প্রজন্ম বাংলাদেশ

প্রজন্ম বাংলাদেশ জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু! আমি সেই দেশের মানুষ যে দেশে জাতির জনকের চেয়ে বড় কোন নেতা নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে বড় কোন অহংকার নেই। স্বাধীনতার চেয়ে বড় কোন প্রাপ্তি নেই। দেশের চেয়ে বড় কোন গর্বের ঠিকানা নেই। জাতীয় সংগীতের চেয়ে সুন্দর কোন গান নেই। জন্মভুমির চেয়ে পবিত্র কোন মৃত্তিকা নেই। লাল সবুজ পতাকার চেয়ে প্রিয় কোন রং নেই। মানবতার চেয়ে বড় কোন ধর্ম নেই। দেশ প্রেমের চেয়ে বড় কোন বর্ম নেই। শহীদ মিনারের চেয়ে বড় কোন তীর্থস্থান নেই। কাদার জন্য বধ্যভুমির চেয়ে উপযুক্ত জায়গা নেই। ইতিহাস বিকৃতির চেয়ে ঘৃন্য কোন অপরাধ নেই। যুদ্ধাপরাধীর চেয়ে নষ্ট কোন প্রানী নেই।
(4)

আব্বা গাড়ি চালিয়ে স্কুলে নিয়ে যাবেন এটা ছিলো আমার কাছে স্বপ্নের মতো। - শেখ হাসিনা ১৯৫৮ সালের ৭ই অক্টোবর আইয়ুব খান মার্শা...
09/12/2020

আব্বা গাড়ি চালিয়ে স্কুলে নিয়ে যাবেন এটা ছিলো আমার কাছে স্বপ্নের মতো।
- শেখ হাসিনা

১৯৫৮ সালের ৭ই অক্টোবর আইয়ুব খান মার্শাল ল' জারি করে। আব্বাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। মাত্র তিন দিনের নোটিশ দিয়ে আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়। আমরা চার ভাই-বোন আর দাদীকে নিয়ে মাকে রীতিমত রাস্তায় দাঁড়াতে হয়। তখন কেউ বাড়ি ভাড়া দিতেও সাহস পেত না সরকারি রুদ্র রোষে পড়বে বলে। আব্বা মুক্তি পান প্রায় দেড় বৎসর পর। মুক্তি পেলেও তখনো রাজনীতি দেশে নিষিদ্ধ। আব্বা মুক্তি পেয়ে ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি নেবার পর মা ধানমন্ডির বাড়িটায় কোনোমতে দুটো কামরা করে আমাদের নিয়ে ওঠেন। ১৯৬১ সালের ১লা অক্টোবর আমরা ধানমন্ডিতে আসি।

জীবনের প্রথম বারের মতো সেবারই আমরা আব্বাকে কাছে পাই। আব্বা সকাল বেলা নিজে গাড়ি চালিয়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ অফিসে যেতেন। যাবার সময় আমাকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে যেতেন। আব্বা গাড়ি চালিয়ে স্কুলে নিয়ে যাবেন এটা ছিল আমার কাছে স্বপ্নের মতো। আব্বা তার জীবনের অধিকাংশ সময় জেলে কাটিয়েছেন। আমরা আব্বাকে কাছেই পাইনি। আব্বা বলে ডাকারও সুযোগ কম পেতাম। দেশের মানুষের জন্য নিজের আরাম-আয়েশ সব ত্যাগ করেছিলেন।

সূত্র : সাদাকালো
প্রবন্ধ : স্কুল জীবনের কিছু স্মৃতি কথা
পৃষ্ঠা : ৭৩

#শেখমুজিব #শেখহাসিনা #বঙ্গবন্ধু

ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ যেদিন গড়তে পারব সেদিনই নিজেকে সফল মনে করব। - শেখ হাসিনা
09/08/2020

ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ যেদিন গড়তে পারব সেদিনই নিজেকে সফল মনে করব।
- শেখ হাসিনা

যমুনার পাড়ে দেশের বৃহৎ সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র ....- ২৩ হাজার প্যানেল বসিয়ে উৎপন্ন হবে ৭.৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।- আগামি ৪ অক্টোব...
09/08/2020

যমুনার পাড়ে দেশের বৃহৎ সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র ....

- ২৩ হাজার প্যানেল বসিয়ে উৎপন্ন হবে ৭.৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
- আগামি ৪ অক্টোবর জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হবে বিদ্যুৎ।
https://tinyurl.com/yy4oon22

সাগরে মাছ ধরার নৌযানগুলো নেটওয়ার্কের আওতায় আসছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ....... - নেটওয়ার্ক স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে ৬৫ শতা...
09/03/2020

সাগরে মাছ ধরার নৌযানগুলো নেটওয়ার্কের আওতায় আসছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের .......
- নেটওয়ার্ক স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে ৬৫ শতাংশ।
- জাহাজ মালিকরা জাহাজের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে পারবেন।
- নৌযানগুলোর ওপর নজরদারি ও নিশ্চিত করা যাবে নিরাপত্তা।

https://tinyurl.com/y3qhhyks

রমা চৌধুরীর কথা মনে আছে ? যিনি বলেছিলেন, "যে মাটিতে আমার সন্তানেরা ঘুমিয়ে আছে সেই মাটিতে কিভাবে আমি জুতা পায়ে হাটি।". আজ...
09/03/2020

রমা চৌধুরীর কথা মনে আছে ? যিনি বলেছিলেন, "যে মাটিতে আমার সন্তানেরা ঘুমিয়ে আছে সেই মাটিতে কিভাবে আমি জুতা পায়ে হাটি।"

. আজ এই বীরঙ্গনা মায়ের প্রয়াণ দিবস। প্রয়াণ দিবসে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।

এই মহীয়সী মা স্বাধীনতার পর থেকে জুতা পায়ে হাঁটেননি বাংলার জমিনে, কারন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া তার সন্তানেরা এই মাটিতে শুয়ে আছে।

২০২১ সালের মধ্যে ১৯ হাজার অফিস পেপারলেস হচ্ছে .........- পর্যায়ক্রমে দেশের সব অফিস-আদালতে ই-পেপার অফিস চালু করা হবে। - ক...
09/02/2020

২০২১ সালের মধ্যে ১৯ হাজার অফিস পেপারলেস হচ্ছে .........

- পর্যায়ক্রমে দেশের সব অফিস-আদালতে ই-পেপার অফিস চালু করা হবে।
- কাগজের বড় বড় ফাইল আর থাকবে না।

বিস্তারিতঃ https://tinyurl.com/y3uluxbh

#digitalbangladesh

"সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান"- অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরীসপরিবারে নির্মম হত্যার প্রায় ...
09/01/2020

"সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান"

- অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী

সপরিবারে নির্মম হত্যার প্রায় ২৯ বছর পর এবং বিএনপির শাসনামলে ২০০৪ সালের ১৪ এপ্রিল মোতাবেক ১লা বৈশাখ ১৪১১ বঙ্গাব্দে বিবিসি বাংলা বিভাগের সকালের অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি অভিধায় ভূষিত করে। ফেব্রুয়ারী মাসের ১১ তারিখ থেকে মার্চের ২২ তারিখ পর্যন্ত সারাবিশ্বের হাজার হাজার বাঙালি শ্রোতা চিঠি, ইমেইল এবং ফ্যাক্সের মাধ্যমে তাদের মতামত দিয়েছে। শ্রোতাদের মতামতের ভিত্তিতে দেখা যায় শীর্ষ ২০ জনের মধ্যে ক্রমের শেষাংশ থেকে আছেন যথাক্রমে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, জিয়াউর রহমান, অতীশ দীপংকর, স্বামী বিবেকানন্দ, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, বায়ান্নের ভাষা শহীদগণ, ড. অমৃত্য সেন, সত্যজিত রায়, লালন শাহ, মীর নিসার আলী তিতুমীর, রাজা রামমোহন রায়, মাওলানা ভাসানী, ঈশ্বরচন্দ্র, বিদ্যাসাগর, জগদীশ চন্দ্র বসু, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, সুভাস চন্দ্র বোস, আবুল কাশেম ফজলুল হক, কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
বঙ্গবন্ধুকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি নির্বাচনের ভিত্তি নিয়ে কিছু সাধারন মানুষ, শিক্ষার্থী বা শিক্ষাবিদ, ঐতিহাসিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ যেসব মন্তব্য করেছেন বিবিসি তাদের প্রচারে ঐসব বিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের মন্তব্য তুলে ধরেছেন। তাদের একজন জাপান থেকে মনিকা রশিদ বলেছেন, ‘আজ আমরা সারাবিশ্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে যে যেখানেই বসে যা কিছু করছি যা বলছি তার কোনটাই সম্ভব হতো না যদি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আমাদের ইতিহাসের সবচে প্রয়োজনীয় সময়টাতে না পেতাম। তিনিই বাঙালি জাতিকে প্রথম বোঝাতে সক্ষম হন যে, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি সর্বোপরি বাঙালি জাতি হিসেবে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চাইলে রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন হতে হবে। মৃত্যুভয় বা ক্ষমতার লোভ কোনও কিছুই তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামী মনোভাবকে দমিয়ে দিতে পারেনি। ২৩ বছর ধরে পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে বাঙালির গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি ছিলেন অগ্রণী এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে রূপায়ণ করেন। তাঁর ৭ মার্চের ভাষণ মন্ত্রের মতো সমগ্র বাঙালি জাতিকে পৃথিবীর একটি সুপ্রশিক্ষিত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে খালি হাতে লড়াইয়ে নামতে এবং সেই লড়াইয়ে জিততে উদ্বুদ্ধ করেছিল।’
তার সাথে কন্ঠ মিলিয়ে ঢাকা থেকে শহিদুল হক ‘মুজিবের ৭ মার্চের কন্ঠস্বরকে ঐশী কন্ঠস্বর’ বলেছেন এবং তার ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ সাত কোটি মানুষকে ঐদিন একসূত্রে গেঁথেছিলেন। এই একই সূত্রে গাঁথা ‘মানুষগুলোর পরিচয় না মুসলমান, না হিন্দু, না বৌদ্ধ, না খ্রিস্টান- তারা সবাই ছিলেন বাঙালী।’ বৃটেনের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জিনাত হুদা। জিনাত হুদা আরও বললেন বাঙালি জাতির স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা, সংগ্রাম আর সফলতার রূপকার হচ্ছেন শেখ মুজিব। এই জাতির ‘ভিত্তি হচ্ছে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি। মুজিব তার অসাধারন নেতৃত্বে আবহমান শাশ্বত বাঙালির সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করেন ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। ‘মুজিব, তাঁর অসাধারন প্রজ্ঞা, মেধা, ত্যাগ, অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এই (স্বপ্ন) আকাঙ্ক্ষাকে রূপায়িত করেছেন।’
প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন ‘আমি তার নেতৃত্বের তিনটি বড় গুন দেখি। প্রথমত, তিনি অত্যন্ত সাহসী ছিলেন, দৃঢ়চেতা ছিলেন এবং আপোষহীন ছিলেন, যার অভাব আমরা আমাদের দেশের নেতত্বে বারবার দেখেছি। অন্যরা আপোষ করে ফেলেন, ক্লান্ত হয়ে যান এবং ঐভাবে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যান না। দ্বিতীয়ত, যে বৈশিষ্ট্য আমরা দেখেছি তার নেতৃত্বে সেটা হলো এই যে, তিনি পাকিস্তান রাষ্ট্রে প্রধান দ্ব›দ্ব কি সেটাকে খুব সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন। তৃতীয়ত হচ্ছে যে, ব্যক্তি হিসেবে তার মধ্যে অসাধারন গুণ ছিল, তার আকর্ষনী শক্তি ছিল যাকে ক্যারিশমা বলে, তিনি জনগণকে বুঝতেন, জনগণের সঙ্গে মিশতে পারতেন, তাদের ভাষা জানতেন, তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে পারতেন। কাজেই আমরা তার মধ্যে দেখবো যে তার মধ্যে বীরত্ব ছিল এবং নেতৃত্ব দেবার ক্ষমতা ছিল যার একটা সমন্বয় ঘটেছিল একটি অসাধারন চরিত্রে।
রাজনৈতিক কামাল হোসেন বঙ্গবন্ধুকে মূল্যায়িত করতে হেনরী কিসিঞ্জারকে টেনে আনেন যিনি বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির সাথে তুলনা করলেও বঙ্গবন্ধুকে বলেছেন ‘ইউ হ্যাভ ডিফাইড হিস্ট্রি’। এ ব্যাপারে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী দ্বিমত পোষন করলেও তিনি মনে করেন ‘বঙ্গবন্ধু দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীন রাষ্ট্রীয় সত্তার যে উদার্য উদ্ভব সেটিকে চূড়ান্ত পর্যায়ে অনুঘটক নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেছিলেন। আনোয়ার হোসেনও কিসিঞ্জারের উপলব্ধির সমালোচনা করেছেন। শেষকালে কামাল হোসেন, আনোয়ার হোসেনের সাথে সহমত পোষন করেন এবং কিসিঞ্জারের অজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কামাল হোসেন বলেন ‘সেই পঞ্চাশের দশক থেকে তিনি স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেন। বাংলাদেশের ধারনা তার মধ্যেই সৃষ্টি হয়ে এসেছে। তার একটা দূর লক্ষ্য সামনে ছিল। সেই দূর লক্ষ্যটাকে সামনে এনে জনগণকে অনুসারী তৈরী করেছিল এবং জনগনের ভাবনা চেতনা অভিলক্ষ্য স্বপ্ন তিনি ধারন করতে পেরেছিলেন। তিনি সেই ১৯৫৯ সালে তার লক্ষার্জনের সময়সীমা দশ বছরে বেঁধে দিয়ে ৬ দফা দিলেন আর ৬৯ এর আন্দোলনে হলেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বা আনোয়ার হোসেনের মতে পপলিষ্ট লিডার।
আতাউস সামাদ এর বক্তব্যে দেখা যায় “শেখ সাহেব সাহস করে ছয় দফা ঘোষনা করেন, তাও করলেন তিনি লাহোরে। পশ্চিম পাকিস্তানে একটি সম্মেলনে গিয়ে তিনি এই ছয় দফা ঘোষনা করলেন। যার ফলে ওনাকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে যে মামলাটি হয় তাতে এক নম্বর আসামি করা হলো। তারপর ওনাকে ছাড়ানোর জন্য আন্দোলন হলো যেটা ছাত্রদের ১১ দফায় রূপ নিল। এবং ওইখান থেকে মুক্তি পাওয়ার পরই তাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হলো। ১৯৭০- এর নির্বাচনে শেখ মুজিব তার নির্বাচনী প্রচারণায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিষয়টিকে মূল বক্তব্য হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।
সাংবাদিক আতাউস সামাদ আরও বলেন উনি নির্বাচনী যে প্রচারগুলো করেছেন তার অনেকগুলো জায়গায় আমি তার সঙ্গে গিয়েছি। উনি সবখানেই ছয় দফার কথা বলতেন এবং ছয় দফা না হলে একটা আঙুল তুলে বলতেন আমার দাবি ‘এই’ অর্থাৎ দেশ স্বাধীন করতে হবে। সর্বোপরি ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে তিনি এমন একটা বক্তৃতা দিলেন যা সবার মন ছুয়ে গেল, সবাই ওনার নির্দেশ মানতে লাগলো এবং ওনার নামেই স্বাধীনতা যুদ্ধ চলছে।’
তিনি ভাষা আন্দোলনে সূচনা লগ্নে ছিলেন এবং ভাষা আন্দোলনের একটা যৌক্তিক পরিণতি হিসেবে ভাষা ভিত্তিক একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। এদিক দিয়ে এই অঞ্চলে তো বটেই বিশ্বে তিনি একজন অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি সকল ধর্মীয় সত্তাকে একত্রিত এবং সমন্বিত করে একটি অভিন্ন জাতিসত্তায় রূপান্তর ঘটান। এমনকি শোষনহীন, বৈষম্যহীন এক সমাজ ব্যবস্থার ছক আঁকেন। তিনি একটি সমাজে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে স্বাধীনতার আন্দোলন এবং পরিশেষে স্বাধীনতা যুদ্ধে রূপান্তর ঘটান এবং চূড়ান্ত ফল স্বপক্ষে নিয়ে আসতে সক্ষম হোন। তিনি ছিলেন প্রতিহিংসা বিবর্জিত, মানবতাবাদী ও শান্তি প্রিয় নেতা। তাই বিশ্ব শান্তি পরিষদ তাকে জুলিও কুরি পুরস্কার প্রদান করেন। তবে শান্তির পথে তার অবদানের জন্যে তিনি পেতে পারতেন নোবেল শান্তি পুরস্কার। বিশ্ব শান্তি পরিষদ সর্বাগ্রে পদক্ষেপ না নিলে তিনিই হতেন একমাত্র বাঙালি রাজনীতিবিদ যিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হতেন।
এ’সবের মানে হচ্ছে বঙ্গবন্ধু বাঙালির ব্যক্তিক পরিচিতি ও স্বাতন্ত্রবোধের জনক। তিনিই বাঙালি জাতিকে প্রথম বুঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে বাংলাদেশের সংস্কৃতি সর্বোপরি বাঙালি জাতি হিসেবে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে রাজনৈতিক ভাবে স্বাধীন হতে হবে এই দুরুহ লক্ষার্জনে।
