Explainer Rintu

  • Home
  • Explainer Rintu

Explainer Rintu নতুন কিছু বাংলায় জানতে হলে ফলো করে পাশে থাকুন 📽️

Permanently closed.
⚽🔥 শাওলিন সকার (Shaolin Soccer) – মুভি এক্সপ্লেইন 🔥⚽ভাবুন তো, যদি মার্শাল আর্টের শাওলিন মাস্টাররা ফুটবল খেলতে নামেন, তখন...
25/09/2025

⚽🔥 শাওলিন সকার (Shaolin Soccer) – মুভি এক্সপ্লেইন 🔥⚽

ভাবুন তো, যদি মার্শাল আর্টের শাওলিন মাস্টাররা ফুটবল খেলতে নামেন, তখন মাঠে কেমন ঝড় উঠতে পারে? 😲⚡

এই ছবিতে দেখা যায় – এক সময়ের ব্যর্থ ফুটবলার আর কয়েকজন শাওলিন ভাই মিলে তৈরি করে এক অদ্ভুত টিম। 💪 তারা শুধু খেলা নয়, নিজেদের শাওলিন শক্তি ব্যবহার করে ফুটবলকে বানিয়ে তোলে একদম যুদ্ধক্ষেত্রের মতো! 🥋⚽

প্রতিপক্ষ টিমের সাথে ম্যাচে উড়ে যায় বল, ভেঙে পড়ে গোলপোস্ট, আর দর্শকরা হতবাক হয়ে যায় তাদের খেলা দেখে। 🤯🔥
সব শেষে এই টিম প্রমাণ করে – বিশ্বাস, একতা আর শাওলিন স্পিরিট থাকলে অসম্ভবও সম্ভব! 🙌✨

👉 মুভিটা একদিকে কমেডি, অন্যদিকে মার্শাল আর্ট আর ফুটবলের ভয়ংকর ককটেল। একবার দেখলে মনে হবে – “এমন ফুটবল ম্যাচ যদি আসলেই হতো!” 😍⚽

🎬 মুভি এক্সপ্লেইন - Ala Vaikunthapurramulooগল্পের শুরু হয় বান্টু নামে এক সাধারণ ছেলের জীবনের মাধ্যমে। ছোটবেলা থেকেই সে স...
24/09/2025

🎬 মুভি এক্সপ্লেইন - Ala Vaikunthapurramuloo

গল্পের শুরু হয় বান্টু নামে এক সাধারণ ছেলের জীবনের মাধ্যমে। ছোটবেলা থেকেই সে সবসময় বাবার অবহেলা আর রাগের শিকার। তার বাবা ভাল্মীকি, যিনি নিজের দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে ধনী জীবনের স্বপ্ন দেখতেন।

কিন্তু ভাগ্যের খেলা শুরু হয় যখন ভাল্মীকি তার নবজাতক ছেলেকে এক ধনী ব্যবসায়ী রামচন্দ্র-এর ছেলের সাথে অদলবদল করে দেয়। ফলে রামচন্দ্রের ছেলে বড় হয় গরীব পরিবারের বান্টু নামে, আর ভাল্মীকি নিজের ছেলেকে ধনীদের মধ্যে লালন-পালন করে।

বান্টু বড় হতে হতে বুঝতে পারে যে তার বাবা তাকে কখনোই ভালোবাসেন না। কিন্তু বান্টু দমে যায় না, সে নিজের মেধা, পরিশ্রম আর সাহস দিয়ে জীবনে এগিয়ে যেতে চায়। এভাবেই সে একসময় নিজের ভালোবাসা আমুল্যা-কে পায়, যে এক ধনী ব্যবসায়ীর মেয়ে।

একদিন বান্টু জানতে পারে তার আসল সত্যি — সে আসলে সেই ধনী পরিবারের সন্তান, যে পরিবারে সে এতদিন চাকরির মতো ছিল। কিন্তু এই সত্যি তাকে না ভেঙে, বরং আরও শক্তিশালী করে তোলে।

