HB Rita

HB Rita কলম ও কবিতা-আমার প্রাণশক্তি! কবি, লেখক, কলামিষ্ট, সাংবাদিক, শিক্ষক

ভয়টা মানুষএইচ বি রিতাজঙ্গলে বাঘ থাকে, জানি।ক্ষুধা লাগলে খায়,পেট ভরলে ঘুমায়।ওরা হিসাব রাখে না।ভয় পেও না কুকুরটাকে,ও ঘ...
09/13/2026

ভয়টা মানুষ
এইচ বি রিতা

জঙ্গলে বাঘ থাকে, জানি।
ক্ষুধা লাগলে খায়,
পেট ভরলে ঘুমায়।
ওরা হিসাব রাখে না।

ভয় পেও না কুকুরটাকে,
ও ঘেউ ঘেউ করে, কামড়ায় না যদি না তুমি
ওর বাচ্চার দিকে হাত বাড়াও।
ভয় পেও না সাপটাকে,
ওর রাস্তা ছেড়ে দিলে সেও রাস্তা ছেড়ে দেয়।

আসল জানোয়ারটা জঙ্গলে থাকে না, বাছা!
আসলটা থাকে ঘরে -
ডাইনিং টেবিলে বসে থাকে,
তোমার ভাতের থালা থেকে ভাগ নেয়,
আর হাসতে হাসতে তোমার স্বপ্নটা চিবিয়ে খায়।
ওটা বাইরে ডাকে না, দরজা খুলেই ঢোকে,
চাবি ওর কাছেই থাকে।
বাঘ ক্ষুধায় মারে,
ও মারে অভ্যাসে।

আসল জানোয়ারটা থাকে প্রধান সড়কের বারে,
হাসিমুখে বসে থাকে।
টাই পরে, জুতো পালিশ করে,
তোমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে পিঠে ছুরি ঢুকায়।

আমি রাত ৩টায় ডেট্রয়েটের গলিতে হেঁটেছি,
রাত ২টায় ঢাকার গলিতে পা রেখেছি।
নেকড়ে দেখেছি, ভয় লাগেনি।
ভয় লেগেছে মানুষ দেখে -
যে দুই টাকার জন্য বন্ধুকে বিক্রি করে দেয়,
যে প্রার্থনার পরেই মিথ্যা বলে,
যে ভালোবাসি বলে গলা টিপে ধরে।

পশুরা মারে বাঁচার জন্য।
মানুষ মারে মজা করার জন্য।

তাই জঙ্গলে গেলে নিশ্চিন্তে ঘুমাও।
শহরে গেলে এক চোখ খোলা রেখো।

ফাইল: জুলাইএইচ বি রিতাসে বলল, তুমি তো জুলাই লালবদর।আমি শুনলাম।আবার বলল, তুমি জুলাই জঙ্গি।শুনলাম।তার আগেও তারা বলেছে - রা...
09/13/2026

ফাইল: জুলাই
এইচ বি রিতা

সে বলল, তুমি তো জুলাই লালবদর।
আমি শুনলাম।
আবার বলল, তুমি জুলাই জঙ্গি।
শুনলাম।
তার আগেও তারা বলেছে - রাজাকার।
শুনেছি।

একটা বাল্ব ঝুলছে।
সস্তা হোটেলের ঘর। বাইরে বৃষ্টি।
টেবিলে ঠান্ডা চা, অ্যাশট্রেতে আধপোড়া সিগারেট।
লোকটা আমার ফাইলটা উল্টায় আর একটা করে
স্ট্যাম্প মারে।
লালবদর।
জঙ্গি।
রাজাকার।
আমি কিছু বলি না। শুনি।

কারণ আমি জানি, এই খেলাটা নতুন না।
১৬৯২ সালে সালেমে তারা মেয়েদের বলেছিল - ডাইনি।
ফাঁসিতে ঝোলালেই শহর পবিত্র হবে।
১৯৫০ সালে আমেরিকায় ম্যাকার্থি বলেছিল - কমিউনিস্ট।
লিস্টে নাম উঠলেই চাকরি শেষ, জীবন শেষ।
১৯৭১ সালে এই মাটিতেই তারা বলেছিল - রাজাকার।
একটা শব্দ দিয়েই মানুষটাকে মানুষ থেকে বাদ দিয়ে
দেওয়া যায়।

২০২৪। শব্দটা বদলেছে।
জুলাই। জঙ্গি। লালবদর।

শব্দ বদলায়। স্ট্যাম্প বদলায়।
কিন্তু যে হাতটা স্ট্যাম্প মারে, সেই হাতটা একই থাকে।
ভয় পাওয়া হাত।

সে ভাবে, নাম দিলেই আমরা ছোট হয়ে যাবো।
সে জানে না, ইতিহাসে যাদের নাম দেওয়া হয়েছে,
তারাই ইতিহাস হয়েছে।

তাই সে বলল। আমি শুনলাম।

আমি এখনো এখানেই দাঁড়িয়ে আছি।
তার স্ট্যাম্পের কালি ধুয়ে গেছে,
আমার গায়ে রক্তবৃষ্টির দাগ লেগে আছে।

09/12/2026

Inspired me!

