Nusrat Sharmin Nisha

Nusrat Sharmin Nisha যেই কথা কেউ বলে না,সেই কথাটাই বলি।

🤣🤣🤣
06/05/2026

🤣🤣🤣

নিঝুম মজুমদারের একটা ভিডিও দেখলাম, অমি রহমান পিয়ালকে নিয়ে সমানে চেঁচাচ্ছে। পিয়াল নাকি মদ খেয়ে লিভার পচিয়ে ফেলছে।

বুঝলাম না ভাই, তুমি হারপিক খাইতে পারলে পিয়াল মদ খাইতে পারবে না কেন? এইটা কেমন বিচার? মদ কি হারপিকের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর?

আবার দেখলাম অভিযোগ করছে, পিয়ালের ঘরে নাকি গুয়ের গন্ধ।

কী আশ্চর্য! সহযোদ্ধার ঘর থেকে গুয়ের গন্ধ আসলে সেইটা নিয়ে ফেসবুকে চেঁচামেচি করার কী আছে? সোজা তার বাসায় চলে যাবা, পরিষ্কার করে দিয়ে আসবা।

মানে হারপিকের কাজই তো ঐটা। আশ্চর্য!

অতিরিক্ত তেল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও রাজনীতিতে অতিরিক্ত তেল আপনাকে দিবে পদোন্নতি, প্রমোশনসহ আরও কত কি!
06/04/2026

অতিরিক্ত তেল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও রাজনীতিতে অতিরিক্ত তেল আপনাকে দিবে পদোন্নতি, প্রমোশনসহ আরও কত কি!

দাদারা যা শিখাইয়া দিছে তার বাইরে একটা কথাও বলা যাবে না।
06/03/2026

দাদারা যা শিখাইয়া দিছে তার বাইরে একটা কথাও বলা যাবে না।

06/03/2026

অথচ হাদির খুনের সময় মমতাই ছিল ক্ষমতায়। মমতার ক্ষমতা থাকা অবস্থায় খুনি ভারতে গিয়েছে। মমতা এরেস্ট কেন করালো না?

রাজনৈতিক স্বার্থে এখন মমতা দিয়াশলাইয়ের পুরা বাক্সেই আগুন লাগিয়ে বলছে, নাম বলবে না। কিন্তু প্রায় সবই বলে দিছে।

কয়জনের বিচার করবেন?সমস্যাটা এখন আর দুই একজন অপরাধীর না, এটা একটা সামাজিক মহামারি হয়ে গেছে। ঘরে ঘরে বিকৃত মানসিকতার মানুষ...
05/21/2026

কয়জনের বিচার করবেন?

সমস্যাটা এখন আর দুই একজন অপরাধীর না, এটা একটা সামাজিক মহামারি হয়ে গেছে। ঘরে ঘরে বিকৃত মানসিকতার মানুষ তৈরি হচ্ছে, যারা সুযোগ পেলেই শিকার খোঁজে।

ছোট মেয়েরা তাদের চোখে মানুষ না, বস্তু। টসটসে শরীর ছাড়া তারা আর কিছু দেখে না। এটা শুধু নৈতিক অবক্ষয় না, এটা মানসিক পচন।

মাদ্রাসার ছেলেদের দেখলেও তাদের চোখ চকচক করে, এই বাস্তবতা অস্বীকার করে লাভ কী? আমরা যদি সত্যটা না বলি, তাহলে সমস্যার মুখোমুখি হব কীভাবে?

সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হচ্ছে, এই মানসিকতা দ্রুত ছড়াচ্ছে। চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ছে। পরিবার, শিক্ষা, সমাজ কোথাও প্রতিরোধ নেই। বরং অনেক ক্ষেত্রে নীরব প্রশ্রয় আছে।

আমরা এখনো ভাবছি, ঘটনা ঘটলে বিচার করলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কয়টা ঘটনার বিচার করবেন? আর বিচার করলেও, নতুন করে যারা তৈরি হচ্ছে তাদের থামাবেন কীভাবে?

