Sumiya Islam Jannaty-সুমাইয়া ইসলাম জান্নাতি

  • Home
  • Sumiya Islam Jannaty-সুমাইয়া ইসলাম জান্নাতি

Sumiya Islam Jannaty-সুমাইয়া ইসলাম জান্নাতি Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Sumiya Islam Jannaty-সুমাইয়া ইসলাম জান্নাতি, .

এলোমেলো শব্দ কুড়িয়ে একটি সুন্দর বাক্যে রূপান্তরিত করার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।
আমার ইবুক,
১|"যে প্রেম এসেছিল নীরবে নিভৃতে"
https://link.boitoi.com.bd/4e8K
২|"শ্রাবণের প্রথম বৃষ্টি"
https://link.boitoi.com.bd/4xm7N

 #তোমার_প্রেমে_আমি_পড়েছি (০৮)সূর্য যখন মধ‍্য আকাশে, পুকুরের সচ্ছ পানিতে তখন এক দম্পতি সাতর কাঁটছে। মুখে রোদ পড়ায় চোখ মুখ...
02/10/2025

#তোমার_প্রেমে_আমি_পড়েছি (০৮)

সূর্য যখন মধ‍্য আকাশে, পুকুরের সচ্ছ পানিতে তখন এক দম্পতি সাতর কাঁটছে। মুখে রোদ পড়ায় চোখ মুখে লেপ্টে থাকা পানি আয়নার মত চকচক করছে। ৪২ ডিগ্রী তাপমাত্রায় পরিবেশ, জনজীবন যখন প্রচণ্ড গরমে হাপিয়ে উঠেছে, তখন পুকুরের পানিতে দীর্ঘ সময় ডুবে ডুবে গোসলের মাঝে অন‍্যরকম শান্তি কাজ করে। চরম উষ্ণতার দিনে সেই শান্তি টুকু স্বামী স্ত্রী মিলে একসঙ্গে উপভোগ করছে তারা।

সিরাতের পরণে সাদামাটা বাটিক প্রিন্টের একটি কামিজ সেট। মাথার ওড়না কোমরে গোজা। চুলগুলো এলোমেলো হয়ে পানিতে ভেসে বেড়াচ্ছে। সম্পূর্ণ শরীর পানির মধ্যে ডুবে থাকায় শারীরিক অবয়ব স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে। নাইয়াজ সে দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে হাসে। সিরাত প্রথমে ভ্রু কুচকে তাকিয়ে থাকে সেদিক। পর মুহূর্তে নিজের দিকে তাকাতেই হাসির কারণ খুজে পায়। লজ্জায় রাঙা হয়ে ওঠে মুখটা। দুহাতে আজলা ভরে পানি উঠিয়ে নাইয়াজের দিকে ছুড়ে মা"রে। নাইয়াজ খিলখিল করে হেসে ওঠে। সিরাত তাতেও লজ্জা পায়। তবে এবার সে স্থির হয়ে তাকিয়ে থাকে স্বামীর মুখ পানে। নাইয়াজকে এই প্রথম প্রাণ খুলে হাসতে দেখতে সে। দেখতে ভারি সুন্দর লাগছে। যে মানুষগুলো সচরাচর আওয়াজ করে হাসে না, হঠাৎ করে হাসতে দেখলে তাদের অন‍্যরকম সুন্দর লাগে।
নাইয়াজের বেলায় ও সেটাই ঘটেছে।

নাইয়াজের শ‍্যামবর্ণের দীর্ঘকায় শরীরে সাদা রঙের পাতলা স‍্যান্ডু গেঞ্জিটা আটসাট হয়ে লেগে আছে। সাদা গেঞ্জি আর নীল সাদার মিশেলে চেক লুঙ্গিতে তাকে পুরোদস্তুর বাঙালি পুরুষ লাগছে। বড় পুকুরটাতে তারা দুজন ব‍্যতীত আপাতত আর কেউ নেই। নতুন জামাই এবং মেয়েকে গোসলের জন্য ছেড়ে দেওেয়া হয়েছে।

নাইয়াজ হঠাৎ করেই জিজ্ঞাসা করলো, "সিরাত, তুমি আমার সামনেও এত লজ্জা পাও কেন? আমি কি পরপুরুষ?"

সিরাত চোখ নামিয়ে ফেললো। এ প্রশ্নের উত্তর দিবে কী? লজ্জা যে নারী শিরায় শিরায় বহন করে।

নাইয়াজ প্রশ্নের উত্তর পেল না। তবে মোটেও দূরত্ব না রেখে সিরাতের একদম মুখোমুখি গিয়ে দাড়ালো। দুহাতে কোমর জড়িয়ে ধরে বললো, "এত লজ্জা কৈ থেকে আসে? লজ্জার গোডাউন সম্পর্কে আমাকেও জানাও। আমি একটু লজ্জা টজ্জা পাওয়া শিখি।"

নাইয়াজের হাত কোমরে গিয়েই থেমে থাকে নি। আঙুলগুলো অবাধে আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছে। সিরাত শিহরণে কেঁপে কেঁপে উঠছে। হৃদস্পন্দন দ্রুত বেগে উঠানামা করছে। সিরাত কষ্ট সাধ‍্যে কোমর থেকে নাইয়াজের হাতদুটো সরিয়ে দিলো।

"আপনি এমন করতে থাকলে আমি কিন্তু পানি থেকে উঠে যাব। দিন দুপুরে পুকুরে এসব কি করছেন? লোকে দেখলে কি বলবে?"

"কেউ নেই তো।" নাইয়াজের নির্বিকার উত্তর।

"কেউ নেই, থাকতে কতক্ষণ। এটা পাবলিক প্লেস। যখন তখন চাচারা চলে আসতে পারেন। সবাই তো আর জানে না পুকুরে আপনি আমি আছি।"

"আপাতত তো কেউ নেই। আরেকটু কাছে আসো। বেশি না শুধু দুটো চু"মু দিব।"

সিরাত রেগেমেগে আগুন হয়ে গেল। মানুষটা এত লাগামছাড়া হয়েছে কেন? কিচ্ছু বোঝে না, কিচ্ছু শোনে ও না। নিজের মন মর্জি মত চলবে।

সিরাতের রাগান্বিত মুখ দেখে নাইয়াজ ওর দুই গালে পরপর দুটো চু"মু বসিয়ে দেয়।

"আমি নাকি রোমান্টিক না। মন বুঝি না। একটু আদর করতে গেলে এত রাগ আসে কেন?"

সিরাত আর কিছু বললো না। হাল ছেড়ে দিল। প্রসঙ্গ বদলাতে তারপর বললো, "আমি সাতারে তেমন পটু না। আমাকে আপনার সঙ্গে করে পুকুর ঘুরাবেন।"

"তখন কাছে আসা লাগবে না? শরীরের সাথে শরীর লাগবে না? লোকে দেখবে না?"

"খোচা দিচ্ছেন?"

"না। তোমার কথা তোমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছি।"

নাইয়াজ সাতারে পটু। বিমান বাহিনীর ছয় মাস ব‍্যাপী ট্রেনিংয়ে তাদের সব বিষয়ে পারদর্শী করে তুলেছে। ডুব সাতার, চিত সাতার এসব কোন ব‍্যাপার ই না তার জন্য। নাইয়াজের বাহু দুহাতে আকরে ধরে সিরাত পুকুর ভরে ঘুরে বেড়াল। মাঝে মাঝে ছোট ছোট চু"মু একে দিল নাইয়াজের খোচা খোচা দাড়ি ভর্তি গালে। স্ত্রীর কর্মকাণ্ডে নাইয়াজ নিঃশব্দে হাসলো। মেয়ে মানুষের মন বোঝা দায়। নিজে কাছে আসবে, ছোবে। কিন্তু অপরজন কিছু বললে বা করলেই শুরু হয়ে যায় যত বাহানা!

বেশ অনেকটা সময় তারা গোসল করলো।

দুপুরে কাতলা মাছের কালিয়া, চিংড়ি মাছের মালাইকারি, ইলিশের দোপেঁয়াজা, দেশি মুরগির রোস্ট,গরুর কলিজা ভুনা, খাসির রেজালা আর প্লেন পোলাও দিয়ে নাইয়াজের লাঞ্চ হলো ভরপুর। শাশুড়ি মায়ের আদরে আপ‍্যায়নে গলা অব্দি খেয়ে নাইয়াজের মনে হলো, এক বেলাতেই ওয়েট বেড়ে গিয়েছে পাঁচশ গ্রাম। খেয়ে উঠতে গিয়ে নিজেকে হাতির মত ভারি মনে হলো। শেষে ডেজার্টের ঘন দুধের পায়েশ আর ছানার রসগোল্লা পরে খাব বলে এক পা দু পা করে খাবার ঘর থেকে তাকে কেঁটে পড়তে হয়েছে। শশুর বাড়ির আদর আপ‍্যায়ন দারুণ মজার। কিন্তু এসবের জন্য তার পেটটা আরেকটু বড় করতে হবে।

নাইয়াজ ভারি লাঞ্চের পর আধ শোয়া হয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিল। সিরাত ঘরে এলেই তাকে সবকিছু গোচগাছ করে রেডি হতে বললো।

সিরাত অবাক কন্ঠে বললো, "কেন?"

"যেতে হবে না?"

"এখনই।"

"হ‍্যাঁ।"

"কিন্তু, মা যে বললেন রাতে রাজহাঁসের গোশত দিয়ে চিতুই পিঠা খাওয়াবেন। তাছাড়া পুলি পিঠাও খাওয়ানো হয়নি। না না এখন গেলে চলবে না। মা রাগ করবেন।"

"এক দুপুরে যা খেয়েছি অন্তত কাল দুপুর অব্দি অনায়াসে না খেয়ে থাকতে পারব। এখন রেডি হও। আমাদের বের হতে হবে।"

"এত তাড়াহুড়োর কি আছে?"

"আছে।"

"বুঝেছি, ফ্রেন্ডরা কল করছে?

