AI - All Inquire

  • Home
  • AI - All Inquire

AI - All Inquire Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from AI - All Inquire, News & Media Website, .

03/12/2020

আপনার কাছে দুই মিনিট সময় হবে?

পরলোকগত কুয়েতি লেখক আব্দুল্লাহ (রহঃ) মৃত্যুর আগে লিখে যাওয়া কিছু অনুভূতি -

ভাষান্তর : Huzaifa Mahmood ভাই।

"মৃত্যু নিয়ে আমি কোনো দুশ্চিন্তা করবো না, আমার মৃতদেহের কি হবে সেটা নিয়ে কোন অযথা আগ্রহ দেখাবো না। আমি জানি আমার মুসলিম ভাইয়েরা করণীয় সবকিছুই যথাযথভাবে করবে।"

يُجَرِّدُونَنِي مِنْ مَلَابِسِي

তারা প্রথমে আমার পরনের পোশাক খুলে আমাকে বিবস্ত্র করবে,

يَغْسِلُونَني

আমাকে গোসল করাবে,

يَكْفِنُونَنِي

(তারপর) আমাকে কাফন পড়াবে,

يُخْرِجُونَنِي مِنْ بَيْتِي

আমাকে আমার বাসগৃহ থেকে বের করবে,

يَذهَبُونَ بِي لِمَسَكِنِي الجَدِيدِ (القَبْرُ)

আমাকে নিয়ে তারা আমার নতুন বাসগৃহের (কবর) দিকে রওনা হবে,

وَسَيَأتِي كَثِيرُونَ لِتَشْيِيْعِ الجَنَازَتِي

আমাকে বিদায় জানাতে বহু মানুষের সমাগম হবে,

بَلْ سَيَلْغِي الكَثِيرُ مِنهُم أَعْمَالَهُ وَمَوَاعِيدَهُ لِأَجْلِي دَفْنِي

অনেক মানুষ আমাকে দাফন দেবার জন্য তাদের প্রাত্যহিক কাজকর্ম কিংবা সভার সময়সূচী বাতিল করবে,

وَقَدْ يَكُونُ الكَثِيرُ مِنهُم لَمْ يَفَكِّرْ في نَصِيحَتِي يَوماً مِنْ الأيّامِ

কিন্তু দুঃখজনকভাবে অধিকাংশ মানুষ এর পরের দিনগুলোতে আমার এই উপদেশগুলো নিয়ে গভীর ভাবে চিন্তা করবে না,

أَشْيَائِي سَيَتِمُّ التَّخَلُّصُ مِنهَا

আমার (ব্যক্তিগত) জিনিষের উপর আমি অধিকার হারাবো,

مَفَاتِيحِي

আমার চাবির গোছাগূলো,

كِتَابِي

আমার বইপত্র,

حَقِيبَتِي

আমার ব্যাগ,

أَحْذِيَتِي

আমার ‍জুতোগুলো,

وإنْ كانَ أَهْلِي مُوَفِّقِينَ فَسَوفَ يَتَصَدِّقُونَ بِها لِتَنْفَعَنِي

হয়তো আমার পরিবারের লোকেরা আমাকে উপকৃত করার জন্য আমার ব্যবহারের জিনিসপত্র দান করে দেবার বিষয়ে একমত হবে,

تَأَكِّدُوا بِأَنَّ الدُّنيا لَنْ تَحْزَنْ عَلَيَّ

এ বিষয়ে তোমরা নিশ্চিত থেকো যে, এই দুনিয়া তোমার জন্য দু:খিত হবে না অপেক্ষাও করবে না,

وَلَنْ تَتَوَقَّفْ حَرَكَةُ العَالَمِ

এই দুনিয়ার ছুটে চলা এক মুহূর্তের জন্যও থেমে যাবে না,

وَالاِقْتِصَادُ سَيَسْتَمِرُ

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কিংবা ব্যবসাবাণিজ্য সবকিছু চলতে থাকবে,

وَوَظِيْفَتِي سَيَأتِي غَيرِي لِيَقُومَ بَها

আমার দায়িত্ব (কাজ) অন্য কেউ সম্পাদন করা শুরু করবে,

وَأَمْوَالِي سِيَذْهَبُ حَلَالاً لِلوَرَثِةِ

আমার ধনসম্পদ বিধিসম্মত ভাবে আমার ওয়ারিসদের হাতে চলে যাবে,

بَينَمَا أنا سَأُحَاسِبُ عَليها

অথচ এর মাঝে এই সম্পদের জন্য আমার হিসাব-নিকাশ আরম্ভ হয়ে যাবে,

القَلِيلُ والكَثِيرُ.....النَقِيرُ والقَطمِيرُ......

ছোট এবং বড়….অনুপরিমাণ এবং কিয়দংশ পরিমান, (সবকিছুর হিসাব)

وَإن أَوَّلَ ما مَوتِي هو اِسمِي !!!!

আমার মৃত্যুর পর সর্বপ্রথম যা (হারাতে) হবে, তা আমার নাম!!!

لِذَلكَ عِنْذَما يَمُوتُ سَيَقُولُونَ عَنِّي أَينَ "الجُنَّةُت"...؟

কেননা, যখন আমি মৃত্যুবরণ করবো, তারা আমাকে উদ্দেশ্য করে বলবে, কোথায় “লাশ”?

وَلَن يَنَادُونِي بَاِسمِي....

কেউ আমাকে আমার নাম ধরে সম্বোধন করবে না,

وَعِندَما يُرِيدُونَ الصَّلاةَ عَلَيَّ سِيَقُلُونَ اُحْضُرُوا "الجَنَازَةَ" !!!

যখন তারা আমার জন্য (জানাযার) নামাজ আদায় করবে, বলবে, “জানাযাহ” নিয়ে আসো,

وَلَن يُنَادُونِي يِاسْمِي ....!

তারা আমাকে নাম ধরে সম্বোধন করবে না….!

وَعِندَما يَشْرَعُونَ بِدَفنِي سَيَقُولُونَ قَرِّبُوا المَوتَ وَلَنْ يَذكُرُوا اِسمِي ....!

আর, যখন তারা দাফন শুরু করবে বলবে, মৃতদেহকে কাছে আনো, তারা আমার নাম ধরে ডাকবে না…!

لِذَلِكَ لَن يَغُرَّنِي نَسبِي وَلا قَبِيلَتِي وَلَن يَغُرَّنِي مَنْصَبِي وَلا شَهرَتِي ....

এজন্যই দুনিয়ায় আমার বংশপরিচয়, আমার গোত্র পরিচয়, আমার পদমযার্দা, এবং আমার খ্যাতি কোনকিছুই আমাকে যেন ধোঁকায় না ফেলে,

فَمَا أَتْفَهُ هَذِهِ الدُّنْيَا وَمَا أَعْظَمَ مُقَلِّبُونَ عَليهِ .....

এই দুনিয়ার জীবন কতই না তুচ্ছ, আর, যা কিছু সামনে আসছে তা কতই না গুরুতর বিষয়…

فَيا أَيُّهَا الحَيُّ الآنَ ..... اِعْلَمْ أَنَّ الحُزْنَ عَليكَ سَيَكُونُ على ثَلَاثَةٍ أَنْواعٍ:

অতএব, (শোন) তোমরা যারা এখনো জীবিত আছো,….জেনে রাখো, তোমার (মৃত্যুর পর) তোমার জন্য তিনভাবে দু:খ করা হবে,

1ــ النَّاسُ الَّذِينَ يَعْرِفُونَكَ سَطْحَيّاً سَيَقُولُونَ مِسْكِينٌ

১. যারা তোমাকে বাহ্যিক ভাবে চিনতো, তারা তোমাকে বলবে হতভাগা,

2ــ أَصْدِقَاؤُكَ سَيَحْزُنُونَ سَاعَات أَو أَيَّامَاً ثُمَّ يَعُودُونَ إِلَى حَدِيثِهِم بَلْ وَضَحِكَهُم.....

