Afifa Amin

Afifa Amin Dirty water doesn't stop plants from growing, so don't let negative words stop your progress♡♡

03/09/2026

নফসের বিরুদ্ধে লড়াই

নফসের ব্যাধি

১. অহংকার:

এ সর্ম্পকে কয়েকটি হাদিস ও কুরআনের আয়াত রয়েছে। মহান আল্লাহর সঙ্গে কৃত সর্বপ্রথম গোনাহ হলো অহংকার।

▪️এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে ইরশাদ করেন,

নিশ্চয় তিনি (আল্লাহ) অহংকারীদের ভালোবাসেন না। (সূরা নাহল, আয়াত-২৩)

▪️আল্লাহ তাআলা বলেন, যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, তোমরা আদমাকে সিজদা করো, তখন ইবলিস ছাড়া সবাই সিজদা করল। শুধু সে অহংকার বশত সিজদা করতে অস্বীকার করল। আর সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলো। (সূরা বাকারা, আয়াত-৩৪)

▪️অহংকারীদের জায়গা হচ্ছে জাহান্নাম। যেটা রাসুল (সা.) সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন,

হারিস ইবনু ওয়াহাব খুযাঈ রাযি. থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন, আমি নবী (সা.) কে বলতে শুনেছি, আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতী লোকদের পরিচয় বলবো না? তারা দুর্বল এবং অসহায়, কিন্তু তারা যদি কোনো ব্যাপারে আল্লাহর নামে কসম করে বসেন, তাহলে তা পূরণ করে দেন। আমি কি তোমাদেরকে জাহান্নামী লোকদের পরিচয় বলবো না? তারা রূঢ় স্বভাব, অধিক মোটা, এবং অহংকারী তারাই জাহান্নামী। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৪৯১৮)

▪️অপর একটি হাদিসে এসেছে,
অহংকারী মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।

▪️রাসুল সা. ইরশাদ করেন, যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
একজন সাহাবি বলেন, মানুষ তো চায় যে, তার কাপড় সুন্দর হোক এবং তার জুতা সুন্দর হোক (এটা কি অহংকার বলে গণ্য হবে?) রাসুল সা. বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর। অতএব, তিনি সুন্দর পছন্দ করেন। তবে অহংকার হচ্ছে সত্য প্রত্যাখান ও মানব অবমূল্যায়ন।(মুসলিম হাদিস-৯১)

▪️আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত,
রাসুল সা. ইরশাদ করেন,
একদা এক ব্যাক্তি এক জোড়া জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক পরে চলছিল। তা নিয়ে তার খুব গর্ববোধ হচ্ছিল। তার জমকালো লম্বা চুলগুলো সে খুব যত্ন সহকারে আঁচড়ে রেখেছিল। হঠাৎ আল্লাহ তাআলা তাকে ভূমিতে ধসিয়ে দেন এবং সে কিয়ামত পর্যন্ত এভাবেই নিচের দিকে নামতে থাকবে। (বুখারী হাদিস, ৫৭৮৯)

▪️আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত ,
রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন,
তিন ব্যাক্তির সঙ্গে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা কথা বলবেন না, তাদের গোনাহ থেকেও পবিত্র করবেন না, তাদের দিকেও রহমতের দৃষ্টিতেও তাকাবেন না এবং তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি। তারা হচ্ছে বৃদ্ধ ব্যভিচারী, মিথ্যুক রাষ্ট্রপতি ও দাম্ভিক ফকির। (মুসলিম হাদিস, ১০৭)

কিছু কথন:

> অহংকার ধ্বংসের সুতো বুনে। আর আমরা সেই সুতো ব্যবহার করে নিজেরাই নিজেদের আত্মিক উন্নয়নে কপাট লাগাই!

> অহংকার পতনের মূল। কারণ, অহংকার হচ্ছে সত্যকে উপেক্ষা করে মিথ্যার আশ্রয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা। নিজেকে বড় মনে করে কল্পনার রাজ্যে এক বিশাল অট্টালিকা নির্মাণ করা। যেই অট্টালিকায় শুধু আপনি-ই রাজা; বাকি সব প্রজা।

> অহংকার দমিয়ে রাখতে শিখুন, নতুবা এক দরজা দিয়ে বাঘ হয়ে ঢুকে, অপর দরজা দিয়ে ইঁদুর হয়ে বের হতে হবে।

> নফসকে এসলাহ করা যাবে না, যতক্ষণ না অহংকারের মতো বড় শত্রু থেকে নিজেকে আত্মগোপন করছেন।

> আমি জানি-আমার মাথা আমার টুপির চেয়ে বড় নয়; আমি জানি-আমার দেহ আমার জামা থেকে বড় নয়। ঠিক তদ্রুপ, আমার কর্মও কখনো শিক্ষার উর্ধ্বে নয়; আমার ব্যক্তিত্বও অমুকের উর্ধ্বে নয়। তবে কেনো এত অহংকার? যদি তোমার আত্মমর্যাদা তোমার হৃদয়ের চেয়ে বড় এবং তোমার অহংকার তোমার মাথার চেয়ে বড় হয়, তবে তা দূর করার চেষ্টা করো। কেননা, এটাই তোমাকে বিষণ্ণতায় নিক্ষেপ করবে; ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিবে।

> একারণে অন্যকে ঘৃণা করা, তোমার অহংকারী পরিচয় সর্বত্র তুমি যতোই নিজেকে অহংকারমুক্ত দাবি করো-না কেন। প্রচার করছে। তাই, নিজেকে অহংকারমুক্ত দাবি না-করে, অহংকারের গোড়ায় নম্রতার পানি ঢালো।

> সেই সংসার সুখের মুখ দেখতে পায় না। কর্তা-কর্তী'র মুখ নামক সংসারের উন্ননে যদি অহংকারের আগুন প্রজ্জলিত হয়, তবে উনুন থেকে শুধু আগুনের ধোঁয়া-ই বের হয়; হিমেল শীতল হাওয়া নয়। এজন্যই বলা হয়-একজন অহংকারী মহিলা সংসারের পুরো কাঠামো বিনষ্ট করতে যথেষ্ট: একজন অহংকারী মহিলা গৃহে আগুন লাগাতে যথেষ্ট।

অহংকার এমন এক চাদর, যা মানুষের সকল গুণাবলি ঢেকে নেয়। অহংকার এমন এক আবরণ, যা একজন মহৎ ব্যক্তির মহত্বকে ঢেকে দেয়। অহংকার এমন এক চাদর, যা একজন ভুলে ভরা মানুষের সমস্ত ভুলের উপর পর্দা টেনে দেয়। ফলে, ওই ব্যক্তি কখনো নিজস্ব ভুলের ব্যাপারে সম্যক অবগত হতে পারে না।

> অহংকার নিজের মধ্যেই পোষা যায়। খাবার সংগ্রহের কোনো চিন্তা থাকে না। কেননা, নফস জানে কীভাবে অহংকার নিজের মধ্যে পোষতে হয়; কীভাবে তাকে মোটা-তাজা করতে হয়।

> এই অনিশ্চিত জীবনে কীসের এত অহংকার? যেখানে প্রাণ বিয়োগে টানতে হয় অস্তিত্বের ইতি!