"না মিসেস। এই একটা সপ্তাহ শুধু আমাদের দুজনের।"

সিরাত নাইয়াজের হেয়ালি বুঝলো না। তবে রেডি হয়ে গেল। দুপুরের রোদ তখন মেহগনি গাছের মগডাল থেকে সবচেয়ে নিচের ডালটাতে এসে পড়েছে। সকলের আপত্তির মুখে নাইয়াজ সিরাতকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লো।

গাড়ি বাড়ির পথে না গিয়ে হাইওয়ের দিকে এগোলে সিরাত জিজ্ঞাসা করলো, "এদিকে যাচ্ছে কেন? আমরা বাড়ি যাচ্ছি না?"

"না।"

"তাহলে?"

"আপাতত আমাদের গন্তব্য ঢাকা।"

"কেন?"

"কেন আবার? আমরা ঘুরব। আজ ঢাকা গিয়ে পৌছালে কাল সারাদিন ঘুরেফিরে শপিং করবে। এরপর আমাদের গন্তব্য হবে চট্টগ্রামের কক্সবাজার।"

"হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত? আমাকে তো কিছু জানালেন না।"

"এখন জানছো তো। বললাম তো এই এক সপ্তাহ আমাদের শুধু দুজনের। এবার খুশি তো?"

"আপনার মাকে বলে এসেছেন? ওনি কি না কি মনে করবেন।"

"আমরা এক সপ্তাহ বাড়িতে থাকব না। এ কথা জানিয়েছি। তাছাড়া আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরব ফিরব। এতে আমার মা কি মনে করবেন?"

"না,কিছু না। মনে না করলেই ভালো।"

"কখনোও কিছু বলেছে?"

"নাহ।"

"লুকিয়ো না। আমাকে বলবে না তো কাকে বলবে?"

সিরাত বলবে না, বলবে না, করেও সেদিনের ঘটনাটা নাইয়াজকে জানালো। সব শুনে নাইয়াজ বললো, "আমারই ভুল হয়েছে। যা হয়েছে মন খারাপ করিও না। নেক্সট টাইম কেউ তোমাকে অহেতুক কথা শোনাবে না, এই ব‍্যাবস্থা আমি করব। তোমার বাবার কাছ থেকে তার সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটাকে আমি হৃদয়ের একচ্ছত্র অধিকারীনি করে নিয়ে এসেছি। সে কষ্ট পাবে, হীনমন্যতায় ভুগবে এমনটা আমি হতে দেয় কি করে?"

সিরাত নাইয়াজের হাতদুটো আকরে ধরে।

"আপনি কবে থেকে এত বুঝদার হলেন, নাইয়াজ?"

"যবে থেকে আমাকে বুঝদার হিসাবে দেখতে চেয়েছো, তবে থেকে।"

সিরাত এই নাইয়াজকে চেনে না। একদমই না। কেমন নমনীয় স্বরে কথা বলছে। বোঝাচ্ছে, আস্থা রাখতে বলছে। এমন মানুষ ই তো জীবনে চেয়েছিল সে। চোখ দুটো সজল হয় মেয়েটির। মনে মনে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে সৃষ্টিকর্তার নিকট। মানুষটা যেন আমৃত্যু এমন থাকে।

ঢাকামুখী গ্রীন লাইন পরিবহনে টিকেট কাঁটে নাইয়াজ। টিকেট বিক্রেতা জানায়, বাসটা বিশ মিনিটের মধ্যে স্টান্ডে ঢুকবে। নাইয়াজ সিরাতকে বসিয়ে রেখে দুটো হাফ লিটারের পানির বোতল, চিপস, চকোলেট আর বিস্কুট কিনে নিয়ে আসে। সেগুলো সিরাতের হাতে নিয়ে অপেক্ষা করে পরিবহন আসার।

সম্ভব‍্য সময়ের আরও দশ মিনিট পরে বাস এসে পৌছায়। নাইয়াজ যত্ন করে সিরাতকে বাসে উঠিয়ে নিজেও উঠে পড়ে। নিজেদের সিটে গিয়ে বসে দুজন।

পদ্মা সেতু হওয়ায় এখন আর ঢাকা যেতে ঘন্টার ওপর ঘন্টা লেগে যায় না। আড়াই থেকে তিন ঘন্টার মধ্যে পৌঁছে যাওয়া যায়। তবে জ‍্যাম থাকলে ভিন্ন কথা। দশ মিনিটের পথ ও এক ঘন্টা কেঁটে যায়।

বাস ফরিদপুরের রাজবাড়ী ছেড়ে গেলেই মাগরিবের আজান হয়। চারপাশ ধীরে ধীরে আধারের কালো আস্তরণে ঢাকা পড়তে শুরু করে। বাসের লাইট জ্বলে ওঠে। অন্ধকারাচ্ছন্ন পিচঢালা সড়ক পথে বাস এগিয়ে চলছে তার নিজস্ব গতিতে। অন্ধকারে আলোর দিশারী হয়ে পথ দেখাচ্ছে লাইটগুলো।

রাতের জার্নি অন‍্যরকম,রোমাঞ্চকর! সিরাতের এ অভিজ্ঞতা আগে হয়নি। শীতল বাতাসে দেহ মনে কাঁপন ধরিয়ে দেয়। সিরাত গায়ে ওড়না টেনে নেয়।

নাইয়াজ সিরাতের কাধ টেনে বলে, "কাছে এসো। শীত কম লাগবে।"