সমস্যার শিকড়ে হাত দিতে হবে।
শিক্ষায়, পরিবারে, সামাজিক সচেতনতায় সব জায়গায় পরিবর্তন আনতে হবে।

না হলে বিচার করতে করতে একসময় দেখবেন, বিচার করার মতো মানুষই আর বাকি নাই।

ড. ইউনূস আজ বিদায় নিলেন এমন একটা জায়গা থেকে, যেখান থেকে এক বছর আগেও বাংলাদেশকে কল্পনা করাই কষ্টকর ছিল।  ভাঙা অর্থনীতি, হ...
02/16/2026

ড. ইউনূস আজ বিদায় নিলেন এমন একটা জায়গা থেকে, যেখান থেকে এক বছর আগেও বাংলাদেশকে কল্পনা করাই কষ্টকর ছিল। ভাঙা অর্থনীতি, হাপাতে থাকা ব্যাংকখাত আর ধসে পড়া আস্থা – এই সবকিছুর মাঝখান দিয়ে তিনি একটা রক্তাক্ত দেশের হাতে অন্তত ন্যূনতম ভরসার মতো একটা হিসাব রেখে গেলেন।

রিজার্ভ, খাদ্য মজুদ আর ঋণের বোঝা ক্ষমতা নেওয়ার সময় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল হাতে–গোনা কয়েক মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান, প্রায় ১৫–১৯ বিলিয়ন ডলারের মতো নিচু এক স্তরে নেমে গিয়েছিল এই সেফটি কুশন।

দেড় বছরের মাথায় সেই রিজার্ভ টেনে তোলা হয়েছে প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি, ২৯ বিলিয়ন ডলারের আশেপাশে – যাতে অন্তত ছয় মাসের খাদ্য আমদানি চালিয়ে নেওয়ার মতো সুরক্ষা থাকে পরের সরকারের জন্য।

এই রিজার্ভ বাড়ানোটা কোনো “জাদু” ছিল না, বরং কড়া মুদ্রানীতি, সুদের হারের কৃত্রিম বাঁধন খুলে দেওয়া, ব্যাংকবোর্ড পাল্টে দেওয়া আর অকারণ খরচে কাটছাঁট – এসব অপছন্দনীয় সিদ্ধান্তের ফল।

একই সময়ে আগের আমলের স্ফীত হয়ে ওঠা সরকারি ঋণ, যা শেখ হাসিনার শাসনামলে কয়েক বছরে ১৪ লাখ কোটি টাকারও বেশি বেড়ে দেশকে চেপে ধরেছিল, তার সুদ–কিস্তি টেনে নেওয়ার ভারও পড়েছে ইন্টেরিম সরকারের ঘাড়ে।

রিজার্ভ জমাতে জমাতে, সেই পুরোনো ঋণের ঘা সামলাতে সামলাতে, নিত্যপণ্যে ভর্তুকি দিয়ে বাজার ঠান্ডা রাখার চেষ্টা – সব মিলিয়ে সময়টা ছিল এমন, যেখানে টাকা জমানোর চেয়ে টিকে থাকাটাই আসল চ্যালেঞ্জ ছিল।

ভাঙা দেশটাকে টেনে তোলার চেষ্টা যে বাংলাদেশটাকে তারা হাতে পেয়েছিল, সেটা ছিল “দুর্বাঘাসের মতো নেতিয়ে পড়া” – রাজনৈতিকভাবে, অর্থনৈতিকভাবে, নৈতিকভাবেও।

ব্যাংকের ভেতরে খারাপ ঋণ, বাইরে ডলার–সংকট, এর মধ্যে আইএমএফের কড়া শর্ত, আর সবার উপর মানুষের নরম কিন্তু গভীর অবিশ্বাস – এই সব মিলিয়ে দেশের হাঁপ ধরা অবস্থা।

এই অবস্থায় ইন্টেরিম সরকার প্রথমে মরার গাছে পানি দেওয়ার চেষ্টা করেছে – ব্যাংকিং সেক্টরে পরিচ্ছন্নতা আনতে, অকারণ উন্নয়ন–প্রকল্প গুছিয়ে ফেলতে, আমদানির বিল মেটাতে, আর গরিবের বাজার যেন একেবারে ভেঙে না যায় – তার জন্য নিত্যপণ্যের ওপর শুল্ক কমানো, খাদ্য আমদানিতে এলসি শিথিল করা, বাজারদর নিয়ন্ত্রণে সরাসরি হস্তক্ষেপের মতো অপছন্দনীয় কিন্তু প্রয়োজনীয় কাজ করেছে।

তার বিনিময়ে যে সাধারণ মানুষের কষ্ট এক ঝটকায় কমে গেছে – তা না, কিন্তু পুরো ভেঙে পড়াটাও যে ঠেকানো গেছে, সেই ক্রেডিট একেবারেই শূন্য নয়।