> মনে রাখবেন, অহংকার আপনাকে আমাকে মানসিক রোগী বানানোর জন্য যথেষ্ট। কেননা, অহংকারী নফস সর্বদাই প্রশংসার দাবিদার। এদিকে আপনার আমার খ্যাতি সীমিত সময় পর্যন্ত বহাল থাকে। এক সময় প্রশংসার পরিবর্তে নিন্দা পেতে হয়-নানান জনের কাছ থেকে। তখন অহংকারী নফস এটা কখনোই মেনে নিতে পারে না। যার ফলে ডিপ্রেশন সর্বদাই আমাদের দরজায় কড়া নাড়তে থাকে।

> অহংকার নফসের এমন এক বিপদজনক অবস্থা, যা সর্বদাই আপনার আমার ধ্বংসের কূপ খননে ব্যস্ত। অহংকার নফসের এমন এক ব্যাধি, যা দু'জন ঘনিষ্ঠ মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে অগাধ ভমিকা রাখে। অহংকার নফসের এমন এক ব্যাধি, যা মনের গহীনে লুকিয়ে থাকা অব্যক্ত ভালোবাসা এবং যাবতীয় গুণাবলীকে গ্রাস করে নেয়। অহংকার নফসের এমন এক ব্যাধি, যা জ্ঞান অর্জনের রাস্তায় সর্বদাই প্রতিবন্ধকতা।

আমরা বলি অমুক শিক্ষিত হয়েছে, অনেক বড় ডিগ্রি অর্জন

ধারণা ভুল। প্রকৃতপক্ষে, কোনো জ্ঞানী-ই, অহংকারী হতে পারে

করেছে, তাই দিন দিন তার অহংকার বৃদ্ধি পাচ্ছে-আসলে এই অহংকার ততই বৃদ্ধি পাবে।

না। জ্ঞান হলো অহংকার দূর করার মাধ্যম, যতই জ্ঞান বাড়বে

অহংকার ততই হ্রাস পাবে। পক্ষান্তরে যতই জ্ঞান কমবে,

> জীবনের দূরপাল্লায় তুমি কখনো সফলতার মূল লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না, যদি তোমার অহংকার, তোমার ওপর বিজয় অর্জন করে। আগে অহংকার'কে পরাজিত করো, তারপর অন্যত্র বিজয় তালাশ করো।

> হযরত মাওলানা মাহমুদ হাসান গঙ্গোহী রহি. যখন কোনো ত্বলিবুল ইলমের মধ্যে অহংকার দেখতে পেতেন, তখন তার এই অহংকারের চিকিৎসার জন্য তাকে আদেশ দিতেন, "তুমি দৈনিক পাঠকক্ষের সামনে ছাত্রদের জুতো ঠিক করে রাখবে!" আর যখন কোনো ত্বলিবুল ইলমকে বিনয়ী দেখতেন, তখন তার জুতো তিনি নিজেই ঠিক করে দিতেন! আল্লাহু আকবার!

বই: নফসের বিরুদ্ধে লড়াই
লেখক: মাহমুদ বিন নূর

01/09/2026

নফসের বিরুদ্ধে লড়াই

◾নফসের ধোঁকা

▪️আজই ফার্স্ট, আজই লাস্ট

নফস হলো ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত। নফস কখনো তার ক্ষুদা নিবারণ করতে পারে না। তার কাছে শত পাওয়াও, না পাওয়ার মতো। একবার (গোনাহের) কাজটি করলে কিছুই হবে না, আর এইভাবে নফস আবার কাজটি করার পরামর্শ দেয় আর তখন আপনিও নফসের চাহিদা পূরণ করতে কাজটি পুনরায় করেন। ধীরে ধীরে তা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। এভাবে প্রতিদিন এই বলে ধোঁকা দিচ্ছে-আজই শেষ দিন, আর কখনো দেখবো কাজটি করবো না। একজন মানুষকে সকল অপকর্মে আসক্ত করার পিছনে মূল হচ্ছে এই নফস।

নফস বারবার আপনার দ্বারা গুনাহ করাতে নানা ওয়াসওয়াসা দিতেই থাকে। এ সম্পর্কে আশরাফ আলী তানুভি রহি বলেন, বুঝে নিবেন এই গোনাহের পেছনে ইন্ধনদাতা হচ্ছে বেহায়া নফস।

নফসের তাড়নায় পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়। কাবিল তার ভাই হাবিলকে হত্যা করতে নফস উদ্যত করেছিল।

▪️এ ব্যাপারে কুরআনে বর্ণিত আছে,
অতঃপর তার নফস তাকে ভ্রাতৃহত্যায় উদ্বুদ্ধ করল। অনন্তর সে হত্যা করল। ফলে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তভুক্ত হয়ে গেলো। (সূরা মায়িদা-আয়াত ৩০)

▪️এ প্রসঙ্গে একটি হাদিস ও আছে।
রাসুল সা. বলেছেন,
পৃথিবীতে যখনই অন্যায়ভাবে কোনো হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়, তখন পাপের একটি অংশ অবশ্যই আদমের প্রথম পুত্র কাবিলের উপর পড়ে। কেননা সেই প্রথম ব্যাক্তি, যে অন্যায় হত্যাকান্ডের সূচনা করে।(আল বিদায়া ওয়ান নিয়াহা স্বাত্র মুসনাদে আহমদ)

▪️নফসের ধোঁকায় আযীযের স্ত্রী 'জুলাইখার পদস্খলন:
আযীযের স্ত্রীর বক্তব্য, আমাকে আমার নফস তার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছে। নফসের প্রতারণায় পড়ে আমি ইউসুফকে আমার ফাঁদে ফেলার প্রচেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু সে আমার ফাঁদে পড়েনি। আমার নফস আমাকে এই খারাপ কাজে অগ্রসর করেছে।

এ সর্ম্পকে কুরআনে বর্ণিত হয়েছে,

জুলাইখার বক্তব্য: আমি নিজেকে দোষমুক্ত মনে করি না, কেননা মানুষের নফস তো খারাপ কর্ম প্রবণ। (সূরা ইউসুফ, আয়াত-৫৩)

◾নফসের ধোঁকায় অপবাদ রটানো

জাহেলি যুগের আরব অধিবাসীরা একে অপরের বিরুদ্ধে অপবাদ সৃষ্টি এবং সংঘাতে মদদ জুগিয়ে আনন্দ পেত। অযোক্তিকভাবে তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কারোর চরিত্র সর্ম্পকে প্রশ্ন তোলা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে এবং ধর্মীয় দৃষ্টিতে তা কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

🔸এ বিষয়ে সতর্ক করতে পবিত্র কুরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন,
যারা সতী-সাব্বী, নিরীহ মুমিন নারীদের বিরুদ্ধে অপবাদ আরোপ করে, তারা ইহলোক ও পরলোকে অভিশপ্ত এবং তাদের জন্য রয়েছে গুরুতর শাস্তি।(সূরা আননূর-২৩)।

🔸এছাড়াও এই সর্ম্পকে একটি হাদিস রয়েছে।
এ সর্ম্পকে রাসুল (সা.) বলেন,

সাতটি ধ্বংসকারী পাপ থেকে তোমরা বেঁচে থাক।
জিজেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল (সা.) ঐগুলো কী? উত্তরে তিনি বললেন, ঐগুলো হলো আল্লাহর সাথে শিরক করা, যাদু করা, বিনা কারণে কাউকে হত্যা করা,সুদ খাওয়া, ইয়াতীমের মাল আত্মসাৎ করা, জিহাদের ময়দান হতে পলায়ন করা এবং সতী-সাব্বী, সরল মুনিনা স্ত্রীলোকের ওপর অপবাদ আরোপ করা। (ফাতহুল কারী ৫/৪৬২ মুসলিম ১/৯২, উদ্ভুত,তাফসীরে ইবনে কাসীর)।