সিরাত গুটিসুটি মে"রে পড়ে থাকে প্রিয়তমার বুকে। এ অনুভূতি ভাষায় প্রকাশের মত নয়। পৃথিবীর সবচেয়ে সুখের মুহূর্ত পাড় করছে সে।
~~~~~~~~~~~~~~~~~

"আমাদের বিয়ে হবে কবে? সিরাতের মত আমিও ঘুরে বেড়াতে চায়। ওরা কি সুন্দর সময় কাটাচ্ছে।"

ফাইজার সরল অভিব‍্যক্তিতে ফাইয়াজ হেসে ওঠে। ঠোঁট কামড়ে জানতে চায়, "তুমি কি মিস করছো আমায়?"

"না।"

"তাহলে?"

"ওদের মত ঘোরাঘুরিটাকে মিস করছি। ওরা জীবন উপভোগ করছে। আর আমি সিঙ্গেল থেকে এসব দেখছি।"

"এখন উপায়?"

"আমার এ জীবন ভালো লাগছে না। পানসে লাগে সব। কচু গাছের মগডালের সাথে গলায় রশি পেচিয়ে ঝুলে টুলে পড়ব যখন তখন।"

"তাহলে তো ভীষণ চিন্তার বিষয়।"

"অত কথা বুঝি না। আমার ভালো লাগছে না। বাই।"

"আরে, রেগে যাচ্ছো কেন? সামনের ঈদে তোমাকে আমার ঘরণী করে ঘরে তুলব। এবার বাড়ি এসে সব পাঁকা করে যাব। তারপর এসেই বিয়ে। খুশি তো?"

"এই যাহ!"

ফাইজা লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে পড়েছে।

ফাইয়াজ হেসে উঠলো।

"এটুকুতে এত লজ্জা পেলে হবে? ওরা তো মাত্র এক সপ্তাহ ঘুরবে। তারপর নাইয়াজ ক‍্যান্টনমেন্টে। আর ভাবি বাড়িতে। কিন্তু তোমাকে নিয়ে আমি প্রতি সপ্তাহে, ছুটির দিনগুলোতে ঘুরব। বউ রেখে আমি ঢাকায় ফিরব না। বিবাহিত হয়ে বউ ছাড়া ঘুমানোর প্রশ্নই ওঠে না।"

ওপাশ থেকে খট করে কল কেঁটে দেওেয়া হলো। ছেলেটির লাগামহীন কথা মেয়েটির যে দম আটকে মরা-র অবস্থা!

ইন শা আল্লাহ চলবে....

লেখনীতে~সুমাইয়া ইসলাম জান্নাতি

28/09/2025

আসসালামু আলাইকুম।

আমার দ্বিতীয় ই-বই আজ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত পাচ্ছেন ২৫% ছাড়। প্রোমোকোড SIJ25 ব‍্যবহার করে ২৫% ই-বই টি এখনই কিনে রাখুন আপনার সংগ্রহে। যাদের ক্রয়মূল‍্য বেশি মনে হওয়ায় কিনতে পারেননি তাদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ।

~শ্রাবণের প্রথম বৃষ্টি 🌧💧
https://link.boitoi.com.bd/4xm7N

বিদ্রঃ ~যে প্রেম এসেছিল নিরবে নিভৃতে _ এটার জন‍্যও ছাড় প্রযোজ‍্য।
https://link.boitoi.com.bd/4e8K

 #তোমার_প্রেমে_আমি_পড়েছি (০৭)"একথা তুই আমাকে এখন বলছিস? সব কথা তোর সাথে শেয়ার করেছি। আর তুই কিনা আমাকে একটাবার জানালি না...
28/09/2025

#তোমার_প্রেমে_আমি_পড়েছি (০৭)

"একথা তুই আমাকে এখন বলছিস? সব কথা তোর সাথে শেয়ার করেছি। আর তুই কিনা আমাকে একটাবার জানালি না!"

সিরাত মন খারাপ করে কথাগুলো বলল। সবচেয়ে কাছের বান্ধবী, কাজিন মেয়েটাই ফাইজা। তার প্রেমের খবর হঠাৎ করে শুনলে মন খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। ফাইজা সিরাতের হাত ধরে বসে ছিল পুকুর ঘাটে। সিরাত হাত সরিয়ে দিল।

"সর, আমাকে ধরবি না। তোরা সবাই আমাকে পর করে দিয়েছিস। আগে একটা প্রোপোজ পেলে আমাকে জানাতিস। আর এখন একেবারে প্রেম ট্রেম করে ফেলেছিস অথচ আমাকে এখন জানতে হচ্ছে।"

ফাইজা বললো, "আরেহ, রেগে যাচ্ছিস কেন? সব কথা কি মোবাইলে বলা যায়? তাছাড়া এখন তুই শশুর বাড়িতে থাকিস। ভাইয়াও বাড়িতে। আমি কি এসব পার্সোনাল কথা যখন তখন বলতে পারি?"

"হয়েছে, আর অযুহাত দিতে হবে না। তা ভদ্রলোক কে?"

সিরাতের প্রশ্নে ফাইজার মুখটা লাজে ভরে উঠলো। সকালের নরম রোদ এসে পড়েছে তার চোখেমুখে। ফলে উজ্জ্বল মুখটা আরেকটু উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। সিরাত গায়ে হালকা ধাক্কা দিয়ে বললো, "বলতেই এত লজ্জা? প্রেম করার সময় এত লজ্জা কোথায় ছিল?"

কানের পাশে চুলগুলো গুজে ফাইজা নরম স্বরে বললো, "তুই চিনিস তাকে।"

অবাক হলো সিরাত। চেনে মানে? ফাইজার দিয়ে বিস্ময় নিয়ে তাকাতেই সে জানালো ভদ্রলোকের কথা। সেই সঙ্গে বললো ভদ্রলোকের সাথে তার প্রণয়ের সূচনার পর্ব। সব শুনে সিরাত বেশ অবাক হলো। কিন্তু এসব বিষয়ে সে আগেই একটু আধটু শুনেছে বিধায় অবাস্তব কিছু মনে হল না। মনে করেছিল বিষয়টি সম্পূর্ণ ফাইয়াজের দিক থেকে। কিন্তু মেয়ে যে এতদূর এগিয়েছে সেসব সিরাতের জানা ছিল না।

"ফাইয়াজ ভাইয়ার হাবভাব আমার সুবিধার মনে হয়েছিল না। ওনার তোর প্রতি এক্সট্রা কেয়ারনেস সেদিন সবার মত আমাকেও অবাক করেছিল। তবে অতটা পাত্তা দেইনি, সে ভাবনা। ভেবেছিলাম নিছকই মজা। তবে ওনি মজার মানুষ। নাইয়াজের মত বোরিং না।"

''কেন, নাইয়াজ ভাইয়া তোকে ঘুরতে টুরতে নিয়ে যান না?"

ঘোরাঘুরির প্রসঙ্গ উঠতেই সিরাতের মনে পড়ে গেল গতকালের কথা। ঘুরতে নিয়ে গেছিল তার স্বামী। কিন্তু তারপর? সিরাতের মুখটা থমথমে হয়ে গেল। নাইয়াজের কথা মনে হলেই মনটা বিরক্তিতে ছেয়ে যায়। যে মানুষটি সাথে ভালোলাগা ভালোবাসা ছেয়ে থাকার কথা ছিল, যার কথা মনে পড়লেই লজ্জায় রাঙা হয়ে ওঠার কথা ছিল মুখ, অথচ সে সিরাতের জীবনে কেবলই বিরক্তিকর একজন মানুষ। এক মাসের দাম্পত্য জীবনে মানুষটা থাকে সুখের সঙ্গে পরিচয় করাতে পারেনি। সিরাতের বুক চিরে যেন দীর্ঘশ্বাস, হতাশার গ্লানি বের হয়ে গেল। জবাব আদৌ আছে?

ফাইজা সিরাতের কর্মকাণ্ড খেয়াল করেছে। নাইয়াজের প্রসঙ্গ উঠলেই মেয়েটি কেমন বোবা হয়ে যায়। ফাইজার ভয় হয়। বোনটি যদি নাইয়াজ দুলাভাইয়ের সঙ্গে ভালো না থাকে, সেই একই রক্ত বহনকারী ফাইয়াজ ভালো হবে তার কি গ‍্যারান্টি! ফাইজার মুখ ফ‍্যাকাশে হয়ে যায়। সিরাত তা দেখে ওর থুতনি দু আঙ্গুলের মাঝে নিয়ে মুখটা এপাশ ওপাশ ঘুরাতে থাকে। হেসে বলে ওঠে, "আমাকে এত চিন্তা করতে হবে না। আমি ঠিক আছি। আসলে সব পুরুষ এক হয় না। সবার পছন্দ অপছন্দ ও এক হয় না। তেমনই ফাইয়াজ ভাইয়া যেমন চঞ্চল, মিশুক, কথা বলতে পছন্দ করে। অন‍্যদিকে ওনি এসবের বিপরীত। ফাইয়াজ ভাইয়াদের মত মানসিকতার মানুষকে মনের কথা বলে দিতে হয় না। তার কথা দিয়ে ছলে বলে প্রিয় মানুষের মনের খবর ঠিকই জেনে নেয়। কিন্তু নাইয়াজের মত মানুষকে কানের পাশে ঢাক ঢোল পিটিয়ে বললেও যেন শুনতেই পায় না। তাই বলে বলব না, মানুষ খারাপ। আজেবাজে নেশা করেন না, সম্পর্কে মেয়েলী বিষয় চোখে পড়েনি। এসব দিক দিয়ে কিছু কিছু বেখেয়ালি মাফ করে দিতে হয়। প্রিয়জনের সাথে হেসে খেলে জীবন পার করাটা সবার ভাগ‍্যে হয় না। আমিও সে কাতারেই পড়েছি। তবে তোরা হয়তো হ‍্যাপি কাপল হতে পারবি। ফাইয়াজ ভাইয়া সুখে রাখবেন তোকে। আমি আগেই জেনেছি এসব। কেবল তোর মুখ থেকে শোনার অপেক্ষায় ছিলাম। ওনি রিতিমত পরিবারের সাথে ফাইট করছেন।"

বিস্ময়ে ফাইজার চোখ বড় বড় হয়ে গেল। সিরাত সব জানে? ফাইজা চোয়াল ঝুলিয়ে বললো, "আমি এমন কিছু নই। আমার জন্য ফাইট করার কি আছে?"

"তার চোখে তোকে অন‍্যরকম লেগেছে বলেই ফাইট করার শক্তিটা পাচ্ছে। শোন, তাকেই বিয়ে করবি যে তোকে ভালোবাসে। ভালোবাসার মানুষের সাথে ঘর বাধলে সুখী হওয়া যায়।"

"সবাই সুখী হয় না, সিরাত।"

"সুখী হওয়ার চেষ্টা করলে হয়। প্রথম দিনের মতোই ভালোবাসাটাকে জিইয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করতে হয়। ভালোবাসা সম্পর্কের ফাক ফোকর দিয়েই পালাবার চেষ্টা করে। সেই সুযোগ দিবি কেন?"

