08/27/2026
কিছু ভ্রমণ আছে, যেগুলো মানুষকে উত্তেজিত করে। বুকের ভেতর অ্যাড্রেনালিন ছুটতে থাকে, মস্তিষ্কে ডোপামিনের বান ডাকে, চারপাশের সৌন্দর্য দেখে বারবার মনে হয়, অবিশ্বাস্য! আমি সত্যিই এখানে!
সেসব ভ্রমণ শেষে আমরা অনেক ছবি নিয়ে ফিরি, অনেক গল্প নিয়ে ফিরি। মনে হয়, পৃথিবীর কোনো এক দুর্লভ জায়গায় নিজের পায়ের ছাপ রেখে এলাম। পাহাড়ের চূড়ায় না উঠেও কখনো কখনো মনে হয়, যেন এভারেস্ট জয় করে ফেলেছি।
কিন্তু এবার আমার তেমন কোনো উন্মাদনার প্রয়োজন ছিল না।
আমি খুঁজছিলাম অন্য কিছু।
এমন এক আনন্দ, যে আনন্দ চিৎকার করে নিজের অস্তিত্ব জানান দেয় না, নিঃশব্দে বুকের কোনো এক গোপন কুঠুরিতে জমে থাকে। এমন এক ভ্রমণ, যেখানে কোথাও পৌঁছে যাওয়ার চেয়ে পথের মধ্যে থেমে যাওয়াটাই বেশি জরুরি। যেখানে পৃথিবীকে জয় করার ইচ্ছা জাগে না, বরং এই পৃথিবীর বিশালতার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ক্ষুদ্রতাটুকু টের পাওয়া যায়।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সম্ভবত ভ্রমণের সংজ্ঞাও বদলে যায়।
একসময় নতুন কোনো জায়গায় যাওয়া মানেই ছিল অনেক কিছু দেখা, অনেক ছবি তোলা, যতটা সম্ভব ঘুরে ফেলা। এখন মনে হয়, সবকিছু দেখার দরকার নেই। কখনো একটা পাহাড়ের সামনে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকাই যথেষ্ট। কখনো পথের ধারে বসে থাকা কোনো বৃদ্ধের মুখের ভাঁজে জীবনের গল্প পড়াটাই একটা সম্পূর্ণ ভ্রমণ। কখনো হাজার বছরের পুরোনো একটা পাথরের গায়ে হাত না রেখেও শুধু তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা যায়। মনে মনে ভাবা যায়, আমার জন্মের বহু আগে সে এখানে ছিল, আমার মৃত্যুর বহু পরেও হয়তো এখানেই থাকবে।
এই অনুভূতির কাছাকাছি কোনো কিছুই হয়তো আমি খুঁজছিলাম।
আর অদ্ভুতভাবে, সেটি পেলাম, তবে পাহাড়ের চূড়ায় নয়।
পেলাম পৃথিবীর নিচে।
গ্রীষ্মের উজ্জ্বল একটা সকাল। স্প্রিংফিল্ড তখন রোদে ঝলমল করছে, চারপাশে আলো আর উত্তাপের ছড়াছড়ি। সেই আলো পেছনে ফেলে আমরা যাচ্ছিলাম এমন এক জগতের দিকে, যার নিজস্ব কোনো সকাল নেই, দুপুর নেই, ঋতুর পালাবদলও নেই। পৃথিবীর ওপরে সময় তার চেনা নিয়মে এগিয়ে চলে, অথচ মাটির অনেক নিচে সে যেন অন্য এক ছন্দে হাঁটে। ধীরে, নিঃশব্দে, হাজার হাজার বছর ধরে।
আমাদের গন্তব্য ছিল Fantastic Caverns।
গুহায় ঢোকার আগেই শুনলাম একটি কুকুরের গল্প।
১৮৬২ সাল। জন নক্স নামের এক কৃষক তার জমিতে শিকার করতে গিয়েছিলেন। একসময় তার শিকারি কুকুরটি ছোট্ট একটি ফাটলের মধ্যে ঢুকে গেল। অনেকক্ষণ পরও ফিরে না আসায় নক্স এগিয়ে গিয়ে দেখলেন, ছোট্ট সেই ফাটলের নিচে নেমে গেছে বিশাল এক অন্ধকার গহ্বর।
কুকুরটিকে শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা গেল। কিন্তু নক্স নিজে খুব বেশি দূর এগোলেন না। হাতে সামান্য আলো নিয়ে এমন অন্ধকারের গভীরতা আর কতটাই বা মাপা যায়!
