06/05/2024
ছলনাকারীর ছলনা বুঝা, সাইকোলজি বিষয়ের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন একটি বিষয়।
বিষাক্ত সাপের ছলনা বুঝতে যতটা না সময় লাগবে, কিন্তু তারপরও ছলনাকারীকে চেনা যায় না।
কারণ মানুষ হাতে হাত রেখে ছলনা করে,
বুকে জড়িয়ে ধরে ছলনা করে, চোখে চোখ রেখে ছলনা করে, নিজের ইচ্ছায় শরীর বিলিয়ে দিয়ে ছলনা করে, অগণিতবার ভালোবাসি বলে ছলনা করে, কথায় কথায় ছেড়ে যাবো না কথা দিয়েও ছলনা করে!
এই মানুষ গুলো বাইরেরটা দেখতে খুবই সাধাসিধে ক্যাটাগরি টাইপের। কিন্তু উপরে দেখতে সাধাসিধে মনে হলেও আসলে তারা ভেতর থেকে অন্যের মন নিয়ে ছলনা করার যেন জাত অভিনেতা।
তাদের উপরের ইনোসেন্ট আবরণটার জন্য বুঝা মুশকিল যে একটা মানুষ এতোটা ছলনা করতে পারে!
এরা একজনকে এই মুহুর্তে ভালোবাসি বলতে বলতে আরেকজনকে নিয়ে ভাবনায় চলে যায়। একজনের সাথে এখন ভালোবাসা দেখিয়ে, একটু পরে আবার অন্যজনকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে, পর্যটনে ঘুড়ে বেরাতে যায়। একজনের সাথে রাত্রি যাপন করে সকালে অন্যজনকে নিয়ে রুম ডেইটে যায়। তাদের এসব নিখুঁত ছলনা নিজের চোখে দেখার পরও নিজের চোখকেই বিশ্বাস করা যায় না। তখন নিজের বিশ্বাসকে যেন ঘনকুয়াশার মতো ঝাপসা লাগে, তবে মেনে নিতে না চাইলেও এটাই সত্যি।
আর যখন এসব নিয়ে তার সাথে কথা বলতে গেলে, তখন নিজেই সব থেকে বেশি খারাপ ব্যক্তি! এরা নিজ থেকে ঝগড়া সিচুয়েশন ক্রিয়েট করতে প্রস্তুত থাকে। কারণ একজনের সাথে ঝগড়া হলে তাদের আরো অন্য অপশন থাকে মন ভালো করার জন্য।
ছলনাকারীর সবকিছু ছলনা যেনে শুনে মেনে নিয়ে ঠিক করতে চাইলেও কোন কিছুই আর আগের মতো ঠিক হয় না। গ্রামের লোক মুখে এখনো একটা কথা প্রচলিত আছে, যতোই ঘী দিয়ে ডলো কুত্তার লেজ কখনো সোজা হয় না।
ঠিক সেটাই, নিজ থেকে সব ঠিক করে নিতে চাইলেও কোন কিছুই আর ঠিক হয় না।
তারপর একটা সময় পর শত অজুহাত দিয়ে একজনের সাথে ছলনার অভিনয় সমাপ্ত করে, আবার নতুন কোন ঠিকানায় অভিনয়ে ব্যস্ত থাকে!
কে ভালো থাকলো, কে আঘাত পেলো এদের এসব নিয়ে চিন্তা করার মেন্টালিটি কাজ করে না। সত্যটা হচ্ছে দিন শেষে নিজের ভালো নিজেকেই রাখতে হয়। কারো উপর নির্ভর হয়ে থাকলে শুধু জ্বলে পুড়ে ছারখার হতে হয়।
নিজেকে নিজে ভালো রাখার ক্যারিশমাটা একবার অর্জন করতে পারলে তারপর একটা পর্যায়ে ঠিকই ভালো থাকা সম্ভব।
কিন্তু এটা সত্য যে, একবার ছলনার শিকার হলে তাহলে আগের মতো আর কাউকে বিশ্বাস করা যায় না। আস্থা রাখাতো দূরের কথা। বিশ্বাসটা তো একেবারই মরে যায়।
সুতরাং ছলনার শিকার হলে নিজেকে ডিএক্টিভেটেড করে না রেখে, সবচেয়ে উত্তম কাজ হলো নিজেকে নতুন করে সাজিয়ে তোলা। কারণ একটা ড্রেসে সবসময় যেমনি নিজেকে স্মার্ট দেখায় না, ঠিক নিজের ব্যবহার্য পুরোনো জিনিস নিয়ে পড়ে না থেকে নিজেকে আপডেট ড্রেস দিয়ে ফিট করা। বরং নিজের ব্যবহার করা জিনিস ফিট নাহলে তা অসহায়কে দান দেওয়া শ্রেয়। অযথা রেখে লাভ নেই।