Clicky

বইয়ের জগৎ

বইয়ের জগৎ বই-সমালোচনার পত্রিকা বইয়ের জগৎ-এর লক্ষ্য আমাদের দেশে একটি উন্নত বিচারবোধসম্পন্ন সমালোচনার সংস্কৃতি গড়ে তোলা। এর নিয়মিত পাঠকেরা অবগত আছেন যে বইয়ের জগৎ শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, দর্শন, ভাষা, বিজ্ঞান, নন্দনতত্ত্ব, নৃতত্ত্ব, অর্থনীতি, সমাজতত্ত্ব, অর্থাৎ সৃষ্টিশীলতা ও মননশীলতার সবগুলো ক্ষেত্রের রচনাকর্মকেই তার আলোচনার উপজীব্য করেছে। প্রকাশিত বই-সমালোচনাগুলোর মধ্য দিয়ে আমাদের সৃষ্টিশীলতা ও মননশীলতার শক্তি ও দুর্বলতাকে সনাক্ত করে সামগ্রিকভাবে জাতীয় উৎকর্ষের আকাঙ্ক্ষাকে বাড়িয়ে তোলার দিকে এর দৃষ্টি লক্ষ্যীভূত।

05/25/2022

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের
জন্মদিনের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় আমরা...

04/02/2022

বিশ্ব #শিশু_বই_দিবসের শুভেচ্ছা...

03/06/2022

এমন বই প্রকাশ করতে পারার আনন্দই আলাদা...

স্বাধীনতার মাসে প্রকাশিত হলো মোরশেদ শফিউল হাসানের উপন্যাস ‘একাত্তর’-এর নিবেদিতা হালদারকৃত বাংলা অনুবাদ #Seventy_One
মোরশেদ শফিউল হাসানের পরিচয় প্রধানত প্রাবন্ধিক ও গবেষক হিসেবে হলেও, তাঁর এ একমাত্র উপন্যাসটি প্রকাশের পর গতানুগতিকতার বাইরে মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে লেখা অন্যরকমের একটি সাহিত্যকর্ম হিসেবে তা অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং পত্রপত্রিকায় প্রশংসিত হয়।
অনুবাদক নিবেদিতা হালদারও মুগ্ধতা থেকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই ও অনেকটা দায়িত্ববোধের অংশ হিসেবে বইটি অনুবাদ করেছেন।

পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন রাশিদা দাউদওয়ালা এবং ওহীদুল আলম।
উপন্যাসটির একটি মূল্যবান ভূমিকা লিখেছেন বিশিষ্ট সাহিত্য সমালোচক ড. আবেদীন কাদের।
আমরা সাধারণত বছর জুড়ে বই প্রকাশ করি। করোনা অতিমারির কারণে এবার আমাদের প্রকাশনার কাজ খানিকটা বিঘ্নিত হলেও, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের শেষলগ্নে এসে যে আমরা মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক এই ব্যতিক্রমী উপন্যসটির অনুবাদ প্রকাশ করতে পারলাম, তার জন্য আমরা যুগপৎ আনন্দিত ও গর্বিত।
ইতোমধ্যে বইটি ই-বুকও প্রকাশিত হয়েছে।
আনন্দ ভাগাভাগি করতে লেখক, অনুবাদক, সম্পাদক, ভূমিকা লেখক এবং পাঠক সবাইকে আমাদের শুভেচ্ছা ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি ।

Abedin Quader
Nibedita Haldar
Morshed Shafiul Hasan
Muhammad Ohidul Alam

স্বাধীনতায় কবিতা, সভ্যতা ও প্রেমেও।অমর একুশে বইমেলা ১৭ই মার্চ পর্যন্ত চলবে।আমরা বরাবরই সারা বছর বই প্রকাশ করি। মহামারিতে...
03/04/2022

স্বাধীনতায় কবিতা, সভ্যতা ও প্রেমেও।
অমর একুশে বইমেলা ১৭ই মার্চ পর্যন্ত চলবে।
আমরা বরাবরই সারা বছর বই প্রকাশ করি। মহামারিতে একটু ছন্দে ধীর হলেও প্রকৃত পাঠকের জন্যে এমন নির্বাচিত বই স্বাধীনতার মাসে উপহার দিতে পেরে আনন্দিত...
সাংবাদিক, নতুন প্রজন্মের নব-স্বরের
কবি মুহম্মদ রিশাদ হুদাকে অভিনন্দন।

বইয়ের পাণ্ডুলিপি সম্পাদক অনুবাদক লেখক, সম্পাদক মুহাম্মদ ওহীদুল আলম ও জহিরুল ইসলামের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
Rishad Huda
Muhammad Ohidul Alam
জহিরুল ইসলাম

২০২২ #বইমেলার_নতুন_বই
অ্যাডর্ন পাবলিকেশনের স্টল নাম্বার ৩৫৮-৬০ এ পাওয়া যাচ্ছে...

কবি ও সাংবাদিক #মুহম্মদ_রিশাদ_হুদার তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ #মাটি_চাপা_ঈশপের_কথা

যেখানে এসেছে মানব মনের বিচ্ছুরণ ভাবনা। প্রেমিক চেতনা কবিতা ছাড়া যে কিছুই ভালবাসে না। দৃশ্যমান দুনিয়ার অবশিষ্ট কাল কবিতাযাপনই তার নিয়তি। শাশ্বত প্রেমের অনুভূতি ধাবিত হয় অন্য চেতনায়। হয়ে ওঠে মৃত্যুঞ্জয়ী!

বইটির বিস্তারিত প্রথম কমেন্টে...

পুরোনো স্মৃতি!
04/16/2021

পুরোনো স্মৃতি!

পুরোনো স্মৃতি!
04/16/2021

পুরোনো স্মৃতি!

02/25/2021

মানুষের জীবন ও বই...
জীবন ও জীবিকায়ও বইয়ের ভূমিকা রয়েছে প্রত্যক্ষ
ও পরোক্ষভাবে। বিশেষভাবে পড়ুয়ারাই সমাজের অগ্রসর মানুষ হয়।

সভ্যতা ও বই...
সমাজ ও বই...
দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনা এবং বই...
আনন্দ ও বেদনায়, একাকিত্বে বই...
সৃজনে, উৎসৃজনেও বই...
বন্ধু, বন্ধুত্ব এবং বই...
নন্দন ও নান্দনিকতায় বই...
সীমায়, সীমাহীনতায়, বিপ্লবে, ইতিহাসে, মনোজগতে বই।
বই, কোথায় নেই? কোন সীমায় নেই?
একদমই নিরব বন্ধু, নিরব স্বস্থি।।

এমন কি? নেই, কোন মানুষ ও সমাজ বইয়ের সীমানার বাইরে।
কারণ, কোন শিক্ষিত বোধের ও মননের মানুষই বইয়ের বাইরে নয়... সীমার বাইরে নয়।
ভাবুন, এমন হলে, আপনিও বইয়েরই বন্ধু, বইয়ের মানুষ। বইকে আপনি বন্ধু করে নিয়েছেন। বইও আপনার পাশেই ছিলো নিরবে স্বরবে। আমরা বইকে, বইয়ের প্রতি ভালোবাসাকে আরো সূর্যালোকে আনতে চাই চিরায়ত নান্দনিকতায়। তারই প্রচেষ্টায় আপনাকেও সঙ্গে পেতে। আমাদের উদ্যোগ হিসেবে...

আসছে গল্প, কবিতা, ছড়া, কথিকা বা নকশা লিখার ঘোষণা, অথবা আপনি যাই লিখতে চান,বা হতে পারে আপনার পারফর্ম, হতে পারে আপনারই নিজের লেখা, বা প্রিয় বই নিয়ে...
শুধু মৌলিক রচনা বা সৃষ্টি বা পরিকল্পনার হওয়া চাই। কারণ, সৃষ্টির কৃতিত্ব আপনারই। পাঠক হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন সাধের ও বৈশিষ্ট্য তো অবশ্যই। খোলা মনে, নিজে আনন্দে সৃষ্টিশীলতায়,
শুধু, গ্রুপে পোস্টে বা প্রচারে শর্তাবলী অনুসরণ করেই লিখুন ও পোস্ট করুন গ্রুপের ওয়ালে একটি ছবি বা ভিডিওসহ...
আমরা বা আপনার পাঠকরা তার মধ্যে নতুন জীবন বা সৌন্দর্য পেয়ে যেতে পারেন। আমরা অনেক লেখা বা আনন্দ ভাগাভাগির সম্ভার থেকে মণি মুক্তাও পেয়ে যেতে পারি। উদ্যোগ নিতে পারি আপনারই লেখার অনুমতি নিয়ে গ্রন্থ প্রকাশেরও। আপনি যাই লিখুন না কেন?
লেখাটি শুধু মৌলিক হতে হবে প্রয়োজনে আমরা শুদ্ধ ও সম্পাদনারও কাজটি করে নেবো।

আমরা ২০এর একুশে অর্থাৎ ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি পার করছি। আসছে এবার বইমেলা আয়োজনের মাস মার্চ, তার পর বৈশাখ... এর মাঝে, দুইহাজার একুশের ঐতিহাসিক সময়ের ৭ই মার্চ, ১৭ই মার্চ, ২৬শে মার্চ সামনেই... যা, আপনার জানেন, আমরা এই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মানুষের জন্য কত গুরুত্ববহ। সামনেই... ৫২ এর সত্তর, ৭১ এর পঞ্চাশ।
৪৭ এর ইতিহাস তো আছেই।
চলছে বঙ্গবন্ধুর ১০০তম।
চলুন আমরা বই প্রেমীকরা, বইয়ের পড়ুয়ারা, বইয়ের মানুষের বই নিয়েই থাকি... আরো সাবলীলভাবে।

গল্পে...
কবিতায়...
আড্ডার গল্পে...
ছড়ায়, নকশায়, কথিকায়, রম্যে, বাক্যে, গদ্যে-পদ্যে...
লেখার ও বলার বা নন্দনের এবং নান্দনিকতার যত শাখা আছে সব শাখাতেই থাকবো, থাকতে চাই, সব সময় থাকি, যত ভাবেই পারি থাকতে, নানা মাত্রায়, না আঙ্গীকে, শত হাজার সৃষ্টির নন্দনে। সভ্যতায় সভ্যতায়, জনপদের পর জনপদে, কালের পর কালে, গ্রাম থেকে শহরে, শহর তলীতে...