◾নফসের গোলামীর কারণ

১. শৈশবে নফস নিয়ন্ত্রণে অভ্যস্ত না হওয়া:

এটা হয়ে থাকে ভুল প্যারেন্টিং এর কারণে। বাচ্চাদেরও নফস রয়েছে, রয়েছে নফসের চাহিদা। শৈশবকাল থেকেই নফসের তাকাজা (নফসের চাহিদা)অনুযায়ী সে যা চেয়েছে তাই পেয়েছে। আর এই পাওয়াগুলো শৈশবেই কেড়ে নিয়েছে তার ফিতরাতে নফসানিয়্যাহ (নফসের স্বাভাবিক স্বভাব)।

তাই আমাদের উচিত, নফসের চাহিদার বিপরীত কাজ করতে সর্বদাই তাদের উদ্বুদ্ধ করা। তাকে নফসের নিয়ন্ত্রণে অভ্যস্ত হতে প্রশিক্ষণ দেয়া। সাহাবায়ে কেরাম তাদের বাচ্চাদের সেভাবই গড়ে তুলেছেন। শারয়তের বিধি-বিধানে শৈশবেই তাদেরকে অভ্যস্ত করেছেন।

🔸এ ব্যাপারে একটি হাদিস রয়েছে,
রুব্বায়্যি' বিনতু মু'আব্বিয রাযি. থেকে বর্ণিত।
তিনি বলেন,
আশুরার সকালে আল্লাহর রাসুল (সা.) আনসারদের সকল পল্লীতে এ নির্দেশ দিলেন, যে ব্যাক্তি সওম পালন করেনি সে যেন দিনের বাকি অংশ না খেয়ে থাকে আর যার সওম অবস্থায় সকাল হয়েছে, সে যেন সওম পূর্ণ করে। তিনি (রুব্বায়্যি রাযি.) বলেন, পরবর্তীতে আমরা ঐ দিন সওম পালন করতাম এবং আমাদের শিশুদের সওম পালন করাতাম।

আমরা তাদের জন্য পশমের খেলনা তৈরি করে দিতাম। তাদের কেউ খাবারের জন্য কাঁদলে তাকে ঐ খেলনা দিয়ে ভুলিয়ে রাখতাম। আর এভাবেই ইফারের সময় হয়ে যেত। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং-১৯৬০)

২. নফসের অনুসারীর সঙ্গে উঠাবসা করা:

নফসের গোলামীর আরেকটি কারণ হচ্ছে, যারা সবসময় নফসের গোলামী করে, নফসের অনুসরণ করে প্রবৃত্তির তাড়নায় ছুটে চলে-তাদের সাথে ওঠা-বসা করা, তাদের সাথে বন্ধুত্ব করা। খারাপ নফসের অধিকারী ব্যাক্তির প্রভাব, তার পার্শ্ববর্তী ব্যাক্তির নফসের ওপরেও পড়ে। তার সাথে ওঠা-বসা করতে করতে ধীরে ধীরে তার নফসও তার বন্ধুর নফসের মতো লাগামছাড়া হয়ে যায়। এজন্য, আমাদের উচিত খারাপ সঙ্গ ত্যাগ করে, সব সময় আল্লাহ ওয়ালাদের সাথে সর্ম্পক করা।

৩. আমাদের সমাজব্যবস্থাঃ

আজ আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এমন যে, আজকাল খারাপ কাজের কোনো বাধা নেই। না ব্যাক্তিত্বের বাধ্য, না আইনের বাধা, আর না উপায় উপকরণের বাধা। ব্যাক্তি এবং খারাপ কাজের মাঝখানে কোনো দেয়াল নেই। যখন ইচ্ছে তখনই তার সাহওয়াত পূরণ করতে পারছে। এজন্য সর্বপ্রথম অশ্লীল কাজ সম্পাদনের মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়াতে হবে। তার কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াতে হবে। কাজ সম্পাদনের যাবতীয় উপায়-উপকরণ দূরে রাখতে হবে। নয়তো নফসের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করা প্রায় অসম্ভব।

৪. আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাঃ

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় রয়েছে অনেক অনেক ঘাটতি। সঠিক জ্ঞানের অভাবে মানুষ নফসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে জানে না। শরিয়তের বিধি-বিধান সর্ম্পকে অজ্ঞতা, তাকে নফসের গোলাম বানিয়ে দেয়।

৫. আমাদের দৈনন্দিন রুটিনঃ

আমাদের দৈনন্দিন রুটিন অনেকটা নফসের চাহিদার অনুকূলে। আমাদের রুটিন - সারাদিন খেলাধুলা, আড্ডাবাজি, স্কুল-কলেজ, কাজ আর কাজ, বিভিন্ন ব্যস্ততা। ঠিক নফসের চাহিদাও অনুরূপ। তাই তো খুব সহজেই আমরা নফসের গোলাম হয়ে যাই।

বই: নফসের বিরুদ্ধে লড়াই
লেখক: মাহমুদ বিন নূর

30/08/2026

নফসের বিরুদ্ধে লড়াই

◾নফসের খোরাক, রূহের খোরাক

নফসের খাবার হচ্ছে, শাহওয়াতে নফসানিয়্যাহ (মনের কুপ্রবৃত্তি) খারাপ কাজ। অপরদিকে রূহের খাবার হচ্ছে নেক কাজ।

রূহকে সতেজ রাখতে হলে:

▪️বেশি বেশি জিকির করতে হবে।

▪️নফসকে দমিয়ে রাখতে বেশি বেশি রোজা রাখতে হবে।

▪️বেশি বেশি নেক কাজ করতে হবে।

◾নফসের হাতিয়ার

আমাদের শরীরের এমন কতক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রয়েছে, যাদের বদৌলতে নফস, তার হীন চরিতার্থ বাস্তবায়ন করে। যাদের সাহায্যে খুব সহজেই তার মনোবৃত্তি পূরণ করে। ঐ সব অভঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে বলা যায়, 'নফসের হাতিয়ার। নফসের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হচ্ছে চোখ। নজর হচ্ছে শয়তান ও নফসের তীর। নফস শুধুমাত্র চোখকে ব্যবহার করে, তা কিন্তু নয় শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যবহার করে থাকে। যেমনঃ হাত, পা, কান, মুখ, ইত্যাদি। সমস্ত গোনাহ থেকে বাঁচতে কুরআনে ও হাদিসে বর্ণিত কিছু কার্যকরী পদধতিঃ

▪️চোখ

আমাদের সবসময় এ ভয় করা উচিত যদি এ চোখ দিয়ে আল্লাহ তায়ালার নাফরমানি করি, আর তিনি যদি এ দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নেন।

🔸এ ব্যাপারে কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, তিনি জানেন পেখের চোরাচাহনি এবং সেইসব বিষয়ও, যা বন্ধ দেশে লুকায়িত। (সূরা মুমিন, আয়াত-১০))

