04/07/2026
পুরুষের তুলনায় নারীরা সাধারণত বেশি সংবেদনশীল বা ‘সেনসিটিভ’ হিসেবে বিবেচিত হন। এর পেছনে রয়েছে শারীরবৃত্তীয় ও স্নায়ুবিজ্ঞানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের শরীরে স্নায়ুতন্তু (নার্ভ ফাইবার) ও ব্যথা অনুভবকারী রিসেপ্টরের ঘনত্ব তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। উদাহরণস্বরূপ, নারীদের মুখের প্রতি বর্গসেন্টিমিটারে গড়ে প্রায় ৩৪টি স্নায়ুতন্তু বিদ্যমান, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে সেই সংখ্যা প্রায় ১৭টি। ফলে একই মাত্রার শারীরিক উদ্দীপনা বা আঘাত নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি তীব্রভাবে অনুভব করতে পারেন।
তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, ব্যথা বেশি অনুভব করলেও নারীদের সহ্যক্ষমতাও অনেক ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে সন্তান জন্মদান, দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক কষ্ট বা পুনরাবৃত্ত ব্যথার পরিস্থিতিতে নারীরা ধীরে ধীরে ব্যথার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেন। এ কারণে একই ধরনের ব্যথা দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার অনুভব করলে তা তাদের কাছে তুলনামূলকভাবে বেশি সহনীয় হয়ে ওঠে।
এছাড়া হরমোনগত পার্থক্যও ব্যথা অনুভূতি ও আবেগপ্রবণতার ওপর প্রভাব ফেলে। ইস্ট্রোজেন ও অন্যান্য হরমোনের ওঠানামা নারীদের আবেগ, অনুভূতি এবং ব্যথা উপলব্ধির মাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, সংবেদনশীলতা বা ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। সব নারী বা সব পুরুষ একই রকম নন। জীবনযাপন, মানসিক অবস্থা, অভিজ্ঞতা, পরিবেশ এবং জিনগত বৈশিষ্ট্যও একজন মানুষের ব্যথা অনুভব ও তা মোকাবিলার ক্ষমতার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
তাই নারীরা বেশি সংবেদনশীল—এই বিষয়টিকে দুর্বলতা হিসেবে নয়, বরং তাদের জৈবিক ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যের একটি স্বাভাবিক দিক হিসেবে দেখা উচিত। অনেক ক্ষেত্রেই এই সংবেদনশীলতাই তাদের অধিক সহনশীল, ধৈর্যশীল এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে শক্তিশালী করে তোলে।
— তথ্যসূত্র: বিভিন্ন স্নায়ুবিজ্ঞান ও শারীরবৃত্তীয় গবেষণার আলোকে প্রস্তুত।