বিষয় ও ঘোষণা আসছে...
কারণ, বইতো সব সময়ই আপনারই বন্ধু এবং বন্ধু এবং বন্ধুই সব সময়ই।
সে আপনাকে কখনোই নিরাস করে না। করেও নি...
চলুন আমরা পরস্পরের সহযোগী হই, পরস্পরকে জানতে, জয় করতে, এগিয়ে নিতে...

কথা বলছেন
লেখক গবেষক প্রফেসর ড. মোরশেদ শফিউল হাসান।

১৮ই ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ দিন। এ উপলক্ষে আমাদের বিশেষ নিবেদন ২০শে ফেব্রুয়ারি শনিবার রাত ৮টায় লাইভে।আমাদের বোধ ও বুদ্ধিবৃ...
02/17/2021

১৮ই ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ দিন।
এ উপলক্ষে আমাদের বিশেষ নিবেদন
২০শে ফেব্রুয়ারি শনিবার রাত ৮টায় লাইভে।

আমাদের বোধ ও বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনার শ্রীবৃদ্ধির কারিগর জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান স্যারের ৮৫তম জন্মদিন।
বৈশ্বিক মহামারির জাতীয় অনেক অনেক ক্ষতির মধ্যে প্রত্যেকের কোন না কোন আপনজন হারানোর মধ্যে, গত বছরের ১৪ই মে তাঁরও চলে যাওয়াও ছিলো আমাদের জন্য গভীর বেদনার ও শোকের...

বেদনার মধ্যেও আমরা তাঁর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও জন্মদিনের নিবেদনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি...
যা, আমাদের মানসিক শক্তি যোগাতেও সাহায্য করবে আশা করি...
তাঁকে আমাদের বাঙালি জাতির সব সময় ভাষা আন্দোলনের ভূমিকা রাখা, বাংলা ভাষার বিকাশে ভূমিকা রাখা, মহান মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা রাখা, মুক্তিযুদ্ধোত্তর একটি নতুন রাষ্ট্রের সংবিধান রচনায় বিশেষ করে সংবিধান বাংলাভাষায় প্রণয়নে অবদান রাখারসহ অসংখ্য কাজের জন্যই মনে রাখবে শাতাব্দীর পর শতাব্দী। এমন মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষে সমাজে আগমন, সমাজকেই আলোকিত করে। এমন সময়ে মহান ভাষার মাসে তাঁর জন্মদিনের অনেক অনেক আয়োজনের মধ্যে আমরাও উদ্যোগ নিয়েছি অন্তর্জালে...
তাঁকে নিয়ে নানা বিষয়ে কথা বলতে সাড়া দিয়েছেন আমাদের প্রিয় মানুষেরা।

বইয়ের মানুষ বইয়েবসত গ্রুপের উদ্যোগে বিশেষ নিবেদনের এই আয়োজন। আমরা আছি লাইভে ফেব্রুয়ারি একুশেজুড়ে।

আমাদের প্রিয় ও সবার শ্রদ্ধার
অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের
৮৫তম জন্মদিনের বিশেষ নিবেদন...
১৮ই ফেব্রুয়ারি তাঁর ৮৫তম জন্মদিন।

চলছে ভাষার মাস, বইয়ের মাস। পাঠকের মাস, লেখকের মাস, বইশিল্পীর মাস। বইবন্ধুর মাস। বইয়ের পেশাজীবীর মাস। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও মার্চে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর শুরু...

আমরা মহাকালের এই মহামারিতে গত বছরের ১৪ই মে হারিয়েছি আমাদের এক মহামানব, একটি প্রতিষ্ঠানসম
জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান
(১৮ই ফেব্রুয়ারি ১৯৩৭-১৪ই মে, ২০২০) -কে।

যিনি নানা মাত্রায় এই জাতির ও সংস্কৃতির একজনই, এবং একক। তাঁকে ছাড়া এই প্রথম তাঁর জন্মদিনের আয়োজন করবে জাতি। বিশেষ করে তাঁর বৃহত্তর পরিবার।
আমাদের এবারের আয়োজন তাঁর জন্মদিনের নিবেদন অন্তর্জালে। নিবদনে আলোচনায় অংশ নেবেন
কথাসাহিত্যিক হাসনাত আবদুল হাই।
অধ্যাপক মনসুর মুসা।
কবি হবীবুল্লাহ সিরাজী।
প্রকাশক মফিদুল হক।
অধ্যাপক হারুনুজ্জামান।
অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ।
অধ্যাপক ড. ভূইয়া ইকবাল।
অধ্যাপক ড. মোরশেদ শফিউল হাসান।
অধ্যাপক গোলাম মুস্তাফা।
অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক।
অ্যাডভোকেট আরিফ খান।
দৃশ্যশিল্পী নাজিয়া আন্দালিব প্রিমা।
প্রকাশক সৈয়দ জাকির হোসাইন।
মৌসুমী মৌসহ একে একে আরো অনেকে...

অমর একুশে, ফেব্রুয়ারি জুড়ে নিয়মিত আয়োজনের বিশেষ আয়োজন এই নিবেদন...
প্রফেসর আনিসুজ্জামানের ৮৫তম জন্মদিন পালন।

সন্ধ্যায় লাইভে বইয়েবসত এর উদ্যোগে এই আয়োজনে আপনিও যুক্ত থাকতে চাইলে ইনবক্সে জানান...

দেশ এবং বিদেশ থেকেও... #বইয়ের_মানুষ_বইয়েবসত গ্রুপ, ফেসবুক পেইজ #বইয়ের_জগৎ সঙ্গে থাকবে #BOOKography বুকওগ্রাফি ইউটিউব চ্যানেলও।

আশা করি আমাদের পাশাপাশি আপনারাও শ্রদ্ধা নিবেদনে থাকবেন...
ছবির কৃতজ্ঞতা শিল্পী মাসুক হেলাল ও বাংলা একাডেমি।

বইয়ের মানুষ বইয়েবসত গ্রুপের বিশেষ নিবেদন...২০শে ফেব্রুয়ারি শনিবার রাত ৮টায়  লাইভে ফেব্রুয়ারি একুশেজুড়ে।আমাদের প্রিয় ও সব...
02/16/2021

বইয়ের মানুষ বইয়েবসত গ্রুপের বিশেষ নিবেদন...
২০শে ফেব্রুয়ারি শনিবার রাত ৮টায়
লাইভে ফেব্রুয়ারি একুশেজুড়ে।

আমাদের প্রিয় ও সবার শ্রদ্ধার
জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের
৮৫তম জন্মদিনের বিশেষ নিবেদন...
১৮ই ফেব্রুয়ারি তাঁর ৮৪তম জন্মদিন।

চলছে ভাষার মাস, বইয়ের মাস। পাঠকের মাস, লেখকের মাস, বইশিল্পীর মাস। বইবন্ধুর মাস। বইয়ের পেশাজীবীর মাস। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও মার্চে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর শুরু...

আমরা মহাকালের এই মহামারিতে গত বছরের ১৪ই মে হারিয়েছি আমাদের এক মহামানব, একটি প্রতিষ্ঠানসম
জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান
(১৮ই ফেব্রুয়ারি ১৯৩৭-১৪ই মে, ২০২০) -কে।

যিনি নানা মাত্রায় এই জাতির ও সংস্কৃতির একজনই, এবং একক। তাঁকে ছাড়া এই প্রথম তাঁর জন্মদিনের আয়োজন করবে জাতি। বিশেষ করে তাঁর বৃহত্তর পরিবার।
আমাদের এবারের আয়োজন তাঁর জন্মদিনের নিবেদন অন্তর্জালে। নিবদনে আলোচনায় অংশ নেবেন
কথাসাহিত্যিক হাসনাত আবদুল হাই।
অধ্যাপক মনসুর মুসা।
কবি হবীবুল্লাহ সিরাজী।
প্রকাশক মফিদুল হক।
অধ্যাপক হারুনুজ্জামান।
অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ।
অধ্যাপক ড. ভূইয়া ইকবাল।
অধ্যাপক ড. মোরশেদ শফিউল হাসান।
অধ্যাপক গোলাম মুস্তাফা।
অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক।
অ্যাডভোকেট আরিফ খান।
দৃশ্যশিল্পী নাজিয়া আন্দালিব প্রিমা।
প্রকাশক সৈয়দ জাকির হোসাইন।
মৌসুমী মৌসহ একে একে আরো অনেকে...

অমর একুশে, ফেব্রুয়ারি জুড়ে নিয়মিত আয়োজনের বিশেষ আয়োজন এই নিবেদন...
প্রফেসর আনিসুজ্জামানের ৮৫তম জন্মদিন পালন।

সন্ধ্যায় লাইভে বইয়েবসত এর উদ্যোগে এই আয়োজনে আপনিও যুক্ত থাকতে চাইলে ইনবক্সে জানান...

দেশ এবং বিদেশ থেকেও... #বইয়ের_মানুষ_বইয়েবসত গ্রুপ, ফেসবুক পেইজ #বইয়ের_জগৎ
সঙ্গে থাকবে #BOOKography বুকওগ্রাফি ইউটিউব চ্যানেলও।

আশা করি আমাদের পাশাপাশি আপনারাও শ্রদ্ধা নিবেদনে থাকবেন...
ছবির কৃতজ্ঞতা শিল্পী মাসুক হেলাল ও বাংলা একাডেমি।

অন্তর্জালে একুশে কাল বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় লাইভে।লেখক সম্পাদক প্রকাশক মুখোমুখি... ক্রমশ আলাপনে পর্ব-২প্রথম পর্বের ব্যাপক ...
02/09/2021

অন্তর্জালে একুশে
কাল বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় লাইভে।

লেখক সম্পাদক প্রকাশক মুখোমুখি...
ক্রমশ আলাপনে পর্ব-২
প্রথম পর্বের ব্যাপক আলোচনার পর আরো আলোচনার প্রযোজন অনুভব করি আমরা।

লাইভ দেখা যাবে ফেসবুক গ্রুপ বইয়ের মানুষ বইয়েবসত। ইউটিউব চ্যানেল BOOKography ও ফেসবুক গ্রুপ বইয়ের জগৎ এ...
একই সঙ্গে শেয়ারে থাকবে ফেসবুক পেইজ
BOOKography বইয়ের মানুষ বইয়েবসত, এবং
#adornbooks.com

লেখক কি ভাবেন তাঁর পাণ্ডুলিপি ও বই প্রকাশনা নিয়ে। প্রকাশক পাণ্ডুলিপি পেয়ে বা সংগ্রহ করে কি কি করেন, বা বই প্রকাশে কি কি নতুনত্ব আনতে ভাবেন বা পরিকল্পনা। প্রকাশক সম্পাদকের নিকট কি কি কামনা করেন বা তার সম্পাদক কি কি কাজ করেন পাণ্ডুলিপির উপর। ওখানে লেখকের ভূমিকা বা মনোভাব কেমন হয়।

তারপর বই তো প্রকাশ পেলো।

লেখক কি কি চান প্রকাশকের নিকট, নিজের বইয়ের নিকট, বা বই নিয়ে তাঁর কি প্রত্যাশা থাকে। বিশেষ করে পাঠক নিয়ে তাঁর কি আগ্রহ থাকে।
সর্বোপরি প্রকাশনায় প্রকাশকের, লেখকের লেখালেখির পেশাদারীত্বে কে কি আশা করেন এবং অধিকার রাখেন। এখানে পাঠকের কি অধিকার আছে, পাঠক কি চাইতে পারে...