২. তোমার বন্ধুরা বড়জোর তোমার জন্য কয়েক ঘন্টা বা কয়েক দিন দু:খ করবে, তারপর, তারা আবার গল্পগুজব বা হাসিঠাট্টাতে মত্ত হয়ে যাবে,

3ــ الحُزْنُ العَمِيقُ فِي البَيْتِ سَيَحْزُنُ أَهْلِكَ أُسْبُوعاً.... أُيسْبُوعَينِ شَهراً ....شَهرَينِ أَو حَتَّى سَنَةً وَبَعْدَهَا سَيَضْعُونَكَ فِي أَرْشِيفِ الذَّكَرِيّاتِ !!!

৩. যারা খুব গভীর ভাবে দু:খিত হবে, তারা তোমার পরিবারের মানুষ, তারা এক সপ্তাহ, দুই সপ্তাহ, একমাস, দুইমাস কিংবা বড় জোর একবছর দু:খ করবে। এরপর, তারা তোমাকে স্মৃতির মণিকোঠায় যত্ন করে রেখে দেবে!!!

اِنْتَهَتْ قِصَّتُكَ بَينَ النَّاسِ وَبَدَأَتْ قِصَّتُكَ الحَقِيْقِيّةِ وَهِيَ الآخِرةُ ....

মানুষদের মাঝে তোমাকে নিয়ে গল্প শেষ হয়ে যাবে, অত:পর, তোমার জীবনের নতুন গল্প শুরু হবে, আর, তা হবে পরকালের জীবনের বাস্তবতা,

لَقدْ زَالَ عِندَكَ:

তোমার নিকট থেকে নি:শেষ হবে (তোমার):

1ــ الجَمَالُ

১. সৌন্দর্য্য

2ــ والمَالُ

২. ধনসম্পদ

3ــ والصَحَّةُ

৩. সুস্বাস্থ্য

4ــ والوَلَدُ

৪. সন্তান-সন্তদি

5ــ فَارقَت الدَّور

৫. বসতবাড়ি

6ــ القُصُورُ

৬. প্রাসাদসমূহ

7ــ الزَوجُ

৭. জীবনসঙ্গী

وَلَمْ يَبْقِ إِلَّا عَمَلُكَ

তোমার নিকট তোমার ভালো অথবা মন্দ আমল ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না,

وَبَدَأَتِ الحَيَاةُ الحَقِيقَيَّةُ

শুরু হবে তোমার নতুন জীবনের বাস্তবতা,

وَالسُّؤَالُ هُنا : ماذا أَعْدَدْتَ لِلقُبَرِكَ وَآخِرَةَكَ مِنَ الآنَ ؟؟؟

আর, সে জীবনের প্রশ্ন হবে: তুমি কবর আর পরকালের জীবনের জন্য এখন কি প্রস্তুত করে এনেছো?

هَذِهِ حَقِيقَةٌ تَحْتَاجُ إلى تَأمَّلٍ

ব্স্তুত: এই জীবনের বাস্তবতা সম্পর্কে তোমাকে গভীর ভাবে মনোনিবেশ করা প্রয়োজন,

لِذَلِكَ أحرصُ عَلى :

এজন্য ‍তুমি যত্নবান হও,

1ــ الفَرَائِضِ

১. ফরজ ইবাদতগুলোর প্রতি

2ــ النَّوَافِلِ

২. নফল ইবাদতগুলোর প্রতি

3ــ صَدَقَةُ السِّرِّ

৩. গোপন সাদাকাহ’র প্রতি

4ــ عَمَلُ الصَّلِحِ

৪. ভালো কাজের প্রতি

5ــ صَلاةُ اللَّيلِ

৫. রাতের নামাজের প্রতি

لَعَلَّكَ تَنْجُو....

যেন তুমি নিজেকে রক্ষা করতে পারো….

إِنْ سَاعَدْتَ عَلى تَذْكِيرِ النَّاسِ بِهَذِهِ المُقَالَةِ وَأنتَ حَيُّ الآنَ سَتَجِدُ أَثَرَ تَذكِيرِكَ في مِيزَانِكَ يَومَ القِيامَةِ بِإِذْنِ اللهِ .....

এই লিখাটির মাধ্যমে তুমি মানুষকে উপদেশ দিতে পারো, কারণ তুমি এখনো জীবিত আছো, এর ফলাফল আল্লাহ’র ইচ্ছায় তুমি কিয়ামত দিবসে মিজানের পাল্লায় দেখতে পাবে,

قال الله تَعالى : ((فَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَ تَنْفَعُ المُؤمِنِينَ))

আল্লাহ বলেন: ((আর স্মরণ করিয়ে দাও, নিশ্চয়ই এই স্মরণ মুমিনদের জন্য উপকারী))

لِمَاذَا يَخْتَارُ المَيِّتِ "الصَّدَقَةَ لو رَجَعَ للدُّنيا....

তুমি কি জানো কেন মৃতব্যক্তিরা সাদাকাহ প্রদানের আকাঙ্খা করবে, যদি আর একবার দুনিয়ার জীবনে ফিরতে পারতো?

كَمَا قَالَ تَعَالى: ((رَبِّ لَو لا أَخَّرْتَنِي إلى أَجَلٍ قَرِيبٍ فَأَصَّدَّقَ....))

আল্লাহ বলেন: ((হে আমার রব! যদি তুমি আমাকে আর একটু সুযোগ দিতে দুনিয়ার জীবনে ফিরে যাবার, তাহলে আমি অবশ্যই সাদাকাহ প্রদান করতাম….))

ولَمْ يَقُلْ :

তারা বলবে না,

لِأعتَمَرَ

উমরাহ পালন করতাম,

أو لِأُصَلَّي

অথবা, সালাত আদায় করতাম,

أو لِأصُومُ

অথবা, রোজা রাখতাম,

قالَ العُلَماءُ : ما ذَكَرَ المَيِّتُ الصَّدَقَةَ إلا لِعَظِيمِ مَا رَأى مِن أَثَرِها بَعدَ مَوتِهِ

আলেমগণ বলেন: মৃতব্যক্তিরা সাদাকাহ’র কথা বলবে, কারণ তারা সাদাকাহ প্রদানের ফলাফল তাদের মৃত্যুর পর দেখতে পাবে,

فَأَكْثِرُوا مِنَ الصَّدَقَةِ وَمِن أَفضَلِ ما تَتَصَدَّقُ بِهِ الآنَ 10 ثَوَان مِنْ وَقْتِكَ لِنشَرِ هذا الكَلامَ بِنِيَّةِ النَّصْحِ فَالكَلمَةُ الطَّيِّبَةُ صَدَقَةٌ.

আর, গুরুত্ববহ এই সাদাকাহ’র কাজটি তুমি এই কথাগুলো ছড়িয়ে দিয়ে মাত্র ১০ সেকেন্ড সময় ব্যয় করে করতে পারো, যদি তোমার উদ্দেশ্য হয় এর মাধ্যমে মানুষকে উপদেশ প্রদান করা। কারণ, উত্তম কথা হল এক ধরণের সাদাকাহ।।।

02/12/2020

কখনো লাশ গোসল করিয়েছেন? অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাটা সুখকর কিছু না।

আমরা সাধারণ মৃতদের সম্মানিত করার একটা চেষ্টা করি। মৃত মানুষদের স্মৃতিকে পবিত্র একটা রূপ দেওয়ার চেষ্টা আমরা করি। যদি মৃত ব্যাক্তিটি নেতাগোছের বা বিখ্যাত কোন ব্যাক্তি হয় তাহলে তো আর কথাই নেই।

