05/03/2026
"দুরুদ-ইস্তেগফার করেও ফায়দা হচ্ছে না"_এমন মেসেজ ইনবক্সে অনেক পাই। এই সমস্যার সমাধান কোথায়? সমাধান বিশ্বাসে!
নিজের জীবন থেকে বলি৷ যে দুআটা আমি আল্লাহর উপর দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে করি,সেই দুআ যতই অসম্ভব হোক না কেন,কবুল হয়ই৷ যখন আমার বিশ্বাস নড়বড়ে হয়ে যায়, তখন সাধারণ দুআ করেও খুব একটা ফায়দা আসে না৷
দুইদিন আগে এক বিষয় নিয়ে পেরেশানিতে পড়েছিলাম। যেটার ইন্সট্যান্ট সলভ দরকার ছিলো। কি করবো বুঝতে পারছিলাম না৷ ইস্তেগফার, দুরুদ করছিলাম। কিন্তু মন থেকে জোর দিয়ে করছি না। হঠাৎ সূরা আনফালের অর্থ পড়তে গিয়ে ইস্তেগফার নিয়ে একটা আয়াত পেলাম!
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা ওয়াদা করেছেন, বান্দা যতক্ষণ ইস্তেগফারে থাকবে,ততক্ষণ অবধি তাকে কোনো আযাব স্পর্শ করতে পারবে না৷ চিন্তা এলো,এই যে আমি পেরেশানিতে আছি,এটাও তো আল্লাহর পক্ষ থেকে আযাব হতে পারে। আমি যদি সত্যিকার অর্থে দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে ইস্তেগফার করি,আল্লাহ পথ বাতলে দিবেন। হাদিসে আছে, দুরুদ পাঠে দুনিয়া ও আখিরাতের পেরেশানি দূর হয়৷ রাসুলুল্লাহ ﷺ তো কখনোই মিথ্যা বলতে পারেন না৷ শুরু করলাম ইস্তেগফার ও দুরুদ পাঠ।
জবানের চেয়ে মনের দৃঢ়তা ছিলো বেশি। আয়াতটা বারবার মাথায় হিট করছিলো৷ হাদিসের কথা মনে পড়ছিলো।
সুবহানআল্লাহ, ঘন্টাখানেক যেতে না যেতেই ওই পেরেশানি থেকে উত্তরণের পথ বাতলে দিলেন আমার রব্ব৷ অথচ এর আগেও আমি দুরুদ-ইস্তেগফারে ছিলাম। কিন্তু ফল পাচ্ছিলাম না। কেন? দৃঢ় বিশ্বাসের অভাবে!
কখনো আমার এতো বেশি তাড়া থাকে যে খাওয়ার টাইমটুকু হয় না। সেসময় এক গ্লাস পানি খাই বিসমিল্লাহ পড়ে৷ নিজেকে বিশ্বাস করাই,আল্লাহর নাম যেহেতু নিয়েছি,এই পানিতেই আল্লাহ আমার জন্য এনার্জি, বারাকাহ্ দিয়ে দিবেন। দুআও করি। আসলেও তাই হয়! পেটপুরে খেয়ে যে এনার্জি পাই না,এক গ্লাস পানি খেয়েই কয়েক ঘন্টা ভালোই কাটিয়ে দিতে পারি। এতো দৌড়-ঝাঁপেও সমস্যা হয় না। সবই বিশ্বাসের কারণে!
এই যে স্কিনকেয়ার করি,কখনোই প্রোডাক্টের উপর ভরসা করি না। যখনই করে ফেলি,সেই প্রোডাক্টে তেমন একটা ফল পাই না। হাস্যকর একটা কথা বলি। আমার ড্রাই স্কিন হওয়া সত্ত্বেও আমি অয়েলি স্কিনের প্রোডাক্ট ইউস করেছিলাম একবছর, শুধু নিজের বিশ্বাসে দৃঢ়তা আনতে যে_ প্রোডাক্ট কেবলমাত্র একটা উসিলা। আল্লাহর রহমতে আমার কোনো সমস্যা হয়নি। আপনারা এটা এপ্লাই করতে যাবেন না৷ এমন করা উচিত না। আমি নিজের জন্য করেছিলাম।
জীবনে সবকিছুর মধ্যে বারাকাহ্ চাইলে নিজের নিয়্যাতকে পরিশুদ্ধ করা প্রয়োজন। আর প্রয়োজন আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস। আমরা সুন্নাহ হিসেবে উসিলা গ্রহণ করবো। কিন্তু পরিপূর্ণ ভরসা হবে একমাত্র আল্লাহর উপর।
এই বিশ্বাস একদিনে আসে না। একবার এসে গেলেও আজীবন থেকে যায় না৷ প্রতিটা মূহুর্তে নিজের সাথে নিজেকে যুদ্ধ করতে হয়। নিজেকে বুঝাতে হয়," আমার রব্ব সেই সুমহান সত্তা,যাঁর হাতে সকল ক্ষমতা"।
নিয়মিত কুরআনের ভাবানুবাদ, আত্মশুদ্ধিমূলক বই,উত্তম সোহবত, দুআতে লেগে থেকে আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস অর্জন সহজ হবে,ইনশাআল্লাহ!
সংগৃহীত