আমার কাছে গল্পটির সবচেয়ে আশ্চর্য অংশ অবশ্য গুহা আবিষ্কার নয়।
আশ্চর্য হলো, এরপর নক্স পাঁচ বছর গুহাটির কথা কাউকে বলেননি।
তখন আমেরিকায় গৃহযুদ্ধ চলছে। মিসৌরির মাটিতে ইউনিয়ন ও কনফেডারেট দুই পক্ষেরই আনাগোনা। গুহার অস্তিত্ব জানাজানি হলে কোনো পক্ষ হয়তো এখানে এসে সল্টপিটার সংগ্রহ করবে, আর তা দিয়ে তৈরি হবে বারুদ।
তাই নক্স চুপ করে রইলেন।
মানুষ সাধারণত গুপ্তধন পেলে লুকিয়ে রাখে নিজের জন্য। নক্স লুকিয়ে রেখেছিলেন একটা অন্ধকার গুহা। যেন মানুষের যুদ্ধ থেকে পৃথিবীর নিচের এই নীরব পৃথিবীটুকুকে বাঁচিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন।
পাঁচ বছর পর যুদ্ধ শেষ হলো।
১৮৬৭ সালে নক্স স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিলেন। কেউ কি তার আবিষ্কৃত গুহাটি ঘুরে দেখতে আগ্রহী?
এরপরের ঘটনাটি আরও সুন্দর।
সেই আহ্বানে প্রথম সাড়া দিয়েছিলেন কোনো বিখ্যাত অভিযাত্রী নন, কোনো দুঃসাহসী পুরুষের দলও নয়। এসেছিলেন Springfield Women’s Athletic Club-এর বারো জন নারী।
১৮৬৭ সাল।
আজ থেকে প্রায় একশো ষাট বছর আগে।
ভাবতেই অবাক লাগে, যে সময় নারীদের জীবন আজকের তুলনায় কত বেশি সীমাবদ্ধ ছিল, সেই সময় বারো জন নারী দড়ি, মই আর লণ্ঠন নিয়ে নেমে পড়েছিলেন সম্পূর্ণ অজানা এক অন্ধকারের মধ্যে।
সামনে কী আছে, তারা জানতেন না।
পায়ের নিচে ভেজা পিচ্ছিল পাথর, মাথার ওপরে অন্ধকার ছাদ, হাতে টলমলে লণ্ঠনের আলো। সেই সামান্য আলোয় তারা এক পা, দুই পা করে এগিয়ে গিয়েছিলেন।
আর যাওয়ার পথে গুহার দেয়ালে নিজেদের নাম লিখে রেখেছিলেন।
গাইড যখন সেই নামগুলো দেখালেন, আমি কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে ছিলাম। সময়ের সঙ্গে ম্লান হয়ে আসা কয়েকটি নাম এখনও পাথরের গায়ে রয়ে গেছে।
একশো ষাট বছর আগে কেউ একজন হাত বাড়িয়ে ওই অন্ধকার দেয়ালে নিজের নাম লিখেছিল।
হয়তো তারও মনে হয়েছিল,
আমি এখানে ছিলাম।
এই অন্ধকারের ভেতর দিয়ে আমিও একদিন হেঁটে গিয়েছিলাম।
কেউ যেন আমাকে পুরোপুরি ভুলে না যায়।
মানুষের এই পৃথিবীতে থেকে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বড় অদ্ভুত। কেউ সন্তান রেখে যায়, কেউ বই, কেউ বাড়ি, কেউ ছবি। আর কেউ কেউ অন্ধকার গুহার দেয়ালে নিজের নামের কয়েকটি অক্ষর রেখে যায়।
