09/28/2026
চলন্ত বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে অসুস্থ যাত্রীর পাশে চিকিৎসক, বাঁচল বিপদের মুহূর্ত
চলন্ত বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন ৭০ বছর বয়সি এক যাত্রী। শৌচাগারের সামনে পড়ে যাওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। এমন সময় ট্রেনে চিকিৎসকের প্রয়োজন রয়েছে—এমন ঘোষণা শুনে এগিয়ে আসেন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের শল্যচিকিৎসক ঐশ্বর্য রায়।
নিউ জলপাইগুড়ি-হাওড়া বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে যাত্রা করছিলেন ঐশ্বর্য। ঘোষণা শুনেই তিনি নিজের কামরা থেকে অসুস্থ যাত্রীর কাছে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, ওই যাত্রী শৌচাগারের সামনে পড়ে রয়েছেন।
চিকিৎসকের কাছে থাকা ব্যাগে ছিল স্টেথোস্কোপ, রক্তচাপ মাপার যন্ত্রসহ কিছু জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ। দ্রুত রোগীর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে তিনি প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
জানা যায়, ওই সময় যাত্রীর রক্তচাপ নেমে গিয়েছিল ৯০/৭০-এ। হৃদস্পন্দনের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছিল প্রতি মিনিটে ১১৮। পাশাপাশি ছিল বমি, কাঁপুনি এবং অসংলগ্ন কথাবার্তার মতো উপসর্গ। পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন পরিবারের সদস্যরাও।
ঐশ্বর্যের চিকিৎসা ও সহযোগিতার পর কিছুটা সময়ের মধ্যে ওই যাত্রী ধীরে ধীরে স্থিতিশীল বোধ করতে শুরু করেন। শ্যামনগরের বাসিন্দা অমল কুমার বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর ঐশ্বর্য জানান, তিনি পাশের কামরায় ছিলেন। ট্রেনে চিকিৎসকের প্রয়োজনের ঘোষণা শুনেই তিনি সেখানে ছুটে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর নিজের কামরায় ফিরে গেলেও পুরো ঘটনাটি তাঁর মনে গভীর ছাপ ফেলেছে।
ঐশ্বর্যের কথায়, “কী যে ভালো লাগছে, বলে বোঝাতে পারব না। দিনটা আমার মনে থাকবে।”
একজন চিকিৎসক হিসেবে কর্মস্থলের বাইরে, চলন্ত ট্রেনে জরুরি মুহূর্তে একজন অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো—ঐশ্বর্য রায়ের এই উদ্যোগ মানবিক দায়িত্ববোধের একটি সুন্দর উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন।