Islamic knowledge Bank

Islamic knowledge Bank Everyone is Wellcome to the page to :Spread Dawah -Please Allah -Share views and follow proper Deen.

সম্পুর্ণ ইসলামিক জ্ঞান সংক্রান্ত ত‍্থ‍্যদির আলোচনা সীমাবদ্ধ!

একটি এমন "নামাজ" আছে! যা আপনার জীবনের প্রতিটি বন্ধ দরজা খুলে দিতে পারে! কিন্তু খুব কম মানুষ এটি আদায় করে!Rafsan's Creat...
08/19/2026

একটি এমন "নামাজ" আছে! যা আপনার জীবনের প্রতিটি বন্ধ দরজা খুলে দিতে পারে! কিন্তু খুব কম মানুষ এটি আদায় করে!
Rafsan's Creation
আগস্ট ১৬, ২০২৬
জীবনে এমন কিছু সময় আসে, যখন মানুষ চারদিক থেকে সমস্যায় ঘেরা পড়ে যায়। কোনো চেষ্টা সফল হচ্ছে না, দোয়া কবুল হচ্ছে না বলে মনে হচ্ছে, রিজিকের পথ সংকুচিত, পারিবারিক সমস্যা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছে কিংবা মনের কোনো আশা পূরণ হচ্ছে না। তখন মানুষ বিভিন্ন দরজায় কড়া নাড়ে। অথচ একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দরজা হলো আল্লাহর দরজা—যে দরজা কখনো বন্ধ হয় না।

আর সেই দরজায় গভীর রাতে কড়া নাড়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হলো তাহাজ্জুদের নামাজ।

তবে শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি: “তাহাজ্জুদ পড়লেই জীবনের প্রতিটি সমস্যা অবশ্যই নির্দিষ্টভাবে সমাধান হয়ে যাবে”—এমন কোনো সহিহ হাদিস নেই। বরং তাহাজ্জুদ হলো আল্লাহর নৈকট্য লাভ, দোয়া করা, ক্ষমা চাওয়া এবং তাঁর ওপর ভরসা করার একটি মহৎ ইবাদত। আল্লাহ চাইলে এর মাধ্যমে মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের দরজা খুলে দিতে পারেন।

তাহাজ্জুদ কী?

তাহাজ্জুদ হলো রাতের নামাজ। সাধারণত ইশার নামাজের পর ঘুমিয়ে উঠে রাতের শেষভাগে যে নফল নামাজ আদায় করা হয়, সেটিই তাহাজ্জুদ নামে পরিচিত।

আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বান্দাদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলেন—

“তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা থেকে আলাদা থাকে; তারা তাদের রবকে ভয় ও আশা নিয়ে ডাকে এবং আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে।”

—সূরা আস-সাজদাহ, ৩২:১৬

অর্থাৎ রাতের নির্জনতায় যখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে থাকে, তখন আল্লাহর বান্দারা তাঁর স্মরণে দাঁড়ায়, তাঁকে ডাকে এবং তাঁর কাছে নিজেদের প্রয়োজন তুলে ধরে।

তাহাজ্জুদের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য কোথায়?

তাহাজ্জুদের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো—এটি এমন একটি সময়ের ইবাদত, যখন বান্দা এবং তার রবের মধ্যে দোয়ার জন্য এক বিশেষ সুযোগ তৈরি হয়।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, প্রতি রাতে রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশে আমাদের রব নিকটতম আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন:

“কে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দেব? কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব?”

সহিহ বুখারি: ১১৪৫; সহিহ মুসলিম: ৭৫৮

এটি তাহাজ্জুদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফজিলতগুলোর একটি।

ভাবুন, আপনি যখন গভীর রাতে সবাইকে ছেড়ে একা জায়নামাজে দাঁড়াচ্ছেন, তখন আপনি আপনার সবচেয়ে গোপন কষ্টগুলো আল্লাহর কাছে বলতে পারেন। এমন কিছু কথা, যা পৃথিবীর কাউকে বলা সম্ভব নয়—সেগুলোও আল্লাহর কাছে বলা যায়।

রাতের শেষ তৃতীয়াংশ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর হাদিস থেকে জানা যায়, রাতের শেষ তৃতীয়াংশ দোয়া ও ইস্তিগফারের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ সময়।

আল্লাহ তাআলা কুরআনে তাঁর মুত্তাকিদের প্রশংসা করে বলেন—

“তারা রাতের সামান্য অংশই ঘুমাত এবং ভোরের আগে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত।”

—সূরা আয-যারিয়াত, ৫১:১৭–১৮

অর্থাৎ আল্লাহর নেক বান্দাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল রাতের নির্জনতায় ইবাদত এবং ভোরের আগে ইস্তিগফার করা।

রাসুল ﷺ-এর রাতের নামাজ

তাহাজ্জুদের গুরুত্ব বোঝার জন্য রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর আমল দেখা যথেষ্ট।

আয়িশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, রাসুলুল্লাহ ﷺ রাতের নামাজ কীভাবে আদায় করতেন?

তিনি জানান, রাসুল ﷺ রাতের নামাজ আদায় করতেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করতেন।

সহিহ বুখারি: ১১৪৭; সহিহ মুসলিম: ৭৩৮

আরেক হাদিসে আয়িশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ রাতের নামাজে এত দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতেন যে তাঁর পা ফুলে যেত। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলতেন:

“আমি কি কৃতজ্ঞ বান্দা হব না?”

সহিহ বুখারি: ৪৮৩৭; সহিহ মুসলিম: ২৮১৯

এখানে আমাদের জন্য বড় শিক্ষা রয়েছে। তাহাজ্জুদ শুধু কোনো বিপদে পড়লে পড়ার নামাজ নয়; এটি আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও নৈকট্য লাভের ইবাদত।

তাহাজ্জুদ কি দোয়া কবুলের বিশেষ মাধ্যম?

হ্যাঁ, রাতের শেষভাগ দোয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের আহ্বান করেন—কে চাইবে, কে দোয়া করবে, কে ক্ষমা চাইবে।

সহিহ বুখারি: ১১৪৫; সহিহ মুসলিম: ৭৫৮

তাই তাহাজ্জুদের পর নিজের প্রয়োজনের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করা অত্যন্ত সুন্দর আমল।

তবে দোয়া কবুল হওয়ার অর্থ সবসময় আমরা যা চেয়েছি ঠিক সেটিই পাওয়া নয়। কখনো আল্লাহ বান্দার চাওয়া জিনিস দেন, কখনো বিপদ দূর করেন, কখনো আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করেন। তাই দেরি দেখে কখনো মনে করা উচিত নয় যে আল্লাহ দোয়া শুনছেন না।

তাহাজ্জুদ কত রাকাত?

তাহাজ্জুদের নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ রাকাত সংখ্যা সহিহভাবে নির্ধারিত নয়। রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর রাতের নামাজ সম্পর্কে আয়িশা (রা.) বলেন:

“রাসুলুল্লাহ ﷺ রমজান ও রমজানের বাইরে এগারো রাকাতের বেশি পড়তেন না।”

সহিহ বুখারি: ১১৪৭; সহিহ মুসলিম: ৭৩৮

এখানে সাধারণভাবে আট রাকাত রাতের নামাজ এবং তিন রাকাত বিতরের কথা বোঝানো হয়।

তবে রাতের নফল নামাজ দুই দুই রাকাত করে আদায় করা যায়। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“রাতের নামাজ দুই দুই রাকাত।”

সহিহ বুখারি: ৯৯০; সহিহ মুসলিম: ৭৪৯

তাই কেউ দুই রাকাত দিয়ে শুরু করতে পারেন। এরপর সামর্থ্য অনুযায়ী চার, ছয়, আট বা আরও বেশি পড়তে পারেন।

তাহাজ্জুদের জন্য কীভাবে ঘুম থেকে উঠবেন?

তাহাজ্জুদের জন্য সবচেয়ে উত্তম হলো—ইশার পর ঘুমানো এবং রাতের শেষভাগে উঠে নামাজ আদায় করা।

রাসুল ﷺ বলেছেন:

“যে ব্যক্তি আশঙ্কা করে যে সে রাতের শেষভাগে উঠতে পারবে না, সে যেন রাতের শুরুতেই বিতর পড়ে নেয়। আর যে ব্যক্তি আশা করে যে সে শেষ রাতে উঠতে পারবে, সে যেন শেষ রাতে বিতর পড়ে; কারণ শেষ রাতের নামাজে ফেরেশতারা উপস্থিত থাকে এবং তা উত্তম।”

সহিহ মুসলিম: ৭৫৫

এ থেকে বোঝা যায়, যার ঘুম থেকে ওঠার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস আছে, তার জন্য রাতের শেষভাগে নামাজ আদায় করা উত্তম।

তাহাজ্জুদের পর কী দোয়া করবেন?

তাহাজ্জুদের পর নিজের ভাষায়ও আল্লাহর কাছে দোয়া করা যায়। আপনার জীবনের সমস্যা, প্রয়োজন, ভয়, দুশ্চিন্তা, রিজিক, পরিবার, ভবিষ্যৎ—সবকিছু আল্লাহর কাছে তুলে ধরুন।

কুরআনে আল্লাহ বলেন—

“তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।”

—সূরা গাফির, ৪০:৬০

তাই তাহাজ্জুদের সময় শুধু নির্দিষ্ট কোনো একটি বিষয় চাওয়ার মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ চাইতে পারেন।

রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর একটি অত্যন্ত جامع দোয়া হলো:

“হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন, আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদের জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।”

—সহিহ বুখারি: ৬৩৮৯; সহিহ মুসলিম: ২৬৯০

তাহাজ্জুদ ও ইস্তিগফার

তাহাজ্জুদের সঙ্গে ইস্তিগফারের একটি সুন্দর সম্পর্ক রয়েছে। আল্লাহ তাআলা মুত্তাকিদের গুণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন:

“তারা রাতের শেষ প্রহরে ক্ষমা প্রার্থনা করত।”

—সূরা আয-যারিয়াত, ৫১:১৮

তাই তাহাজ্জুদের পর বেশি বেশি “আস্তাগফিরুল্লাহ” বলা এবং নিজের গুনাহের জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া অত্যন্ত সুন্দর আমল।

ইস্তিগফার শুধু গুনাহ মাফের আবেদন নয়; এটি বান্দাকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে আনে।

তাহাজ্জুদ কি রিজিক বাড়ায়?

কুরআন ও সহিহ হাদিসে এমন কোনো নির্দিষ্ট বক্তব্য নেই যে “তাহাজ্জুদ পড়লেই নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পাওয়া যাবে”। এমন দাবিও করা উচিত নয়।

তবে কুরআনে তাকওয়া ও আল্লাহর ওপর নির্ভরতার সঙ্গে রিজিকের পথ খুলে দেওয়ার সুসংবাদ এসেছে:

“যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দেন, যা সে ধারণাও করে না।”

—সূরা আত-তালাক, ৬৫:২–৩

তাই তাহাজ্জুদ বান্দার তাকওয়া, তাওয়াক্কুল ও আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার একটি মাধ্যম হতে পারে। এরপর রিজিকের জন্য হালাল চেষ্টা করাও জরুরি।

জীবনের “বন্ধ দরজা” বলতে কী বোঝায়?

অনেক সময় আমরা মনে করি—চাকরি হচ্ছে না, বিয়ে হচ্ছে না, ব্যবসায় উন্নতি হচ্ছে না, ঋণ শেষ হচ্ছে না, কোনো প্রিয় মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক হচ্ছে না—অর্থাৎ জীবনের দরজা বন্ধ।

কিন্তু একজন মুমিন জানেন, আল্লাহ চাইলে অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারেন।

আল্লাহ বলেন:

“যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।”

—সূরা আত-তালাক, ৬৫:৩

তাই তাহাজ্জুদের শিক্ষা হলো—মানুষের দরজায় বারবার ধাক্কা দেওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর দরজায় ফিরে আসা।

তাহাজ্জুদ শুধু সমস্যা সমাধানের নামাজ নয়

এটি মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

তাহাজ্জুদকে শুধু “ইচ্ছা পূরণের নামাজ” বানিয়ে ফেললে এর প্রকৃত সৌন্দর্য হারিয়ে যেতে পারে।

তাহাজ্জুদ হলো—

আল্লাহর নৈকট্য লাভের নামাজ।
তওবার নামাজ।
কৃতজ্ঞতার নামাজ।
দুশ্চিন্তা আল্লাহর কাছে সঁপে দেওয়ার নামাজ।
নির্জনে রবের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার নামাজ।

আপনি কোনো কিছু না পেলেও যদি তাহাজ্জুদের মাধ্যমে আল্লাহকে পেয়ে যান—তাহলে সেটিই সবচেয়ে বড় অর্জন।

যারা নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়তে চান

শুরুতেই প্রতিদিন দীর্ঘ তাহাজ্জুদ পড়ার চেষ্টা না করে অল্প দিয়ে শুরু করুন।

প্রথমে সপ্তাহে কয়েকদিন দুই রাকাত পড়ুন। অভ্যাস তৈরি হলে নিয়মিত করুন। সম্ভব হলে রাতের শেষ তৃতীয়াংশে উঠুন। এরপর ধীরে ধীরে কিয়াম দীর্ঘ করুন, কুরআন তিলাওয়াত করুন, সিজদায় বেশি দোয়া করুন এবং ইস্তিগফার করুন।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা অল্প হয়।”

সহিহ বুখারি: ৬৪৬৪; সহিহ মুসলিম: ৭৮৩

তাই একদিন অনেক পড়ে পরে ছেড়ে দেওয়ার চেয়ে অল্প হলেও নিয়মিত হওয়া উত্তম।

শেষ কথা

জীবনের কোনো দরজা বন্ধ মনে হলে হতাশ হবেন না। মানুষের কাছে আপনার কথা হয়তো পৌঁছাবে না, আপনার কষ্ট হয়তো কেউ বুঝবে না, আপনার চোখের পানি হয়তো কেউ দেখবে না—কিন্তু আল্লাহ সবকিছু জানেন।

রাতের নীরবতায় যখন পৃথিবী ঘুমিয়ে থাকে, তখন আপনি যদি অজু করে জায়নামাজে দাঁড়িয়ে যান, দুই রাকাত নামাজ পড়েন এবং চোখের পানি ফেলে আপনার রবকে বলেন—“হে আল্লাহ, আমি আর পারছি না, আপনি আমার জন্য যথেষ্ট”—তখন আপনি এমন এক দরজায় কড়া নাড়ছেন, যার মালিক সবকিছুর মালিক।

তাই তাহাজ্জুদকে শুধু “সমস্যা সমাধানের আমল” হিসেবে নয়, বরং আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলার ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করুন।

হয়তো আপনার চাওয়া জিনিসটি সঙ্গে সঙ্গে পাবেন না। কিন্তু আল্লাহ আপনার জন্য এমন কোনো দরজা খুলে দিতে পারেন, যার অস্তিত্বই আপনি কল্পনা করেননি।

আর মনে রাখবেন—তাহাজ্জুদ কোনো জাদুকরী পদ্ধতি নয়; এটি একজন বান্দার রবের কাছে ফিরে আসার পথ।

আজ রাত থেকেই শুরু হতে পারে আপনার নতুন যাত্রা।

ঘুমানোর আগে নিয়ত করুন। অ্যালার্ম দিন। ঘুম থেকে উঠুন। অজু করুন। জায়নামাজে দাঁড়ান। দুই রাকাত দিয়ে শুরু করুন। তারপর সিজদায় গিয়ে নিজের সব কথা আল্লাহকে বলুন।

কারণ মানুষ যখন সব দরজা বন্ধ করে দেয়, তখনও আল্লাহর দরজা খোলা থাকে।
কপি পোষট :
Following #তাহাজুদ

08/04/2026

যাদের ভোরের ঘুমের জন‍্য জামাতে ফযর পড়া সম্ভব হয় না, তারা কবর ছেড়ে জান্নাতে যাওয়ার আশা ছেড়ে দিক !

08/01/2026
06/26/2026

সূরা মুযযাম্মিল ও রাতের ইবাদত: কেন সফল ব্যক্তিরা রাত জাগতেন?

আপনি কি কখনো ভেবেছেন, ইতিহাসের সবচেয়ে সফল মানুষটি কীভাবে তাঁর দিন শুরু করতেন? রাসুলুল্লাহ ﷺ, সাহাবায়ে কেরাম, ইসলামের মহান আলেমরা সবাই রাতের ইবাদতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন। কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সূরা মুযযাম্মিলে এমন কিছু সত্য বলেছেন যা রাতের ইবাদতের গভীরতা বুঝতে সাহায্য করে। আসুন কুরআনের আলোয় সেই সত্যগুলো একসাথে বুঝি।

বিজ্ঞান কী বলছে?

গবেষণা বলছে, বিশ্বের সবচেয়ে সফল মানুষদের একটি কমন অভ্যাস হলো ভোরে ওঠা এবং দিন শুরু করার আগে নিজের সাথে একান্ত সময় কাটানো। গবেষকরা দেখেছেন যারা ভোরে উঠে একাগ্রতার সাথে কাজ করেন তারা দিনের বাকি সময়ে অনেক বেশি উৎপাদনশীল থাকেন। (Houlihan, S., 2016, The 5 AM Club, HarperCollins)

আধুনিক বিজ্ঞান বলছে ভোরের একাগ্রতাই সফলতার রহস্য। কুরআন চৌদ্দশো বছর আগেই সেই রহস্য উন্মোচন করেছে।

১. রাতে দাঁড়িয়ে ইবাদত করা আত্মাকে শক্তিশালী করে এবং এটি আল্লাহর প্রথম নির্দেশ ছিল।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন:

يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا نِّصْفَهُ أَوِ انقُصْ مِنْهُ قَلِيلًا أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا.

অর্থ:

"হে বস্ত্রাবৃত, রাতে দাঁড়াও, তবে অল্প সময় বাদে। অর্ধরাত অথবা তার চেয়ে একটু কম অথবা তার চেয়ে একটু বেশি। আর কুরআন তিলাওয়াত করো ধীরে ধীরে স্পষ্টভাবে।" 📖 (সূরা মুযযাম্মিল, ৭৩:১-৪)

💡 অনুপ্রেরণা:

আল্লাহ তাঁর সবচেয়ে প্রিয় নবীকে সর্বপ্রথম যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তার মধ্যে একটি ছিল রাতে উঠে ইবাদত করা। যিনি সারাদিন উম্মতের জন্য কাজ করতেন তাঁকেও রাতে উঠতে বলা হয়েছিল। এটি কোনো সাধারণ নির্দেশ নয়।

২. রাতের ইবাদত মনকে দৃঢ় করে এবং কথাকে সুস্পষ্ট করে তোলে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন:

إِنَّ نَاشِئَةَ اللَّيْلِ هِيَ أَشَدُّ وَطْئًا وَأَقْوَمُ قِيلًا.

অর্থ:

"নিশ্চয়ই রাতের ইবাদত মনকে দৃঢ়ভাবে প্রভাবিত করে এবং কথাকে সুস্পষ্ট করে।" 📖 (সূরা মুযযাম্মিল, ৭৩:৬)

💡 অনুপ্রেরণা:

রাতের নিরিবিলি পরিবেশে আল্লাহর সাথে যে সংযোগ হয় তা দিনের কোনো ইবাদতের মতো নয়। এই সময়ে মন পরিষ্কার থাকে, চিন্তা স্থির থাকে। যিনি রাতে আল্লাহর সামনে দাঁড়ান, তাঁর দিনটাও হয় অন্যরকম।

৩. দিনের ব্যস্ততার মাঝে আল্লাহর স্মরণ রাখাই সফল মানুষের বৈশিষ্ট্য।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন:

وَاذْكُرِ اسْمَ رَبِّكَ وَتَبَتَّلْ إِلَيْهِ تَبْتِيلًا.

অর্থ:

"আর তোমার রবের নাম স্মরণ করো এবং সম্পূর্ণরূপে তাঁর দিকে মনোযোগী হও।" 📖 (সূরা মুযযাম্মিল, ৭৩:৮)

💡 অনুপ্রেরণা:

সফল মানুষরা শুধু রাতেই নয়, দিনের প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহকে স্মরণ রাখেন। ব্যবসায়, পড়াশোনায়, পরিবারে সর্বত্র আল্লাহর স্মরণ রাখাই প্রকৃত সফলতার ভিত্তি।

৪. পূর্ব ও পশ্চিমের রব আল্লাহই একমাত্র অভিভাবক, তাঁর উপর ভরসাই সফলতার চাবিকাঠি।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন:

رَّبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ فَاتَّخِذْهُ وَكِيلًا.