09/12/2026

লিপস্টিক
এইচ বি রিতা

ওরা বলেছিল,
বিচ্ছেদ হলে গান শুনতে নেই
চোখ ফোলাতে হয়।
ওরা বলেছিল,
অসুখের দরজায় লিপস্টিক লাগাতে নেই।
মাথা নিচু করতে হয়।

আমি শুনিনি।

বিচ্ছেদের পরদিন আমি ডাইনারে গেছি।
জুকবক্সে পুরনো গান বাজছে।
আমি কফি অর্ডার করেছি,
আর পা নাড়িয়েছি।
বয়টা তাকিয়ে ছিল,
আমি বলেছি, বাজতে দাও।

অসুখের দরজাটা খোলা ছিল,
ডাক্তারের বিল, রিপোর্ট, রাত জাগা।
আমি দরজার সামনে আয়না রেখেছি।
লাল লিপস্টিক লাগিয়েছি।
একদম টকটকে লাল।

কারণ আমি ইতিহাসে একজনকে চিনি।
ফ্রিদা।
তার শরীর ভাঙা ছিল,
মেরুদণ্ডে পেরেক।
সে বিছানায় শুয়ে শুয়েও
ঠোঁটে লাল রং লাগাত,
আয়নায় নিজেকে আঁকত।
ওরা তাকেও বলেছিল,
অসুখের মেয়েরা ছবি আঁকে না।
সে এঁকেছিল।

তাই আমি জানি,
দরজাটা অসুখের হতে পারে,
জীবনটা আমার।

09/12/2026

পীলাতের হাত ধোয়া
এইচ বি রিতা

শহরে আগুন লেগেছে।
কেউ লাগায়নি,
সবাই বলে অন্য কেউ লাগিয়েছে।

মেয়র বলে, আগের মেয়র।
আগের মেয়র বলে, জনগণ।
জনগণ বলে, বাতাস।
আমি ডাইনারে বসে খবর দেখি।

হেডলাইন - "দোষী খোঁজা হচ্ছে।"
ছবিতে একটা হাত,
জল ঢালছে।

দুই হাজার বছর আগে একজন লোক ছিল,
পীলাত।
সে হাত ধুয়েছিল।
বলেছিল, আমি না।
তারপর থেকে সবাই হাত ধোয়।
কেউ আগুন নেভায় না।

বাইরে এখনো ধোঁয়া।
ভেতরে সবাই পরিষ্কার হাত নিয়ে বসে আছে।

09/11/2026

নামটা মনে পড়ে না আর
এইচ বি রিতা

নামটা মনে পড়ে না আর।
ড্রাইভিং লাইসেন্সে একটা নাম আছে,
মেইলবক্সে আরেকটা।
কোনোটাই আমার না।

রাত দুটোয় বদভ্যাসের কফি ঠান্ডা হয়ে যায়।

বাইরে বৃষ্টি।
আমি আয়নায় তাকাই।
মেয়েটা তাকিয়ে থাকে।
আমি বলি, "তোর নাম কি?"
ও বলে না।
ওর ঠোঁটে লিপস্টিক লেগে আছে,
কালকের।

আমি একটা নাম খুঁজি।
ড্রয়ারে, পুরনো বিলের ভেতর,
একটা ওয়েল্ডিং মাস্কের নিচে।
কোথাও নেই।

তালা দুটো ঠিক আছে।
দরজা বন্ধ।
কিন্তু নামটা, নামটা কোথাও নেই।

আমি নিজেকে একটা নতুন নাম দিই।
হেলেনা।
না, রিটা।
না, থাক।
আজ রাতে কোনো নাম লাগবে না।

আজ রাতে শুধু স্পার্ক লাগবে।
লোহা আর আগুন।

09/08/2026

পরকীয়ার একাধিক কারণের প্রধান কারণটি হল-স্বামী স্ত্রীর যৌনতৃপ্তি ও মানসিক প্রশান্তির অভাব। এগুলো ফিক্স করুন। সমাজের নোংরাব‍্যাধি নিরাময় হবে কিছুটা হলেও। অভাব থাকলে ধর্মনীতি খাটেনা।

