03/02/2026
কেনো বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা ডিপ্লোমা পোস্টে ৩৩% কোটা চায়? কি এমন মধু রয়েছে এই পোস্টে? কেনো এতো মরিয়া তারা?
ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের একমাত্র অপশন উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে চাকুরি করা। এছাড়া তাদের কাছে তেমন কোনো বিকল্প সুযোগ নেই। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের পড়াশোনার উদ্দেশ্যই থাকে মিড লেভেল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দ্রুত জব সেক্টরে প্রবেশ করা। জব লাইফে প্রমোশনের তেমন নিশ্চয়তা নেই। বেশিরভাগ সেক্টরে ডিপ্লোমা পোস্ট একটি ব্লক পোস্ট। সম্পুর্ন চাকরিজীবনে একটি প্রমোশনও পাওয়া যায় না।
পক্ষান্তরে, গ্র্যাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ারদের পড়াশোনার টার্গেট ভিন্ন।তারা বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণীর সরকারি চাকুরিজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করতে পারেন। দ্রুত প্রমোশন হয়, অন্যান্য সুবিধা খুবই ভালো। তারা চাইলে সহকারী প্রকৌশলী ৯ম গ্রেড অথবা বিসিএস সহ যেকোন ১ম ও ২য় শ্রেনীর সরকারি চাকুরি করতে পারেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুইটি জব সেক্টরের তুলনা-
- ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা চাকরি শুরুর ১৫ বছর পর উপ-সহকারী প্রকৌশলীই থাকেন (১০ম গ্রেড)।
- ডিগ্রি প্রকৌশলীরা চাকরি শুরুর ১৫ বছর পর গ্রেড-৫ এ চলে যান সচরাচর (সহকারী প্রকৌশলী ৯ম গ্রেড >> উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী বা সমমান পদ ৬ষ্ঠ গ্রেড >> নির্বাহী প্রকৌশলী ৫ম গ্রেড)।
- ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা চাকরি শুরুর ৩০ বছর পর উপ-সহকারী প্রকৌশলীই থাকেন (১০ম গ্রেড)।
- ডিগ্রি প্রকৌশলীরা চাকরি শুরুর ৩০ বছর পর গ্রেড-১/২/৩ এ চলে যান সচরাচর (সহকারী প্রকৌশলী ৯ম গ্রেড >> উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী বা সমমান পদ ৬ষ্ঠ গ্রেড >> নির্বাহী প্রকৌশলী ৫ম গ্রেড >> তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ৪র্থ গ্রেড >> অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ৩য় গ্রেড >> প্রধান প্রকৌশলী গ্রেড-২/১ >> এডিজি/ডিজি সমমান পদ গ্রেড-১ )।
এখানে তো শুধু গ্রেড বললাম, গ্রেড দিয়ে অনেকে হয়তো নাও বুঝতে পারেন। ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তা খোলা জীপগাড়ি সুবিধা পান (এসিল্যান্ডের সাথে কম্পেয়ার করতে পারেন), ৬ষ্ঠ গ্রেড বুঝতে চাইলে আপনি যেকোন UNO এর লাইফস্টাইল এবং ৫ম গ্রেডের অবস্থা বুঝতে একজন ডিসির লাইফস্টাইল দেখতে পারেন। তারা প্রটোকল বাদে গাড়ি, বাংলো সুবিধা কাছাকাছিই পান সচরাচর।
এতোকিছুর পরও বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে কেনো কেউ ডিপ্লোমা পোস্টে আসতে চায়? কারন হিসেবে যদি বলি প্রথম কারন অযোগ্যতা। একটা ভার্সিটির সব স্টুডেন্ট পড়ুয়া হয় না। বেশিরভাগ স্টুডেন্ট ভার্সিটিতে চান্স পেয়ে আর পড়াশোনায় আগ্রহী থাকে না। বিভিন্নভাবে টাকা ইনকামের চিন্তা করে আর ভার্সিটি ফেইম নিয়ে নিজেকে হনু মনে করে, কিন্তু যোগ্যতা বা দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করে না। পরবর্তীতে তারা যখন কোথাও সুযোগ পায় না, বছরের পর বছর বেকার থাকে, তখন হিতাহিত জ্ঞান লোপ পায় এবং নিজের আত্মমর্যাদা হারিয়ে নিচের দিকে ধাবিত হয়।
শুরুতে বলেছিলাম, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পুরো কর্মজীবনে অনেকে একটি প্রমোশনের সুযোগও পায় না। তবে কিছু সেক্টরে ৩৩% প্রমোশন কোটা রয়েছে। যা একটি স্লো প্রসেস। তবে রিটায়ারমেন্টের পূর্বে একটা সম্মানসূচক প্রমোশন দেয়া হয়। এই বিষয়টাও ঐসকল অযোগ্য অদক্ষ তথাকথিত জ্ঞানীদের সহ্য হচ্ছে না। তাই তারা ৩৩% ডিপ্লোমা পোস্টে জয়েন করে ভবিষ্যতে নিজেদের সিন্ডিকেট দ্বারা নিয়ম করবে সহকারী প্রকৌশলী পদে বিএসসি এবং পরীক্ষা আবশ্যক, পরবর্তীকালে তারাই ৩৩% সুবিধা নিয়ে শতভাগ সহকারী প্রকৌশলী পদে আসীন হবে। এখন যাও সম্মানসূচক প্রমোশন সিস্টেম আছে, সেটাও বাতিল হয়ে যাবে সিস্টেমেটিক্যালি।
৩৩% কোটার আরেকটি অসুবিধা হবে। ধরুন ১০০ জনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলো। প্রশ্ন বিএসসি স্ট্যান্ডার্ডে করা হলো। তাহলে ৩৩জন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার সহজেই পাওয়া যাবে। কিন্তু ৬৭জনের মধ্যে শুধুমাত্র ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সহজে খুঁজে পাওয়া যাবে না। যাদের পাওয়া যাবে, দেখা যাবে তারা ডিপ্লোমা, বিএসসি উভয় ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এতে পলিটেকনিক সেক্টর পুরোপুরি ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবে। এরকম চলতে থাকলে পলিটেকনিক নামক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় নামক বইতে হয়তো জায়গা পাবে। বই যেখানে লিখা হয়, সেখানেও তো আশাকরি বিএসসি সিন্ডিকেট থাকবে। তাহলে বইয়েও জায়গা হবার সুযোগ রইবে না! সবাই ভুলে যাবে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং নামে কিছু একটা ছিলো।