কিন্তু আমি মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি একজন ডাকসাইটে নেতার বা বড় কোন অভিনেতার বা শীর্ষ স্থানীয় কোন কোম্পানীর মালিক বা সরকারী ডাকসাইটে অফিসার এর নিষ্প্রাণ দেহকে গোসল করানোর দৃশ্যও যদি আপনি দেখেন তাহলে আপনার মধ্যে কোন পবিত্র অনুভূতি হবে না। বড়জোর নিষ্প্রাণ দেহটাকে অপরিচিত মানুষদের হাতে নাড়াচাড়া হতে দেখে মায়া লাগতে পারে।
মৃত মানুষকে গোসল করানোর একটা আবশ্যক অংশ হল লাশকে বসিয়ে এবং পাশ ফিরিয়ে আস্তে আস্তে পেটে চাপ দিয়ে পেটের ভেতরে রয়ে যাওয়া বর্জ্য বের করে দেওয়া। এতো গেল সাধারণ অবস্থা। নিয়মিত লাশ গোসল করানো মানুষদের কাছে শুনতে পাবেন আরো অনেক ধরনের তথ্য। লিভার বা পাকস্থলীর অসুখ নিয়ে মারা যাওয়া, কিংবা পেটে অপারেশান করা মানুষদের লাশ গোসল করানোর সময় পেট থেকে বেরিয়ে আসে পুঁজ, লিভারের খণ্ডবিখণ্ড গলিত অংশ আর রক্ত। সাথে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ। সবচেয়ে মহান রাজনৈতিক নেতা থেকে সবচেয়ে জনপ্রিয় সেলেব্রিটিকে এ অবস্থায় কল্পনা করুন। এখানে কি সম্মানজনক কিছু আছে?
আমরা মানুষরা অনেক ভাব ধরি। নিজেদের অনেক বড় কিছু, অনেক গুরুত্বপূর্ণ কিছু, পুতঃপবিত্র কিছু হিসেবে উপস্থাপন করতে চাই। আমরা নিজেদের চারপাশে একটা খোলস তৈরি করে নেই। কিন্তু মৃত্যু তিলে তিলে গড়ে তোলা এ খোলসকে ধ্বংস করে দেয়। আমরা একটা খেলাঘর তৈরি করি। কিন্তু মৃত্যু এসব কিছু, সব সাজসজ্জা, সব অলংকার, সব আরোপিত আবরনকে সরিয়ে উন্মুক্ত করে দেয়।
আমরা সম্মানজনক জীবনের কথা খুব চিন্তা করি, কিন্তু সম্মানজনক মৃত্যু নিয়ে কি আমরা ভাবি? মানবজাতির অধিকাংশের মৃত্যুর মাঝেই সম্মানজনক কিছু নেই। ব্যাতিক্রম তারাই যাদের সম্মানিত করেছেন সমগ্র সৃষ্টির একচ্ছত্র অধিপতি, আল্লাহ সুবহানহু ওয়া তা’আলা। মানুষের দেওয়া সম্মানের মূল্য দেহ শীতল হবার আগ পর্যন্তই। কিন্তু যাকে সম্মানিত করেন মালিকুল মুলক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তিনিই প্রকৃত অর্থে সম্মানিত। দুঃখজনক বিষয়টা হল, আমরা মূল্যহীনের পেছনে ছুটতে ছুটতে মূল্যবানকে হারিয়ে ফেলি।

আল্লাহতালা আমাদের সকলকে দুই জীবনে হেফাজত/রক্ষা করুন। আমীন.....

Courtesy: Ohee- ওহী

04/08/2020

▌এই মুল্যবান সময় আর ফিরে পাবেন না!

❒ এক.

কখনো আই সি ইউ -তে কাউকে দেখতে গিয়েছিলেন? আমি একবার গিয়েছিলাম। বড়ো একটা ইউনিটে চল্লিশ জনের মত রোগী ছিল। বিশ্বাস করুন, চারদিকে তাঁকিয়ে অন্তরআত্না কেঁপে উঠেছে। আপনি যত কঠিন হৃদয়ের মানুষই হন না কেন, রোগীদের হালত দেখলে নিজেকে স্থির রাখতে পারবেন না। সবচেয়ে বেশি কষ্ট লেগেছে যুবকদের দেখে। এই বয়সের একটা ছেলে দিনের পর দিন নিরবে শুয়ে রয়েছে, কোনো সাড়াশব্দ নেই, কারো কারো তো তিন-চার দিন ধরে হুঁশ-জ্ঞানই নেই। কবে হুঁশ ফিরবে তাও বলা যাচ্ছেনা। আমার বয়সী এক ভাইকে দেখলাম তিনি এক সপ্তাহ ধরে বেহুঁশ অবস্থায় পড়ে রয়েছেন! ভাবা যায় এসব!?
খানিকটা সময় নিজেকে তাঁর জায়গায় কল্পনা করলাম, সেই ছেলেটা যদি আমি হতাম! আহা! ভাবলেই শরীরটা শিউরে ওঠে! এরা না ইবাদত করার সুযোগ পাচ্ছেন, আর না নিজের কৃতকর্মের জন্য কাকুতি মিনতি করে শেষবারের মত আল্লাহকে রাজী-খুশী করার সুযোগ পাচ্ছেন! আজ তাঁরা কতো অসহায়! কতো দূর্বল! আমরা যখন হাসছি, খেলছি, চাকুরী, সংসার, পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছি তখন ঐ মানুষগুলি হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর অপেক্ষা করছেন! তাদের স্বজনদের আত্ন-চিৎকার আর করুণ আকুতি কঠিন হৃদয়কেও দুমড়ে-মুচড়ে দিবে। এরা কিছুদিন পরে হয়ত চিরতরে কবরেও শুয়ে থাকবেন! এই শুয়ে থাকাটা ঠিক কত কালের জন্য তা একমাত্র আমাদের রব আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা-ই ভাল জানেন।

❒ দুই.
এখন যৌবন যার মজা-মাস্তি করার সময় তাঁর। একজন যুবক এই বয়সে কতো স্বপ্ন, কতো আশা, কতো আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বাঁচে। ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার মৌহ তাঁকে গুনাহ-তে পর্যন্ত লিপ্ত করে ফেলে। এইজন্যই সে কখনো নফসের সাথে জয়ী হয়, আবার কখনো হয় পরাজিত। অত:পর যখন আল্লাহর ভয় জাগ্রত হয় তখন বারবার নিজেকে তিরস্কৃত করতে থাকে। এই শ্রেণীর যুবকরা আলোকিত হৃদয়ে অধিকারী। এদের সম্পর্কে ইমাম আবুল ফারাজ ইবনে আল জাওযী (রাহিমাহুল্লাহ ) বলেন, “পাপ করার পরে যদি আপনার অন্তরের মাঝে আঁধার খুঁজে পান, তাহলে বুঝে নিবেন আপনার অন্তরে আলো রয়েছে। সেই আলোর কারণেই আপনি আঁধারকে অনুভব করেছেন।” [১]
আরেক শ্রেণীর যুবকরা হারাম রিলেশন, হারাম ইনকাম, হারাম কর্মে লিপ্ত থেকেও নিজেকে তিরস্কার করেনা, অনুশোচনা করেনা, আল্লাহর ভয়ে ভীত হয় না, নিজের কৃত অপরাধের জন্য খালেস অন্তরে তাওবাহ করেনা, সর্বপরি, আল্লাহর বিধিবিধানের তোয়াক্কা না করেই খামখেয়ালী জীবন যাপন করে। মুলত এরাই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত। দুনিয়া তো হল বিষধর সাপের মত, যতই দুধ-কলা পুষে রাখেন, একদিন আপনাকে ছোবল মারবেই। ঐ শুনুন মহান আল্লাহর বাণী,
"আর এ দুনিয়ার জীবন খেল-তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয় এবং নিশ্চয়ই আখিরাতের নিবাসই হল প্রকৃত জীবন, যদি তারা জানতো”। [২]

