Nusrat Sharmin Nisha

Nusrat Sharmin Nisha যেই কথা কেউ বলে না,সেই কথাটাই বলি।

  কিছু ভ্রমণ আছে, যেগুলো মানুষকে উত্তেজিত করে। বুকের ভেতর অ্যাড্রেনালিন ছুটতে থাকে, মস্তিষ্কে ডোপামিনের বান ডাকে, চারপাশ...
08/27/2026




কিছু ভ্রমণ আছে, যেগুলো মানুষকে উত্তেজিত করে। বুকের ভেতর অ্যাড্রেনালিন ছুটতে থাকে, মস্তিষ্কে ডোপামিনের বান ডাকে, চারপাশের সৌন্দর্য দেখে বারবার মনে হয়, অবিশ্বাস্য! আমি সত্যিই এখানে!

সেসব ভ্রমণ শেষে আমরা অনেক ছবি নিয়ে ফিরি, অনেক গল্প নিয়ে ফিরি। মনে হয়, পৃথিবীর কোনো এক দুর্লভ জায়গায় নিজের পায়ের ছাপ রেখে এলাম। পাহাড়ের চূড়ায় না উঠেও কখনো কখনো মনে হয়, যেন এভারেস্ট জয় করে ফেলেছি।

কিন্তু এবার আমার তেমন কোনো উন্মাদনার প্রয়োজন ছিল না।

আমি খুঁজছিলাম অন্য কিছু।

এমন এক আনন্দ, যে আনন্দ চিৎকার করে নিজের অস্তিত্ব জানান দেয় না, নিঃশব্দে বুকের কোনো এক গোপন কুঠুরিতে জমে থাকে। এমন এক ভ্রমণ, যেখানে কোথাও পৌঁছে যাওয়ার চেয়ে পথের মধ্যে থেমে যাওয়াটাই বেশি জরুরি। যেখানে পৃথিবীকে জয় করার ইচ্ছা জাগে না, বরং এই পৃথিবীর বিশালতার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ক্ষুদ্রতাটুকু টের পাওয়া যায়।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সম্ভবত ভ্রমণের সংজ্ঞাও বদলে যায়।

একসময় নতুন কোনো জায়গায় যাওয়া মানেই ছিল অনেক কিছু দেখা, অনেক ছবি তোলা, যতটা সম্ভব ঘুরে ফেলা। এখন মনে হয়, সবকিছু দেখার দরকার নেই। কখনো একটা পাহাড়ের সামনে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকাই যথেষ্ট। কখনো পথের ধারে বসে থাকা কোনো বৃদ্ধের মুখের ভাঁজে জীবনের গল্প পড়াটাই একটা সম্পূর্ণ ভ্রমণ। কখনো হাজার বছরের পুরোনো একটা পাথরের গায়ে হাত না রেখেও শুধু তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা যায়। মনে মনে ভাবা যায়, আমার জন্মের বহু আগে সে এখানে ছিল, আমার মৃত্যুর বহু পরেও হয়তো এখানেই থাকবে।

এই অনুভূতির কাছাকাছি কোনো কিছুই হয়তো আমি খুঁজছিলাম।

আর অদ্ভুতভাবে, সেটি পেলাম, তবে পাহাড়ের চূড়ায় নয়।

পেলাম পৃথিবীর নিচে।

গ্রীষ্মের উজ্জ্বল একটা সকাল। স্প্রিংফিল্ড তখন রোদে ঝলমল করছে, চারপাশে আলো আর উত্তাপের ছড়াছড়ি। সেই আলো পেছনে ফেলে আমরা যাচ্ছিলাম এমন এক জগতের দিকে, যার নিজস্ব কোনো সকাল নেই, দুপুর নেই, ঋতুর পালাবদলও নেই। পৃথিবীর ওপরে সময় তার চেনা নিয়মে এগিয়ে চলে, অথচ মাটির অনেক নিচে সে যেন অন্য এক ছন্দে হাঁটে। ধীরে, নিঃশব্দে, হাজার হাজার বছর ধরে।

আমাদের গন্তব্য ছিল Fantastic Caverns।

গুহায় ঢোকার আগেই শুনলাম একটি কুকুরের গল্প।

১৮৬২ সাল। জন নক্স নামের এক কৃষক তার জমিতে শিকার করতে গিয়েছিলেন। একসময় তার শিকারি কুকুরটি ছোট্ট একটি ফাটলের মধ্যে ঢুকে গেল। অনেকক্ষণ পরও ফিরে না আসায় নক্স এগিয়ে গিয়ে দেখলেন, ছোট্ট সেই ফাটলের নিচে নেমে গেছে বিশাল এক অন্ধকার গহ্বর।

কুকুরটিকে শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা গেল। কিন্তু নক্স নিজে খুব বেশি দূর এগোলেন না। হাতে সামান্য আলো নিয়ে এমন অন্ধকারের গভীরতা আর কতটাই বা মাপা যায়!

আমার কাছে গল্পটির সবচেয়ে আশ্চর্য অংশ অবশ্য গুহা আবিষ্কার নয়।

আশ্চর্য হলো, এরপর নক্স পাঁচ বছর গুহাটির কথা কাউকে বলেননি।

তখন আমেরিকায় গৃহযুদ্ধ চলছে। মিসৌরির মাটিতে ইউনিয়ন ও কনফেডারেট দুই পক্ষেরই আনাগোনা। গুহার অস্তিত্ব জানাজানি হলে কোনো পক্ষ হয়তো এখানে এসে সল্টপিটার সংগ্রহ করবে, আর তা দিয়ে তৈরি হবে বারুদ।

তাই নক্স চুপ করে রইলেন।

মানুষ সাধারণত গুপ্তধন পেলে লুকিয়ে রাখে নিজের জন্য। নক্স লুকিয়ে রেখেছিলেন একটা অন্ধকার গুহা। যেন মানুষের যুদ্ধ থেকে পৃথিবীর নিচের এই নীরব পৃথিবীটুকুকে বাঁচিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন।

পাঁচ বছর পর যুদ্ধ শেষ হলো।

১৮৬৭ সালে নক্স স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিলেন। কেউ কি তার আবিষ্কৃত গুহাটি ঘুরে দেখতে আগ্রহী?