"তুই সুখী তো?"

"সুখের অনেক সংজ্ঞা হয়, ফাইজা। তুই কোন সুখের কথা বলছিস?"

"ভাইয়া তোকে ভালো বাসেন তো? বিবাহিত জীবনে সুখী তো?"

"বলা যায়।"

"তুই ঘুরিয়ে পেচিয়ে বলছিস। সোজাসুজি বলতে কি হয়?"

"যেভাবেই বলি, বলছি তো!"

ফাইজা আর সিরাতের সাথে তর্ক গেল না। সিরাতের হাবভাব স্বাভাবিক। মেয়েটি নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে। সমবয়সী হওয়ার দরুণ ফাইজা খুব কাছ থেকে বেড়ে ওঠা সিরাতকে কিছুটা বুঝতে পারছে। তাইতো বারবার সুখে আছে কিনা একই প্রশ্ন করছে। কিন্তু মেয়েটি উত্তর দিচ্ছে কেমন অদ্ভুতভাবে। স্বামীর নামে মন্দ কথাও বলছে না। আবার খুব রসালো আলাপ ও তাকে নিয়ে করছে না। কিছু তো একটা হয়েছেই! নাহলে, তাকে রেখে এভাবে চলে আসতো না। স্বামীর ভালোবাসা পেলে মেয়েরা তার কাছ ছাড়া হতে চায় না। অথচ সিরাতকে দেখে মনে হচ্ছেনা, নাইয়াজকে তার বিশেষ মনে পড়ছে।

সকালের ঝলমলে রোদ পুকুরের পানিতে এসে পড়েছে। এতে পানি ঝিকিমিকি করছে। সিরাত পুকুরের শান্ত পানির দিকে তাকিয়ে আছে। ফাইজা কখন তার পাশ থেকে সরে গিয়েছে মেয়েটি একটুও বুঝতে পারেনি। হঠাৎই পাশে আরেকজনের উপস্থিতি। সিরাত তখনও বুঝতে পারেনি। চোখ পানির দিকে রইলেও মনে চলছে বহু ভাবনা চিন্তার আলাপন।

"নিশ্চয় আমার কথা ভাবছো?"

পুরুষ কন্ঠ কানে যেতেই সিরাত পাশ ফিরে তাকায়। অদূরেই একজন বসে আছে। চোখের নজর তার দিকে। মুখ হাসি হাসি। সিরাত নজর ঘুরিয়ে ফাইজাকে চারপাশে খুজল। মেয়েটি পুরুষটাকে এখানে বসিয়ে নিজে নিরাপদ দূরত্বে সরে গেছে। সিরাতের রাগ হলো। মুখ ঘুরিয়ে আবারও পানির দিকে তাকালো। নাইয়াজ একটুও হতাশ হলো না। বউ তাকে দেখে খুশিতে জড়িয়ে ধরবে এই ভাবনা নিয়ে সে আসেনি। তবে সুখ দুঃখে যেন জড়িয়ে ধরতে পারে সে সুযোগ এবার তাদের হবে। নাইয়াজ যে ভুল এতদিন অজান্তে করে এসেছে এবার তা সুধরানোর পালা। নাহলে যে বড় অন‍্যায় হয়ে যাবে মেয়েটির প্রতি!

বিমান বাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট হিসাবে নাইয়াজকে যেকোনো সময় দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত যেতে হতে পারে। কখনও মিশনে দেশের বাইরেও থাকতে হতে পারে। একটা দীর্ঘ মেয়াদী দূরত্ব তাদের সংসার জীবনে থাকবেই। সিরাত থাকবে গোপালগঞ্জে পড়ে। তাকে থাকতে হবে সামরিক যেকোন প্রয়োজনে যেখানে সেখানে। সৈনিকদের জীবন তো এমনই। এখনো বেশ কিছুদিন হাতে ছুটি আছে। এই সুযোগে যদি বউয়ের মন জয় না করতে পারে তবে এ জীবন নাইয়াজ ওয়াসিমের জন্য ভীষণ ব‍্যার্থতার! তাইতো সকাল হতে না হতেই শশুর বাড়িতে চলে এসেছে এ বাড়িতে একেবারে নিজের করে নেওয়া আত্মীয়টির খোজে। সঙ্গে এনেছে বড় বড় সাইজের ইলিশ, কাতল, রুই। এনেছে, রসগোল্লা, চমচম, দই।

সাত সকালে জামাইকে দেখে সিরাতের মা অবাক হলেও খুশি হয়েছে ভীষণ। মেয়ের লেজ ধরে জামাই শীঘ্রই শশুর বাড়িতে হাজির হবে এ কথা সিরাতের ছোট চাচি আগেই বলে রেখেছিলেন। জামাইয়ের উপস্থিতিতে জায়েরা হাতে হাতে কাজে সাহায্য করতে করতে একে অন‍্যকে ফোরন কাটতে ভুলছে না। নতুন বিয়ে, নতুন জামাই-বউ। একে অন‍্যকে চোখে হারাবে এটাই তো স্বাভাবিক। বরং জামাই না এলে আরও চিন্তা বিষয় হত!

নাইয়াজ পুকুর ঘাটে বসে আছে। শশুর শাশুড়ির সাথে কুশল বিনিময় করে মনে মনে সিরাতকে খুজছিল। তাইতো জামাই আপ‍্যায়নে কিছুটা বিরতি দিয়ে নাইয়াজকে ছোট শ‍্যালকের হাত ধরিয়ে দিয়েছিলেন শাশুড়ি মা। সিরাতের ছোট ভাই দুলাভাইকে পুকুর ঘাটে এসে দিয়ে গিয়েছে। মাঝখান থেকে ফাইজা নাইয়াজকে অল দা বেস্ট বলে কেঁটে পড়েছিল।

সিরাত নাইয়াজকে দেখে অবাক হলেও তেমন কোন প্রতিক্রিয়া দেখাল না। নাইয়াজ সিরাতের হাত দুটো পরম আদরে নিজের হাতের মুঠোয় বন্দি করলো। তারপর জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বললো, "আ'ম সরি, সিরাত। আমি বুঝতে পারি আমার অনেক ভুল আছে। ভুলগুলো তুমি দেখিয়ে ও দিয়েছিলে। কাল তোমার চাচা গিয়েছিলেন আমাদের বাড়িতে। তুমি কি একটাবার আমাকে কল বা ম‍্যাসেজ দিতে পারতে না? ভদ্রলোক কি ভাবলেন?"

সিরাত প্রতিত্তোরে বললো, "আমি ভেবেছিলাম আপনি ফিরে আসবেন। কিন্তু সকালে বের হয়ে দুপুর গড়িয়ে বিকেলেও যে আপনার ফেরার সময় হবে না, অতটা আমি বুঝতে পারিনি।"

"কাল খুব ব‍্যাস্ততার মধ্যে ছিলাম।"

"আমি জানি।"

"সিরাত!"

"আমি ছাড়া দুনিয়ার সবকিছুকে ঘিরে আপনার ব‍্যাস্ততা। এ তো নতুন নয়। তাই না?"

"কাল আমার এক বন্ধু এক্সিডেন্ট করেছিল। ওর অবস্থা গুরুতর। অনেক রক্ত গিয়েছে। সারাদিন ওকে নিয়ে ছোটাছুটি করতে হয়েছে। গোপালগঞ্জের কোন হাসপাতাল ওকে রাখেনি। পরে ঢাকার উদ্দেশ্যে এ‍্যাম্বুলেন্সে তুলে দিয়ে বাড়ি এসেছি। কারো বিপদ দেখলে চোখ ফিরিয়ে নিতে পারি না।"

"না পারা ই স্বাভাবিক। কারো বিপদ দেখলে পিছু হাটলে সে মানুষের কাতারে পড়ে না।"

"সিরাত, কাল তোমাকে খুব মিস করেছিলাম।" নাইয়াজের কন্ঠস্বর খুবই নরম শোনালো।

সিরাত বললো, "আমি জানি। পুরুষ মানুষ এক বেলা ভাত না খেয়ে থাকতে পারবে। কিন্তু বউ ছাড়া থাকতে পারবে না।"

"ওসব কিছু না। তোমাকে যে আমি কতটা হৃদয়ে জায়গা দিয়ে ফেলেছি আমি নিজেই জানিনা। মাত্র একটা রাত তুমি ছিলে না। অথচ আমার মনে হয়েছিল যেন কত যুগ তোমায় দেখি না।"

"হয়েছে, আর নাটক করতে হবে না। মুখ দেখে তো মনে হচ্ছে না সকালে পেটে কিছু পড়েছে!"

নাইয়াজ শুধু হাসল। কিছু বললো না। অভিমান একটু একটু করে গলছে।

ছোট করে কাঁটা চুলে শ‍্যাম বর্ণের লম্বা দেহী নাইয়াজকে সিরাতের চোখে ভীষণ সুন্দর একজন পুরুষ। সুদর্শন পুরুষ অ‍্যাখা দিতে যা প্রয়োজন তার পুরুষটির সবই আছে। কেবল বোঝে কম। কিন্তু ভুল করলে স্বীকার করতে ভুলে না। সিরাত মনে মনে বলে, "পাগল কোথাকার!"

নাইয়াজ হঠাৎ করেই আবদার করে বসে।

"দুটো চুমু খেতে পারব, সিরাত?"

ঝলমলে দিনের বেলায় পুকুর ঘাটে বউকে চুমু খেতে চাওয়া যেন বিরাট অপরাধ! সিরাতের চোখ মুখ অন্তত সেটাই বলছিল। কয়েক সেকেন্ড মেয়েটি কথায় বলতে পারল না। বোধ ফিরে পেতেই নাইয়াজের হাতে ছোট্ট করে কিল বসিয়ে দিল।

"যাহ, অসভ‍্য, ইতর প্রজাতির পুরুষ!"

নাইয়াজ সিরাতের কানের লতিতে ঠোঁট ছুইয়ে বললো, "তোমারই তো।"

ইন শা আল্লাহ চলবে......

লেখনীতে~সুমাইয়া ইসলাম জান্নাতি

[কি লিখছি নিজেই বুঝতে পারছি না।🙂]

ছাদের হলুদাভ আলোয় অস্পষ্ট একটি পুরুষ অবয়ব। পরণে অফ হোয়াইট কালার ট্রাউজার আর অলিভ গ্রিন কালারের টিশার্ট। মাথায় এক গোছা ঝা...
24/09/2025

ছাদের হলুদাভ আলোয় অস্পষ্ট একটি পুরুষ অবয়ব। পরণে অফ হোয়াইট কালার ট্রাউজার আর অলিভ গ্রিন কালারের টিশার্ট। মাথায় এক গোছা ঝাকড়া এলোমেলো চুল। টুংটাং আওয়াজে গিটার বাজছে। হালকা বাতাসে চুলগুলো অল্প অল্প দুলছে। মোহনীয় কন্ঠে আঙ্গুলের স্পর্শে গিটারে সুর তুলে গেয়ে চলেছে.....

