The Tripod

The Tripod I'm obsessed with podcasts. This page is where I share my favorite finds. Bite-sized clips & reels. Quick-read summaries. Follow along to discover with me.

ফ্রান্স সরকার আমাকে গ্রেপ্তার করেছিল এবং রোমানিয়ার নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে বলেছিল। টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ ...
01/10/2025

ফ্রান্স সরকার আমাকে গ্রেপ্তার করেছিল এবং রোমানিয়ার নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে বলেছিল। টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ ফাঁস করছেন, কীভাবে বিশ্বের ক্ষমতাশালী দেশগুলো বাকস্বাধীনতাকে দমন করার চেষ্টা করছে।

পাভেল বলেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের পরাধীনতা এবং ইতালির স্বাধীনতা এই দুই সমাজব্যবস্থা দেখেই তিনি বড় হয়েছেন। স্বাধীনতা অর্থের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। ভয় এবং লোভ হলো স্বাধীনতার সবচেয়ে বড় শত্রু। তাই তিনি সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখেন, যাতে কোনো ভয় তাকে তার নীতি থেকে সরাতে না পারে।

পাভেল প্রায় ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অ্যালকোহল, তামাক, কফি বা অন্য কোনো ধরনের মাদক থেকে সম্পূর্ণ দূরে আছেন। তিনি ১১ বছর বয়সে একটি বই পড়ে জানতে পারেন যে, অ্যালকোহল মস্তিষ্কের কোষকে প্যারালাইজড করে এবং কিছু কোষকে চিরতরে মেরে ফেলে। মস্তিষ্ক যদি আপনার সবচেয়ে মূল্যবান যন্ত্র হয়, তবে কেন আপনি স্বল্পমেয়াদী আনন্দের জন্য এটিকে নষ্ট করবেন?

পাভেল কোনো স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না, শুধুমাত্র টেলিগ্রামের ফিচার পরীক্ষার জন্য ছাড়া। তিনি মনে করেন, ফোন আমাদের মনোযোগ নষ্ট করে এবং অন্য মানুষ বা সংস্থা আমাদের চিন্তাভাবনাকে নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ পেয়ে যায়। তিনি দিনের বেশিরভাগ সময়, বিশেষ করে সকালে, ফোন থেকে দূরে থেকে গভীর চিন্তাভাবনা এবং সৃজনশীল কাজ করতে পছন্দ করেন।

মানসিক শক্তির মূল ভিত্তি হলো শৃঙ্খলা। তিনি প্রতিদিন সকালে ৩০টি পুশ-আপ এবং ৩০টি স্কোয়াট করেন। এছাড়া সপ্তাহে ৫-৬ দিন জিমে যান এবং আইস বাথ নেন। তিনি বলেন, এই কাজগুলো করার ইচ্ছা না থাকলেও জোর করে করি, কারণ এটি আমার আত্ম-শৃঙ্খলাকে শক্তিশালী করে, যা জীবনের অন্য সব ক্ষেত্রে সফলতা নিয়ে আসে।

টেলিগ্রামের মূল ইঞ্জিনিয়ারিং দলে মাত্র ৪০ জন সদস্য রয়েছে। পাভেলের দর্শন হলো, বেশি কর্মী মানেই ভালো কাজ নয়। কম কর্মী থাকলে তারা দায়িত্ব এড়াতে পারে না এবং অটোমেশনের মাধ্যমে কাজকে আরও দক্ষ করে তোলে। টেলিগ্রামের ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত বার্তা সম্পূর্ণ এনক্রিপ্টেড এবং এর ডেটা সেন্টারগুলো বিভিন্ন দেশে বিভক্ত, যাতে কোনো একটি দেশের সরকার তথ্যের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে না পারে।

গত বছর পাভেল ফ্রান্সে পৌঁছানোর সাথে সাথেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। টেলিগ্রাম ব্যবহারকারীদের দ্বারা সংঘটিত প্রায় ১৫টি অপরাধের জন্য তাকে দায়ী করা হয়, যা ছিল এক কথায় অযৌক্তিক। তাকে প্রায় চার দিন জানালাবিহীন এক কংক্রিটের সেলে রাখা হয়। পাভেল এই ঘটনাকে কাফকার লেখা The Trial উপন্যাসের সাথে তুলনা করেছেন, যেখানে একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা একজন ব্যক্তিকে অযৌক্তিকভাবে হয়রানি করে।

গ্রেপ্তার হওয়ার পর ফরাসি গোয়েন্দা সংস্থা পাভেলের সাথে যোগাযোগ করে এবং রোমানিয়ার নির্বাচনে Conservative candidate টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলো বন্ধ করে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। পাভেল সরাসরি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ এটি ছিল রাজনৈতিক সেন্সরশিপ এবং তার নীতির পরিপন্থী।

পাভেল ১১ বছর বয়সে সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি পরীক্ষামূলক স্কুলে ভর্তি হন, যেখানে গণিত এবং চারটি বিদেশী ভাষার (ল্যাটিন, ইংরেজি, ফরাসি, জার্মান) উপর চরম গুরুত্ব দেওয়া হতো। এই কঠোর এবং প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাই তার চিন্তাভাবনার ভিত্তি তৈরি করেছিল।

ছোটবেলায় ভিডিও গেমসের প্রতি তার প্রচণ্ড নেশা ছিল। পর্যাপ্ত গেমস না পাওয়ায়, তিনি নিজেই গেমস তৈরি করা শুরু করেন। এভাবেই তার প্রোগ্রামিং জগতে প্রবেশ। পরবর্তীতে তিনি একাই VK (রাশিয়ার ফেসবুক) নামক সোশ্যাল নেটওয়ার্কের প্রথম সংস্করণ তৈরি করেন।

পাভেল মনে করেন, একজন B প্লেয়ার পুরো দলের কাজের গতি কমিয়ে দেয় এবং A প্লেয়ারদের অনুপ্রেরণা নষ্ট করে। তাই তিনি কোডিং কম্পিটিশনের মাধ্যমে বিশ্বের সেরা ইঞ্জিনিয়ারদের খুঁজে বের করেন, যারা ইতিমধ্যেই টেলিগ্রামের ব্যবহারকারী এবং এর দর্শন বোঝে।

টেলিগ্রামই প্রথম মেসেজিং অ্যাপ যা এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন চালু করেছিল। পাভেল বলেন, আমরা এমন একটি সিস্টেম তৈরি করেছি যেখানে কোনো সরকারের কাছে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত বার্তা শেয়ার করা অসম্ভব। এর চেয়ে বরং আমরা সেই দেশে আমাদের পরিষেবা বন্ধ করে দেব।

পাভেল মনে করেন, এডওয়ার্ড স্নোডেন যা করেছেন তা অত্যন্ত সাহসিকতার কাজ। স্নোডেনের ফাঁস করা তথ্যই পৃথিবীকে দেখিয়েছে যে, সরকারগুলো কীভাবে গোপনে জনগণের ওপর নজরদারি চালায়।

২০১৮ সালে রাশিয়া এবং ইরান টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ করে, কারণ এটি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মাধ্যম হয়ে উঠেছিল। কিন্তু পাভেল ডিজিটাল প্রতিরোধের মাধ্যমে এবং প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করে সেই নিষেধাজ্ঞা বহুলাংশে অকার্যকর করে দেন।