এরপরের ঘটনাটি আরও সুন্দর।

সেই আহ্বানে প্রথম সাড়া দিয়েছিলেন কোনো বিখ্যাত অভিযাত্রী নন, কোনো দুঃসাহসী পুরুষের দলও নয়। এসেছিলেন Springfield Women’s Athletic Club-এর বারো জন নারী।

১৮৬৭ সাল।

আজ থেকে প্রায় একশো ষাট বছর আগে।

ভাবতেই অবাক লাগে, যে সময় নারীদের জীবন আজকের তুলনায় কত বেশি সীমাবদ্ধ ছিল, সেই সময় বারো জন নারী দড়ি, মই আর লণ্ঠন নিয়ে নেমে পড়েছিলেন সম্পূর্ণ অজানা এক অন্ধকারের মধ্যে।

সামনে কী আছে, তারা জানতেন না।

পায়ের নিচে ভেজা পিচ্ছিল পাথর, মাথার ওপরে অন্ধকার ছাদ, হাতে টলমলে লণ্ঠনের আলো। সেই সামান্য আলোয় তারা এক পা, দুই পা করে এগিয়ে গিয়েছিলেন।

আর যাওয়ার পথে গুহার দেয়ালে নিজেদের নাম লিখে রেখেছিলেন।

গাইড যখন সেই নামগুলো দেখালেন, আমি কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে ছিলাম। সময়ের সঙ্গে ম্লান হয়ে আসা কয়েকটি নাম এখনও পাথরের গায়ে রয়ে গেছে।

একশো ষাট বছর আগে কেউ একজন হাত বাড়িয়ে ওই অন্ধকার দেয়ালে নিজের নাম লিখেছিল।

হয়তো তারও মনে হয়েছিল,

আমি এখানে ছিলাম।

এই অন্ধকারের ভেতর দিয়ে আমিও একদিন হেঁটে গিয়েছিলাম।

কেউ যেন আমাকে পুরোপুরি ভুলে না যায়।

মানুষের এই পৃথিবীতে থেকে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বড় অদ্ভুত। কেউ সন্তান রেখে যায়, কেউ বই, কেউ বাড়ি, কেউ ছবি। আর কেউ কেউ অন্ধকার গুহার দেয়ালে নিজের নামের কয়েকটি অক্ষর রেখে যায়।

তারপর আমাদের পালা।

আমরা উঠে বসলাম জিপের টানা ছোট্ট একটি ট্রামে। Fantastic Caverns-এর বিশেষত্বই হলো, এখানে গুহার ভেতরটা হাঁটতে হয় না। ট্রামে বসেই পুরো পথ ঘুরে দেখা যায়।

প্রবেশমুখটা খুব বড় নয়।

ট্রামটি ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকতে শুরু করল। কয়েক সেকেন্ড আগেও মাথার ওপরে ছিল ঝলমলে আকাশ। তারপর একসময় পেছনে পড়ে গেল দিনের শেষ আলোটুকুও।

অন্ধকার আমাদের গিলে ফেলল।

সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রার পরিবর্তনটা টের পেলাম। বাইরে মিসৌরির গ্রীষ্ম, অথচ ভেতরে সারা বছর তাপমাত্রা প্রায় ৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইট, অর্থাৎ প্রায় ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বাইরের পৃথিবীতে তখন গ্রীষ্ম চলছে।
কিন্তু
এখানে কোনো গ্রীষ্ম নেই। শীতও নেই।

পৃথিবীর নিচে সময় যেন নিজের জন্য আলাদা নিয়ম বানিয়ে নিয়েছে।

আর ভেতরে ঢুকেই যে জিনিসটি আমাকে সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করল, তা কোনো বিশাল পাথর নয়।

নিস্তব্ধতা।

শহরে থেকেও আমরা কখনো সত্যিকারের নীরবতা শুনি না। কোথাও গাড়ির শব্দ, কোথাও এসির গুঞ্জন, কোথাও ফোনের নোটিফিকেশন, কোথাও মানুষের কথা।

এখানে সেসব কিছুই নেই।

শুধু দূরে কোথাও একটি জলের ফোঁটা পাথরের গায়ে পড়ছে।

টপ... টপ... টপ...

সেই ক্ষুদ্র শব্দের দিকে কান পাততে পাততে মনে হলো, এই ফোঁটাগুলো কত নিরীহ। অথচ হাজার হাজার বছর ধরে তারাই এই গুহার ভেতরের পৃথিবীটাকে গড়ে তুলছে।

এক ফোঁটা জল সামান্য ক্যালসাইট রেখে যায়। তারপর আরেক ফোঁটা। তারপর আরেকটি।

একটি মানুষের জীবন শেষ হয়ে যায়, আর পাথর হয়তো তত দিনে কয়েক মিলিমিটার বড় হয়।

আমরা সময়কে বছর দিয়ে মাপি।

গুহা সম্ভবত সময়কে মাপে জলের ফোঁটা দিয়ে।

মাথার ওপর থেকে ঝুলে আছে স্ট্যালাকটাইট। মেঝে থেকে ধীরে ধীরে উঠে এসেছে স্ট্যালাগমাইট। কোথাও হাজার বছরের অপেক্ষার পর ওপর আর নিচের দুটি গঠন একে অন্যকে ছুঁয়েছে, তৈরি হয়েছে বিশাল কলাম।

কী অদ্ভুত!

দুটি পাথরের একে অন্যের কাছে পৌঁছাতে হাজার হাজার বছর লেগে যেতে পারে।

মানুষের জীবনে আমরা কত তাড়াহুড়ো করি! কত কিছু আজই চাই, এখনই চাই।

আর এখানে একটি জলের ফোঁটার কোনো তাড়া নেই।

তার হাতে অনন্ত সময়।

ট্রাম একসময় ঢুকে পড়ল বিশাল একটি কক্ষে। এর নাম Hall of Giants।

নামটা যেন জায়গাটার জন্যই তৈরি।

মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত বিশাল পাথরের গঠনগুলো দাঁড়িয়ে আছে। কোনোটা মনে হয় পাথরের বৃক্ষ, কোনোটা প্রাচীন প্রাসাদের স্তম্ভ। আলো ছায়ার খেলায় একটি গঠনকে দূর থেকে মনে হচ্ছিল বিশাল কোনো মুখ। অন্ধকার থেকে সামনের দিকে ঝুঁকে আছে, যেন কয়েক হাজার বছর ধরে কোনো কথা বলার অপেক্ষায়।

গাইড বললেন, যেসব গঠনের ওপর এখনও জল পড়ছে, সেগুলো এখনও বাড়ছে। কোথাও ক্রিস্টালের মতো উজ্জ্বল সাদা অংশ দেখা যায়। আর যেসব জায়গায় জল আসা বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলোর বৃদ্ধি থেমে গেছে।

শুনতে শুনতে মনে হলো, পাথরেরও বুঝি জীবন আছে।

কেউ বাড়ছে। কেউ থেমে গেছে। কেউ হাজার বছর ধরে অপেক্ষা করছে আরেকটি জলের ফোঁটার জন্য।

আর আমরা মানুষ, কয়েক দশকের জীবন নিয়ে তাদের সামনে দিয়ে চলে যাচ্ছি।

এরপর এল Auditorium।

প্রকৃতি নিজেই যেন পাথর কেটে বিশাল একটি মিলনায়তন তৈরি করে রেখেছে। এই কক্ষের শব্দগুণ এতটাই চমৎকার যে একসময় এখানে নিয়মিত কান্ট্রি মিউজিকের অনুষ্ঠান হতো। পাথরের দেয়ালে সুর প্রতিধ্বনিত হতো, আর অন্ধকারের মধ্যে বসে মানুষ গান শুনত।