এই তো পরশুর ঘটনা। পরকীয়া সন্তেহে বরিশালের সুমি আক্তারকে দিনভর পিটিয়ে হত‍্যা করলেন স্বামী রাসেল হাওলাদার। সে ভিডিও আবার ভ...
09/08/2026

এই তো পরশুর ঘটনা। পরকীয়া সন্তেহে বরিশালের সুমি আক্তারকে দিনভর পিটিয়ে হত‍্যা করলেন স্বামী রাসেল হাওলাদার। সে ভিডিও আবার ভাইরাল হল। অথচ পরকীয়ার কোনো প্রমাণ নেই। মেয়েটা পিটানি খেতে খেতে বার বার দরূদ পড়ছিল আর বলছিল, "আমি কিছু করিনাই।"

একদল পরহেজগার আবার "পরকীয়ার উচিত শাস্তি" বলে সোশ‍্যাল মিডিয়ায় এই নৃশংসতাকে বৈধতা দিচ্ছেন। তো জনাব, আপনারা যখন পরকীয়া করেন, তখন আপনাদেরকেও তো এভাবে‌ই পিটিয়ে হ*ত‍্যা করা জায়েজ হয়ে পড়ে, তাই না? নাকি আপনাদের জন‍্য ভিন্ন হাদিস?

পরকীয়া যেন সমাজে ক‍্যান্সারের মতো ছড়াচ্ছে। রোজ পত্রিকার পাতায় উঠে আসছে পরকীয়ার ভয়ানক সব ফলাফল। পরকীয়ার সন্দেহে কখনো স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা, কখনো একই পরিবারে তিনজনকে হত‍্যা, কখনো স্বামীর পরকীয়ায় দুই মেয়েসহ গৃহবধূর আত্মহত্যা, কখনো পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা আবার কখনো পরকীয়ায় প্রেমিকের সাথে মিলে স্বামীকে হত‍্যা!

কি ভয়ানক আজকের বাংলাদেশ!

পরকীয়া সংক্রমন কেন ছড়াচ্ছে-তার নির্দিষ্ট ব‍্যাখ‍্যা দেয়া মুশকিল। কেননা পরকীয়া এবং তাকে কেন্দ্র করে ঘটে চলা পারিবারিক ও সামাজিক সহিংসতার পেছনে গভীর মানসিক, পারিবারিক ও সামাজিক জটিলতা কাজ করে।
যেমন: দাম্পত্য জীবনে মানসিক ও শারীরিক সন্তুষ্টির অভাব,
সামাজিক মাধ্যম ও প্রযুক্তির অপব্যবহার, জোরপূর্বক বা অমিল বিয়ে, অসুখী বা বিষাক্ত সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সামাজিক ট‍্যাবু; বিয়ে ভাঙার সামাজিক ভয়ে মানুষ আলাদা না হয়ে গোপনে বিকল্প সম্পর্কের খোঁজে, সংসার জীবনে দীর্ঘকালীন ভৌগোলিক দুরত্ব, এবং শেষে নৈতিকতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতার শিথিলতা।

পরকীয়া অবশ্যই বিশ্বাসভঙ্গ এবং একটি নৈতিক স্খলন, কিন্তু তার সমাধান কোনোভাবেই হত্যা করা কিংবা নিজে আত্মহত‍্যা করা-হতে পারেনা।
কাজেই পরকীয়াকে ঘৃণা করার বদলে বা সন্দেহের বশে বিচার নিজের হাতে তুলে নিয়ে মধ্যযুগীয় বর্বরতা দেখানোর বদলে, আমাদের উচিত সম্পর্কের এই ফাটলগুলোর গোড়ায় হাত দেওয়া।

যেখানে সম্পর্কের প্রাণ নেই, পারস্পরিক শ্রদ্ধা নেই, সেখানে জোর করে দায় চাপিয়ে রাখার চেয়ে সম্মানজনক বিবাহ বিচ্ছেদ অনেক বেশি মানবিক।

পরম পরমেষু পিতা হালিম মিয়া ঘোষণা করিলেন,বাইরের পৃথিবী বড়ই পঙ্কিল।সেথায় হিংস্র শ্বাপদের অবাধ বিচরণ।অতএব কন্যার নিরাপত্তার...
09/07/2026

পরম পরমেষু পিতা হালিম মিয়া ঘোষণা করিলেন,
বাইরের পৃথিবী বড়ই পঙ্কিল।
সেথায় হিংস্র শ্বাপদের অবাধ বিচরণ।
অতএব কন্যার নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি চৌকাঠে তালা ঝুলাইলেন,
বাইরের কোনো শ্বাপদকে ভেতরে ঢুকিতে দিলেন না।