পাভেল প্রথমবার স্বীকার করেন যে, ২০১৮ সালে তাকে বিষ প্রয়োগে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, আমার পুরো শরীর অবশ হয়ে আসছিল, আমি দেখতে বা শ্বাস নিতে পারছিলাম না। আমি ভেবেছিলাম আমি মারা যাচ্ছি। এই ঘটনার পর তিনি আরও নির্ভীক হয়ে ওঠেন এবং মনে করেন যে তিনি এখন বোনাস জীবনে বেঁচে আছেন।

পাভেল তার ব্যক্তিগত জীবনযাত্রার খরচ চালান তার বিটকয়েন বিনিয়োগ থেকে, টেলিগ্রাম থেকে নয়। তিনি ২০১৩ সালে কয়েক মিলিয়ন ডলারের বিটকয়েন কিনেছিলেন এবং বিশ্বাস করেন যে, সরকারগুলো যেভাবে টাকা ছাপছে, তাতে বিটকয়েনের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।

পাভেল স্বীকার করেন যে, প্রায় ১৫ বছর আগে তিনি S***m Donor হিসেবে অনেক নিঃসন্তান দম্পতিকে সাহায্য করেছিলেন। তাই তার জৈবিক সন্তানের সংখ্যা ১০০-র বেশি হতে পারে। তিনি তার উইলে এই সমস্ত সন্তানদের সমান অংশীদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তবে তারা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরেই সেই সম্পত্তি পাবে।

বিয়ের আগে জেনেটিক টেস্টিং, কৃত্রিম বৃষ্টি, আর আসছে ফ্লাইং ট্যাক্সি। সব আমিরাতিরাই কি ধনী? ৩০ বছর আগে যা ছিল ধু-ধু মরুভূ...
29/09/2025

বিয়ের আগে জেনেটিক টেস্টিং, কৃত্রিম বৃষ্টি, আর আসছে ফ্লাইং ট্যাক্সি। সব আমিরাতিরাই কি ধনী? ৩০ বছর আগে যা ছিল ধু-ধু মরুভূমি, আজ তা বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ। কীভাবে এই অসম্ভবকে সম্ভব করল দুবাই? রাজ শামানির পডকাস্টে ভারতে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ডাঃ আব্দুলনাসের আলশালি দুবাইকে নিয়ে আমাদের ভুল ধারণা দূর করে দিয়েছেন।

ডাঃ আব্দুলনাসের বলেন, দুবাইয়ের বিখ্যাত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার যখন তৈরি হয়েছিল, তখন এর আশেপাশে কিচ্ছু ছিল না শুধু মরুভূমি। সরকার তখন প্রায় বিনামূল্যে মানুষকে জমি দিয়েছিল, কিন্তু কেউ সেই জমি নিতে আগ্রহী ছিল না। শাসকের দূরদৃষ্টি ছিল যে, একটি আইকনিক বিল্ডিং তৈরি করলে মানুষ বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হবে, এবং সেটাই হয়েছিল।

১৯৮৫ সালে যখন Emirates Airlines চালু হয়, তখন অনেকেই এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। কিন্তু এর পেছনের মূল দর্শন ছিল পৃথিবীব্যাপী মানুষকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিয়ে আসা। আজ এমিরেটস বিশ্বের অন্যতম সেরা এয়ারলাইন্স।

ডাঃ আব্দুলনাসের মনে করেন, দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট মার্কেট ক্রাশ করবে না, তবে অন্যান্য মার্কেটের মতোই এতে সংশোধন আসতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমানে দুবাইতে বাড়ির চাহিদা এতটাই বেশি যে, সাপ্লাই দিয়েও কুলানো যাচ্ছে না। এছাড়া, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বা ব্রেক্সিটের মতো ঘটনার পর অনেকেই দুবাইতে বিনিয়োগ করছেন, যা বাজারকে আরও চাঙ্গা রেখেছে।

দুবাইয়ের সম্পদের উৎস কী? দুবাইয়ের অর্থনীতি শুধু তেল বা গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল নয়। তাদের আয়ের বড় একটি অংশ আসে ট্রেড লাইসেন্স ফি, বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা এবং পর্যটন খাত থেকে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে কোনো আয়কর নেই।

কোভিড-১৯ মহামারীর সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত যেভাবে কোনো ভেদাভেদ ছাড়াই প্রত্যেককে সেরা স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং ভ্যাকসিন দিয়েছে, তা দেখে বহু ভারতীয় সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়া, নিরাপত্তা, উন্নত পরিকাঠামো এবং বিশ্বমানের শিক্ষা ব্যবস্থা ভারতীয়দের আকর্ষণের অন্যতম কারণ।

ডাঃ আব্দুলনাসের বলেন, আরব দেশগুলোর মধ্যে হেলদি কম্পিটিশন রয়েছে। প্রতিটি দেশই পর্যটক এবং বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চায়, কিন্তু তাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব বিশেষত্ব রয়েছে। যেমন, সৌদি আরবের প্রাকৃতিক ভূখণ্ড এবং কফি চাষ বিখ্যাত, কাতার খেলাধুলার পরিকাঠামোতে বিনিয়োগ করেছে, এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত পর্যটন ও সংস্কৃতিতে জোর দিয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি মুসলিম দেশ হলেও, তারা বিশ্বজুড়ে আধুনিক ধারণাগুলোকে গ্রহণ করে এবং নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অনুযায়ী সেগুলোকে localize করে। ডাঃ আব্দুলনাসের বলেন, আমরা আমাদের বিশ্বাস এবং ঐতিহ্য নিয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। তাই আধুনিকতাকে গ্রহণ করতে আমাদের কোনো সমস্যা হয় না।

তরুণদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে সেরা তিনটি সুযোগ
১. Stake এর মতো অ্যাপের মাধ্যমে তরুণরা এখন মাত্র ৫০০ দিরহাম দিয়েও fractional ownership এর মাধ্যমে রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করতে পারে।
২. দুবাইয়ের স্টক মার্কেট দ্রুতগতিতে বাড়ছে এবং অনেক ভালো কোম্পানির শেয়ার যুক্তিসঙ্গত মূল্যে পাওয়া যায়।
৩. সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভারতীয় ব্র্যান্ডের বিশাল চাহিদা রয়েছে। তাই কম খরচে ব্যবসা শুরু করে সেটিকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার বিশাল সুযোগ রয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ভবিষ্যতের জন্য কিছু অবিশ্বাস্য প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছে, যার মধ্যে রয়েছে:
Cloud Seeding: কৃত্রিমভাবে বৃষ্টি তৈরি করার প্রযুক্তি, যা তারা ইতিমধ্যেই ব্যবহার করছে।
Hyperloop: বিভিন্ন এমিরেটসের মধ্যে ভ্রমণের সময় কমানোর জন্য দ্রুতগতির পরিবহন ব্যবস্থা।
Flying Taxis: যা খুব দ্রুতই চালু হতে চলেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে উপহার দেওয়া একটি সংস্কৃতির অংশ। কেউ যদি আপনার কোনো জিনিসের প্রশংসা করে, তবে তাকে সেটি উপহার হিসেবে দিয়ে দেওয়াটা খুবই সাধারণ একটি বিষয়। ওয়াস্তা বা প্রভাব খাটানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সিস্টেমের নিয়ম না ভেঙে সাহায্য করাটা সম্ভব।