আমি চোখ বন্ধ করে দৃশ্যটা কল্পনা করার চেষ্টা করলাম।

চারপাশে কোটি বছরের পাথর। মাথার ওপরে অন্ধকার। তার মাঝখানে মানুষের কণ্ঠ।

কিছু সময়ের জন্য সংগীত এসে সেই প্রাচীন নীরবতার ভেতর বাসা বাঁধছে।

আজ আর সেই কনসার্ট নেই। কক্ষটি আবার নীরব।

হয়তো এটাই স্বাভাবিক।

মানুষের গান একসময় থেমে যায়।

পাথরের নীরবতা থেকে যায়।

গাইড আরও বললেন, গুহার নিচের স্তরে এমন কিছু প্রাণী বাস করে, যাদের পৃথিবী আমাদের পৃথিবীর মতো নয়। সেখানে আছে চোখহীন ছোট্ট কেভফিশ, গ্রোটো স্যালাম্যান্ডার, ব্লাইন্ড ক্রেফিশ, কেভ ক্রিকেট। কোনো কোনো সময় ছাদে বাদুড়ও দেখা যায়।

এই প্রাণীগুলোর কেউ কোনোদিন সূর্যোদয় দেখেনি। তারা জানে না নীল আকাশ কী। জানে না সকালের রোদ কেমন লাগে।

তবু তাদের জীবন অসম্পূর্ণ নয়।

তাদের পৃথিবী অন্ধকার, আর সেই অন্ধকারের জন্যই তাদের শরীর নিজেকে বদলে নিয়েছে।

ভাবলাম, জীবন আসলে আলো পাওয়ার নামই শুধু নয়। জীবন হলো যেখানে রাখা হয়েছে, সেখানেই বেঁচে থাকার ভাষা শিখে নেওয়া।

একসময় ট্রাম ঘুরে ফেরার পথ ধরল।

গাইড বললেন, আমরা যে পথ দিয়ে বের হব, সেই দিকেই একদিন জন নক্সের কুকুরটি ঢুকে পড়েছিল।

আমি পেছনে তাকালাম।

একটি কুকুরের কৌতূহল থেকে শুরু হওয়া গল্প!

তারপর একজন কৃষকের পাঁচ বছরের নীরবতা। বারো জন নারীর সাহস। পাথরের দেয়ালে কয়েকটি নাম। গৃহযুদ্ধের ইতিহাস। গুহার ভেতরে সংগীত। অন্ধকারে জন্ম নেওয়া চোখহীন মাছ। আর হাজার হাজার বছর ধরে পড়তে থাকা জলের ফোঁটা।

সবকিছু একই অন্ধকারের মধ্যে পাশাপাশি জমা হয়ে আছে।

তখন বুঝলাম, আমি যে ধরনের ভ্রমণ খুঁজছিলাম, সম্ভবত এটাই সেই ভ্রমণ।

এখানে জয় করার মতো কিছু ছিল না।

কোনো চূড়ায় উঠে পতাকা ওড়ানোর ছিল না। নিজের সাহস প্রমাণ করারও কিছু ছিল না। ছিল শুধু পৃথিবীর অনেক পুরোনো একটি দরজা দিয়ে কিছুক্ষণের জন্য ভেতরে ঢুকে দেখা। আমাদের পরিচিত পৃথিবীর নিচে আরও একটি পৃথিবী আছে।

যে পৃথিবী আমাদের ছাড়াই ছিল।

আমাদের ছাড়াই থাকবে।

বের হওয়ার মুখের কাছে আসতেই প্রথমে দূরে এক টুকরো আলো দেখা গেল। তারপর সেই আলো ধীরে ধীরে বড় হতে লাগল।

একসময় ট্রাম গুহার মুখ পেরিয়ে বাইরে চলে এল।

মিসৌরির গরম বাতাস আবার মুখে লাগল। চোখে এসে পড়ল দুপুরের তীব্র রোদ। কয়েক মুহূর্ত আলোয় চোখ মেলতে কষ্ট হচ্ছিল।

পেছনে ফিরে গুহার মুখটার দিকে তাকালাম।

কী সাধারণ!

বাইরে থেকে দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই, ওই ছোট্ট অন্ধকার মুখের ওপারে কত গল্প জমে আছে।

ঠিক মানুষের মতোই হয়তো।

বাইরে থেকে আমরা একে অন্যকে যতটুকু দেখি, তার চেয়ে অনেক বড় একটা পৃথিবী প্রত্যেকে নিজের ভেতরে বহন করি।

গাড়ির দিকে হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো, কিছু ভ্রমণ সত্যিই আমাদের উত্তেজিত করে, কিছু ভ্রমণ আমাদের আনন্দ দেয়, কিছু ভ্রমণ আমাদের ছবি দেয়।

আর খুব অল্প কিছু ভ্রমণ আছে, যেগুলো আমাদের একটু নীরব করে দেয়।

Fantastic Caverns থেকে বেরিয়ে আমার কোনো এভারেস্ট জয়ের অনুভূতি হয়নি।

বরং উল্টোটা হয়েছে।

মনে হয়েছে, এই পৃথিবী এত পুরোনো, এত বিশাল, এত ধীর, আর তার তুলনায় আমার জীবন কী ভীষণ ছোট।

কিন্তু সেই ছোট হয়ে যাওয়ার অনুভূতির মধ্যেও এক ধরনের শান্তি আছে।

সবকিছু জয় করতে হবে না।

সব রহস্যের উত্তরও জানতে হবে না।

কখনো কখনো পৃথিবীর কোনো এক প্রাচীন অন্ধকারের সামনে নতমুখে দাঁড়িয়ে শুধু এটুকু মেনে নেওয়াই যথেষ্ট,

আমি এসেছিলাম।

কিছুক্ষণ বিস্ময়ে তাকিয়ে ছিলাম।

তারপর চলে গেলাম।

আর আমার চলে যাওয়ার পরও, পৃথিবীর অনেক নিচে, অন্ধকারের মধ্যে জলের ফোঁটাগুলো পড়তেই থাকবে।

টপ... টপ... টপ...

সময় সেখানে ধীর।

কিন্তু থামেনি।

08/25/2026




বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শ্রাবণকে ঘুম থেকে ডেকে তুললাম। কিন্তু প্রচণ্ড কান্নায় আমি কথাই বলতে পারছিলাম না। বন্যার বাঁধ ভাঙা জোয়ারের মতো দুকূল ছাপিয়ে কান্না আসছিল।

মনে হলো, মনে হলো কত কত দিন আমি কাঁদি না।

আসলে কান্না করার সময় কই!