❒ তিন.
আপনার মুল্যবান সময়টুকুন হেলায় নষ্ট করবেন না। জান্নাতি মানুষের দুনিয়াবী ছুরত হল, সে সর্বদা শয়তানের সাথে জিহাদরত অবস্থায় থাকে! যারাই ইহকালে ও পরকালে সফলতা অর্জন করেছিল, তাদের গতকালের চেয়ে আজকের দিনটি উত্তম ছিল। আপনিও নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনার গতকালের চেয়ে আজকের দিনটি উত্তম কেটেছে কিনা? কালকের চেয়ে আজকে আপনার রবের ইবাদতে বেশি সময় ব্যায় করেছেন কিনা? শুধুমাত্র আজকের হিসেব কষলেই বুঝতে পারবেন আপনার গন্তব্যপথ কোনদিকে!
কাল কেয়ামতের ময়দানে নেককার-বদকার সকলেই সময়ের সদ্ব্যবহার না করার কারণে আফসোস করবে। সেইজন্যই প্রিয়নবী মুহাম্মদূর রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, "তোমরা পাঁচটি জিনিসের পূর্বে পাঁচটি জিনিসকে মূল্যায়ন করো। আর তা হলো :
• যৌবনকে মূল্যায়ন করো বার্ধক্যের আগে।
• সুস্থতাকে মূল্যায়ন করো অসুস্থতা আসার আগে।
• সচ্ছলতাকে মূল্যায়ন করো দারিদ্র্যতা আসার আগে।
• অবসরকে মূল্যায়ন করো ব্যস্ততা আসার আগে।
• এবং জীবনকে মূল্যায়ন করো মৃত্যু আসার আগে। [৩]
রাসূলুল্লাহ ﷺ এর প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন, “তুমি সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে সকাল বেলার অপেক্ষা (আশা) করো না এবং সকালে উপনীত হয়ে সন্ধ্যা বেলার অপেক্ষা করো না। সুস্বাস্থ্যের দিনগুলোতে রোগব্যাধির (দিনগুলোর) জন্য প্রস্তুতি নাও এবং জীবদ্দশায় মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করো।” [৪]
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা আমাদের সবাইকে উপরিউক্ত বিষয়াদি অনুধাবনের তাওফীক্ব দান করুন, আমাদের অন্তরসমুহকে ফিতনাকে ফিতনা হিসেবে গন্য করার তাক্বওয়াটুকু দান করুন, আমাদের অন্তরকে শয়তানের জিম্মায় ছেড়ে না দিয়ে দ্বীনের সাথে বেঁধে রাখার শক্তি ও ঈমান দান করে, জাহান্নামের ইন্দন হওয়া থেকে রক্ষা করুন। [আ-মী-ন]
❒ রেফারেন্সঃ
[১] রাওদাতুল মুহিবীন : ২/১১২।
[২] সূরাহ আনকাবুত, আয়াত : ৬৪।
[৩] মুস্তাদ্বরাক হাকেম : ৭৮৪৬।
[৪] রিয়াদুস সলেহীন : ৫৭৫।
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬

একটি এনালজি পড়েছিলাম। দুটি বাচ্চা মাছ মহানন্দে সাঁতার কাটতে কাটতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সাঁতার কাটতে কাটতে তাদের সাথে এক বড় ...
03/08/2020

একটি এনালজি পড়েছিলাম। দুটি বাচ্চা মাছ মহানন্দে সাঁতার কাটতে কাটতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সাঁতার কাটতে কাটতে তাদের সাথে এক বড় মাছের দেখা হয়ে গেল। বড় মাছ বাচ্চা মাছ দুটিকে জিজ্ঞেস করল, কি ব্যাপার! কেমন আছো তোমরা? তারপর, বলতো বাচ্চারা, তোমাদের এলাকার পানিতে আজকে আবহাওয়া কেমন? বাচ্চা মাছ দুটি আশ্চর্য হয়ে মুখ চাওয়া চাওয়ি করল। একজন জিজ্ঞেস করলো, আঙ্কেল, পানি কি?

ইংরেজিতে "taken for granted" বলে একটি এক্সপ্রেসন রয়েছে। যার একটি অর্থ, জীবনে কোন কিছুর ব্যাপকতা বা প্রাচুর্য খুব বেশি হওয়ার কারণে বিষয়টিকে কোন চিন্তা ভাবনা ছাড়াই গ্রহণ করা বা মেনে নেওয়া। ধরুন, আপনি আপনার জীবনে কোন আশীর্বাদ ধারাবাহিকভাবে পেয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কোন চিন্তাভাবনা করছেন না। কেন আপনি আশীর্বাদীটি পাচ্ছেন, আপনি আসলেই এর যোগ্য কিনা তা নিয়ে ভাবছেন না। আপনি এই আশীর্বাদের সঠিক মূল্যায়ন করছেন না, কিংবা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন না। (You have 'taken this blessing for granted') যেন এই আশীর্বাদ আপনারই প্রাপ্য।

বাচ্চা মাছগুলোর বসবাস পানিতে। পানি ছাড়া ওরা বাঁচতে পারবে না। অথচ পানি কি তাই তারা জানেনা। ঠিক একইভাবে পরম করুনাময়ের সীমাহীন নেয়ামতের গভীরে ডুবে থাকি আমরা সারাটি জীবন। অথচ এ ব্যাপারে আমাদের উদাসীনতা সীমালংঘন করেছে। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে বেঁচে থাকার জন্য, আমরা যে আল্লাহর উপর নির্ভরশীল এটাই আমাদের খেয়াল থাকেনা। বাচ্চা মাছ দু'টির মতো আমরাও বুঝতেই পারিনা আল্লাহর নেয়ামত ছাড়া আমরা এক মুহূর্ত টিকে থাকতে পারবো না। আমাদের জীবনাচরণ দেখলে মনে হয়, আল্লাহর প্রতিটি নিয়ামত যেন আমাদের প্রাপ্য পৈত্রিক সম্পত্তি।

"অতএব, তোমরা তোমাদের প্রভুর কোন্ নেয়ামতটি অস্বীকার করবে?"-----(সূরা আর রহমানঃ আয়াত ১৬)

আমরা আল্লাহর নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা একেবারেই যে আদায় করি না, এটা বললে অবশ্য ভুল হবে।
এই নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায় করি আমরা ফেসবুকে ছবির ক্যাপশনে "feeling blessed" বা আলহামদুলিল্লাহ লিখে ছবি পোস্ট করে। যে ছবিতে থাকে নিজের বোন, মা বা স্ত্রীর উন্মীলিত বেপর্দা ছবি। নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায় করি আমরা হারাম চাকরি পাওয়ার সুসংবাদ শুনে নফল নামাজ আদায় করে। নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করি আমরা সুদের টাকায় কোরবানি দিয়ে, দুর্নীতির টাকায় মসজিদ-মাদ্রাসা তৈরি করে। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আমাদের না পড়লেও চলবে, কারণ আমাদের মন পরিষ্কার। ফরজ পর্দা আমাদের না করলেও চলবে, কারণ মনের পর্দাই বড় পর্দা। অন্যান্য হারাম কাজ চালিয়ে গেলেও কোন সমস্যা নেই। ধর্ম নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করা উচিত না।

আমরা মনে করি, দেখার জন্য আমাদের দুটি চোখ দরকার। ভুল। পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ মানুষ রয়েছে যাদের চোখ আছে কিন্তু তারা দেখতে পায় না । আল্লাহ যাদেরকে দৃষ্টিশক্তির নেয়ামত দান করেছেন শুধুমাত্র তারাই দেখতে পায়। আমরা মনে করি, হাঁটার জন্য আমাদের দুটি পা দরকার। ভুল। পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ মানুষ রয়েছে যাদের পা রয়েছে কিন্তু তারা পঙ্গু। আল্লাহ যাদের সামর্থ্য দিয়েছেন কেবল তারাই হাঁটতে পারে। দুটি কান থাকলেই মানুষ শুনতে পারে না। লক্ষ কোটি মানুষ কান থাকা সত্ত্বেও বধির। কারণ আল্লাহ তাদের এই নিয়ামত দান করেননি। আল্লাহ আমাদের উপরের সবকটাই দান করেছেন। তাও আমাদের অন্তরে এতোটুকু কৃতজ্ঞতা বোধ কাজ করে না। নাকি অব্যাহত কুফরী, অবাধ্যতা ও ঔদ্ধত্তের কারণে আল্লাহ আমাদের অন্তঃকরণ মোহর করে দিয়েছেন, যাদেরকে আর কেউ সুপথে আনতে পারবে না।

"আল্লাহ তাদের অন্তরে এবং তাদের কানে মোহর লাগিয়ে দিয়েছেন এবং তাদের চোখসমূহে রয়েছে পর্দা। আর তাদের জন্য রয়েছে মহাআযাব।"---(সূরা বাকারাঃ আয়াত ৭)

Courtesy: Ashrin Tamim

29/07/2020

আল্লাহ পবিত্র কুরআনে সুরা হুমাযায় তিনটি জঘন্য গোনাহ এবং এই গোনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের আযাব ও আযাবের তীব্রতা বর্ননা করেছেন।প্রথমত,
গোনাহ তিনটি হলো,
১/পশ্চাতে মানুষের নিন্দা করা(গীবত করা)।
২/সামনা-সামনি দোষারোপ ও নিন্দা করা।
৩/অর্থলিস্পা।