অর্থ:

"পূর্ব ও পশ্চিমের রব, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। সুতরাং তাঁকেই অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করো।" 📖 (সূরা মুযযাম্মিল, ৭৩:৯)

💡 অনুপ্রেরণা:

পুরো পৃথিবীর রব একমাত্র আল্লাহ। তাঁকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করা মানে জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তে তাঁর দিকনির্দেশনা মানা। যিনি এই পথে থাকেন তাঁর জীবনে প্রকৃত সফলতা আসে।

৫. কষ্টের মাঝেও সবর করা এবং আল্লাহর সাথে সুন্দর সম্পর্ক রাখাই সফল ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন:

وَاصْبِرْ عَلَىٰ مَا يَقُولُونَ وَاهْجُرْهُمْ هَجْرًا جَمِيلًا.

অর্থ:

"আর তারা যা বলে তার উপর ধৈর্য ধরো এবং সুন্দরভাবে তাদের থেকে আলাদা থাকো।" 📖 (সূরা মুযযাম্মিল, ৭৩:১০)

💡 অনুপ্রেরণা:

সফল মানুষরা সমালোচনায় ভেঙে পড়েন না। তারা ধৈর্য ধরেন এবং সুন্দরভাবে নিজেদের পথে চলতে থাকেন। রাতের ইবাদত সেই ধৈর্যের শক্তি দেয়।

৬. রাতের ইবাদত ছেড়ে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে কিন্তু সালাত, যিকর ও দান ছাড়ার নয়।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন:

فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ ۚ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَقْرِضُوا اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا.

অর্থ:

"সুতরাং কুরআন থেকে যতটুকু সহজ ততটুকু পড়ো। সালাত কায়েম করো, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও।" 📖 (সূরা মুযযাম্মিল, ৭৩:২০)

💡 অনুপ্রেরণা:

আল্লাহ বলছেন রাতের দীর্ঘ ইবাদত না পারলেও সমস্যা নেই। কিন্তু সালাত, যাকাত এবং দান ছাড়া যাবে না। সফল মানুষরা এই তিনটি কাজে কখনো আপোস করেন না।

৭. আল্লাহর কাছে যা পাঠাবেন আখিরাতে তা আরো উত্তম হয়ে পাবেন।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন:

وَمَا تُقَدِّمُوا لِأَنفُسِكُم مِّنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِندَ اللَّهِ هُوَ خَيْرًا وَأَعْظَمَ أَجْرًا.

অর্থ:

"আর তোমরা নিজেদের জন্য যে ভালো কাজ আগে পাঠাবে তা আল্লাহর কাছে আরো উত্তম ও বড় পুরস্কার হিসেবে পাবে।" 📖 (সূরা মুযযাম্মিল, ৭৩:২০)

💡 অনুপ্রেরণা:

দুনিয়ায় যা আল্লাহর পথে পাঠানো হয় আখিরাতে তা আরো উত্তম হয়ে ফিরে আসে। রাতের ইবাদত, দান, ভালো কাজ সবই আখিরাতে আরো বড় পুরস্কার হিসেবে ফিরে আসবে।

হাদিসে কী আছে?

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "ফরজ সালাতের পর সর্বোত্তম সালাত হলো রাতের সালাত।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬৩)

আপনার জন্য কুরআনের মূল বার্তা:

সফল ব্যক্তিরা রাত জাগতেন কারণ তারা জানতেন রাতের নিরিবিলি মুহূর্তে আল্লাহর সাথে সংযোগ স্থাপন করাই সবচেয়ে বড় শক্তির উৎস। সূরা মুযযাম্মিল আমাদের শেখায় রাতের ইবাদত শুধু একটি আমল নয়, এটি জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি। আজ রাত থেকেই শুরু করুন। দুই রাকাত তাহাজ্জুদ দিয়ে শুরু করুন। আল্লাহ বাকিটা সহজ করে দেবেন, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সকলকে রাতের ইবাদতের তাওফিক দান করুন। আমিন।
Cp:

Address

Marie Street
Hicksville, NY
11801

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Islamic knowledge Bank posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Islamic knowledge Bank:

Shortcuts

Share