একটা বয়স পেরিয়ে গেলে মেয়েমানুষের কান্না দেখার আসলে কেউ থাকে না। অথবা মেয়েমানুষের ফিচফিচে কান্না হয়তো তার নিজের কাছেই এতটা বিরক্তিকর যে সে কান্না করার জন্য গভীর রাত বেছে নেয়, যখন সে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারে না।

তার মনে হয়, সে গভীর কোনো কুয়ায় পড়ে যাচ্ছে। পড়তে পড়তে সে ফিল করে, এই কুয়ার যেন কোনো তলা নেই। সে চায় কেউ একজন ভালোবেসে হাত ধরে উপরে তুলে বলুক, আমি আছি তো।

কিন্তু সমস্যা হলো, যে তুলবে সে যদি নাই জানে যে তার প্রিয় মানুষটা রোজ একটা অশরীরী কুয়ায় পড়ছে, বিছানায় শুইলেই তার এমন অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে, তাহলে সে হাত বাড়াবে কী করে?

সে তো জানেই না।

বাংলাদেশের হাজার হাজার মেয়ে এই অশরীরী কুয়ায় রোজ পড়ে। রাত পেরিয়ে ভোর হলে আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়।

কিন্তু আমি সেই হাজারো মেয়ের একজন হতে চাই না বলেই শ্রাবণকে ডেকে তুললাম রাত তিনটার কিছু পরে। জানালাম, আমি আর পারছি না।

I am tired of my life.

আমি এক্ষুনি, এই মুহূর্তেই দূরে কোথাও যেতে চাই।

মনে হচ্ছিল, আমার চারপাশের বাতাস কেউ ধীরে ধীরে বদলে দিচ্ছে। অক্সিজেন সরিয়ে সেখানে ভরে দিচ্ছে বিষাক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড। আমি শ্বাস নিচ্ছি, অথচ বাতাস পাচ্ছি না।

পরিচিত ঘর, পরিচিত দেয়াল, পরিচিত জীবন, সবকিছু ক্রমশ আমার বুকের ওপর চেপে বসছে।

আমার শুধু একটু খোলা আকাশ দরকার। একটু দূরের রাস্তা।

এমন একটা জায়গা, যেখানে কয়েক মুহূর্তের জন্য হলেও আমার নাম ধরে কেউ আমাকে ডাকবে না, আমার কাছে কারও কোনো প্রয়োজন থাকবে না। যেখানে আমি শুধু আমি হয়ে একটু শ্বাস নিতে পারব।

পরদিনই আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, যাব। কোথায় যাব, কতটা গুছিয়ে যাব, কী কী দেখব, এসব নিয়ে খুব বেশি ভাবার সময়ও নিইনি।

একদিনের মধ্যে পরিকল্পনা করে আমরা মিসৌরির পথে বেরিয়ে পড়লাম।

কখনো কখনো মানুষ বেড়াতে যায় নতুন কোনো জায়গা দেখার জন্য। আর কখনো কখনো মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে শুধু নিজের ভেতরে জমে থাকা বাতাসটুকু বদলানোর জন্য।

আমাদের মিসৌরি যাত্রাটা বোধহয় দ্বিতীয়টাই ছিল।

কোথায় কোথায় যাব, সব টেরিই প্ল্যান করল। আমরা থাকব টেরির ভাইয়ের বাড়িতে। আমার জন্য নাকি সেটাই বেস্ট হবে। তার ভাই আর ভাইয়ের ছেলেকে বলে দিল, আমরা আসছি।

সকাল নয়টায় যাত্রা শুরু করলাম। পাঁচ ঘণ্টার জার্নি। প্রায় তিন ঘণ্টা পর একটা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ করে নিলাম। কাছাকাছি একটা পার্কে কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে আবার যাত্রা শুরু করলাম।

উদ্দেশ্য টেবিল রক লেক। গাড়ি টেরিই চালাচ্ছিল।

চারপাশের দৃশ্য খুব দ্রুত বদলাতে লাগল। আমরা খুব ন্যারো, স্কিনি রাস্তায় চলে আসলাম। অসংখ্য বাঁক। হুটহাট করে সামনে গাড়ি উদয় হচ্ছে, আমরা আতঙ্কিত হচ্ছি, আবার মজাও পাচ্ছি।

তার কিছুক্ষণ পর রাস্তা হয়ে গেল পুরাই রোলার কোস্টার।

অসাধারণ অভিজ্ঞতা!

চারপাশে ঘন জঙ্গল। আমাদের গাড়ি চোখের পলকে অনেক ওপরে উঠে যাচ্ছে, আবার হুস করে নিচে নেমে যাচ্ছে। আবার ওপরে, আবার নিচে।

পাহাড়ের গায়ে পেতে রাখা একটা সরু রেখার মতো ছিল রাস্তাটা। যেন কেউ পাহাড়ের পাশ বেয়ে একটা সুতো টেনে দিয়ে বলেছে, এই বেয়ে চলো।

ওজার্ক পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে ঢুকতে ঢুকতে মনে হলো, এই পাহাড়গুলো যেন দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শুধু শহরটাকে পেছনে ফেলে রাখার জন্য।

এর মধ্যে শুরু হলো বৃষ্টি।

কী দারুণ অভিজ্ঞতা!

শ্রাবণ পিছনে বাচ্চাদের নিয়ে বসেছিল। কারণ আমি বলেছি, আমি ওদের সহ্য করতে পারছি না। সে পিছন থেকে বারবার জিজ্ঞেস করতে লাগল,

কেমন লাগছে?

আমি শুধু মাথা নাড়লাম।

টেবিল রক লেকে যাওয়ার কথা বলে টেরি আমাদের পৃথিবীর বাইরে কোনো এক গহীন জঙ্গলে নিয়ে যাচ্ছে। তাকে বলতেই সে জবাব দিল, আমি তো আমার কবর গহীন জঙ্গলেই চাই, তাই ভয় কেন পাচ্ছি!

আমরা গোল্ডেন নামের ছোট্ট গ্রামের মতো একটা সিটিতে আসলাম। প্রশাসনের খাতায় এর নাম আছে ঠিকই, কিন্তু একে শহর বললে বোধহয় শহরটারই অপমান হবে।

ব্যারি কাউন্টির দক্ষিণ পূর্বে গোল্ডেন একটা ছোট্ট অন্তর্ভুক্তিহীন জনপদ, যেখানে আড়াইশোরও কম মানুষ বাস করে। ১৮৭৬ সাল থেকে এখানে একটা পোস্ট অফিস চলছে। মানে শহরটার চেয়ে ওই পোস্ট অফিসের বয়স বেশি। নামটা হয়তো স্থানীয় গোল্ডেন পরিবারের নাম থেকেই এসেছে।

গোল্ডেনকে গ্রাম বললাম, কিন্তু যখন টেরির ভাইয়ের বাড়িতে পৌঁছালাম, আমাদের মুখে কোনো কথাই বের হলো না।

টেবিল রক লেকের পাশেই তাদের ডুপ্লেক্স বাড়ি। বাড়ির বারান্দা থেকে পানি দেখা যায়।

কী অসাধারণ!