🔸 আল্লাহ ইরশাদ করেন, আমি চাইলে তাদের চোখ লোপ করে দিতাম। তখন তারা পথ চলতে চাইলে কীভাবে দেখতে পেত। (সূরা ইয়াসীন, আয়াত-৬৬)

তাই গোনাহ থেকে বিরত থাকতে মনে রাখতে হবে
এই চোখই কেয়ামতের দিন এ অন্যায়ের ব্যাপারে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে।
▪️হাত-পা-কান- নাক-মুখঃ

যে কোনো কাজ করার আগে চিন্তা করতে হবে, আমি যে কাজ করছি কেয়ামতের দিন এসব অঙ্গই আমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে, কাজের বিবরণ দেবে।

🔸কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে,

নিশ্চয়ই কান, চোখ, হৃদয় আর প্রতিটি সর্ম্পকে জিজ্ঞাসা করা হবে। (সূরা বনি ইসরাঈল, আয়াত-৩৬)

সুতরাং, বেশি বেশি দু'আ করতে হবে,
হে আল্লাহ! আনাকে রক্ষা করুন চোখের যাবতীয় গুনাহ থেকে, সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গুনাহ থেকে।

বই: নফসের বিরুদ্ধে লড়াই
লেখক: মাহমুদ বিন নূর

29/08/2026

নফসের বিরুদ্ধে লড়াই

◾নফসের গঠন, আত্মশুদ্ধি, পরিণতি:

নফসকে তুলনা করা যায় জমির সাথে। জমি যখন আগাছায় ভরপুর হয়ে যায়, তখন জমি তার উর্বরতা হারিয়ে ফেলে। এজন্য, জমি থেকে উৎকৃষ্টমানের শস্য পেতে হলে তার যত্ন নিতে হবে, আগাছা পরিষ্কার করতে হবে, কীটপতঙ্গের আক্রমণ থেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, তবেই সেখান থেকে ভালো ফসল আশা করা যাবে।

-ঠিক আমাদেরই নফসটাও এরকম। যখন দেখবেন উর্বরতা হারিয়ে ফেলেছে, লাগামহীন হয়ে গেছে, তখনই অনতিবিলম্বে তাকে এসলাহ করতে হবে।

নফসের মধ্যে যত আগাছা আছে, তা সময় থাকতেই ছাঁটাই করতে হবে। যেমনঃ বিভিন্ন বদ অভ্যাস, অশ্লীল চিন্তা-ভাবনা, খারাপ মনোভাব। তার প্রয়োজনীয় খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে যেমন- কুরআন তেলাওয়াত যিকির-আজকার, নফল ইবাদত। তবেই নিজের আত্মিক উন্নয়ন ঘটবে। নফসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। তবেই নফসকে আগাছামুক্ত করা যাবে। অন্যথায়,আগাছায় আচ্ছাদিত হয়ে নফস তার আলোর দিশা হারাবে।

◾নফসের গোলামী করাও এক প্রকার শিরক

🔹শিরকের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন,

নিশ্চয় আল্লাহ তার সাথে শরীক করা মাফ করবেন না। এটা ছাড়া অন্য সব, যাকে ইচ্ছা মাফ করবেন এবং যে আল্লাহর সাথে শরীক করলো, সে এক মহা
অপবাদ আরোপ করলো। (সূরা নিসা, আয়াত-৪৮)

🔹অন্য একটি আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,

"আপনি কি তার প্রতি লক্ষ্য করেছেন, যে তার কুপ্রবৃত্তিকে স্বীয় উপাস্য স্থির করেছে? ( সূরা জাসিয়া, আয়াত-২৩)

অর্থাৎ আয়াতটিতে আল্লাহ তাআলা বলেন, আপনি কি তার প্রতি লক্ষ্য করেছেন, যে তার কুপ্রবৃত্তিকে ইলাহ বানিয়েছে। এ আয়াতকে সামনে রেখে অনেক বড় বড় স্কলারগণ বলেছেন, নফসের গোলামী করাও শিরক। লক্ষ্য করে দেখুন, নফসে আম্মারা আল্লাহ তায়ালার বিপরীত হুকুম প্রদান করছে। আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক সৎকাজের আদেশ-হুকুম প্রদান করছেন, আর নফস সেখানে বিপরীত নির্দেশ দিচ্ছে। নফস প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর হুকুমের বিরোধিতা করছে!

সর্বোপরি, নফসের গোলামী করে শিরক এর মাতা জঘন্য পাপে লিপ্ত যাতে না হই, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

বই: নফসের বিরুদ্ধে লড়াই
লেখক: মাহমুদ বিন নূর

26/08/2026

নফসের বিরুদ্ধে লড়াই

▪️কে সবচেয়ে বড় শত্রু শয়তান নাকি নফস?

শয়তান হচ্ছে অ্যাডভাইজার, আর নফস হচ্ছে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার। শয়তান পরামর্শ দিয়ে থাকে, আর নফস তা বাস্তবায়ন করে। শয়তান মানুষকে পাপকাজের পথ দেখিয়ে দেয়, আর নফস আপনাকে আমাকে নিয়ে সে পথে হাঁটে। নফস এবং শয়তান দুটোই আমাদের শত্রু। আমাদের দ্বারা যত পাপ কাজ সঙ্ঘাটিত হয়, সব বিচ্ছুর পিছনে এ দুজনেরই হাত রয়েছে। তাহলে কে বড় শত্রু? শয়তানের পূর্বে কোনো নফস শয়তান ছিলো না। নফস তাকে পথভ্রষ্ট করেছে। তাই আমাদের বড় শত্রু নফস। নফস শয়তানের। বন্ধু। শয়তানের সমস্ত কাজ নফসের ওপর নির্ভরশীল। তাই উয়ের সেতুবন্ধন ছিন্ন করতে, উভয়ের চিন্তা-চেতনা, কর্মপদধতির মধ্যে ভিন্নতা তৈরি করা। নফসের বিরুদেধ লড়াই করে শয়তানের চাহিদার বিপরীত কাজটাই আপনাকে আমাকে করতে হবে। এতে নফস যখন শয়তানের বিপরীত হয়ে যাবে, তখন এমনি এমনি তাদের মধ্যকার কমিউনিকেশন বন্ধ হয়ে যাবে।এতকিছু করার পর শয়তান আগের মত ঠিকই নফসকে কুপরামর্শ দিবে, কিন্তু নফস যখন বিরুদ্ধাচরণ করবে, তখন শয়তান ও বিরক্তবোধ করবে। এমতাবস্থায়, নফসকে নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের জন্য, সহজ হয়ে যাবে।