সে শুধু নিজের জায়গা ফিরিয়ে নেয় না, বরং পরিবারের মান-সম্মানও বাঁচায়। দুষ্ট লোকদের থেকে নিজের আসল পরিবারকে রক্ষা করে, আর প্রমাণ করে যে মানুষের আসল পরিচয় জন্ম দিয়ে নয়, তার কাজ দিয়ে তৈরি হয়।

শেষে পরিবারও তাকে আপন করে নেয়, আর বান্টু পায় তার প্রাপ্য সম্মান, ভালোবাসা আর নিজের জায়গা।

---

🎥 মূল বার্তা

এই সিনেমা শুধু অ্যাকশন আর ড্রামা নয়, এখানে একটা বড় বার্তা আছে—
👉 পরিবারে ভালোবাসা, সম্মান আর নিজের যোগ্যতায় লড়াই করলেই জীবন জয়ী হয়।
#মুভি

















🎬 Arya (2004) গল্পটা শুরু হয় কলেজে।এক দুষ্টু, মজা প্রিয় ছেলে – আরিয়া। তার জীবনে প্রেম মানে আনন্দ, চাপ নয়।অন্যদিকে আছ...
24/09/2025

🎬 Arya (2004)

গল্পটা শুরু হয় কলেজে।
এক দুষ্টু, মজা প্রিয় ছেলে – আরিয়া। তার জীবনে প্রেম মানে আনন্দ, চাপ নয়।

অন্যদিকে আছে সুন্দরী মেয়ে গীতা। ওকে ভালবাসে ধনী ছেলে অজয়। কিন্তু অজয়ের প্রেম জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার মতো। গীতা তাকে সরাসরি না বলে দেয়।

এই সময় হাজির হয় আরিয়া। সে গীতাকে প্রপোজ করে, কিন্তু বলে –
👉 “তুই না বললেই আমার ভালবাসা সত্যি প্রমাণ হবে।”

এখানেই টুইস্ট!
অজয় জোর করে ভালবাসে, আর আরিয়া ভালবাসে একেবারে নিঃস্বার্থভাবে।

গল্প এগোতে থাকলে গীতা বুঝে যায়, আসল ভালবাসা জোর করে পাওয়া যায় না – ভালবাসা মানে অন্যের সুখ চাওয়া।

শেষে গীতা বেছে নেয় আরিয়াকেই, আর অজয় হেরে যায় নিজের জেদে।

---

💡 মেসেজ:
👉 “সত্যিকারের প্রেম মানে দাবি নয়, নিঃস্বার্থভাবে অন্যের সুখকে

🎬 Movie: Geetha Govindam📖 Genre: Romantic Comedy👨‍🎤 Cast: Vijay Deverakonda (Govind), Rashmika Mandanna (Geetha)---গল্প ...
23/09/2025

🎬 Movie: Geetha Govindam
📖 Genre: Romantic Comedy
👨‍🎤 Cast: Vijay Deverakonda (Govind), Rashmika Mandanna (Geetha)

---

গল্প শুরু

গল্পের নায়ক গোবিন্দ, একজন সাধারণ কলেজ লেকচারার। দেখতে ভদ্র-ভালো ছেলে, জীবনে সৎপথেই চলতে চায়। কিন্তু তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো ― একটা সুন্দর, স্নেহশীলা মেয়েকে বিয়ে করা।

একদিন সে বাসে ভ্রমণ করার সময় পরিচয় হয় গীতা নামের এক মেয়ের সাথে। গীতা শান্ত-শিষ্ট হলেও স্বভাবটা একটু কড়া। তার নীতিবোধ খুব শক্ত।

---

ভুল বোঝাবুঝি

বাসযাত্রার সময় এক মজার ঘটনা ঘটে। হঠাৎ একটা পরিস্থিতিতে গোবিন্দ ভুল করে গীতার গালে চুমু খেয়ে ফেলে! 😳
এতেই শুরু হয় পুরো গল্পের টুইস্ট।

গীতা ব্যাপারটা খুবই খারাপভাবে নেয়। সে ভাবে গোবিন্দ ইচ্ছা করেই এমন করেছে। এখান থেকেই গোবিন্দের জীবনে ঝামেলা শুরু হয়।