আমরা লেকের কাছে গেলাম। পাথুরে তীর। পানির ধারে বেশ কিছু ডক দেখলাম। সেখানে নানান ডিজাইনের ইয়ট ভাসছে।

টেরির ভাইয়ের ইয়টটা তাদের ব্যাকইয়ার্ডে। টেরির ভাইয়ের ছেলে ডালটন আমাদের সব ঘুরিয়ে দেখাচ্ছিল।

আমি জানতাম না, এই লেকটা আসলে কোনো সাধারণ লেক নয়। এটা একটা আটকে রাখা নদী, হোয়াইট রিভার। মানুষ বাঁধ দিয়ে নদীর গতি আটকে দিয়ে জলটুকু এক জায়গায় জমিয়ে রেখেছে, আর তার নাম দিয়েছে টেবিল রক লেক।

১৯৫৪ সাল থেকে শুরু করে আট বছর ধরে মার্কিন সেনা প্রকৌশল বাহিনী এই বাঁধটা বানিয়েছে। তারা হয়তো বন্যা ঠেকাতে চেয়েছিল, কিন্তু শেষে যেটা পেল তা হলো ৪৩ হাজার একরের এক বিশাল জলাধার, যার গভীরতা সবচেয়ে বেশি জায়গায় ২২০ ফুট, আর তীরের দৈর্ঘ্য সাতশো পঁয়তাল্লিশ মাইল।

আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, একটা নদীকে আটকে রাখা গেলে এত বড় একটা লেক হয়ে যায়!

তাহলে আমার ভেতরে আটকে থাকা কান্নার জল গুনে গুনে কত বড় একটা সমুদ্র হয়ে যাচ্ছে, সেটা শুধু একা আমিই জানি।

টেবিল রক লেক আসলে আটকে রাখা নদীর জল। আর আমিও যেন নিজের ভেতরে আটকে থাকা কান্নার জল নিয়েই সেখানে পৌঁছেছিলাম।

এখানকার বাড়িগুলো অসাধারণ সুন্দর। পাহাড়ের কোলে কোলে এক একটা নান্দনিক বাড়ি। চারপাশে বিশাল খোলা জায়গা।

ডালটন বলল, এখানকার বেশির ভাগ মানুষ পাইলট ছিল। তাদের নিজেদের এরোপ্লেন আছে। বেশি বড় না, চারজন বসতে পারে এমন। প্লেন চলাচলের জন্য এত বিশাল জায়গা রাখা হয়েছে।

বেশ কিছু বাড়ির সামনে সাজিয়ে রাখা প্লেন দেখেছি আমরা। সকালে একটা উড়ে যেতেও দেখলাম।

আমি ভাবলাম, এখানকার মানুষগুলোর বুঝি মাটিতে মন টেকে না। তাই এত গহীন জঙ্গলের মাঝেও তারা আকাশে ওঠার একটা পথ ঠিকই বানিয়ে নিয়েছে। বাড়ির সামনে গাড়ির পাশে ছোট্ট প্লেন দাঁড়িয়ে থাকে, ইচ্ছে হলেই ডানা মেলে আকাশে উঠে যায়।

সেই রাত তিনটায় আমারও তো খুব ইচ্ছে হয়েছিল সবকিছু ছেড়ে কোথাও উড়ে যাই।

পার্থক্য শুধু এটুকুই, আমার কোনো প্লেন ছিল না, পাখাও ছিল না। তাই দূরে যাওয়ার জন্য আমাকে পাঁচ ঘণ্টার একটা রাস্তা পাড়ি দিতে হলো।

রাতে এখানকার লোকেরা বাইরে বাতি জ্বালায় না। চারপাশের ফরেস্ট এরিয়ার প্রাণীদের সুবিধার জন্য।

কী গাঢ় অন্ধকার!

আকাশে চাঁদ দেখে আমি আর শ্রাবণ বাচ্চাদের রেখে বের হলাম। কোথাও তেমন আলো নেই। একটানা বিভিন্ন পোকার আওয়াজ, রাত জাগা না ঘুমানো পাখির চি চি শব্দ।

মনে হচ্ছিল, কথা না বলি। শুধু শুনে যাই, ওরা কী বলছে।

কতদিন পর আমি এত তারা দেখলাম আকাশে!

ডিজিটাল যুগে তারার আলো বড্ড বেশি অচেনা হয়ে গেছে। আমাদের চোখ এখন সারাক্ষণ ছোট ছোট স্ক্রিনের আলোয় অভ্যস্ত। মাথা নিচু করে কত আলোই তো দেখি, শুধু মাথা তুলে আকাশের আলোটা দেখা হয় না।

অথচ সেদিন সেই গাঢ় অন্ধকারের মধ্যে দাঁড়িয়ে মনে হলো, অন্ধকার না থাকলে এত তারা দেখা যায় না।

আমি অনেকক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলাম।

কয়েক ঘণ্টা আগেও যে আমার মনে হচ্ছিল চারপাশের বাতাস ফুরিয়ে আসছে, সেই আমি তখন বুক ভরে জঙ্গলের ঠান্ডা বাতাস নিচ্ছি।

সমস্যাগুলো কোথাও চলে যায়নি। জীবনও হঠাৎ বদলে যায়নি। শুধু জায়গাটা বদলেছে, চারপাশের বাতাসটা বদলেছে, আর হয়তো একটু বদলেছি আমিও।

ভেবে দেখলাম, টেবিল রক লেকের জলটুকুও তো তাই। হোয়াইট রিভারের জল কোনোদিন থেমে যায়নি। শুধু একটা বাঁধ তাকে একটু আটকে রেখেছে। আর সেই আটকে থাকা জলেই এত তারা প্রতিফলিত হয়, এত নৌকা ভাসে, এত মানুষ আশ্রয় পায়।

হয়তো আটকে থাকা কান্নার জলেও কিছু একটা জন্ম নেয়, যদি সেটা ঠিকমতো জমে থাকে, আর কেউ এসে বাঁধ দিয়ে দেখে যায়।

রাত তিনটায় শ্রাবণকে ঘুম থেকে তুলে আমি শুধু বলেছিলাম, আমি দূরে কোথাও যেতে চাই।

সেই দূরে কোথাও যাওয়ার প্রথম দিনটা শেষ হলো মিসৌরির ছোট্ট গোল্ডেনে। গহীন জঙ্গলের পাশে, মাথার ওপর অসংখ্য তারা আর চারপাশে অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতা নিয়ে।

মনে হলো, অনেক দিন পর আমি একটু শ্বাস নিতে পারছি।

Missouri Tour

Day 1

Late Thursday night, I woke Shrabon from his sleep. But I was crying so hard that I could barely speak. The tears came rushing out, spilling over like a river that had broken through its banks.