নফসের ভিত্তিতে সৃষ্টির সেরা জীব

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। ফেরেশতাদের ওপরও মানুষের শ্রেষষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে। শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয় কর্মের গুণে। আর সবকিছুর ওপর আমাদের শ্রেষষ্ঠত্ব অর্জন করার কারণ হচ্ছে, আমরা নফসের বিরুদেধ মুজাহিদ। এই নফসের কারণেই আপনার শ্রেষ্ঠত্ব; আপনার কবুলিয়্যাত। যে ব্যাক্তি নফসের বিরুদ্ধে লড়াই করে বিজয় অর্জন করেছে, নফসের গোলামী থেকে নিজেকে, মুক্ত রেখেছে সেই প্রকৃতপক্ষে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে।আল্লাহ তাআলা ফেরেশতা ছাড়া-মানুষ, জিন, হায় ওয়ান সবার মধ্যে নফস দিয়েছেন। সবার মধ্যে একটা জৈবিক চাহিদা দান করেছেন। আল্লাহ তাআলা হায় ওয়ান এর ওপর মানুষকে এক বিশেষ বিশেষণে বৈশিষ্টমন্ডিত করেছেন। সেটা হলো-আকল, বুদিধ, বিবেকা যেন তা দ্বারা ভালো-মন্দ, হালাল-হারাম, ইত্যাদির মধ্যে পার্থক্য করতে পারি। কল্যাণ অকল্যাণ ইত্যাদি ঝিয়েও অনুধাবন করতে পারে। শুনু তাই নয়-এর দ্বারা যেন তার জৈবিক চাহিদার বিভিন্ন সোত্রে ভালো-মন্দ, হালাল-হারাম এর মধ্যে পার্থক্য করে চলতে পারে। বস্তুত, এতেই তার মনুষ্যত্ব ও মানবিক দিকের প্রকাশ ও বিকাশ ঘটে। ঠিক তদ্রূপ হায় ওয়ানের মধ্যেও এরকম জৈবিক চাহিদা রয়েছে। তবে হায়ওয়ান কেবল তাদের জৈবিক চাহিদা পূরণে ব্যস্ত।
পেট আর লিঙ্গ হচ্ছে তাদের চিন্তার সর্বোচ্চ স্তর। পশুর ক্ষেত্রে নেই কোনো সীমাবদ্ধতা, কোনো বিধি-নিষেধ, নেই হিসাব-নিকাশের দায়বদ্ধতা। তবে মানুষের ক্ষেত্রে শরীয়তের বিধি-নিষেধ রয়েছে, রয়েছে কিছু সীমাবদ্ধতা, মানুষ যদি সীমা অতিক্রম করে ফেলে তাকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। আজকাল অনেক মানুষ পশু-সুলভ হয়ে গেছে। তার কারণ হচ্ছে, সে নফসের কাছে পরাজিত, তার নফস লাগামহীন। আর এই নফস তাকে পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট বানিয়েছে।

এখন নিজের নফসের অবস্থান জানতে নিজেকে কিছু প্রশ্ন করুনঃ

◾আপনি কি সত্যিই নফসের বিরুদ্ধে মোজাহিদ?

◾সত্যি কি আপনি নফসের বিরূদ্দের লড়াই করছেন?

◾সত্যি কি নফসের হুকুম অমান্য করে রবের হুকুম! মেনে চলছেন?

◾আপনি সৃষ্টির সেরা জীব, এটা কি আপনার কাজকর্মে চিন্তা-চেতনায় প্রকাশ পায়?

যদি আপনার উত্তর হয়'না' তাহলে আপনি কীসের সৈনিক, কীসের মুজাহিদ? আর কোন ভিত্তিতে আপনি সৃষ্টির সেরা জীব?

বই: নফসের বিরুদ্ধে লড়াই
লেখক: মাহমুদ বিন নূর

25/08/2026

নফসের বিরুদ্ধে লড়াই

◾নফস কী?

নফস হলো প্রবৃত্তি (মানুষের কামনা, বাসনা, চাহিদা)। আল্লাহ তায়ালা মানুষ সৃষ্টির সময় তার স্বভাবে
জেবিক চাহিদা (আহারের চাহিদা, যৌবনের চাহিদা, লোভ-লালসা, কতৃত্বের চাহিদা, ক্ষমতার চাহিদা) দান করেছেন।আর এইসবই নফস।

◾নফসের প্রকারভেদ?

মূলত নফস একটি, কিন্তু কাল পরিক্রমায়, স্বভাবের
তাড়নায় ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণ করে। অবস্থানের দিক দিয়ে নফস ৩ প্রকার।

১. নফসে আম্মারাহ (প্রতারক আত্মা):

যে নফস মানুষকে কুপ্রবৃত্তি ও জৈবিক কামনার দিকে আকৃষ্ট করে। "এই নফস সর্ম্পকে"
কুরআনে বর্ণিত আছে,

আমি নিজেকে নির্দোষ মনে করিনা, মানুষের মন অবশ্যই মন্দ কর্মপ্রবণ। কিন্ত্ত সে নয় যার প্রতি আমার রব অনুগ্রহ করেন। নিশ্চয়ই আমার রব
অতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু। (সূরা ইউসুফ, আয়াত নং-৫৩)

২. নফসে লাওয়্যামাহ (অনুশোচনাকারী আত্মা):

যে নফস, অন্যায় করার পর আমাদের হৃদয়ে অনুশোচনার উদ্রেক করে। কুরআনে মহান রাব্বুল আলামিন নফসে লাঅ্যামাহ এর কথা উল্লখপূর্বক
কসম খেয়েছেন।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,
"আরো শপথ করি সেই মনের, যে নিজেকে ধিক্কার দেয়।” (সূরা কিয়ামাহ, আয়াত ১-২)

হযরত হাসান বসরি রহি , নফসে লাওয়্যামাহ এর তাফসির কারছেন, 'নফসে মুমিনা'।
তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! মুমিন তো নিজেকে সর্বাবস্থায় ধিক্কার দেয়।

৩. নফসে মুত্বমায়িন্নাহ (প্রশান্ত আত্মা):

যে নফস সকল কালিমা থেকে মুক্ত এবং যাবতীয় মহৎ ভাবনায় পরিতৃপ্ত। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ
তাআলা বলেন,

'হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি তোমার পালনকর্তার কাছে ফিরে যাও, সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে। (সূরা ফজর, আয়াত ২৭-২৮)

তাফসিরে মারিকুল কুরআনে নফসে মুত্বমায়িন্নাহ
সর্ম্পকে বলা হয়েছে,
এ নফস আল্লাহর প্রতি তার সৃষ্টিগত ও আইনগত বিধি-বিধানে সন্তুষ্ট; আল্লাহও তার প্রতি সন্তুষ্ট।

◾নফসকে কীভাবে ডাইভার্ট করবেন?

মূলত নফস একটি। অবস্থাভেদে তার গুণে পরিবর্তন আসে। নফস আমাদের কর্মের দ্বারা পরিবর্তিত হয়। যদি তা লাগামহীন হয়ে যায়, তখন তা আম্মারায় পরিণত হয়। কিন্তু , যখন নফসে লাগাম পরানো হয়, তার গোলামী পরিত্যাগ করা হয়; তখন ধীরে ধীরে মুত্বমায়িন্নায় পরিণত হয়। গোনাহ থেকে বেঁচে থাকতে এবং বেশি বেশি নেক কাজ করতে আমাদের নফসে
আম্মারাকে নফসে মুত্বমায়িন্নায় পরিণত করতে হবে।

এই নফসে আম্মারাকে কীভাবে নফসে মুত্বমায়িন্নায় ডাইভার্ট করবেন?

নফসকে ডাইভার্ট করার কিছু কার্যকর উপায় নফসকে এসলাহ (সংশোধন, শুদ্ধি) করার জন্য নফসের চাহিদার বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে।

- যে পরিবেশে প্রলোভন তৈরি হচ্ছে, সেখান থেকে সরে আসা।

- নফস যখন গোনাহের দিকে ধাবিত হওয়ার জন্য প্ররোচনা দেয় তখন অন্য কাজে মন দেওয়া। নফসের তাড়না আসলে সেই কাজটি সঙ্গে সঙ্গে না করে নিজেকে ১০-১৫ অন্য কাজে ব্যস্ত রাখা এতে কাজটির প্রতি আগ্রহ কমে যায়, নফসকে কাজটি করা থেকে বিরত রাখা যায়।

- নিজেকে প্রশ্ন করা:এখন আমি যা করতে চাই, এটা কি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করবে?