অতঃপর তিনি নিজেই ভেতরে রহিয়া গেলেন।

ছয় মাস। খুব বেশি সময় তো নহে,
মাত্র একশত আশিটা দিন।
এই সামান্য সময়ে তিনি প্রমাণ করিয়া ছাড়িলেন,
বাইরের শ্বাপদ আটকাইতে হইলে ঘরের ভেতর একটি
স্থায়ী শ্বাপদ পুষিয়া রাখাই সর্বোত্তম পদ্ধতি।

এলাকাবাসী তাহাকে বড় ভদ্রলোক বলিয়া জানে।
তিনি কারো সাথে চড়া গলায় কথা বলেন না,
নিয়মিত পবিত্রতার বয়ান দেন।
তাহার সেই পবিত্রতার ঘন ছায়াতলে পিষ্ট হইয়া
কন্যা ধীরে ধীরে নিজের নামখানা পর্যন্ত ভুলিয়া গেল।

এখন প্রশ্ন হইল—সুখানুভূতি কেমন ছিল জনাব?
পরম তৃপ্তি হইয়াছিল কি?
আপনি উত্তর দিবেন না, জানি।
কারণ পরম পরমেষুরা কখনো কৈফিয়ত দেয় না,
তাহারা কেবল বাণী দেয়।

আমি অবশ্য তাহাকে কোনো গালি দিতে রাজি নই;
গালিমন্দ শুনিলে ভদ্র সমাজের আবার চুলকানি
শুরু হইয়া যায়।
বাজারে ঔষুধপত্রের যা চড়া দাম,
তাহাদের এমন বিপদে না ফেলাই উত্তম।

আমি তাহাকে বলি নাই শুয়োর,
বলি নাই হারামজাদা, নমরুদ, ফেরাউন কিংবা ইবলিশ।

এমনকি ইংরেজি গালাগালও আমার মুখে আসে নাই -
চোখের সামনে ভাসে নাই -
ফাক, শিট, এসহোন, কান্ট, বাগার, বিচ্ কিংবা
মাদারফাকার-এর মতো কোনো চলতি বুলি।

কোনো অভিধানই তাহার যোগ্য নহে;
ভণ্ডামির মুখে থুথু ফেলিবার জন্য
শব্দ যথেষ্ট নহে -একখানা সম্পূর্ণ নরক প্রয়োজন।

কি অদ্ভুত, তাই না?এইচ বি রিতা------আমার বিড়ালটা কাল মরে গেল।ব্যাস, মরে গেল।আমি মাটিতে বসে কাঁদলাম একটা বাচ্চার মতো।এক গ...
09/05/2026

কি অদ্ভুত, তাই না?
এইচ বি রিতা
------

আমার বিড়ালটা কাল মরে গেল।
ব্যাস, মরে গেল।
আমি মাটিতে বসে কাঁদলাম একটা বাচ্চার মতো।
এক গোঙানি—যেন গলার ভেতর জমাট রক্তের স্বাদ।

সেভেনে পড়ি তখন।
আব্বা কুড়িয়ে আনল এক ছেলে।
বয়স আট।
বিছানা ভাসাত।
আমি তার হাগু পরিষ্কার করেছি, নিজের হাতে।
দুই বছর পর তার বাবা-মা এলো, নিয়ে গেল।
আমি এক সপ্তাহ কেঁদেছি।
একটা আস্ত সপ্তাহ।

২০২৫। মার্চ। মাগুরা।
আট বছরের আছিয়া মরে গেল।
নিপীড়ন আর হত্যায়।
তাকে চিনি না।
তবু কেঁদেছি।
আট বছর বয়সটা আমার মাথায় আটকে আছে।

জুলাইতে দেশে লাশ পড়ল।
টিভিতে লাশের সারি,
রাস্তায় রক্ত।
আমি চিনি না তাদের, তবু কেঁদেছি।

ওসমান হাদিকে মারলো।
আমি এখনো কাঁদি।
একটা মানুষ, যাকে আমি সামনে থেকে দেখিওনি,
তার জন্য বুকটা খালি লাগে।

ওহ! বলা হয়নি
আমার ভাইটা- রক্তের ভাই
গুলি। চাপাতি। রক্ত।
ফালা ফালা শরীর।
এখনো কাঁদি। তারজন‍্য রোজ রাতে।

অথচ আমার নিজের আয়ু?
রোজ একটু করে কমছে।
চামড়া পুড়ছে
নখ-দাঁত হলুদ হচ্ছে,
ড্রেনে জমছে চুল।
ঘুম কমছে, সময় শেষ হচ্ছে।
আয়নায় দাঁড়াই।
চোখ শুকনো খটখটে। পাথর।
এক ফোঁটা জল নেই।
এক ফোঁটাও নেই।

কি অদ্ভুত, তাই না?

Address

New York, NY

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when HB Rita posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to HB Rita:

Shortcuts

Share