1) পশ্চাতে মানুষের নিন্দা করা।
বর্তমানে সমাজের একটা রীতি হয়ে গেছে যে,কোন বৈঠকে বা আড্ডায় বা নিছক কথার ছলে যদি কাউকে না কাউকে নিন্দা না করা হয় তাহলে ওই বৈঠক বা আড্ডাখানাটা বোধহয় অপূর্নই থেকে যায়।বর্তমানে একে অন্যের পেছনে গীবত করাটাতো রীতমত ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে।পেছনে একে অপরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা,বিদ্রুপ করা,কটাক্ষ করা,মান-হানি করা যেন এক শ্রেনীর মানুষের অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেছে।
দিনের শুরু হলেই মুসলিম এক ভাই অন্য ভাইয়ের গীবতের রেস লাগিয়ে দেই।কে কত বেশি গীবত করতে পারে।
সমাজের এতই বেহাল দশা যে,এদের দেখলে মনে হয় আল্লাহ বোধহয় এই লোকগুলাকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছিই একে-অপরের পশ্চাতে দোষ খুজে তাঁর প্রচার-প্রচারনা করে বেরানোর জন্য।আর বোধহয় কোন কাজই নেই তাঁদের।
অথচ এটা যে কতটা নিকৃষ্ট ও ঘৃন্য কাজ আর যারা করে তাঁরা যে কতটা কপাল পোড়া তা তাওবা বিহীন মারা গেলে টের পাবে।

2) সামনা-সামনি দোষারপ ও নিন্দা করা।
এটাও আল্লাহর কাছে ঘৃনিত কাজ গুলোর মধ্যে অন্যতম।কারন কাউকে যখন সবার সামনে নিন্দা বা দোষারপ করা হয় তাহলে সে অপমানিত ও লাঞ্চিত হয়।এর কষ্ট যেমন বেশি তেমনি শাস্তিও বেশি।
আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা সারাদিন শুধু মানুষকে এটা-ওটা বলে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে মজা নিয়ে থাকি।কারো বাহ্যিক,শারিরীক কোন ত্রুটি,চারিত্রিক কোন ত্রুটি,পোশাকের কোন ত্রুটি ইত্যাদি জিনিস নিয়ে সারাদিন ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা তো সমাজের কিছু মানুষ তাঁদের পেশা হিসেবেই নিয়ে নিয়েছে মনে হয়।
বন্ধু মহলের আড্ডায় তো এর চর্চা সবচেয়ে বেশি।বন্ধু-বান্ধবি একে অন্যকে ঠাট্টার ছলে হোক বা রসিকতার ছলে হোক হেয়-হেনস্থা,অপমানিত-লাঞ্চিত করা তো রীতিমত দেশে একটা ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আফসোস!এটা যে কতটা জঘন্য একটি কাজ এবং এর শাস্তি যে কতটা ভয়াবহ তা যদি আমরা বুজতাম তাহলে এই পাপ করার আগে অন্তত একশো বার ভাবতাম।

3) অর্থলিপ্সা।
এই অর্থলিপ্সা বা ধন-সম্পদের মোহ এমন একটা ব্যধি যা কাউকে আক্রান্ত করলে এর থেকে বের হয়া মোটাদাগে খুব কঠিন।এই ব্যধিতে আক্রান্ত নয় এমন লোক সমাজে খুব বিরল।আল্লাহর একান্ত অনুগ্রহ ছাড়া এই ব্যধি থেকে বেঁচে থাকা খুব কঠিন।অনেক দীনি ব্যক্তিত্বও এই ব্যধি থেকে মুক্ত নয়।
এই জমানায় তো এই ব্যধি মহামারীর রূপ ধারন করেছে।সবাই শুধু কাড়ি কাড়ি সম্পদ কামাচ্ছে আর জমা করে রাখছে আর কিছুদিন পর পর গননা করছে।এরা সম্পদের মোহে এতটাই অন্ধ্য যে,মৃত্যুর কথা বেমালু্ম ভুলে বসে আছে।যেন এত এত টাকা তাঁদের থেকে মৃত্যুকে দূরে রাখবে।অমর করে রাখবে।অথচ তাঁদের এই আশা নিছক ছলনা বৈ কিছুনা।যুগ যুগে এরকম অনেক টাকার কুমিড়,সম্পদের কুমিড় তাদের মৃত্যুকে আটকিয়ে রাখতে পারে নি।তাদের বস্তা-বস্তা টাকা তাঁদের মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে পারে নি।
এই হতভাগা ব্যক্তিরা জীবনের মুল লক্ষ্য হিসেবে শুধু সম্পদ কামানোটাকেই গ্রহন করে নিছে।নিজেদের দীন-দুনিয়া জলাঞ্জলি দিয়ে আমৃত্যু এই সম্পদের পিছেই ছুটছে এবং এই অবস্থাতেই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে নিচ্ছে।
সাধারন অবস্থায় সম্পদ জমা করা দোষনীয় কিছু নয় তবে যখন ওই সম্পদ থেকে সঠিক ভাবে যাকাত,দান-সাদাকাহ ও আল্লাহর রাস্তায় খরচ করা না হয় তখন এই সম্পদ উক্ত ব্যক্তির ধ্বংসের কারন হয়ে দাঁড়ায়।

আল্লাহ সুরা হুমাজায় এসকল হতভাগাদের কথা এ ভাবে তুলে ধরেছেন,
“দুর্ভোগ প্রত্যেকের,যে সম্মুখে ও পশ্চাতে লোকের নিন্দা করে।সে অর্থ জমায় এবং তা গননা করে রাখে।সে ধারনা করে যে,অর্থ তাকে অমর করে রাখবে।কখনো নয়,তাদেরকে নিক্ষেপ করা হবে হুত্বামায়।“[সুরা হুমাযাহ,১-৪]
আল্লাহ প্রথমে সূরায় এসব হতভাগ্য ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট তুলে ধরেছেন।তারপর এদের শাস্তির কথা উল্লেখ করে বলেন।যে এদেরকে “হুত্বামায়” নিক্ষেপ করা হবে।
এই “হুত্বামা” কি?
হুত্বামা হল একটি জাহান্নামের নাম।যার অর্থ ভেঙ্গে-চুড়ে ফেলা,টুকরো টুকরো করে ফেলা বা পিষে ফেলা।অর্থাৎ এর মধ্যে যদি কিছু ফেলে দেয়া হয় তাহলে সে নিজের গভীরতা এং ভয়াবহ আগুনের কারনে ভেঙ্গে-চুরে রেখে দিবে।

এই হুত্বামার শাস্তি যে কতটা ভয়াবহ হবে,পরের আয়াত গুলাতেই স্বয়ং আল্লাহ তা বলে দিচ্ছেন,
“আপনি জানেন,হুত্বামা কি?এটা আল্লাহর প্রজ্বলিত অগ্নি।যা হৃদয়কে গ্রাস করবে।নিশ্চয়ই তা তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রাখবে।দীর্ঘায়ীত স্তম্ভসমুহে।“[সুরা হুমাজাহ,৫-৯]

উল্লেখ্য,আল্লাহ তা’আলা কিন্তু কুরআনের আর অন্য কোথাও জাহান্নামের আগুনকে ‘আল্লাহর আগুন’বলেন নি একমাত্র এখানে ছাড়া।এই হুত্বামার আগুনকে আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত করা ধারা সহজেই এর ভয়বহতা ও প্রচন্ডতা অনুমেয় করা যাচ্ছে।আর সাথেও এটাও বুজা যাচ্ছে ভয়াবহ এই অগ্নীকুন্ডে যাদেরকে নিক্ষেপ করা হবে আল্লাহ তাদেরকে কতটা ঘৃনা ও ক্রোধের দৃষ্টিতে দেখেন।এই আযাবের ভয়াবহতা উপলব্ধি করার জন্য এতটুকুনই যথেষ্ট ছিল।