অনেকেই মনে করেন দুবাইতে সিংহ বা বাঘ পোষা বৈধ। কিন্তু ডাঃ আব্দুলনাসের বলেন, এটি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং কিছু মানুষ লুকিয়ে এই কাজগুলো করে। মিনিস্ট্রি অফ পসিবিলিটিস হলো একটি বিশেষ সরকারি দপ্তর, যেখানে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা একসাথে বসে দেশের জটিল এবং প্রায় অসম্ভব সমস্যাগুলোর সমাধান খুঁজে বের করেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিকরা (আমিরাতি) কিছু বিশেষ সুবিধা পান, যেমনঃ বিয়ের জন্য সরকারি অনুদান, বাড়ি তৈরির জন্য বিনামূল্যে জমি এবং সুদ-মুক্ত ঋণ।

সব আমিরাতিরাই কি ধনী? এটি একটি ভুল ধারণা। ডাঃ আব্দুলনাসের নিজের উদাহরণ দিয়ে বলেন, তিনি কঠোর পরিশ্রম করে এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। তিনি তার প্রথম উপার্জনের টাকা দিয়ে তার মায়ের জন্য একটি বাড়ি তৈরি করে দিয়েছিলেন।

28/09/2025

রিপন মিয়ার কামব্যাক!
📷 The Ramjan Show

চকলেট নয়, আপনার দাঁতের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো গ্লুকোজ বিস্কুট এবং পাউরুটি। মাইগ্রেন, ঘাড় ব্যথা, এমনকি হৃদরোগের কারণও হতে পা...
28/09/2025

চকলেট নয়, আপনার দাঁতের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো গ্লুকোজ বিস্কুট এবং পাউরুটি। মাইগ্রেন, ঘাড় ব্যথা, এমনকি হৃদরোগের কারণও হতে পারে আপনার দাঁত। ভারতের সেরা ডেন্টিস্ট ডাঃ সন্দেশ মায়েকার দাঁতের যত্ন নিয়ে এমন সব ভুল ধারণা ভেঙে দিয়েছেন, যা আমরা বছরের পর বছর ধরে বিশ্বাস করে এসেছি।

কেন মানুষ ডেন্টিস্টকে ভয় পায়? ডেন্টিস্ট্রি এবং ব্যথা এই দুটি শব্দ একসময় সমার্থক ছিল। মানুষ শুধু ব্যথা হলেই ডাক্তারের কাছে যেত। এছাড়া, দাঁতের চিকিৎসায় আপনি সজাগ থাকেন এবং আপনার মুখের ভেতরে ড্রিলিং মেশিন বা অন্যান্য যন্ত্রের শব্দ ও অনুভূতি আপনাকে আরও বেশি ভয় পাইয়ে দেয়।

আক্কেল দাঁত ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে ওঠে। এটি যদি সোজাভাবে ওঠে এবং কোনো সমস্যা না করে, তবে রাখার কোনো ক্ষতি নেই। কিন্তু যদি এর ধারালো অংশ গালের সাথে ক্রমাগত ঘষা খায়, তবে এটি থেকে আলসার হয়ে ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। তাই আক্কেল দাঁত উঠলে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ভারতে দাঁতের প্রধান তিনটি সমস্যা হলো: ক্যাভিটি, মাড়ির সমস্যা (যেমন রক্ত পড়া), এবং ওরাল ক্যান্সার। চতুর্থ সমস্যা হিসেবে উঠে আসছে চোয়ালের সমস্যা (TMD), যার কারণে মাইগ্রেন, ঘাড় ও কাঁধে ব্যথা হয়।

আমরা ভাবি চকলেট বা আইসক্রিম ক্যাভিটির মূল কারণ, কিন্তু ডাঃ মায়েকার বলেন, আসল কারণ হলো স্টিকি বা আঠালো খাবার গ্লুকোজ বিস্কুট, আলুর চিপস, বা স্যান্ডউইচ। এই খাবারগুলো দাঁতের খাঁজে আটকে থাকে এবং ব্যাকটেরিয়া সেখানে অ্যাসিড তৈরি করে দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে দেয়, যা থেকে ক্যাভিটি হয়।

লেবুর জল, কোল্ড ড্রিংকস বা যেকোনো ফলের রস অ্যাসিডিক হওয়ায় দাঁতের এনামেলের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ডাঃ মায়েকার প্রতিদিন সকালে খালি পেটে লেবুর জল পান করতে নিষেধ করেছেন। তবে ওয়াইন বা অন্য কোনো অ্যাসিডিক পানীয়ের সাথে চিজ খেলে তা মুখের PH ব্যালান্স করতে সাহায্য করে এবং দাঁতের ক্ষয় রোধ করে।

ডেন্টাল ফিলিং বা সিল্যান্ট কী? বাচ্চাদের ছয় বছর বয়সে প্রথম স্থায়ী দাঁত ওঠে। এই দাঁতের খাঁজগুলো যদি শুরুতেই সিল্যান্ট নামক এক ধরণের পাতলা ফিলিং দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে সেখানে খাবার আটকে ক্যাভিটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

মুখের ভেতর অ্যাসিডিক পরিবেশ তৈরি হলেই দাঁতের ক্ষয় শুরু হয়। তাই যেকোনো মিষ্টি বা অ্যাসিডিক খাবার খাওয়ার পর ভালো করে কুলি করে মুখ পরিষ্কার রাখাটা খুব জরুরি।
দাতুন, বিশেষ করে নিমের দাতুন, দাঁতের জন্য উপকারী। কারণ এর মধ্যে থাকা রাসায়নিক উপাদান ক্যাভিটি প্রতিরোধ করে। তবে এটি দাঁতের মাঝখানে জমে থাকা ময়লা পুরোপুরি পরিষ্কার করতে পারে না, যার জন্য ব্রাশ এবং ফ্লস করা জরুরি।

ব্রাশ করার সঠিক নিয়ম
রাতে ঘুমানোর আগে ব্রাশ করা সবচেয়ে জরুরি। সকালে ব্রেকফাস্টের ১৫-২০ মিনিট পর ব্রাশ করা উচিত, আগে নয়।

টুথব্রাশকে কলম বা পেন্সিলের মতো আলতো করে ধরতে হবে। মাত্র ১২০ সেকেন্ড ব্রাশ করতে হবে। বেশি জোরে বা বেশি সময় ধরে ব্রাশ করলে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয়ে যায়।

মটরদানার সমান পেস্ট ব্রাশের ওপরে না লাগিয়ে, ব্রিসেলের ভেতরে চেপে লাগাতে হবে।

সেনসিটিভিটির টুথপেস্ট কি আসলেই কাজ করে? যখন দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয়ে ভেতরের স্তর 'ডেন্টিন' বেরিয়ে আসে, তখনই সেনসিটিভিটি হয়। সেনসিটিভিটির টুথপেস্টগুলো ডেন্টিনের ছোট ছোট টিউবগুলোকে ব্লক করে দেয়, ফলে সাময়িকভাবে আরাম পাওয়া যায়। কিন্তু এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।