--কখনও যদি হঠাৎ এসে
জড়িয়ে ধরে বলো ভালোবাসি
আমি প্রতিরাত হ‍্যাঁ প্রতিক্ষণ
খুব অজানায় কত অভিনয়
করে বসি তোমায় ভেবে
আমার অযথা সব লেখা গান
সব শুনে মন করে উচাতন
তুমি বোঝনি কেন আমাকে?---

অরিকের কন্ঠে খুব আবেগ ঢেলে গানের লাইন গুলো কন্ঠনালি দিয়ে বের হয়ে আসে। ছেলেটি গান ও গায় ভীষণ সুন্দর।

মাঝরাতে বৃষ্টি অনলাইনে ঢুকতেই অরিকের ফেসবুক পোস্ট চোখে পড়ে। ক‍্যাপশনে লেখা, 'বহুদিন পরে গিটারে আঙুলের ছোঁয়া।'

বৃষ্টি ভিডিও অন করে গান শোনে। মুগ্ধ হয়ে শোনে মেয়েটি। মাত্র এক মিনিটের একটি ভিডিও ক্লিপ। বৃষ্টি কয়েকবার করে শোনে। হঠাৎ করে তার মনে হয় অরিক এই গানের লাইনগুলো তাকে উদ্দেশ্য করেই গেয়েছে। ভাবতেই বৃষ্টির বুকের ভেতর স্পন্দিত হৃদপিণ্ড দ্রুতগতিতে স্পন্দন হতে থাকে। শরতের কিছুটা শীতল রাতেও কপালে ঘাম জমতে শুরু করে। সঙ্গে চোখ ভরে ওঠে পানিতে। কি ছিল পুরুষালি ওই দুটি হাতে? জানা নেই বৃষ্টির। সব সংকোচ এরিয়ে শেষবারের মত হাতটি ধরেছিল বৃষ্টি। বুকের ভেতর সেদিন তোলপাড় করছিল। শুধু কি অরিক? বৃষ্টির মনেও ছেলেটির জন্য জমাট বাধা অনুভূতি। কিন্তু সে মা-বাবার বিশ্বাস, ভরসাকে অনেক কিছু মনে করে। তাই সব বুঝেও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। যেমন আজও ওড়নার কোণা দিয়ে চোখ মুছে ফেলছে। পরক্ষণেই মনে পড়ে, মানুষটির তো শীঘ্রই বিয়ে। সে কে? সে সত্যি কিছু হলে এত তাড়াতাড়ি মুভ অন করতে পারতো? বৃষ্টি নিজেকে শক্ত করে ফেলে। তবুও চোখ বেয়ে গড়গড় করে পানি পড়তে থাকে।

~শ্রাবণের প্রথম বৃষ্টি গল্পের টুকরাংশ।
পুরোটা পড়ুন
https://link.boitoi.com.bd/4xm7N

 #তোমার_প্রেমে_আমি_পড়েছি (০৬)পরদিন শশুরবাড়িতে সিরাতের বড় চাচা এলেন ভাস্তিকে দেখতে। সঙ্গে নিয়ে এলেন গোপালগঞ্জের জিআই প্রা...
23/09/2025

#তোমার_প্রেমে_আমি_পড়েছি (০৬)

পরদিন শশুরবাড়িতে সিরাতের বড় চাচা এলেন ভাস্তিকে দেখতে। সঙ্গে নিয়ে এলেন গোপালগঞ্জের জিআই প্রাপ্ত মিষ্টি দত্তর রসগোল্লা। সঙ্গে আরও আনলেন দই, চমচম আর সিরাতের পছন্দের মুচমুচে চিকন প‍্যাচের জিলাপি। চাচাকে দেখেই খুশিতে সিরাতের চোখ ছলছল করে উঠল। ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছা করল। কিন্তু নিজেকে দমিয়ে রাখল মেয়েটি। এগিয়ে গিয়ে মিষ্টি সামগ্রী নিজ হাতে নিয়ে ঘরে নিয়ে এলো। শাশুড়ি মা কে জানালে তিনি এলেন। সিরাত ততক্ষণে চাচাকে ড্রয়িং রুমের সোফায় বসতে দিয়েছে।

সিরাত শাশুড়ি মায়ের দিকে তাকিয়ে রইল নাস্তার আদেশ আশার অপেক্ষায়। বেয়াইর তরফ থেকে আনা মিষ্টান্নে ভদ্রমহিলার বোধহয় মন গলল। তিনি নিচু গলায় সিরাতকে নাস্তার আয়োজন করতে বললেন। এবং নিজে বসে পড়লেন বেয়াইয়ের পাশের সোফাটাতে। দুজনের গল্পের মাঝে সিরাত টুক করে কিচেনে চলে গেল।

বড় কাকা চা খেতে পছন্দ করেন। বড় কাকি বরাবরই অলস গোছের মানুষ। নিয়ম করে দুবেলা চা করে খাওয়ানো তার জন্য বিশার কষ্টের। এ নিয়ে চাচা-চাচির মধ্যে মাঝেমাঝেই বাকবিতণ্ডা দেখা যেত। তাই ঘরে চা করলেই টুক করে কাকাকে এক কাপ দিয়ে আসতো। সিরাত তার বড় চাচার খুব স্নেহের ভাস্তি। তাইতো সুযোগ পেয়ে তাকে দেখতে চলে এসেছেন।

সিরাত প্রথমে চুলায় চায়ের জন্য গরম পানি বসিয়ে দিল। ফ্রিজ থেকে আপেল, মাল্টা বের করল। সেগুলো কেটে পিরিচে সাজিয়ে নিল। পানি টগবগ করে ফুটতে শুরু করলে চায়ের পাতা দিয়ে দিল। তাতে রঙ ছড়ালে আরও কিছুক্ষণ জ্বাল করে নামিয়ে নিল কাপে। আধ চামচ চিনি দিয়ে চা বানিয়ে ফেলল। চাচার আনা মিষ্টান্নগুলোকেও তিনটে পিরিচে কয়েকটা করে তুলে নিল। সবকিছু সাজিয়ে বড় ট্রেতে করে ড্রয়িং রুমের টি টেবিলে এনে রাখল। আয়োজন দেখে সিরাতের চাচা রাগ করলেন। এতসব করার কোন দরকার ছিল না। ভাস্তিকে দেখেই তিনি বাড়ি ফিরবেন।

সিরাতের শাশুড়ি বললেন, "না না বেয়াই সাহেব। আজ বাড়ি ফিরবেন না। সিরাত, দুপুরে রান্নার আয়োজন শুরু করো।"

সিরাত আর অপেক্ষা করলো না। দ্রুত পায়ে আবারও কিচেনে চলে গেল। চাচার জন্য ভালো মন্দ রান্নার সুযোগ পেয়ে সে দারুণ খুশি হলো। শশুর বাড়িতে নিজের আত্মীয়স্বজন এলে এতটা খুশি অনুভব হয় সেটা সিরাত বিয়ের পরেই বুঝেছে। মনে যেন আনন্দ ধরেই না। মিষ্টির প‍্যাকেট খুলে সিরাত পরপর দুটো রসগোল্লা খেল। এ বাড়ির কোন খাবার সিরাত নিজ হাতে নিজ ইচ্ছায় কখনও খায়নি। তবে আজ খেল চাচা এনেছেন বলেই।

কিছুক্ষণ পরেই, নিজের চাচার আনা মিষ্টি খেয়েও সিরাত দ্বিধাদ্বন্দে ভুগতে লাগল। যদি শাশুড়ি মা কিছু মনে করেন? হাবাতে মনে করেন? একবার খাবার টেবিলে ভদ্রমহিলা বলেছিলেন, খায় খায় করা মেয়ে মানুষ তার পছন্দ না। মেয়ে মানুষ খাবে সবার শেষে। যেটুকু পাতে পড়বে ওটুকুতেই পেট মন দুটোই ভরাবে। বেশি খাওয়া দাওয়া করা মানুষ তিনি পছন্দ করেন না। সেদিনই সিরাত বুঝে গিয়েছিল ইচ্ছেমত খাওয়ার দিন তার শেষ। নারীদের এখনো সবার শেষ এটো ঝুটা খাওয়ার পক্ষে যে মহিলা থাকতে পারে তিনি আর যাই হোক, নারীদের সম্মান ঠিকমতো দিতে পারেন না। সিরাতের মন প্রস্তুত হতে শুরু করেছিল বাস্তবতা মানতে। নাইয়াজ ওয়াসিমের ও তার পরিবারের বাহ‍্যিক চাকচিক‍্য দেখে তার পরিবার যে বড় ভুলটা করেছে, তার মাসুল হয়তো এই জীবনের সমস্ত সুখ, ইচ্ছা, অনিচ্ছাকে ত‍্যাগ করে দিতে হবে। প্রকৃতির নির্মম পরিহাস হয়তো একেই বলে! সিরাতের মন মুহুর্তেই অশান্ত হয়ে উঠল। সে চিন্তাগ্রস্ত মনেই পেয়াজ রসুন ছিলতে লাগলো।

কিছু সময় পরে সিরাতের শাশুড়ি মা কিচেনে এলেন। ফ্রিজ থেকে গরুর মাংস, রুই মাছের বড় বড় পিসের প‍্যাকেট বের করে বড় বোলে ভিজিয়ে রাখলেন। সিরাত এ পর্যন্ত দৈনন্দিন টুকটাক মাছ ভাত রান্না করেছেন। এখনো তাকে দিয়ে পোলাও কোরমা, বিরিয়ানির মত রিচ খাবার রান্না করানো হয়নি। তাই ভদ্রমহিলা সিরাতকে শুধু মাছ বেগুন ভাজি, আর মসলাগুলো রেডি রাখতে বলে চলে গেলেন।

আজ সিরাতের কাজের হাত চলছিল বেশ দ্রুত। হয়তো নিজের চাচা এসেছে বলেই তার কাজের আনন্দ এবং জোর দুটোই বেড়েছে। সিরাত শাশুড়ির ব‍্যবহার মনে মনে খুশি হয়েছে। বিয়ের এক মাসে শাশুড়ির যে ব‍্যবহার সে পেয়েছে, তাতে ভেবেছিল চাচার কপালে ডিম ভাজি আর ফার্মের মুরগির ঝোল পাতে উঠতেও পারে। না হলেও অবাক হত না।

নাইওর গেলে সিরাত নতুন জামাই এবং আগত মেহমানদের একদিন ব‍্যাপী আদর আপ‍্যায়নের ভার নিয়েছিলেন সিরাতের বড় চাচা নিজেই। বাজারের বড় মাছটা, গরুর রানের থেকে দেখে ভালো মাংস টুকু, দেশি হাসের ডিম, পালের মোরগটা সেবার নাইয়াজের রিজিকে জুটেছিল। জামাইকে এত আদর আপ‍্যায়ন করা চাচা যদি সেই মেয়ের শশুর বাড়িতে এসে এতটুকু সম্মান আপ‍্যায়ন না পান তাহলে সেটা নিঃসন্দেহে সিরাতের জন্য হত ভীষণ দুঃখের, অপমানের।