তারপর আমাদের পালা।
আমরা উঠে বসলাম জিপের টানা ছোট্ট একটি ট্রামে। Fantastic Caverns-এর বিশেষত্বই হলো, এখানে গুহার ভেতরটা হাঁটতে হয় না। ট্রামে বসেই পুরো পথ ঘুরে দেখা যায়।
প্রবেশমুখটা খুব বড় নয়।
ট্রামটি ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকতে শুরু করল। কয়েক সেকেন্ড আগেও মাথার ওপরে ছিল ঝলমলে আকাশ। তারপর একসময় পেছনে পড়ে গেল দিনের শেষ আলোটুকুও।
অন্ধকার আমাদের গিলে ফেলল।
সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রার পরিবর্তনটা টের পেলাম। বাইরে মিসৌরির গ্রীষ্ম, অথচ ভেতরে সারা বছর তাপমাত্রা প্রায় ৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইট, অর্থাৎ প্রায় ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বাইরের পৃথিবীতে তখন গ্রীষ্ম চলছে।
কিন্তু
এখানে কোনো গ্রীষ্ম নেই। শীতও নেই।
পৃথিবীর নিচে সময় যেন নিজের জন্য আলাদা নিয়ম বানিয়ে নিয়েছে।
আর ভেতরে ঢুকেই যে জিনিসটি আমাকে সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করল, তা কোনো বিশাল পাথর নয়।
নিস্তব্ধতা।
শহরে থেকেও আমরা কখনো সত্যিকারের নীরবতা শুনি না। কোথাও গাড়ির শব্দ, কোথাও এসির গুঞ্জন, কোথাও ফোনের নোটিফিকেশন, কোথাও মানুষের কথা।
এখানে সেসব কিছুই নেই।
শুধু দূরে কোথাও একটি জলের ফোঁটা পাথরের গায়ে পড়ছে।
টপ... টপ... টপ...
সেই ক্ষুদ্র শব্দের দিকে কান পাততে পাততে মনে হলো, এই ফোঁটাগুলো কত নিরীহ। অথচ হাজার হাজার বছর ধরে তারাই এই গুহার ভেতরের পৃথিবীটাকে গড়ে তুলছে।
এক ফোঁটা জল সামান্য ক্যালসাইট রেখে যায়। তারপর আরেক ফোঁটা। তারপর আরেকটি।
একটি মানুষের জীবন শেষ হয়ে যায়, আর পাথর হয়তো তত দিনে কয়েক মিলিমিটার বড় হয়।
আমরা সময়কে বছর দিয়ে মাপি।
গুহা সম্ভবত সময়কে মাপে জলের ফোঁটা দিয়ে।
মাথার ওপর থেকে ঝুলে আছে স্ট্যালাকটাইট। মেঝে থেকে ধীরে ধীরে উঠে এসেছে স্ট্যালাগমাইট। কোথাও হাজার বছরের অপেক্ষার পর ওপর আর নিচের দুটি গঠন একে অন্যকে ছুঁয়েছে, তৈরি হয়েছে বিশাল কলাম।
কী অদ্ভুত!