রাতে ব্রাশ করে ঘুমালে সকালে আমাদের মুখে কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া জন্মায়, যা হজমে সাহায্য করে। তাই সকালে উঠেই ব্রাশ না করে, শুধু জল পান করে সেই ব্যাকটেরিয়াকে পেটে চালান করে দেওয়া উচিত। ব্রাশ করা উচিত ব্রেকফাস্টের পর।

আমাদের মুখের প্রধান নার্ভ Trigeminal Nerve এর তিনটি শাখা চোখ, উপরের চোয়াল এবং নিচের চোয়ালকে সংযুক্ত করে। একারণে, দাঁতের ব্যথা অনেক সময় কান, চোখ বা মাথায় ছড়িয়ে পড়ে, যা মাইগ্রেনের মতো মনে হতে পারে।

কিংবদন্তী শিল্পী লতা মঙ্গেশকর ডাঃ মায়েকারের রোগী ছিলেন এবং তিনি প্রায় ৯২ বছর বয়সেও নিজের ৩১টি দাঁত বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছিলেন। এর কারণ ছিল তার অভ্যাস। তিনি সারাদিন গরম জল পান করতেন, যা তার গলা এবং দাঁত দুটোই পরিষ্কার রাখত।

ডাঃ মায়েকার বলেন, তিনি বলিউড তারকাদের জন্য 'পারফেক্ট' হাসির বদলে 'অ্যাট্রাক্টিভ' হাসি তৈরি করেন, যেখানে সামান্য খুঁত রাখা হয়। কারণ এই অসম্পূর্ণতাই হাসিটিকে অনন্য এবং আকর্ষণীয় করে তোলে।

প্রিয়াঙ্কা যখন ১৬ বছর বয়সে মিস ইন্ডিয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন ডাঃ মায়েকার তার দাঁতের চিকিৎসা করেন। তিনি প্রিয়াঙ্কার হাসির স্বাভাবিক আকর্ষণ নষ্ট না করে, সেটিকে আরও সুন্দর করে তুলেছিলেন। তবে তার মতে, প্রিয়াঙ্কার হাসির আসল রহস্য হলো তার আত্মবিশ্বাস।

অনেকেই বিশ্বাস করেন, দাঁতের ফাঁক থাকাটা সৌভাগ্যের লক্ষণ। ডাঃ মায়েকার মজা করে বলেন, তিনি রোগীদের ফাঁক বন্ধ করার আগে বলে দেন, টাকা-পয়সা কমে গেলে কিন্তু আমার দোষ দেবেন না! তবে আধুনিক চিকিৎসায় এই ফাঁক সহজেই বন্ধ করা যায়।

ভারতে ওরাল ক্যান্সারের প্রধান কারণ হলো তামাক, পানমশলা, সুপারি এবং ধূমপান। এছাড়া, দাঁতের ধারালো অংশ যদি ক্রমাগত গালে ঘষা খায়, তা থেকেও ক্যান্সার হতে পারে। যারা এই অভ্যাসগুলো ছাড়তে পারেন না, তাদের উচিত নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে গিয়ে মুখ পরীক্ষা করানো, যাতে প্রি-ক্যান্সার স্টেজে (সাদা দাগ) থাকতেই রোগটি ধরা পড়ে এবং চিকিৎসা করা সম্ভব হয়।

সুগার-ফ্রি চুইংগাম দাঁতের জন্য ভালো। এটি চিবানোর ফলে দাঁতের খাঁজে আটকে থাকা খাবার বেরিয়ে আসে এবং স্যালাইভা উৎপাদন বাড়িয়ে মুখ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

মিথ এবং ফ্যাক্টস
মিথ: হলুদ দাঁত মানেই অস্বাস্থ্যকর।
ফ্যাক্ট: দাঁতের স্বাভাবিক রঙ হালকা হলুদ হতে পারে। এটি জেনেটিক এবং গায়ের রঙের ওপরও নির্ভর করে। যেমন, ফর্সা মানুষদের দাঁত তুলনামূলকভাবে বেশি হলুদ হয়।

প্রাইভেসি বলে কিছু নেই, সরকার চাইলেই আপনার সব তথ্য পেতে পারে। আমরা হলিউডের সিনেমায় স্পাইদের জীবন দেখি, কিন্তু বাস্তব তার...
27/09/2025

প্রাইভেসি বলে কিছু নেই, সরকার চাইলেই আপনার সব তথ্য পেতে পারে। আমরা হলিউডের সিনেমায় স্পাইদের জীবন দেখি, কিন্তু বাস্তব তার চেয়েও বেশি ভয়ঙ্কর। The Diary Of A CEO পডকাস্টে প্রাক্তন সিআইএ স্পাই দম্পতি অ্যান্ড্রু এবং জিহি বুস্তামান্তে তাদের গোপন অভিযান, আধুনিক গুপ্তচরবৃত্তির কৌশল এবং আমেরিকার ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন সব তথ্য দিয়েছেন, যা সিআইএ কখনও প্রকাশ্যে আনতে চায়নি।

অ্যান্ড্রু লেখা বইটি CIA দুটি গোপন সত্য ফাঁস করে দেয়। প্রথমত, গুপ্তচরবৃত্তি কোনো জেমস বন্ডের সিনেমার মতো একক নায়কের কাজ নয়, এটি একটি টিমওয়ার্ক যেখানে ভুলও হয়। দ্বিতীয়ত, এই বইটিতে সিআইএ-র ভেতরে থাকা একজন 'মোল' বা ডাবল এজেন্টের কথা বলা হয়েছে, যার অস্তিত্ব সিআইএ কখনও স্বীকার করেনি।

অ্যান্ড্রু এয়ারফোর্স একাডেমির একজন নিউক্লিয়ার মিসাইল অফিসার ছিলেন, যেখান থেকে সিআইএ তাকে নিয়োগ দেয়। অন্যদিকে, জিহি একজন সোশ্যাল ওয়ার্কার হিসেবে অন্য দেশ থেকে আসা অত্যাচারিত শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করতেন এবং একটি অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে সিআইএ-তে যোগ দেন। জিহি একজন টার্গেটার হিসেবে কাজ করতেন, যার মূল দায়িত্ব ছিল সন্ত্রাসীদের গতিবিধি বিশ্লেষণ করে সামরিক বাহিনীর জন্য তাদের হত্যা বা ধরার জন্য চিহ্নিত করা।

তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় মিশন শুরু হয় যখন সিআইএ-র এক সিনিয়র অফিসার তাদের জানান যে, এজেন্সির ভেতরে একজন 'মোল' (ডাবল এজেন্ট) রয়েছে, যে শত্রু দেশ 'ফ্যালকন'-এর (ছদ্মনাম) কাছে গোপন তথ্য পাচার করছে। অ্যান্ড্রু এবং জিহি-কে এমন একটি অপারেশন চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল সেই মোল-কে ভুলের ফাঁদে ফেলা।