ক্ষমতার লোভ নয়, কাজের সুযোগ চাওয়াড. ইউনূস শুরু থেকেই বলেছেন, তিনি ক্ষমতার চেয়ার না, দায়িত্ব পেতে রাজি হয়েছেন – তাও ছাত্রদের অনুরোধ, রাজনৈতিক সমঝোতা আর নির্দিষ্ট সময়সীমার শর্তে।

তাঁর নিজের ভাষায়, এ ছিল “স্টেট রিপেয়ারিং মিশন”; বাইরে থেকে বিনিয়োগ আনবেন, বড় দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক মেরামত করবেন, আর ভেতরে রাজনৈতিক দল, আমলা, সেনাবাহিনী–পুলিশ সবাই মিলে ঘরটা গুছিয়ে নেবে – এমন এক ভাগাভাগি স্বপ্ন।

কিন্তু বাস্তবতা ছিল খুবই অমায়িক। তিনি যখন বিদেশ সফরে গিয়ে বিনিয়োগের কথা বলছেন, সেই সময়ে দেশের ভেতরে কখনো দলীয় কোন্দল, কখনো ধর্মীয় উত্তেজনা, কখনো ছাত্র–রাজনীতির হিসাব না মেলা – সব মিলিয়ে অস্থিরতার আগুন ঠান্ডা হয়নি।

নিরাপত্তা বাহিনীও সব সময় “রিফর্মড” আচরণ করতে পারেনি, কখনো রাজনৈতিক চাপ, কখনো মাঠের বাস্তবতা – এই দুইয়ের মাঝে আটকে গেছে। ফলে ইউনূস তাঁর দক্ষতার পুরোটা দেখানোর মতো একটা স্থির মাঠ আসলে কখনোই হাতে পাননি।

বিদায়ের দিনের মুখ, ক্লান্তি আর আক্ষেপআজকে তিনি যখন বিদায়ী ভাষণ দিলেন, মুখে কৃতজ্ঞতা, চোখেমুখে ক্লান্তি, ভেতরে চাপা অনেক না–বলা কথা – সবই একসাথে দেখা গেল।

আইন–শৃঙ্খলা তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন, “প্রত্যাশামতো হয়নি”; অর্থনীতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও, ঘরের মানুষের কষ্ট পুরোটা কমাতে পারেননি – এটাও স্বীকার করেছেন বিনা দ্বিধায়।

তিনি কাউকে দায়ী না করে নিজের ব্যর্থতার অংশটুকু মাথা পেতে নিলেন, এ দেশবাসীর কাছ থেকে পাওয়া সুযোগের জন্য ধন্যবাদ জানালেন, তারপর নিঃশব্দে সরে গেলেন – যেন কেউ একটা অসমাপ্ত ডায়েরি আলতো করে বন্ধ করে রেখে যাচ্ছে।

তাঁর নামে অভিযোগ আছে, সমালোচনা আছে, রাস্তায় পোস্টার আছে – কিন্তু একই সাথে আক্ষেপও আছে, আমরা একটা মানুষকে পুরো শক্তি দিয়ে কাজ করার মতো পরিবেশ দিতে পারিনি; আমাদের নিজেদের ঝগড়া, অবিশ্বাস আর অস্থিরতায় অনেকটা সম্ভাবনা অপচয় হয়ে গেছে। হয়তো একদিন, ব্যাকস্পেস চাপার আগে…আজকে হয়তো অনেকেই ভাবছে, “এই সরকার তো এমন খুব বড় কিছু করতে পারল না।”

কাল যখন নতুন সরকারকে সমালোচনা করতে বসব, যখন আবার সামাজিক মাধ্যমে লিখে হঠাৎ থেমে যাব, ব্যাকস্পেস চেপে পোস্ট ডিলিট করব – তখন হয়তো আমাদের কারও কারও মনে পড়বে, এক সময় আমাদের একজন ড. ইউনূস ছিলেন, যাকে আমরা ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারিনি।

তার চলে যাওয়ার দৃশ্যটা খুব চওড়া কোনো দৃশ্য না, কিন্তু খুব লম্বা। এই দেশের ইতিহাসে কোথাও না কোথাও, এই দেড় বছরের চাপা ক্লান্তি আর অদ্ভুত মিশ্র অনুভূতিটা ঠিকই জায়গা করে নেবে – হয়তো আজ না, কাল; হয়তো আমাদের বা আমাদের সন্তানের কোনো এক রাত জাগা প্রশ্নের মধ্যে।

02/10/2026

জাবের তোমার পাশে আছে পুরো দেশের ভালবাসা।
তুমি ভাবতেও পারছ না সেটার পরিমাণ ঠিক কতটা!
তুমি জানোই না তোমার কান্না দেখে কত কত মানুষ কাদছে!
তুমি জানোই না ভাই!
হাদি আমাদের হ্নদয়ে!
হাদিকে আমরা পুজা করি না,
ভালোবাসি।
তুমি হাদির ইনকিলাব মঞ্চকে শক্তিশালী করো।
বিচার করবেন স্বয়ং আল্লাহ!