মুখোমুখি পেশাদার লেখক, প্রকাশক, সম্পাদক।
আপনিও প্রশ্ন করতে পারেন...
প্রয়োজনে ইনবক্সে লিংক দেয়া হবে।

লাইভে মুখোমুখি হবেন,
প্রফেসর ড. মোরশেদ শফিউল হাসান। Morshed Shafiul Hasan
লেখক গবেষক জয়নাল হোসেন। Jaynal Hossain
প্রকাশক মিলন নাথ। Milan Nath
কবি তুষার দাশ Tushar Das
লেখক সম্পাদক আহমাদ মাযহার Ahmad Mazhar
কথাসাহিত্যিক প্রকাশক পারভেজ হোসেন।
প্রকাশক নিশাত জাহান রানা। Nishat Jahan Rana
প্রাবন্ধিক সম্পাদক প্রকাশক ফিরোজ আহমেদ
Firoz Ahmed
কবি সম্পাদক জাফর আহমদ রাশেদ।
Zafar Ahmad Rashed
আলাপন সমন্বয়ে সৈয়দ জাকির হোসাইন। Syed Zakir Hussain

অন্তর্জালে একুশেএবারের বিষয়:লেখক সম্পাদক প্রকাশক মুখোমুখিক্রমশ আলাপনে পর্ব-২প্রথম পর্বের ব্যাপক আলোচনার পর আরো আলোচনার প...
02/09/2021

অন্তর্জালে একুশে
এবারের বিষয়:
লেখক সম্পাদক প্রকাশক মুখোমুখি
ক্রমশ আলাপনে পর্ব-২
প্রথম পর্বের ব্যাপক আলোচনার পর আরো আলোচনার প্রযোজন অনুভব করি আমরা।
আগামীকাল বুধবার ১০ই ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টায়।
লাইভ দেখা যাবে ফেসবুক গ্রুপ বইয়ের মানুষ বইয়েবসত। ইউটিউব চ্যানেল BOOKography ও ফেসবুক গ্রুপ বইয়ের জগৎ এ...
একই সঙ্গে শেয়ারে থাকবে ফেসবুক পেইজ
BOOKography বইয়ের মানুষ বইয়েবসত, এবং
#adornbooks.com
লেখক কি ভাবেন তাঁর পাণ্ডুলিপি ও বই প্রকাশনা নিয়ে। প্রকাশক পাণ্ডুলিপি পেয়ে বা সংগ্রহ করে কি কি করেন, বা বই প্রকাশে কি কি নতুনত্ব আনতে ভাবেন বা পরিকল্পনা। প্রকাশক সম্পাদকের নিকট কি কি কামনা করেন বা তার সম্পাদক কি কি কাজ করেন পাণ্ডুলিপির উপর। ওখানে লেখকের ভূমিকা বা মনোভাব কেমন হয়।
তারপর বই তো প্রকাশ পেলো।
লেখক কি কি চান প্রকাশকের নিকট, নিজের বইয়ের নিকট, বা বই নিয়ে তাঁর কি প্রত্যাশা থাকে। বিশেষ করে পাঠক নিয়ে তাঁর কি আগ্রহ থাকে।
সর্বোপরি প্রকাশনায় প্রকাশকের, লেখকের লেখালেখির পেশাদারীত্বে কে কি আশা করেন এবং অধিকার রাখেন। এখানে পাঠকের কি অধিকার আছে, পাঠক কি চাইতে পারে...
মুখোমুখি পেশাদার লেখক, প্রকাশক, সম্পাদক।
আপনিও প্রশ্ন করতে পারেন...
প্রয়োজনে ইনবক্সে লিংক দেয়া হবে।
লাইভে মুখোমুখি হবেন,
প্রফেসর ড. মোরশেদ শফিউল হাসান।Morshed Shafiul Hasan
লেখক গবেষক জয়নাল হোসেন। Jaynal Hossain
প্রকাশক মিলন নাথ। Milan Nath
কবি তুষার দাশ। Tushar Das
লেখক সম্পাদক আহমাদ মাযহার
কথাসাহিত্যিক প্রকাশক পারভেজ হোসেন।
প্রকাশক নিশাত জাহান রানা। Nishat Jahan Rana
কবি সম্পাদক জাফর আহমদ রাশেদ। Zafar Ahmad Rashed
আলাপন সমন্বয়ে সৈয়দ জাকির হোসাইন। Syed Zakir Hussain

02/05/2021
আজ জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস। খুলনা থেকে কাজী আসমা আজমেরী। সমন্বয়ে সৈয়দ জাকির হোসাইন।

আজ জাতীয় #গ্রন্থাগার দিবস...
বইয়ের মানুষ বইয়েবসত করা পেশাজীবী ও বইয়ে আগ্রহীদের বিশেষ দিন..
https://www.youtube.com/watch?v=rzZIp8Mu1qA
আমরা আমাদের গ্রুপ থেকে লাইভে আসছি রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টায়। লাইভ দেখা যাবে এই প্রুপে, বইয়ের জগৎ গ্রুুপে এবং #BOOOKography ইউটিউব চ্যানেলে..
সরাসরি থাকবেন খুলনা শহরের পড়ুয়া ও জ্ঞান অর্জনে বা #শিশু_কিশোরদের জন্য বই নিয়ে সৃজনশীল স্বর্গ তৈরির উদ্যোগ ও স্বপ্ন নিয়ে আলাপন।
থাকবেন #পড়ুয়া দেশে_বিদেশে লাইব্রেরিতে ও বুকশফে ছুটে চলা বাঙালি #ভ্রমণকন্যা কাজী আসমা আজমেরী Kazi Asma Azmery
তিনি আমাদের গ্রুপ ও ইউটিউব চ্যানেলের #অ্যাম্বেসেডর হয়ে বইয়ের খোঁজ খবর ও বইয়েবসত করা বইয়ের মানু���ের গল্প ও নানা বিচিত্র সংস্কৃতি ও সভ্যতার সঙ্গে পরিচয় করাবেন এই উপমহাদেশ অন্য উপমহাদেশ এবং দেশ থেকে দেশান্তরে, জনপদের পর জনপদে...
বর্ণে বর্ণে হবে মেলবন্ধন মানুষের ও প্রকৃতির অসীম সভ্যতায়...
আপনারাও যুক্ত হতে চাইলে লাইভের লিংক পাঠাবো ইনবক্সে।
পড়ে ও জেনে নিতে পারেন। তিনি আমাদের কাজী আসমা আজমেরী। আজকের লাইভে থাকবেন।
তাঁরাই ভাষায় বিস্তারিত...
'আমি আমার পৈতৃক সূত্রে পাওয়া খুলনা একটি দোতলা বাসায়, তিন তালায় ও চার তলায় কনস্ট্রাকশন কাজ করছি, এখানে একটি ট্রাভেলার মিউজিয়াম, একটি লাইব্রেরীতে যাতে বিভিন্ন বয়সের যেমন বড়দের জন্য আলাদা কুয়াইট লাইব্রেরী রুম, কিশোর-কিশোরীদের জন্য বড় গ্রুপ স্টাডির, বাচ্চাদের রুম , আমি বাচ্চারা গল্প বলার থেকে শুরু করে চিত্র অংকন করতে পারে।
তিন তালায় ইংরেজি ভাষা শিক্ষা, এবং সেখানে বস��� পড়ার, সমাজের বিভিন্ন লোকদের অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ডোনেশন করা, একটি বোর্ড থাকবে, যেখানে বিভিন্ন চাকরির, টিউশনি ঘর ভাড়া, ভলেন্টিয়ার বিজ্ঞপ্তি থাকবে।
একটি কনফারেন্সের হল রুম, সাধারণ মানুষেরা তাদের বিভিন্ন বিষয়গুলো নিয়ে তুলে ধরতে পারবে ,যেখানে 60 জন লোক বসতে পারবে, একটি প্রজেক্ট এর মাধ্যমে ওখানে সপ্তাহে দুদিন ইংরেজি ও ভিন্নদেশীয় মুভি দেখানো হবে যার মাধ্যমে ছেলেমেয়েরা ইংলিশ শিখতে পারে। আরো কম্পিউটার শিখার জন্য একটি রুম থাকবে, ও একটি ছোট্ট পরিসরে হোস্টেলে থাকবে,একটি স্টুডেন্ট কনসাল্টেন্সি ফার্ম এ জব কনসালটেন্সি ফার্মের ও ব্যবস্থা করা হবে।
এবং ছোট পরিসরে খাবারের জন্য ক্যাফেটেরিয়া, টোটাল বিল্ডিংয়ে চার তালায় সাতটি ফ্ল্যাটে এগুলো করা হবে, এখানে স্টুডেন্ট কনসাল্টেন্সি ও হোস্টেল বা��ে আর সব গুলোই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সার্ভিস দেওয়া হবে।
আপনাদের চিন্তাভাবনা গুলো আমার সাথে সেয়ার করতে পারেন করে, আমি এই খুলনার সাত থেকে 22 বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের বিকাশ ও মানসিক উন্নয়নে সাহায্য করতে পারি। স্বপ্নবাজ করে তুলতে পারি'।

Address

13952, 86th Road
New York, NY

Telephone

+19173625224

Website

facebook.com

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বইয়ের জগৎ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to বইয়ের জগৎ:

Videos

Category

Nearby media companies


Other Magazines in New York

Show All

Comments

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রভাবতী সম্ভাষণ পিডিএফ কারো কাছে থাকলে দিয়ে বাধিত করিবেন।
ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ-এর নতুন বই ———————————— লেখা পড়া করে যে... জাহাঙ্গীর আলম শোভন বিষয় : আত্নন্নোয়ন মূল্য : ২৫০ টাকা প্রিয় পাঠক, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ-এর #সকল_বইয়ে_২৫% ছাড়। যতকপি বই-ই অর্ডার করুন... #ডেলিভারি_চার্জ_২০_টাকাই... বিকাশ (০১৭৩৫৩৯৩৬৩৯) এবং রকেট (০১৭৩৫৩৯৩৬৩৯৮)-এর মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করে নিতে পারেন আমাদের প্রকাশিত আপনার পছন্দের যেকোনো বই!! এছাড়াও পাওয়া যাবে সারাদেশের সব অভিজাত লাইব্রেরিসহ অনলাইন বুক শপে rokomari.com/ittadi othoba.com/ittadi boibazar.com/ittadi
বিশেষ এই অফার আর মাত্র দুই দিন!! বই দুটি আলাদা আলাদা কিনলে কুরিয়ারচার্জসহ লাগবে ২৩০ (এলেম আমি কোথা থেকে) ও ১৫০ (অন্তঃস্থ ছায়ার দিকে) টাকা। আর বিশেষ অফারে পাচ্ছেন মাত্র ২৬০ টাকায়, সঙ্গে ডেলিভারি ফ্রি!! এই অফার ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বিজ্ঞাপনী পোস্টারে উল্লেখিত পারসোনাল বিকাশ নাম্বারে টাকা পাঠিয়ে বই দুটি একত্রে প্রি-অর্ডার করুন। টাকা পাঠিয়ে আপনার নাম ও কুরিয়ার ঠিকানাটি এসএমএস করতে ভুলবেন না।
#প্রণয়ের_অপলাপ ******************** বিকেল ঝিমিয়ে পড়েছে। খাঁ খাঁ দুপুর থেকেই অনেকটা বসে আছে শ্রেয়া। দুপুরে খাবার পর ঘুমের অভ্যেস নেই। দীর্ঘদিনের অভ্যাসে অনেক ছোট খাটো নিয়মাচার কখন যে উধাও হয়ে যায় বলা দায়। এখন আর দুপুরে শুলেও ঘুম আসে না। অথচ এমন একটা সময় ছিল, দুপুরে শরীর বিছানার সাথে একটু লাগাবার জন্যে কি ইচ্ছেটাই না করতো। দুপুরে হুড়োহুড়ি করে গোসল সেরে খেয়ে নিলো। কত বছর দুপুরে ভাত খায় না। অভ্যাসে ভাত না খেতে খেতে,এখন ভাত খাবার ইচ্ছেও করে না। সিনেমা জগতে ত্রিশ বছরের উপরে নায়িকা হিসেবে দাপিয়ে কাজ করেছে। ফিগার ঠিক রাখার জন্যে জিমে যাওয়া, ডায়েটিশিয়ান -এর দেয়া চার্ট অনুযায়ী খাদ্যগ্রহণ সব নিয়ম মেনে চলেছে। মন প্রফুল্ল রাখার পাশাপাশি শরীরের যত্ন নিয়েছে ঢের। তারপর এক সময় সব ফুরিয়ে গেছে । বয়সের মধ্যাহ্নেও কত সতেজ আর মমনোহর ছিল সে। প্রকৃত বয়সের চেয়ে কত কম বয়সীর চরিত্রের অফার পেয়েছে। খুব সুন্দর করে সে সব চরিত্রের সাথে নিজকে মানিয়ে করেছে। নায়িকা ছাড়া পার্শ্ব চরিত্র করেনি। যৌবন কিছুটা হেলে পড়লেও পর্দা কাঁপিয়ে রেখেছে শ্রেয়া মন্ডল সিনেমা জগতে সবাই যাকে শ্রেয়া উর্বশী বলে চেনে। কিন্তু গত তিন বছর আগে নামকরা এক পরিচালক যখন পার্শ্ব চরিত্রের ভূমিকায় অভিনয়ের অফার নিয়ে এলো ঠিক তখুনি অভিনয়ের পাট চুকিয়ে দেবে বলে স্থির করে দিলো। বডো জেদি সে। যেই ভাবা সেই কাজ। বেশ রাতে ঘুমুতে যাবে সেদিন। মোবাইলের রিং টোন অফ করতে যাবে। রাতে ঘুমোনোর পাতলা গোলাপি রঙের নাইটিও পরে ফেলেছে। ডিম লাইট নিবিয়ে বিছানায় বসতেই অন্ধকারে মোবাইলের আলো জ্বলে উঠলো। আতাহার খন্দকার পুরো নাম হলেও, আতাহার নামটা ভেসে উঠল স্ক্রীনে। সেদিন আতাহারের সাথে গোটা দশেক বাক্য বিনিময় হয়েছিল কি না তা আর আজ মনে পড়ছে না। কিন্তু শেষ আলাপের কথোপকথন ওই রাতে শ্রেয়ার ঘুম কেড়ে নিয়েছিল। তৎক্ষনাৎ কিছু সিদ্ধান্তের ছায়া অপছায়া মনের চিলেকোঠায় ঘোরাফেরা করলো ফজরের আজান তক। তারপর এক সময় চোখের পাতায় পাতায় জোড়া লেগে গেলো৷ দুপুরে আধা সেদ্ধ এক বাটি সবজি, বাচ্চা মুরগীর স্যুপ এই তার প্রায় প্রতিদিনের খাবার। নায়িকা থাকার সময় জিম করা, এরোবিকস করা তার উপরে ডায়াটেশিয়ানের সাথে কথা বলে দুপুরে আজ বিশ বছরের উপরে এমন হালকা ধরণের খাদ্য গ্রহণ করাই অভ্যসে পরিণত হয়েছে। আজ গা রগড়ে খুব ভাল করে গোসল সেরেছে। খেয়ে উঠে হালকা ছাই রঙের কোটা শাড়িটা পরেছে। শাড়িটার পাড়টা খুব সুন্দর। আধ ইঞ্চি করে দুটো পাড় একসাথে। নীচেরটা সিঁদুর লাল আর ঠিক তার উপরে হালকা ফিকে হলুদ। ছাই রঙের শাড়িতে ছোট ছোট হলুদ বুটি। ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে নিজকে নায়িকার সাজেই সাজালো। কপালে খুব ছোট একটা টিপ দিতেই মুখশ্রী যেন খুলে গেলো। কাজল নিয়ে চোখের ভেতরে, চোখের উপরের পাতায় কাজল টেনে দিলো। সাজের ছোট খাটো কিছুই বাদ দিলো না। কোটা শাড়ি ওর খুব পছন্দ। নিজেকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বার বার করে দেখে নিতে ভালই লাগলো। অনেকদিন পর নিজকে আবার নায়িকা ভাবতে খুব বেশি ভাল লাগছে। শাড়িটার পাড় বুকের উপর থেকে টান টান করে কাঁধে দিতে গিয়ে, আঁতকে উঠলো যেনো। শরীরের বাঁধুনি অনেকটাই যেনো আলগা হয়ে গেছে। উঁচু বুক যেনো কেমন নেমে গেছে। কিছুক্ষণ ঠায় তাকিয়ে থেকে চোখ সরিয়ে, চিরুনী হাতে নিলো। নিজের অজান্তেই একেবারে বুকের ভেতর নিজের শরীরের এই অযত্নে নেতিয়ে পড়া সহ্য করা দুরুহ হয়ে গেলো। বিউটি বক্স বন্ধ করে ফ্রেঞ্চ পারফিউম দিয়ে নিজের মন আর দেহটা চনমনে করে তুললো। আয়নায় নিজকে দেখতে তবু ভালোই লাগছে। ঠোঁটে হালকা গোলাপি লিপস্টিক। মুখে পুরুই বলা চলে মেকআপ। সব মিলিয়ে পর্দা কাঁপানো সেই শ্রেয়া মন্ডল। নায়িকা শ্রেয়া। যার নামে সিনেমা হল ভর্তি হয়ে যায়। পরিচালকেরা লাইন দিয়ে বসে থাকে ছবিতে নেবার জন্যে। কি ব্যাপার আসছে না কেন সাব এডিটর? আজ শ্রেয়ার খুব নামকরা একটা সিনে ম্যাগাজিনে ইন্টারভিউ দেবার কথা। দিন দশেক আগে মোবাইলে একটা কল এসেছিল। অচেনা একটা নম্বর। সারাদিন চেনা অচেনা নম্বর থেকে অনেক ফোনই আসে। সকাল এগারোটা হলেও, বিছানায় উপুড় হয়ে পড়ে কিছুক্ষণ গড়াগড়ি করা তার দীর্ঘদিনের অভ্যেস। না দেখেই ফোনটা রিসিভ করে ফেললো। অল্প কথার পরই বুঝতে পারলো পত্রিকা অফিস থেকে ফোন। শ্রেয়ার সংে শুভাশীষ বিনিময় পর সেই এক আবদার। শ্রেয়ার ইন্টারভিউ নিতে চায়। সিনেমা জগত ছেড়ে দেবার পর কোন মিডিয়ার কোন পত্রিকা,পেপার কোন কিছুতেই আর ইন্টারভিউ দেয়নি। প্রথম দিকে দিনে গড় পড়তা দশ বিশটা এমন ফোন আসতো। টান টান ব্যক্তিত্বসম্পন্ন প্রখর আত্মসন্মানবোধ, একরোখা আর জেদি মানসিকতা থাকার কারণে খুব সহজেই না বলতে পেরেছে। আজ এই ফোনটার ওপাশের ব্যক্তির সাথেই একটানা অনেক্ষণ কথা হলো। তবে হুড়কো টেনেও জেনো ভদ্রলোক জানালা আটকাতে পারছেন না। শ্রেয়ার কথার পিঠে না বাচক কথা তার প্রস্তাব যেন বেশ দাপটে দূরে ঠেলে দিয়েছে। সিনেমা জগত কেন ছেড়ে দিলো এ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে নিজেকে অনেকটা গুটিয়ে রাখার জন্যেই পেপার,পত্রিকায় ইন্টারভিউ দেয়া ছেড়ে দিয়েছে। কত কত নামি পত্রিকার সম্পাদক মহোদয়ের অনুরোধ হটিয়ে দিয়েছে। একসময় এসব সম্পাদকের সাথে অনেক বেশি সুসম্পর্ক ছিল। নিয়মিত তাদের সাথে ইচ্ছে করেই যোগাযোগ রাখতো। সম্পাদকদের সাথে নীবিড় সম্পর্ক অনেকটাই বেধড়ক আজে বাজে বানানো গুজব, মিথ্যে, বানোয়াট খবর থেকে তার ক্যারিয়ার ক্লেদের হাত থেকে পরিচ্ছন্ন রেখেছে। মকবুল সাহেব এ কথা ওকথার পর কিছুতেই যখন প্রস্তাব থেকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে না, কি মনে হতে হঠাৎ করেই ইন্টারভিউ দিতে রাজি হয়ে গেলো। তবে কিছু শর্তের আরোপ করে দিলো আগেই। পত্রিকার ইন্টারভিউ -এর জন্যেই আজ এই আয়োজন। রিজিয়ার মা-কে ড্রইং রুম পরিপাটি করে রাখতে বলেছে৷ ড্রাইভার -কে দিয়ে কয়েক গোছা দোলনচাঁপা আনিয়ে ঘরের দুই কোনায় ফুলদানিতে সাজিয়ে রেখেছে। সারা ঘরে মৌ মৌ করছে ফুলের সুবাস। কান খাড়া করে রেখেছে কখন কলিং বেল বাজবে। কোটা শাড়ি পরে শুটিং এর মত পুরু সাজ না হলেও, নায়িকার মতই সেজেছে শ্রেয়া। হাতে পায়ে গোলাপি নেল পলিশ দিয়ে নিজকে যেনো আবার নায়িকাই ভাবছে নিজের মনের মানসপটে। হালকা গহনা গাটিতেও নিজকে মুড়িয়ে নিয়েছে। শ্রেয়া পর্দায় নির্দেশকের পরামর্শ মত সাজলেও চরিত্রের সাথে মানানসই সাজেই সাজিয়েছে সারা জীবন অভিনয় করতে গিয়ে। এমনিতে কাজ ছাড়া কোথাও বাইরে বেরুতে গেলে হালকা সাজেই নিজেকে সাজিয়েছে। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় তিন বার কলিং বেল বেজে উঠল। "আধো রাতে যদি ঘুম ভেংে যায়" গানটা বাজছে। পাট পাট শাড়ি পরে বিছানায় শোয়া ঠিক হবে না বলে বেডরুমেই জানালার পাশের সোফায় বসে ছিল। কেমন এক ভাল লাগায় আজ ভাল লাগছে তার। তিনবার কলিং বেলের আওয়াজে নিজের উৎকন্ঠা ধরে রাখতে না পেরে নিজেই ড্রইংরুমের বিশাল দরজা খুলে দিলো। হ্যাঁ, পত্রিকা অফিসের মকবুল সাহেবই এসেছেন। তিনি ঘরে ঢুকে শুভেচ্ছা বিনিময় করে কোনায় একটা চেয়ারে এলিয়ে বসলেন।শ্রেয়া হাসিমুখে কুশলাদি জিজ্ঞেস করে উল্টোদিকের চেয়ারে বসলো। - ক্যামন আছেন বলুন? মকবুল সাহেব বোধ করি শ্রেয়ার মুখে এত সৌহার্দ্যপূর্ণ হাসি আর খোলামেলা প্রশ্নে কিঞ্চিৎ অবাকই হলেন। শ্রেয়া সম্পর্কে সিনেমা জগতে একটা কথা চাউর ছিল, সে বড়ই মুডি। অনেকটাই নিজকে শামুকের মত গুটিয়ে রাখে। - জ্বি ভাল। খুব সরাসরি না তাকালেও অনেকদিন পর দেখায় মকবুল সাহেবকে কেমন যেনো বুড়োটে দেখাচ্ছে। এ পত্রিকায় সাব এডিটর হিসেবে আছেন তিনি এখন। এক সময় খুব হ্যান্ডসাম ছিলেন। নতুন সিনেমাজগতে প্রবেশ করা অনেক নায়িকার সংে সম্পর্ক নিয়ে নানা কানা ঘুষাও শোনা যেতো।জুনিয়র রিপোর্টার থেকে খেটে খুটে নিজেকে পোক্ত করে আজ নামকঅরা এই পত্রিকার সাব এডিটর। মকবুল সাহেব সম্পর্কে বলা হয়, তাঁকে কেউ ফেরাতে পারে না। সুন্দর বাক্যালাপে অনেক রাঘব বোয়ালকেও ইন্টারভিউ করেছেন তিনি সহজে। অল্প স্বল্প প্রারম্ভিক কথা বলার পর মকবুল সাহেব নিজেই বললেন, "এবার তবে কাজের কথায় আসি আমরা"। ঘাড় কাত করে শ্রেয়া সম্মতি দিলো। - সিনেমা জগতে কি করে এলেন আপনি। নিজের ইচ্ছায়? না কি ঘটনাচক্রে? শ্রেয়া একটু চিন্তা করে উত্তর দিলো, - স্কুলে নিয়মিত নাটকে অংশগ্রহণ করতাম। পাড়ায় আমার নাম ছিল দেবী। দেবীর মতই না কি চোখ, নাক,ঠোঁট সব টানা টানা। স্কুলের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সব সময় নায়িকার চরিতেই অভিনয় করেছি। এর কারণ বোধ করি সুন্দর হবার কারণেই। মকবুল চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে খুব উৎসুক হয়ে শ্রেয়া-কে নীরিক্ষণ করছে। শ্রেয়ার চপখ সেটা এড়িয়ে যায় না। ভালই লাগছে, বহুদিন জনপ্রয় নায়িকা শ্রেয়া-কে কেউ এমন করে দেখে না। মকবুল তার চোখ,নাক,মুখ,চুল,বাহু সব কিছুই দেখছে। খুব খেয়াল করে। চোখ ঘুরতে ঘুরতে কটিদেশ,বুকে থির হয়ে থাকছে। কিন্তু মকবুলের চোখ যেন ক্লান্ত হয়ে আসছে। অল্পেই সরে যাচ্ছে চোখ। হাতের ডায়েরি -তে আলাপচারিতার অনেক কিছুই টুকে নিচ্ছে। শ্রেয়া নিজেকে আজ পর্দা কাঁপানো সেই নায়িকাই ভাবছে। খুব কায়দা করে বসেছে। নিজের শরীরের অনেকটাই যেনো মকবুলের সামনে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। ব্লাউজের গলা অনেক বড়। কাঁধ থেকে বুকের নীচ পর্যন্ত নেমে এসেছে। কোটা শাড়ি পাতলা বলে উন্নত বুকের অনেকটাই যেনো উঁকি দিয়ে আছে। ব্লাউজের গলা পিছনে আরো বড়। ফলে ফর্সা পিঠের অনেকটাই দেখা যাচ্ছে। - আমি পাড়ায় প্রতি বছর নাটক করতাম। ক্লাস এইটে থাকতে পোস্টমাস্টার নাটকের রতঅন চরিত্রটি করার পর পর, মাজহার তালুকদার নামে এক পরিচালক আমার নাটক দেখেন। তিনি আমাদের পাড়াতেই থাকতেন। আমার সাথে পরিচয় ছিল না। উনি একদিন সন্ধ্যায় আমাদের বাড়িতে এসে প্রস্তাব দেন। মনে আছে মা,বাবা সরাসরি নাকচ করে দিলেন। অথচ নাটক বা সিনেমায় অভিনয় করার আমার কি ইচ্ছে। সারা রাত বিছানায় শুয়ে কাঁদতে কাঁদতে বালিশ ভিজিয়ে ফেললাম। কিন্তু বাবা মা-কে মুখ ফুটে অভিনয়ে নামবো এ কথাটি বলতে পারলাম না। এর দুই বছর পর বাবা ক্যান্সারে মারা গেলেন। আমি সে বছর ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিয়েছি কেবল। মা পাড়ার স্কুলের শিক্ষয়িত্রী। ছোট দুটো ভাই কেবল ছোট ক্লাসে পড়ছে। বাবা-র চিকিৎসা খরচেই অনেক পয়সা চলে গেছে। তার উপর বাবাই ছিলেন সংসারের মোটা রোজগেরে। পুরো পরিবার যেনো ধসে গেলো। মা সারাদিন আহাজারি করেন। পত্রিকায় একদিন বিজ্ঞাপন দেখলাম। এক পরিচালক নতুন ভিন্নধর্মী ছবির জন্যে নতুন মুখ খুঁজছেন। মা -কে না জানিয়ে আবেদন করে দিলাম। প্রা দশ হাজার মেয়ের থেকে বাছাইয়ে প্রাথমিক বাছাইয়ে উঠে এলাম। ধাপে ধাপে নানা পরীক্ষা। মা-কেও বলতে হলো। কি ব্যাপার মকবুল সাহেব আপনি তো কিছুই খাচ্ছেন না। " শ্রেয়া মকবুল সাহেবের সামনে পাপড়ের বকের মত সাদা বাটিটা এগিয়ে দিলো। মকবুল সাহেবের চোখ খুব লুকিয়ে লুকিয়ে শ্রেয়ার চোখ,মুখ,বুক,পিঠ দেখছে। ব্যাস তারপর বাছাইয়ে আমিই নির্বাচিত হই " জীবন ও জীবিকা" ছবির মূল নায়িকা হিসেবে। পরিচালক তারিকুল ইসলাম ছবি তৈরির আগেই বিরাট প্রচার করেন। ছবির গল্প, অভিনেতা অভিনেত্রীদের। আমার বয়স তখন কেবল আঠারো । এই ছবি রিলিজ পাওয়ার পর সুপারহিট। অনেকেই বলে বাংলা সিনেমা জগতে এত সুন্দর নায়কা আমার আগে আর আসেনি। সুন্দর মুখশ্রীর পাশাপাশি আমার খোলামেলা পোশাক ছিল অনেকের জন্যেই এক বাড়তি আকর্ষণ। " শ্রেয়া-কে থামিয়ে দিয়ে মকবুল সাহেব বলে ওঠেন, " কিন্তু সে সময়ে এমন কথাও তো শোনা যায় যে চরিত্রটির সাথে আপনার বয়স ছিল বেমানান। চরিত্রের প্রয়োজনে নয় অনেকটা ইচ্ছে করেই সস্তা জনপ্রিয়তা আর তারিকুল ইসলাম অকারণেই আপনার দেহের লোভনীয় অংশ দেখিয়ে ছবি হিট করাতে চেয়েছেন। আপনার শরীর