Esh*ta Islam -ইশিতা ইসলাম

Esh*ta Islam -ইশিতা ইসলাম ~" কল্পনার কল্পলোকের কল্পিত কথা "~
~" কলমে লিখা "~
(2)

24/08/2025

#প্সয়লার_ভিডিও
#প্রণয়ে_প্রেমের_আগুন
যারা আমাকে এত্ত এত্ত ভালোবাসা দিয়েছো ও এতো সুন্দর সুন্দর মন্তব্য করে পাশে থেকেছো তাদের দিকে তাকিয়ে আর রাগ করে থাকতে পারলাম কই? যাই হোক সবাই এভাবেই সাপোর্ট করে পাশে থেকো রাতে পর্ব আসবে ইনশাআল্লাহ।

যারা আমাকে বলতেছো যারা গল্প পড়ে সকলেই রিয়েক্ট দাও তাহলে দেখো। আচ্ছা এই ৫২ হাজার মানুষ সবাই নাহয় গল্প পড়ে না ধরেই নিলাম ক...
23/08/2025

যারা আমাকে বলতেছো যারা গল্প পড়ে সকলেই রিয়েক্ট দাও তাহলে দেখো। আচ্ছা এই ৫২ হাজার মানুষ সবাই নাহয় গল্প পড়ে না ধরেই নিলাম কিন্তু এর মধ্যে অন্তত পাচ হাজার মানুষ যদি গল্প পড়ে থাকে তাহলেও তো অন্তত এক হাজার রিয়েক্ট আসার কথা। যাই হোক যারা বোঝার তারা বুঝবে। কে যেনো বলে কষ্টের ফল মিঠা হয় সব ভুয়া কথা আমার টা সব সময় তেঁতোই হয়! 🙂

23/08/2025

#প্রণয়ে_প্রেমের_আগুন গল্পের পাঠক মহল অনেকেই নেক্সট পার্ট এর জন্য
অনেক কমেন্ট করছো বা ইনবক্সে নক দিচ্ছো কিন্তু এতো কিছু করেও গল্প পাচ্ছো না
কারণ টা কারো অজানা নয় আশা করি গত পর্ব যারা মনযোগসহকারে পরেছো তারা জানো।
তাই আর দ্বিতীয় বার বলতে চাই না যারা গল্প পরে চলে গেছো রিয়েক্ট দাও নি তারা দ্রুত রিয়েক্ট
দিয়ে এসো আর নয়তো পরের পর্বের অপেক্ষায় থেকো না।

22/08/2025

ভিডিও ক্রেডিট " সুমাইয়া " Thank you আপুনি। #প্রণয়ে_প্রেমের_আগুন

21/08/2025

তোমাদের কি মনে আছে নাকি ভুলে গেছো..?যাই হোক তোমাদের মনে করিয়ে দেওয়াই আমার কাজ। 🙂

 #প্রণয়ে_প্রেমের_আগুন  #লেখনিতে_ইশিতা_ইসলাম  #পর্বঃ  ৮ আনহার ভেতরে আগে থেকেই এক  নিশ্চিতি কাজ করছিল,  বিকেলে আদ্রিয়ান বা...
17/08/2025

#প্রণয়ে_প্রেমের_আগুন
#লেখনিতে_ইশিতা_ইসলাম
#পর্বঃ ৮

আনহার ভেতরে আগে থেকেই এক নিশ্চিতি কাজ করছিল, বিকেলে আদ্রিয়ান বাসায় থাকবে না। ঠিক তাই হলো। চারপাশ নীরব, তার উপস্থিতির কোনো ছায়াও নেই। ফিরবে কবে,সেটারও নিশ্চয়তা নেই।

আনহা ধীর হাতে টুকিটাকি গুছিয়ে নিলো। নিজের প্রয়োজনের বাইরে কোনো কিছু লাগেজে রাখল না। এই ঘরে থাকা প্রতিটি জিনিস, প্রতিটি পোশাক,সবই তো আদ্রিয়ানের কিনে দেওয়া। আর তার নিজের জিনিসপত্র… সেগুলো পড়ে আছে রাদিফের বাসায়। সেগুলোর আর দরকার নেই,শুধু একটাই ব্যতিক্রম, দেশের বুক থেকে বয়ে আনা প্রিয় বইগুলো। সেগুলোও ওই বাসাতেই বন্দি। বুকের ভেতর কেমন এক টান মুচড়ে উঠলো,আদ্রিয়ান তো পাঁচ মিনিটের জন্যও সেই গেইট একবার খুলতে দেয়নি।

গভীর নিশ্বাস ফেললো আনহা। সব কিছু গুছিয়ে লাগেজ হাতে নিলো। দরজার দিকে পা বাড়াতেই থমকে দাঁড়ালো। শেষবারের মতো ঘরটার দিকে তাকালো,এক নিঃশ্বাসে পুরোটা চোখে বুলিয়ে নিলো। কত স্মৃতি, কত অদেখা ব্যথা এই চার দেয়ালে আটকে আছে।

অবশেষে দরজাটা চেপে বন্ধ করে বেরিয়ে এলো। গেইটের কাছে পৌঁছে দূরে নজর পড়লো,আকাশ দাঁড়িয়ে আছে, গাড়ির দরজা সামান্য খোলা, মুখে গাম্ভীর্য।

~" মিটিংয়ের টেবিলে বসে ফাইলের পাতায় চোখ বোলাচ্ছিল আদ্রিয়ান। হঠাৎ ফোনের পর্দায় ভেসে উঠলো এক নীরব কম্পন,একটি নোটিফিকেশন। অন্যমনস্ক ভঙ্গিতে স্ক্রিনের দিকে তাকাতেই বুকের ভেতর এক ঠাণ্ডা শিরশিরানি ছড়িয়ে পড়লো।বাড়ির সিসি ক্যামেরা সরাসরি কানেক্টেড তার ফোনে। সেখানে স্পষ্ট দেখা গেল,আনহা, ধীরে ধীরে গেইটের দিকে হাঁটছে, হাতে লাগেজ। কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়ির দিকে এগিয়ে গিয়ে ভেতরে বসে পড়লো সে।

আদ্রিয়ানের চোখ সেই মুহূর্তেই গাঢ় হয়ে উঠলো,কিন্তু গাড়ির ভেতরে বসা ছেলেটার মুখ স্পষ্ট ধরা পড়লো না।

মিটিংয়ের মাঝপথে থাকা কাগজপত্র, মানুষের কণ্ঠস্বর, সবকিছু হঠাৎ অস্পষ্ট হয়ে গেল। এক মুহূর্তও দেরি না করে চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়ালো সে। গলায় চাপা স্বর,

—"তুষার, গাড়ি বের করো। এখনই।"

দু’জন দ্রুত বেরিয়ে এলো। গাড়ি ছুটে চলতে শুরু করলো, কিন্তু আদ্রিয়ানের ভেতরে তখনো অদ্ভুত এক ঝড় বয়ে যাচ্ছে।

আনহা কার সাথে গেলো? কোথায় গেলো?
প্রশ্নগুলো মস্তিষ্কে কিল মেরে উঠছিল।

আদ্রিয়ান জানে, তার শত্রুর সংখ্যা কম নয়। ব্যবসা আর ক্ষমতার খেলায় অজস্র মানুষ তার পতন চায়। এতদিন পাত্তা দেয়নি,নিজেকে সামলাতে সে জানে। কিন্তু আনহা… তাকে নিয়ে সে এতটুকু ঝুঁকি নিতে পারবে না।
আর এই হঠাৎ বাসা থেকে বেরিয়ে অপরিচিত গাড়িতে ওঠা,এর মানে কী?

গাড়ির লাইসেন্স প্লেটের শেষ কিছু সংখ্যা স্ক্রিনে ধরা পড়েছিল,আদ্রিয়ান মনে গেঁথে নিলো। তবু ফোনে দ্রুত আনহার লোকেশন ট্র্যাক করলো সে।
ফলাফল দেখে ঠোঁট শক্ত হয়ে এলো,লোকেশন এখনো তার নিজের বাসাতেই দেখাচ্ছে।

তখনই বুঝে গেলো,আনহা ফোনটা ইচ্ছে করেই বাসায় ফেলে গেছে।

তারপরেও মনে একটাই প্রশ্ন—কোথায় গেলো সে? আর কেন…?

আদ্রিয়ানের চোখে তখন এক অদ্ভুত মিশ্র রাগ ,উত্তেজনা, দুশ্চিন্তা, আর হালকা এক ভয়, যা কেবলই আনহার জন্য।

~ " ফোনের স্ক্রিনে ভেসে ওঠা গাড়ির নাম্বারটা যেন মুহূর্তেই গোটা শহরের ভেতর এক অদৃশ্য কমান্ড ছড়িয়ে দিলো।আদ্রিয়ানের এক শব্দ "খুঁজে বের করো" আর তাতেই সক্রিয় হয়ে উঠলো তার ছায়া সাম্রাজ্য।

মুহূর্তের মধ্যে চারপাশে খোঁজ শুরু হলো।
শহরের প্রতিটি রাস্তা, গলিপথ, হাইওয়ে,তার মানুষজন ছড়িয়ে পড়লো।
বত্রিশটি কালো সেডান, চল্লিশটি সাদা SUV, আটাশটি হলুদ ট্যাক্সি, ত্রিশটি লাল স্পোর্টস কার,সবগুলোর চাকা একসাথে ঘুরে উঠলো।

আকাশে উঠলো দশটি হেলিকপ্টার, সার্চলাইটে রাতকে কেটে ফেলার মতো তীক্ষ্ণ আলো ঝরে পড়ছে নীচে।চারটি পুলিশ ইউনিট, ট্যাকটিক্যাল গিয়ার পরে, তার নির্দেশে কাজ শুরু করে দিলো।

এতেই শেষ নয়,ড্রোনের ঝাঁক আকাশে উঠলো, 4K ক্যামেরায় প্রতিটি গলিপথের ছবি আদ্রিয়ানের অপারেশন সেন্টারে পাঠাচ্ছে।
প্রাইভেট স্যাটেলাইট ফিড পর্যন্ত সক্রিয় হলো,এমন প্রযুক্তি খুব কম মানুষের হাতেই আছে।চারটি পুলিশ ইউনিট, ট্যাকটিক্যাল গিয়ার পরে, তার নির্দেশে কাজ শুরু করে দিলো।