এরপরও আযাবের ভয়াবহতা উল্লেখ করে আল্লাহ আরও বলেন,’এটা হৃদয়কে গ্রাস করবে।নিশ্চয়ই তা তাঁদেরকে পরিবেষ্টন করে রাখবে।দীর্ঘায়ীত স্তম্ভসমূহে।‘
অর্থাৎ এর ভয়াবহতা এতই যে এর উষ্ণতা হৃদয় পর্যন্ত পৌছে যাবে।এমনিতে দুনিয়ার সাধারন আগুনের বৈশিষ্ট হল সামনের সবকিছুকে জ্বালিয়ে দেয়া।কিন্তু এই আগুন মানুষের হৃদয়ে পৌছার আগেই সাধারনত মানুষের মৃত্যু ঘটে যায়।অথচ জাহান্নামের আগুন এরকম হবে না।সে দোষ-নির্দোষ সবাইকে জ্বালিয়ে দিবে না। বরং তা হৃদয় পর্যন্ত পৌছে যাবে।যেখানে মানুষের অসৎ চিন্তা,ভুল আকীদা বিশ্বাস,অপবিত্র ইচ্ছা,বাসনা,কামনা,আবেগ,খারাপ পরিকল্পনা থাকে। আর সে মৃত্যুকে আহবান করা সত্ত্বেও তাঁর মৃত্যু হবে না।

এবং এই গোনাহে লিপ্ত ওইসকল হতভাগ্যদের আযাবের সময় লোহার পেরেকের সাথে বেধে দেওয়া হবে যা বড় বড় স্তম্ভের মত হবে এবং সেখান থেকে তাঁরা বের হতে পারবে না।
(আল্লাহুম্মা আজিরিনি মিনা’ন্নার।)
_____________

এরপরও সমাজে এরকম অনেক মানুষ আছে যারা এই জঘন্য গুনাহ গুলো অবলীলায় করে যাচ্ছে।বিশেষ করে প্রথম দুটো গুনাহতো এখন সমাজের সাথে মিশে একাকার হয়ে গেছে।এমনকি এই গোনাহতে লিপ্ত ব্যক্তির মনেই হচ্ছে না যে সে কোন ভয়ংকর গোনাহতে লিপ্ত।এর শাস্তি যে এতটা ভয়ংকর।এমনকি আজকাল অনেক দীনি মজলিশও এ থেকে মুক্ত নয়।
আবার এই আল্ট্রা মডার্ন যুগে মানুষ রীতিমত প্রতিযোগিতা করছে কে কত সম্পদের পাহাড় গড়তে পারে।এরা সম্পদের কুমিড় হতে এতই বেশি মশগুল যে তাঁদের মনে এই চিন্তা উদয়ই হয় না যে তাঁদের একসময় এ সব কিছু ছেঁড়ে চলে যেতে হবে।
এছাড়াও এখন একে অন্যকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা,পশ্চাতে সামনে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করা,বংশের নিন্দা করা,চোঘলখুরী,এর ওর দোষ বলে বেড়ানো ইত্যাদি জঘন্য কাজ গুলো তো বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হয়ে দাড়িয়েছে।আর সোশিয়াল মিডিয়ায় কল্যানে তো এর চর্চা এখন তুঙ্গে।
হায় আফসোস!এই জঘন্য গোনাহগুলোর শাস্তির ভয়াবহতা যদি আমরা বিন্দু মাত্রও আন্দাজ করতে পারতাম।
আল্লাহ আমাদের সকলকে জঘন্য এই গোনাহগুলো থেকে হেফাজত করুক।আমিন।
____________
তথ্যসূত্রঃ
১.তাফসীরে মাআরেফুল কোরআন
২.তাফসীরে তাফহীমুল কোরআন
৩.তাফসীরে আহসানুল বায়ান

29/07/2020

#ডিপ্রেশন কী?

উত্তরঃ আপনি এবং আপনার স্রষ্টার মধ্যকার দুরত্বের নামই হল ডিপ্রেশন।

খাদিজা(রা:) খুব ধনী ঘরের মেয়ে ছিলেন। বিলাসিতার মধ্যেই বড় হওয়াটাই স্বাভাবিক। নবিজী(স:) ত্রর ইসলাম প্রচারের কারণে অন্যান্য গোত্র যখন কুরাইশদের অবরোধ দিল তখন নবিজী আর খাদিজা (রা:)এর গোত্রের শিশুদের আড়াইবছর তীব্র কষ্টে থাকতে হয়েছিলো।
এমনকী ক্ষুধার তাড়নায় গাছের পাতা পর্যন্ত খেয়েছিলেন।

হযরত বিলাল (রা) ছিলেন হাবশী ক্রীতদাস। ইসলাম কবুলের অপরাধে তাকে মরুভূমির রোদে ফেলে রাখা হতো, তার গায়ের চর্বি গলে যেতো।তারপরও তার মুখে লেগে থাকতো প্রশান্তি, রোদের তেজ তাঁর কালিমার তেজের কাছে পরাজিত হতো।

ইমাম ইবনু তাইমিয়্যা তাঁর জীবনে আট বছর জেল খেটেছেন। জেলেই মরেছেন। অথচ তিনি কী বলেছিলেন, জানেন?
বলেছিলেন, দুনিয়াতেও একটা জান্নাত আছে, আমি আমার হৃদয়ে সে জান্নাতের খোঁজ পেয়েছি।

গান শোনা, মুভি দেখা, মোটিভেশনাল বই পড়া বা মানুষের সাথে আড্ডা দিয়েই যদি ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি মিলত তবে গায়ক লিনকিন পার্ক আত্মহত্যা করলেন কেন? কিংবা অভিনেতা সুশান্ত শিং সুইসাইড করলেন কেন?মোটিভেশন গুরু ডেল কার্নেগি আত্মহত্যা করেছিলেন কেন?

আল্লাহ্ তাআলা, ইসলাম, ইমান আর ডিপ্রেশন এক অন্তরে একসঙ্গে থাকতে পারে না। যদি আপনার মনে বিন্দুমাত্র ডিপ্রেশন থাকে, তার মানে আপনার হৃদয়ে আল্লাহ্ নাই, বরং ওখানে শয়তান বাসা বেঁধেছে।

যারা ডিপ্রেশনে পড়ে বা আত্মহত্যা করে, মোটা দাগে দেখবেন, এরা অজ্ঞেয়বাদী নাহয় অবিশ্বাসী। কোনো মুসলিম যদি ডিপ্রেশনের স্বীকার হন, তাহলে আপনার ঈমান নিয়ে ভেবে দেখার সময় এসেছে।

এবার অনেকেই তেড়ে এসে বলবেন, আমার পরিস্থিতি আপনি বুঝবেন না, আমার ফ্যামিলি প্রবলেম, মানি প্রবলেম, স্বামী প্রবলেম.....আরে ভাই থামেন তো!!

কোন পরিস্থিতির গল্প শোনান আপনি? বউ ভালো না? হযরত লূত (আ) এর স্ত্রীও ভালো ছিলো না। হযরত আছিয়া (আ) এর স্বামী ছিলেন কে জানেন? ফেরাউন।
ফেরাউনকে ঈশ্বর না মানার অপরাধে তাঁকে টুকরো করে কেটে গরম তেলের মধ্যে ডোবানো হয়েছিল৷

আরও শুনবেন? চেষ্টা করেও কিছু হচ্ছে না তাই ডিপ্রেশন?

হযরত নুহ (আ) প্রায় হাজার বছর দাওয়াত দিয়ে আশি জনকে দাওয়াত কবুল করাতে পেরেছিলেন।

আপনজন কষ্ট দিয়েছে? অপবাদ দিয়েছে?

ইউসুফ (আ) এর ভাইয়েরা তাকে কুয়ার মধ্যে ফেলে দিয়ে চলে গেলো। ব্যবসায়ীর বৌ জুলেখার সাথে ব্যভিচার না করায় উল্টো অপবাদ দিয়ে সাত বছরের জেল দেওয়া হলো!!

এরপরও আপনি আমাকে কোন পরিস্থিতির গল্প শোনাবেন?

