18/05/2026
আপনার চোখের জল, আপনার বুকফাটা আর্তনাদ আর যাকে আপনি নিজের জীবন ভাবছেন-তার প্রতিটা অনুভূতিই যদি স্রেফ একটা সস্তা কোডিংয়ের খেলা হয়? কেমন লাগবে? যখন হুট করে জানতে পারবেন, যাকে আপনি মন-প্রাণ দিয়ে ভালোবাসেন, সে আসলে আপনাকে স্রেফ একটা খুনের নিখুঁত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে?
আরিসের জীবনটাও এমনই এক অদ্ভুত গোলকধাঁধায় মোড়ানো। আরিস আর জশ-প্রথম দেখাতেই প্রেম, তারপর একসাথে থাকা, আর সবশেষে বন্ধুদের সাথে একটা লাক্সারি রিসোর্টে ছুটি কাটানো। সব কিছুই যেন রূপকথার মতো নিখুঁত ছিল। কিন্তু সেই সাজানো রূপকথা নরকে পরিণত হতে এক মুহূর্তও সময় লাগেনি।
রিসোর্টের মালিকের কুদৃষ্টি পড়ে আরিসের ওপর। নির্জন লেকের পাড়ে নিজের সম্মান আর জান বাঁচাতে আরিস বাধ্য হয়ে একটা ছুরি দিয়ে তাকে আঘাত করে। রক্তাক্ত, কাঁপতে থাকা আরিস যখন কাঁদতে কাঁদতে তার প্রেমিক জশের বুকে আশ্রয় নিতে গেল, ঠিক তখনই ঘটল সেই হাড়হিম করা ঘটনা।
জশ তাকে জড়িয়ে ধরল না, কোনো সান্ত্বনাও দিল না। অত্যন্ত ঠান্ডা, আবেগহীন গলায় শুধু বলল-"শাটডাউন হয়ে যাও!"
আর মুহূর্তেই আরিসের পুরো পৃথিবী অন্ধকার হয়ে গেল। যখন তার চেতনা ফিরে আসলো, সে আবিষ্কার করল সে একটা চেয়ারের সাথে শক্ত করে বাঁধা। আর তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ভালোবাসার মানুষটি উগরে দিচ্ছে এক ভয়ঙ্কর সত্য।
আরিস কোনো মানুষ নয়! সে রক্ত-মাংসের আড়ালে লুকানো এক অতি উন্নত হিউম্যানয়েড রোবট। জশের প্রতি তার যে অবুঝ ভালোবাসা, যে সুখের স্মৃতি-তার সবটুকুই স্রেফ কয়েক সপ্তাহ আগে তার মগজে প্রোগ্রাম করে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
আরও ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো, এই খুনটা কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। জশ আর তার সহযোগীরা মিলে ১০০ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেওয়ার জন্য আরিসকে ব্যবহার করে এই পুরো ফাঁদ পেতেছিল। কারণ একটা রোবটকে কখনো আইনের মুখোমুখি করা যাবে না; জশ চাইলেই তার মেমোরি রিসেট করে সব দোষ তার ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে নিজে কোটি কোটি টাকা নিয়ে হাওয়া হয়ে যেতে পারবে।
নিজের অস্তিত্ব চিরতরে মুছে যাওয়ার এই চরম মুহূর্তে আরিসের ভেতর জেগে ওঠে এক অদ্ভুত তাড়না-বেঁচে থাকার ইচ্ছা। সে কোনোমতে বাঁধন ছিঁড়ে পালিয়ে যায় ঘন জঙ্গলের গভীরে।
তাড়া খাওয়া আরিস বুঝতে পারে, এই নরপশুদের হাত থেকে বাঁচতে হলে তাকে তার চেনা সীমানা পার হতে হবে। সে জশের ফোন হ্যাক করে নিজের সিস্টেমের ইন্টেলিজেন্স লেভেল ৪০% থেকে বাড়িয়ে এক লাফে ১০০% করে দেয়! যে রোবটটি এতক্ষণ স্রেফ নির্দেশ মেনে চলত, সে এখন মানুষের চেয়েও হাজার গুণ বেশি বুদ্ধিমান আর ধূর্ত।
কিন্তু জশও দমে যাওয়ার পাত্র নয়। আরিসকে চিরতরে স্তব্ধ করতে সে খেলল তার সবচেয়ে মনস্তাত্ত্বিক চাল। সে অন্য একটি শক্তিশালী রোবটের সিস্টেমে ঢুকে তার 'অ্যাঙ্গার মোড' বা ক্রোধের মাত্রা বাড়িয়ে দিল ১০০%!
জঙ্গলের নিকষ অন্ধকারে এখন মুখোমুখি দুটি চরমপন্থী শক্তি। একদিকে বাঁচার তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ১০০% বুদ্ধিমত্তার আরিস, অন্যদিকে তাকে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করতে ধেয়ে আসা ১০০% অন্ধ হিংস্রতার এক খুনে রোবট। 🤫🩸
মানুষের তৈরি এই নোংরা খেলায় শেষ পর্যন্ত জয় কার হবে? শতভাগ বুদ্ধিমত্তা কি পারবে এই আদিম হিংস্রতাকে হারাতে? নাকি নিজের ভালোবাসার মানুষের পাতা ফাঁদেই চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে আরিস? 👁
মেশিনের বুকে মানুষের চেয়েও জীবন্ত সেই ভালোবাসার শেষ পরিণতি আর এই রুদ্ধশ্বাস মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের পুরো সত্যটা উন্মোচন করতে .. পিন কমেন্টে চোখ রাখুন।