27/08/2026
AI: মানবজাতির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি?
প্রখ্যাত AI গবেষক রোমান ইয়ামপোলস্কি এক পডকাস্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে যে সতর্কবার্তা দিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক।
তার আশঙ্কা, আগামী ৫–১০ বছরের মধ্যে মানুষের তুলনায় বিপুল বেশি সক্ষমতার AI বা Superintelligence তৈরি হতে পারে—যে পর্যায়ে সেটিকে মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত কঠিন, এমনকি অসম্ভবও হয়ে উঠতে পারে।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, বর্তমান AI সিস্টেম নিয়েও ইতোমধ্যে deception, manipulation এবং cyberattack-এর সক্ষমতা নিয়ে গবেষণা ও পরীক্ষায় সতর্কতামূলক ফল পাওয়া যাচ্ছে। ভবিষ্যতের কোনো Superintelligence যদি মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে বিপুল মাত্রায় ছাড়িয়ে যায়, তাহলে মানুষের সঙ্গে তার আচরণ কেমন হবে—এ প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা নেই।
ইয়ামপোলস্কির আশঙ্কাকে বোঝাতে একটি কঠিন উপমা ব্যবহার করা যায়:
মানুষ যেমন রাস্তা পার হওয়া একটি পিঁপড়ার উদ্দেশ্য বা ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষ চিন্তা করে না, মানুষের চেয়ে অতি-বুদ্ধিমান কোনো সত্তা আমাদের প্রতিও তেমন উদাসীন হয়ে উঠতে পারে।
আর এখানেই সবচেয়ে বড় বিপদ।
চাকরি হারানো, AI দিয়ে কোন পেশা বদলে যাবে—এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কিন্তু তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হতে পারে:
মানুষ কি ভবিষ্যতের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রযুক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে?
এই কারণেই এখন থেকেই AI safety এবং আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গুরুত্বসহকারে ভাবতে হবে। রোগ নিরাময়, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নিরাপদ যানবাহন কিংবা অন্যান্য নির্দিষ্ট কাজে AI-এর ব্যবহার এগিয়ে নেওয়া যেতে পারে; কিন্তু মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এমন General Superintelligence তৈরির ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন।
পারমাণবিক অস্ত্রের মতো AI-এর ক্ষেত্রেও বিশ্বের শীর্ষ রাষ্ট্র, প্রযুক্তি কোম্পানি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা এখনই জরুরি।
কারণ Superintelligence নিয়ে সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয়টি হলো—
আমরা যদি ভুল করি, তখন হয়তো ভুলটি সংশোধন করার মতো সময় বা ক্ষমতা—কোনোটিই আমাদের হাতে নাও থাকতে পারে।