ছিল পুরোই চরিত্রের সাথে বেমানান। মানে অনেকটাই অপরিণত শরীর। কিন্তু কাঁচা বয়স খুলেমেলে দিয়েই নাকি তিনি অনেকটা রগরগে আকর্ষণে ডুবিয়ে রাখতে চেয়েছেন দর্শকদের। ব্যাপারটাতে আপনিও একটুও কুন্ঠাবোধ করেননি। এমন কি ব্লাউজ না পরেই অভিনয় করেছেন কয়েকটি দৃশ্যে। আপনার বুকের প্রায় অর্ধেকটাই বড় পর্দায় দেওখা গেছে। আপনি নিজেও শোনা যায় আরো বেশি উৎসাহী ছিলেন নিজেকে উন্মুক্ত করে দিতে। " শ্রেয়া মুখ নীচু করে থাকলো কিছু সময় । কিছু বলার আগে ভ্রু কুটি করে কি যেন চিন্তায় ডুবে গেলো। মকবুলকে না বুঝতে দিয়ে নিজের শরীরের দিকে একবার তাকিয়ে দেখলো। কি সুন্দর শরীর তার। এখন চিকন কটি আর নেই। কোমর মোটা হয়ে গেছে। বুক যেনো নেমে যাচ্ছে। নিজের দিকে তাকালে মুখেই যা একটু সৌন্দর্যের বালাই রয়েছে। অথচ এক সময় পরিচালকেরা তার অভিনয়ের পাশাপাশি দর্শকরা তার শরীর চোখ দিয়ে চেটেপুটে খায় এমন কথা বলেই কত কত টাকার বিনিময়ে নতুন ছবিতে সই করিয়েছে। শ্রেয়া নিজেও শরীর দেখানোর ব্যাপারে অনেকটাই ছিল আগ্রহী। মকবুল সাহেব সিংারায় কামড় বসিয়ে বললেন, " আপনার সম্পর্কে খুব বেশি স্ক্যান্ডাল বাজারে শোনা যায় না। কিন্তু তারিকুল ইসলামের প্রথম ছবি করার সময় তাঁকে আর আপনাকে নিয়ে অনেক কিছু শোনা যায়। কিন্তু তারিকুল ইসলাম অনেক বেশি প্রভাবশালি থাকার কারণে অনেক একান্ত খবর পত্রিকায় আসতে পারেনি। তবু ছিটে ফোটা যে আসে নি বা আপনাদের সম্পর্কে যে সত্যতা ছিল না এমনটা নয়। " শ্রেয়ার মুখ চকিতেই যেন কেমন বিবর্ণ হয়ে আবার স্মিত হাসি ফিরে এলো। একটু হেসে বলল, " তারিকুল ইসলাম আমাকে খুঁজে বের করেছেন। ওনার ছবিতে প্রথম সুযোগ দিয়েছেন। আমি সত্যি কৃতজ্ঞ। ছবির শুরুতেই আমার আসা নিয়ে নানা চটকদার খবর তৈরি করে খবরের কাগজ কাটতির জন্যে অনেক কিছুই লিখতে শুরু করে। আমার মনে আছে শুরুতেই আমার চরিত্র নিয়ে বাজে রিপোর্ট করে একটা পত্রিকা। আমি কেঁদে ভাসাই শুটিং এর সেটে। আমাকে বুকে টেনে নিয়ে তারিকুল ইসলাম মাথায় হাত বুলিয়ে অনেক্ষণ ধরে বোঝান। তাকে নিয়েই কত কিছু লিখেছে। তিনি বলেন, একজন নতুন নায়িকার জন্যে স্ক্যান্ডাল হলো আশীর্বাদস্বরুপ। যত বেশি স্ক্যান্ডাল হবে তত নাম ছড়াবে"। ব্যাপারটা আসলে অনেকটা এমনই ছিল। অকারণে আমাকে নিয়ে লেখালেখি করে পাতা ভরিয়েছে। তারিকুল ইসলাম নিজেও হয়ত এমনটা চেয়েছেন। " -সিনেমার জগৎ হঠাৎ করে ছেড়ে দিলেন কেন"? শ্রেয়ার সাথে কথা বলার ফাঁকে ফাঁকে অনুমতি নিয়েই ছবি তুলছিল মকবুল। যতভাবে পোজ দিয়ে বসতে বলছে না কেন, শ্রেয়ার মাঝে সেই সুন্দরী আনকোরা আবেদনময়ী শ্রেয়াকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মুখ ফুটে সে কথা বলতেও পারছে না। অনেক চেষ্টা করে মধ্যবয়সী সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ এক ব্যক্তিত্বই খুঁজে পাওয়া গেলো। তারিকুল ইসলামের সাথে প্রেম বা প্রণয়ের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতেও নারাজ শ্রেয়া। মকবুল শ্রেয়ার মাঝে তারিকুল ইসলামের প্রতি শ্রেয়ার এক ধরণের ক্ষেদ আবিষ্কার করলো। কয়েকবার গোপন প্রণয়ের বিষয়টা উত্থাপন করায় চুপ করে বিমর্ষ হয়ে রইল। -আমার প্রথম সিনেমা করার সময় আমার অভিনয়ের জ্ঞান ছিল খুব কাঁচা। আমার পরিচালক তারিকুল ইসলাম আমাকে হাতে ধরিয়ে সব শিখিয়ে দেন। ওনার শিখানোর সময় এত দরদ দিয়ে প্রতিটি জিনিস উনি দেখিয়ে দিতেন, আমি মুহুর্তে মুহুর্তে ওনার প্রেমে পড়ে যেতাম। তারিকুল ইসলাম আমার চেয়ে বয়সে অনেক বড়। দেখতে মোটেও সুন্দর নন। শুটিং সেট পড়ত অনেক দূরে। হোটেলে থাকতাম আমরা। সারাদিন প্রচন্ড ব্যস্ত থাকতাম আমরা। রাতে উনি আমাকে ওনার রুমে ডেকে নিয়ে যেতেন। হাতে ধরে অভিনয়ের খুঁটিনাটি শিখিয়ে দিতেন। উনি সারা রাত কোন ভংগিমায় আমাকে যৌন আবেদনময়ী লাগে, কামাতুর লাগে সব শিখিয়ে দেন। " শ্রেয়া উঠে দাঁড়ায়। সত্য বলার মধ্যে একধরনের দৃঢ়তা থাকে। কথাগুলি বলার সময় শ্রেয়ার চোখে মুখে তাই ফুটে ওঠে। শুটিং-এর প্রথম রাতেই তারিকুল ইসলাম আমাকে কাছে টেনে অভিনয়ের নানা দৃশ্য বুঝাতে থাকেন। প্রথম রাতেই উনি আমার সাথে শারিরীক সম্পর্ক করেন এক রকম জোর করেই। আজ বলছি, উনি আমাকে ধর্ষণ করেন। একদম ধর্ষণ। " মকবুল হতবাক হয়ে স্পষ্টতই খুব সহজে বলে যাওয়া কথাগুলি খুব তাড়াতাড়ি লিখে নিলো। " সময়ের সাথে সাথে আমি অভিনয় বুঝি, শরীর বুঝি। শরীর কি চায় সব বুঝি। তারিকুল ইসলামের সাথে খুব সহজেই আমি কয়েকবারের পর শরীর সঁপে দেই। আপনি হয়ত বলতে পারেন আমি প্রতিবাদ করিনি কেন? ওই যে আঠারো বছর বয়সে রুপালী পর্দার ঝলমলে তারা হয়ে ওঠার স্বপ্ন। নিজকে নায়িকা হিসেবে দেখার উচ্চাকাঙ্ক্ষা। কয়েকবছর তারিকুল ইসলামের সাথে ভোগের বস্তু হয়েও এ জগতে প্রতিষ্ঠিত হতে চেয়েছি। হয়ত নিজের চেহারা,শরীর, অভিনয়ে দক্ষতা অর্জন সব ক্ষমতাও আমার ছিল বটে। - তারিকুল ইসলামের সাথে আপনার প্রেম ছিল এটা তো মিথ্যে নয়? শ্রেয়া জোরে মাথা ঝাঁকিয়ে ওঠে। তারিকুল ইসলামের সাথে আমার কখনোই প্রেমের সম্পরর ছিল না। যা ছিল তা বলতে পারেন অনেকটাই দেনা পাওনার সম্পর্ক। আমি ওনাকে দেহ দিলে উনি আমাকে ভাল ভাল ছবিতে কাস্ট করতেন। আর হ্যাঁ, আমার ছবির প্রায় সব নায়কের সাথেই আমি শুয়েছি। বা আপনারা আমাকে শুইয়েছেন। তারিকুলের সাথেও তো কম লেখেননি। কিন্তু আপনারা জানেন না মেয়ে মাত্রেই তারিকুলরা লুটে নেয় কেবল একটা শরীর, প্রেম বোঝার আগেই তাকে খুবলে খায়। ধর্ষণ করে। মকবুল আড় চোখে বিগত যৌবনা শ্রেয়া উর্বশী -কে দেখে। সন্ধ্যের আলো সরে গিয়ে রাতের আলো চারিদিক ছেয়ে নিচ্ছে। আর কেন সিনেমা জগত ছেড়ে দিয়েছি এ বিষয়ে আমি কোন কথা বলব না এই শর্তেই কিন্তু কথা বলতে বসেছি"। শ্রেয়া সিঁড়ি ঘরের আলো জ্বেলে দিয়ে নীচ পর্যন্ত মকবুলকে এগিয়ে বিদায় জানিয়ে আসে। আবারও যেনো সে শ্রেয়ার বাড়িতে আসে সে নেমন্তন্ন করে। উপরে এসে সোফায় অনেক্ষণ বসে থাকে। এক গ্লাস পানি ছাড়া আর কিছুই খায় না। শুক্রবারে সিনেমার পত্রিকা " সিনে ঝলমলে গভীর আগ্রহের সাথে হাতে নিয়ে দেখে পত্রিকার কাভার পেজে শ্রেয়ার সেদিনের একটি ছবি। পাশে নিউজ" শ্রেয়া উর্বশী -র আগ্রহেই তারিকুল ইসলাম বাধ্য হন তাঁর সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তে"। কাকলী আহমেদ উত্তরা ১৬/১০/২০১৮#প্রণয়ের_অপলাপ ******************** বিকেল ঝিমিয়ে পড়েছে। খাঁ খাঁ দুপুর থেকেই অনেকটা বসে আছে শ্রেয়া। দুপুরে খাবার পর ঘুমের অভ্যেস নেই। দীর্ঘদিনের অভ্যাসে অনেক ছোট খাটো নিয়মাচার কখন যে উধাও হয়ে যায় বলা দায়। এখন আর দুপুরে শুলেও ঘুম আসে না। অথচ এমন একটা সময় ছিল, দুপুরে শরীর বিছানার সাথে একটু লাগাবার জন্যে কি ইচ্ছেটাই না করতো। দুপুরে