- নিজের লক্ষ্য ও পরিণতির কল্লা কথা মনে করা! এই কাজের পরে আমার কেমন লাগবে?

বই: নফসের বিরুদ্ধে লড়াই
লেখক: মাহমুদ বিন নূর

19/08/2026

মাহমুদ বিন নূর-এর লেখা ‘লড়াই’ সিরিজের বইগুলো নিয়ে সংক্ষিপ্তভাবে কয়েকটি সিরিজ নিয়ে আসব, ইন শা আল্লাহ। 🌿এই সিরিজের প্রতিটি বই সম্পর্কে আমাদের সবারই কিছুটা ধারণা ও জ্ঞান থাকা জরুরি বলে মনে হয়েছে। তাই বইগুলো নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি সিরিজ লেখার পরিকল্পনা করেছি। এর মধ্যে একটি বইয়ের সিরিজ ইতোমধ্যে শেষ করেছি। আশা করছি, এই সিরিজের মাধ্যমে বইগুলোর বিষয়বস্তু ও মূল বার্তাগুলো আপনাদের কাছে কিছুটা হলেও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।এর পরবর্তী সিরিজটি হবে ‘নফসের বিরুদ্ধে লড়াই’ বইটি নিয়ে।বইয়ের প্রতিটি টপিকের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো থেকে কিছু অংশ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হবে।যাদের অনেকদিন ধরে বইটি উইশলিস্টে রয়েছে, কিন্তু এখনো পড়ার সুযোগ হয়নি, কিংবা যারা বইটি কিনবেন কি না বা বইটি তাদের জন্য উপযোগী হবে কি না—সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না, তারা এই সিরিজটি পড়ে বইটি সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পেয়ে যাবেন।আর সিরিজটি পড়ে যাদের আরও বিস্তারিত জানার আগ্রহ তৈরি হবে, তারা চাইলে মূল বইটি সংগ্রহ করে বিস্তারিত পড়তে পারেন।আশা করি, সিরিজটি আপনাদের জন্য উপকারী হবে।
ইন শা আল্লাহ, খুব শিগগিরই ‘নফসের বিরুদ্ধে লড়াই’ সিরিজের প্রথম পর্ব নিয়ে আসব। 🌱

18/08/2026

শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই

শয়তান থেকে নিরাপদ থাকতেঃ

১. জিকির করা

মুসনাদে আহমদ এ একটি বর্ণনায় এসেছে,
আল্লাহর জিকির ছাড়া বান্দা 'শয়তান থেকে আত্মরক্ষা করতে পারে না।

ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, শয়তান মানুষের অন্তরে বাসা বেঁধে বসে থাকে। বান্দা যখন আল্লাহর জিকির থেকে গাফেল হয়ে যায়, তখন শয়তান তাকে কুমন্ত্রনা দিতে থাকে। আর বান্দা যখন আল্লাহর জিকিরে মশগুল (থাকে) হয়ে যায়,শয়তান তখন পিছনে সরে যায়। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা ৯ম খন্ড)

সুখ-শান্তি দুঃখ-কষ্ট এবং অতি সুখের সময়েও শয়তান মানুষের মনে ছিদ্র করতে চায়। অথাৎ তাকে পথ ভ্রষ্ট এবং বিভ্রান্ত করতে চায়। এ সময় যদি সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি আল্লাহর জিকির করে তাহলে সে পলায়ন করে। (তাবারী-২৪/৭১০)

২. বিপরীত ভাবাঃ

শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকতে সবসময় তাকে এড়িয়ে যেতে হবে। উক্ত প্ররোচনা থেকে অমনোযোগী হয়ে থাকতে হবে। পজিটিভলি যত চিন্তা আছে তা ভাবতে হবে।

৩. আজানের জন্য অপেক্ষা

রাসুল (সা.) বলেন,

যখন সালাতের আজান দেওয়া হয়, তখন শয়তান আজানের শব্দ শুনে রাওহা নামক স্থান অতিক্রম করে। (রাওহা নামক স্থানটি মদীনা থেকে ছত্রিশ মাইল দূরে অবস্থিত। )
-মুসলিম, হাদিস নং-৩৮৮

৪. তওবা করা

শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকতে তওবা করতে হবে। তওবা করে ফিরে না আসা অবধি শয়তানের চক্রান্ত থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব। এজন্যই আমাদের উচিত গুনাহ হয় গেলেই সাথে সাথে ইস্তেগফার করে তওবা করে নেওয়া।

৫. শয়তান থেকে সর্তক থাকা

শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচতে, তার প্ররোচনা থেকে মুক্ত থাকতে সদা-সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, মুমিন কখনও শয়তান থেকে অসতর্ক থাকে না, কখনও গাফেল থাকে ता।

একজন শায়েখের ব্যাখ্যা অনুযায়ী,
মানুষের গুনাহের কিছু নফসের প্ররোচনায়, কিছু শয়তানের কুমন্ত্রণায় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে নফস ও শয়তানের যৌথ প্ররোচনায় সংঘটিত হয়। তবে এই শতকরা হিসাব (১০%-১০%-৮০%) কুরআন বা সহিহ হাদিসে বর্ণিত নয়; এটি একটি ব্যাখ্যামূলক উদাহরণ মাত্র।

৬. শয়তানের পরিকল্পনা সম্বন্ধে জান লাভ

ইবাদতে মন বসছে না নামাজে খুশু-খযু আসছে না? খুঁজে বের করুন শয়তান কিভাবে আপনাকে ধোঁকা দিচ্ছে? কীসের অজুহাত পেশ করে ইবাদত থেকে দূরে রাখছে!

গুনাহের কাজের দিকে শয়তান বারবার ফুঁসলিয়ে দিচ্ছে বারবার তার দিকে আকৃষ্ট করছে- ভেবে নিন এটা শয়তানের চক্রান্ত। নোট করে নিন, কীভাবে আপনার মনে পাপের উদ্রেক তৈরি করছে, কীভাবে আপনাকে ধোঁকা দিয়ে দিয়ে পাপ কাজে লিপ্ত করাতে চেয়েছে। গুনাহে লিপ্ত হওয়ার আগেই নোট করে নিন ঠিক কীভাবে আপনাকে এই পাপের মধ্যে নিক্ষেপ করা হচ্ছে। কোন সূত্র ধরে আপনাকে অন্ধকারে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যখন ভাবতে শুরু করবেন, তখন সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।

মোটকথা, শয়তান থেকে বাঁচতে তার কৌশল, চক্রান্ত, অজুহাত পাতা ফাঁদ ও পরিকল্পনা সম্বন্ধে জান লাভ করতে হবে।

৭. আল্লাহর নিকট আশ্রয় আশ্রয় প্রার্থনা

যখনই শয়তানের প্ররোচনা পরিলক্ষিত হবে, তখনই শয়তানের অনিষ্টতা থেকে বেঁচে থাকতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে।

৮. বাথরুমে প্রবেশের পূর্বে দোয়া পড়ে প্রবেশ

আনাস ইবনু মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসুল (সা.) যখন পায়খানায় প্রবেশ করতেন হাম্মাদের বর্ণনা মতে তিনি বলতেন, হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

