22/12/2025
একদিন এক লোক ক্ষুধার্ত অবস্থায় হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে এসে খাবার চাইলেন। আল্লাহর রাসূল (সা.) তাঁর স্ত্রীদের ঘরে খবর পাঠালেন, কিন্তু জানা গেল কারো ঘরেই সামান্য পানি ছাড়া খাবার নেই।
তখন রাসূল (সা.) সাহাবীদের উদ্দেশ্য করে বললেন, "আজ রাতে এই মেহমানকে কে খাওয়াবে? আল্লাহ তাকে রহমত করবেন।"
হযরত আবু তালহা (রা.) দাঁড়িয়ে বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমি উনাকে আমার বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি।"
ঘরে ফেরার পর
আবু তালহা (রা.) বাড়ি ফিরে তাঁর স্ত্রীকে বললেন, "আমাদের কাছে কি খাওয়ার কিছু আছে? রাসূল (সা.)-এর মেহমান আমাদের সাথে আছেন।"
স্ত্রী উত্তর দিলেন, "ঘরে কেবল আমাদের বাচ্চাদের জন্য সামান্য কিছু খাবার আছে, এছাড়া আর কিছুই নেই।"
আবু তালহা (রা.) একটি পরিকল্পনা করলেন। তিনি বললেন:
"বাচ্চাদের কোনোভাবে ঘুম পাড়িয়ে দাও।"
"যখন আমরা মেহমানকে নিয়ে খেতে বসব, তুমি বাতিটা ঠিক করার বাহানায় নিভিয়ে দেবে।"
"অন্ধকারে আমরা খাওয়ার ভান করব যাতে মেহমান মনে করেন আমরাও খাচ্ছি, কিন্তু আসলে মেহমান একাই পুরোটা খাবেন।"
ত্যাগের চরম পরীক্ষা
পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হলো। অন্ধকারে মেহমান পেট ভরে খেলেন, কিন্তু আবু তালহা (রা.) এবং তাঁর স্ত্রী সারা রাত ক্ষুধার্ত থাকলেন। তাঁরা নিজেদের খাবারের চেয়ে মেহমানের তৃপ্তিকে বেশি গুরুত্ব দিলেন।
পরদিন সকালে যখন আবু তালহা (রা.) নবীজী (সা.)-এর কাছে গেলেন, তখন নবীজী (সা.) মুচকি হেসে বললেন:
"গত রাতে তোমরা তোমাদের মেহমানের সাথে যা করেছ, তা দেখে আল্লাহ অত্যন্ত খুশি হয়েছেন এবং তোমাদের জন্য আয়াত নাযিল করেছেন।"
তখন সূরা হাশরের ৯ নম্বর আয়াতটি নাযিল হয়,
وَالَّذِينَ تَبَوَّؤُوا الدَّارَ وَالْإِيمَانَ مِن قَبْلِهِمْ يُحِبُّونَ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِمْ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حَاجَةً مِّمَّا أُوتُوا وَيُؤْثِرُونَ عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ ۚ وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (٩)
যার অর্থ:
"আর যারা তাদের (মুহাজিরদের) পূর্বে মদিনায় স্থায়ী আবাস গড়েছিল ও ঈমান গ্রহণ করেছিল, তারা মুহাজিরদের ভালোবাসে এবং মুহাজিরদের যা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে নিজেদের অন্তরে কোনো প্রকার বিদ্বেষ পোষণ করে না। বরং তারা নিজেদের উপর মুহাজিরদের অগ্রাধিকার দেয়, যদিও তাদের নিজেদেরই চরম অভাব থাকে। আর যে ব্যক্তি নিজের আত্মার লোভ থেকে সুরক্ষিত থাকে, সেই তো সফলকাম।"
এই গল্প থেকে আমাদের শিক্ষা:
পরোপকার: নিজের সামর্থ্য কম থাকলেও অন্যকে সাহায্য করার মানসিকতা রাখা।
নিঃস্বার্থ ভ্রাতৃত্ব: সাহাবীরা শুধু মুখে নয়, কাজেও একে অপরকে নিজের জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন।
গোপন ইবাদত: আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য লোকচক্ষুর আড়ালে ত্যাগ স্বীকার করা মহান ইবাদত।
#নামাযের #যাকাত #বই #নামায #ইসলাম #কাহিনী #ইসলামী #ইসলামীবার্তা