It felt as though… as though I hadn’t cried in ages.

The truth is, when do I ever have time to cry?

Once a woman reaches a certain age, there is hardly anyone left to witness her tears. Or perhaps the sound of her own quiet sobbing becomes so unbearable even to herself that she chooses the deepest hours of the night to cry, when she can no longer hold herself together.

She feels as though she is falling into a deep well. And as she keeps falling, she realizes that the well has no bottom.

She wants someone to reach down, take her hand with love, pull her back up, and say,

I’m here.

But there is a problem.

How can the person who is supposed to reach out know that the person he loves is falling into an invisible well every single night? How can he know that every time she lies down in bed, this strange feeling consumes her?

He doesn’t know.

Thousands and thousands of women in Bangladesh fall into this invisible well every night. And when the night passes and morning arrives, they become normal again.

But I did not want to become one of those thousands of women.

So, a little after three in the morning, I woke Shrabon and told him that I couldn’t do this anymore.

I am tired of my life.

I wanted to go somewhere far away.

Right then. That very moment.

It felt as though someone was slowly replacing the air around me. Taking away the oxygen and filling the space with poisonous carbon dioxide instead. I was breathing, yet somehow I could not get enough air.

The familiar room, the familiar walls, the familiar life—everything seemed to be pressing down on my chest.

All I wanted was a little open sky.

A road leading somewhere far away.

A place where, even if only for a few moments, no one would call my name. No one would need anything from me.

A place where I could simply be myself and breathe.

The very next day, we decided to go.

We didn’t spend much time thinking about where exactly we would go, how carefully we would plan it, or what we would see.

Within a day, we had a plan and were on our way to Missouri.

Sometimes people travel because they want to discover a new place.

And sometimes they leave home simply because they need to change the air that has grown heavy inside them.

I think our Missouri journey was the second kind.

Terry planned everywhere we would go. We would stay at her brother’s house. She thought that would be best for me. She called her brother and her nephew and told them we were coming.

We started our journey at nine in the morning.

Five hours on the road.

After about three hours, we stopped at a Chinese restaurant for lunch. Then we rested for a while at a nearby park before getting back on the road.

Our destination was Table Rock Lake.

Terry was driving.

Soon, the landscape began changing rapidly.

We found ourselves on narrow, skinny roads filled with countless curves. Cars would suddenly appear around a bend, startling us. We were nervous, but at the same time, we were having fun.

And then the road turned into a full-blown roller coaster.

What an experience!

Dense forest surrounded us. One moment, our car would climb high into the hills; the next, it would plunge downward.

Up again.

Down again.

The road looked like a thin line laid across the side of a mountain, as though someone had stretched a thread along the hillside and said,

Follow this.

As we drove deeper into the folds of the Ozark Mountains, it felt as though the hills had risen like walls behind us, determined to keep the city far away.

Then it started raining.

What an incredible experience!

Shrabon was sitting in the back with the children because I had told him that I couldn’t handle them right then.

From the back seat, he kept asking,

“How are you feeling?”

I only nodded.

Terry had promised to take us to Table Rock Lake, but by then it seemed she was taking us somewhere beyond the edge of civilization, deep into a forest at the end of the earth.

When I told her that, she replied that she wanted her grave somewhere deep in the woods anyway, so why was I afraid?

Eventually, we arrived in Golden, a tiny place that felt more like a village than a city.

Officially, Golden exists on the map, but calling it a city almost feels unfair to cities.

Golden is a tiny unincorporated community in southeastern Barry County, home to fewer than 250 people. A post office has been operating there since 1876—which means the post office somehow feels older than the town itself. The name may have come from a local family named Golden.

I had called Golden a village.

But when we reached Terry’s brother’s house, we were speechless.

Their duplex sits right beside Table Rock Lake.

You can see the water from the porch.

It was breathtaking.

We walked down toward the lake.

The shoreline was rocky. There were several docks along the water, with yachts of different shapes and designs floating beside them.

Terry’s brother’s yacht was in their backyard, and Terry’s nephew, Dalton, was showing us around.

Until then, I hadn’t realized that Table Rock Lake was not really an ordinary lake at all.

It is a river held still.

The White River.

Humans built a dam across the river, interrupted its journey, gathered its water in one enormous place, and gave that water a new name:

Table Rock Lake.

Beginning in 1954, the U.S. Army Corps of Engineers spent eight years building the dam. They may have intended primarily to control flooding, but what emerged was an enormous reservoir covering around 43,000 acres, reaching roughly 220 feet at its deepest point, with approximately 745 miles of shoreline.

I stood there thinking—

If stopping a river can create a lake this enormous, then only I know how vast an ocean has been forming from all the tears I have kept trapped inside me.

Table Rock Lake is the water of a river that was held back.

And perhaps I had arrived there carrying the water of my own restrained tears.

The houses there were incredibly beautiful. One elegant home after another sat tucked into the hills, surrounded by vast stretches of open land.

Dalton told us that many people there had been pilots. Some owned their own airplanes—not large ones, just small aircraft that could carry about four people. The huge open spaces around the homes were there partly to allow the planes to move around.

We saw small airplanes parked in front of several houses.

The next morning, we even watched one take off.

I thought perhaps the people who live there simply cannot keep their hearts tied to the ground.

Even in the middle of such a deep forest, they have found a way into the sky.

A little airplane sits beside the car outside the house, and whenever they wish, they can spread their wings and rise above everything.

That night at three in the morning, I had wanted the same thing.

To leave everything behind and fly somewhere far away.

The only difference was that I had no airplane.

No wings.

So to get far away, I had to travel five hours by road.

At night, people there do not keep many outdoor lights on, partly to avoid disturbing the wildlife in the surrounding forest.

The darkness was astonishingly deep.

When we saw the moon, Shrabon and I left the children behind and stepped outside.

There was almost no artificial light anywhere.

Only the endless sounds of insects and the occasional chirping of birds that either stayed awake at night or had forgotten how to sleep.

I felt like we shouldn’t talk.

I just wanted to listen to whatever they were saying.

How long had it been since I had seen so many stars?

In the digital age, starlight has become strangely unfamiliar.

Our eyes have grown accustomed to the glow of tiny screens. We spend our lives looking downward at countless kinds of light, yet somehow we forget to lift our heads and look at the light above us.

Standing in that dense darkness that night, I realized something:

Without darkness, you cannot see this many stars.

For a long time, I simply looked at the sky.

Only hours earlier, I had felt as though the air around me was disappearing.

And there I was, breathing the cool forest air as deeply as I could.

My problems had not disappeared.

My life had not suddenly changed.

Only the place had changed.

The air around me had changed.

And perhaps, just a little, I had changed too.

Then I thought again about Table Rock Lake.

The water of the White River never truly stopped being water simply because a dam interrupted its journey. It was held back for a while.