নাইয়াজ সকালে খেয়ে বেরিয়েছে। সিরাতের সাথে কথাটথা হয়নি। সিরাত সকালে ঘুম থেকে উঠে টেবিলে খাবার দেওেয়া আগ পর্যন্ত পুরোটা সময় থাকে কিচেনে। রান্না করা, এটো থালাবাসন ধোয়া, তারপর কিচেন পরিষ্কার করা এসব করতে করতে বেলা উঠে যায়। এক ফালি রোদ কিচেনের দেয়ালে উকিঝুকি দেয়। সেই যে বেরিয়েছে এরপর আর ভদ্রলোকের খবর হয়নি। সিরাতের চাচা বেশ কয়েকবার জামাইয়ের কথা জিজ্ঞাসা করেছেন। সিরাত নিজ থেকে কোন কল বা ম‍্যাসেজ করেনি। করতে ইচ্ছে করেনি। কেমন যেন ভোরের কুয়াশার মত ঝাপসা সম্পর্ক। সিরাত গরম তেলে মাছের টুকরো ছাড়তে ছাড়তেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিল। চাচার সঙ্গে বাড়ি ফিরে যাবে সে। এ বাড়িতে দমবন্ধ লাগছে তার। লাগাটাই স্বাভাবিক। স্বামী মানুষটা যেখানে পরের মত ব‍্যবহার করে সেখানে না থাকার ইচ্ছা মনে জন্মাতেই পারে।

বেলা গড়িয়ে দুপুর হলো। জোহরের আযান হলে সিরাত চাচা বেয়াইয়ের সাথে গিয়ে বাড়ির কাছের মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে এলেন। সেই সময় দেখা হয়েছে আরও দুজন বেয়াইয়ের সাথে। টুকটাক কথাটথা হয়েছে।

সিরাত কিচেনে কাজ শেষ করে তাড়াহুড়ো করে গোসল করে নিল। মাথায় ওড়না টেনে টেবিলের এক কোণায় বসে কুচি কুচি করে শশা আর টমেটো কেঁটে নিল। তাতে কিছু পেয়াজ মরিচের কুচি দিয়ে সরিষার তেল মিশিয়ে একটা সালাদ বানিয়ে ফেলল। এরকম মাখা সালাদ গরম ভাতের সাথে খেতে বেশ ভালো লাগে। এ বাড়িতে এটা চলে।

মেহমানের সাথে সিরাতের শশুরকেও খেতে দেওেয়া হলো। সিরাতের চাচা বারবার করে জামাইয়ের কথা বলতে লাগলেন। দেখা না হওয়ায় বেশ আফসোস দেখা গেল ভদ্রলোকের মধ্যে। পুরুষদের খাওয়া শেষ হলে সবকিছু গুছিয়ে রেখে সিরাত শাশুড়ি মায়ের সাথে খেতে বসলো। পরিমাণে কম খায় সিরাত। তুলনামূলক কম খাওয়া তার অভ‍্যাস হলেও এ বাড়িতে সেই কমের পরিমাণ খানিকটা আরও বেড়েছে। সিরাতের খাওয়ার দিকে শাশুড়ি মা নজর দিলেন। মাছের পেটিটা নিজে বেড়ে দিলেন। সিরাত না না করে উঠলো। সেটা কোনরকম শেষ করতেই গরুর গোশত উঠিয়ে দিলেন। সিরাত ভরপুর খেল। পাতে দেওেয়া খাবার ফেলে দিতে না পারাই এ বেলা গলা অব্দি খাওয়া হয়েছে তার।

বেলা একটু নেমে আসতেই সিরাতের চাচা বাড়ি যাওয়ার কথা জানালেন। এরমধ্যে সিরাত সবার সামনেই নিজের বাড়ি যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলো। প্রথমে সবাই একটু অবাক হলেও সিরাতের ছলছল চোখ দেখে আর কেউ বাধা দিতে পারলেন না। শাশুড়ি মা শুধু বললেন, "নাইয়াজকে জানাইছো?"

"জি না। আপনি বলে দিয়েন।"

এরপর আর কেউ কিছু বলেনি তাকে। সিরাত শুধুমাত্র গায়ে কালো বোরকা জড়িয়ে হিজাব নেকাবে মুখ ঢেকে চাচার সাথে বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লো।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

নাইয়াজ বাড়ি ফিরেছে রাতে। বাড়িতে এসে সিরাতকে না দেখতে পেয়ে নিরব চোখে শুধু খুজে গিয়েছে কিছুক্ষণ। তারপর মাকে জিজ্ঞাসা করেছে, "সিরাত কোথায়?"

"সিরাত বাড়ি গেছে।"

"কেন? কিভাবে?" নাইয়াজের কন্ঠ অবাক, বিস্ময় উভয়ই ভর করেছে।

"ওর বড় চাচা এসেছিলেন। চাচাকে দেখেই হয়তো বাড়ির কথা মনে পড়ছে। তুই সারাদিন কোথায় ছিলি? শশুর বাড়ি থেকে মেহমান এলো। অথচ জামাইয়ের দেখা পেল না। এটা কি ভালো দেখালো?"

নাইয়াজ জানালো, তার বন্ধুর এক্সিডেন্ট হয়েছে। তাকে নিয়েই ছোটাছুটি করতে হয়েছে। বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। তাই কাউকে জানাতে পারেনি। এরপর মা আর একটা প্রশ্ন না করে খাবার বেড়ে দিলেন। নাইয়াজ চুপচাপ খেতে বসলো।

সারাদিন খাওয়া হয়নি। বাইক এক্সিডেন্টে মাথায় আঘাত লেগেছে। অবস্থা গুরুতর। রক্ত গিয়েছে অনেক। সারাদিনব্যাপী পরিশ্রম, ছোটাছুটিতে নাইয়াজকে বড্ড ক্লান্ত দেখাল। ক্ষুদার্থ থাকা সত্বেও খাবার গলা দিয়ে নামল না। যতটা না বন্ধুর জন্য। তার থেকেও বেশি সিরাতের জন্য। মনের মধ্যে বারবার একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে লাগল। মেয়েটি কি বেশিই কষ্ট পেল? সে কি অন‍্যায়ের পরিমাণটা ভারি করে ফেলেছে? ভাতের থালায় আঙুলের নড়াচড়া চললেও দুই একবারের বেশি খেতে পারল না। হাত ধুয়ে উঠে পড়ল।

সিরাতকে পেয়ে মা-বাবা ভাইবোন সবাই খুশি। জামাই না আসায় দু চারটে প্রশ্নের সম্মুখীন হলেও সিরাতকে সবাই খুশির সাথে বরণ করল। ফাইজা নানান গল্প জুড়ে দিল। হাসি আনন্দ, কোলাহলে দ্রুত সময় কেঁটে গেল। সিরাত ইচ্ছে করেই নাইয়াজের ব‍্যাপারে ভাবল না। হাসি আনন্দের সময়ে মন খারাপের কথা মনে না করাই ভালো।

ক্লান্ত শরীরে বিছানায় পিঠ রাখতেই নাইয়াজ গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল। সেই ঘুম ভাঙল মাঝরাতে। হাতরে পাশের মানুষটাকে না পেয়ে ধরফরিয়ে উঠে বসল। চোখ কচলে চারদিকে তাকাতেই দেখল, কোথাও সে নেই। মনে পড়ল সে তো বাড়িতেই নেই। সেখানে রুমে থাকবে কি করে? আচমকা নাইয়াজকে শূন‍্যতায় ঘিরে ধরল। ইচ্ছা করল সিরাতকে কাছে পাবার। জড়িয়ে ধরার অনুভূতি টুকু ধরা দিল মনে। অথচ একই ঘরে পাশাপাশি শুয়ে আয়োজন করে, বুক ভরা অনুভূতি নিয়ে জড়িয়ে ধরা হয়নি। তবে কি প্রিয়জনের অনুপস্থিতিতে তাকে ঘিরে সব অনুভূতি প্রবল হয়?

আজকের রাত বড় দীর্ঘ। যেন ফুরাতেই চায় না। একটি প্রাণ ছটফট করতে করতে অপেক্ষা করতে লাগলো। কখন ভোরের আলো ফুটবে! জগতের সব কালো মিলিয়ে গিয়ে আলো হয়ে ধরা দিবে রাত পেরিয়ে দিন?

ইন শা আল্লাহ চলবে.....

লেখনীতে~সুমাইয়া ইসলাম জান্নাতি

শ্রাবণের এক বৃষ্টিস্নাত রাতে অরিকের সাথে দেখা হয় বৃষ্টির। দুজন অপরিচিত মানুষ। না কেউ কাউকে আগে দেখেছে, না হয়েছে কখনও কথা...
18/09/2025

শ্রাবণের এক বৃষ্টিস্নাত রাতে অরিকের সাথে দেখা হয় বৃষ্টির। দুজন অপরিচিত মানুষ। না কেউ কাউকে আগে দেখেছে, না হয়েছে কখনও কথা। অথচ অপরিচিত একটি যুবতীর নিরাপত্তার খাতিরে অচেনা ছেলেটি হয়ে উঠল দায়িত্বজ্ঞান সম্পন্ন এক পুরুষ। তারপর কি হয়েছিল তাদের? পুরুষটি কি তার দায়িত্ব অটল থাকতে পেরেছিল?

জানতে হলে পড়ুন।

আর ২য় ই-বই, "শ্রাবণের প্রথম বৃষ্টি।"

শ্রাবণের বৃষ্টিস্নাত মাঝরাতে দুজনের দেখা হয়েছিল, যদিও অপ্রত্যাশিতভাবে। কিন্তু এরপরে যতবার তাদের দেখা হয়েছে, পর.....

 #তোমার_প্রেমে_আমি_পড়েছি (০৫)অনেকগুলো দিন পরে ফাইয়াজের কথায় নাইয়াজের টনক নড়ে। সে উপলব্দি করে আসলেই সিরাতকে ওই একটুখানি র...
18/09/2025

#তোমার_প্রেমে_আমি_পড়েছি (০৫)

অনেকগুলো দিন পরে ফাইয়াজের কথায় নাইয়াজের টনক নড়ে। সে উপলব্দি করে আসলেই সিরাতকে ওই একটুখানি রাত ছাড়া তেমন সময় দেওেয়া হয়ে উঠছে না। সামান্য অনুশোচনা হলো তার। কিন্তু ততক্ষণে সিরাত গভীর ঘুমে বিভোর হয়ে আছে। নাইয়াজ দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে নিজেও ঘুমাতে চলে গেল।

পরদিন দুপুরের কিছু পরে নাইয়াজ সিরাতকে রেডি থাকতে বলে গেল। সে গেল, গাড়ির খোঁজে। তাদের বাড়ির সামনে গাড়িঘোড়া বিশেষ পাওয়া যায় না।