তার আগে কেউ বাঙালিকে একই সূত্রে গেঁথে নিতে পারেননি- এ’কাজ আর কেউ কোনদিন করতে পারবে বলে আমি অন্ততঃ বিশ্বাসী নই। আমার সাথে কন্ঠ মিলিয়েছেন অলি আহাদ, তিনি বলেন, ‘আমার ভাইয়ের মতো ব্যাডা এই মুলুকে জন্ম নেয়নি, আর কোনদিন জন্ম নেবেওনা।’ ওলি আহাদ এ’কথা যখন বলেন তখন তার তথাকথিত জাতীয়তাবাদীদের কন্ঠে ভিন্ন কথা, বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলার জঘন্য প্রয়াস বিংশ শতাব্দী শেষপাদে বললেও আর বিবিসি কর্তৃক ২০০৪ সালে একটি সর্বসম্মত অভিধা দিলেও আমাদের অবিমূশ্যকারিতা বা অজ্ঞতা আমাদের মন ও মনন চেপে বসে আছে? আমি অনেক রাজনৈতিক নেতাকে বলতে শুনেছি ‘কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ’ অথচ তারা ছাত্র জীবন থেকেই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে অস্বীকার করে আসছিলেন। এ’সব নেতার অনেকেই বঙ্গবন্ধুকে শতাব্দীর মহানায়ক কিংবা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ নেতা বলে গলা ফাটিয়ে বক্তৃতা দিতে শুনেছি। তারা যখন এ’সব কথা বলছিলেন তখন আমাদের মতো কলাম লেখক, গবেষক ও বঙ্গবন্ধু প্রেমিক বঙ্গবন্ধুকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী হিসাবে চিহ্নিত করে আসছিলেন। শুধু লেখায় নয়, একবার জাতীয় যাদুঘরে এক বক্তব্যে আমি বঙ্গবন্ধুকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী বলে অভিহিত করলাম। সেটাও নব্বই দশকের প্রথম ভাগের কথা। যাদুঘর থেকে বের হবার সাথে সাথে এক ব্যক্তি আমার পিছু নিলেন। তিনি আমাকে থামিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করলেন, ‘আপনিতো বললেন বঙ্গবন্ধু সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী, তাহলে নেতাজী সুভাস বোস বা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের স্থান কোথায়? আমি বললাম,“রবীন্দ্রনাথ ছিলেন একজন কবি, দার্শনিক ও সমাজ সংস্কারক। তিনি রাজনীতিবিদ ছিলেন না, তাই তার সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে তুলনা না করে রাজনীতিবিদের সাথে রাজনীতিবিদের তুলনা করতে গেলে নিঃসন্দেহে নেতাজী সুভাস বোস এর সাথে বঙ্গবন্ধুর তুলনা চলে আসে’। ‘সুভাস বোস বাঙালীর চেয়ে ভারতবাসীর মুক্তির আন্দোলন করেছেন এবং সশস্ত্র পন্থায় ভারতকে স্বাধীন করতে প্রয়াসী ছিলেন। কিন্তু তার প্রয়াসের অন্তিম ফলটা কি ?
‘১৯৪৭ সালে অখন্ড ভারত বিভক্ত হয়েছে, স্বাধীন হয়নি। ভারত বিভক্তিতে বাঙালিদের পরাধীনতার জিঞ্জির আবার নতুন করে পরতে হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু এ কারনেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি যিনি বাঙালিদের মনে ও চেতনায় স্বাধীনতার স্পৃহা জাগিয়ে ক্ষান্ত হননি তিলে তিলে তিলোত্তমা গড়ার সংগ্রাম ও লড়াইয়ের মাধ্যমে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিদের জন্য একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। তদুপরি তিনি এমন একটি রাষ্ট্র সৃষ্টি করেছেন যার পরিচিতি ভৌগোলিক সীমারেখায় শুধু আবদ্ধ নয়; তার আদর্শিক ভিত্তি হচ্ছে মানবিক, গণতান্ত্রিক সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ।’ আমার সেদিনের কথায় ভদ্রলোক সন্তুষ্ট হতে পেরেছিলেন কিনা আমার বোধে আসেনি। হয়তো তাকে আর বেশ ক’টি বছর অপেক্ষায় থেকে বিবিসির ভাষ্যকারের মুখে শুনতে হয়েছিল “বঙ্গবন্ধু সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী”। বিবিসির জরিপ শেষে তিনি আমার কথাটি মেনে নিয়েছিলেন না জাতীয়তাবাদী আঁতেলদের মতই কাঁধ দিয়ে ঠেলে বলে যাচ্ছিলেন যে শেখ মুজিব কিসের বঙ্গবন্ধু, কিসের জাতির পিতা, কিসের শতাব্দী মহানায়ক বা শ্রেষ্ঠ নেতা।
বিবিসি’র জরিপে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি নির্বাচিত হওয়ায় বঙ্গবন্ধু পরিবারে জীবিত দু’সদস্য, দু’কন্যা জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা জরিপে অংশগ্রহণকারী সকল শ্রোতা এবং বিশ্বের সকল বাঙালির প্রতি অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
শেখ হাসিনা ১লা বৈশাখ বিবিসিতে জরিপের ফলাফল প্রচারের পরপরই এক বিবৃতিতে বলেন, সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বীকৃতি দেয়ার গৌরব সমগ্র বাঙালি জাতির। শেখ হাসিনা বলেন, বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে তার নিজস্ব ভাষা ছিল, কৃষ্টি ছিল, ঐতিহ্য ছিল। ছিল না একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, বীরের জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে নিজস্ব পরিচিতি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই বাঙালিকে দিয়েছিলেন জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র। এখানেই বঙ্গবন্ধুর সার্থকতা, তার শ্রেষ্ঠত্ব।
তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধারণ করেছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্বপ্নকে। বাস্তবায়িত করেছিলেন তিতুমীর, সূর্যসেন, নেতা সুভাস বসু, শেরে বাংলা এ, কে, ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা ভাসানীসহ মুক্তিকামী বাঙালির আকাঙ্ক্ষাকে। তাঁর নেতৃত্বেই পরাধীনতার শিকল ভেঙ্গেছিল বাঙালি জাতি।
তারপর থেকে আমার মনে হয় না শেখ হাসিনা কখনও তাকে শতাব্দীর মহান নেতা কিংবা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ নেতা বলেছেন। অথচ তারই সাথে একই মঞ্চে উপবিষ্টরা তাকে কখনও শতাব্দীর নেতা, সহস্রাব্দের নেতা নির্দ্বিধায় বলে যাচ্ছেন; নেত্রী ভাষনে বলছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা, আর সঞ্চালক বলছেন ‘শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ নেতা’, বাংলাদেশ বেতার হয়তো বলছে ‘বঙ্গবন্ধু সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা’ আর টেলিভিশনে বলছে ‘হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ নেতা’। এক ঐতিহাসিক তাকে বঙ্গবন্ধু বলতে কুণ্ঠিত, আর একজন বলছেন তিনি বঙ্গবন্ধু ও শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ নেতা। এক উপাচার্য সেই ১৯৯৪ সাল থেকে তাকে পরিচয় করিয়ে আসছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা হিসেবে আর এক উপাচার্য বলছেন তিনি শতাব্দীর মহান নেতা। এক বুদ্ধিজীবি বলছেন তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি আর একজন বলছেন সা¤্রাজ্যবাদীরা তাদের আপন স্বার্থে তাঁকে এই অভিধায় অভিহিত করছেন যা মুষ্টিমেয় বাঙালীর মন্তব্য নির্ভর। কেউ বলছেন কলকাতা বা ভারতের বাঙালিদের মতামতে তাকে শ্রেষ্ঠ বাঙালি বলে অভিহিত করেছে, এটা সম্ভব কেমন করে হোল? তারা কি বিচার বিশ্লেষন ভুলে তা করেছেন? তারা নেতাজী আর বঙ্গবন্ধুর ফারাকটা বুঝেছেন। বাংলাদেশী এক আঁতেল বলেছেন, বঙ্গবন্ধু ক্রিকেট স্টেডিয়ামের কারনেই শেখ মুজিবের নাম সামনে এসে গেছেন, তাই তদানিন্তন সরকারকে দিয়ে ক্রিকেট স্টেডিয়ামের স্থানান্তর সহ নাম বিভ্রাট সৃষ্টি করেছে। এ’সব বিতর্ক শুধুমাত্র বেকার মস্তিষ্কের বৃথা আস্ফালন, গণতন্ত্রের প্রতি আস্থাহীনতা ও বিভ্রান্তির সূতিকাগার। তাই আমার মনে হয়, বঙ্গবন্ধুকে আমরা জাতির পিতা বলতে পারি, স্বাধীনতার মহান স্থপতি বলতে পারি, কিন্তু তাকে একই সাথে শতাব্দীর মহান নেতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি আর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বলতে পারিনা।
তিনিই বাঙালিদের এমন এক রাষ্ট্র উপহার দিলেন যার ভিত্তি হচ্ছে সত্যতা, সমতা ও মানবিকতা। নিশ্চয়ই বাংলাদেশ শত্রæমুক্ত করতে ন’মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের প্রয়োজন হয়েছিল কিন্তু তার আদর্শিক ভিত্তি তথা বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্ম নিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র বাঙালির উপলব্ধি ও চেতনায় প্রথিতকরণে দীর্ঘ পথ পরিক্রমার প্রয়োজন ছিল। ন’মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের বহু কারণ রয়েছে। অন্যতম কারন হচ্ছে বাঙালির নির্ভুল উপলব্ধি যে পাকিস্তান কাঠামোতে তাদের বহু কাক্সিখত ও লালিত স্বপ্নের বাস্তবায়ন অসম্ভব।
স্বাধীনতা ও মুক্তি বাঙালির বাঞ্ছিত ও কাঙ্ক্ষিত হলেও বঙ্গবন্ধুর লক্ষাভিমুখী ও কৌশলী নেতৃত্বই এটাকে বাস্তবায়িত করেছে। পাকিস্তান অর্জনের আগেও বাঙালির দেশ বাংলাদেশ সৃষ্টির প্রচেষ্টা দৃশ্যমান ছিল কিন্তু বহুমুখী চক্রান্তের কারণে তা ১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট অলীক স্বপ্ন বলেই প্রতীয়মান হয়। তবে পাকিস্তান সৃষ্টির পর পরই বাঙালির রাষ্ট্রচিন্তা প্রসারের উদ্দেশ্যমূলক পরিস্থিতি উন্মোচন হতে থাকে। ১৯৪৮ সালে ক্ষীণভাবে এবং ১৯৫২ সালে সরবে স্বায়ত্বশাসন বা স্বাধিকারের দাবী উচ্চারিত হয়। ১৯৫৪ সালে নির্বাচন পরবর্তী বাস্তবতার আলোকে ১৯৬১ সালের দিকে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার আহ্বানসহ একটি লিফলেট বিলি করেন। ১৯৬১ সালেই সমমনা রাজনীতিবিদদের কাছে এই ব্যাপারে সহায়তা কামনা করেন। নিয়মতান্ত্রিক বিচ্ছিন্নতার কৌশল হিসাবে ৬ দফাকে জনপ্রিয় করে তোলেন। ১৯৭০ সালে পাকিস্তান ভিত্তিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে স্বাধীনতার দাবীকে সর্বজনীন করেন, যা পাকিস্তানীরা প্রতিহত করলে অনিবার্য মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ হিসেবে ১৯৭১ সালে যৌক্তিক পরিণতি লাভ করে।
এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় অনেকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও শেখ মুজিবের অনন্য নেতৃত্বই বাঙালির আশা-আকাংখাকে সর্বাধিক বাঙময় করে তোলে। নিজের আকাঙ্ক্ষা ও আকুতিকে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চে ৫৪ হাজার বর্গমাইল ভূখন্ডের সকল মানুষের সাধারণ আকাঙ্ক্ষা ও আকুতিতে পরিণত করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণায়। জীবনের পথ চলতে তিনি কারো কাছে ছিলেন খোকা মিয়া, কারো কাছে মুজিব, কারো কাছে মুজিব ভাই, কারো কাছে শেখ সাহেব। এই শেখ সাহেবই ৬ দফা পেশের পর বঙ্গশার্দুল হিসাবে পরিচিতি পেলেন। ১৯৬৮ সালে তিনি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী হিসাবে মৃত্যুর দোর গোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। এই মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেয়ে ১৯৬৯ সালে তিনি বঙ্গবন্ধু খেতাবে ভূষিত হলেন আর ১৯৭১ সালে তিনি হলেন জাতির পিতা। ২০০৪ সালে বিবিসি পরিচালিত শ্রোতা জরিপে তিনি নির্বাচিত হলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালিতে।
তাই, আমাদের উচিত হবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় তাকে শুধুমাত্র সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বলে অভিহিত করা, ভুলেও তাকে শতাব্দীর মহানায়ক বা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি না বলা। তাতে নতুন প্রজন্ম বিকৃত বা বিভ্রান্তিকর ইতিহাস থেকে মুক্ত হবে এবং ভবিষ্যতে ইতিহাস বিকৃতির উৎসমুখ নির্বাসিত হবে।