আর এই বিশাল আয়োজনের কেন্দ্রে,আদ্রিয়ান নিজে, কালো Bugatti La Voiture Noire-এর স্টিয়ারিংয়ে।ব্ল্যাক শিরন নয়,আজ সে নামিয়েছে তার সবচেয়ে দুর্লভ গাড়িটা। হাইওয়েতে কালো তীরের মতো ছুটে চলেছে, ইঞ্জিনের গর্জন যেন পুরো শহরকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে।

হেডসেটে ক্রমাগত রিপোর্ট আসছে,
—"স্যার, গাড়িটা শেষবার এয়ারপোর্টের আশেপাশে দেখা গেছে।"
—"স্যার, আমরা টার্মিনাল থ্রির পার্কিং চেক করছি।"
—"স্যার, ড্রোন ফিডে লাল ছাদওয়ালা একটি গাড়ি পাওয়া গেছে, নাম্বার মিলছে আংশিক।"

আদ্রিয়ানের চোখে তখন কেবল একটিই লক্ষ্য,গাড়িটা খুঁজে বের করা, আর আনহাকে ফেরানো।
গতির সাথে লড়ছে তার ধৈর্য, কিন্তু মস্তিষ্ক শীতল,প্রতিটি পদক্ষেপ হিসাব কষে এগোচ্ছে।

~" আকাশ বা আনহা,কেউই জানে না, তাদের খোঁজে ইতিমধ্যেই পুরো কানাডা এক অদৃশ্য কম্পনে কেঁপে উঠেছে। আকাশের গাড়ি নীরবে হাইওয়ে পেরিয়ে এয়ারপোর্টের গেটের দিকে এগোচ্ছে, চারপাশের আলো ক্রমে সন্ধ্যার গভীরে মিশে যাচ্ছে।

সন্ধ্যা ছুঁইছুঁই সময়, এয়ারপোর্টের বিশাল কাচের দেয়ালে প্রতিফলিত হচ্ছে অস্তগামী সূর্যের শেষ রঙিন আভা। গাড়ির ইঞ্জিন থামতেই আনহার বুকের ভেতর কেমন এক অদ্ভুত হালকা শ্বাসের ঢেউ,“আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা… তারপর এই শহর, এই শ্বাসরুদ্ধ করা ঠিকানা থেকে আমার মুক্তি।”

কিন্তু আনহা বুঝতে ও পারলো না, আদ্রিয়ান আলভি কেলিসের হাত থেকে মুক্তি, সত্যিই কি এত সহজ?যে মানুষ এক মুহূর্তে আকাশ, মাটি আর সমুদ্রকে তার শিকারে পরিণত করতে পারে, যার নির্দেশে হেলিকপ্টার উঠে যায় আকাশে, রাস্তায় নামে সশস্ত্র দল, আর প্রতিটি গলিপথে ছড়িয়ে পড়ে তার চোখ,তার হাত থেকে পালানো কি কেবল ফ্লাইটের একটি টিকিটের দূরত্ব?

~" এয়ারপোর্টের কাছাকাছি পৌঁছাতেই আদ্রিয়ানের গাড়ির গর্জন আরও তীব্র হলো। সামনে রাস্তায় হেলিকপ্টারের সার্চলাইট পড়ছে, পুলিশের সাইরেন ভেসে আসছে দূর থেকে। এয়ারপোর্টের গেটের সামনে ইতিমধ্যেই তার লোকেরা পজিশন নিয়ে দাঁড়িয়ে,কালো স্যুট, ইয়ারপিসে ক্রমাগত কোডওয়ার্ড বিনিময়।

হেলিকপ্টারের ককপিট থেকে খবর এলো,
—“টার্গেট কার টার্মিনাল থ্রি এর পার্কিং জোনে ঢুকেছে।”

আদ্রিয়ানের ভ্রু সামান্য কুঁচকে গেলো। গাড়ির ব্রেক কষে থামিয়ে হেডসেটে বললো,
—“লকডাউন করো পুরো পার্কিং জোন। কেউ ঢুকবে না, কেউ বেরোবে না।”

সাথে সাথেই চারপাশে নড়ে উঠলো তার মেশিন,পুলিশ ভ্যান, কালো SUV আর আর্মড গার্ড চারদিক ঘিরে ফেললো । ড্রোনগুলো নিচে নেমে পার্কিংয়ের প্রতিটি কোণ স্ক্যান করতে লাগলো।

আদ্রিয়ান গাড়ি থেকে নেমে এক হাতে কোটের বোতাম খুলে ছুড়ে ফেলে দিয়ে এগিয়ে গেলো। তার পদক্ষেপে এক ধরনের ভয়ানক স্থিরতা,যেন পুরো জায়গাটা তার ব্যক্তিগত এলাকা।

এয়ারপোর্ট অথরিটির এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এগিয়ে এসে একটু ভীত গলায় বললো,

“মি. কেলিস… এটা ইন্টারন্যাশনাল জোন… এত সিকিউরিটি—”
আদ্রিয়ানের কণ্ঠে কেবল বরফ,

“আমার মানুষকে খুঁজে পেতে যতটা সময় লাগবে, ততক্ষণ এই জায়গা আমার। কোনো আপত্তি?”

কর্মকর্তা একটিও শব্দ উচ্চারণ করতে পারলো না।

এরই মাঝে তুষার রিপোর্ট দিলো,
“স্যার, গাড়িটা পাওয়া গেছে।

আদ্রিয়ানের ঠোঁটের কোণে এক ঠাণ্ডা হাসি ফুটলো।

~" আদ্রিয়ান দ্রুত এগিয়ে গেলো নিদিষ্ট গাড়িটির দিকে। চারপাশে পনেরোটা গাড়ি যেন এক অদৃশ্য বর্গাকারে ঘিরে ফেলেছে তাকে। এই গোলের মাঝখানে এসে দাঁড়াতেই গার্ডরা চুপচাপ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে গেল।

ব্যাকসিটের দরজা খুলতেই আদ্রিয়ানের চোখ পড়লো,আনহা, গুটিশুটি হয়ে বসে আছে। এত মানুষ, এত গাড়ি দেখে মনে হচ্ছিল ভয়ে কেঁপে উঠেছে সে। কিন্তু আদ্রিয়ানের তীক্ষ্ণ নজর একটুও শিথিল হলো না।

হাতের দিকে তাকাল,পাসপোর্ট আর টিকিট। মুহূর্তেই চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো, হৃৎস্পন্দন বেড়ে গেল। বুঝতে পারলো,কিছু একটা ঠিক হয়নি। রাগে তার চোখ আগুনের মতো জ্বলে উঠলো।

মুহূর্তের মধ্যে হিংস্র বাঘের মতো গর্জন করে সে আনহার হাত ধরে টেনে বাইরে নিয়ে এলো। আনহার মুখ চেপে ধরে বললো,
“তোর এতো বড় সাহস, আমার সঙ্গে ছলনা করিস হ্যাঁ, ফাকি*ং জার্ক!”

আনহার বুক কাঁপছে, চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরে পড়ছে। মনে হলো, এবার সত্যিই গাল ফেটে রক্ত বের হবে। ব্যথা, ভয়, এবং অসহায়তা, সব মিলিয়ে সে মুহূর্ত যেন স্থির হয়ে গেছে।

ঠিক তখনই আকাশ গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ালো। দৃঢ় গলার স্বরে বললো,

“ওকে ছেড়ে দিন বলছি।”

আদ্রিয়ানের চোখ আচমকাই আকাশের দিকে পড়লো। মুহূর্তে চিনে নিলো। সঙ্গে সঙ্গে আকাশের কলার ধরে ধরলো,

“বাস্টার্ড! তোর সাহস কি করে হলো আমার বাড়ির সামনে থেকে ওকে নিয়ে আসলি? তোর কি জানের মায়া নেই, কুত্ত****র বাচ্চা!”

আকাশ ঠাণ্ডা, কিন্তু দৃঢ় হাসি দিয়ে বললো,
“তোর মতো মানুষকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। জন্মেছি, মরতে হবেই একদিন,এটাই জীবন।”

আদ্রিয়ানের আঙুলগুলো আরো শক্ত করে আঁকড়ে ধরল আকাশের কলার। ঠান্ডা, শীতল চোখে তাকিয়ে সে যেন বিষ ছুঁড়ে দিলো কথার আঘাতে,

“সিংহের গুহা থেকে শিকার ছিনিয়ে আনার পরিণতি কেমন হয়, আজ তোকে আমি বুঝিয়ে দেবো… জানো**য়ারের বাচ্চা!”

আকাশের ঠোঁটে কোনো ভয়ের ছাপ নেই। তার কণ্ঠ রইলো অস্বাভাবিকভাবে শান্ত, যেন ঝড়ের ভেতরেও অবিচল সমুদ্র,

“কুকুর যতই ঘেউ ঘেউ করুক, তাতে সিংহ হয়ে যায় না।”

কথাগুলো বাতাস কেটে বেরিয়ে এলো, ছুরির ধার মতো ঠান্ডা আর স্পষ্ট। মুহূর্তেই চারপাশের উত্তেজনা জমাট বাঁধা বরফের মতো ভারী হয়ে উঠলো।

~" মুহুর্তের মধ্যে আদ্রিয়ানের রাগ যেন আগুনের চাপে গলে যাওয়া ধাতুর মতো বেড়ে গেল। তার চোখ লালচে, ভীতিকর, আর বাতাসে যেন একটি স্থির শীতল চাপ পড়ে গেল। আনহা ভয়ে কম্পমান, শরীরটা অবশ। আকাশের দিকে আদ্রিয়ান হাত বার করে ঘুষি দিতে চলল, কিন্তু ঠিক তখনই আনহার অশ্রুসিক্ত চোখগুলো তার দিকে ভেসে উঠল।

—"প্লিজ… আকাশ ভাইকে মারবেন না," কণ্ঠস্বর কেঁপে উঠল, যেন ভয়ে কণ্ঠ ভেঙে যাচ্ছে। "ওর কোনো দোষ নেই। সব দোষ আমার। আমি দেশে যেতে পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। আকাশ ভাই শুধু আমার সাহায্য করেছেন। আমি আর এমন টা করবো না, আপনার সব কথা শুনব, আপনি যা বলবেন তাই করব… কিন্তু ওকে ছেড়ে দিন। ও কিছু জানে না।"