সিরাত সালোয়ার কামিজের সাথে ম‍্যাচিং হিজাব বাধা শেষ রুম থেকে বের হওয়ার সময় শুনতে পেল, তার মেঝ চাচি শাশুড়ি তার শাশুড়িকে বলছেন, "বুঝলি, এই হলো কাহিনী। বাপ ছেলের নিরব যুদ্ধের মাঝে আমি পড়ছি বহুত জ্বালায়। কেউ কারো সাথে কথা কয় না। ফাইয়াজ, আমার হাসিখুশি আব্বাডা ঝিমায় গেছে। ওই আমার একমাত্র ছেলে। এসব আমি মানতে পারি? তাকে বুঝায়ে কইলাম, মেয়ে খারাপ না। নাইয়াজের মা বেছে তো একজনেরটা আনছে। আমরা নাহয় আরেকটা আনলাম। ক্ষতি কী? মেয়ে দেখতে সুন্দর, পড়াশোনা করছে। ছেলের যখন পছন্দ হয়ছে তখন ঝামেলা, বাকবিতণ্ডা করে লাভ নাই। এখন তুই ই ক আমার কথায় কি ভুল আছে?"

জায়ের কথায় তিনি প্রতিত্তোরে বললেন, "কি আর বলব। আজকালকার ছেলেপেলের মন বোঝা যায় না। তোমাদের যা ভালো মনে হয় করো।"

"তোর ঘরেরটা ভালো তো?"

কথাটা কিছুটা নিচু স্বরে জিজ্ঞাসা করলেন।

"কেমন যেন ঝিম মে"রে থাকে। কাজকর্ম করে রুমে বসে থাকে। এই আর কি।"

"ওহ। মনে হয় মিশতে জানে না।"

"কিজানি। বারোটার গোসল তিনটায় করে। দুপুরের খাবার খায় দেরি করে। মন মরা হয়ে থাকে। এখানে কি খারাপ আছে? শশুর বাড়ি কিভাবে চলতে হয় সে শিক্ষা দেয়নি বাবা-মা। আজকালকার মেয়েরা মনে করে, বিয়ের পর স্বামীই সব। কি আর বলব?অত কিছু বুঝি না, আপা।"

কথাগুলো আস্তে ধীরে বললেও সিরাতের কানে ঠিকই গেল। যতটা আনন্দ উচ্ছাস নিয়ে রেডি হয়েছিল সব ভাটা পড়ে গেল। মেয়েটির হঠাৎ করেই মন খারাপ হলো। সে বড় বাড়িতে অনেক মানুষের মাঝে বড় হয়েছে। স্বভাবে একটু নিরবতা আছে। কিন্তু সেটা অপরপক্ষের স্নেহ মমতায় হাসি আনন্দে রূপ নেয়। শাশুড়ি মা সবসময় মুখটা গম্ভীর রেখে চলেন। এমন মানুষের সাথে আগ বাড়িয়ে কিছু বলা বা করা সিরাতের মন সায় দেয়নি। তবে তিনি বয়োজ্যেষ্ঠ হিসাবে স্নেহের হাত বাড়ালে সিরাত সবটুকু দিয়ে এগিয়ে যেত। এটা নিশ্চিত।

নাইয়াজ বারবার কল করছে। সিরাত তাড়াতাড়ি করে বেরিয়ে গেল। শাশুড়ি মা কে যাওয়ার সময় বলে যাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও কেন যেন বললো না। মায়ের মত আগলে নিলে সে ও অবশ্যই মেয়ের ব‍্যবহারটাই দিত ফিডব‍্যাক হিসাবে। শাশুড়ি হিসাবে জটিল থেকে, বয়সে ছোট বউমার থেকে ভালো কিছু আশা করা কতটা যৌক্তিক? কথাগুলো অন‍্যের কানে না দিয়ে ঘরের বউমাকে বুঝিয়ে বললে কি খুব ভুল হত? না সম্মান চলে যেত?

ছোটরা ভুল করলে বা অবুঝের মত কিছু করলে বড়রা শিখিয়ে পড়িয়ে নিবে এটাই তো স্বাভাবিক। সিরাতের শাশুড়ি হয়তো বউমা সম্পর্কে আহামরি কিছু বলেননি। কিন্তু ওই একটু আধটু মনক্ষুণ্ণতা থেকেই এক সময় বড়সর কোন্দলে রূপ নেয়। আমাদের বাঙালি পরিবারের এ এক অতি পরিচিত পাঠ।

নাইয়াজ সিরাতকে নিয়ে এসেছে উলপুর জমিদার বাড়িতে। বেশ সুন্দর প্রসাদের মত তিনতলা জমিদার বাড়িটি এলাকার মানুষের ঘোরাঘুরির স্থান হয়ে দাড়িয়েছে। সিরাত আগে আসেনি। নাম শুনেছে। এবার নাইয়াজের সাথে আসা হলো। নাইয়াজ এই প্রথম সিরাতকে নিয়ে বেরিয়েছি। সিরাতকে রেখেই সে আগে আগে হেঁটে এগিয়ে চলেছে। সিরাত জোরে হেঁটেও লোকটির পাশাপাশি যেতে পারছে না। হঠাৎ করেই সিরাত হাঁটা থামিয়ে দিল। তার অনুসরণ করে হাঁটতে ইচ্ছে করছেনা। বিয়ের পর থেকে মানুষটি নিজ প্রয়োজনে কাছে আশা ব‍্যাতীত স্বামীর অন‍্য কোন দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করেনি। হয়তো তার মতে শরীরের সাথে শরীর মেলানোটাই যত আনন্দ, সুখ। রাস্তার ধারের এক সিমেন্টের পাঁকা বেঞ্চিতে সিরাত ক্লান্ত হয়ে বসে পড়ল। জীবনের হিসাব মিলছে না। স্বামীর সাথে খুনশুটি ময় সম্পর্ক থাকবে এমনটিই তো আশা করে মেয়েরা। সে ও এমনই চেয়েছিল। অথচ তার স্বামীর কাছে সে বাদে দুনিয়ার বাকি সবকিছু মূল‍্যবান।

সিরাতকে আশেপাশে কোথাও না দেখে নাইয়াজ এলোমেলো ভাবে আশপাশ খুজল। কোথাও না পেয়ে পিছন ফিরে এল। সিরাতকে বসা দেখে মেজাজ গরম করে জিজ্ঞাসা করলো, "এখানে কি করছো? ওদিকে আমি খুজে ম"রছি।"

"তাহলে কোথায় থাকব? কুত্তার মত আপনার পিছু পিছু ঘুরব? এজন্য এনেছেন?"

সিরাত নিজেও চড়া মেজাজে জবাব দিল। এমন সময় মেজাজ ঠান্ডা রাখা যায় না।

নাইয়াজ সিরাতের পাশে গিয়ে বসল। হাত ধরে বললো, "সরি, আমার উচিত ছিল তোমার কাছে থাকা। চলো ওদিকটায় ফুচকার স্টল দেখেছি। খাবে, চল।"

"না, কিছু খাব না।"

"কেন?"

"ইচ্ছে করছে না।"

"তাহলে অন‍্যদিকে চলো। দোতলায় চলো। ওদিক ঘুরে দেখা হয়নি।"

"কোথাও যাব না। আমাকে বাড়ি দিয়ে আসুন।"

"সিনক্রিয়েট করিও না। পাবলিক প্লেসে ঝামেলা করতে চাইছো?"

"একদমই না। আমার খুব বড় ভুল হয়েছে আপনার সাথে আসা। আমার লিমিট রাত পর্যন্তই। এর বাইরে আপনার সাথে আমার কোন সম্পর্ক আছে নাকি?"

"সিরাত!"

"আমি চললাম।''

বলে সিরাত সামনের দিকে হাঁটা শুরু করলো। নাইয়াজ হতভম্বের মত দাড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। শান্ত, নরম মেয়েটিকে তার চিনতে অসুবিধা হচ্ছে। মেয়েটি এভাবে রাগ করবে তা ভাবতে পারেনি সে। অতঃপর নিজেও সিরাতের পিছু হাঁটা ধরলো।

বিকালের দিকে সিরাতকে নিয়ে বাড়ি ফিরল নাইয়াজ। বিকালের নাস্তা বানানোর জন্য কিচেনে এলে শাশুড়ি মা গম্ভীর স্বরে জিজ্ঞাসা করলেন, "কোথায় গিয়েছিলে?"

"আপনার ছেলের সাথে।"

"কোথাও গেলে বাড়ির বড়দের জানিয়ে যেতে হয়। এটুকু জ্ঞান তোমার হয়নি?"

সিরাতের মাথা নিচু হয়ে গেল। পূর্বের রাগ, এখনের কঠোর ভাষা সিরাতকে ভেতরে ভেতরে ঝাঝরা করে দিল। বিয়ের এই অল্প সময়ে পরপর এসব ঘটনা তার অল্প বয়সী নারী মনে বড়সর আঘাত ফেলল। শাশুড়িকে কিছু বললো না। শুধু বোবা চোখে দেখল, কানে শুনলো।

সিরাতকে চুপচাপ দাড়িয়ে থাকতে দেখে তার শাশুড়ি ফের বললেন, "সিংক এর পাশে বাটিতে ডাল ভেজানো আছে। পাটায় বেটে, আতপ চাউলের গুরো মিশিয়ে ডালের বরা করবে। আর হ‍্যাঁ, খেতে ভালো হয় যেন।"

এবাড়িতে ব্লেন্ডার আছে। সম্ভাবত ছেলের বউয়ের সুবিধার্থে সে যন্ত্র ব‍্যবহৃত হয় না। সিরাত সময় নিয়ে পাটায় বেটে ডাল বাটার মধ্যে চাউলের গুড়ার সংমিশ্রণে পেয়াজ কুচি, মরিচ কুচি, ধনেপাতা কুচি, সামান্য রসূন ও জিরার গুরো দিয়ে ভালো করে মেখে ফ্রাইপ্যানে তেল গরম করে হাত দিয়ে চেপে চেপে প‍্যানের গরম তেলে ছোট ছোট করে একটা একটা করে দিয়ে ভেজে উঠালো। মুচমুচে স্বাদের ডালের বড়া গুলো খেতে খুবই সুস্বাদু হলো। নাইয়াজ, তার বাবা সবাই প্রশংসা করলো। শাশুড়ি মা রইলেন নিরব। সবাই খেলেও খেল না শুধু সিরাত। আয়েশ করে বিকালে নাস্তা খাওয়ার দিন তার ফুড়িয়েছে।

রাতের বেলায় সিরাত ব‍্যালকনি থেকে শুকনো জামাকাপড় এনে বিছানার এক কোনায় বসে ভাজ করছিল। এমন সময় নাইয়াজ এসে বসলো খাটের এক কোনায়। সিরাতের দিকে তাকিয়ে বললো, "রাতে তেমন কিছু খেলে না। শরীর খারাপ নাকি?"

"না।"

"তাহলে?"

"সবদিন খাওয়ার রুচি সমান থাকে না।"

"ওহ। কোথাও ঘুরতে যাবে? কাল নিয়ে যাব। তোমার পছন্দের জায়গা থাকলে,বলো।"

"কোথাও যাওয়ার ইচ্ছে নেই।"

"কেন?"

"এমনি।"

"তুমি কি আজকের জন্য রাগ করেছ?"