লেখকঃ মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ ও ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর উপাচার্য।
সহায়ক গ্রন্থঃ ‘শেখ মুজিব থেকে জাতির পিতা; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে নিয়ে কিছু ঘটনা ও রটনা।’ শেখ রেহানা সম্পাদিত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

"বঙ্গবন্ধু হত্যা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও সংবিধান লঙ্ঘন প্রসঙ্গ"- শ ম রেজাউল করিম . ১৯৭৫ সনের ১৫ আগষ্ট স্বাধীন বাংলাদেশের...
08/30/2020

"বঙ্গবন্ধু হত্যা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও সংবিধান লঙ্ঘন প্রসঙ্গ"
- শ ম রেজাউল করিম

. ১৯৭৫ সনের ১৫ আগষ্ট স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়। আত্মস্বীকৃত খুনিরা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করেন যে “ক্ষমতা থেকে বঙ্গবন্ধুকে সরানোই ছিল তাদের লক্ষ্য। কিন্তু, তিনি এমন যোগ্যতা সম্পন্ন ছিলেন যে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে পরিবেশ পাল্টে দিতে সক্ষম ছিলেন, সে কারণে তাকে হত্যা করা ছাড়া কোন বিকল্প ছিল না”।

তাদের এই বক্তব্য কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য ছিল না। কারণ, ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতাচ্যুত করার সঙ্গে তার শিশু পুত্র রাসেল, পরিবারের নারী সদস্য ও অন্যান্য আত্মীয় স্বজনদের কেন হত্যা করা হয়েছিল? কেন ৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল? বঙ্গবন্ধু ছিলেন রাষ্ট্রপতি, তাকে হত্যার পরে নিয়ম অনুসারে উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম দায়িত্ব প্রাপ্ত হবেন। তিনি না থাকলে জাতীয় সংসদের স্পীকার আব্দুল মালেক উকিল দায়িত্ব প্রাপ্ত হবেন। কিন্তু, কোন যুক্তিতে বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার মোস্তাক আহম্মেদ রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হলেন? কেনই বা বঙ্গবন্ধু হত্যার কয়েক ঘন্টার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত পাকিস্তান সরকার খুনি মোস্তাক সরকারকে স্বীকৃতি দিলেন ? বঙ্গবন্ধুর জানাজা ও লাশ দাফনের সময়ে মধ্য প্রাচ্যের একটি দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিলো? বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে মুক্তিযুদ্ধে বিরোধীতাকারী আরো কয়েকটি দেশ বাংলাদেশকে কেন স্বীকৃতি দেয় ? তাহলে কি তারা অপেক্ষা করছিল যে, বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকাবস্থায় এদেশকে তারা স্বীকৃতি দেবেন না? পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটির আহবায়ক চরম স্বাধীনতা বিরোধী গোলাম আযমকে কেন পাকিস্তানী পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে আসার সুযোগ করে দেয়া হয়? স্বাধীনতা বিরোধী রাজনৈতিক শাহ আজিজ, মশিউর রহমান যাদু মিয়া, খান এ সবুর, মাওলানা আব্দুল মান্নান, আব্দুল আলিম সহ অনেককেই পুনর্বাসিত হয় রাজনীতিতে এবং সরকারে, কি কারণে? মুক্তিযুদ্ধের প্রাণ সঞ্চারী জয় বাংলা শ্লোগানের পরিবর্তে পাকিস্তান ষ্টাইলে “জিন্দাবাদ” আমদানি করা হলো? কার্যতঃ বাংলাদেশ পাকিস্তানী ভাব ধারায় ফিরিয়ে নেয়া হয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সম্পুর্নরূপে ভুলুন্ঠিত করা হয়। তাহলে কি এটা স্পষ্ট নয় যে, ১৯৭১ সনের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই স্বাধীনতা বিরোধী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্র পরস্পর যোগসাজসে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল? ঘটনার পরম্পরা বিশ্লেষণ করলে সমীকরণে তা-ই প্রতিভাত হয়।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্ম টুঙ্গিপাড়ায়। শৈশব থেকেই ন্যায়ের পক্ষে দ্রোহের লক্ষণ দেখা যায় তার মাঝে। ১৯৩৮ সালে শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হকের স্কুল পরিদর্শনে এলে তার সাথে পরিচয় হয়। ১৯৩৯ সালে অতি অল্প বয়সে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা করার দুঃসাহস দেখালে প্রথম গ্রেপ্তার হন। ১৯৪৬ সালে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সহকারী নিযুক্ত হন। ১৯৪৭ সালে বিএ পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন এবং তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারীদের ন্যায় সঙ্গত দাবী সমর্থন করলে তাকে বহিস্কার করা হয়। মুচলেকা দিয়ে বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহারের প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী উর্দুকে রাষ্ট্র ভাষা করার প্রস্তাবের প্রতিবাদ জানান এবং ১১ মার্চ বাংলা ভাষার দাবীতে ধর্মঘট করলে গ্রেপ্তার হন। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন কারাগারে থাকাবস্থায় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। কারাগারে থাকাবস্থায় ১৯৫২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী কারাগারে অনশন শুরু করেন। শহীদ, বরকত, রফিকদের হত্যার প্রতিবাদে তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেয়া সহ ৩ দিনের অনশনের এক পর্যায়ে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। ১৯৫৩ সালের ১৬ নভেম্বর প্রদেশিক আওয়ামী মুসলিগের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্ত ফ্রন্ট গঠন করেন। যুক্ত ফ্রন্ট ১০ মার্চের নির্বাচনে ২৩৭ টির মধ্যে ২২৩টি আসনে বিজয়ী হয়। বঙ্গবন্ধু গোপালগঞ্জ আসন থেকে নির্বাচিত হন এবং ১৯৫৪ সালের ১৪ মে সর্ব কনিষ্ঠ মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন বঙ্গবন্ধু। কিন্তু, ৩০ মে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী যুক্ত ফ্রন্ট সরকার বাতিল করেন এবং বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করেন। ১৯৫৫ সালের ৫ জুন পাকিস্তান গণ পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে ১৭ জুন পল্টন জনসভায় তিনিই সর্ব প্রথম পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবী করেন। দলটিকে সকল ধর্মের জন্য উপযোগী করতে ১৯৫৫ সালের ২১ অক্টোবর মুসলিম শব্দ বাদ দেন। ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মীর্জা সামরিক শাসন জারী করেন এবং ১২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়। কয়েকদফা গ্রেপ্তার ও মুক্তির শেষ পর্যায়ে ১৯৬২ সালের ২ জুন সামরিক শাসনের অবসান হলে ১৮ জুন কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। ১৯৬৪ সালের ২৫ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আওয়ামী লীগকে পুনর্জীবিত করা হয় এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বিরোধী কমিটি গঠন করেন। ২৬ জুলাই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গঠন করা হয় সম্মিলিত বিরোধী দল (কপ)। ফাতেমা জিন্নাহকে সমর্থন করলে নির্বাচনের ১৪ দিন আগে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। বঙ্গবন্ধু উপলব্ধি করতে পারেন যে, সায়ত্বশাসন, স্বাধীকার ও চুড়ান্তভাবে স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যেই এগোতে হবে। তাই তিনি গোটা জাতীকে উদ্বুদ্ধ করেন মুক্তির মন্ত্রে। ১৯৬৬ সালে ৩ মাসে ৮ বার গ্রেপ্তার হন। ১৯৬৮ সালে ৩ জানুয়ারী দায়ের করা হয় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। আদালতের মাধ্যমে সাজানো রায় নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে নিঃশেষ করা-ই ছিল লক্ষ্য। ২৮ জানুয়ারী নিজেকে নির্দোষ দাবী করে আদালতে লিখিত বিবৃতি দেন। তার মুক্তির দাবীতে ছাত্র সমাজের ১১ দফা কার্যতঃ আন্দোলনের বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেয়। ১৯৬৯ সালের ৩০ জানুয়ারী প্যারোলে মুক্তির প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেন তিনি। ইতোমধ্যে সার্জেন্ট জহুরুল হককে নির্মম ভাবে হত্যা করা হলে পরিস্থিতি গণঅভ্যুত্থানে রুপ নেয়, অসহায় পাকিস্তানী সরকার বাধ্য হয়ে মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। ২৩ ফেব্রæয়ারী শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভুষিত করা হয়। ১০ মার্চ আইয়ুবের গোল টেবিলে ৬ দফা দাবীর প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থান নেন তিনি, বৈঠক ব্যর্থ হয়। ২৫ মার্চ ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন জেনারেল আইয়ুব খান। ২৮ নভেম্বর এক ভাষনে ইয়াহিয়া খান ১৯৭০ সালের ১ জানুয়ারী থেকে রাজনৈতিক কর্মকান্ডের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বছর শেষে নির্বাচনের ঘোষনা দেন। আওয়ামী লীগকে নৌকা প্রতিক দেয়া হয়। ১৯৭০ সালের ২৮ অক্টোবর বেতার ও টেলিভিশনে নির্বাচনে ভাষণ দিয়ে গোটা জাতির সামনে মুক্তির ম্যান্ডেট উপস্থাপন করে বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে “সোনার বাংলা শ্মশান কেন” নামের পোষ্টার প্রকাশ করেন, যা বাঙ্গালী জাতিকে জাগ্রত করে তুলে। ৭ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে ১৬৭ আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করে এবং প্রদেশিক পরিষদে ২৯৮টি আসন লাভ করে ১৭ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সনের ৩ জানুয়ারী আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সদস্যরা “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি------” গান গেয়ে ৬ দফার ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র প্রণয়নের শপথ নেন এবং জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগান দিয়ে মুক্তির সংকল্প ব্যক্ত করেন। ১৯৭১ সালের ১০ জানুয়ারী প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর সাথে ৩ দফা বৈঠক করে বঙ্গবন্ধুকে “পাকিস্তানের ভাবি প্রধানমন্ত্রী” সম্বোধন করেন। ২৭ জানুয়ারী জুলফিকার আলী ভুট্টো বঙ্গবন্ধুর সাথে কয়েকদফা বৈঠক করে অযৌক্তিক দাবী উত্থাপন করায় ঐ বৈঠক ব্যর্থ হয়। ৩ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহবান করা হয় ১৩ ফেব্রুয়ারীর একটি সরকারী ঘোষনার মাধ্যমে। হঠাৎ করে অধিবেশন স্থগিত ঘোষনা করে পাকিস্তানী সরকার। ২ মার্চ ঢাকায় হরতাল পালিত হয়। সরকার কারফিউ জারী করে এবং গুলিতে ৩ নিহত ও ৬০ জন আহত হয়। অসিম দুরদর্শী শেখ মুজিব বুঝতে পেরেছিলেন পাকিস্তানীদের কুমতলব। তাই গোটা জাতিকে স্বাধীনতার লক্ষ্যে ঝাপিয়ে পড়তে ঐতিহাসিক ভাষন দেন ৭ মার্চ। ইয়াহিয়া খান ১৬ মার্চ বিস্ফোরণমুখী বাংলাদেশে এসে বঙ্গবন্ধুকে বৈঠকে ডাকেন। কালো পতাকা নিয়ে বৈঠকে যান তিনি। ২৩ মার্চ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে। সব-ই ছিল বঙ্গবন্ধু সুপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত। ২৫ মার্চ বর্বোরোচিত গণ হত্যা শুরু করে পাকিস্তানী জান্তা। ২৬ মার্চ আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বাধীনতার ঘোষনা দেন। তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয় পাকিস্তানে, দেয়া হয় মৃত্যুদন্ড। এদিকে ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের মন্ত্রী পরিষদ গঠন এবং বঙ্গবন্ধুকে করা হয় রাষ্ট্রপতি। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। উল্লেখ্য ১১ নভেম্বর ইয়াহিয়া ও ভুট্টো কারাগারে দেখা করতে এলে বঙ্গবন্ধু করমর্দনের হাত ফিরিয়ে দেন। ২ ডিসেম্বর কারাগারে ইয়াহিয়া সমঝোতার প্রস্তাব দিলে বঙ্গবন্ধু তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেন। ৩ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধুকে মুক্তির সিদ্ধান্ত ঘোষনা করেন জুলফিকার আলী ভুট্টো। ৮ জানুয়ারী মুক্তি পেয়ে লন্ডন ও ভারত হয়ে ১০ জানুয়ারী স্বাধীন স্বদেশে ফিরে আসেন বিজয়ের মহা নায়ক। এভাবেই তিনি স্বাধীন সার্বোভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেন। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্থানের পক্ষ নেয় আমেরিকা, চীন সহ অন্য কয়েকটি দেশ। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ও রাশিয়া আমাদের পাশে দাড়ায়। যুদ্ধে পরাজয়ের গ্লানি যারা মেনে নিতে পারেনি, তারা দেশকে অস্থিতিশীল করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য সু-পরিকল্পিত ভাবে এগোতে থাকে। উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালের ২০ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু জানতে পান, তাকে হত্যার জন্য আততায়ী পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তিনি মার্কিন কনস্যুলেটের ডেপুটি চীফ সিডনি সোবারকে জানান। যা, ২৯ ডিসেম্বর ওয়াসিংটনের পররাষ্ট্র দপ্তরকে অবহিত করা হয়। ঘটনা ফাস হয়ে যাওয়ায় ঐ পরিকল্পনা সফল হয়নি।