হুড়োহুড়ি করে গোসল সেরে খেয়ে নিলো। কত বছর দুপুরে ভাত খায় না। অভ্যাসে ভাত না খেতে খেতে,এখন ভাত খাবার ইচ্ছেও করে না। সিনেমা জগতে ত্রিশ বছরের উপরে নায়িকা হিসেবে দাপিয়ে কাজ করেছে। ফিগার ঠিক রাখার জন্যে জিমে যাওয়া, ডায়েটিশিয়ান -এর দেয়া চার্ট অনুযায়ী খাদ্যগ্রহণ সব নিয়ম মেনে চলেছে। মন প্রফুল্ল রাখার পাশাপাশি শরীরের যত্ন নিয়েছে ঢের। তারপর এক সময় সব ফুরিয়ে গেছে । বয়সের মধ্যাহ্নেও কত সতেজ আর মমনোহর ছিল সে। প্রকৃত বয়সের চেয়ে কত কম বয়সীর চরিত্রের অফার পেয়েছে। খুব সুন্দর করে সে সব চরিত্রের সাথে নিজকে মানিয়ে করেছে। নায়িকা ছাড়া পার্শ্ব চরিত্র করেনি। যৌবন কিছুটা হেলে পড়লেও পর্দা কাঁপিয়ে রেখেছে শ্রেয়া মন্ডল সিনেমা জগতে সবাই যাকে শ্রেয়া উর্বশী বলে চেনে। কিন্তু গত তিন বছর আগে নামকরা এক পরিচালক যখন পার্শ্ব চরিত্রের ভূমিকায় অভিনয়ের অফার নিয়ে এলো ঠিক তখুনি অভিনয়ের পাট চুকিয়ে দেবে বলে স্থির করে দিলো। বডো জেদি সে। যেই ভাবা সেই কাজ। বেশ রাতে ঘুমুতে যাবে সেদিন। মোবাইলের রিং টোন অফ করতে যাবে। রাতে ঘুমোনোর পাতলা গোলাপি রঙের নাইটিও পরে ফেলেছে। ডিম লাইট নিবিয়ে বিছানায় বসতেই অন্ধকারে মোবাইলের আলো জ্বলে উঠলো। আতাহার খন্দকার পুরো নাম হলেও, আতাহার নামটা ভেসে উঠল স্ক্রীনে। সেদিন আতাহারের সাথে গোটা দশেক বাক্য বিনিময় হয়েছিল কি না তা আর আজ মনে পড়ছে না। কিন্তু শেষ আলাপের কথোপকথন ওই রাতে শ্রেয়ার ঘুম কেড়ে নিয়েছিল। তৎক্ষনাৎ কিছু সিদ্ধান্তের ছায়া অপছায়া মনের চিলেকোঠায় ঘোরাফেরা করলো ফজরের আজান তক। তারপর এক সময় চোখের পাতায় পাতায় জোড়া লেগে গেলো৷ দুপুরে আধা সেদ্ধ এক বাটি সবজি, বাচ্চা মুরগীর স্যুপ এই তার প্রায় প্রতিদিনের খাবার। নায়িকা থাকার সময় জিম করা, এরোবিকস করা তার উপরে ডায়াটেশিয়ানের সাথে কথা বলে দুপুরে আজ বিশ বছরের উপরে এমন হালকা ধরণের খাদ্য গ্রহণ করাই অভ্যসে পরিণত হয়েছে। আজ গা রগড়ে খুব ভাল করে গোসল সেরেছে। খেয়ে উঠে হালকা ছাই রঙের কোটা শাড়িটা পরেছে। শাড়িটার পাড়টা খুব সুন্দর। আধ ইঞ্চি করে দুটো পাড় একসাথে। নীচেরটা সিঁদুর লাল আর ঠিক তার উপরে হালকা ফিকে হলুদ। ছাই রঙের শাড়িতে ছোট ছোট হলুদ বুটি। ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে নিজকে নায়িকার সাজেই সাজালো। কপালে খুব ছোট একটা টিপ দিতেই মুখশ্রী যেন খুলে গেলো। কাজল নিয়ে চোখের ভেতরে, চোখের উপরের পাতায় কাজল টেনে দিলো। সাজের ছোট খাটো কিছুই বাদ দিলো না। কোটা শাড়ি ওর খুব পছন্দ। নিজেকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বার বার করে দেখে নিতে ভালই লাগলো। অনেকদিন পর নিজকে আবার নায়িকা ভাবতে খুব বেশি ভাল লাগছে। শাড়িটার পাড় বুকের উপর থেকে টান টান করে কাঁধে দিতে গিয়ে, আঁতকে উঠলো যেনো। শরীরের বাঁধুনি অনেকটাই যেনো আলগা হয়ে গেছে। উঁচু বুক যেনো কেমন নেমে গেছে। কিছুক্ষণ ঠায় তাকিয়ে থেকে চোখ সরিয়ে, চিরুনী হাতে নিলো। নিজের অজান্তেই একেবারে বুকের ভেতর নিজের শরীরের এই অযত্নে নেতিয়ে পড়া সহ্য করা দুরুহ হয়ে গেলো। বিউটি বক্স বন্ধ করে ফ্রেঞ্চ পারফিউম দিয়ে নিজের মন আর দেহটা চনমনে করে তুললো। আয়নায় নিজকে দেখতে তবু ভালোই লাগছে। ঠোঁটে হালকা গোলাপি লিপস্টিক। মুখে পুরুই বলা চলে মেকআপ। সব মিলিয়ে পর্দা কাঁপানো সেই শ্রেয়া মন্ডল। নায়িকা শ্রেয়া। যার নামে সিনেমা হল ভর্তি হয়ে যায়। পরিচালকেরা লাইন দিয়ে বসে থাকে ছবিতে নেবার জন্যে। কি ব্যাপার আসছে না কেন সাব এডিটর? আজ শ্রেয়ার খুব নামকরা একটা সিনে ম্যাগাজিনে ইন্টারভিউ দেবার কথা। দিন দশেক আগে মোবাইলে একটা কল এসেছিল। অচেনা একটা নম্বর। সারাদিন চেনা অচেনা নম্বর থেকে অনেক ফোনই আসে। সকাল এগারোটা হলেও, বিছানায় উপুড় হয়ে পড়ে কিছুক্ষণ গড়াগড়ি করা তার দীর্ঘদিনের অভ্যেস। না দেখেই ফোনটা রিসিভ করে ফেললো। অল্প কথার পরই বুঝতে পারলো পত্রিকা অফিস থেকে ফোন। শ্রেয়ার সংে শুভাশীষ বিনিময় পর সেই এক আবদার। শ্রেয়ার ইন্টারভিউ নিতে চায়। সিনেমা জগত ছেড়ে দেবার পর কোন মিডিয়ার কোন পত্রিকা,পেপার কোন কিছুতেই আর ইন্টারভিউ দেয়নি। প্রথম দিকে দিনে গড় পড়তা দশ বিশটা এমন ফোন আসতো। টান টান ব্যক্তিত্বসম্পন্ন প্রখর আত্মসন্মানবোধ, একরোখা আর জেদি মানসিকতা থাকার কারণে খুব সহজেই না বলতে পেরেছে। আজ এই ফোনটার ওপাশের ব্যক্তির সাথেই একটানা অনেক্ষণ কথা হলো। তবে হুড়কো টেনেও জেনো ভদ্রলোক জানালা আটকাতে পারছেন না। শ্রেয়ার কথার পিঠে না বাচক কথা তার প্রস্তাব যেন বেশ দাপটে দূরে ঠেলে দিয়েছে। সিনেমা জগত কেন ছেড়ে দিলো এ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে নিজেকে অনেকটা গুটিয়ে রাখার জন্যেই পেপার,পত্রিকায় ইন্টারভিউ দেয়া ছেড়ে দিয়েছে। কত কত নামি পত্রিকার সম্পাদক মহোদয়ের অনুরোধ হটিয়ে দিয়েছে। একসময় এসব সম্পাদকের সাথে অনেক বেশি সুসম্পর্ক ছিল। নিয়মিত তাদের সাথে ইচ্ছে করেই যোগাযোগ রাখতো। সম্পাদকদের সাথে নীবিড় সম্পর্ক অনেকটাই বেধড়ক আজে বাজে বানানো গুজব, মিথ্যে, বানোয়াট খবর থেকে তার ক্যারিয়ার ক্লেদের হাত থেকে পরিচ্ছন্ন রেখেছে। মকবুল সাহেব এ কথা ওকথার পর কিছুতেই যখন প্রস্তাব থেকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে না, কি মনে হতে হঠাৎ করেই ইন্টারভিউ দিতে রাজি হয়ে গেলো। তবে কিছু শর্তের আরোপ করে দিলো আগেই। পত্রিকার ইন্টারভিউ -এর জন্যেই আজ এই আয়োজন। রিজিয়ার মা-কে ড্রইং রুম পরিপাটি করে রাখতে বলেছে৷ ড্রাইভার -কে দিয়ে কয়েক গোছা দোলনচাঁপা আনিয়ে ঘরের দুই কোনায় ফুলদানিতে সাজিয়ে রেখেছে। সারা ঘরে মৌ মৌ করছে ফুলের সুবাস। কান খাড়া করে রেখেছে কখন কলিং বেল বাজবে। কোটা শাড়ি পরে শুটিং এর মত পুরু সাজ না হলেও, নায়িকার মতই সেজেছে শ্রেয়া। হাতে পায়ে গোলাপি নেল পলিশ দিয়ে নিজকে যেনো আবার নায়িকাই ভাবছে নিজের মনের মানসপটে। হালকা গহনা গাটিতেও নিজকে মুড়িয়ে নিয়েছে। শ্রেয়া পর্দায় নির্দেশকের পরামর্শ মত সাজলেও চরিত্রের সাথে মানানসই সাজেই সাজিয়েছে সারা জীবন অভিনয় করতে গিয়ে। এমনিতে কাজ ছাড়া কোথাও বাইরে বেরুতে গেলে হালকা সাজেই নিজেকে সাজিয়েছে। বিকেল সাড়ে পাঁচটায় তিন বার কলিং বেল বেজে উঠল। "আধো রাতে যদি ঘুম ভেংে যায়" গানটা বাজছে। পাট পাট শাড়ি পরে বিছানায় শোয়া ঠিক হবে না বলে বেডরুমেই জানালার পাশের সোফায় বসে ছিল। কেমন এক ভাল লাগায় আজ ভাল লাগছে তার। তিনবার কলিং বেলের আওয়াজে নিজের উৎকন্ঠা ধরে রাখতে না পেরে নিজেই ড্রইংরুমের বিশাল দরজা খুলে দিলো। হ্যাঁ, পত্রিকা অফিসের মকবুল সাহেবই এসেছেন। তিনি ঘরে ঢুকে শুভেচ্ছা বিনিময় করে কোনায় একটা চেয়ারে এলিয়ে বসলেন।