CIA তে কোনো মিশনে 'না' বলার সুযোগ নেই। অন্যদিকে, জিহি-র দুশ্চিন্তা ছিল, কারণ শত্রু দেশে ধরা পড়লে বা গুম হয়ে গেলে মার্কিন সরকার তাদের পরিচয় অস্বীকার করতে পারে।

শত্রু দেশ 'ফ্যালকন'-এ সরাসরি প্রবেশ না করে, তারা প্রথমে একটি বন্ধু রাষ্ট্র 'উলফ'-এ (ছদ্মনাম) অবস্থান নেন। সেখান থেকে তারা একটি নিরপেক্ষ দেশে গিয়ে পাসপোর্ট এবং পরিচয় বদল করে তারপর শত্রু দেশে প্রবেশ করতেন, যাতে তাদের আসল অবস্থান ট্রেস করা না যায়। শত্রু দেশে তারা ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতেন।

তাদের 'শ্যাডো সেল' নামক টিমটি সন্ত্রাসীদের সেল মডেলের অনুকরণে তৈরি হয়েছিল। কারণ, আমেরিকা বিলিয়ন ডলার খরচ করেও সন্ত্রাসীদের সাধারণ কিন্তু কার্যকর কৌশলগুলোর কাছে বারবার হেরে যাচ্ছিল। তাই তারা সেই কৌশলগুলোই শত্রু দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয়।

অ্যান্ড্রু যখন শত্রু দেশে একটি অপারেশনে ছিলেন, তখন তিনি বুঝতে পারেন যে একটি নজরদারি দল তাকে অনুসরণ করছে। অ্যান্ড্রু এবং তার টিমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার নিজের অপারেশনে কোনো ভুল ছিল না। তাদের পরিচয় ফাঁস হওয়ার একমাত্র সম্ভাব্য কারণ ছিল সিআইএ-র ভেতরে থাকা সেই 'মোল'-এর বিশ্বাসঘাতকতা, যে অ্যান্ড্রুর পরিচয় শত্রু দেশের কাছে পাচার করে দিয়েছিল।

পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর অ্যান্ড্রু একা নিজেই পালানোর পরিকল্পনা করে। তিনি একটি কোডেড মেসেজের মাধ্যমে ("আমি তাড়াতাড়ি বাড়ি আসছি") জিহি-কে জানান যে বিপদ ঘনিয়ে এসেছে। বিমানবন্দরের সেকেন্ডারি স্ক্রিনিং রুমে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়, কিন্তু তিনি তার প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।
তাদের অপারেশনের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে FBI একটি ফাঁদ তৈরি করে। সেই 'মোল' সিআইএ ছেড়ে দেওয়ার পর, এফবিআই তাকে একটি ভুয়ো চাকরির ইন্টারভিউয়ের জন্য আমেরিকার মাটিতে ফিরিয়ে আনে। বিমানবন্দরে পা রাখার সাথে সাথেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সরকার বা কোনো এজেন্সি চাইলে আপনার ফোন, ল্যাপটপ বা যেকোনো ডিজিটাল ডিভাইস থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, পাসওয়ার্ড ছাড়াই। এমনকি গুগল বা অ্যাপলের মতো কোম্পানিগুলোও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য এজেন্সিকে দিতে বাধ্য।
তাদের মতে, জেফরি এপস্টিন একজন বিদেশি গুপ্তচর হওয়ার সব লক্ষণই বহন করতেন। তার মৃত্যু নিয়ে তাদের বিশ্লেষণ হলো, সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা হলো, কারাগারের ভেতরেই কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে তাকে হত্যা করিয়েছিল।

সিআইএ এজেন্টদের Head Trash (নিজের প্রতি নেতিবাচক ধারণা, আমি যথেষ্ট ভালো নই) নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। Box Breathing এর মতো কৌশল ব্যবহার করে তারা কঠিন মুহূর্তেও নিজেদের শান্ত রাখেন এবং সিদ্ধান্ত নেন।

তাদের সফল মিশনের পর সিআইএ চেয়েছিল তারা ওয়াশিংটনে ফিরে নতুন অফিসারদের প্রশিক্ষণ দিক। কিন্তু অ্যান্ড্রু এবং জিহি তাদের পরিবারকে সময় দিতে চেয়েছিলেন। সিআইএ তাদের সেই অনুরোধ না রাখায়, তারা পরিবারকে বেছে নেন এবং এজেন্সি ছেড়ে দেন।

জিহি বলেন, তিনি বৌদ্ধ হিসেবে বড় হয়েছেন এবং বিশ্বাস করতেন মানুষ ভালো। কিন্তু শরণার্থীদের সাথে কাজ করে এবং সিআইএ-তে যোগ দিয়ে তিনি দেখেছেন, মানুষ কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে।

অ্যান্ড্রু এবং জিহি দুজনেই মনে করেন, আমেরিকা এক ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাদের মতে, জাতীয়তাবাদ এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে আমেরিকার পতন ঘটতে পারে। তাই তারা ২০২৬ সালের আগেই আমেরিকা ছেড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

26/09/2025

বাংলাদেশে সালমান মুক্তাদিরের মতো আরেকটা ইনফ্লুয়েন্সার কেন নাই?

"মা, তুমি তো রোজ কাজে যাও, কিন্তু বাবা তো সারাদিন বাড়িতেই বসে থাকে।" নিজের ছোট ছেলের এই একটি কথাই ববি দেওলকে ব্যর্থতার ...
26/09/2025

"মা, তুমি তো রোজ কাজে যাও, কিন্তু বাবা তো সারাদিন বাড়িতেই বসে থাকে।" নিজের ছোট ছেলের এই একটি কথাই ববি দেওলকে ব্যর্থতার অন্ধকার থেকে ফিরিয়ে এনেছিল।

ববি যৌথ পরিবারে বড় হয়েছেন। এই পরিবেশে তিনি কখনও একাকীত্ব অনুভব করেননি এবং ছোটবেলায় ভিডিও গেমসের বদলে ভাইবোনদের সাথে মাঠে খেলেই তার সময় কাটত।

ছোটবেলায় তার এক বন্ধুকে কুখ্যাত কিডন্যাপার 'বিল্লা-রাঙ্গা' অপহরণ করার চেষ্টা করেছিল। এরপর তার বাবা ধর্মেন্দ্র এতটাই ভয় পেয়ে যান যে, ববিকে বাড়ি থেকে একা বের হতে দেওয়া হতো না।

৯০-এর দশকে পরিচালকরা সেটে এসে অভিনেতাদের সাথে কথা বলতেন এবং তাদের কাছ থেকে কাজ আদায় করে নিতেন। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই ধারা বদলে যায় এবং অভিনেতাদের নিজেদেরই উদ্যোগী হতে হয়।

ববি দেওল তার বাবা ধর্মেন্দ্রকে পৃথিবীর সেরা মানুষ মনে করেন। তিনি বলেন, "আমার বাবার মতো বিশাল হৃদয় আর কারও নেই।"। ছোটবেলায় তিনি দেখতেন, কীভাবে তার বাবা সবাইকে সম্মান এবং ভালোবাসা দিতেন, যা তাকে অভিনেতা হতে অনুপ্রাণিত করেছিল।