02/09/2026

ফোন ছাড়া বাথরুমেই না যাওয়া জাতিকে ফোন না নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার অর্ডার দেয়ার কারনে ইলেকশন কমিশনারের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া উচিত

সে আমাদের কেউ না

cp

02/09/2026

ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে কেউ মোবাইল নিতে পারবে না – খবরটা শুনে আমার প্রথমে মনে হলো, এ দেশে এখন সবচেয়ে বড় অপরাধী হলো একটা ছ্যাঁচড়া অ্যান্ড্রয়েড ফোন।

যে দেশে খুনি, ধর্ষক, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী – সবার জন্যই জায়গা আছে, সেখানে ভোটের দিনে শুধু মোবাইল ফোনটাই নাকি “ন্যাশনাল সিকিউরিটি থ্রেট”!

কি ভাবছেন?
কেন?

কারণ মোবাইল দিয়ে ভিডিও করা যায়।
আর ভিডিও মানে প্রমাণ,
প্রমাণ মানে ভোট চুরির গর্ভ থেকে জন্ম নেওয়া বিবেকবান বাচ্চা – যাকে দেখতে এই বিরাট দলটার প্রচণ্ড অ্যালার্জি।

৪০০ গজের ভেতরে মোবাইল নয়,
মানুষ যাবে, ভয় যাবে, গুজব যাবে, লাঠি যাবে, গুলি গেলে গেল,
শুধু ক্যামেরা যাবে না।

প্রিজাইডিং অফিসারের হাতে মোবাইল, পুলিশ অফিসারের হাতে মোবাইল, “উপরের” লোকদের হাতে মোবাইল
কিন্তু ভোটারের হাতে?

তার হাতে থাকবে শুধু একটা ভাঁজ হয়ে যাওয়া কাগজ আর বুকে গুঁজে রাখা অদ্ভুত ধরনের আশা
যে আশা গত তিনটা নির্বাচনে পুরাই পিটাইয়া মারা হয়েছে।

আমি মাঝে মাঝে মনে করি,
এই সিদ্ধান্তটা কোনো অফিস রুমে হয় নাই,
হইছে একটা ভয়ের ঘরে,
যেখানে দেয়ালে লেখা ছিল:
“ক্যামেরা বাঁচলে আমরা বাঁচব না,
আমরা বাঁচতে চাই,
দেশ বাঁচুক না মরুক।”

একটা দলের নেতা মরার ভয়ে এতোটাই ভীতু ছিল যে স্বাধীন দেশেও তারে মেরে ফেলার আশঙ্কা আছে, এই জন্য তিনি দেশে আসতে পারেন নাই। তার অসুস্থ মা গিয়ে তার সাথে দেখা করে আসছে।

যেখানে দেশের পোলাপানগুলো বুক পেতে স্বইচ্ছায় গুলি খাইছে, সেখানে তিনি স্বাধীন দেশে খুন হয়ে যাবার ভয়ে আসেন নাই।

বাংলাদেশ–বিখ্যাত এই নেতার দেশপ্রেম থেকে জীবনপ্রেমই বেশি প্রমাণিত।

এখন পর্যন্ত যে কয়টা বক্তব্য তিনি দিয়েছেন, সব কয়টা বড় রকমের ব্লান্ডার করছেন। তিনি যেখানে ভাষণ দিবেন, সেই এলাকার অতীত–বর্তমান পরিস্থিতি কী, সেই বিষয়ে তার কি স্টাডি করা দরকার ছিলো না? সেই এলাকার মানুষের ভবিষ্যত চাওয়া কী – তাও তো তার জানা উচিত ছিল।

তিনি এমন সব বক্তব্য দিয়েছেন যে দেশের বাচ্চা পোলাপানেরাই ফান কন্টেন্ট বানিয়ে তার ইমেজের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে।

ওনি থেমে নেই। ব্লান্ডার করেই যাচ্ছেন। আমার মনে হচ্ছে, তিনি সুস্থ না।

খুনি, ধর্ষক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী দলের মৃত্যুভয়ে ভীতু নেতা এখন হেরে যাবার ভয়ে ভোট চুরি যাতে নিরাপদে হয় – সেই ব্যবস্থা নিচ্ছেন। পাশে পেয়েছেন আওয়ামী অমানুষ প্রশাসন, আওয়ামী পুলিশ, আওয়ামী খুনি সেনাবাহিনী।

ইউনুস কি বন্দী? সে কই আছে?