শ্রেয়া হাসিমুখে কুশলাদি জিজ্ঞেস করে উল্টোদিকের চেয়ারে বসলো। - ক্যামন আছেন বলুন? মকবুল সাহেব বোধ করি শ্রেয়ার মুখে এত সৌহার্দ্যপূর্ণ হাসি আর খোলামেলা প্রশ্নে কিঞ্চিৎ অবাকই হলেন। শ্রেয়া সম্পর্কে সিনেমা জগতে একটা কথা চাউর ছিল, সে বড়ই মুডি। অনেকটাই নিজকে শামুকের মত গুটিয়ে রাখে। - জ্বি ভাল। খুব সরাসরি না তাকালেও অনেকদিন পর দেখায় মকবুল সাহেবকে কেমন যেনো বুড়োটে দেখাচ্ছে। এ পত্রিকায় সাব এডিটর হিসেবে আছেন তিনি এখন। এক সময় খুব হ্যান্ডসাম ছিলেন। নতুন সিনেমাজগতে প্রবেশ করা অনেক নায়িকার সংে সম্পর্ক নিয়ে নানা কানা ঘুষাও শোনা যেতো।জুনিয়র রিপোর্টার থেকে খেটে খুটে নিজেকে পোক্ত করে আজ নামকঅরা এই পত্রিকার সাব এডিটর। মকবুল সাহেব সম্পর্কে বলা হয়, তাঁকে কেউ ফেরাতে পারে না। সুন্দর বাক্যালাপে অনেক রাঘব বোয়ালকেও ইন্টারভিউ করেছেন তিনি সহজে। অল্প স্বল্প প্রারম্ভিক কথা বলার পর মকবুল সাহেব নিজেই বললেন, "এবার তবে কাজের কথায় আসি আমরা"। ঘাড় কাত করে শ্রেয়া সম্মতি দিলো। - সিনেমা জগতে কি করে এলেন আপনি। নিজের ইচ্ছায়? না কি ঘটনাচক্রে? শ্রেয়া একটু চিন্তা করে উত্তর দিলো, - স্কুলে নিয়মিত নাটকে অংশগ্রহণ করতাম। পাড়ায় আমার নাম ছিল দেবী। দেবীর মতই না কি চোখ, নাক,ঠোঁট সব টানা টানা। স্কুলের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সব সময় নায়িকার চরিতেই অভিনয় করেছি। এর কারণ বোধ করি সুন্দর হবার কারণেই। মকবুল চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে খুব উৎসুক হয়ে শ্রেয়া-কে নীরিক্ষণ করছে। শ্রেয়ার চপখ সেটা এড়িয়ে যায় না। ভালই লাগছে, বহুদিন জনপ্রয় নায়িকা শ্রেয়া-কে কেউ এমন করে দেখে না। মকবুল তার চোখ,নাক,মুখ,চুল,বাহু সব কিছুই দেখছে। খুব খেয়াল করে। চোখ ঘুরতে ঘুরতে কটিদেশ,বুকে থির হয়ে থাকছে। কিন্তু মকবুলের চোখ যেন ক্লান্ত হয়ে আসছে। অল্পেই সরে যাচ্ছে চোখ। হাতের ডায়েরি -তে আলাপচারিতার অনেক কিছুই টুকে নিচ্ছে। শ্রেয়া নিজেকে আজ পর্দা কাঁপানো সেই নায়িকাই ভাবছে। খুব কায়দা করে বসেছে। নিজের শরীরের অনেকটাই যেনো মকবুলের সামনে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। ব্লাউজের গলা অনেক বড়। কাঁধ থেকে বুকের নীচ পর্যন্ত নেমে এসেছে। কোটা শাড়ি পাতলা বলে উন্নত বুকের অনেকটাই যেনো উঁকি দিয়ে আছে। ব্লাউজের গলা পিছনে আরো বড়। ফলে ফর্সা পিঠের অনেকটাই দেখা যাচ্ছে। - আমি পাড়ায় প্রতি বছর নাটক করতাম। ক্লাস এইটে থাকতে পোস্টমাস্টার নাটকের রতঅন চরিত্রটি করার পর পর, মাজহার তালুকদার নামে এক পরিচালক আমার নাটক দেখেন। তিনি আমাদের পাড়াতেই থাকতেন। আমার সাথে পরিচয় ছিল না। উনি একদিন সন্ধ্যায় আমাদের বাড়িতে এসে প্রস্তাব দেন। মনে আছে মা,বাবা সরাসরি নাকচ করে দিলেন। অথচ নাটক বা সিনেমায় অভিনয় করার আমার কি ইচ্ছে। সারা রাত বিছানায় শুয়ে কাঁদতে কাঁদতে বালিশ ভিজিয়ে ফেললাম। কিন্তু বাবা মা-কে মুখ ফুটে অভিনয়ে নামবো এ কথাটি বলতে পারলাম না। এর দুই বছর পর বাবা ক্যান্সারে মারা গেলেন। আমি সে বছর ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিয়েছি কেবল। মা পাড়ার স্কুলের শিক্ষয়িত্রী। ছোট দুটো ভাই কেবল ছোট ক্লাসে পড়ছে। বাবা-র চিকিৎসা খরচেই অনেক পয়সা চলে গেছে। তার উপর বাবাই ছিলেন সংসারের মোটা রোজগেরে। পুরো পরিবার যেনো ধসে গেলো। মা সারাদিন আহাজারি করেন। পত্রিকায় একদিন বিজ্ঞাপন দেখলাম। এক পরিচালক নতুন ভিন্নধর্মী ছবির জন্যে নতুন মুখ খুঁজছেন। মা -কে না জানিয়ে আবেদন করে দিলাম। প্রা দশ হাজার মেয়ের থেকে বাছাইয়ে প্রাথমিক বাছাইয়ে উঠে এলাম। ধাপে ধাপে নানা পরীক্ষা। মা-কেও বলতে হলো। কি ব্যাপার মকবুল সাহেব আপনি তো কিছুই খাচ্ছেন না। " শ্রেয়া মকবুল সাহেবের সামনে পাপড়ের বকের মত সাদা বাটিটা এগিয়ে দিলো। মকবুল সাহেবের চোখ খুব লুকিয়ে লুকিয়ে শ্রেয়ার চোখ,মুখ,বুক,পিঠ দেখছে। ব্যাস তারপর বাছাইয়ে আমিই নির্বাচিত হই " জীবন ও জীবিকা" ছবির মূল নায়িকা হিসেবে। পরিচালক তারিকুল ইসলাম ছবি তৈরির আগেই বিরাট প্রচার করেন। ছবির গল্প, অভিনেতা অভিনেত্রীদের। আমার বয়স তখন কেবল আঠারো । এই ছবি রিলিজ পাওয়ার পর সুপারহিট। অনেকেই বলে বাংলা সিনেমা জগতে এত সুন্দর নায়কা আমার আগে আর আসেনি। সুন্দর মুখশ্রীর পাশাপাশি আমার খোলামেলা পোশাক ছিল অনেকের জন্যেই এক বাড়তি আকর্ষণ। " শ্রেয়া-কে থামিয়ে দিয়ে মকবুল সাহেব বলে ওঠেন, " কিন্তু সে সময়ে এমন কথাও তো শোনা যায় যে চরিত্রটির সাথে আপনার বয়স ছিল বেমানান। চরিত্রের প্রয়োজনে নয় অনেকটা ইচ্ছে করেই সস্তা জনপ্রিয়তা আর তারিকুল ইসলাম অকারণেই আপনার দেহের লোভনীয় অংশ দেখিয়ে ছবি হিট করাতে চেয়েছেন। আপনার শরীর ছিল পুরোই চরিত্রের সাথে বেমানান। মানে অনেকটাই অপরিণত শরীর। কিন্তু কাঁচা বয়স খুলেমেলে দিয়েই নাকি তিনি অনেকটা রগরগে আকর্ষণে ডুবিয়ে রাখতে চেয়েছেন দর্শকদের। ব্যাপারটাতে আপনিও একটুও কুন্ঠাবোধ করেননি। এমন কি ব্লাউজ না পরেই অভিনয় করেছেন কয়েকটি দৃশ্যে। আপনার বুকের প্রায় অর্ধেকটাই বড় পর্দায় দেওখা গেছে। আপনি নিজেও শোনা যায় আরো বেশি উৎসাহী ছিলেন নিজেকে উন্মুক্ত করে দিতে। " শ্রেয়া মুখ নীচু করে থাকলো কিছু সময় । কিছু বলার আগে ভ্রু কুটি করে কি যেন চিন্তায় ডুবে গেলো। মকবুলকে না বুঝতে দিয়ে নিজের শরীরের দিকে একবার তাকিয়ে দেখলো। কি সুন্দর শরীর তার। এখন চিকন কটি আর নেই। কোমর মোটা হয়ে গেছে। বুক যেনো নেমে যাচ্ছে। নিজের দিকে তাকালে মুখেই যা একটু সৌন্দর্যের বালাই রয়েছে। অথচ এক সময় পরিচালকেরা তার অভিনয়ের পাশাপাশি দর্শকরা তার শরীর চোখ দিয়ে চেটেপুটে খায় এমন কথা বলেই কত কত টাকার বিনিময়ে নতুন ছবিতে সই করিয়েছে। শ্রেয়া নিজেও শরীর দেখানোর ব্যাপারে অনেকটাই ছিল আগ্রহী। মকবুল সাহেব সিংারায় কামড় বসিয়ে বললেন, " আপনার সম্পর্কে খুব বেশি স্ক্যান্ডাল বাজারে শোনা যায় না। কিন্তু তারিকুল ইসলামের প্রথম ছবি করার সময় তাঁকে আর আপনাকে নিয়ে অনেক কিছু শোনা যায়। কিন্তু তারিকুল ইসলাম অনেক বেশি প্রভাবশালি থাকার কারণে অনেক একান্ত খবর পত্রিকায় আসতে পারেনি। তবু ছিটে ফোটা যে আসে নি বা আপনাদের সম্পর্কে যে সত্যতা ছিল না এমনটা নয়। " শ্রেয়ার মুখ চকিতেই যেন কেমন বিবর্ণ হয়ে আবার স্মিত হাসি ফিরে এলো। একটু হেসে বলল, " তারিকুল ইসলাম আমাকে খুঁজে বের করেছেন। ওনার ছবিতে প্রথম সুযোগ দিয়েছেন। আমি সত্যি কৃতজ্ঞ। ছবির শুরুতেই আমার আসা নিয়ে নানা চটকদার খবর তৈরি করে খবরের কাগজ কাটতির জন্যে অনেক কিছুই লিখতে শুরু করে। আমার মনে আছে শুরুতেই আমার চরিত্র নিয়ে বাজে রিপোর্ট করে একটা পত্রিকা। আমি কেঁ