17/02/2026
আসলেই জাতী হিসেবে আমরা অকৃতজ্ঞ।
এই ভ'ঙ্গুর জগতে সব সরকার আসে ক্ষমতা নিতে, আর এই ইউনুস সরকার এসেছিল দায় নিতে! ইতিহাস আজ না বুঝুক- কিন্তু- ভবিষ্যতে অস্বীকার করবে না! লিখে রাখেন আপনারা।
৫ই আগস্টের সেই ক্রা'ন্তিলগ্নে দেশ ও জাতির প্রয়োজনে আপনার মতো একজনকে সরকার প্রধান হিসেবে পাওয়া ছিল আমাদের জন্য পরম সৌভাগ্যের বেপার।
নানা প্রতিকূলতা এবং চতুর্মুখী চাপের মাঝেও আপনি আপনার লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন, বিশেষ করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে আপনার দৃঢ়তা আমাদের মুগ্ধ করেছে।
আমাদের মনে আছে, যখন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল, ঠিক তখন আপনি বারবার তাদের এক টেবিলে বসিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন।
মানুষ হিসেবে শতভাগ সাফল্য হয়তো সবসময় সম্ভব নয়, কিন্তু- আপনার চেষ্টার কোনো ত্রুটি ছিল না—সেটা আমরা মন থেকে অনুভব করি।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো কলঙ্কিত ও ট্র্যাজিক অধ্যায় যে জাতিকে দেখতে হয়েছে, সেই জাতির সামনে আপনি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ইতিহাসে আপনার অবদান এবং আপনার নাম পরম শ্রদ্ধার সাথে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
ড. ইউনূস জানেন আগুনে কিভাবে পানি ঢালতে হয়। এবং দীর্ঘ ১৮ মাস রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে বার বার এর প্রমাণ দিয়েছেন।
ড. ইউনূসের ১৮ মাসের সময়ে প্রায় ২ হাজারের বেশি আন্দোলন হয়েছে। তারপরেও তিনি অবিচল থেকে সবকিছু মোকাবেলা করে দেশকে টেনে নিয়ে গেছেন।
কত সুন্দর বাকস্বাধীনতা তিনি সবাইকে দিয়েছিলেন। তার রাজত্ব শেষের সাথে সাথে তিনি বাকস্বাধীনতাও আবার কেড়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
আমরা সুযোগ পেলে উৎফুল্ল হয়ে পড়ি। সঠিক সময়ে আর সঠিক জিনিসটার মূল্যায়ন করতে জানি না। এটাই হলো আমাদের ব্যর্থতা।
তিনি কি করতে পেরেছেন আর কি করতে পারেননি বা কেনো পারেননি এর হিসাব অবশ্যই জনগণ এখন মেলাতে পারবেন।
তিনি এসেছেন, দেশ পরিচালনা করেছেন, তিনি ফিরে যাচ্ছেন। আমার মনে হয় না তার এই জীবনে আর পাওয়ার কিছু অবশিষ্ট আছে। কিন্তু- আমাদের অনেককিছুই পাওয়ার ছিলো এবং আছে।
তবে এটা স্পষ্ট যে, আমাদের শিক্ষা এখনো শেষ হয়নি! আমাদের শিক্ষার জন্য আরো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।
ড. ইউনূস আসলেন, দেখলেন, জয় করলেন, আবার চলেও যাচ্ছেন।
এইযে সুদিইউনূস, ইউনূইচ্ছা, কত সুন্দর করে মনের মাধুরী মিশিয়ে বলে ফেললেন, এমন নির্ভয়ে কোনো সরকার প্রধানকে আগে বলতে পেরেছেন কি? পারেননি। ভবিষ্যতেও পারবেন না। এমন বাকস্বাধীনতা হয়তো আর পাবেন না।
এই দেশের মানুষ ইউনূসকে ভালোবেসেছে। এবং ইউনূসও এই দেশের মানুষকে ভালোবেসেছে। তাই তিনি মানুষকে মুক্তির পথ দেখাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু- তিনি কতিপয় রাজনৈতিক দল, ফ্যাসিবাদি চরিত্র এবং আমলাতান্ত্রিক বাধার কারণে পুরোপুরি পারেননি।
তারপরেও তিনি শেষ বলটা বানিয়ে তুলে দিয়েছেন আপনার আমার হাতে। এখন সিদ্ধান্ত আপনার আমার। যদি আমরা আমাদের মঙ্গল চাই তাহলে সবাই সঠিক নিয়ম মেনে চলি।