ভোটের দিন কি ঘটবে, আল্লাহই জানে।

02/05/2026

আজকাল নারী ইস্যু নিয়ে ফেসবুক সরব। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমীর শফিকুর রহমানের আল জাজিরায় দেওয়া সাক্ষাৎকার, আর জামায়াতের এক নেত্রীর বক্তব্য—দুই মিলিয়ে আমার কৌতূহল বেড়ে গেছে। কারণ, প্রশ্নটা আসলে খুব সহজ - ইসলামে কি সত্যিই নারী নেতৃত্ব নিষিদ্ধ?

আল জাজিরার সাংবাদিক যখন জানতে চাইলেন, “জামায়াতের আমির পদে কি নারী আসতে পারবেন?” শফিকুর রহমানের উত্তর স্পষ্ট: “না, এটা সম্ভব নয়।”

তাঁর যুক্তি, আল্লাহ নারী ও পুরুষকে আলাদা প্রকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন, যেমন পুরুষ সন্তান ধারণ করতে পারে না, তেমনি কিছু দায়িত্ব শুধুই পুরুষের।

কিন্তু এই ব্যাখ্যা যতটা আবেগনির্ভর, ততটাই প্রশ্ন জাগায়। আমি কোরআনে খুঁজেছি - আল্লাহ কি কোথাও বলেছেন নারী নেতৃত্ব দিতে পারবে না?

কোরআনে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। বরং কোরআন মানুষকে সামগ্রিকভাবে দায়িত্বশীল হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

আল্লাহ বলেন, “আমি পৃথিবীতে একজন খলিফা সৃষ্টি করতে যাচ্ছি” (সূরা বাকারা ২:৩০)।

এখানে ‘খলিফা’ বলা হয়েছে মানবজাতিকে, নারীর বা পুরুষের আলাদা পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি।আরও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে সূরা তাওবায়:

“মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী একে অপরের অভিভাবক।” (সূরা তাওবা ৯:৭১)

অভিভাবক মানে শুধু গৃহনিয়ন্ত্রণ নয়, বরং সমাজে নেতৃত্ব দেওয়া, অন্যায় থেকে বিরত রাখা, ন্যায় প্রতিষ্ঠায় অংশ নেওয়া। অর্থাৎ ইসলাম নারীকে সামাজিক নেতৃত্বের অংশ হিসেবেই স্বীকৃতি দিয়েছে।

কোরআনের সবচেয়ে জীবন্ত দৃষ্টান্ত আসে সাবা রাজ্যের রানী বিলকিস-এর কাহিনিতে (সূরা নামল ২৭:২৩–৪৪)।

তিনি একজন নারী রাজশাসক ছিলেন, জ্ঞানী, পরামর্শপ্রবণ, এবং সত্য উপলব্ধিতে সক্ষম। কোরআন তাঁর নেতৃত্বকে কোথাও নিন্দা করেনি; বরং তাঁর প্রজ্ঞা ও সৎ সিদ্ধান্তকেই উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে।

যদি নারী নেতৃত্ব নিজেই হারাম হতো, তবে এই গল্প কোরআনে প্রশংসাসূচকভাবে আসত না।

তাছাড়া সূরা মুমতাহিনায় দেখা যায়, নারীরাও নবী (সা.)-এর সঙ্গে বায়আত করেছে (সূরা মুমতাহিনা ৬০:১২)—এটি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়িত্বের চুক্তি ছিল।
অর্থাৎ তারা সমাজের সক্রিয় অংশ, নেতৃত্ব-প্রক্রিয়ারও অংশীদার ছিল।

সবচেয়ে বেশি বিতর্ক লাগে একটি হাদিস নিয়ে--
“যে জাতি তাদের শাসনভার নারীর হাতে দেয়, তারা সফল হবে না।”