আর আব্দুল ওয়ারিসের বর্ণনা মতে, তিনি বলতেন (রাসুল সা. বলতেন), আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইছি শয়তানদের থেকে ও যাবতীয় অপবিত্রতা থেকে।।(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-৪),

৯. শয়তান অন্তরে সন্দেহের বীজ বপন করে

আর হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত,
তোমাদের কারো কাছে শয়তান এসে বলে, এটা কে সৃষ্টি করেছে, ওটা কে সৃষ্টি করেছে? পরিশেষে সে তাকে বলে, তোমার প্রতিপালককে কে সৃষ্টি করছে। সুতরাং , এ পর্যন্ত পৌঁছালে সে যেন আল্লাহর (শয়তান কাছ থেকে) আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং (এমন কুচিন্তা থেকে) বিরত হয়।

১০. গাধার ডাক শুনে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা

আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত,

রাসুল (সা.) বলেছেন, যখন তোমরা মোরগের ডাক
শুনবে, তখন তোমরা আল্লাহর নিকট তার অনুগ্রহ প্রার্থনা করে দু'আ করো। কেননা, এ মোরগ ফেরেশতাদের দেখছে। আর যখন গাধার ডাক শুনবে, তখন শয়তান হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইবে কেননা এ গাধাটি শয়তান দেখছে। (সহিহ বুখারী,হাদিস নং-৩৩০৩)

১১. রাগের সময় শয়তান থেকে আশ্রয়

সুলাইমন ইবনু সুরাদ (রাযি.) থেকে বর্ণিত ,
একদা আমি রাসুল (সা.) এক সাথে বসে ছিলাম। এমতাবস্থায় দু' জন লোক একে অপরকে গালি দিচ্ছিল। তার মধ্যে একজনের চেহারা (ক্রোধের চোটে) লালবর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং তার শিরাগুলো ফুলে উঠেছিল। (এ দেখে) রাসুল (সা.) বললেন, নিশ্চয়ই আমি এমন এক বাক্য জানি, যদি সে তা পড়ে তাহলে তার ক্রোধ দূরীভূত হবে। যদি সে বলে, আউযু বিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বনির রজীম। তাহলে তার উত্তেজনা ও ক্রোধ সমাপ্ত হবে। লোকেরা তাকে বলল, রাসুল (সা.) বললেন, তুমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাও।(রিয়াদুস সলেহিন, হাদিস নং-৪৭)

১২. শয়তানের যেসব কাজ সহ্য হয় না, সেইসব
কাজ করা

আমাদের প্রধান লক্ষ্য শয়তানকে পরাজিত করা। শয়তানকে কষ্ট দিতে, তাকে জ্বালাতে হলে আল্লাহর সমস্ত হুকুম-আহকাম আরও দৃঢ়ভাবে পালন করতে হবে। আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করে, তার দেয়া নিয়ামতে জীবনের প্রতিটি পরত সাজাতে হবে। বেশি বেশি নামাজ পড়তে হবে, লম্বা সিজদাহ করতে হবে। তাহলেই শয়তানের কষ্টের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। কেননা, এই সেই কাজ - এই সেই নির্দেশ যা অমান্য করে সে বিতাড়িত হয়েছিল।

বই: শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই
লেখক: মাহমুদ বিন নূর

17/08/2026

শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই

শয়তানকে আল্লাহ তাআলা কেন সৃষ্টি করলেন?

ইবলিস আল্লাহ তাআলারই সৃষ্টি এবং তিনি জিন জাতির অন্তর্ভুক্ত। অহংকার ও অবাধ্যতার কারণে তিনি আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত হন এবং শয়তান হিসেবে পরিচিত হন।"শয়তান" শব্দটি শুধু ইবলিসের জন্য নয়; বরং প্রত্যেক অবাধ্য ও পথভ্রষ্টকারী জিন বা মানুষের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়।তাই কারও অবাধ্যতার জন্য কেবল ইবলিসই দায়ী নয়; মানুষের নফস ও কুপ্রবৃত্তিও তাকে গুনাহের দিকে পরিচালিত করতে পারে। আল্লাহ তাআলা কেন ইবলিসকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কুমন্ত্রণা দেওয়ার অবকাশ দিলেন—এর প্রকৃত হেকমত একমাত্র তিনিই ভালো জানেন।
তবে কুরআন-সুন্নাহ ও আলেমদের আলোচনায় কিছু প্রজ্ঞার কথা জানা যায়:

১. আল্লাহ তাআলা আদম (আ.)-কে পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধি (খলিফা) হিসেবে সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত পূর্বেই নির্ধারণ করেছিলেন।

এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন:

"নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি (খলিফা) সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।"(সূরা আল-বাকারা, ২:৩০)

ইবলিসের অবাধ্যতা ও কুমন্ত্রণার ঘটনাও সেই মহান পরিকল্পনারই একটি অংশ। "এর মাধ্যমে আদম ও হাওয়া (আ.) পৃথিবীতে প্রেরিত হন এবং মানবজাতির পরীক্ষার জীবন শুরু হয়।" ফলে আমরা আল্লাহর সৃষ্টির অপরূপ নিদর্শন, তাঁর অসংখ্য নিয়ামত ও দুনিয়ার বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পেয়েছি।

২. শয়তানের কুমন্ত্রণা ও মানুষের নফসের টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই মানুষের আনুগত্য ও অবাধ্যতা প্রকাশ পায়। এর মাধ্যমে প্রকৃত মুমিন ও অবাধ্য ব্যক্তির পার্থক্য স্পষ্ট হয়।

৩.মানুষ ভুল করে তওবা করলে আল্লাহর ক্ষমাশীলতা, দয়া ও অনুগ্রহের প্রকাশ ঘটে। তখন আমরা তাঁর আল-গফ্ফার (অত্যন্ত ক্ষমাশীল), আত-তাওয়াব (তওবা কবুলকারী), আর-রহমান (পরম দয়ালু), আর-রহীম (অতিশয় দয়াশীল), আল-হাকীম (প্রজ্ঞাময়), আল-কাদীর (সর্বশক্তিমান) ও আল-কাইয়্যূম (সবকিছুর ধারক ও রক্ষণাবেক্ষণকারী) ইত্যাদি গুণাবলির বাস্তব প্রকাশ উপলব্ধি করতে পারি।

৪. শয়তানের কুমন্ত্রণা প্রতিহত করে নেক আমলে অটল থাকা, নিজের নফসের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা—এসবই বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি করে।

৫. ইবলিসের অহংকার, হিংসা ও অবাধ্যতা আমাদের সতর্ক করে দেয় যে, এসব গুণ মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

৬. আল্লাহ তাআলা মানুষকে বিবেক, ইচ্ছাশক্তি ও হিদায়াতের পথ দেখিয়েছেন। শয়তানের ধোঁকা থেকে বেঁচে আল্লাহর পথে অটল থাকাই একজন মুমিনের সফলতা।তাই আল্লাহ তাআলা আমাদের সতর্ক করে বলেন:
"নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের শত্রু। অতএব, তোমরা তাকে শত্রু হিসেবেই গ্রহণ করো।"(সূরা ফাতির, ৩৫:৬)

শয়তানকে কেন কিয়ামত পর্যন্ত অবকাশ দেওয়া হলো?