আনহার কণ্ঠে ভীতির মধ্যে এক অদ্ভুত দৃঢ়তা ছিল যেমন নিজের জীবন না হলেও আকাশের জীবন বাঁচানোর জন্য নিজের সমস্ত সাহস একসাথে জোগাড় করেছে।

আদ্রিয়ানের হাত ধীরে ধীরে নেমে এল। তার চোখ এখন কেবল কৌতূহল আর কঠোরতা।
—"আমার সব কথা শুনবে?"
আনহা মাথা হালকা নাড়াল, আর মনে মনে কাঁপছিল, কিন্তু মুখে কোনো দ্বিধা রাখল না।
—"আমি যা বলব, তাই করবে।" উপর নিচ মাথা নাড়ালো আনহা, আদ্রিয়ানের চোয়াল শক্ত, চোখে অদ্ভুত ঠাণ্ডা,রাগ এখন শুধু চোখের ঝলকানি, হাতে নয়।

~" হাত সরিয়ে নিলো আদ্রিয়ান, লোকজন চমকে গেল। কিন্তু আকাশ জানত,আনহার হৃদয় এখনও আতঙ্কে ভরা। সে ধীরে এগিয়ে গেল, কণ্ঠে কণ্ঠস্বরের গভীর, স্থির অনুরোধ,

"প্লিজ, আনহা… ওকে ভয় পেয়েও কিছু হবে না। তুমি ওর সাথে যেও না।"

~" আনহা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। কাঁধে যেন অদৃশ্য এক ভার চাপা, শরীরের ভেতর কাঁপুনি ছড়িয়ে পড়ছে। চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রু অস্পষ্ট করে দিচ্ছিল চারপাশ। তার ভেতরের স্বর জানত,আদ্রিয়ানের কথা অমান্য করা মানে আকাশের জীবনকে সরাসরি বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া। যেখানে আকাশের কোনো দোষই নেই… আজ যদি তার সঙ্গে আনহার পরিচয় না হতো, আকাশকে কখনো এমন বিপদের আঁধারে নামতে হতো না।

নিজেকেই দোষারোপ করছিল সে,নীরবে, গভীরে, এক অদৃশ্য যন্ত্রণার মধ্যে। তার প্রতিটি শ্বাসে অনুশোচনার তিক্ততা, প্রতিটি হৃদস্পন্দনে অপরাধবোধ। সে চায় না তার জন্য আকাশের বিপদ আর বাড়ুক।

আকাশ বারবার চেষ্টা করল,তার কণ্ঠে অনুনয়, কখনো রাগ, কখনো অসহায়তা,কিন্তু আনহা মাথা তোলে তাকালই না। যেন চোখ মেললেই তার সিদ্ধান্ত দুর্বল হয়ে যাবে।

আদ্রিয়ান ঠান্ডা দৃষ্টিতে সব দেখছিলেন। একসময় ধীর, ভারী কণ্ঠে আকাশের দিকে তাকিয়ে নিজের লোকজনকে হুকুম দিলেন,

"ওকে যেতে দাও… তবে ছেড়ে দিও না। নজরে রেখো। পরে কাজে লাগতে পারে।"

শব্দগুলো যেন ছুরি দিয়ে কেটে দেওয়া বাতাসের মতো নেমে এল। চারপাশের পরিবেশ হঠাৎ আরও নিস্তব্ধ, আরও ভারী হয়ে উঠল। আকাশের চোখে ক্ষোভের ঝলক, আর আনহার ভেতরে অদ্ভুত এক শীতল ভয় জমে গেল।

~" এগিয়ে এসে আদ্রিয়ান হঠাৎ ঝট করে আনহাকে কোলে তুলে নিল। এত দ্রুত, আর ঠিক এতটা দৃঢ়,যেন পৃথিবীর আর কিছুই তার হাত থেকে তাকে ছিনিয়ে নিতে পারবে না। আনহার শরীর কেঁপে উঠল, ঠোঁট কাঁপল, কিন্তু গলা থেকে কোনো শব্দ বের হলো না। চোখ শুধু বড় হয়ে রইল, ভেতরে জমাট বাঁধা ভয় আর অজানা অনুভূতির মিশ্রনে।

তুষার ইতিমধ্যেই দরজা খুলে দাঁড়িয়ে আছে। আদ্রিয়ান তাকে পাশ কাটিয়ে গাড়ির ভেতর আনহাকে বসিয়ে নিল। নিজেও উঠে বসলেন, মুহূর্তের মধ্যেই ইঞ্জিন গর্জে উঠল, তুষার ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়িকে দ্রুত এগিয়ে নিল।

আদ্রিয়ানের লোকজন একে একে সরে গেল, এয়ারপোর্টের চারপাশে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক চলাচল ফিরতে লাগল। কিন্তু সেই ভিড়ের মধ্যে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল আকাশ,চোখে অদ্ভুত কাতরতা, বুকের গভীরে এক অব্যক্ত জ্বালা। আনহার জন্য তার ভালোবাসা এত গভীর, এত প্রবল যে সে জানে,প্রয়োজনে মৃত্যুকেও আলিঙ্গন করবে, কিন্তু হারাবে না।

আকাশ ধপ করে বসে পড়ল নিকটবর্তী এক বেঞ্চে, যেন শরীরের সমস্ত শক্তি নিঃশেষ হয়ে গেছে। দুই কনুই হাঁটুর ওপর রেখে মাথা নিচু করে ফিসফিস করে বলল,
—"আমি তোমাকে ভালোবাসি আনহা… খুব ভালোবাসি। এই একজীবনে তোমাকেই মনে ধরেছে তোমাকে চাই… যেভাবেই হোক তোমাকে চাই।"

~" তুষার ধীরে ব্রেক কষে গাড়ি থামালো রেজিস্ট্রার অফিসের সামনে। জায়গাটা যেন আগেই নির্ধারিত ছিল। সেখানেই অভ্র অপেক্ষা করছিলো, মুখে অস্বস্তির ছাপ। গাড়ির দরজা খোলার শব্দ হতেই আদ্রিয়ান নেমে দাঁড়ালো, ভারী পদক্ষেপে এগিয়ে এলো অভ্র।

অভ্র একবার আড়চোখে তাকালো গাড়ির ভেতর। ভিতরে গুটিসুটি মেরে বসে আছে আনহা। চোখ দুটো লালচে ও ফোলা, যেন বহুক্ষণ কান্নার ভার বইতে হয়েছে। এখনো কাঁদছে না, শুধু স্তব্ধ হয়ে বসে আছে,কোনো প্রতিরোধ নেই, শুধু এক গভীর নিস্তব্ধতা।

অভ্র দৃষ্টি ফিরিয়ে আনলো আদ্রিয়ানের দিকে। কণ্ঠে অস্বস্তি মিশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলো,

"আনহা রাজি…?"

আদ্রিয়ানের চোখে একরাশ গাম্ভীর্য, স্বর নিস্তেজ অথচ দৃঢ়,

"সব হবে। তোকে যা করতে বলেছিলাম, সব ব্যবস্থা হয়েছে?"

অভ্র ধীরে মাথা নাড়লো সম্মতির ইঙ্গিত দিয়ে। তারপর নিশ্বাস ফেলে থমথমে স্বরে বললো,

—"শোন আদ্রিয়ান, এতদিন তোকে চিনি। জীবনে কোনোদিন কোনো মেয়েকে নিয়ে তোকে এভাবে আগ্রহী হতে দেখিনি। আজ বন্ধুত্বের খাতিরে পাশে দাঁড়ালাম ঠিকই, কিন্তু... মেয়েটার সাথে অবিচার করিস না।"

কথাগুলো বাতাসে ঝুলে রইলো। এক মুহূর্তের জন্যও যেন আদ্রিয়ানের গম্ভীর মুখে কোনো রেখাচিত্র আঁকলো না বন্ধুর এই সতর্কতা। ঠাণ্ডা স্বরে শুধু বললো,

"কাজি রেডি?"

অভ্রর নিঃশ্বাস আটকে এলো। তারপর মাথা নিচু করে মৃদু গলায় উত্তর দিলো,

"হ্যাঁ, রেডি।"

~' এই এরিয়াতে একজনই বাঙালি কাজি সে আবার অন্য জায়গায় বিয়ে পরাচ্ছিল সেখান থেকেই ছেলেরা তাকে তুলে এনেছে, অভ্রর কণ্ঠ থেমে যেতেই আদ্রিয়ানের চোখ স্থির হলো গাড়ির দিকে। একবার গভীরভাবে তাকাল, তারপর দরজা খানিকটা ঝুঁকে খুলে বললো,

"নেমে এসো।"

আনহার চোখে বিস্ময়ের ছায়া। এ জায়গা তো আদ্রিয়ানের বাসা নয়! কপাল কুঁচকে অস্বস্তির সুরে প্রশ্ন করলো,

"এটা কোন জায়গা? এখানে কেনো এসেছি আমরা?"

আদ্রিয়ান ধীর ভঙ্গিতে ঝুঁকে পড়লো তার দিকে। কণ্ঠে এক অচঞ্চল গাম্ভীর্য,

"বিয়ে করতে।"

মুহূর্তেই আনহার চোখ বিস্ফারিত হলো। এমন গুরুতর পরিস্থিতিতে আদ্রিয়ানের উত্তরটাকে সে প্রথমে নিছক ফাজলামি ভেবেই নিলো। বিরক্ত দৃষ্টি ছুঁড়ে দিলো তার দিকে, ঠোঁট চেপে বললো,
—"তো গিয়ে বিয়ে করে আসুন। আমি গাড়িতেই আছি, যেতে পারবো না।"

আদ্রিয়ান শান্ত, অটল স্বরে প্রতিউত্তর করলো,
—"তুমি না আসলে তো বিয়েই হবে না।"

আনহার বুক ধড়ফড় করে উঠলো। কী বলছে মানুষটা! তার বিরক্তি এবার কণ্ঠে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠলো,

"আমি কি আপনার বিয়ে পড়াবো নাকি? আমি না গেলে বিয়ে হবে না

" আনহা মনে মনে বিড়বিড় করে বললো , সব যত্তসব বাজে কথা!"