ইউনূসের বিরোধী হচ্ছে কায়েমি স্বার্থবাদী গুটিকয়েক ব্যক্তি, লুটেরা দলকানা, আমলাতন্ত্র এবং কিছু সিন্ডিকেট। এর বাইরে ইউনূসের কোন শত্রু নাই। দেশ এবং সাধারণ জনগণের ভালো চাইতে গিয়েই ইউনূস লুটেরাদের শত্রু হয়েছেন। ডানে-বামে তিনি শত্রু নিয়ে প্রতিনিয়ত দেশ ও জনগণের জন্য লড়ে গেছেন।
এই দেশের মানুষ ইউনূসকে ভালোবাসে। ভালোবাসবে। এবং ইউনূসকে আজীবন মনে রাখবে। এই ইউনূস বাংলাদেশে আর হয়তো জন্মাবে কিনা আল্লাহই ভালো জানেন।
ড: মোহাম্মদ ইউনুস দায়িত্ব গ্রহনের সময় বৈদেশিক রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১৫ বিলিয়ন ডলারের নিচে। এখন এই ১৬ মাস পর ৩৪ বিলিয়ন ডলারের উপরে।
আর আপনার জাতীয় সাফল্যের অন্যআন্য বিষয়ের কথা নাই বা বল্লাম। ধন্যবাদ প্রধান উপদেষ্টা আপনি ভাল থাকবেন। আগামী ১০০ বছরে এই দেশে আপনার মত একজন মানুষ আসবে কিনা জানিনা।
আপনি একাই লড়েছেন ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দেশিয় ষড়যন্ত্রকারীদের অসম্ভব সব পরিস্থিতির বিরুদ্ধে। এদেশের ইতিহাসে আপনার নাম চিরদিন লেখা থাকবে সম্মান ও গর্বের সাথে।
আপনি পৃথিবী জয় করেছেন কিন্তু আপনার মত লোক মাফিয়া নিয়ন্ত্রিত এই জাতকে মানুষ করতে পারবেন না। আপনি এই অন্ধ দেশে আয়না বিক্রি করতে এসেছিলেন মাত্র। আল্লাহ আপনাকে হেফাজতে রাখুক।
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের মত, এবার নির্বাচন আয়োজনেও, আপনি শতভাগ সফল। কিন্তু- দেখছেন, পরাজিত দল আপনাকে গালি দিয়ে দোষারোপ করেছে। ইলেকটোরাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। বিজয়ী দল বিজয়ে, তাদের একক কৃতিত্ব দাবি করবে। কেউ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে, আপনার কৃতিত্বকে বিন্দু মাত্র স্মরণ করলোনা। আপনাকে বিন্দু মাত্র ধন্যবাদ দিলোনা। কেউ মনেও রাখবেনা!
বরং ক্ষমতায় গিয়ে দূর্ণীতি করার পর, আপনি আবার বিপদজনক হতে পারেন, এই ভেবে আপনার নাম নিশানা মুছে ফেলবে। আপনি হবেন সুদখোর, আমেরিকার দালাল, ইহুদিবাদের এজেন্ট। মোট কথা দেশ ধ্বংসের প্রধান কুশীলব।
আস্তে আস্তে, আবু সাইদ, মুগ্ধ, আবরার- হাদীদের ক্ষমতাসীন দলের অংশে পরিণত করা হবে, আর জীবিত বীরদের দলে ভিড়াতে না পারলে, মামলা দিয়ে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হবে।
সারা দেশের সকল ব্যাংক, বীমা, এনজিও সুদে চলে; অথচ একমাত্র আপনাকেই সুদখোর উপাধিতে ভূষিত করা হবে। আপনার প্রতিষ্ঠানগুলোও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। অর্থ পাচারকারী, কমিশন খোর, লুটপাটকারী, ঋণখেলাপীদের নমিনেশন দেওয়া মানুষগুলো; আপনাকে সুদখোর বলে আবু লাহাব, আবু জেহেলের সাথে তুলনা করবে।
কিন্তু আমরা আপনাকে ভূলবানা। মনে রাখবেন, ব্রিটিশ অত্যাচারের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা- সোরাওয়ার্দীরা জেগে ছিল। পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে মুজিব-জিয়া। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জেগেছিল আবরার,সাইদ, মুগ্ধ হাদীরা। মনে রাখবেন, যখনই ক্রাকান জাগবে; জেগে উপবে পার্সিয়াস, যখনই হেপেরিওন জাগবে; জেগে উঠবে থিসিয়াস, যতবারই ইয়াজুজ-মাজুজ জেগে উঠবে; ততবারই জেগে উঠবে সিকান্দার জুলকারনাইন/ আলেকজান্ডার, যতবার জেগে উঠবে দজ্জাল; ততবারই বল্লম নিয়ে দাঁড়িয়ে যাবে ইমাম মাহাদী- ইসা আ.।
যতবারই অসৎ-দূর্নীতিবাজেরা আপনাদের মত জাতির সূর্য সন্তানদের নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করবে; ততবারই জেগে উঠ।