ববি বিশ্বাস করেন যে, বেশি প্রচারের ফলে 'নজর' লেগে যেতে পারে। এই কারণেই তারা তাদের পারিবারিক বিষয় নিয়ে খুব বেশি কথা বলেন না। ধর্মেন্দ্রর ছেলে হওয়ায় তার ওপর সবসময় এক অদৃশ্য চাপ ছিল। তিনি বলেন, "জীবনের একটা পর্যায়ে আমার মনে হয়েছিল যে, আমি বাবার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। আমি তার সামনে ভেঙে পড়ে বলতাম, 'বাবা, আমি তোমাকে হতাশ করেছি'।

ববি আসলে একজন extrovert মানুষ ছিলেন, কিন্তু তার পরিবারের কঠোর নিয়মকানুনের কারণে তিনি ধীরে ধীরে introvert হয়ে যান। তার বাবা চাইতেন না যে তিনি ইন্ডাস্ট্রির পার্টি বা অন্য তারকাদের ছেলেমেয়েদের সাথে খুব বেশি মেলামেশা করুন।

ববি মনে করেন না যে তার পরিবারের সাফল্য তার জন্য কোনো বাধা ছিল। বরং বাইরের লোকেরাই তাকে বলত যে, তিনি তার বাবা ও ভাইয়ের ছায়ার নিচে আছেন। কিন্তু তিনি সবসময় নিজের একটি আলাদা পরিচয় তৈরি করতে চেয়েছেন।

সালমান খানকে 'মামু' ডাকার কারণ নিছকই একটি মজার সম্বোধন, যা তারা তরুণ বয়সে একে অপরকে মজা করে বলতে শুরু করেছিলেন। সালমান খানের সাথে তার সম্পর্ক অনেক পুরনো, যখন তারা একসাথে সমুদ্রের ধারে বাইক ও ঘোড়া চালানো শিখতেন।

ববি খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করার সময় নেতিবাচক হিসেবে দেখেন না। তিনি মনে করেন, প্রত্যেকটি খলনায়কের পেছনে একটি গল্প থাকে, যা তাদের সেই পথে ঠেলে দেয়। এই মানসিকতা নিয়ে অভিনয় করার কারণেই তার চরিত্রগুলো দর্শকদের সাথে connect করতে পারে।

Sandeep Reddy Vanga সিনেমা নিয়ে যতই বিতর্ক হোক না কেন, ববি তাকে একজন অসাধারণ পরিচালক মনে করেন, যিনি চরিত্রের ধূসর দিকগুলো সাহসিকতার সাথে তুলে ধরেন। 'অ্যানিমেল' সিনেমার প্রস্তাব পেয়ে তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি।

জীবনে সফল হওয়ার জন্য শৃঙ্খলা সবচেয়ে জরুরি। তিনি বলেন, "শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না, তার জন্য কঠোর পরিশ্রম এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন করতে হবে।" ব্যর্থতার পর তিনি এই শৃঙ্খলাকে আবার জীবনে ফিরিয়ে এনেছেন।

The Ba***ds of Bollywood শাহরুখ খানের প্রযোজনা সংস্থা Red Chillies Entertainment তাকে প্রস্তাব করেছিল। তিনি এই সিরিজে মূল চরিত্রে না থেকেও অভিনয় করতে রাজি হয়েছিলেন, কারণ তিনি ভিন্নধর্মী কাজ করতে চেয়েছিলেন।

ববি মনে করেন, আরিয়ান খান তার চেয়ে অনেক বেশি প্রতিভাবান এবং তার মধ্যে যে আগুনটা আছে, সেটা হয়তো তার নিজের মধ্যে ছিল না। তিনি আরিয়ানের পরিপক্কতা এবং পরিচালনার দক্ষতা দেখে মুগ্ধ।

ইমতিয়াজ আলি প্রথমে Jab We Met সিনেমার জন্য ববিকেই ভেবেছিলেন। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে প্রযোজকরা তার জায়গায় শাহিদ কাপুরকে নিয়ে নেন। এই ঘটনাটি তাকে মানসিকভাবে প্রচণ্ড আঘাত করেছিল।

যখন তার হাতে কাজ ছিল না, তখন তিনি পার্টিতে গেলেও এক কোণায় দাঁড়িয়ে থাকতেন। তার মনে হতো, কেউ তার সাথে কথা বলতে চায় না বা তাকে গুরুত্ব দেয় না। ব্যর্থতার সেই সময়ে অনেক বড় বড় ট্যালেন্ট এজেন্সির কাছে গিয়েছিলেন কাজের জন্য। কিন্তু তারা সবাই তাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেছিল, "আপনার জন্য আমরা কিছুই করতে পারব না, আপনার কোনো চাহিদা নেই মার্কেটে।" টানা ব্যর্থতা এবং রিজেকশন ববিকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। সেই সময়ে তার একমাত্র সাপোর্ট সিস্টেম ছিল অ্যালকোহল।

'আশ্রম' ওয়েব সিরিজটি তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তিনি বাবা-মাকে না জানিয়েই এই নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। শো-টি মুক্তি পাওয়ার পর তিনি প্রচুর প্রশংসা পান।

'অ্যানিমেল' সিনেমায় তার নীরব কিন্তু ভয়ঙ্কর উপস্থিতি তাকে আবার খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেয়। তিনি বলেন, "আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না যে, আমার জীবনে সবকিছু আবার এভাবে বদলে যাবে।" ব্যর্থতা তাকে শিখিয়েছে যে, আত্মবিশ্বাসই সবচেয়ে বড় শক্তি। 'অ্যানিমেল'-এ কোনো সংলাপ ছাড়াই তিনি যেভাবে তার উপস্থিতি ফুটিয়ে তুলেছেন, তা তার নতুন করে পাওয়া আত্মবিশ্বাসেরই প্রতীক।

25/09/2025

সাকিব আল হাসানের খেলতে পারা বা না পারা সরকারের সিদ্ধান্ত।
📷 The Ramjan Show

স্পাইডার-ম্যানের মুখোশের আড়ালে নিজেকে বেশি নিরাপদ বোধ করেন অভিনেতা টম হল্যান্ড। পর্দার আড়ালে খ্যাতির চাপ, আত্মবিশ্বাসের ...
25/09/2025

স্পাইডার-ম্যানের মুখোশের আড়ালে নিজেকে বেশি নিরাপদ বোধ করেন অভিনেতা টম হল্যান্ড। পর্দার আড়ালে খ্যাতির চাপ, আত্মবিশ্বাসের সংকট এবং অ্যালকোহলের প্রতি আসক্তি তাকে এমন এক জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল, যেখান থেকে ফেরাটা ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং।

খ্যাতির সাথে মানিয়ে নেওয়াটা তার জন্য খুব কঠিন ছিল। প্রথমে কেউ ছবি তুলতে চাইলে তিনি বুঝতেই পারতেন না কেন মানুষ তার সাথে ছবি তুলতে চায়। তিনি এই চাপ সামলানোর জন্য একটি উপায় বের করেছেন বিরক্ত না হয়ে বিষয়টিকে মেনে নেওয়া। ঢেউয়ের বিরুদ্ধে সাঁতার কাটার চেষ্টা করার চেয়ে, ঢেউয়ের সাথে ভেসে যাওয়াই ভালো।