আদ্রিয়ান স্থির দৃষ্টিতে আনহার দিকে তাকিয়ে শান্ত অথচ অদ্ভুত দৃঢ় স্বরে বললো,

“তোমাকেই তো বিয়ে করবো। বিয়েতে বউ না থাকলে বিয়ে হবে কিভাবে?”

আনহার চোখ বিস্ফারিত হয়ে উঠলো। চিৎকার করে উঠলো সে,

“কি-হ্! দেখুন, ইয়ারকি আমার একদম ভালো লাগছে না। চলুন বাসায় ফিরি।”

আদ্রিয়ানের ঠোঁটের কোণে একরাশ হালকা হাসি ফুটে উঠলো। যেন সেই হাসিতে এক অদ্ভুত রহস্য লুকানো আছে। ধীর কণ্ঠে বললো,
—“আগে বিয়েটা সেড়ে নেই… তারপর বাসায় যাবো।”

আনহার বুক কেঁপে উঠলো। এক শীতল আতঙ্ক তার শরীর ভর করলো। মনে হলো,আদ্রিয়ান এমন মানুষ নয়, যে মজা করবে। তার প্রতিটি কথা হয়তো ভীষণ বাস্তব। ভয়ে গলা কেঁপে উঠলো আনহার,

—“না… আমি বিয়ে করবো না! এসব বাজে কথা বলছেন কেনো?”

আদ্রিয়ান হালকা ঝুঁকে এসে সরাসরি তার চোখের ভেতর তাকালো। কণ্ঠস্বর গাঢ় ও গম্ভীর,

—“বাজে কথা না, জান। বিয়ে করবো তোমায়… বউ বানাবো আমার।”

আনহার বুক ধকধক করতে লাগলো। ভ্রু কুঁচকে তীব্র বিরক্তি নিয়ে বললো,

“আমি কি আপনার হাতের পুতুল নাকি, যা খুশি করবেন আমাকে নিয়ে?”

আদ্রিয়ান ধীরে দুই আঙুল দিয়ে নিজের কপাল চেপে ধরলো, যেন সামান্য বিরক্তি সামলে নিচ্ছে। তারপর শান্ত অথচ হিমশীতল কণ্ঠে বললো,

“আনহা, একটু আগেই তো আমায় কথা দিয়েছিলে,যা বলবো তাই করবে। এখন কিন্তু সেই কথার বরখেলাফি করছো। নেমে এসো… বলছি।”

গাড়ির বাইরে তুষার দাঁড়িয়ে, অভ্র অস্থিরভাবে হাঁটাহাঁটি করছে। যেন পরিবেশের ভারে বাতাস জমাট বেঁধে আছে।

আনহার হাত দুটো মুঠো হয়ে গেলো, চোখের কোণে হালকা কাঁপুনি। সে অবিশ্বাসে তাকালো আদ্রিয়ানের দিকে,

"মানে… মানে কি বলছেন আপনি?"

আদ্রিয়ান ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে দিলো তার দিকে, কণ্ঠ আরও গম্ভীর
—"নেমে আসো। এ মুহূর্ত থেকে তুমি আমার স্ত্রী হতে যাচ্ছো।"

মুহূর্তেই আনহার শরীর কেঁপে উঠলো। মাথার ভেতর ঘূর্ণিঝড় বয়ে গেলো—স্ত্রী!

সে তীব্র স্বরে বললো,
—"না! এটা সম্ভব না… আপনি এমন করে আমাকে বাধ্য করতে পারেন না!"

আদ্রিয়ানের ঠোঁট সামান্য নড়ে উঠলো, কিন্তু তার শান্ত কণ্ঠ যেন মৃত্যুদণ্ডের রায়,

"মিস আনহা আয়াত তালুকদার , আমার জগতে ‘না’ শব্দটার কোনো অস্তিত্ব নেই। " নেমে এসো।

আনহা দৃঢ়ভাবে হাত ক্রস করে বসে আছে গাড়ির ভেতর। তার চোখে ভয়ের সাথে মিশে আছে অবিশ্বাস, কণ্ঠে হালকা কাঁপুনি,

“আমি নামবো না… আপনি যতই জোর করেন না কেন। আমাকে টেনেও নামাতে পারবেন না।”

আদ্রিয়ান একবার গভীরভাবে তাকালো তার দিকে, ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত শান্তির ছাপ। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা অভ্র আর তুষার দুজনেই নিঃশব্দ। ঠিক সেই মুহূর্তে দূরে থেকে একজন লোককে নিয়ে এগিয়ে এলো আদ্রিয়ানের লোকজন, হাতে কাগজপত্র, পরনে ফকিরা রঙের পাঞ্জাবি। সেই লোকটিই কাজি।

অভ্রর গলা শুকিয়ে এলো। ফিসফিস করে বললো,

“আদ্রিয়ান … ভাই, গাড়ির ভেতরেই? এভাবে…?”

আদ্রিয়ান শীতল কণ্ঠে উত্তর দিলো,

“সে নামবে না। তাই এখানে। যেখানে সে আছে, সেখানেই বিয়ে হবে।”

কাজি খানিকটা দ্বিধায় গাড়ির দরজার কাছে দাঁড়াল। আদ্রিয়ান নিজে দরজা খুলে দিলো। অভ্র অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাকে ভেতরে ঢুকতে ইশারা করলো।

আনহার বুক ধড়ফড় করতে লাগলো, চোখ ভিজে উঠলো জলে। সে প্রায় কেঁদে ফেলবার মতো কণ্ঠে বললো,
—“না… আমি চাই না! এটা অন্যায়… আপনি এভাবে আমায় জোর করতে পারেন না !”

আনহার বুকের ভেতর দমচাপা কান্না জমে উঠলো। হঠাৎ করেই সে ঘুরে তাকালো অভ্রর দিকে। চোখে অশ্রুর ধোঁয়াশা, কণ্ঠ কাঁপছে আতঙ্কে,

—“ভাইয়া… আপনি কিছু বলুন। বোঝান ওনাকে… উনি পাগল হয়ে গেছেন!”

অভ্রর দৃষ্টি মুহূর্তের জন্য কেঁপে উঠলো, ঠোঁট নড়লো যেন কিছু বলতে চাইছে। কিন্তু পরক্ষণেই সে মাথা নিচু করে নিলো। স্পষ্ট বোঝা গেলো
তারও কিছু করার নেই। এই মুহূর্তে আদ্রিয়ানের সিদ্ধান্তের সামনে তার কথাও হবে নিছক বাতাসের শব্দ।

অভ্র নীরব হয়ে থাকায় আনহার বুকের ভেতর শূন্যতা জমে গেলো। চারপাশে এত মানুষ, তবু সে ভীষণ একা। আর সেই নিস্তব্ধতার ভেতর আদ্রিয়ানের চোখ দুটি আরও ভারী লাগছে।

আদ্রিয়ান ধীর অথচ ভয়ংকরভাবে শান্ত স্বরে বললো,

“তুমি যতই না বলো, আনহা… আমার সিদ্ধান্তই শেষ কথা। তুমি আমার স্ত্রী হবে। এই মুহূর্তেই।”

কাজি কাগজ বের করে নিতে নিতে ইতস্তত করলো। তবু আদ্রিয়ানের চোখের শীতল দৃঢ়তায় থমকে গিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু করলো। গাড়ির ভেতরটায় যেন বাতাস জমাট বেঁধে আছে।

কাজির কণ্ঠ কেঁপে উঠলো,
—“কনে… নাম… আনহা আয়াত তালুকদার ।" মা "তুমি কি রাজি?” রাজি থাকলে বলো মা " কবুল"।

আনহার চোখে পানি গড়িয়ে পড়লো। সে মুখ ঘুরিয়ে নিলো, একেবারেই কিছু বললো না। অভ্রর গলা রুদ্ধ হয়ে আসছিল, কিন্তু আদ্রিয়ান ঠাণ্ডা কণ্ঠে ধীরে ধীরে উত্তর দিলো,
—“হ্যাঁ। সে রাজি।”

ভয়ে ভয়ে কাজি ভীত কন্ঠে বললো, বাবা এটা কনের মুখ থেকে বলতে হবে।

আনহার চোখে জল চিকচিক করে উঠলো। ঠোঁট ফাঁক হলো বটে, কিন্তু কোনো শব্দ বের হলো না। মাথা একপাশে কাত করে ফিসফিস করে বললো,
—“না… আমি রাজি নই। আমি বলবো না।”

" কপাল কুচকে ঠাণ্ডা, ভয়ংকর স্থির কণ্ঠে আদ্রিয়ান ঝুঁকে এল আনহার কাছে,
—“ভেবে নাও, আনহা। আমার লোকেরা আকাশ কে ছেড়ে দিয়েছে ঠিকই কিন্তু নজর ছাড়া করেনি, তুমি যদি কবুল না বলো… আমি আকাশকে বাঁচতে দেবো না।” ওর জন্য তোমার এতো সাহস বেড়েছে তাই না ওকেই সরিয়ে দেবো আমি।

আনহার বুক ধড়ফড় করতে লাগলো। কণ্ঠ শুকিয়ে এলো ,
—“না… না! তাকে কিছু করবেন না… দয়া করে!”