---

আবার দেখা

ভাগ্যের কি অদ্ভুত খেলা! পরবর্তীতে গীতার ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে আবার দেখা হয় গোবিন্দ আর গীতার। এবার গোবিন্দকে বারবার প্রমাণ করতে হয় যে সে খারাপ ছেলে নয়।

গোবিন্দ বারবার বোঝানোর চেষ্টা করে ― ওই বাসে যা ঘটেছিল, সেটা ছিল একটা দুর্ঘটনা। কিন্তু গীতা সহজে মানতে চায় না।

---

ধীরে ধীরে পরিবর্তন

গল্প এগোতে এগোতে, ধীরে ধীরে গীতার মনে সন্দেহ কমতে থাকে। সে বুঝতে শুরু করে গোবিন্দ আসলেই ভালো মানুষ। তার মনের ভেতরে একধরনের টান জন্মায়।

অন্যদিকে, গোবিন্দ তো অনেক আগেই গীতাকে ভালোবেসে ফেলেছে।

---

শেষের দিকের টানটান মুহূর্ত

যখন সবকিছু ঠিকঠাক মনে হচ্ছিল, তখন আবার একটা বড় ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। গীতা ভাবে গোবিন্দ তার বোনকে প্রপোজ করেছে। এতে গীতার মন ভেঙে যায়।

কিন্তু শেষমেশ সত্যিটা সামনে আসে। গীতা জানতে পারে গোবিন্দের হৃদয়ে আসলে শুধু তারই জায়গা।

---

সমাপ্তি

সব ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়ে যায়, আর দুজন একে অপরের প্রেমে পড়ে। সিনেমার একেবারে শেষে, হাসি আর আনন্দের মধ্য দিয়ে গোবিন্দ আর গীতার মিলন হয়। ❤️

🎬 Kantara Movie Explained (গল্পের মতো)অনেক অনেক বছর আগে… কর্ণাটকের এক অরণ্যঘেরা গ্রামে মানুষরা শান্তিতে বসবাস করত। তারা ...
23/09/2025

🎬 Kantara Movie Explained (গল্পের মতো)

অনেক অনেক বছর আগে… কর্ণাটকের এক অরণ্যঘেরা গ্রামে মানুষরা শান্তিতে বসবাস করত। তারা বিশ্বাস করত, এই জঙ্গল, এই জমি তাদের শুধু প্রকৃতি দেয়নি—এটা এসেছে দেবতার আশীর্বাদে। গ্রামের রক্ষাকর্তা ছিলেন এক অদ্ভুত শক্তিধারী দেবতা, যাকে সবাই ভূতা বলে ডাকত।

একদিন এক রাজা সেই দেবতার কাছে আশ্রয় চায়। রাজা তার রাজ্য আর সম্পত্তি দিতে প্রস্তুত, শুধু বিনিময়ে দরকার ছিল শান্তি। দেবতা তখন গ্রামবাসীদের হাতে সেই জমি তুলে দেন, আর প্রতিজ্ঞা করেন—“যতদিন তোমরা এই বনকে সম্মান করবে, আমি তোমাদের রক্ষা করব।”

কালের চাকা ঘুরতে ঘুরতে চলে আসে বর্তমান। এখানে আমরা পাই গ্রামেরই এক দস্যি ছেলে—শিব। দারুণ সাহসী, খামখেয়ালি, রাগী—কিন্তু ভেতরে ভেতরে ভীষণ নির্ভেজাল। শিকারে নামলে পুরো গ্রাম তাকেই ভরসা করে, উৎসব হলে প্রথম সারিতে থাকে সে।

কিন্তু শিবের একটা ক্ষত আছে—তার বাবাকে নিয়ে। ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছে, আর সেই হারানোর যন্ত্রণার সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক রহস্য। বাবার নাম শুনলেই শিবের চোখে ঝড় নামে।