▪️আল্লাহ তাআলা বলেন,

"সে (ইবলিস) বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন।’ আল্লাহ বললেন, ‘তোমাকে অবকাশ দেওয়া হলো—সেই নির্ধারিত সময় পর্যন্ত।’(সূরা আল-হিজর, ১৫:৩৬–৩৮)

শয়তান কেন এই অবকাশ পেল—এর প্রকৃত ও পূর্ণ হেকমত একমাত্র আল্লাহ তাআলাই জানেন। তবে কুরআন, সুন্নাহ এবং আলেমদের ব্যাখ্যা থেকে কয়েকটি বিষয় বোঝা যায়—

প্রথমত: এটি আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত ফয়সালার অংশ। আল্লাহর ইচ্ছা ও প্রজ্ঞা অনুযায়ীই ইবলিসকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অবকাশ দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: শয়তান মানুষের জন্য একটি পরীক্ষা। আল্লাহ মানুষকে হিদায়াত ও গোমরাহির পথ স্পষ্ট করে দিয়েছেন এবং সঠিক পথ বেছে নেওয়ার ইচ্ছাশক্তি ও স্বাধীনতা দিয়েছেন। শয়তানের কুমন্ত্রণা সেই পরীক্ষারই একটি অংশ।

তৃতীয়ত: মুমিন ব্যক্তি শয়তানের ধোঁকা ও কুমন্ত্রণার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আল্লাহর আনুগত্যে অবিচল থাকলে দুনিয়া ও আখিরাতে প্রতিদান লাভ করবে। পক্ষান্তরে, শয়তান ও তার অনুসারী কাফিরদের জন্য আখিরাতে কোনো কল্যাণ নেই; তারা দুনিয়ার সাময়িক ভোগের পর কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে।

চতুর্থত: শয়তানের জন্য এই অবকাশ কোনো সম্মান নয়; বরং এটিই তার ক্ষতির কারণ। কারণ যতদিন সে মানুষকে পথভ্রষ্ট করবে, ততদিন তার গুনাহ বাড়তেই থাকবে এবং কিয়ামতের দিন তার শাস্তি আরও কঠিন হবে।

মনে রাখতে হবে, শয়তানকে অবকাশ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাকে মানুষের ওপর জোরপূর্বক ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। সে শুধু কুমন্ত্রণা দেয় ও পাপকে আকর্ষণীয় করে তোলে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মানুষের হাতেই। তাই যে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করে এবং তাঁর আদেশ মেনে চলে, শয়তান তার কোনো ক্ষতি করতে পারে না।

এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন:

"নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের ওপর তোমার কোনো কর্তৃত্ব থাকবে না; তবে যারা তোমার অনুসরণ করবে, তারা ব্যতীত।"
(সূরা আল-হিজর, ১৫:৪২)

শয়তান কি কখনও হেদায়াতপ্রাপ্ত হবে?

কুরআনের আলোকে ইবলিস (শয়তান) কখনো হেদায়াতপ্রাপ্ত হবে না। কারণ সে নিজের ইচ্ছায় আল্লাহর আদেশ অমান্য করেছে, অহংকার করেছে এবং অনুতপ্ত হওয়ার পরিবর্তে মানুষকে পথভ্রষ্ট করার অঙ্গীকার করেছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন,
"সে বলল, 'হে আমার প্রতিপালক! আমাকে সেই দিন পর্যন্ত অবকাশ দিন, যেদিন তারা পুনরুত্থিত হবে।'"
(সূরা আল-হিজর, ১৫:৩৬)

অবকাশ পাওয়ার পর ইবলিস তওবা বা ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। বরং সে বলল,

আপনি যেহেতু আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তাই আমি অবশ্যই আপনার সরল পথে তাদের জন্য ওত পেতে বসে থাকব। তারপর আমি তাদের সামনে, পেছনে, ডানে ও বামে থেকে তাদের কাছে আসব। আর আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।(সূরা আল-আরাফ, ৭:১৬–১৭)

অর্থাৎ, ইবলিস আল্লাহর কাছে হেদায়াত প্রার্থনা করেনি; বরং শাস্তি বিলম্বিত করার সুযোগ চেয়েছিল, যাতে সে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে।
সে আল্লাহর অবাধ্য হয়েছে এবং উদ্ধতভাবে মানুষকে পথভ্রষ্ট করার ঘোষণা দিয়েছে। তাই কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী ইবলিস অনুতপ্ত হবে না এবং হেদায়াতও গ্রহণ করবে না।

আল্লাহ তাআলা তার পরিণতি সম্পর্কে বলেন,
"নিশ্চয়ই জাহান্নামই তোমাদের সবার প্রতিশ্রুত স্থান।"(সূরা আল-হিজর, ১৫:৪৩)

সুতরাং, ইবলিসের চূড়ান্ত পরিণতি জাহান্নাম। আর যারা তার অনুসরণ করবে এবং আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হবে, তারাও তাদের কর্মের কারণে একই পরিণতির সম্মুখীন হবে।

শয়তান ও দলবল:

▪️আল্লাহ তাআলা বলেন,
তবে কি তোমরা আমার পরিবর্তে তাকে (ইবলিসকে) ও তার বংশধরগণকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছ? অথচ তারা তোমাদের শত্রু।( সূরা আল-কাহফ, আয়াত ৫০)

মুমিনের লড়াই

▪️ রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
"সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! শয়তান যখন তোমাকে কোনো পথে চলতে দেখে, তখন সে তোমার পথ ছেড়ে অন্য পথে চলে যায়।"
— সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৯৮৫

▪️ অন্য একটি হাদিসে এসেছে:
"নিশ্চয়ই মুমিন শয়তানকে এমন দুর্বল (কৃশ) করে ফেলে, যেমন তোমাদের কেউ সফরে তার উটকে কৃশ করে ফেলে।"
— মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৮৯৪০

▪️ আল্লাহ তাআলা বলেন:
নিশ্চয়ই শয়তানের কৌশল (চক্রান্ত) দুর্বল।
— সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৭৬

শয়তানের গিট

আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণিত,
রাসুল (সা.) বলেন, তোমাদের কেউ যখন নিদ্রা যায় তখন শয়তান, তার মাথার শেষভাগে তিনটি গিরা দিয়ে দেয়। প্রত্যেক গিরার সময় এ কথা বলে কুমন্ত্রণা দেয় যে, এখন রাত অনেক রয়ে গেছে কাজেই শুয়ে থাকো। অতঃপর সে লোক যদি জেগে উঠে এবং আল্লাহকে স্মরণ করে তখন, একটি গিরা খুলে যায়। অতঃপর যদি সে অজু করে, তবে দ্বিতীয় গিরাটিও খুলে যায়। আর যদি সে সালাত আদায় করে, তবে সব কয়টি গিরাই খুলে যায়। আর খুশির সঙ্গে পবিত্র মনে সকাল হয়, অন্যথায় অপবিত্র মনে আলস্যের সাথে সকাল হয়। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং-৩২৬৯)।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

যদি শয়তানের প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী মহাজ্ঞানী (সূরা আরাফ, আয়াত-২০০)।

বই: শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই
লেখক: মাহমুদ বিন নূর

Address


Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Afifa Amin posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

  • Want your business to be the top-listed Media Company?

Share