আদ্রিয়ানের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ, অচঞ্চল,

“তাহলে বলো, কবুল।”

আনহার শরীর কেঁপে উঠলো। চোখ বেয়ে ঝরঝর করে নামলো অশ্রু। সে মাথা নাড়িয়ে চিৎকার করে বললো,

“না! আমি বলবো না… এটা জোর করে… আমি চাই না…”

~" আদ্রিয়ান ধীরে ধীরে আনহার দিকে ঝুঁকে এলো। তার কণ্ঠ যেন বরফ কেটে আসা হিমশীতল হাওয়া, প্রতিটি শব্দে ভয়ঙ্কর শীতলতা,

“একটা কথাই বলবো শেষবারের মতো… তুমি যদি এখনই কবুল না বলো, তবে আকাশকে আজ রাতেই আমার লোকেরা শেষ করে ফেলবে। তোমার জন্য একটি নিরিহ পাঠা বলি হবে… এটাই কি চাইছো?”তাহলে তোমার ইচ্ছা পূরণ করছি।

শব্দগুলো আনহার বুক ভেদ করে বিদ্ধ হলো। তার চোখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠলো, ঠোঁট কেঁপে উঠলো অশ্রুসিক্ত প্রতিবাদে।

কিন্তু আদ্রিয়ানের দৃষ্টি অচঞ্চল। সে সোজা তুষারের দিকে ঘুরে তাকালো। ঠাণ্ডা, নির্মম কণ্ঠে আদেশ করলো,

—“তুষার… ওদের বলে দাও, " কিল হিম রাইট নাও "

এই নির্দেশ যেন মুহূর্তেই বাতাসকে আরও ভারী করে তুললো। তুষার মাথা সামান্য ঝুঁকিয়ে সে সাড়া দিলো।

আনহার বুক হু-হু করে উঠলো। তার জন্য একটি নিরিহ প্রাণ চলে যাবে এই দ্বায় কাধে নেওয়ার থেকে তো মরে যাওয়া ভালো। কান্নায় ভেঙে পড়তে পড়তে সে হঠাৎ হাত বাড়িয়ে চিৎকার করে উঠলো,

—“না! না… থামুন! প্লিজ… কিছু করবেন না ওকে… আমি… আমি কবুল বলবো… শুধু ওকে ছেড়ে দিন…”

কাজির কণ্ঠ আবার ভেসে এলো কাঁপা কাঁপা শব্দ,

“আপনি কি বর আদ্রিয়ান আলভি কেলিসকে স্বামী হিসেবে কবুল করছেন?”

আনহার গলা ভেঙে গেলো কান্নায়, বুক কাঁপতে লাগলো। অবশেষে কেঁদে কেঁদে শব্দগুলো বেরিয়ে এলো,

“ক… ক-বুল।”

আদ্রিয়ান হাত বাড়িয়ে শক্ত করে ধরে ফেললো তার কাঁপা আঙুলগুলো। কাজির কণ্ঠ আবার ভেসে এলো,

“বর… আদ্রিয়ান আলভি কেলিস। আপনি কি কনে আনহা আয়াতকে স্ত্রী হিসেবে কবুল করছেন?”

আদ্রিয়ান চোখ সরাল না আনহার থেকে। কণ্ঠে গাঢ়, শীতল দৃঢ়তা,

“কবুল।”

চলবে........,
[ এই পর্বে মন মতো রিয়েক্ট না আসলে পরের পর্ব আসবে না। লেখালেখি থেকে মন উঠে যাচ্ছে। চল্লিশ হাজার মানুষ পড়তে পারে অথচ 1k রিয়েক্ট উঠে না। বিদ্র : প্রিয় পাঠক মহল এই পর্বে কিছু স্থানে বাস্তবতার খাতিরে অশালীন/গালি জাতীয় শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। সামনের পর্বগুলোতেও এরকম কিছু থাকতে পারে। যাঁরা এমন শব্দ পছন্দ করেন না, তাঁরা চাইলে সেই অংশগুলো এড়িয়ে যেতে পারেন। ]

17/08/2025

#প্সয়লার_ভিডিও
#প্রণয়ে_প্রেমের_আগুন
রাতে গল্প আসবে

16/08/2025

#প্সয়লার_ভিডিও
#প্রণয়ে_প্রেমের_আগুন
ভালো মতো এডিট করতে নি বা সময় নেই বললে ও চলে ভালো এডিটর দের দৃষ্টি আর্কষন করছি এডিট করে ইনবক্সে দিলে পোস্ট করবো। ❤️‍🩹🫶

 #পারবোনা_আমি_ছাড়তে_তোকে এটার মধ্যে ১থেকে ১৫ পর্ব পর্যন্ত এই কমেন্ট কয়েকটা দেখা গেছে তাদের সকলের কাছে অনুরোধ প্লিজ পুরো ...
15/08/2025

#পারবোনা_আমি_ছাড়তে_তোকে এটার মধ্যে ১থেকে ১৫ পর্ব পর্যন্ত এই কমেন্ট কয়েকটা দেখা গেছে তাদের সকলের কাছে অনুরোধ প্লিজ পুরো গল্প টা শেষ করে একটা রিভিউ দিয়ে যাবেন। আর যারা পুরোনো পাঠিকা #পারবোনা_আমি_ছাড়তে_তোকে পুরোটা পড়েছেন তারা এই পোষ্টে মন্তব্য করে একটা রিভিউ দিয়ে যান........ ধন্যবাদ। ❤️‍🩹❤️‍🩹

 #প্রণয়ে_প্রেমের_আগুন  #লেখনিতে_ইশিতা_ইসলাম  #পর্বঃ  ৭ ~"  সকাল সকাল অভ্রর আগমন ঘটে,  অভ্র ঘরে পা রাখতেই চোখে পড়ল আনহার ...
14/08/2025

#প্রণয়ে_প্রেমের_আগুন
#লেখনিতে_ইশিতা_ইসলাম
#পর্বঃ ৭

~" সকাল সকাল অভ্রর আগমন ঘটে, অভ্র ঘরে পা রাখতেই চোখে পড়ল আনহার নিস্তব্ধ, উদাসীন বসে থাকা মুখ। অকারণ এই গম্ভীরতা তাকে কেমন যেন অস্বস্তিতে ফেলে দিল। কাছে এগিয়ে এসে স্নেহমাখা
স্বরে জিজ্ঞেস করল,

— “কি হয়েছে, বোন? এভাবে বসে আছো কেন?”

আনহা মুখে টেনে আনল এক টুকরো মিথ্যে হাসি, যেন হাসির আড়ালে লুকিয়ে রাখতে চায় নিজের ভেতরের ঝড়,

— “কই না তো, কিছু হয়নি।”

অভ্র নিশ্চুপ রইল না, আবারও জিজ্ঞেস করল,
— “আজ ভার্সিটিতে যাওনি?”

আনহা চোখ নামিয়ে শুধু “না” বলেই উঠে দাঁড়াল, যেন প্রশ্নের ভার থেকে পালাতে চায়।

“ভাইয়া, আপনি বসুন, আমি কফি নিয়ে আসছি।”

বলেই সে চলে গেল কিচেনের দিকে।

মনের ভেতর তখনও ঘুরপাক খাচ্ছে আগের দিনের ঘটনা। সেদিন ভার্সিটিতে আদ্রিয়ানের সেই অবাঞ্ছিত আচরণে লজ্জায় আর যাওয়া হয়নি তার। কিন্তু আজ সে এক ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে,এবার শুধু এই বাড়ি নয়, এই দেশও ছেড়ে চলে যেতে হবে। তবু, কার কাছে সাহায্য চাইবে? কে হবে তার মুক্তির সঙ্গী?

এই ভাবনার ভেতরেই চুলোর ওপর বসানো কফি হঠাৎ উথলে উঠল। চমকে গিয়ে সে কাপ দুটোতে ঢেলে ট্রেতে রাখল।

রুমে ফিরে দেখল, আদ্রিয়ানও বসে আছে অভ্রর পাশেই। মুহূর্তেই আনহার বুকের ভেতর কেমন যেন হিম নেমে গেল। ট্রেটি টেবিলে রাখতে গিয়েই টের পেল আদ্রিয়ানের দৃষ্টি,শীতল, হিসেবি, যেন চোখের গভীরে বন্দি করে ফেলতে চায় তাকে। অভ্র পাশ থেকে একঝলক তাকিয়ে দেখল সেই দৃষ্টি, আর তার মনে অদ্ভুত এক সন্দেহের রেখা ছড়িয়ে পড়ল।

আনহা বিন্দুমাত্র দৃষ্টি না মেলেই ট্রে রেখে সোজা উপরে নিজের ঘরে চলে গেল।

অভ্র ভ্রু কুঁচকে হালকা বিরক্তি নিয়ে বলল,

“ভাই, তুই যেমন গম্ভীর, সবাই তো আর তেমন না। আর তা ছাড়া, আনহাকে দেখে মনে হচ্ছে তুই মেয়েটাকে একটু বেশিই চাপের মধ্যে রাখছিস।”

আদ্রিয়ান চোখ না তুলে ল্যাপটপে টাইপ করতে করতে জবাব দিল,

“কোন দিক দিয়ে ওকে চাপে রেখেছি বলে তোর মনে হয়?”

অভ্র এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে কফির কাপে আঙুল ঠুকতে ঠুকতে বলল,

“দেখ, তোর এই গুহার মতো অন্ধকার বাড়িতে ওই পিচ্চি মেয়েটা একা একা থাকে… তার উপর তুই আবার,যা মানুষ ।”

এইবার ল্যাপটপ বন্ধ করে অভ্রর দিকে ঠান্ডা দৃষ্টি ছুঁড়ে দিল আদ্রিয়ান। কণ্ঠে কড়া সতর্কবার্তা,

“কেয়ারফুল... ইউ আর ক্রসিং আ লাইন "আমার এই বাড়িটাকে কোন দিক দিয়ে তোর গুহা মনে হয়?”

অভ্র মুচকি হেসে চেয়ারের পেছনে হেলান দিয়ে বলল,
— “গুহা মনে হবে না কেন? তুই যে আমাদের মতো মানুষ আমি তো মাঝে মাঝে সেটাই ভুলে যাই।”

আদ্রিয়ানের চোখে বিরক্তির ঝিলিক। গলার স্বর এবার তীক্ষ্ণ, হুমকির মতো,

— “শাট ইওর ড্যাম মাউথ বিফোর আই ডু ইট ফর ইউ "

অভ্র কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইল, তারপর হেসে মাথা নেড়ে চুপ করে গেল,কারণ সে জানে, এই শান্ত মস্তিষ্ক চটে গেলই সমস্যা।

~" বিছানায় বসে বইয়ের পাতায় ডুবে ছিল আনহা। হঠাৎ টেবিলের ওপর রাখা ফোনটা বেজে উঠল। এই প্রথম আদ্রিয়ানের দেওয়া ফোনে বাবা, মা, আপু আর রাদিফ ভাইয়া ছাড়া অন্য কারো নম্বর ভেসে উঠল। তাও আবার Unknown Number।

ভ্রু খানিকটা কুঁচকে, কৌতূহল আর হালকা সতর্কতা নিয়ে ফোনটা কানে তুলল আনহা।
— “আসসালামু আলাইকুম…”

ওপাশ থেকে ভেসে এল এক চেনা মেয়েলি কণ্ঠস্বর। মুহূর্তেই সে চিনে ফেলল। মুখে ছড়িয়ে পড়ল উচ্ছ্বাস,
— “মিম! কেমন আছিস?”

