24/09/2026
স্ত্রী কাকে বলে জানেন?
শুধু স্বামীর ঘরে থাকা একজন নারীকে স্ত্রী বলা হয় না। স্ত্রী হলো একজন মানুষের জীবনের সঙ্গী, প্রশান্তির ঠিকানা, বিপদের সময়ের আশ্রয় এবং সুখ-দুঃখের সহযাত্রী।
ইসলামের দৃষ্টিতে দাম্পত্য জীবন শুধু একই ছাদের নিচে বসবাসের নাম নয়; বরং ভালোবাসা, দয়া, সম্মান, বিশ্বাস ও পারস্পরিক সহযোগিতার একটি বন্ধন।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً
“আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও; আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া স্থাপন করেছেন।”
— সূরা আর-রূম: ২১
লক্ষ্য করুন—আল্লাহ দাম্পত্য সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে বলেছেন প্রশান্তি, ভালোবাসা ও দয়া।
পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা, সামনে গরম গরম খাবার। তবুও স্ত্রী অপেক্ষা করছে। কারণ তার স্বামী এখনো বাড়ি ফেরেনি।
তার মনে হচ্ছে—মানুষটা সারাদিন পরিশ্রম করে আসবে, আমরা দুজন একসঙ্গে বসে খাব।
এই অপেক্ষার মধ্যে হয়তো কোনো বড় আয়োজন নেই। আছে শুধু ভালোবাসা, মায়া আর যত্ন। আর কখনো কখনো এই ছোট ছোট অনুভূতিই একটি সংসারকে অনেক বড় করে তোলে।
একজন দায়িত্বশীল স্ত্রী স্বামীকে শুধু খাবার বা কাপড় দিয়ে ভালোবাসেন না; তার ক্লান্তি বোঝার চেষ্টা করেন, মন খারাপ দেখলে জিজ্ঞেস করেন—
“তুমি ঠিক আছো তো?”
এক গ্লাস পানি এগিয়ে দেওয়া, একটু হাসিমুখে কথা বলা, বিপদের সময় সাহস দেওয়া—এসব ছোট মনে হলেও দাম্পত্য জীবনে এগুলোর মূল্য অনেক।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ، وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي
“তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই উত্তম, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম। আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।”
— জামে‘ আত-তিরমিজি: ৩৮৯৫
তাই একজন ভালো স্বামীও স্ত্রীর ক্লান্তি বোঝার চেষ্টা করবেন। স্ত্রী সারাদিন ঘর, সন্তান ও সংসার সামলে ক্লান্ত হলে তার কষ্টকে ছোট করবেন না।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ
“তোমরা তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো।”
— সূরা আন-নিসা: ১৯
অর্থাৎ সংসারের শান্তির দায়িত্ব শুধু স্ত্রীর নয়। স্ত্রী যেমন স্বামীর প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও সহযোগিতা করবে, তেমনি স্বামীরও স্ত্রীর প্রতি সদাচরণ, সম্মান, নিরাপত্তা ও কোমলতা প্রদর্শন করা দায়িত্ব।
একজন দায়িত্বশীল স্ত্রী স্বামীর ভুল দেখলে তাকে মানুষের সামনে অপমান না করে সুন্দরভাবে বোঝাতে পারেন। স্বামীর দুর্বলতাকে অন্যের কাছে প্রকাশ না করে সংশোধনের সুযোগ দিতে পারেন।
আবার স্বামীরও উচিত স্ত্রীর ভালোবাসা ও ধৈর্যকে দুর্বলতা মনে না করা। কারণ স্ত্রীও একজন মানুষ—তারও মন খারাপ হয়, তারও ক্লান্তি আসে, তারও ভালোবাসা ও মূল্যায়ন প্রয়োজন।
রাসুলুল্লাহ ﷺ আরও বলেছেন—
اسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا
“তোমরা নারীদের ব্যাপারে কল্যাণের উপদেশ গ্রহণ করো।”
— সহিহ বুখারি: ৫১৮৬; সহিহ মুসলিম: ১৪৬৮
তাই দাম্পত্য জীবন কোনো প্রতিযোগিতা নয়—কে বেশি করল, কে কম করল তার হিসাব নয়।
বরং সুন্দর সংসারের মানসিকতা হলো—
“আমি তোমার জন্য কী করতে পারি?”
স্ত্রী স্বামীর জন্য প্রশান্তির কারণ হবে, স্বামীও স্ত্রীর জন্য নিরাপত্তা ও প্রশান্তির কারণ হবে। দুজনেই একে অপরের দুর্বলতা ঢেকে রাখবে, ভুল হলে সুন্দরভাবে সংশোধন করবে, কষ্টের সময় পাশে দাঁড়াবে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একসঙ্গে জীবন কাটাবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ
“তারা তোমাদের জন্য পোশাকস্বরূপ এবং তোমরাও তাদের জন্য পোশাকস্বরূপ।”
— সূরা আল-বাকারা: ১৮৭
পোশাক যেমন মানুষকে ঢেকে রাখে, রক্ষা করে এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে—তেমনি একজন মুমিন স্বামী-স্ত্রী একে অপরের দোষ-ত্রুটি আড়াল করবে, একে অপরকে নিরাপত্তা দেবে এবং ভালোবাসা দিয়ে জীবনকে সুন্দর করবে।
সত্যিকারের সুন্দর সংসার সেখানে, যেখানে দুজনেই শুধু ভালোবাসা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকে না—বরং ভালোবাসা দেওয়ার চেষ্টা করে।
আল্লাহ আমাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে ভালোবাসা, রহমত, সম্মান ও তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত করুন এবং প্রতিটি মুসলিম পরিবারে শান্তি ও বরকত দান করুন। আমিন।
আপনি যে ধৈর্য ধারণ করে এতটা পড়েছেন সেজন্য আপনাকে মোবারকবাদ।
#ইসলামিক_জীবন #দাম্পত্য_জীবন #স্বামী_স্ত্রী #ইসলামিক_পোস্ট #পরিবারের