এমন সময় গ্রামে আসে এক সরকারি অফিসার—মুরলীধর। তার কাজ বন রক্ষা করা, আইন মানানো। কিন্তু আসল লড়াইটা শুরু হয় তখনই… যখন সরকারের লোকেরা গ্রামবাসীদের জমি দখল করার চেষ্টা করে। গ্রামবাসীর বিশ্বাস আর সরকারের আইন—এই সংঘাতের মাঝেই দাঁড়িয়ে যায় শিব।

এদিকে গ্রামেরই এক মেয়ে—লীলা। সে পুলিশ কনস্টেবল, দায়িত্বশীল আর একেবারে সরল। শিবের সঙ্গে তার প্রেম-অভিমান গল্পটাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

কিন্তু যখন দখলদার আর ক্ষমতাশালীরা গ্রামটাকে ধ্বংস করতে আসে, তখন শিব আবিষ্কার করে নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সত্যিটা। তার বাবার মতো সেও আসলে দেবতার প্রতিনিধি! শেষ লড়াইয়ে শিব যখন দৈৱ রূপে অবতীর্ণ হয়, তখন যেন পুরো বন কেঁপে ওঠে। দেবতার শক্তি তার শরীর দিয়ে বেরিয়ে আসে—আর শিব প্রমাণ করে, মানুষের আসল শক্তি প্রকৃতি আর বিশ্বাসের ভেতরেই।

শেষ দৃশ্যে শিব দাঁড়িয়ে থাকে গ্রামের রক্ষক হয়ে… যেমনটা ছিল তার বাবা।

মমতা কুলকার্নি – এক সময়ের সাহসী ও আলোচিত বলিউড অভিনেত্রী। পর্দায় তাঁর উপস্থিতি ছিল তীব্র আকর্ষণীয়, আর বাস্তব জীবনে তিনি ...
10/07/2025

মমতা কুলকার্নি – এক সময়ের সাহসী ও
আলোচিত বলিউড অভিনেত্রী। পর্দায় তাঁর উপস্থিতি ছিল তীব্র আকর্ষণীয়, আর বাস্তব জীবনে তিনি ছিলেন ঠিক ততটাই রহস্যময়। এই নারী একদিন বলিউড মাতিয়ে তুললেও পরে জড়িয়ে পড়েন ভয়ঙ্কর অপরাধচক্রে, এবং সব শেষে হয়ে ওঠেন এক আধ্যাত্মিক সন্ন্যাসিনী। শুনতে যেন সিনেমার গল্প, কিন্তু এটাই মমতা কুলকার্নির বাস্তব জীবন।

মমতার জন্ম হয়েছিল উনিশশো বাহাত্তর সালের এপ্রিল মাসের কুড়ি তারিখে, মহারাষ্ট্রের মুম্বাই শহরের এক মারাঠি ব্রাহ্মণ পরিবারে। তাঁর বাবা ছিলেন এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা – পরিবহন দপ্তরের কমিশনার পদে কর্মরত। মমতা ছোটবেলা থেকেই ছিলেন সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী। মুম্বাইয়ের সেন্ট জোসেফ কনভেন্ট স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং স্কুলজীবনে মঞ্চ নাটক ও নাচের মাধ্যমে নিজের প্রতিভা প্রকাশ করতে থাকেন।

উনিশশো বিরানব্বই সালে, মাত্র কুড়ি বছর বয়সে, তিরঙ্গা নামের একটি হিন্দি ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তাঁর। তবে আসল পরিচিতি আসে পরের বছর, অর্থাৎ উনিশশো তিরানব্বই সালে ‘আশিক আওয়ারা’ ছবির মাধ্যমে। এই ছবিতে সাইফ আলি খানের বিপরীতে অভিনয় করে রাতারাতি খ্যাতি অর্জন করেন তিনি এবং পেয়ে যান সেরা নবাগত অভিনেত্রীর ফিল্মফেয়ার পুরস্কার।

এরপর মমতার জীবনে একে একে আসে হিট ছবির স্রোত – ‘সবসে বরা খিলাড়ি’, ‘আন্দোলন’, ‘বাজি’, ‘করন অর্জুন’, এবং ‘চায়না গেট’। প্রতিটি ছবিতেই তাঁর গ্ল্যামার ও অভিনয়ের ছাপ দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নেয়। উনিশশো পঁচানব্বই সালেই তাঁর তিনটি হিট ছবি মুক্তি পায় এবং সে বছর মমতা হয়ে ওঠেন বলিউডের অন্যতম ব্যস্ত ও আলোচিত অভিনেত্রী।