দুটি পাথরের একে অন্যের কাছে পৌঁছাতে হাজার হাজার বছর লেগে যেতে পারে।
মানুষের জীবনে আমরা কত তাড়াহুড়ো করি! কত কিছু আজই চাই, এখনই চাই।
আর এখানে একটি জলের ফোঁটার কোনো তাড়া নেই।
তার হাতে অনন্ত সময়।
ট্রাম একসময় ঢুকে পড়ল বিশাল একটি কক্ষে। এর নাম Hall of Giants।
নামটা যেন জায়গাটার জন্যই তৈরি।
মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত বিশাল পাথরের গঠনগুলো দাঁড়িয়ে আছে। কোনোটা মনে হয় পাথরের বৃক্ষ, কোনোটা প্রাচীন প্রাসাদের স্তম্ভ। আলো ছায়ার খেলায় একটি গঠনকে দূর থেকে মনে হচ্ছিল বিশাল কোনো মুখ। অন্ধকার থেকে সামনের দিকে ঝুঁকে আছে, যেন কয়েক হাজার বছর ধরে কোনো কথা বলার অপেক্ষায়।
গাইড বললেন, যেসব গঠনের ওপর এখনও জল পড়ছে, সেগুলো এখনও বাড়ছে। কোথাও ক্রিস্টালের মতো উজ্জ্বল সাদা অংশ দেখা যায়। আর যেসব জায়গায় জল আসা বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলোর বৃদ্ধি থেমে গেছে।
শুনতে শুনতে মনে হলো, পাথরেরও বুঝি জীবন আছে।
কেউ বাড়ছে। কেউ থেমে গেছে। কেউ হাজার বছর ধরে অপেক্ষা করছে আরেকটি জলের ফোঁটার জন্য।
আর আমরা মানুষ, কয়েক দশকের জীবন নিয়ে তাদের সামনে দিয়ে চলে যাচ্ছি।
এরপর এল Auditorium।
প্রকৃতি নিজেই যেন পাথর কেটে বিশাল একটি মিলনায়তন তৈরি করে রেখেছে। এই কক্ষের শব্দগুণ এতটাই চমৎকার যে একসময় এখানে নিয়মিত কান্ট্রি মিউজিকের অনুষ্ঠান হতো। পাথরের দেয়ালে সুর প্রতিধ্বনিত হতো, আর অন্ধকারের মধ্যে বসে মানুষ গান শুনত।
আমি চোখ বন্ধ করে দৃশ্যটা কল্পনা করার চেষ্টা করলাম।
চারপাশে কোটি বছরের পাথর। মাথার ওপরে অন্ধকার। তার মাঝখানে মানুষের কণ্ঠ।
কিছু সময়ের জন্য সংগীত এসে সেই প্রাচীন নীরবতার ভেতর বাসা বাঁধছে।
আজ আর সেই কনসার্ট নেই। কক্ষটি আবার নীরব।
হয়তো এটাই স্বাভাবিক।
মানুষের গান একসময় থেমে যায়।
পাথরের নীরবতা থেকে যায়।
গাইড আরও বললেন, গুহার নিচের স্তরে এমন কিছু প্রাণী বাস করে, যাদের পৃথিবী আমাদের পৃথিবীর মতো নয়। সেখানে আছে চোখহীন ছোট্ট কেভফিশ, গ্রোটো স্যালাম্যান্ডার, ব্লাইন্ড ক্রেফিশ, কেভ ক্রিকেট। কোনো কোনো সময় ছাদে বাদুড়ও দেখা যায়।
এই প্রাণীগুলোর কেউ কোনোদিন সূর্যোদয় দেখেনি। তারা জানে না নীল আকাশ কী। জানে না সকালের রোদ কেমন লাগে।
তবু তাদের জীবন অসম্পূর্ণ নয়।
তাদের পৃথিবী অন্ধকার, আর সেই অন্ধকারের জন্যই তাদের শরীর নিজেকে বদলে নিয়েছে।
ভাবলাম, জীবন আসলে আলো পাওয়ার নামই শুধু নয়। জীবন হলো যেখানে রাখা হয়েছে, সেখানেই বেঁচে থাকার ভাষা শিখে নেওয়া।
একসময় ট্রাম ঘুরে ফেরার পথ ধরল।
গাইড বললেন, আমরা যে পথ দিয়ে বের হব, সেই দিকেই একদিন জন নক্সের কুকুরটি ঢুকে পড়েছিল।
আমি পেছনে তাকালাম।
একটি কুকুরের কৌতূহল থেকে শুরু হওয়া গল্প!
