিষয়ক চারটি তরিকা রয়েছে — হানাফি, সাফি, মালিকি এবং হানবালি। অন্য একটি উঠে আসা গোষ্ঠী হলো ওয়াহাবি গোষ্ঠী। এই ওয়াহাবিরাই আজকের সৌদি আরবে সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং ক্ষমতাশীল।

ওয়াহাবি সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা অষ্টাদশ শতাব্দীর দার্শনিক ও ধর্মীয় নেতা মোহাম্মদ আবদ আল ওয়াহাব (১৭০৩–১৭৯২)। তিনি মূলত হানবালি মতাদর্শের অনুসারী ছিলেন। ওয়াহাব আরব প্রধান ইবনে সৌদের সঙ্গে হাত মেলান এবং তারা দু’জনে মিলে আরব উপদ্বীপ দখল করেন। পরে সৌদের পরিবার আধুনিক সৌদি আরব প্রতিষ্ঠা করেন এবং রাজ্যের ইসলাম চর্চা শুরু হয় ওয়াহাবি মতবাদ অনুসারে।

তারা জামাতে উপস্থিত হওয়াকে বাধ্যতামূলক করে। ওয়াহাবিরা শিয়াদের সহ্য করতে পারেনি। ১৮০২ সালে আধুনিক ইরাকের কারবালা তারা ধ্বংস করে এবং যত শিয়া পুরুষ, নারী ও শিশু পাওয়া যায় তাদের হত্যা করে। শিয়া সম্প্রদায়ের কাছে কারবালা একটি পবিত্র শহর।

ওয়াহাবি মতবাদের অনুসারীরা একটি কট্টর ও উগ্র সম্প্রদায়। তারা মুসলমানদের কিছু সম্প্রদায়কে স্বধর্মত্যাগী মনে করে এবং শিয়াদের হত্যা করা তাদের ধর্মীয় দায়িত্ব বলে মনে করে। এই কারণে ইসলামের প্রাণকেন্দ্র রক্তাক্ত হয়েছে এবং গৃহযুদ্ধ বেঁধেছে বারবার। অধিকাংশ সুন্নী মনে করে, বিরোধীতার সবচেয়ে বড় কারণ হলো ওয়াহাবিদের চিন্তা ও কর্মকাণ্ডের সহিংসতা, যা পুরো মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
Copy @ Shab Uddin

02/23/2026

Islamic Part 28

Address

200 W Browning Road
Bellmawr, NJ

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Islamic Jahan posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share