And in that held-back water, stars are reflected.

Boats float.

People find shelter, beauty, and joy.

Perhaps something can be born from tears that have been held back too—if they are allowed somewhere to gather, and if someone cares enough to stop and look at them.

At three in the morning, when I woke Shrabon, all I had said was,

I want to go somewhere far away.

The first day of that journey somewhere far away ended in tiny Golden, Missouri.

Beside a deep forest.

Under a sky overflowing with stars.

Surrounded by a strange and beautiful silence.

And for the first time in a long while, I felt like I could breathe again.

07/30/2026

এই শহরে এখন কথা বলা নিষেধ।

বাতাসে অদ্ভুত এক সতর্কবার্তা ভাসছে
“চুপ থাকো, চোখ বাঁচাও।”

এখানে চোখ খুব দামী জিনিস।
যারা বেশি দেখে, বেশি বোঝে,
তাদের চোখই আগে হারিয়ে যায়।

শহরটা নাকি এখন ইজারা দেওয়া।
কার কাছে - তা কেউ জোরে বলে না,
তবে সবাই চুপচাপ জানে।

কিছু লোক আছে,
তারা মানুষের চোখ খায় না শুধু,
দৃষ্টি খায়।
বিবেক খায়।
মাঝে মাঝে কলিজাও খায়,
তারপর রাস্তায় দাঁড়িয়ে নিজেদেরই সাধু বলে ঘোষণা দেয়।

তাদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে কিছু শিল্পী,
যারা প্রতিটা নিষ্ঠুরতাকে সুরে বেঁধে দেয়।
আর কিছু লেখক,
যারা রক্তকে কালি বানিয়ে গল্প লেখে,
যেখানে অপরাধী নায়ক হয়ে যায়।

এই শহরে পড়াশোনা করা লোকও আছে।
তারা বই পড়ে, পরীক্ষা দেয়, চাকরি পায়,
তারপর খুব সাবধানে নিজের মুখে তালা লাগিয়ে ফেলে।

কারণ তারা জানে,
সত্য বলা এখানে বিলাসিতা,
আর চুপ থাকা বেঁচে থাকার কৌশল।

কখনো কখনো কেউ ভুল করে মানুষ হয়ে যায়।
সে প্রতিবাদ করে, প্রশ্ন করে, দাঁড়িয়ে যায়।
তখন শহরটা তাকে চিনতে পারে না,
ঠিক যেন ভিনগ্রহের কেউ এসে পড়েছে।

তারপর একদিন সে আর থাকে না,
থাকে শুধু গল্প,
আর কিছু সতর্কবাণী।

এই শহরের সবচেয়ে বড় শিক্ষা,
বাঁচতে হলে কম দেখতে হয়,
কম বুঝতে হয়,
আর সবচেয়ে বেশি - চুপ থাকতে হয়।

তবু অদ্ভুতভাবে,
এই নীরবতার ভেতরেই
সবচেয়ে বেশি চিৎকার লুকিয়ে থাকে।

07/30/2026

একটা প্রশ্ন আজ কদিন ধরে মাথার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে।

আচ্ছা, আমরা কেন পড়াশোনা করি?

ছোটবেলা থেকে একটা উত্তরই শুনে এসেছি, "মানুষ হওয়ার জন্য।"

কিন্তু সত্যি কথা বলতে, কথাটা এখন আর বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না। বরং মনে হয়, এটা এমন এক বাক্য, যেটা আমরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বলে যাচ্ছি, অথচ নিজেরাই বিশ্বাস করি না।

আমরা পড়াশোনা করি বড়লোক হওয়ার জন্য। ভালো চাকরি, বড় বাড়ি, দামি গাড়ি, সামাজিক মর্যাদা আর ক্ষমতার জন্য।

কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, আজকাল এসবের জন্যও পড়াশোনা খুব জরুরি নয়। একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, একজন টিকটকার, একজন ভ্লগার কিংবা একজন ইনফ্লুয়েন্সার ডিগ্রি ছাড়াই কোটি কোটি মানুষের পরিচিত মুখ হয়ে যেতে পারে। অর্থ, খ্যাতি, প্রভাব, সবই পেতে পারে।

তাহলে প্রশ্নটা আবার ফিরে আসে।

পড়াশোনা কেন?

হয়তো পড়াশোনা আসলে টাকার জন্য নয়, নামের জন্য।

এমন একটা পরিচয়ের জন্য, যেটা শুনে মানুষ সম্মানের চোখে তাকাবে। বাবা মা গর্ব করবেন। সমাজ আপনাকে শিক্ষিত বলে ডাকবে। আমরা আসলে ডিগ্রির মাধ্যমে একটা সামাজিক পরিচয় কিনতে চাই।

কিন্তু সেই পরিচয়ের সঙ্গে মানুষ হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।

বরং আমার মনে হয়, মানুষ আসলে মানুষ হওয়াকেই সবচেয়ে বেশি ভয় পায়।

কারণ সত্যিকারের মানুষ হওয়া মানে শুধু ভালো মানুষ হওয়া নয়। সত্যিকারের মানুষ হওয়া মানে সৎ থাকা, অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করা, নিজের বিবেকের সঙ্গে প্রতারণা না করা।

কিন্তু এই কাজগুলো করলে মানুষ আপনাকে বাহবা দেবে না।

বরং ধীরে ধীরে আপনাকে এড়িয়ে চলবে।

আপনি লক্ষ্য করবেন, অনেকেই আপনার সঙ্গে ভালোবাসার অভিনয় করবে, কিন্তু সত্যিকারের ভালোবাসবে না।

কারণ আপনার উপস্থিতি তাদের ভেতরের মানুষটার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।

আপনি তাদের সামনে এমন এক আয়না হয়ে দাঁড়ান, যেখানে তারা নিজেদের মুখোশ ছাড়া মুখটা দেখতে বাধ্য হয়।

আর নিজের আসল মুখ দেখতে সবাই সাহসী নয়।

তাই সত্যিকারের মানুষ এই সমাজে অনেকটা এলিয়েনের মতো।

সে একই পৃথিবীতে থাকে, কিন্তু পৃথিবী তাকে নিজের একজন বলে মনে করতে পারে না।

মানুষ হওয়ার জ্বালা অনেক।

মানুষ হলে একা হতে হয়।

মানুষ হলে অনেক বন্ধু হারাতে হয়।

মানুষ হলে অনেক আপন মানুষও দূরে সরে যায়।

কারণ অধিকাংশ মানুষ ভালো মানুষকে ভালোবাসে না। তারা শুধু ভালো মানুষের গল্প শুনতে ভালোবাসে।