~" আমি ভালো, তুই কেমন আছিস.?

“ভালো রে… কিন্তু তুই আমার নম্বর পেলি কিভাবে?”

মিম হেসে বলল,
— “আজ আদ্রিয়ান আলভি কেলিস এসেছিল ভার্সিটিতে। সে ভেতরে ঢুকে গেলে তার সহকারী তুষারের কাছ থেকে তোর নম্বরটা নিয়েছি।”

মিম আবার বললো,
“আমি নাহয় এক ঝামেলার কারণে কদিন যেতে পারিনি… কিন্তু তোর কী হলো? তুই আসছিস না কেন?”

আনহার চোখের কোণে যেন এক মুহূর্তের জন্য অস্থিরতা ভেসে উঠল। নীরবে এক নিশ্বাস নিয়ে বলল,
— “কাল আসব। এসে সব বলব… এখন রাখছি, হ্যাঁ।”

— “ওকে… বাই।”

~" রাত কেটে গেলো কোনো রকমে। আনহার চোখে যেন ঘুম নামেনি ঠিকঠাক। উল্টোপাল্টা ভাবনায় ভরপুর ছিল মন,কয়েকটা উপন্যাসের বই থাকলে হয়তো সময়টা কাটত, কিন্তু বইগুলো তো আর ওবাসা থেকে আনা হয়নি। চারপাশের নীরবতা আর একঘেয়েমি তাকে আরও অস্থির করে তুলছিল।

ভোরে ঘুম ভাঙতেই নিজেকে গুছিয়ে নিলো,আজ অন্তত ভার্সিটিতে যাবে। পোশাক পরে চুল ঠিক করে নিচে নামল। ডাইনিং টেবিলে তখন গোছানো সকালের খাবার সাজানো। ঠিক সেই মুহূর্তেই ফোনে message tone বেজে উঠল। স্ক্রিনে ভেসে উঠল আদ্রিয়ান আলভি কেলিস,

মেসেজে শুধু লেখা,
“খাবারটা খেয়ে তারপর ভার্সিটি যাও…!”

এক মুহূর্তের জন্য আনহার হাত থেমে গেল। অবাক হওয়ার কিছু নেই,সে যে ভার্সিটিতে যাচ্ছে, আদ্রিয়ান তা জানে,

কিন্তু কিভাবে জানল?মনে হল, এই মানুষটার বাজপাখির মতো নজর থেকে কিছু লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। ঠোঁটের কোণে বিরক্তির হালকা রেখা ফুটে উঠল, তারপরও কোনো উত্তর না দিয়েই আনহা দরজা ঠেলে বাইরে বেরিয়ে গেল,না খেয়েই।

~" ক্যাম্পাসে পা রাখতেই দূর থেকে দেখা পেল মিম আর সারার । তবে মিমের মুখে স্বাভাবিক হাসি থাকলেও, সারার চোখে ঝলসে পড়া এক অদ্ভুত ক্রোধ।

মিম এগিয়ে এসে দাঁড়াল আনহার সামনে। কণ্ঠে মিশে আছে উদ্বেগ,

“কিরে, কি জানি বলবি? কোনো সমস্যা…”

মিমের কথা শেষ হওয়ার আগেই সারা এসে আনহার হাত শক্ত করে চেপে ধরল। ঝাঁজালো স্বরে বলল,

“তোর সাথে আদ্রিয়ান আলভি কেলিসের আসল সম্পর্কটা কি, সত্যি করে বল!”

আনহার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল। সারার এই আচরণ একদম অচেনা লাগছে তার কাছে। নিচু গলায় শান্তভাবে বলল,

“তোরা তো জানিস… আবার জিজ্ঞেস করার কি আছে? উনি আমার আপুর দেবর।”

সারা ঠোঁটে টেনে আনল নাটকীয় হাসি। কণ্ঠে কটাক্ষ,

“ও আচ্ছা… বোনের দেবররা বুঝি কোলে তুলে নিয়ে যায়?”

মুহূর্তেই আনহার বুক ধক করে উঠল। বুঝতে বাকি রইল না,সেদিন সারা চলে যাওয়ার পর যা ঘটেছিল, সেটা কোনোভাবে জেনে গেছে সে। গলা শুকিয়ে এল, মন খারাপের ভার যেন আরও গভীর হলো। এখন হয়তো পুরো ক্যাম্পাসে কী কথা ছড়িয়েছে, আল্লাহই জানেন।

মিম তৎক্ষণাৎ সারাকে ধমকে উঠল,

“চুপ কর তো! আগে পুরো কথা শুনতে দে।”

আনহা চোখ সরিয়ে শান্ত গলায় বলল,

“ক্লাসে দেরি হয়ে যাবে। চল, ক্লাসরুমে যাই… ক্লাস শেষে সব বলব।”

সারা ঠোঁট কামড়ে রাগ সামলানোর চেষ্টা করলো। ওরা তিনজন ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলো ক্লাসরুমের দিকে। পথে যেতে যেতে আনহা টের পেল,অসংখ্য চোখ তার দিকে নিবদ্ধ।মেয়েদের মধ্যে কেউ কেউ এমনভাবে তাকাচ্ছিলো, যেন দৃষ্টি দিয়েই তাকে গিলে খেতে চায়; তবুও মুখে কিছু বলার সাহস পাচ্ছে না। আনহার মনে হলো,এখানে অনেকেই হয়তো আদ্রিয়ান আলভি কেলিসকে নিয়ে স্বপ্ন বুনে, কল্পনায় তার সঙ্গে সংসার সাজায়।কিন্তু সেদিন আদ্রিয়ানের আচরণে, হয়তো সেই স্বপ্নের ভিতরেই ধাক্কা লেগেছে,ফলে তাদের চোখে আনহার প্রতি বিরক্তি আর দমিত ক্রোধ স্পষ্ট। তবুও, হয়তো আদ্রিয়ানের নামের ভার আর তার ব্যক্তিত্বের ভয়ে, কেউ মুখ ফুটে কিছু বলার দুঃসাহস দেখাতে পারলো না।

~" শেষের ক্লাসটা ওরা তিনজনই মিস করলো। কারণ, পুরো ক্লাস শেষ হতেই তুষার বা আদ্রিয়ান চলে আসবে আনহাকে নিতে,তখন এমন কথোপকথনের সুযোগ থাকবে না।

মিমের মনে সব জানার তীব্র কৌতূহল, আর সারার মনে কৌতূহলের সঙ্গে মিশে একরকম স্বস্তি। আনহা শুরু থেকে সব খুলে বললো ওদের দুজনকে। সব শুনে মিম বিস্মিত গলায় বললো,

"ও আচ্ছা… তাহলে তুই তো কানাডা আসতেই চাস নি! তোর মায়ের জোরাজুরি আর আপুর অসুস্থতার জন্যই আসতে হলো?"

সারা নিচু গলায় মন্তব্য করলো,
— "আমি তো ভেবেছিলাম তুই আদ্রিয়ান আলভি কেলিসের জন্যই এসেছিস।"

আনহা ঠোঁট বাঁকিয়ে তাচ্ছিল্যের সুরে বললো,
— "হুহ! ওনার মতো একজন বদরাগী মানুষের জন্য আমি আসবো,এই কথা তুই কীভাবে ভাবলি?"

মিমের কণ্ঠে এবার খানিক চিন্তার ছাপ,

"কিন্তু তুই তো এখন পুরোপুরি ফেঁসে গেছিস আদ্রিয়ান আলভি কেলিসের কাছে… এখন উপায়?"

আনহা উদাস গলায় বললো,
"আমি শুধু মুক্তি চাই… যেভাবেই হোক দেশে ফিরে যেতে চাই।"

সারা সহজ ভঙ্গিতে পরামর্শ দিলো,

"তাহলে তুই আদ্রিয়ান আলভি কেলিসকেই বল, তুই দেশে যেতে চাস,উনি ব্যবস্থা করে দেবেন।"

আনহা বিরক্ত চোখে তাকিয়ে উত্তর দিলো,
— "উনি যদি ব্যবস্থা করে দিতেন, তো হতোই। কিন্তু উনি মানুষকে কষ্ট দিয়ে সুখ পান। উনি জানলে আমার যাওয়া?কখনোই হবে না।"

মিম কপাল কুঁচকে চুপচাপ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে ধীরে বললো,
— "তাহলে… উপায়?"

~" “উপায় আমাকেই খুঁজে বের করতে হবে…”
আনহা ঠান্ডা গলায় বললো। ঠিক তখনই সারার মোবাইলে হঠাৎ একটা কল এলো। সারা তাড়াহুড়া করে উঠে চলে গেলো, রেখে গেলো আনহা আর মিমকে, দুজন বসে রইলো বেঞ্চে ।

বাইরে হালকা বাতাসের শব্দের ভেতর, হঠাৎ পেছন থেকে ভেসে এলো পুরুষালি এক গলার খাঁকারি। দু’জনই একসাথে ঘুরে তাকালো।
আকাশ দাঁড়িয়ে,চোখে একরাশ উদ্বেগ, ঠোঁটে চাপা উৎকণ্ঠা।

— “আনহা… তুমি ঠিক আছো তো? সেদিন আসলে কী হয়েছিল? ওই আদ্রিয়ান আলভি কেলিস কেন তোমাকে সেভাবে নিয়ে গিয়েছিল? আর এতদিন তুমি এলে না কেন? … উনি তোমার কে?”