অনেকেই এই হাদিস ধরে বলেন নারী নেতৃত্ব ইসলামবিরোধী। কিন্তু আসল প্রেক্ষাপটটা অন্যরকম।নবী করিম (সা.) ফারসিদের (পারস্যের) রাজা খোসরোর মৃত্যুর পর খবর পান, যে তার কন্যা বোরান সিংহাসনে বসেছে।

তখন তিনি বলেছিলেন এই কথাটি- “যে জাতি তার শাসনভার নারীর হাতে দেয়, তারা সফল হবে না।”
কিন্তু এটা কোনো ধর্মীয় ফতোয়া ছিল না, বরং একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মন্তব্য।

কারণ, তখনকার ফারসি রাজপরিবার দুর্নীতি আর গৃহযুদ্ধে নিমজ্জিত ছিল। নবী (সা.) বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, ওদের অবস্থা এমন যে, নেতৃত্ব পাল্টে দিয়ে ভাগ্যও পাল্টাবে না। আসলে এই মন্তব্য ছিল ভবিষ্যদ্বাণীমূলক, আর সত্যিই অল্প কিছুদিনের মধ্যেই পারস্য সাম্রাজ্য ভেঙে যায়।তাই এই হাদিস থেকে কেউ যদি ধরে নেয়, নারী নেতৃত্ব চিরকাল নিষিদ্ধ, তাহলে সেটা ভুল ব্যাখ্যা হয়ে যায়।

ইসলাম নেতৃত্বকে লিঙ্গ নয়, বরং ন্যায়, যোগ্যতা, আর আমানতের ওপর দাঁড় করিয়েছে।

ইসলামের ইতিহাসেও দেখা যায়, নারী দায়িত্বশীল পদে ছিলেন- যেমন খলিফা উমর (রা.) বাজার তদারকির দায়িত্ব দিয়েছিলেন সামরা বিনতে নুহাইক (রা.)-কে, যা ছিল প্রশাসনিক পদ।সব মিলিয়ে ইসলাম নারীদের গৃহে বন্দি রাখার কথা বলেনি।

বরং বলেছে যে যোগ্য আর ন্যায়পরায়ণ, সে-ই নেতৃত্ব দিতে পারে, নারী হোক বা পুরুষ।ইসলাম নারীকে শিকল দেয়নি—দিয়েছে দায়িত্ব।
নেতৃত্ব কার অধিকার, সেটা লিঙ্গ নয়; সততা আর যোগ্যতাই চূড়ান্ত মানদণ্ড।

যাই হোক জামাতের রাজনৈতিক পলিসি হলো নারীরা বাইরে অবশ্যই কাজ করবে কিন্তু এমপি পদপ্রার্থী হবে না কিংবা আমীর হইতে পারবে না।

যাই হোক, জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান তাদের নিজস্ব—নারীরা বাইরে কাজ করতে পারে, কিন্তু এমপি পদপ্রার্থী বা সংগঠনের আমীর হতে পারবে না। এটা তাদের সাংগঠনিক নীতি, ধর্মীয় নয়।

কিন্তু আমার আসল বিস্ময় সেখানেই, জামায়াতের অগণিত মহিলা সদস্যসহ ফেসবুকের অনেকেই এখন বলছেন, “ইসলামে নারী নেতৃত্ব হারাম, কোরানেই বলা আছে।” আমি কোরান ঘেঁটে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা পাইনি।

বরং কোরান পুরুষ ও নারী উভয়কেই দায়িত্বশীল মানবরূপে উপস্থাপন করেছে, নেতৃত্বের যোগ্যতার বিষয়টি ব্যক্তির আমানত ও ন্যায়বোধের ওপর নির্ভরশীল করেছে—লিঙ্গের ওপর নয়।তাই যদি কারও কাছে প্রামাণ্য কোরানিক আয়াত থাকে যা সরাসরি নারী নেতৃত্ব নিষিদ্ধ করেছে, আমি সেটি জানতে আগ্রহী।

ইসলামকে যদি আমরা সত্যিই যুক্তি, ন্যায় ও জ্ঞানের ধর্ম বলে মানি, তবে যুক্তিগুলোও যেন তেমনই পরিষ্কার ও প্রমাণনির্ভর হয়। কোরান নারীকে বন্দি করেনি; দিয়েছে দায়িত্ব, সম্ভাবনা আর ন্যায়ের বোঝা কাঁধে তুলে নেওয়ার আহ্বান।

Address

Topeka, KS
66614

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nusrat Sharmin Nisha posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Nusrat Sharmin Nisha:

Share