১৯৭২ সালের জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে কর্ণেল ফারুক মার্কিন দুতাবাসে গিয়ে অস্ত্র ক্রয়ের প্রস্তাব দেন। ১৯৭৩ সালের ১১ জুলাই কর্ণেল রশিদ মার্কিন দুতাবাসে গিয়ে জানান যে, ব্রিগেডিয়ার জিয়ার নেতৃত্বে একটি কমিটির পক্ষ থেকে তাকে অস্ত্র ক্রয়ের প্রস্তাব নিয়ে পাঠানো হয়েছে। ১২ জুলাই কর্ণেল ফারুক একইরূপ প্রস্তাব নিয়ে যান। ১৯৭৪ সালে ১৩ মে কর্ণেল ফারুক গং মার্কিন দুতাবাসে গিয়ে শেখ মুজিব সরকারকে উৎখাতে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সাহায্য চান। সেখানে উল্লেখ করেন, উচ্চতম পর্যায়ের সেনা কর্মকর্তাদের নির্দেশেই .......। ১৯৭৫ সনের ২০ মার্চ আর্মড রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন কমান্ড সৈয়দ ফারুক রহমান জিয়াউর রহমানের সঙ্গে দেখা করে বঙ্গবন্ধুর সরকার উচ্ছেদের অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিতে অনুরোধ করেন। ১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্টের ১ সপ্তাহ পূর্বে সিআই-এর ষ্টেশন চীফ চ্যারির সঙ্গে জিয়াউর রহমানের বৈঠক হয় এক ব্যবসায়ীর বাসায়। এছাড়া কুমিল্লার বার্ড সহ বিভিন্ন স্থানে বার বার ষড়যন্ত্রের বৈঠক হয়। ক্যান্টনমেন্টে উসকানিমুলক লিফলেট বিতরণ ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা দিয়ে সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে দেওয়ার চেষ্টা চলে। ভারতের হাই কমিশনারের গাড়ীতে হামলা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বাড়ী ঘেরাও, গুপ্ত হত্যার মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়। বঙ্গবন্ধু কখনোই বিশ্বাস করতে পারেননি যে, তার সৃষ্ট স্বাধীন বাংলাদেশে নিজ বাড়িতে তিনি নিরাপদ নন। তিনি বঙ্গভবনে থাকেননি, নিরাপ্তার কোন কঠোর প্রটোকল নিতেন না। ১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্ট নির্মম ভাবে তাকে হত্যা করা হয়।

৯ দিনের মধ্যেই জিয়াউর রহমান হয়ে যান সেনা প্রধান। বঙ্গবন্ধুকে উচ্ছেদ তথা খুনের পরিকল্পনাকারীরা তার কাছে ২০ মার্চ গেলেও তিনি তাদের গ্রেপ্তার বা নিবৃত করেননি। বরং সুকৌশলে এগিয়ে যেতে হুকুম দেন। সেনা কর্মকর্তা হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি ও সংবিধানকে জীবনের বিনিময়ে হলেও রক্ষা করার, কিন্তু, করলেন তার বিপরীতটা। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে বললেন “প্রেসিডেন্ট ইজ ডেড, সো ওয়াট? ভাইস প্রেসিডেন্ট ইজ দেয়ার”। অতি ভোরে তিনি ক্লিন সেভ হয়ে ইউনিফর্মড অবস্থায় অপেক্ষা করছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি সবই জানতেন, চুড়ান্ত খবর ও পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন। খুনীদেরকে বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে নিরাপদে দেশের বাইরে পাঠানোর মূখ্য ভুমিকা পালন করেন তিনি। ১২টি রাষ্ট্রের দুতাবাসে তাদেরকে চাকুরী দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে পদোন্নতিও দেওয়া হয়।

১৯৭৬ সালের ২৯ এপ্রিল তিনি আবু সাদাত মোঃ সায়েমকে পিস্তল টেকিয়ে পদত্যাগ করিয়ে নিজেই রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের পদ দখল করেন। তিনি সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা হয়েও সম্পূর্ন বেআইনী ভাবে নিজেকে রাষ্ট্রপতি দাবী করে “হ্যাঁ-না” ভোটের প্রহসনের মাধ্যমে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার অপকৌশল নেন। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর গঠন করেন বিএনপি।

১৯৭৫ এর ২৬ সেপ্টেম্বর ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারী করা হলেও সংবিধানকে স্থগিত করা হয়নি। সেক্ষেত্রে সামরিক শাসন জারী, মোস্তাকের ক্ষমতা গ্রহণ, জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখল কোন কিছুরই আইনগত কোন ভিত্তি ছিল না। এমনকি খন্দকার মোস্তাক নিজেও সামরিক শাসন জারীর ঘোষনা দেননি রাষ্ট্রপতি হিসাবে ক্ষমতা দখল করে। তাহলে কিভাবে এলো সামরিক শাসন, কে জারী করল?