টম হল্যান্ডের বাবা একজন কমেডিয়ান। তিনি তার বাবাকে দেখে শিখেছেন কীভাবে রিজেকশন সামলাতে হয়। ছোটবেলায় কোনো অডিশনে সুযোগ না পেলে তার বাবা বলতেন, তুমি পৃথিবীর সব কাজ করতে পারবে না। বাবার এই শিক্ষাই তাকে শিখিয়েছে যে, ক্যারিয়ারে রিজেকশন একটি স্বাভাবিক অংশ।

টমের অভিনয় জীবনের শুরুটা হয়েছিল থিয়েটারে 'বিলি এলিয়ট দ্য মিউজিক্যাল' নাটকে। তিনি একটি ডান্স স্কুলে হিপ-হপ নাচ শিখতেন। একটি অল-বয়েজ রাগবি স্কুলে তিনিই ছিলেন একমাত্র ছাত্র, যিনি জিমের ভেতরে ব্যালে নাচ অনুশীলন করতেন, যা তার জন্য বেশ কঠিন ছিল।

The Crowded Room সিরিজের পর টম এক বছরের জন্য কাজ থেকে বিরতি নিয়েছিলেন। কিন্তু মিডিয়া এই বিষয়টিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে প্রচার করে যে, তিনি মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের কারণে ভেঙে পড়েছেন। টম বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক যে, যখন কোনো তরুণ নিজের জন্য সময় নেয়, তখন সেটাকে নেতিবাচকভাবে দেখা হয়।

Billy Elliot the Musical এর পর দীর্ঘ সময় পর তিনি Romeo and Juliet নাটকের মাধ্যমে মঞ্চে ফেরেন। মঞ্চে অভিনয় করাটা অনেক বেশি কঠিন, কারণ এখানে কোনো ভুল শোধরানোর সুযোগ থাকে না এবং দর্শকদের সামনে নিজেকে পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দিতে হয়। তিন মাস ধরে সপ্তাহে আটটি শো করাটা তার জন্য একটি ধৈর্যের পরীক্ষা ছিল।

ছোটবেলায় এক সাক্ষাৎকারে টম বলেছিলেন যে, তিনি স্পাইডার-ম্যান হতে চান। তিনি ইচ্ছাশক্তি বা ম্যানিফেস্টেশনে বিশ্বাস করেন, কিন্তু তার মতে, শুধু বসে থেকে ভাবলেই সবকিছু হয়ে যায় না, এর জন্য কঠোর পরিশ্রমও করতে হয়।

টম হল্যান্ডের জীবনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে যখন তিনি অ্যালকোহল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। এটি শুরু হয়েছিল শুধুমাত্র এক মাসের জন্য 'ড্রাই জানুয়ারি' পালনের মাধ্যমে, কিন্তু প্রথম মাসেই তিনি বুঝতে পারেন যে অ্যালকোহল ছাড়া থাকাটা তার জন্য কতটা কঠিন। এই উপলব্ধি তাকে ভয় পাইয়ে দেয় এবং তিনি নিজেকে প্রমাণ করার জন্য এই যাত্রা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এক বছরের মধ্যে তিনি বুঝতে পারেন, অ্যালকোহল ছাড়া তিনি ভালো ঘুমাচ্ছেন, মানসিক চাপ সামলাতে পারছেন এবং তার সম্পর্কগুলোও সুন্দর হচ্ছে।

তিনি বাস্তবে একজন আত্মবিশ্বাসী মানুষ হলেও, সামাজিক অনুষ্ঠানে খুব নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। আমি যখন অন্য কোনো চরিত্রের আড়ালে থাকি, তখন বেশি আত্মবিশ্বাসী থাকি, কারণ সেই চরিত্রের কাজের দায়ভার আমার নয়। এই নিরাপত্তাহীনতা ঢাকার জন্যই তিনি অ্যালকোহলের আশ্রয় নিতেন। টম তার ফোন থেকে ৯৯% সময় ইনস্টাগ্রাম অ্যাপটি ডিলেট করে রাখেন। সোশ্যাল মিডিয়ার এই কৃত্রিম জগৎ থেকে দূরে থাকায় তার জীবন অনেক সুন্দর হয়েছে।

অভিনয়ের বাইরে টম হল্যান্ড একজন দক্ষ কাঠমিস্ত্রি। তার দাদা ছিলেন একজন কাঠমিস্ত্রি এবং তিনিই তাকে এই কাজ শিখিয়েছেন। তার একটি স্বপ্ন হলো এমন একটি জায়গা তৈরি করা, যেখানে তিনি নিজের একটি ওয়ার্কশপ বানাতে পারবেন এবং এই পারিবারিক ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবেন।

মদ্যপান ছাড়ার পর টম মার্কেটে একটি গ্যাপ দেখেন। যারা অ্যালকোহল পান করতে চান না, কিন্তু সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে চান, তাদের জন্য ভালো কোনো বিকল্প ছিল না। এই চিন্তা থেকেই তিনি BERO নামে নিজের নন-অ্যালকোহলিক বিয়ার ব্র্যান্ড চালু করেন। তার লক্ষ্য হলো এমন একটি পণ্য তৈরি করা, যা মানুষকে মদ্যপানের চাপ থেকে মুক্তি দেবে এবং একটি সুস্থ সামাজিকতার অংশ হতে সাহায্য করবে।

মার্ভেলের সাথে তার চুক্তি শেষ হওয়ার পর, টম হল্যান্ড এখন তার ক্যারিয়ারের এমন এক পর্যায়ে আছেন যেখানে তিনি প্রথমবারের মতো প্রোজেক্টকে 'না' বলার ক্ষমতা রাখেন। এই নতুন ক্ষমতা এবং দায়িত্বের সাথে মানিয়ে নেওয়াটা তার জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ। আমি শুধু টাকার জন্য বা সিনেমা বানানোর খাতিরে স্পাইডার-ম্যানের পরবর্তী সিনেমা করতে চাই না।

24/09/2025

কম টাকা দিয়ে Chinese product import করার ট্রিকস!
2 Cents Podcast

23/09/2025

শেখ হাসিনার সাথে ইনফ্লুয়েন্সারদের ছবি নিয়ে মুখ খুললেন আবিদ হাসান সামি।
📷 The Ramjan Show

যেই মানুষটার হাসিখুশি মিম আমরা শেয়ার করি, সেই যুজবেন্দ্র চাহালই একসময় আত্ম**হত্যার কথা ভাবছিলেন! মাঠের ভেতরের চাপ, ডিভোর...
23/09/2025

যেই মানুষটার হাসিখুশি মিম আমরা শেয়ার করি, সেই যুজবেন্দ্র চাহালই একসময় আত্ম**হত্যার কথা ভাবছিলেন! মাঠের ভেতরের চাপ, ডিভোর্স এবং সোশ্যাল মিডিয়ার আক্রমণ সবকিছু মিলিয়ে তার জীবন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল, যেখান থেকে ফেরাটা ছিল প্রায় অসম্ভব।