তারপর একজন কৃষকের পাঁচ বছরের নীরবতা। বারো জন নারীর সাহস। পাথরের দেয়ালে কয়েকটি নাম। গৃহযুদ্ধের ইতিহাস। গুহার ভেতরে সংগীত। অন্ধকারে জন্ম নেওয়া চোখহীন মাছ। আর হাজার হাজার বছর ধরে পড়তে থাকা জলের ফোঁটা।
সবকিছু একই অন্ধকারের মধ্যে পাশাপাশি জমা হয়ে আছে।
তখন বুঝলাম, আমি যে ধরনের ভ্রমণ খুঁজছিলাম, সম্ভবত এটাই সেই ভ্রমণ।
এখানে জয় করার মতো কিছু ছিল না।
কোনো চূড়ায় উঠে পতাকা ওড়ানোর ছিল না। নিজের সাহস প্রমাণ করারও কিছু ছিল না। ছিল শুধু পৃথিবীর অনেক পুরোনো একটি দরজা দিয়ে কিছুক্ষণের জন্য ভেতরে ঢুকে দেখা। আমাদের পরিচিত পৃথিবীর নিচে আরও একটি পৃথিবী আছে।
যে পৃথিবী আমাদের ছাড়াই ছিল।
আমাদের ছাড়াই থাকবে।
বের হওয়ার মুখের কাছে আসতেই প্রথমে দূরে এক টুকরো আলো দেখা গেল। তারপর সেই আলো ধীরে ধীরে বড় হতে লাগল।
একসময় ট্রাম গুহার মুখ পেরিয়ে বাইরে চলে এল।
মিসৌরির গরম বাতাস আবার মুখে লাগল। চোখে এসে পড়ল দুপুরের তীব্র রোদ। কয়েক মুহূর্ত আলোয় চোখ মেলতে কষ্ট হচ্ছিল।
পেছনে ফিরে গুহার মুখটার দিকে তাকালাম।
কী সাধারণ!
বাইরে থেকে দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই, ওই ছোট্ট অন্ধকার মুখের ওপারে কত গল্প জমে আছে।
ঠিক মানুষের মতোই হয়তো।
বাইরে থেকে আমরা একে অন্যকে যতটুকু দেখি, তার চেয়ে অনেক বড় একটা পৃথিবী প্রত্যেকে নিজের ভেতরে বহন করি।
গাড়ির দিকে হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো, কিছু ভ্রমণ সত্যিই আমাদের উত্তেজিত করে, কিছু ভ্রমণ আমাদের আনন্দ দেয়, কিছু ভ্রমণ আমাদের ছবি দেয়।
আর খুব অল্প কিছু ভ্রমণ আছে, যেগুলো আমাদের একটু নীরব করে দেয়।
Fantastic Caverns থেকে বেরিয়ে আমার কোনো এভারেস্ট জয়ের অনুভূতি হয়নি।
বরং উল্টোটা হয়েছে।
মনে হয়েছে, এই পৃথিবী এত পুরোনো, এত বিশাল, এত ধীর, আর তার তুলনায় আমার জীবন কী ভীষণ ছোট।
কিন্তু সেই ছোট হয়ে যাওয়ার অনুভূতির মধ্যেও এক ধরনের শান্তি আছে।
সবকিছু জয় করতে হবে না।
সব রহস্যের উত্তরও জানতে হবে না।
কখনো কখনো পৃথিবীর কোনো এক প্রাচীন অন্ধকারের সামনে নতমুখে দাঁড়িয়ে শুধু এটুকু মেনে নেওয়াই যথেষ্ট,
আমি এসেছিলাম।
কিছুক্ষণ বিস্ময়ে তাকিয়ে ছিলাম।
তারপর চলে গেলাম।
আর আমার চলে যাওয়ার পরও, পৃথিবীর অনেক নিচে, অন্ধকারের মধ্যে জলের ফোঁটাগুলো পড়তেই থাকবে।
টপ... টপ... টপ...
সময় সেখানে ধীর।
কিন্তু থামেনি।