প্রশ্নগুলো যেন একসাথে ঝড়ের মতো ছুড়ে দিলো আকাশ।

আনহার মাথা ধীরে নিচু হয়ে এলো, যেন সেদিনের অপ্রস্তুতি আর লজ্জা তার গলাকে আটকে দিয়েছে,চোখ তুলতে পারছে না। কিন্তু মিম বুঝে নিলো পরিস্থিতি।আনহার হয়ে মিম-ই সব জবাব দিলো। যা যা সে জেনেছে, পরিষ্কার করে বললো আকাশকে,কোনো কিছু গোপন না রেখে।

সব শুনে আকাশের মুখে অদৃশ্য এক তৃপ্তি ফুটে উঠলো। মনে মনে ভাবলো,আনহা আদ্রিয়ানকে দেখতে পর্যন্ত পারে না … এটা যেন তার হৃদয়ে আশার আলো জ্বালিয়ে দিলো। আকাশ আনহা কে প্রথম দেখাতেই ভালোবেসে ফেলেছে।

এই কয়েকদিন আকাশের মন যেন ছটফট করছিলো,আনহার জন্য অজানা এক ভয় কাজ করছিলো, যেন তাকে হারিয়ে ফেলবে। আর সবচেয়ে বড় কাঁটা,আনহা আর আদ্রিয়ানের সম্পর্ক কী,সে প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত তার কোনো শান্তি ছিলো না।

রাতগুলোও ঠিকঠাক ঘুম হয়নি তার,চোখের পাতা বন্ধ করলেই ভেসে উঠতো আনহার মুখ, আর সেই অদৃশ্য প্রতিদ্বন্দ্বীর ছায়া… আদ্রিয়ান আলভি কেলিস। এখন অন্তত কিছুটা স্বস্তি পেলো, কিন্তু বুকের ভেতর অদ্ভুত চাপা কষ্ট ও সৃষ্টি হয়েছিল যখন শুনতে পেলো আনহা কানাডা ছেড়েই চলে যাবে।

~" আকাশ অনুরোধের সুরে বললো,
— "ইফ ইউ ডোন্ট হ্যাভ এনি প্রোবলেমস… তুমি আমার বাসায় থাকতে পারো। তোমার কোনো অসুবিধা হবে না। চাইলে আমি নাহয় বাবার সঙ্গে গিয়ে থাকবো। পুরো বাংলোটা ফাঁকা পড়ে আছে, সেখানে কেউ থাকে না। প্লিজ… বাংলাদেশে ফিরে যেও না।"

আনহা বিস্মিত চোখে তাকালো আকাশের দিকে। তার দৃষ্টিতে যেন এক অদৃশ্য প্রশ্ন লুকিয়ে ছিলো। সেই দৃষ্টি বুঝে নিয়ে আকাশ তড়িঘড়ি বলে উঠলো,
— "ও হ্যাঁ, তোমাকে তো বলা হয়নি… আসলে বলার সুযোগই পাইনি। আমি এখানে একা থাকি না,আমার বাবা এখানে চাকরি করেন। বাংলোটা বাবা খুব পছন্দ করে বানালেও, অফিস থেকে দেওয়া ফ্ল্যাটে থাকতে হয় তাকে , কারণ সেটাই অফিসের কাছাকাছি। তাই আমি বাংলোতে একাই থাকি। তুমি নিশ্চিন্তে সেখানে থাকতে পারো।

~" আনহা মাথা নিচু করে ধীরে বলল,

সরি আকাশ ভাই, আমি সেখানে থাকতে পারব না।

আকাশের ভ্রু দুটি হালকা বেঁকে উঠল। কণ্ঠে কোনো রাগ নয়, বরং শান্ত অনুরোধের সুর,

— দেখো আনহা, বোঝার চেষ্টা করো… তুমি যদি আদ্রিয়ান আলভি কেলিসের বাসায় না থাকো, তাহলে ও আর তোমার ওপর জোর খাটাতে পারবে না।

কিন্তু আনহার মুখের দৃঢ়তা বদলালো না। না মানা যেন ওর চোখের ভাষায় ফুটে ওঠেছে।আকাশ অবাক হয়নি, বরং মনে মনে এক ধরনের নিশ্চিত স্বীকৃতি ছিল তার। আনহার আত্মসম্মান পাহাড়ের মতো উঁচু, সে কখনো কারও দয়ার ভরসায় পথ বেছে নেবে না,এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া, আকাশের সঙ্গে ওর পরিচয়ও তো দিনের গোনায়। এত কম সময়ে নিজের জীবন আর নিরাপত্তা কারও হাতে তুলে দেওয়া আনহার স্বভাব নয়।

তবু, আকাশের মনে ওর প্রতি কোনো ক্ষোভ নেই। কারণ ভালোবাসা ক্ষোভের জায়গা পায় না।

সে নিঃশব্দে ভাবল,
"যদি আনহা দেশে ফিরতে চায়… ফিরে যাক। আমার এখানে আর এক বছর বাকি। এই এক বছরে পড়াশোনা শেষ করব, তারপর ভালো একটা চাকরি নেব। দুই বছরের মধ্যেই দেশে ফিরে ওর কাছে গিয়ে বলব,

"আই ওয়ান্ট টু ম্যারি ইউ। উইল ইউ ম্যারি মি? উইল ইউ বি মাই লাইফলং পার্টনার?"

আকাশের চোখে তখন ভোরের স্বপ্ন জমে উঠেছিল, যা হয়তো আনহা এখনো দেখেনি।

~"আকাশ হঠাৎ ভাবনার আঁধার থেকে বেরিয়ে এসে আনহার দিকে তাকালো। চোখে ছিল একটা গভীরতা কণ্ঠে সামান্য কোমলতা বললো,
“আচ্ছা, তুমি কি সত্যিই বাংলাদেশ ফিরে যেতে চাও?”

আনহার গলা কেঁপে উঠলো, সাদাসিধে একটি ‘হ্যাঁ’ ও জানালো।

তখন আকাশ, ভরসার ছোঁয়া দিয়ে, গভীর বোধে ডুবে, বললো,
“তোমার দেশে ফিরে যাওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা আমি নিজের হাতে নেবো। তুমি শুধু তোমার পাসপোর্টের কপি আমাকে দিও।”

আনহার মুখে যেন আনন্দের ফুল ফুটে উঠলো। কণ্ঠে কেমন এক মিষ্টি বিস্ময় জাগলো,

“সত্যি, আকাশ ভাই? আপনি কি আমাকে সাহায্য করবেন দেশে যাওয়ার জন্য?”

আকাশ মনে ভাবলো, ভালোবাসার জন্য সব করতে পারি। দু বছরের জন্য নাহয় তোমায় ত্যাগ শিকার করলাম। সময় বুঝে তোমাকে আমার করে নেবো ঠোঁটে হালকা হাসি রেখে বলে,

"হ্যাঁ করবো। তুমি খুশি তো.?"

আনহার চোখে আনন্দের ঝিলিক, মাথা হালকা করে ঝাকালো,
“হ্যাঁ, খুবই খুশি...”

~" তবে পরক্ষণেই আনহার চোখে-মুখে নেমে এলো এক অদৃশ্য বিষণ্নতার ছায়া। মাথা ধীরে নুইয়ে কাঁপা কণ্ঠে বললো,

“মিস্টার টেম্পার যদি জেনে যান যে আপনি আমাকে হেল্প করেছেন… যদি আপনার কোনো ক্ষতি করার চেষ্টা করেন! ব্যাপারটা রিস্কি হয়ে যাবে…”

আকাশ হালকা হেসে ফেললো, ঠোঁটে ফুটে উঠলো আত্মবিশ্বাসের রেখা,
“দেখো, যদি তিনি কিছু করতে চান, সেটা পরে দেখা যাবে। আমি হয়তো তাঁর মতো এতটা প্রভাবশালী নই, তবে কানাডায় আমারও লোকজন কম নেই। এক ডাকে একশো জন আসবে, যদি আমার সঙ্গে লড়তে আসে, আমিও কিন্তু ছেড়ে দেবো না।”

আনহা আতকে উঠে মাথা নাড়লো, কণ্ঠে উৎকণ্ঠার স্পষ্ট সুর,
“না, না… ওসব করবেন না। উনি বদরাগী, গোমড়া-মুখো, একঘেয়ে রগচটা মানুষ হলেও,এমনিতে ভালোই আছেন। আমি চাই না, আমার জন্য আপনাদের ঝামেলায় পড়তে হোক… প্লিজ, আকাশ ভাই…”

আকাশ আবারও এক ঝলক হেসে, চোখে বন্ধুত্বের উষ্ণতা মেখে বললো,

“তাছাড়া, আমরা তো ফ্রেন্ড। ফ্রেন্ড হয়ে ফ্রেন্ডের জন্য এইটুকু রিস্ক নিতেই তো পারি।”

~" দূর থেকে তুষারের গাড়ি চোখে পড়তেই আনহা হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়ে গেলো। এক নিমিষে আকাশের সামনে থেকে সরে গিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে এলো । মিমও তার নিজস্ব ভঙ্গিতে নিঃশব্দে সরে গেলো।

বাসায় ফিরে আনহা চেষ্টা করলো সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চালাতে, কথাবার্তা, হাঁটাচলা, এমনকি মুখের অভিব্যক্তিও। কিন্তু মনে মনে সে জানে, আসল চিন্তা এখন ভিসার কাগজপত্র নিয়ে। যদি কোনোভাবে ম্যানেজ হয়ে যায়, তবে এই দমবন্ধ অবস্থা থেকে বাঁচা যাবে।

সে নিজের মনে মনেই বললো, এখন বাবা-মা কিংবা আপুকে কিছু জানানো চলবে না। এখন বললে শুধু সবার দুশ্চিন্তা বাড়বে। একবার দেশে ফিরতে পারলেই, তখন ধীরে সুস্থে সব বলা যাবে।

~" রবিবার, ক্লাসের ঝামেলা নেই। অনেকদিন হয়ে গেছে নাচের প্র্যাকটিস করা হয়নি,আজ মনও আশ্চর্য রকম ফুরফুরে লাগছে। তাই আনহা একটা ছোট সাউন্ড বক্স হাতে নিয়েই ছাদে উঠে এলো। গলা থেকে কোমর পর্যন্ত ওড়নাটা টেনে শক্ত করে বাঁধলো, গান চালিয়ে দিলো, আর সাদা চুড়িদারের আঁচল বাতাসে দুলতে দুলতে শুরু হলো নাচের ছন্দ।

বহুদিনের বিরতির পর নাচ যেন তার ভেতরের জমে থাকা সব ক্লান্তি মুছে দিচ্ছে। তাই আজ একটু বেশিই সময় ধরে চললো তার পদক্ষেপের খেলা, হাতের ভঙ্গি, চোখের দৃষ্টি। ঠিক তখনই, হাতে কফির মগ নিয়ে ছাদের দরজা ঠেলে উঠে এলো আদ্রিয়ান,সাদা শার্ট, উপরের বোতাম খোলা, এলোমেলো চুল, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি যেন সরাসরি আনহার দিকে বিঁধে আছে।

আনহার চোখে পড়তেই বুকের ভেতর অজান্তে এক ধাক্কা খেলো। পদক্ষেপ থেমে গেলো মাঝ ছন্দেই। আদ্রিয়ানের দৃষ্টি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়,তার চোখ এখন আটকে আছে আনহার অবাধ্য হয়ে ছড়িয়ে পড়া ঘন, লম্বা, কালো চুলে; তারপর ধীরে সরে চোখ গেলো এই শীতের মাঝেই নাচের তাপে হালকা ঘামে চিকচিক করা আনহার সরু, কোমল নাকে।

আদ্রিয়ান ঠোঁটের কোণে হালকা রহস্যময় হাসি খেলালো, কিন্তু কণ্ঠ রইলো ভারি ও গভীর,

—থামলে কেনো?