হয়তো এ কারণেই পৃথিবীতে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে।

কিন্তু মানুষের সংখ্যা বাড়ছে না।

মানুষের ভিড়ে মানুষ খুঁজে পাওয়াটাই দিন দিন সবচেয়ে কঠিন হয়ে উঠছে।

আমি চাই আমার অরু আর অভ্র মানুষের বাচ্চা না হলেও মানুষ হোক। নিজের বিবেকের সাথে প্রতারণা না করুক। যে কোন পরিস্থিতিতে অন্যায়ের সাথে আপোষ না করুক।মুখে এক আর মনে আরেক এমন পশুতে পরিণত না হউক। আমীন।

বিউটি পালের গানের সঙ্গে নীল শাড়ি উড়িয়ে দেওয়া ভিডিওটা দেখে আমারও এমন একটা ভিডিও বানাতে ইচ্ছে হয়েছিল। কিন্তু ভিডিওটা দ...
07/28/2026

বিউটি পালের গানের সঙ্গে নীল শাড়ি উড়িয়ে দেওয়া ভিডিওটা দেখে আমারও এমন একটা ভিডিও বানাতে ইচ্ছে হয়েছিল। কিন্তু ভিডিওটা দেখার পর ফেসবুকে ঢুকে দেখি বিরাট চিল্লাচিল্লি চলছে। তিনটা পক্ষ রীতিমতো ঝগড়ায় নেমে গেছে।

একদল বলছেন, শিক্ষকের কাজ শিক্ষাদান, রিল বানানো নয়। এতে শিক্ষকতা পেশার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়।

আরেক দল ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, যেখানে গান আর নাচকে সরাসরি অগ্রহণযোগ্য বলা হচ্ছে।

আর তৃতীয় একটা দল উল্টো পথে হেঁটেছেন। শিক্ষকদের নেচে গেয়ে রিল বানানোকে তারা প্রায় মহাপুণ্যের কাজ বানিয়ে ফেলেছেন। নিজেরাও একই ধাঁচের ভিডিও বানিয়ে ছেড়ে দিচ্ছেন। এই দলে বোরকা আর হিজাব পরা বেশ কয়েকজনের ভিডিওও আমি দেখেছি।

সবার মতামত পড়তে পড়তে মাথায় অনেক প্রশ্ন জমে উঠল।

প্রথম প্রশ্নটা হলো, বিউটি রাণী পাল হঠাৎ ভাইরাল হলেন কেন।

বিষয়টা আমার কাছে পুরোপুরি রাজনৈতিক মনে হয়েছে। ঠিক যে সময়ে রাষ্ট্রপতির গ্রেফতার আর সেইফ এক্সিটের খবর সামনে আসার কথা, ঠিক তখনই আলোচনায় চলে এলেন বিউটি পাল। অথচ তিনি নিয়মিতই ক্লাসরুমে রিল ভিডিও করে ছাড়েন। এতদিন কোনো ঝামেলা হয়নি।

শুধু তিনি একা নন। বাংলাদেশের আরও অনেক শিক্ষকই ফেসবুকে ক্লাসরুমের রিল দেন। এতগুলো বছরে তাদের কাউকে নিয়ে এমন ঝড় ওঠেনি। তাহলে আজ কেন হলো, সেই প্রশ্নটা থেকেই যায়।

দ্বিতীয় প্রশ্নটা প্রতিবাদ নিয়ে।

বাংলাদেশের শিক্ষকরা আসলে প্রতিবাদ করেন, নাকি করতে পারেন?

এই শিক্ষকরাই তো নিয়মিত অভিভাবকদের হাতে চড় খান। এমন ভিডিও প্রায়ই ভাইরাল হয়। কিন্তু তখন প্রতিবাদ কোথায় থাকে?

শিক্ষামন্ত্রী অন্যায়ভাবে কুমিল্লার একটি কলেজের সাতজন শিক্ষককে বদলি করলেন। তখন কোনো শিক্ষককে সোচ্চার হতে দেখা যায়নি।

উল্টো একজন শিক্ষক, যাঁর পক্ষে কলেজের ছাত্ররা প্রতিবাদ করেছিল, তিনি ছাত্রের পায়ে পড়ে বলেছেন, বাবা আমার চাকরিটা খেয়ো না। আমাকে বাঁচতে দাও।

আর সেই ভিডিওটাই আবার আরেকজন শিক্ষক শেয়ার দিয়ে ছাত্রীদের বেয়াদব বলে গালি দিয়েছেন।

এই দুটো ঘটনা পাশাপাশি রাখলে বোঝা যায়, পরিস্থিতিটা আসলে কেমন।

তিনটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যিনি সত্যিকার অর্থে অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন, বাস্তবে তাঁর পাশে দাঁড়াতে দেখিনি কাউকে। বরং উল্টোটাই দেখেছি। একজন শিক্ষককে সবাই মিলে হেনস্তা করার গল্প অসংখ্য শোনা যায়।

তাই শাড়ি উড়িয়ে বানানো এই প্রতিবাদী ভিডিওগুলোকে আমার কাছে অনেকটাই লোক দেখানো মনে হয়েছে। (জি, ভয়ানক তিতা কথা।ভাগ্যিস ফেসবুক ছিল নয়তো এই প্রতিবাদের কথা কেউ জানত না।)

অথবা বলা যায়, মৌলবাদীদের এক হাত নেওয়ার একটা উপলক্ষ ছাড়া এর বেশি কিছু নয়।

নিজের চাকরি বিপন্ন করে কোনো শিক্ষককে সত্যিকার অর্থে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে দেখা যায় না। বাংলাদেশে তো নয়ই।

আর যিনি সাহস করে প্রতিবাদ করেন, বাস্তবে তাঁকেই সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হয়। তাঁকে কেউ পছন্দ করে না। বছরের পর বছর তাঁর পদোন্নতি আটকে থাকে। আর পেছন থেকে কলকাঠি নাড়েন তাঁরই সহকর্মীরা।

আমি নিজে শিক্ষক ছিলাম, তখন যখন শিক্ষকতা আমার পেশা ছিল না। সেই সময়টার সঙ্গে এখনকার পার্থক্যটা বুঝি বলেই মনে হয়, বাংলাদেশের শিক্ষকতা পেশাটাকে আসলে খেয়ে দিয়েছে রাজনীতি।

স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এখন একেকটা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ছাড়া আর কিছু নয়।

নীতি নৈতিকতা টিকে আছে শুধু কিছু শিক্ষকের ব্যক্তিগত দায়বোধের জোরে। যাঁরা নিজে সেটা মেনে চলেন, আর অন্যদেরও মানাতে চান। আর যেসব শিক্ষক নিজে সৎ থাকেন, ছাত্ররা তাঁদের কথাকেই বেদবাক্যের মতো মনে করে।

শেষ পর্যন্ত এই কজন শিক্ষকই বোধহয় এই পেশাটাকে এখনো ধরে রেখেছেন।

Address

Topeka, KS
66614

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nusrat Sharmin Nisha posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Nusrat Sharmin Nisha:

Shortcuts

Share