কিন্তু খ্যাতির পাশাপাশি বিতর্কও জড়িয়ে পড়ে তাঁর জীবনে। স্টারডাস্ট ম্যাগাজিনে করা একটি টপলেস ফটোশুট দেশের নানা প্রান্তে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। আদালতের নির্দেশে তাঁকে জরিমানা গুণতে হয় এবং সমাজের কট্টর অংশ তাঁকে বয়কটের হুমকি দেয়। এরপর থেকেই বলিউডের নির্মাতারা ধীরে ধীরে তাঁকে বাদ দিতে শুরু করেন।

উনিশশো আটানব্বই সালে 'চায়না গেট' ছবির শ্যুটিংয়ের সময় পরিচালক রাজকুমার সান্তোষীর সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্য ঘটে। ছবির প্রচারে তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর থেকে মমতা আর বিশেষ কোনো ছবিতে দেখা যায়নি।

দুই হাজার দুই সালে ‘কভি তুম কভি হম’ নামের একটি ছবিতে তাঁকে শেষবারের মতো পর্দায় দেখা যায়।https://youtu.be/nPF7pptLRns?si=nenUqwEOL0EJtPKN

নানা পাটেকার, বলিউডের এক ব্যতিক্রমী নাম। যাঁর চোখে যেন আগুন, যাঁর কণ্ঠে থাকে কঠোর সত্যের আওয়াজ, যাঁর অভিনয়ে থাকে জীবনের ...
29/06/2025

নানা পাটেকার, বলিউডের এক ব্যতিক্রমী নাম। যাঁর চোখে যেন আগুন, যাঁর কণ্ঠে থাকে কঠোর সত্যের আওয়াজ, যাঁর অভিনয়ে থাকে জীবনের গভীর বাস্তবতা। তিনি শুধু একজন অভিনেতা নন, একজন যোদ্ধা, একজন সমাজকর্মী এবং একজন দেশপ্রেমিক মানুষ। তাঁর জীবন যেন সিনেমার থেকেও বেশি নাটকীয় ও অনুপ্রেরণাদায়ক।

নানা পাটেকারের জন্ম একলা জানুয়ারি, উনিশশো একান্ন সালে মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার ছোট্ট এক গ্রাম মুরুদ-জঞ্জিরায়। জন্মের সময় তাঁর নাম ছিল বিশ্বনাথ পাটেকার। ছোটবেলা কেটেছে দারিদ্র্যের ছায়ায়। বাবা দানপাত্র পাটেকার ছিলেন একজন মুদ্রণ ব্যবসায়ী, মুম্বাই শহরে ছোট একটি প্রেস চালাতেন। সংসারে তেমন আর্থিক সচ্ছলতা ছিল না, কিন্তু মা তাঁকে শিক্ষিত, আত্মসম্মানী ও নীতিবান মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতেন।

ছোট থেকেই নানা ছিলেন মেধাবী ও সংবেদনশীল। আর্টে ছিল গভীর আগ্রহ। তিনি পড়াশোনা করেন মুম্বাইয়ের বিখ্যাত জেজে স্কুল অফ আর্টস থেকে, যেখানে তিনি বাণিজ্যিক শিল্পে স্নাতক হন। ছাত্রাবস্থাতেই পোস্টার ডিজাইন, বিজ্ঞাপনের কাজ করে সংসার চালাতে সাহায্য করতেন। ছবি আঁকার মতো অভিনয়ের দিকেও আগ্রহ জন্মাতে শুরু করে।

নানা পাটেকারের ব্যক্তিগত জীবনে এক বড় ধাক্কা আসে খুব অল্প বয়সেই। তাঁর স্ত্রী এবং সদ্যোজাত সন্তান মারা যান। এই গভীর শোক তাঁকে একেবারে ভেঙে দিলেও, তিনিই সেই যন্ত্রণাকে শক্তিতে রূপান্তর করেন। এই অভিজ্ঞতাই তাঁর অভিনয়ে গভীর আবেগ ও বাস্তবতার ছাপ ফেলে।

