19/03/2026
২০২৬ সালের নির্বাচন শুধু আরেকটা সাধারণ নির্বাচন নয়, এটা পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যতের নির্বাচন।
এই পোস্টের সাথে যে ছবিগুলো দিলাম, সেগুলো শুধু ছবি নয়। এগুলো মানুষের ভয়, যন্ত্রণা আর নিজের বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার বাস্তবতার ছবি। নিজের জন্মভূমিতে উদ্বাস্তু হওয়ার কষ্ট কেমন, সেটা এই মানুষগুলো জানেন।
চন্দন দাস এবং হরগোবিন্দ দাস, নাম দুটো নিশ্চয়ই অনেকের মনে আছে। তারা বিজেপি করতেন না, তারা কোনও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যও ছিলেন না। তারা বামপন্থী মতাদর্শের মানুষ ছিলেন, ধর্ম নিয়েও খুব একটা ভাবতেন না। তবুও তাদের প্রাণ দিতে হয়েছে, কারণ তাদের পরিচয় ছিল হিন্দু।
ধুলিয়ান থেকে পালিয়ে ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া সাধারণ মানুষের ছবিও এখানে আছে। তাদের মধ্যে অনেকেই তৃণমূলের সমর্থক ছিলেন। কিন্তু সংকটের সময় তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কেউ দেখেনি, দেখা হয়েছে শুধু তারা হিন্দু।
পশ্চিমবঙ্গ একসময় ছিল সম্প্রীতির রাজ্য। কিন্তু আজ বহু মানুষ প্রশ্ন করছেন, তাদের নিরাপত্তা কি সত্যিই নিশ্চিত?
বিভিন্ন জায়গায় ধর্মীয় উৎসব নিয়ে বিতর্ক হয়েছে, শোভাযাত্রা নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে, বহু মানুষ অভিযোগ করেছেন যে প্রশাসন সবসময় নিরপেক্ষভাবে দাঁড়ায়নি। সীমান্তবর্তী জেলাগুলো : মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা—এসব জায়গার মানুষের অভিজ্ঞতা অনেক সময় আলাদা কথা বলে।
যারা দূরে বসে সবকিছু স্বাভাবিক ভাবছেন, তারা একবার সীমান্তের জেলাগুলোতে গিয়ে মানুষের কথা শুনুন।
গণতন্ত্রে রাগ, ক্ষোভ বা ভয়ের উত্তর একটাই—ভোট।
ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্য মনে আছে তো? যারা ইসলাম নিয়ে জন্মগ্রহণ করেনি তারা নাকি দুর্ভাগ্য নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কয়েকদিন আগের মন্তব্য? একটা কমিউনিটি নাকি হিন্দুদের শেষ করে দেবে এক সেকেন্ডে। ভুলে গেলেন সবকিছু?
২০২৬ সালের নির্বাচন তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি মানুষ মনে করেন পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন দরকার, তাহলে সেই পরিবর্তনের পথ একটাই, ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
হিন্দু সমাজকে বিভক্ত না হয়ে নিজেদের নিরাপত্তা, সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে একসাথে দাঁড়াতে হবে।
মমতা ব্যানার্জি এবং তৃণমূল এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে যেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বোধ করছেন এবং এটি গণতন্ত্রের জন্য ভালো লক্ষণ নয়।
গত কয়েক বছরে বিভিন্ন বক্তব্য, ঘটনা এবং সংঘর্ষ নিয়ে অনেক বিতর্ক । প্রশাসনের ভূমিকা যথেষ্ট দৃঢ় ছিল না। বিভিন্ন জায়গায় উৎসব বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে অযথা বাধা এসেছে, আবার কোথাও কোথাও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। প্রত্যেক বছর বিভিন্ন জায়গায় দুর্গাপূজার অনুমতি নেওয়ার জন্য কোর্টে যেতে হয়, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্কুলে সরস্বতী পূজা বন্ধ হয়ে গেছে।। রামনবমী এবং হনুমান জয়ন্তী শোভাযাত্রার উপর আক্রমণ প্রায় হয়। প্রশাসন চুপচাপ দেখে হিন্দুরা আক্রান্ত হচ্ছে। দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরীকে পরিণত হয়েছে হিন্দুরা।
পশ্চিমবঙ্গ বহুবার ইতিহাস বদলেছে।
২০২৬ সালেও সেই সুযোগ আসছে।
ভয় নয়, বিভাজন নয়,
ঐক্য, সচেতনতা এবং ভোটের শক্তিতেই পরিবর্তন সম্ভব। কোন সম্প্রদায়ের সাথে শত্রুতা করার দরকার নেই, কিন্তু নিজেদের অধিকারটা বুঝে নেওয়ার সময় এসেছে।