আনহা কোনো উত্তর দিলো না, শুধু ধীরে ওড়নার বাঁধন খুলে নিয়ে গলায় জড়িয়ে নিলো।

ছাদের নীরবতায় হালকা বাতাস বইছে, কিন্তু তখন আদ্রিয়ানের কণ্ঠ যেন বাতাসকেও ভারী করে দিলো,

“ইউ লুক... ডেঞ্জারাসলি বিউটিফুল রাইট নাও”

"বেসামাল দৃষ্টিতে গভীরভাবে তাকিয়ে, নেশা মাখা কণ্ঠে আদ্রিয়ান আবারও ফিসফিস করে বলে ওঠে ,

" ইট ওয়াজ ইনটক্সিকেটিং টু ওয়াচ ইউ এগেইন… এভরি মুভ অফ ইয়োর্স ফেল্ট অ্যাজ সুইট অ্যান্ড ইর্রেসিস্টেবল অ্যাজ হানি।

আনহার বুকের ভেতর ধুকপুকানি বেড়ে গেলো। এমন কথা, এমন দৃষ্টি,সবকিছু মিলিয়ে অজানা এক অস্বস্তি, বিস্ময়, আর লজ্জা গলাপথে জমে উঠলো। ঠোঁট শুকিয়ে এলো, কিন্তু নিজেকে সামলে নিলো তাড়াতাড়ি।

আপনি এসব কী বলছেন? নাচ প্র‍্যকটিস করছিলাম আমি... এত কিছু ভাবার কিছু নেই।

আদ্রিয়ান কফির মগটা হাত থেকে একপাশে রেখে ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে এলো, পায়ের শব্দ প্রায় শোনা যায় না। দৃষ্টি এতটাই গাঢ়, যেন ছাদের আলো-ছায়ার ভেতর দিয়ে সোজা আনহার মনের ভেতরে প্রবেশ করছে।

" —“ওহ, কিন্তু আমি ভেবেছি ... আর বিশ্বাস করো, এটা কিছুই না, আমার ভাবনা আরো গভীর যা তোমার চিন্তা শক্তির বাইরে ।

আনহা অনিচ্ছা সত্ত্বেও এক পা পিছিয়ে গেলো, চোখে স্পষ্ট বিরক্তি,

" এভাবে তাকাবেন না প্লিজ "

আদ্রিয়ান থামলো না, ঠোঁটে রহস্যময় এক তির্যক হাসি খেলে গেলো।

"আমার দৃষ্টি কি তোমায় হয়রানি করছে… নাকি দৃষ্টি তে এতটাই গাঢ় আগুন জ্বলে যা তুমি পলায়ন করতে পারছো না?"

শব্দগুলো যেন শীতের হাওয়ার মতোই কাঁপন ধরালো আনহার গায়ে। লজ্জায় তার দৃষ্টি নিচের দিকে নেমে এলো, কিন্তু বিরক্তি যেন গলার স্বরে আটকে গেলো,

"আমি সিরিয়াস, মিস্টার আদ্রিয়ান আলভি কেলিস ।

আদ্রিয়ান এবার একদম কাছে এসে থামলো, গম্ভীর চোখে তাকিয়ে ধীরে বলে উঠলো,

" সো অ্যাম আই, আনহা আয়াত তালুকদার । ভেরি… সিরিয়াস।"

~" আদ্রিয়ানের এমন নেশালো চোখ বেসামাল অবস্থায় আর এই কথার ধরণ, ভয়ে আনহার শ্বাস এতো জোরে জোরে চলছে মনে হয় হার্ট টা খুলে চলে আসবে, পাশ কাটিয়ে দ্রুত সিঁড়ির দিকে পা বাড়ালো।

~" আদ্রিয়ান সেদিকে তাকিয়ে মনে মনেই ফিসফিস করে বললো,

" বিটব্লুম "তোর পালানোর গতি যতই দ্রুত হোক, আমার ছায়া তোর পিছনে ছুটে যাবে, কোনো দিনও তুই মুক্তি পাবে না, তুই আমার অন্তহীন দাস...।

~" প্রায় এক সপ্তাহ কেটে গেছে। এই সময়ের মধ্যে আকাশ অনেক কাজ গুছিয়ে ফেলেছে। ভাগ্য সহায়,আকাশের বাবার এক পুরোনো বন্ধু এম্বেসিতে চাকরি করেন, তার হাত ধরে সবকিছুই অবিশ্বাস্যভাবে সহজ হয়ে গেছে। আনহার ভিসার প্রক্রিয়াও এখন প্রায় সম্পূর্ণতার দ্বারপ্রান্তে।

গত রাতে মিম ফোন করেছিল। কণ্ঠে হালকা উত্তেজনা,আজ যেন আনহা তাড়াতাড়ি ভার্সিটি যায়, ওরা নাকি অপেক্ষা করবে। সকাল সকাল আনহা উঠে দাঁড়াল। তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়ল।

বাসায় কোনো উত্তাপ নেই আদ্রিয়ান বোধহয় আজ অনেক আগেই বেরিয়ে পরেছে, তুষার গাড়ি নিয়ে সামনের গেটে বসে ছিল অনেকক্ষণ ধরে। আনহার ইচ্ছে ছিল একাই যাওয়া, কিন্তু সে জানে,আদ্রিয়ান কখনোই তাতে রাজি হবে না। তাই কোনো কথা না বলে গাড়িতে উঠে বসল চুপচাপ।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে পৌঁছে গাড়ি ভেতরে ঢুকতে দিল না আনহা। বাইরেই থামতে বলল তুষারকে। ব্যাগ কাঁধে একাই হেঁটে ভেতরে চলে গেল সে, আর তুষার সোজা অফিসের দিকে ছুটল। আজ সেখানে আদ্রিয়ানের এক গুরুত্বপূর্ণ মিটিং,যেখানে তুষারের উপস্থিতি অপরিহার্য।

~" ভেতরে পা রাখতেই আনহার চোখে পড়ল,মিম, সারা আর আকাশ একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে। তিনজনের মুখেই একরাশ হালকা হাসি, তাকে দেখামাত্র যেন সেই হাসি আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠল।

আকাশ একটু এগিয়ে এসে থামল তার সামনে। চোখে উষ্ণতা, ঠোঁটে আত্মবিশ্বাসী এক বাঁকা হাসি,

— অভিনন্দন, আনহা… তোমার ভিসা রেডি।

কথাগুলো যেন হঠাৎ আকাশ ভেদ করে নেমে এলো তার কানে। আনহা কিছুক্ষণের জন্য স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল,এত তাড়াতাড়ি এ খবর শোনার জন্য যেন প্রস্তুত ছিল না। মুহূর্তের মধ্যেই তার ভেতর ভরে গেল উচ্ছ্বাসে।

মনে মনে নিঃশব্দে বলল,
"এবার… মিস্টার টেম্পারের হাত থেকে সত্যিই মুক্তি পাবো।"

~" আকাশ কাগজের মোড়ক থেকে একটি টিকিট বের করে আনহার হাতে তুলে দিল। তার কণ্ঠে ছিল একধরনের নিশ্চয়তার সুর,

— সোমবার সন্ধ্যা ঠিক সাতটায় তোমার ফ্লাইট, বলল সে ধীরে। আমি তোমার সঙ্গে যাবো। বিকেল পাঁচটার মধ্যে প্রস্তুত হয়ে রেখো নিজেকে। সাড়ে পাঁচটার মধ্যে বাসা থেকে বের হবো,এয়ারপোর্ট পৌঁছাতে আধা ঘণ্টার মতো লাগবে। ফ্লাইটের অন্তত দেড় ঘণ্টা আগে পৌঁছানোই ভালো।

" আনহা কৃতজ্ঞতার মৃদু স্বরে মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো।"

"দেশে ফিরে ভুলে যেও না কিন্তু… রোজ কল করবো, আকাশের কণ্ঠে ছিল এক অদ্ভুত উষ্ণতা।'

এবার মিম আর সারা হেসে এগিয়ে এলো।
— আমাদেরও ভুলে যাস না, মিম মজার ভঙ্গিতে বলতেই সারাও সম্মতিসূচক মাথা নেড়ে দিল।

আনহার চোখের কোণে তখন জল চিকচিক করছে, ঠোঁটে ফুটে উঠেছে এক মায়ামাখা হাসি।

" কখনো না…।

চলবে...?

❌ কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ❌

[ গল্প পড়ে চলে যাও অথচ রিয়েক্ট দিতে অনেক কষ্ট লাগে তাই না শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই বাস্তব । কথা টা সবার জন্য না আমার প্রিয় পাঠকগন সব সময় আমাকে রিয়েক্ট দিয়ে মন্তব্য করে উৎসাহিত করে তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ তবে যারা চুপিচুপি গল্প পরে চলে যাও আমি কিন্তু সবই খেয়াল করি এতোকিছুর পরেও আমি গল্প দেওয়া বন্ধ করি নি ]


সবার আগে গল্প পেতে এই পেইজ টিকে ফলো দিয়ে রাখুন 👉
https://www.facebook.com/profile.php?id=61570107704035&mibextid=ZbWKwL

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Esh*ta Islam -ইশিতা ইসলাম posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share