তাঁর অভিনয়জীবন শুরু হয় মারাঠি থিয়েটার দিয়ে। এরপর উনিশশো আটাত্তরসালে প্রথম হিন্দি সিনেমা গামন-এ ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেন। একের পর এক ছোট চরিত্রে অভিনয় করে ধীরে ধীরে নিজের প্রতিভা প্রমাণ করেন। কিন্তু জনপ্রিয়তা আসে পারিন্দা, ক্রান্তিবির, অগ্নি সাক্সী, প্রহার, রাজু বান গয়া জেন্টলম্যান, আব তাক ছাপ্পান, ওয়েলকাম, নাটসম্রাট, এবং অনেক সিনেমার মাধ্যমে।

তিনি কখনও হিরো, কখনও খলনায়ক, আবার কখনও সমাজের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক প্রতিবাদী চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয় জিতে নেন। তাঁর সংলাপ বলার স্টাইল, তীক্ষ্ণ চোখের দৃষ্টি, শক্তিশালী কণ্ঠস্বর তাঁকে অনন্য করে তোলে।

তিনি ক্রান্তিবির সিনেমার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান, যা ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় সম্মান। এছাড়াও বহু ফিল্মফেয়ার পুরস্কার এবং অন্যান্য চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

নানা পাটেকার শুধু পর্দার অভিনেতাই নন, বাস্তব জীবনেরও একজন সৈনিক। উনিশশো নিরানব্বই সালের কার্গিল যুদ্ধের সময় তিনি স্বেচ্ছায় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং সীমান্তে কাজ করেন। যুদ্ধ শেষে তিনি তৈরি করেন ‘নাম ফাউন্ডেশন’ নামে একটি এনজিও, যেটি মূলত মহারাষ্ট্র এবং বিদর্ভ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য কাজ করে। হাজার হাজার আত্মহত্যাপ্রবণ কৃষক ও তাঁদের পরিবারকে তিনি আর্থিক সহায়তা ও মনোবল দিয়েছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে নানা পাটেকার ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ। বিলাসবহুল গাড়ি-বাড়ি কিংবা নামী পার্টির জীবন তাঁর একেবারেই পছন্দ নয়। আজও তিনি নিজে রান্না করেন, জামা কাপড় নিজে ধুয়ে পরেন এবং অত্যন্ত সাধারণ পোশাকে ঘুরে বেড়ান। তিনি বিশ্বাস করেন, সহজ-সরল জীবনযাপনই প্রকৃত শান্তির পথ।

তাঁর একমাত্র ছেলে মালহার পাটেকার, যিনি অভিনয় জগতে খুব একটা প্রবেশ করেননি। নানা বরাবরই ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালেই রাখতে চেয়েছেন। মিডিয়ার চোখে তিনি যতটা কঠিন ও রাগী মানুষ, আসলে তিনি ততটাই সংবেদনশীল ও সহানুভূতিশীল।

জীবনে বহু বিতর্ক তাঁকে ঘিরে উঠেছে, বিশেষ করে বলিউডের মিটু আন্দোলনের সময় তাঁর নামও সামনে আসে। তবে তিনি সবসময় নিজের অবস্থানে ছিলেন শক্ত ও স্পষ্ট। নানা বিশ্বাস করেন, “যা সত্য, সেটাই বলব – তাতে কারও কষ্ট হলেও আমার কিছু যায় আসে না।”

একজন মানুষ, যিনি নিজের সন্তান হারানোর পরও ভেঙে পড়েননি, দেশসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন, গরীব কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এবং অভিনয়ের মাধ্যমে কোটি মানুষের মনে ছাপ রেখে গেছেন – তিনি শুধু অভিনেতা নন, তিনি একজন আদর্শ মানুষ।

দেব – যার নামের মানেই এখন কোটি বাঙালির কাছে “বিশ্বাস”, “উৎসাহ” আর “লড়াই করে উঠে দাঁড়াবার সাহস”। আজ যাঁকে আমরা বড় পর্দায় ...
28/06/2025