চলুন দেখি কুরআন কী বলছে-

হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম যখন বার্ধক্যে উপনীত, আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে একদল ফেরেশতা এসে তখন তাঁকে এক জ্ঞানী পুত্রের সুসংবাদ শোনাল। বিস্ময়ভরা কণ্ঠে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম জিজ্ঞেস করলেন- আমাকে তো বার্ধক্য পেয়ে বসেছে, এরপরও তোমরা আমাকে এ সুসংবাদ দিচ্ছ?! কীসের ভিত্তিতে তোমরা এ সুসংবাদ দিচ্ছ? ফেরেশতারা বলল, আমরা তো সত্য কথাই বলছি। আপনাকে সত্য সুসংবাদই দিচ্ছি। বার্ধক্য আপনাকে স্পর্শ করেছে করুক, এ বৃদ্ধ বয়সেই আপনার সন্তান হবে। আপনি নিরাশদের দলে যাবেন না। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তাদের কথার জবাবে বললেন, পথভ্রষ্টরা ছাড়া আর কে আপন প্রতিপালকের রহমত থেকে নিরাশ হতে পারে? (সূরা হিজর, ৫৩-৫৬ নং আয়াত দ্রষ্টব্য)

যারা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় তাদেরকে বলা হলো পথভ্রষ্ট!! এরপরও আপনি আমাকে ডিপ্রেশনের গল্প শোনাবেন?

আরেকটা গল্প শুনে যান-

হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামের সর্বাধিক প্রিয় সন্তান ছিলেন হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম। কিন্তু তাঁর ভাইয়েরা বাবার এই আদরকে সহজে মেনে নিতে পারেনি তাই কৌশলে তাঁকে একদিন বাবার কাছ থেকে নিয়ে গিয়ে কূপে ফেলে দিল।

আল্লাহর অসীম কুদরতে কূপ থেকে উঠে এসে একদিন তিনি মিশরের ধনভাণ্ডারের দায়িত্বশীল হলেন। আর যে ভাইয়েরা তাঁকে নিয়ে চক্রান্ত করেছিল, দুর্ভিক্ষের শিকার হয়ে তারা খাবার আনতে হাজির হলো তাঁর কাছে। এরপর এক কৌশলে তিনি তাঁর সহোদর বিনইয়ামীনকে নিজের সঙ্গে রেখে দিলেন।

দুই ছেলে হারিয়ে বাবা হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম অন্য ছেলেদের বললেন, (তরজমা) ‘হে আমার ছেলেরা! তোমরা যাও, ইউসুফ ও তার ভাইয়ের সন্ধান করো। তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চিত জেনো, আল্লাহর রহমত থেকে তো কাফের ছাড়া অন্য কেউ নিরাশ হতে পারে না।’ {সূরা ইউসুফ (১২) : ৮৭}

শেষ লাইনটা আবার পড়েন তো!!
শুধু তাই না আল্লাহর রহমত থেকে ডিপ্রেসড হয়ে যাওয়া কবিরা গুনাহ।

এই নিন হাদিস-

বিখ্যাত সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেন, ‘হাবরু হাযিহিল উম্মাহ’-এই উম্মতের বিদ্বান ব্যক্তি। তিনি বলেছেন, ‘সবচেয়ে বড় কবিরা গোনাহ হচ্ছে আল্লাহ তাআলার সঙ্গে র্শিক করা, আল্লাহর পাকড়াও থেকে নিশ্চিন্ত হয়ে যাওয়া আর আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে পড়া'৷

(মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ১৯৭০১)

গান বাজনা বা মুভি, বই আপনাকে ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি দিতে পারবে না। ডিপ্রেশনের একমাত্র চিকিৎসা হলো আল্লাহর দিকে ফেরত আসা। আপনার শয়তান যখন আপনাকে বলছে তোর অনেক কষ্ট, তোর চেয়ে কষ্টে কেউ নাই, তখন আল্লাহ্ তাআলা বলছেন-

"কষ্টের সঙ্গেই তো স্বস্তি আছে। অবশ্যই কষ্টের সঙ্গেই স্বস্তি আছে৷"

[সূরা আলাম নাশরাহ (৯৪) : ৫-৬]

শেষকথা:

প্রিয় অভিনেতা সুশান্ত শিং রাজপুত সুইসাইড করেছেন অথচ উনার ছিচোড়ে মুভিটা ছিলো মোটিভেশনাল, সুইসাইড বিরোধী একটা মুভি। মুভি তাঁকে ডিপ্রেশন থেকে ফেরাতে পারলো না।লাস্ট ছয়মাস উনি চিকিৎসাও নিচ্ছিলেন, লাভ হলো না। শরীরের রোগের চিকিৎসা আছে, মনের রোগের ভ্যাকসিন চিকিৎসা বিজ্ঞানে নাই।

এখন পর্যন্ত যার মোটিভেশনাল বই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে বলে দাবি করা হয়, সেই ডেল কার্নেগি শেষ জীবনে আত্মহত্যা করেছেন। মোটিভেশনের ফেরিওয়ালা নিজের বেঁচে থাকার এতটুকু মোটিভেশন জোগাড় করতে পারলেন না!!

লিনকিন পার্ক। যে ব্যান্ড এর গান শুনে আমাদের রাত্রি ভোর হয়, প্রবল উৎসাহ পাই, অনেকে যার গানে বেঁচে থাকার উপাদান খুঁজেন, সেই ব্যান্ড এর নামকরা শিল্পী নিজের গানে নিজের বাঁচার উপাদান খুঁজে পেলেন না। শেষপর্যন্ত আত্মহত্যা করলেন।

চার্লি চ্যাপলিন ।
সর্বকালের সেরা কমেডিয়ান। পৃথিবীর নানান প্রান্তের মানুষকে হাসানো মানুষটির বোকা হাসির আড়ালে কী ব্যথা লুকিয়ে ছিলো, কেউ জানলো না। নিজেকে শেষ করে দিলেন।

তাহলে সমাধান কী?

জেনে রেখ, আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমেই অন্তরের সত্যিকারের প্রশান্তি লাভ করা যায়।

[১৩:২৮]

আল্লাহ্ তাআলার দিকে ফিরে আসুন।
কুরআনের দিকে ফিরে আসুন।

যে অন্তরে রাহমানুর রাহীমের ভালোবাসা থাকে, যে হৃদয়ে আল্লাহ্ থাকেন, সে হৃদয়ে ডিপ্রেশন থাকতে পারে না।