"নাহ।"

"তোমার কথায় সেরকম মনে হচ্ছে।"

সিরাত কাপড় ভাজ করে চট করে নাইয়াজের দিকে একবার তাকালো। এক ঘরে থেকেও স্ত্রীর রাগ সম্পর্কে কোনরকম ধারণা নেই। বরং জিজ্ঞাসা করছে, রাগ করেছ? সিরাত আর কিছুই বললো না। চুপচাপ কাপড় গুলো ওয়ারড্রবে রেখে লাইট নিভিয়ে বিছানায় উঠে এলো। নাইয়াজ হাত বাড়িয়ে তাকে কাছে টানলেই সিরাত নিজেকে ছাড়িয়ে নিল।

"আমার ভালো লাগছে না। ঘুমাতে চাই।"

"ভালো লাগবে, ডার্লিং। একসাথে ঘুমাবো।"

সিরাত তবুও স্বামীর আহ্বানে সাড়া দিল না। নাইয়াজ গরম মেজাজে উঠে বসলো। সিরাতকে টেনে নিজের মুখোমুখি বসালো।

"এই সমস্যা কি তোমার?"

"কিছু না তো।"

"তাহলে এমন করছো কেন? আছিই মাত্র কয়টা দিন। এরমধ্যেই বাহানা শুরু করেছ?"

"বাহানা করছি না। শরীর সবসময় ভালো থাকে না।"

"মেয়ে মানুষ কখনোই পুরুষ মানুষের ইমোশন বোঝে না। পারে শুধু নিজেকে লক করে রাখতে।"

সিরাত বললো, "হাসালেন। আপনার ইমোশন বুঝেই এতদিন সাড়া দিয়ে এসেছি। অথচ, একদিন সমস্যার কথা বলেছি। তাতেই মেজাজ চটে যাচ্ছে?"

"তুমি কাজই কর তেমন। আমি কি করব?"

"আসলেই। আপনি কি করবেন? আপনার কিছু করার নেই।"

নাইয়াজ চুপ করে তাকিয়ে রইল সিরাতের দিকে। সিরাতকে আজ অন‍্যরকম লাগছে। কথাগুলো অচেনা লাগছে। কি হয়েছে মেয়েটি? মনে প্রশ্ন জাগল নাইয়াজের। সময় ব‍্যায় না করে নাইয়াজ জিজ্ঞাসা করল, "কিছু হয়েছে? আমাকে বলতে পার। এতটা পর ও নিশ্চয় আমি নই।"

"আপনি কি সত্যি আমার আপন কেউ হন?"

সিরাতের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলো না নাইয়াজ। শুধু তাকিয়ে রইল মুখের দিকে।

ব‍্যাকনিতে জ্বলা লাইটের আলো জানালার পর্দা ভেদ করে রুমজুড়ে হালকা আলোয় আলোকিত করে রেখেছে। দুজন দুজনের মুখ দেখতে পারছে সে আলোয়। নাইয়াজ সিরাতের হাত দুটো কমল হাতে মুঠোয় পুড়ে নিল।

সিরাত হাত ছাড়িয়ে নিল না। হাতের ভাজ খুলে এক হাতের ওপর সিরাতের এক হাত রেখে নাইয়াজ হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। সিরাতের মনে হল আজ অভিযোগ গুলো বলার সময় এসেছে। পুরুষ জাতের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে না দিলে ওরা কখনোই বুঝতে পারে না। ওদের কেবল মনে হয়, তারা যা করে সেটাই ঠিক। সাতখু"ন করলেও মাফ।

আধো আলোয় সিরাতের ঠোঁট নড়ে উঠল।

"এইযে একটি মেয়েকে দায়িত্ব নিয়ে নিজের জীবনের সাথে জড়িয়েছেন, তার প্রতি কোন দায়িত্বটা আপনি ঠিকঠাক পালন করেছেন বলতে পারেন? নামেই স্বামী-স্ত্রী। অথচ প্রয়োজন ফুরালে কে আমি? এমন একটা ভাব আমি সবসময় আপনার মধ্যে দেখেছি। সদ‍্য একটি নতুন পরিবারে আমি এসে উঠেছি। সেখানকার পরিবেশ ভিন্ন, মানুষজন ভিন্ন। তাদের কথাবার্তা সহ অনেককিছুই অন‍্যরকম। যে পরিবেশে আমি বেড়ে উঠেছি তেমন না। নিজের পরিচিত বাসস্থান ছেড়ে অন‍্যত্র মানিয়ে নেওয়া কি খুবই সহজ? আপনার চোখে হয়তো সহজ। কিন্তু আমার জন্য না। সারাক্ষণ আমার মন খারাপ হয়ে থাকে। কখনও খোঁজ নিয়েছেন আমার মনের? বান্ধবীদের বিয়ে হলে শুনেছি তাদের কত মধুর স্মৃতি। একে অন‍্যকে খাইয়ে দেয়। এখানে সেখানে ঘুরতে নিয়ে যায়। আমরা কয়দিন তেমন সময় কাটিয়েছে বলতে পারবেন? কখনও সুখের সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন? কখনও নিজের সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন?
বিয়ে মানে ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার চিরস্থায়ী বন্ধন। সেই বন্ধনে থাকে একে অন‍্যের জন্য অকৃত্রিম প্রেম ভালোবাসা। থাকে না কোনরকম বাধা একে অন‍্যের খুব কাছে যাওয়ার। অথচ প্রেম বাদ দিয়ে আপনি খুজলেন শুধুই শরীর। আপনি আফসোসে ম"রে যান মাত্র কদিন আছেন অথচ খায়েশ পূরণ করতে পারছেন না। আপনার সাথে আমার মনের মিল হয়নি। হয়েছে শরীরের মিল। আপনার উচিত ছিল যে কটাদিন সময় ছিল দুজন দূজনকে বোঝা। কে কি চায় পরস্পরকে বোঝানো। দুজন দুজনকে বুঝলে তবেই না মনের মিলটা আসে। আর যেখানে মনের মিল থাকে, সেই শরীরের মিলটা ও হয় তৃপ্তির,আনন্দের। আপনি রাত হলেই শরীর হাতান। অথচ মনকে চিনতে চাইলেন না। আমি কি চাই বুঝতে চাইলেন না। এইযে আপনি কর্মস্থলে ফিরে যাবেন, অথচ আমার কোন খারাপ লাগা কাজ করছে না। আপনার প্রতি যদি আমার মায়াটাই না জন্মায় তাহলে খারাপ লাগা আসবে কি করে? বিয়ের পরে স্বামী ভালো হওয়া মেয়েদের জন্য সৌভাগ্যের। শশুর শাশুড়ি ভালো হওয়া না হওয়া অতটা ম‍্যাটার করে না তখন। সরি টু সে, আপনি নিজেও আমাকে বোঝেন না, আপনার পরিবারের লোক আমাকে কিভাবে সম্মান দিবে? পুত্র বউয়ের প্রতি আচরণ কেমন হওয়া উচিত কখনও বুঝিয়েছেন? কি পেলাম আপনাকে বিয়ে করে? না ভালোবাসা, না ইচ্ছার পূর্ণতা। কিছুই তো নয়। মেয়েদের মনে কত ফ‍্যান্টাসি থাকে এই বিয়েকে ঘিরে। আজ যখন নিয়ে গেলেন উলপুর জমিদার বাড়ি দেখাতে, অথচ আপনি এমন ভাব করলেন যেন আমি আপনার কেউ নই। পাশাপাশি হাঁটি মহা পাপ হয়ে যাবে। ওই এলাকা না আমি চিনি, আর না কখনও গিয়েছি। একজন মানুষকে নিয়ে গেলেন অথচ সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারলেন না। আমার আব্বুর সাথে কোথাও গেলে আমার হাত ছাড়তেন না তিনি। মেয়েরা তার বাবার মতো দায়িত্ববান পুরুষ চায় জীবনসঙ্গী হিসাবে। বিয়ের পরে সবচেয়ে আপন মানুষটা স্বামী হয়। এদিকে না আমি আপনার আপন হতে পেরেছি। আর না আপনি কখনও চেষ্টা করেছেন। আমি তো আপনার সামাজিক মর্যাদা, টাকা পয়সা দেখে আসিনি। আমি এক বুক ভালোবাসা পেতে এসেছিলাম। অথচ পাচ্ছি শুধুই অবহেলা আর মানসিক অশান্তি। বিয়ে শব্দটা আমার জন্য ভুল হয়ে এসেছে।"

সিরাত লম্বা বক্তব্য দিয়ে থামল। বিছানা থেকে নেমে গিয়ে পানি খেয়ে এলো। নাইয়াজ শুধু চুপচাপ শুনে গেল। একটি কথাও বলল না। তার এত এত ভুল হয়েছে অথচ সেগুলো কে কখনও ভুল মনেই হয়নি। নিজের মনের মধ্যে কিছুক্ষণ প্রশ্নের আদান প্রদান চললো।

সিরাতকে কিছু বলার জন্য পাশে তাকাতেই দেখতে পেল মেয়েটি গভীর ঘুমে তলিয়ে গিয়েছে। ডেকে আর একটা পাপ ও সে বাড়াতে চাইল না। সকালে বাকি কথা হবে ভেবে ঘুমিয়ে পড়ল সে।

পরদিন নাইয়াজের জন্য একটি বড় চমক অপেক্ষা করছিল। মোটেও আন্দাজ করতে পারল না ছেলেটি।

ইন শা আল্লাহ চলবে......

লেখনীতে~সুমাইয়া ইসলাম জান্নাতি

[ নাইস,নেক্সট না লিখে একটা সুন্দর মন্তব‍্য ও তো করতে পারেন। আপনাদের এক বাক‍্যের মন্তব্য আমাদের অনেক বড় অনুপ্রেরণা হয়।]

আমার ই-বুকগুলো পড়ুন বইটই থেকে।
আমার প্রথম ই-বই,"যে প্রেম এসেছিল নিরবে নিভৃতে।"
https://link.boitoi.com.bd/4e8K

আর ২য় ই-বই, "শ্রাবণের প্রথম বৃষ্টি।"
https://link.boitoi.com.bd/4xm7N

Address


Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sumiya Islam Jannaty-সুমাইয়া ইসলাম জান্নাতি posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

  • Want your business to be the top-listed Media Company?

Share