দেব – যার নামের মানেই এখন কোটি বাঙালির কাছে “বিশ্বাস”, “উৎসাহ” আর “লড়াই করে উঠে দাঁড়াবার সাহস”। আজ যাঁকে আমরা বড় পর্দায় সুপারস্টারের আসনে দেখি, তাঁর জীবনটা একদমই মসৃণ ছিল না। দীপক অধিকারী থেকে দেব হয়ে ওঠার গল্পটা যতটা রঙিন দেখায়, তার চেয়ে বহু গুণ বেশি কঠিন ছিল সেই পথ।

দেবের জন্ম ১৯৮২ সালের ২৫ ডিসেম্বর, পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মহাগ্রামে। তাঁর বাবা গুরুপদ অধিকারী তখন একজন সাধারণ ইলেকট্রিশিয়ান, যারা কাজ করতেন ভারতীয় রেলওয়েতে। পরিবারের অবস্থা খুব একটা সচ্ছল ছিল না। ছোটবেলা থেকেই দেব দেখেছেন কীভাবে তাঁর বাবা-মা কঠোর পরিশ্রম করে সন্তানদের মানুষ করতে চাইছেন। মা মিনা অধিকারী ঘরের প্রতিটি খুঁটিনাটি সামলাতেন, আর ছোট দীপককে বুকের মধ্যে সাহস আর স্বপ্ন জোগাতেন।

ছোটবেলায় দেব খুবই দুষ্টু ছিলেন। খেলাধুলা, নাটক, গান—সবকিছুতেই আগ্রহ ছিল তাঁর। তবে তার চেয়েও বড় ছিল মনের মধ্যে থাকা এক অদ্ভুত "আমি কিছু করব" ভাব। সিনেমার পর্দায় নায়কদের দেখে তাঁর মন বলতো—একদিন আমিও হব।

পড়াশোনার জন্য তিনি পাড়ি দেন মুম্বই শহরে। পরিবার অনেক কষ্ট করে টাকাপয়সা জোগাড় করে তাঁকে মুম্বই পাঠায় ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য। পড়তেন "Purushottam Institute of Engineering and Technology" নামের এক প্রতিষ্ঠানে, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন নিয়ে। কিন্তু ক্লাসে বসে তাঁর মন পড়ত না—মন চলে যেত ফিল্ম স্টুডিওর দিকে।

নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি দেব শুরু করেন স্টুডিওতে কাজ করা। সেটে লাইট ধরার কাজ, কেবল টানা, সিনিয়রদের চা-জল দেওয়া, সবার পেছনে দাঁড়িয়ে শেখা—তিনি সব করতেন চুপচাপ। কোনো অহংকার ছিল না, ছিল শুধু শেখার তীব্র ইচ্ছা। একসময় তিনি পরিচালক আব্বাস-মাস্তানের সঙ্গে কাজ করেন অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে। তখন কেউ জানত না, এই ছেলেটাই একদিন পর্দা কাঁপাবে।

এত কষ্টের পর প্রথমবার একটি ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান—‘Agnishapath’। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই সিনেমাটি মুক্তিই পায়নি। তখন তাঁর মনে হয়েছিল, সব কিছুই শেষ হয়ে গেল। হতাশা, অপমান আর দুশ্চিন্তার মধ্যে দিয়ে দিন কেটেছে তাঁর। পরিবার তাঁকে বলত—চাকরি খোঁজো, নিরাপদ কিছু করো। কিন্তু তাঁর ভেতরের আগুন তখনও নিভে যায়নি।

২০০৭ সাল। অবশেষে এক পরিচালক তাঁর ওপর ভরসা রাখেন—রবি কিনাগি। দেব কাস্ট হন পায়েল সরকারের বিপরীতে, রোমান্টিক ছবি ‘I Love You’-তে। ছবিটি মুক্তির পর বাজিমাত। যুবসমাজ পাগল হয়ে গেল দেবের জন্য। সিনেমার নায়ক হিসেবে তিনি নিজের জায়গা পাকা করে ফেললেন, আর শুরু হলো দেবের আসল যাত্রা।