চাহাল বলেন, তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল ডিভোর্সের পরের দিনগুলো। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে চিটার বলা হয়েছিল। তার সবচেয়ে বেশি কষ্ট লেগেছিল এই অপবাদে, কারণ তিনি বলেন, আমি জীবনে কখনও কাউকে চিট করিনি। আমার মতো বিশ্বস্ত মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। মানুষজন এটা মেনে নিতে পারছিল না যে, ডিভোর্সের পর একজন মানুষ এত তাড়াতাড়ি কীভাবে খুশি থাকতে পারে। এই লাগাতার আক্রমণের কারণেই তিনি ধীরে ধীরে ডিপ্রেশনের দিকে চলে যান।

ডিপ্রেশনের সেই সময়ে চাহাল তীব্র অ্যাংজাইটি অ্যাটাকের শিকার হতেন। তিনি প্রথমবার স্বীকার করেন যে, তার আত্মহত্যার চিন্তাও মাথায় এসেছিল । তিনি বলেন, তার মন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল। অ্যাংজাইটি অ্যাটাকের সময় তার পুরো শরীর কাঁপতে শুরু করত, মুখটা ছোট হয়ে আসত, আর এসি চললেও প্রচণ্ড ঘাম হতো এবং হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যেত। প্রায় ৪০-৪৫ দিন ধরে তিনি এই অবস্থার মধ্যে দিয়ে গেছেন, যেখানে প্রতিদিন তার মনে হতো জীবনটা শেষ করে দেওয়াই হয়তো ভালো।

যুজবেন্দ্র চাহালের সবচেয়ে বড় ভয় হলো একা থাকা। তিনি একা থাকলে ভাবতে শুরু করেন যে, তার কাছের মানুষরা যদি একদিন তাকে ছেড়ে চলে যায়, তাহলে তার কী হবে। ডিভোর্সের পর এই ভয়টা আরও বেড়ে যায়, কারণ তিনি বাইরে কোনো নারী বন্ধুর সাথে দেখা করতেও ভয় পেতেন। তার আশঙ্কা ছিল, মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়া সেই বন্ধুটির জীবনও শেষ করে দেবে।

তিনি নিজের জন্য নয়, বরং অন্যদের জন্য বাঁচেন। তিনি কাউকে 'না' বলতে পারেন না। কাছের মানুষদের প্রয়োজনে তিনি সবসময় পাশে থাকেন, এমনকি তার বিনিময়ে কিছু না পেলেও। অনেক সময় এটা দায়িত্বের মতো মনে হয়, যা তাকে মানসিকভাবে আরও ক্লান্ত করে তোলে।

তার কঠিন সময়ে যে বন্ধুরা তাকে ম্যানেজ করেছিল, তাদেরকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্রমণ করা হয়। বিশেষ করে তার বন্ধু Mahvash সাথে তার ছবি ভাইরাল হওয়ার পর, মাহভাশকে 'হোম-ব্রেকার' এবং আরও অনেক কুরুচিপূর্ণ কথা বলা হয়। আমার জন্য সবচেয়ে কষ্টের ছিল এটা দেখা যে, যে বন্ধুটি আমাকে এই কঠিন সময় থেকে বের হতে সাহায্য করেছে, মানুষ তাকেই আক্রমণ করছে।

ডিভোর্সের প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রায় ছয়-সাত মাস তাদের মধ্যে কোনো কথা হয়নি। শেষবার যখন কথা হয়েছিল, সেটাও আইনজীবীদের উপস্থিতিতে ভিডিও কলে, যেখানে শুধু আইনি বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়। এরপর তাদের মধ্যে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।

ডিভোর্সের বিতর্কের মাঝে চাহাল একবার Be Your Own Sugar Daddy লেখা একটি টি-শার্ট পরেছিলেন। তিনি বলেন, তিনি কোনো হাঙ্গামা চাননি, শুধু একটি বার্তা দিতে চেয়েছিলেন। যখন সামনে থেকে কিছু কথা উঠেছিল, তখন তিনি এই টি-শার্টের মাধ্যমে তার জবাব দিয়েছিলেন।

চাহাল বলেন, তার পাতলা শরীর এবং বড় দাঁত নিয়ে অনেকেই মজা করত। আমি বুঝতে পারি কে মজা করে বলছে আর কে অপমান করার জন্য বলছে। তিনি এই বিষয়গুলো লক্ষ্য করলেও চুপ থাকেন, কারণ তিনি তর্কে জড়াতে চান না।

চাহাল তিন অধিনায়কের সাথে তার সম্পর্ককে তিন ভাইয়ের সাথে তুলনা করেছেন:
মহেন্দ্র সিং ধোনি: সবচেয়ে বড় ভাই, যাকে তিনি অত্যন্ত সম্মান করেন এবং যার সামনে তিনি চুপ করে থাকতেন।
রোহিত শর্মা: মেজো ভাই, যার সাথে তিনি সবচেয়ে বেশি মজা করেন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখেন।
বিরাট কোহলি: ছোট ভাইয়ের মতো, যে ঠান্ডা মাথার এবং বুদ্ধিমান।

জীবনের হাজারো উত্থান-পতনের মধ্যে চাহালকে সবচেয়ে বেশি ভেঙে দিয়েছিল ২০১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হার। সেটি ছিল ধোনির শেষ ম্যাচ এবং সেই হারের যন্ত্রণা তাকে আজও কষ্ট দেয়। তার মনে হয়, তিনি হয়তো সেদিন আরও একটু ভালো বল করতে পারতেন।
আইপিএলের শুরুর দিকে একজন সিনিয়র প্লেয়ার মদ্যপ অবস্থায় তাকে ১৫ তলার হোটেলের বারান্দা থেকে ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন। তার হাত ফসকে গেলেই সেদিন তার মৃত্যু নিশ্চিত ছিল। এই ঘটনা তাকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল।

চাহাল ক্রিকেটার হওয়ার আগে একজন দাবাড়ু ছিলেন এবং অনূর্ধ্ব-৯ এ ভারতের হয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ খেলেছেন । কিন্তু দাবার জন্য যে ধৈর্য এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় বসে থাকার প্রয়োজন হতো, তা তার ভালো লাগত না। ক্রিকেটের মাঠে দৌড়াদৌড়ি এবং মজা করাটাই তাকে বেশি টানত।

যখন কোনো ম্যাচে অনেক রান দিয়ে ফেলেন, তখন চাহাল কী করেন? তিনি জানান, রুমে ফিরে তিনি সেই ম্যাচের কথা ভাবেন না, বরং তার পুরনো ভালো পারফরম্যান্সের হাইলাইটস দেখেন। আমি দেখি, যেদিন আমি ভালো বল করেছিলাম, সেদিন আমার মানসিকতা কেমন ছিল। এটাই আমাকে পরের ম্যাচে ফিরে আসতে সাহায্য করে।

ডেটিং আর বিয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ। ডেটিংয়ে আপনি রোজ ব্রেকআপ করে আবার একসাথে হতে পারেন, কিন্তু ডিভোর্স জীবনে একবারই হয়। বিয়েতে আপনাকে ২৪ ঘণ্টা একসাথে থাকতে হয়, যা অনেক সম্পর্কের আসল রূপ বের করে আনে।

Address


Alerts

Be the first to know and let us send you an email when The Tripod posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to The Tripod:

  • Want your business to be the top-listed Media Company?

Share