24/03/2025
যে নারী দেখতে যত বেশী সুন্দর সে নারী তত বেশী ভয়ংকর
সৌন্দর্যের প্রতি মানুষের আকর্ষণ চিরন্তন, আর নারী যদি হন অপূর্ব সুন্দরী, তবে তার প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা আরও তীব্র হয়। অনেকেই বিশ্বাস করেন, যে নারী দেখতে যত বেশি সুন্দর, সে তত বেশি ভয়ংকর—যেন তার সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক অনিবার্য ছলনা, প্রতারণা বা হৃদয়ভঙ্গের আশঙ্কা। বাস্তবতা হলো, সৌন্দর্য নিজে কোনো দোষ বহন করে না; বরং মানুষের মানসিকতা, প্রত্যাশা ও উপলব্ধিই ঠিক করে দেয়, তা আশীর্বাদ হবে নাকি অভিশাপ। প্রেমের সূচনায় মানুষ প্রথমেই বাহ্যিক সৌন্দর্যে মোহগ্রস্ত হয়, কারণ এটি চোখে পড়ে, মনকে টানে। কিন্তু প্রকৃত সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজন আভ্যন্তরীণ গুণাবলি, যেমন সততা, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও শ্রদ্ধাবোধ। সুন্দর নারীরা অনেক সময় অতিরিক্ত মনোযোগ ও প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, আবার কিছু ক্ষেত্রে আত্মগরিমাও জন্ম দেয়। এতে কিছু নারী এই বিশেষ মর্যাদাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন এবং পুরুষদের নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবহার করতে শেখেন, যা শেষপর্যন্ত একপাক্ষিক সম্পর্কের দিকে ঠেলে দেয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত সুন্দর নারীদের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা ও অবিশ্বাস এতটাই বেড়ে যায় যে, তারা নিজেদের প্রকৃত অনুভূতি বা ব্যক্তিত্ব প্রকাশের সুযোগই পান না, ফলে তাদের প্রতি এক ধরনের ভুল ধারণা তৈরি হয়। বাস্তবতা হলো, কেবল বাহ্যিক রূপ দিয়ে ভালো-মন্দ বিচার করা বোকামি। প্রতিটি সম্পর্কেই সততা, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়া থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ; না হলে সৌন্দর্য যেমন মুগ্ধ করতে পারে, তেমনি ধ্বংসও ডেকে আনতে পারে। সৌন্দর্য যখন চরিত্রের শক্তির সঙ্গে মিলে যায়, তখন তা হয়ে ওঠে আশীর্বাদ, কিন্তু যখন তা আত্মকেন্দ্রিকতা বা স্বার্থপরতার সঙ্গে মিশে যায়, তখন তা ভয়ংকর রূপ ধারণ করতে পারে। অতএব, শুধু রূপ দেখে নয়, বরং মানুষের চারিত্রিক গুণাবলি ও আন্তরিকতা বিচার করেই সঠিক জীবনসঙ্গী নির্বাচন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।