কিন্তু বাস্তব জীবনের নায়কের জন্য চ্যালেঞ্জ তখনও শেষ হয়নি। অনেকেই বলেছিল—“এই ছেলেটা টিকবে না”, “ওর শুধু স্টাইল আছে, অভিনয় নেই”। দেব কিন্তু কথা কম বলে কাজ বেশি করতেন। প্রতিদিনের মতো নিজের স্ক্রিপ্ট নিয়ে পরিশ্রম করতেন, ডান্স প্র‍্যাকটিস, জিম, ভাষার ওপর নিয়ন্ত্রণ—প্রতিটি দিকেই নিজেকে গড়ে তুলছিলেন।

এরপর একে একে আসে ‘Challenge’, ‘Paran Jai Jaliya Re’, ‘Paglu’, ‘Khokababu’, ‘Le Chakka’, ‘Bindaas’, ‘Romeo’-এর মতো ছবি। তাঁর ভক্তসংখ্যা দিনে দিনে বাড়তে থাকে। বাচ্চা থেকে বুড়ো—সবাই দেবময় হয়ে যায়। তিনি শুধু হিরো ছিলেন না, হয়ে উঠেছিলেন স্টাইল আইকন।

কিন্তু দেব এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ নন। তিনি জানতেন, শুধুই কমার্শিয়াল ছবি করলে একসময় দর্শক মুখ ফিরিয়ে নেবে। তাই তিনি নিজের কমফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে আসেন। ‘Chander Pahar’-এ তিনি দেখান অ্যাডভেঞ্চার আর সাহসিকতার নতুন সংজ্ঞা। আফ্রিকার জঙ্গলে গিয়ে রিয়েল লোকেশনে শুটিং—বাংলা ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে এরকম বড় প্রজেক্ট কেউ ভাবেনি। পরিশ্রম, ভয়, ঘাম—সব উপেক্ষা করে দেব নিজেকে প্রমাণ করেন নতুনভাবে।

পরবর্তীতে ‘Kabir’, ‘Password’, ‘Golondaaj’, ‘Bagha Jatin’-এর মতো ছবি করে তিনি দেখান, তিনি শুধু স্টার নন, একজন শক্তিশালী অভিনেতা।

২০১৪ সালে তিনি রাজনীতিতে পা রাখেন। অনেকেই তখন মজা করে বলেছিল—“আরেকটা সেলেব এমপি”। কিন্তু দেব প্রমাণ করেন, তিনি লোক দেখানো নেতা নন। তিনি তাঁর লোকসভা কেন্দ্র ঘাটালে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, মাটিতে বসে খায়, উন্নয়নের কাজ করেন। একের পর এক প্রজেক্ট হাতে নেন, হাসপাতাল, রাস্তা, স্কুল উন্নয়নে কাজ করেন। এখন তিনি শুধু অভিনেতা নয়, একজন দায়িত্ববান সাংসদ হিসেবেও পরিচিত।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দেব বরাবরই চুপচাপ। শোনা যায়, অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্র তাঁর জীবনের বিশেষ একজন। কিন্তু দেব কখনো মিডিয়ায় সম্পর্ককে প্রচার করতে চাননি। তাঁর মতে, একজন মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়—সে কেমন কাজ করছে, আর সমাজের জন্য কী করছে।

আজ দেব বাংলা সিনেমার অন্যতম মুখ। বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি, পেয়েছেন Filmfare East, Kalakar Awards, Tele Cine Awards সহ একাধিক সম্মাননা। কিন্তু তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় পুরস্কার, কোটি দর্শকের ভালোবাসা।

দেবের জীবন আমাদের শেখায়, আপনি কোথা থেকে এসেছেন সেটা বড় কথা নয়—আপনি কোথায় পৌঁছাতে চান আর কতটা লড়াই করতে পারেন, সেটাই সবচেয়ে বড় পরিচয়।

Address


Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Explainer Rintu posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Explainer Rintu:

  • Want your business to be the top-listed Media Company?

Share