বঙ্গবন্ধু হত্যা সহ ১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘঠিত সকল অপকর্মকে বৈধতা দিতে ১৯৭৯ সালের পার্লামেন্টে ইমডেমনিটি অর্ডিন্যান্সকে আইনে রুপান্তরিত করতে এবং সংবিধানের অংশে পরিণত করতে বিল আনা হয়। আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো স্বত্বেও পাশ করা হয় ইতিহাসের জঘন্যতম ঐ আইন। ৯ এপ্রিল জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হিসাবে স্বাক্ষর করেন ঐ আইনে। রুদ্ধ হয়ে হয় বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ও অবৈধ ক্ষমতা দখলকে চ্যালেঞ্জ করার আইনি সুযোগ।

১৯৮১ সালে ১৭ মে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে “বঙ্গবন্ধু ভবনে” ঢুকতে গেলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায় কখনোই তিনি ঐ বাড়িতে যেতে পারেননি। রাস্তায় দাড়িয়ে বাবা মা সহ পরিবারের সদস্যদের জন্য দোয়া করতে বাধ্য হয়েছেন। ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন সরকার গঠন করে ১২ নভেম্বর ইনডেমনিটি আইন বাতিল করেন। তার বিরুদ্ধে কর্ণেল ফারুক ও সুলতান শাহরিয়ার রশিদ হাইকোর্টে রিট দায়ের করে, যা ১৯৯৭ সালে ২৮ জানুয়ারী খারিজ হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা আপিল করে যা, ১৯৯৮ সালের ১৯ এপ্রিল খারিজ হয়। শুরু হয় বিচার কার্যক্রম। বিচার আদালত ১৫ জন খুনিকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করে। হাইকোর্টে আপিল হলে বিচারপতি মোঃ রুহুল আমিন ও বিচারপতি খায়রুল হক দ্বিধা বিভক্ত রায় দেন। তৃতীয় বিচারক ফজলুল করিম ১২ জনের ফাসি বহাল রাখেন, যা আপিল বিভাগেও বহাল হয়। আসামী পক্ষ পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করলেও একই রায় বহাল থাকে। এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমা শেষে ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারী ৫ খুনীর মৃত্যুদন্ড কার্যকর হয়। উল্লেখ্য যে, তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমিন চৌধুরী বার বার বলা স্বত্বেও বিএনপি সরকার আপিল বিভাগে একজন বিচারপতি নিয়োগ না দেওয়ায় ঝুলে তাকে আপিল। শেখ হাসিনা পুনরায় ক্ষমতায় এসে বিচার বিভাগের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় আপিল নিষ্পত্তি হয়। জাতিকে অপেক্ষা করতে হয় জনকের হত্যার বিচারের জন্য ৩৫ বছর।

পর্দার আড়ালে থেকে জিয়াউর রহমান-ই করেছেন সকল ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা, প্রতিদানে খুনের পরে তিনিই হয়েছেন সবচেয়ে বড় বেনিফিশিয়ারী। বঙ্গবন্ধু কন্যাদের আবেদনে লন্ডনে গঠিত হয়েছিল বিখ্যাত আইনজীবী জেফরি টমাস ইউলিয়াম কিউসি ও সলিসিটর এ্যাব্রো রোজ এর নেতৃত্বে একটি কমিশন। তারা বাংলাদেশে আসতে চাইলে জিয়াউর রহমান সরকার তাদের ভিসা দিতে অস্বীকার করে। ১৯৮৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর হাউজ অব কমন্সে তারা একটি বৈঠক করে প্রাপ্ত তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে প্রাথমিক রিপোর্ট দেন। যাতে জিয়াউর রহমানকে অভিযুক্ত করা হয়। জাতীয় চার নেতা হত্যা ও অপরাপর বিষয়ে তদন্তের জন্য গঠিত হয়েছিল বিচারপতি আহসান উদ্দিন চৌধুরী, বিচারপতি কে.এম. সোবহান ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেন-এর সমন্বয়ে একটি কমিশন। ঐ কমিশনকেও কাজ করতে দেওয়া হয়নি।

প্রখ্যাত মার্কিন সাংবাদিক লরেঞ্জ লিফশ্যুলজ তার অনুসন্ধানী তথ্য উপস্থাপন করেন কর্ণেল তাহের হত্যা মামলায় হাইকোর্টে এবং বিভিন্ন সাময়িকীতে দেয়া তথ্যে স্পষ্টভাবে বলেন যে, জিয়াউর রহমানের পৃষ্টপোষকতা ও সম্পৃক্ততা ছাড়া এই হত্যাকান্ড কোনভাবেই সম্ভব ছিলনা। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি কর্ণেল ফারুক ও রশিদ লন্ডন টিভি, স্যাটারডে পোষ্ট, লন্ডন সানডে টাইমস সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে স্বাক্ষাতকারের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততার কথা পরিস্কার ভাবে উল্লেখ করেছেন। ফৌজদারী অপরাধ বিজ্ঞানের নীতিমালা অনুযায়ী, জিয়াউর রহমানকে কোনভাবেই নির্দোষ ভাবার সুযোগ নেই, বরং খুনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা প্রত্যক্ষ ও পারিপার্শ্বিক স্বাক্ষ্যতে প্রমানিত হয়। খুনিদের এগিয়ে যাবার অনুমতি দিয়ে তিনি এই জঘন্য হত্যাকান্ড সংঘঠনে “কমান্ড” দিয়েছেন। তার দায়িত্ব ছিল পরিকল্পনার বিষয় জেনেই তাদেরকে গ্রেপ্তার তথা নিবৃত করা, তা না করে এগিয়ে যেতে বলেছিলেন। রাষ্ট্রপতির হত্যার খবর পেয়ে “প্রেসিডেন্ট ইজ ডেড, সো ওয়াট ? ভাইস প্রেসিডেন্ট ইজ দেয়ার” বলার মধ্য দিয়ে ঘটনার বিষয়ে মেনে নেওয়া তথা একমত হওয়ার পরিচয় মেলে। বঙ্গবন্ধু খুনের ৯ দিনের মধ্যে তিনি সেনা প্রধান হয়ে যান এবং ধারাবাহিকতায় প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক, অতঃপর রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা দখল করেন। খুনিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আমলে না এসে নির্বিঘেœ বিদেশে পাঠানো, ১২ জনকে বিভিন্ন দুতাবাসে চাকুরী দেওয়া, আর্থিক ভাবে সহায়তা করা এবং চুড়ান্ত ভাবে তার স্বাক্ষরেই ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল আইন পাশ করে খুনিদের বিচারের পথ বন্দ করে তিনি ঘটনার পূর্বে এবং পরে কৃতকর্মের মধ্য দিয়ে নিজের অংশ গ্রহণ ও সুবিধা ভোগের (বেনিফিশিয়ারী) মাধ্যমে প্রমান করেছেন যে, তিনি-ই নাটের গুরু তথা ঘটনার মূল ঘটক।

বঙ্গবন্ধু হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক রাজনীতি ধ্বংস করা হয়েছিল। খুনিদের বিচার না করে দায় মুক্তি দিয়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতি সৃষ্টি করা হয়েছিল। তার ধারাবাহিকতায় একের পর এক অনেক হত্যাকান্ড সংঘঠিত হয়। সন্দেহের বশবর্তী হয়ে ক্যান্টনমেন্টে নির্বিচারে হত্যা করা হয় অনেক মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাদের। খুনিদের পুরস্কৃত করা জিয়াউর রহমান নিজেও হত্যাকান্ডের নির্মম শিকার হন। বঙ্গবন্ধু কন্যা রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে জাতির জনকের খুনিদের, জেল হত্যার খুনিদের, যুদ্ধাপরাধীদের, বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের সহ সকল হত্যাকান্ডের বিচার করে প্রমান করেছেন যে, কেউ-ই আইনের উর্দ্ধে নয়। অপরাধীদের দাম্ভিকতা চূর্ণ করে দিয়ে আইনের শাসন ফিরিয়ে এনেছেন। কিন্তু, অবাক বিস্ময়ে লক্ষণীয়, জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাবস্থায়ই জিয়াউর রহমানের হত্যা মামলার অপমৃত্যু হলা। তাহলে প্রশ্ন জাগে, তিনি কি ক্ষমতার স্বার্থেই নিজ স্বামী হত্যাকারীদের সঙ্গে কৌশলগত আপোষ করে নিলেন ? এভাবেই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতি ধ্বংস হয়, ক্ষমতায় আসে অবৈধ ব্যক্তিরা এবং খুনিদের দেয়া হয়েছিল প্রশ্রয়।

বাংলাদেশের সুপ্রীমকোর্ট সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী ও সপ্তম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষনা করে জেনারেল জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা গ্রহণকে অবৈধ, বেআইনী এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ বলে রায় দেন। অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীদের কৃত সকল কর্মকে বেআইনী ঘোষনা করা হয়। একই ভাবে জেনারেল হোসেন মোঃ এরশাদের ক্ষমতা দখলকে অবৈধ ঘোষনা করে। এভাবেই উত্তোরণ হয় গণতন্ত্রের অভিযাত্রার। প্রতিষ্ঠিত হয় আইনের শাসন ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা, যার কৃতিত্ব বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার। তিনিও অন্তত ১৯ বার জীবন নাশের আক্রোমনের মুখোমুখি হন। সর্বশেষ ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট। তৎকালীন সরকার সরাসরি অংশ নেয় এই নারকীয় গ্রেনেড হামলায়। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের উৎসাহিত করা, পৃষ্টপোষকতা দেওয়া এবং খুন পরবর্তী দায়মুক্তি দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। একই ধারাবাহিকতায় ২১ আগষ্টের গ্রেনেড হামলায় বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, ডিজিএফআই-এর প্রধান, এনএসআই-এর প্রধান, পুলিশ প্রধান সহ সরকার ব্যবস্থাই জড়িত ছিল। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মতই ২১ আগষ্টের খুনিদের পরিত্রাণ দিতে জজ মিয়া কাহিনীর মত নিকৃষ্ট আষাঢ়ে গল্প সৃষ্টি করেছিল খালেদা জিয়া সরকার। এভাবেই বাংলাদেশে খুনের রাজনীতি ও সাংবিধানিক রাজনীতি ধ্বংসের ভয়াল খেলায় মেতে উঠে স্বাধীনতা বিরোধী ও ক্ষমতা লিপ্সু দেশী ও আন্তর্জাতিক মহল।

Address

222 W 233 St
The Bronx, NY
10463

Telephone

+8801911727264

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when প্রজন্ম বাংলাদেশ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to প্রজন্ম বাংলাদেশ:

Videos

Category

Nearby media companies


Comments

যারা গ্রেফতারকৃত ধর্ষক নিয়ে সন্দেহবাতিক হয়ে পড়েছেন। তারা ম্যাজিস্ট্রেট শওকত হোসেন এর এই লেখাটা পড়েন। তিনি লিখেছেন, একজন বিচারক/ ম্যাজিস্ট্রেট হিশেবে অসংখ্য রেপিস্ট এবং ভিকটিমের জবানবন্দি আমি গ্রহন করেছি। তাছাড়া আমার একাডেমিক পড়াশুনাও Criminology এবং Criminal Psychology নিয়ে। পেশাগত এবং একাডেমিক অভিজ্ঞতা থেকে আমি Rape, Rapist, Victim এবং এই সম্পর্কে গন-মনস্তত্য বিষয়ে কিছু লেখা প্রয়োজন মনে করেছি বলেই এই দীর্ঘ লেখা। কুর্মিটোলা রেইপ মামলার রেপিস্ট ধরা পরেছে। তার নাম মজনু, সে একজন ভবগুরে, মাদকাসক্ত, অল্প- বুদ্ধ্বিসম্পন্ন ( low IQ, Idiotic), রেললাইনের পাশের খুপরিতে থাকা, শীর্নকায় যুবক। এই আসামী ধরা পরার আগে থেকেই বিভিন্ন সুত্রে আমরা জানতে পেরেছি যে ভিকটিম বলেছিল অপরাধীটার বয়েস ২৫ থেকে ৩০ এর মধ্যে, অপরাধীটার গায়ের রং শ্যামলা, অপরাধীটার উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি, চুল ছোট করে কাটা, অপরাধীটার পরনে ময়লা প্যান্ট এবং পুরনো জ্যাকেট ছিল, ভিকটিম আরো বলেছে অপরাধীটার সামনের দুইটা দাত নাই। এই সবই ধরা পরা অপরাধীটার সাথে হুবহু মিলে যায়। ভিকটিম আরো বলেছিলেন যে অপরাধীটা তার মোবাইল এবং ২০০০ টাকা নিয়ে গেছে। তার পোশাকের বিবরণ এবং মোবাইল ও ২০০০ টাকা নিয়ে যাওয়া ইংগিত করে যে সে ছ্যাচ্ছর স্বভাবের, দরিদ্র এবং ছিনতাইকারীও বটে। সে যেরকম impulsive বা প্রবৃত্তি - তাড়িত এবং যেরকম এলোমেলোভাবে ক্রাইম সিনটি ( Crime scene) রেখে গেছে, এবং যেরকম চড়ম ঝুকি নিয়ে কাজটা করেছে তাতেও অনুমান করা যায় যে সে অশিক্ষিত, লো আইকিউ সম্পন্ন এবং অগোছালো প্রকৃতির কোন অপরাধী হবে। এইসবও ধরা পরা মজনুর সাথে মিলে যায়। তাছাড়া অপরাধীটার কাছ থেকে ভিকটিমের মোবাইল ও চার্জার ও উদ্ধ্বার হয়েছে। ভিকটিম বলেছিল অপরাধীটি খুব দাম্ভিক ছিল। দাম্ভিক মানে সে খুব পাওয়ার / কনট্রোল / ডমিনেশান শো করেছিল। সব রেপিস্টরাই এইটা করে। বলতে গেলে সব অপরাধীরাই এটা করে, এমনকি একজন ছিচকে ছিনতাইকারীও যখন ছিনতাই করে তখন সেও খুব পাওয়ার এবং ডমিনেশন প্রদর্শন করে। এই পাওয়ারফুল ফিল করা হচ্ছে অপরাধীর আনন্দের একটা উৎস । ভিকটিম বলেছিল অপরাধীটি অনেক শক্তিশালী ছিল, ভিকটিম এরকম বলেছে কারন অপরাধীটি শক্তি প্রয়োগ করেছিল। ক্লান্ত, নার্ভাস এবং আক্রান্ত যেকোন ভিকটিমের কাছেই মনে হয় যে আক্রমনকারী ছিল অনেক শক্তিশালী- এটাও স্বাভাবিক। এমনকি ভিকটিম নিজেও দৃঢ় নিশ্চয়তার সাথে অপরাধীকে দেখেই চিনেছে এবং সনাক্ত করেছে। তো সবকিছু মিলে যাওয়ার পরেও এবং ভিকটিম নিজে আইডেন্টিফাই করার পরেও ফেসবুকবাসী কেনো তার ছবি দেখে এতো অবাক / আশ্চর্য? কেনো এতো অবিশ্বাস? এটাতো কোন রাজনৈতিক বা রাস্ট্রীয় বা আন্তর্জাতিক অপরাধ নয় যে প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করার জন্য রাস্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ষড়যন্ত্র হবে! তাহলে কেনো এতো অবিশ্বাস?৷ অপরাধীর ছবি প্রকাশ হবার পর আজ সারাদিন প্রকাশিত সংবাদের নীচে ফেসবুক গোয়েন্দাদের কমেন্ট পরে যা বুঝতে পারলাম তা হল মোটামুটি ২ টি কারনে ফেবুবাসী বিশ্বাসই করতে পারছেনা যে এই সেই আসল অপরাধী। কারন দুইটি হল ১) ধরা পরা মজনু - ফেসবুকবাসী যেমনটি আশা করেছিলেন সেরকম বলিস্ট, ম্যাসকুলিন, ম্যানলি বা দেখতে দুর্ধর্ষ নয় ২) এরকম একজন শীর্নকায় ব্যাক্তি কি করে ভিকটিমকে একা একা ফুটপাথ থেকে টেনে হিচড়ে / পাজাকোলা করে ঝোপে নিয়ে গেলো এবং ভিকটিম কেনো তাকে বাধা দিতে পারলোনা সেইটাও ফেসবুকবাসীর কাছে বিশ্বাস্যোগ্য ঠেকছেনা। ভাইয়েরা আমার! প্রথমেই বলে রাখি, সিনেমায় যেরকম দেখেন যে নায়িকাকে রেপিস্ট আক্রমন করলে নায়িকা তারস্বরে চিতকার শুরু করে " বাচাও বাচাও, ছেড়ে দে শয়তান! " বাস্তবে এমন ঘটেনা। বাস্তবে কাওকে sudden / আচমকা আক্রমন করা হলে আক্রান্ত ব্যাক্তি স্থানু বা স্থবির হয়ে যায়, তার স্নায়ুতন্ত্র কাজ করেনা, মাথা কাজ করেনা, কি করা উচিত বুঝে উঠতে পারেনা। ভিকটিম প্রায় 'বিবশ'/ 'অবশ' হয়ে যায়। মেডিক্যাল সায়েন্সের ভাষায় এটাকে বলে Tonic immobility বা Local paralysis। যারা ছিনতাইকারীর কবলে পরেছেন তারা হয়তো কেও কেও এই অনুভুতির সাথে পরিচিত আছেন। আধুনিক নিউরো সায়েন্টিস্টরা গবেষনা করে দেখেছেন যে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই ভিকটিম প্রতিরোধ করাতো দুরের কথা - এমনকি চিতকারও করতে পারেন না। ধরা পরা মজনু যতই লো আই-কিউ সম্পন্ন লোক হোকনা কেনো, সে তার অতীত অভিজ্ঞতা থেকে ভিকটিমদের এই 'অবশ'/ 'বিবশ' প্রতিকৃয়া ( Tonic immobility) সম্পর্কে ভালোমতই অবগত ছিল, এইজন্যই সে নির্ধিদ্বায় ফুটপাথে আক্রমন করেছিল। কুর্মিটোলা ভিকটিম' কে অপরাধীটি পেছন থেকে আক্রমন করার সাথে সাথেই ভিকটিম অবশ হয়ে যায়, সে সম্ভবত ঘটনার আকস্মিকতায় জ্ঞ্যান হারিয়ে ফেলেছিল। এবারে আসি অপরাধীটি দেখতে এরকম চোরের মতন কেনো বা শৌর্যেবীর্যে বলিয়ান, মহা- ম্যাসকুলিন, বলশালী ও সেইরকম শক্তপোক্ত 'আসল পুরুষের' মত দেখতে নয় বলে যারা সন্দেহ করছেন তাদের ব্যাপারে। রেপিস্টদের নিয়ে FBI দীর্ঘদিন গবেষনা করে রেপিস্টদের একটা টাইপোলজি / প্রোফাইলিং ( প্রকারভেধ) করেছে। রেপিস্টদের testosterone বা male hormone বেশী বা রেপিস্টরা অতিমাত্রায় সেক্সি এরকম কোন প্রমান পাওয়া যায়নি, বরং উল্টোটারই প্রমান পাওয়া গেছে বেশী। বেশীরভাগ রেপিস্টরাই আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভোগে, অনেকেই ধ্বজভঙ্গ বা erectile dysfunction এ ভোগে, বেশীরভাগ রেপিস্টরাই নিজের যৌন জীবন নিয়ে হতাশ। এই বিষয়ে আরো বিস্তারিত বলা দরকার। রেপিস্ট আছে ৪ রকমের যথা ১) Sadistic ২) Anger Retaliatory ৩) Power Assertive ৪) Power Reassurance। Sadistic রেপিস্টরা যৌন আনন্দ লাভ করার জন্য রেইপ করেনা। সে রেইপ করে ভিকটিমকে টর্চার করার জন্য। সে মুলত ভিকটিমের সাফারিং / যন্ত্রনা / হিউমিলিয়েশান উপভোগ করে। এই ধরনের রেপিস্টরা অধিকাংশক্ষেত্রেই তাদের ভিকটিমকে ধর্ষনের পরে হত্যা করে ফেলে বা চড়ম যন্ত্রনা যেমন সিগারেটের ছ্যাকা দেওয়া বা হাত পা, স্তন, যোনীপথ কেটে ফেলা এইসব করে আনন্দ লাভ করে। তবে এরকম Sadistic রেপিস্ট এর সংখ্যা পৃথিবীর মোট রেপিস্টদের মাত্র ৪ বা ৫ শতাংশ। হরর মুভিতে বা রিভেঞ্জ মুভিতে এই ধরনের রেপিস্টদের বেশী বেশী দেখানো হয় বলে সাধারণভাবে মানুষ মনে করে রেপিস্ট মাত্রই স্যাডিস্টিক রেপিস্ট। দ্বিতীয় টাইপটি হচ্ছে Anger Retaliatory রেপিস্ট। এরাও যৌন আনন্দের আশায় রেইপ করেনা। এই টাইপের রেপিস্টদের