কোনভাবেই না।
Collected...
{Mohammed Hasnain}

22/07/2020

উম্মাহ জাগবে যখন...
প্রিয় ভাইয়েরা, আজকে আমি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলব। কখনো কখনো ধাক্কা দেবার প্রয়োজন হয়। যদি কেউ চলতে না পারে তাকে ঠেলে নিয়ে যেতে হয়। ভারি কোনো কিছু সরাতে ধাক্কা দিতে হয়। আজকে আমরা এমন এক অবস্থায় এসে উপনীত হয়েছি যে আমাদের মুসলিমদের ধাক্কার পর ধাক্কা প্রয়োজন। তো আমি চেষ্টা করব আপনাদের ধাক্কা দিতে। আপনাদের বিবেককে নাড়া দিতে। আমরা জানেন এই উম্মাহর অবস্থা আজ কতটা নাজুক। কতটা হতাশাজনক। এই উম্মাহর অবস্থা আমার কাছে মনে হয় ইতিহাসের সর্বনিম্ন এসে ঠেকেছে। মুসলমানদের লাঞ্ছণাকর অবস্থা এক বর্ণনাতীত অবস্থায় এসে পড়েছে। সিরিয়ার ভিডিওগুলো এক ভাই আমাকে দেখালেন। কী চরম অবস্থা! আবার এগুলো দেখতে দেখতে আমাদের সয়ে গেছে। কোনো অনুভূতি হয় না। হাজার হাজার মুসলিম খোলা আকাশের নিচে আশ্রয়হীন দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু আমাদের কোনো অনভূতি হয় না। হাজারো সংবাদের ভীড়ে একটি সংবাদ শুধু। সিরিয়ার বিধ্বস্ত মানুষজন আর ঘরবাড়ি দেখতে দেখতে আমরা অভ্যস্থ হয়ে গেছি। কোন প্রতিক্রিয়া নেই আমাদের। আলহামদুলিল্লাহ! কিছু তরুণ যুবকদের মাঝে প্রতিক্রিয়া দেখলাম।
আমার ভাইয়েরা, কী ঘটছে সেখানে? কেনো ঘটছে? কেনো আল্লাহর সাহায্য আসছে না? আর কত মুসলিমকে সেখানে মরতে হবে? কখন আল্লাহর বিজয় আসবে? কখন ইসলাম তার বিজয় কেতন উড়িয়ে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবে? কেনো হচ্ছে না? ভুলটা কোথায়? ভুলটা কোথায়? এসব আলোচনা যখন উঠে তখন আবার আমরা প্রত্যেকেই পন্ডিত হয়ে যাই। যে যার মত ব্যাখ্যা করতে লেগে যাই। যেমন কিছু ভাইয়েরা বলেন—খিলাফাহ নেই, আমীরুল মুমিনীন নেই, দাওয়াহ নেই, দ্বীন নেই..এটা নেই..ওটা নেই..। এভাবে সকল মুসলিম দল ও ফেরকার আলাদা আলাদা মত দেখা যায়। আমাদের মতামত থাকতে পারে। আমরা বলে বেড়াই এসব ওলামাদের কারণে হয়েছে...এসব আলেমদের মধ্যে ঐক্য না থাকার কারণে হয়েছে..। এগুলো এই দলের কারণে হয়েছে..। ওসব ওই দলের কারণে হয়েছে..। আরব রাষ্ট্রগুলোর কারণে যত সমস্যা তারা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে না...।
ভাই, আমি সত্যটা বলি। উম্মাহর এই (বিশৃঙ্খল) অবস্থার জন্য দায়ী আপনি। ইসলামের এই (করুণ) অবস্থার কারণ আমি। আপনারা জিজ্ঞেস করতে পারেন কিভাবে?
ভাই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের সৃষ্টি করেছেন একটি উদ্যম নিয়ে। আর সেটি হল তাঁর ইবাদত করা...। শুধুমাত্র তাঁর...। আমাদের কাজ হল শুধু ইবাদত করা। ভাইয়েরা স্পষ্ট করে বুঝে নিন। আল্লাহ আমাদের সুরম্য প্রাসাদ, সুন্দরী স্ত্রী আর এসি গাড়ি হাকিয়ে বেড়ানোর জন্য নয়। হালাল হোটেলে যাওয়া আর স্ত্রী-সন্তানদের জন্য এটা হালাল ওটা হালাল দেখে দেখে শপিং করে বেড়ানোর জন্য নয়। আমার কথায় কষ্ট পেতে পারেন! বলতে পারেন ভাই এসব কী বলছেন! এসব কি হারাম? না ভাই, আমি বলছি না হারাম। কিন্তু এটাই কি ছিল আমাদের উদ্দেশ্য?
উম্মাহর অবস্থার খারাপ হবার পেছনে কারণ আপনি-আমি দুনিয়ার সবকিছুকে আল্লাহর চেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া। ভাই, আমি আপনার অন্তরে কী আছে সেটা জানতে চাচ্ছি না। আমি আপনার বাহ্যিক কর্মকান্ড দেখে বলছি। শুধু কাজগুলো দেখে। শুধু কাজগুলো দেখে!
আমাদের প্রত্যেকেই মুসলিম পরিবারে জন্ম, সেখানেই বেড়ে ওঠা। আমরা নিয়মিত সালাত আদায় করি। স্ত্রীদের সুন্দর জিলবাব পরিধান করাই। অনেকের ভালো টাকা পয়সা আছে। ফ্ল্যাট বাড়ি কিনছি। হজ্জে যাচ্ছি। ছেলেমেয়েদের ইসলামিক স্কুলে পাঠাচ্ছি। আর এভাবে ভাবছি আমি একজন আদর্শ মুসলিম। আবার সিরিয়া ও ফিলিস্তিনের জন্য অর্থ সংগ্রহে আসলে বেশ গুণে গুণে টাকা দিয়ে দিচ্ছি। এভাবে শুধু আমি আমার দায়িত্ব শেষ করছি। কিন্তু এ দিয়ে উম্মাহর কোনো পরিবর্তন আসবে না। এই জীবন আপনাকেও পরিবর্তন করবে না। এই উম্মাহর প্রতিটি মানুষকে মনে করতে হবে, উম্মাহর সংশোধনের দায়িত্ব আমার কাঁধেও আছে। আমার বাবার কাঁধে নয়, আমার শাইখের কাঁধে নয়।
উম্মাহর অধঃপতনের জন্য আমিও দায়ী। আমার কাজের সরাসরি প্রভাব উম্মাহর উপর আপতিত হয়। আল্লাহ সাহায্য করবেন না। আমি জোড় গলায় বলছি—আল্লাহ কোনো সাহায্য করবেন না যদি না আমাদের প্রত্যেকে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের জীবনে একমাত্র লক্ষ্য বানাবেন! যদি না সত্যি সত্যি দুনিয়ার জীবনের চেয়ে আখিরাতের জীবনকে প্রাধান্য দিবেন। আমাদের ৯০ ভাগ চেষ্টা থাকতে হবে আখিরাতকেন্দ্রিক আর ১০ ভাগ দুনিয়াকেন্দ্রিক। সেখানে আপনি ১০ ভাগ চেষ্টা দ্বীনর জন্য করে বলছেন—উম্মাহর একি অবস্থা।
আল্লাহর কসম করে বলছি, সাহাবায়ে আজমাঈনের জীবনী না জানা অপরাধ, মুসলিম হিসেবে অপরাধ। আপনার পূর্বপুরুষদের জীবনী না জানা অপরাধ, জুলুম, মুনাফিকি, ভন্ডামি। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গীদের সমতুল্য কোনো ব্যক্তিত্ব আর আসবে না। তাদের সমতুল্য কোনো মানুষ আর হবে না। ইসলামে তাদের সমান অবদান আর কেউ রাখতে পারবে না। বদর যুদ্ধের ইতিহাস দেখুন। আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন একজন ঈমানদার আর তার ছেলে সে যুদ্ধে তার প্রতিপক্ষ কাফেরদের পক্ষে। বাপ-বেটা যুদ্ধের মাঠে মুখোমুখি। পরে তার ছেলে যখন মুসলিম হয় তখন সে একদিন বলে—“বাবা, আমি আপনাকে বদর যুদ্ধের মাঠে দেখেছিলাম। বার বার আপনার থেকে দূরে সরে গিয়েছি। ইচ্ছে করেই। যাতে আপনি-আমি মুখোমুখি না হই। আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু তখন বলেন—“কিন্তু আল্লাহর কসম! আমি যদি তোমাকে দেখতাম তবে হত্যা করে ফেলতাম।” ওয়াল্লাহি, আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুর এই অনুভূতি, দ্বীনের জন্য আবেগের সাথে কোনো তুলনা পাওয়া যায় না।
আর আজকে বলা হয়—‘ভাই আমি ব্যস্ত।’ ভাই কেন আপনি এত ব্যস্ত? “আমার পরিবার, ছেলেমেয়ে, ব্যবসা, চাকরি, এই কাজ সেই কাজ..।” এই আমরাই আবার পরিবর্তন চাই! পরিবর্তনের অপক্ষোয় বসে আছি! আমরা শুধু মাশায়েখদের দিকে আঙুল তুলি। মাশায়েখদের দায়িত্ব ঠিকাছে কিন্তু আপনারও তো কিছু দায়িত্ব আছে। বললেই বলেন, আমার আর কী দায়িত্ব? ...এই হল উম্মাহর অবস্থা! এই হল আমাদের অবস্থা! আমরা এমন একটা জীবন সাজিয়ে নিয়েছি যেখানে মনে করি ডানে বাঁয়ে তো লোকের অভাব নেই। আমার আর কী কাজ থাকতে পারে! সাহাবায়ে আজমাঈন এরকম ছিলেন না।
-উস্তাদ মুহাম্মাদ হোবলস
[বই: ফুল হয়ে ফোটো, পৃষ্ঠা: ৮৮-৮৯]

Address


Alerts

Be the first to know and let us send you an email when AI - All Inquire posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

  • Want your business to be the top-listed Media Company?

Share