18/11/2025
আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় শিক্ষাকে শুধুই ব্যক্তিগত উন্নতির মাধ্যম হিসেবে দেখা যায় না; এটি একটি দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির শক্তিশালী চালিকা শক্তি। তাই শিক্ষার্থীদের পড়া-লেখা থেকে শুরু করে তাদের মৌলিক চাহিদা; থাকা, খাওয়া, স্বাস্থ্যসেবা; সবকিছুর দায়িত্ব রাষ্ট্রের হওয়া উচিত। কারণ শিক্ষা হলো সমাজ পরিবর্তনের মূল হাতিয়ার, আর শিক্ষার্থীরাই সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু।
শিক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের কেন?
প্রথমত, শিক্ষা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কিন্তু অধিকার তখনই বাস্তবায়িত হয়, যখন রাষ্ট্র সেই অধিকার নিশ্চিত করে। যদি দারিদ্র্য, অসমতা বা সামাজিক বৈষম্যের কারণে কেউ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, তবে সেই রাষ্ট্র তার নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়। তাই রাষ্ট্রকে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করলেই হবে না; শিক্ষার্থীর শেখার পরিবেশ এবং জীবনযাপনের নিশ্চয়তাও দিতে হবে।
অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাতে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব:
বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে শিক্ষার্থীরা অর্থাভাবে পড়াশোনা শেষে কাজ করতে বাধ্য হয় বা ড্রপ-আউট হয়। এমন বাস্তবতায় শিক্ষা বিনামূল্যে না হলে এবং থাকা-খাওয়ার নিশ্চয়তা না থাকলে দরিদ্র পরিবারের সন্তান কখনই সমান সুযোগ পাবে না। ফলে সমাজে ধনী-গরিবের বৈষম্য আরও বেড়ে যাবে।
একই সঙ্গে পড়ালেখার খরচ নিজের ওপর না থাকলে শিক্ষার্থীরা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের শিক্ষা-মান বৃদ্ধি করে।
রাষ্ট্রের বিনিয়োগ ভবিষ্যৎ উন্নয়নে ফেরত আসে:
শিক্ষার ওপর বিনিয়োগ কখনই অপচয় নয়। সু-শিক্ষিত জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রের অর্থনীতি, প্রযুক্তি, প্রশাসন, চিকিৎসা থেকে শুরু করে প্রতিটি সেক্টরে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করে। এই মানবসম্পদই একটি দেশের জিডিপি বাড়ায়, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উন্নত করে।
অতএব শিক্ষার্থীর মৌলিক চাহিদা পূরণ করা রাষ্ট্রের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি লাভজনক বিনিয়োগ।
সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার ভূমিকা:
যে রাষ্ট্র তার শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব নেয়, সে রাষ্ট্র সমতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। সুযোগ-সুবিধা সবার জন্য এক হলে সমাজের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি পায়। এ ধরনের রাষ্ট্রে নাগরিকেরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শুধু স্বপ্নই দেখে না-সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের শক্তিও পায়।
উপসংহার
শিক্ষার্থীর পড়া-লেখা, থাকা-খাওয়া; সব দায়িত্ব রাষ্ট্রের নেওয়া শুধু মানবিক বা নৈতিক দাবি নয়; এটি একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা। একটি উন্নত, সমতা-ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য শিক্ষার পূর্ণ দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
শিক্ষার্থীর উপর নয়, রাষ্ট্রের কাঁধেই থাকা উচিত শিক্ষার পূর্ণ
ভার-কারণ শিক্ষার শক্তিই গড়ে তোলে দেশের ভবিষ্যৎ।