বেশীরভাগেরই নিজেদেরই শৈশবে নির্যাতিত হবার ইতিহাস আছে। এরা বেশীরভাগই ছোটবেলায় মায়ের হাতে বা দাদীর হাতে বা চাচী বা বড় বোনের হাতে প্রচন্ড্র মারধোরের বা এবিউজের স্বীকার হয়েছিল ( childhood abuse by mother or mother figure women)। সেই থেকে এরা নিজের অবচেতন মনে পৃথিবীর সকল নারীর প্রতি তীব্র ঘৃনা এবং বিদ্বেষ লালন করে । এদের অনেকেই হয়তো নিজেই জানেনা যে সে নিজের অবচেতনে পৃথিবীর সকল নারীর প্রতি এরকম hostility ( ঘৃনা / বিদ্বেষ) বহন করে বেড়াচ্ছে। এরা রেইপ করে নিজের এই রাগ/ বিদ্বেষ চড়িতার্থ করার জন্য। প্রতিশোধ নেবার মতন একটা বিকৃত আনন্দ এরা পায় ধর্ষন করে। এই প্রকারের রেপিস্টরাও তাদের ভিকটিমের সাফারিং / অপমান/ যন্ত্রনা উপভোগ করে প্রতিশোধের আনন্দ পায়। এদের সংখ্যাও ১০ থেকে ১৫ পারসেন্ট। তৃতীয় প্রকারটি হচ্ছে Power Assertive রেপিস্ট। এরা মুলত রেইপ করে নিজেকে ক্ষমতাবান ফিল করার জন্য। নিজেকে ক্ষমতাবান ফিল করার বিকৃততম ও সহযতম উপায় হচ্ছে অন্যকে অপমান করা। এদের কাছে এই ক্ষমতাবান ফিল করার অংশ হচ্ছে রেইপ করা। They rape because thats how they feel that they are powerful, that they can rape or do whatever they want to । এদের চলাফেরায় দেখবেন একটা অতিরিক্ত গা-জোয়ারি ভাব আছে, অতিরিক্ত ব্যাটাগিরি দেখানোর প্রবনতা আছে, নিজেকে ম্যাচো গাই ( macho guy) বা টাফ গাই দেখানোর একটা প্রবনতা আছে এদের মধ্যে। প্রকৃতপক্ষে এরাও ভিতরে ভিতরে ইনসিকিউরড বলেই এরকম ওভার পাওয়ারফুল ভাব নেবার চেস্টায় থাকে। এই প্রজাতির পুরুষেরা বন্ধুর সাথে হ্যান্ডশেইক করার সময়ও প্রয়োজনের চেয়ে জোড়ে হাতে চাপ দিবে,৷ " কি দোস্ত কেমন আছিস " বলে বন্ধুর পিঠে চাপড় দেবার সময়ও এরা অন্যদের চেয়ে জোড়ে চাপড় দিবে। এরা সাধারনত স্কুলে বা কলেজে বা ভার্সিটিতে বুলি / bully টাইপের হয়। তবে এদের সংখ্যাও ১০ পারসেন্ট এর বেশী না। সবশেষে, বেশীরভাগ - প্রায় ৭৫% রেপিস্টরাই হচ্ছে Power Reassurance টাইপের। এরা মুলত নিজের ম্যাসকুলিনিটি বা পৌরুষ নিয়ে আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এরা socially awakward হয়, চার্মিং পারসোনালিটির অভাবে বা অন্য যেকোন কারনেই হোক এরা বন্ধুমহলেও তেমন একটা জনপ্রিয় নয়। হয়তো ছোটবেলায় স্কুলে পড়ার সময়ও সহপাঠী মেয়েরা তাকে নিয়ে হাসাহাসি করতো। সবমিলিয়ে সে মুলত একজন ইনসিকিউরড এবং আত্মবিশ্বাসহীন ব্যাক্তি। তার ধারনা সে নারীদের কাছে যথেস্ট আকর্ষণীয় এবং চিত্তাকর্ষক নয়, মেয়েরা কেনো তাকে পছন্দ করেনা এই নিয়ে সে পৃথিবীর সকল নারীর ওপর কিছুটা ক্ষিপ্ত এবং নিজের প্রতি কিছুটা হতাশও বটে, তার সন্দেহ হয় যে " I may not be man enough to conquer women that I deserve ", এই রুঢ় বাস্তবতাটা সে আবার মেনেও নিতে পারেনা। এই বিপরীতমুখী আবেগের অত্যাচারে সে নিজের সাথেই নিজে দগ্ধ হতে থাকে। মোটাদাগে দুইটা ভ্রান্ত ধারনায় ( illusion) সে ভুগতে থাকে, যথা ১) আমি আসলে যোগ্য এবং ম্যানলি তবে মাঝে মাঝে মনে হয় আমি হয়তো যথেস্ট ম্যানলি বা আকর্ষণীয় নই , তবে - সুযোগ পেলে একদিন দেখিয়ে দিতাম. ২) মেয়েরা মুখে যতই না বলুক আসলে একবার মেয়েদেরকে কাবু করতে পারলে নারীরা আসলে রেইপ উপভোগই করবে ( ঈভটিজিং করলে মনে মনে মেয়েরা খুশী হয় এরকম একটা বাংলা ফেসবুক পেইজে প্রায় ২ লক্ষ লাইক / ফলোয়ার ছিল- পেইজটা এখন আর নাই) । যাইহোক, নিজের পৌরুষ নিয়ে অনিশ্চয়তা / ইনসিকিউরিটি থেকে সে কোন নারী'কে রেইপ করে নিজের পৌরুষ জাহির করতে চায়। কার কাছে সে এই পৌরুষ জাহির করে? নিজের কাছেই। সে reassure হতে চায় নিজের কাছে। এইজন্য এই টাইপের রেপিস্টদের নাম power reassurance. প্রায় ব্যাতিক্রমহীনভাবেই এই ধরনের রেপিস্টরা আক্রমন করে অপেক্ষাকৃত দুর্বল ভিকটিম যথা বাসার কাজের মেয়ে, গার্মেন্টস কর্মী, দুর্বল পথচারী, প্রতিবন্ধী নারী, নিজের বাসার ভাড়াটিয়া, প্রবাসীর স্ত্রী, নিজের ছাত্রী, ভিখিরি বা ভাসমান নারী এবং কমবয়েশী শিশু বা ভালনারেবল ভিকটিমদের। এই প্রজাতির রেপিস্টদের সংখ্যা মোট রেপিস্টদের প্রায় ৭৫%। কুর্মিটোলা রেইপ কেসের ধৃত মজনু হচ্ছে এই প্রজাতির ( Power Reassurance) রেপিস্ট। নিজের পৌরুষ সম্পর্কে অনিশ্চিত, ইনসিকিউরড এবং আত্মবিশ্বাসহীন রেপিস্টদের সংখ্যা যদিও মোট রেপিস্টদের ৭৫% তবুও কোন এক অজানা কারনে আমাদের দেশের অনেকের ধারনা রেপিস্ট মানেই বাহুবলি টাইপের দুর্ধর্ষ, বলশালী- সেইরকম ম্যাসকুলিন কোন পুরুষ। কি অদ্ভুত বৈপরিত্য। হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশী ফেসবুক ইউজারের চিন্তাভাবনা Power Reassurance রেপিস্ট এর চিন্তাধারার সাথে হুবহু মিলে যায় - এটা যে কতবড় দুঃসংবাদ তা কি আমরা অনুধাবন করতে পারছি? এখন মিলিওন ডলারের প্রশ্ন হচ্ছে রেপিস্ট কেন ভাবা শুরু করলো যে কাওকে রেইপ করতে পারলে নিজেকে ' আসল পুরুষ ' / real man বা পাওয়ারফুল পুরুষ হিশেবে জাহির করা যাবে? কেনইবা সে তার ম্যাসকুলিনিটি reassure করার জন্য রেইপ করা আবশ্যক মর্মে ভেবে নিলো? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে আজ সারাদিনের সংবাদের নীচে আমাদের বংগীয় ফেসবুকবাসীর কমেন্ট পরলে। হাজারে হাজারে, লাখে লাখে কমেন্ট দেখলাম যারা কমেন্টে তাদের বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেছেন রেপিস্ট মজনুর ছবি দেখে। এই কমেন্টকারীদের মাথার ভিতর রেপিস্ট এর ছবি আকা আছে বলশালী, বলিস্ট, তেজী, সেইরকম ম্যাসকুলিন কোন পুরুষ হিশেবে। এই কমেন্টকারীরা বেশীরভাগই নিজেরাই নিজেদের পৌরুষ নিয়ে ইনসিকিওরিটিতে ভুগছেন, এবং অনুকুল পরিবেশ এবং সুযোগ পেলে নিজের গার্লফ্রেন্ড বা স্ত্রী বা পাশের বাসার মেয়েটির ওপর চড়াও হয়ে নিজের ম্যাসকুলিনিটি রিএশিওর করে নিবেন। আফটার অল, কে না চায় নিজেকে বলশালী, ডিজার্ভিং, তেজী এবং ম্যানলি হিসেবে নিজের কাছে জাহির করতে। প্রিয় ফেসবুকবাসীগন, ধরা পরা মজনু যে, আসলেই অপরাধী তা ভিকটিম নিজেই নিশ্চিত করেছেন। বেশীরভাগ ( অন্তত power reassurance টাইপের ৭৫ ভাগ) রেপিস্টরাই এরকম দুর্বল চরিত্রের, আত্মবিশ্বাসহীন এবং লো আইকিউ সম্পন্ন হয়ে থাকে। মজনু যে আসলেই অপরাধী তা নিয়ে আমার মনে কোন সন্দেহ নেই তবে মজনুকে দেখে যারা হতাশ হয়েছেন তাদেরকে নিয়ে আমার ঘোরতর সন্দেহ আছে, যথাসময়ে এবং যথাযত সুযোগ পেলে নিজেকে reassure করার জন্য আপনারাও তেজী ও বলশালী এবং ম্যানলি হয়ে উঠার ট্রাই করবেন বলে আমার সন্দেহ হয়। ( প্রোফাইল লক করা আছে বলে সম্ভবত শেয়ার অপশান দেয়া যাচ্ছেনা। কেও শেয়ার করতে চাইলে কপি পেস্ট করে নিজের ওয়ালে দিতে পারেন) Copy : শওকত হোসেন ম্যাজিস্ট্রেট,বাংলাদেশ সরকার