14/01/2026
স্বামীর জন্য স্ত্রীর দুধ পান করার শরয়ি বিধান
(ফিকহে হানাফির আলোকে দলিলসহ)
প্রশ্ন
সহবাসের সময় স্বামী যদি নিজের স্ত্রীর দুধ পান করে, তাহলে শরীয়তের দৃষ্টিতে এর কী হুকুম? এতে কি নিকাহের কোনো প্রভাব পড়ে?
সংক্ষিপ্ত উত্তর
ফিকহে হানাফির মতে স্বামীর জন্য স্ত্রীর দুধ পান করা জায়েয নয় (হারাম)। তবে এতে নিকাহ ভঙ্গ হয় না, এবং কোনো ধরনের "দুধ-সম্পর্ক (রিদাআত)"ও প্রতিষ্ঠিত হয় না। যদি এ কাজ সংঘটিত হয়ে যায়, তাহলে তাওবা ও ইস্তিগফার করা আবশ্যক।
বিস্তারিত ব্যাখ্যা
১. মূল শরয়ি বিধান
স্বামীর জন্য নিজের স্ত্রীর দুধ পান করা শরীয়তসম্মত নয়। কারণ স্ত্রীর দুধ তার দেহেরই একটি অংশ এবং মানুষের দেহ ও দেহাংশ শরীয়তে সম্মানিত ও মর্যাদাসম্পন্ন।
২. নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ
ফিকহে হানাফির মূলনীতি অনুযায়ী—
মানুষের দেহাংশ মুকাররম (মর্যাদাসম্পন্ন)
কোনো শরয়ি প্রয়োজন ছাড়া মানুষের দেহাংশ ব্যবহার করা বা তা থেকে উপকার গ্রহণ করা নাজায়েয
স্ত্রীর দুধ যেহেতু তার দেহাংশ, তাই স্বামীর জন্য তা পান করাও নিষিদ্ধ।
৩. শিশুর দুধপানের সঙ্গে পার্থক্য
শিশুর জন্য মায়ের দুধ পান করা বৈধ, তবে তা—
প্রয়োজনের কারণে
নির্দিষ্ট সময়ের জন্য
ফিকহে হানাফির মতে শিশুর দুধপানের মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই বছর। এই সময় অতিক্রম করার পর শিশুর জন্যও মায়ের দুধ পান করা জায়েয নয়। অতএব, প্রাপ্তবয়স্ক স্বামীর জন্য তো অবশ্যই বৈধ নয়।
৪. ফিকহে হানাফির দলিল
ফতাওয়া শামী (রদ্দুল মুহতার)-এ বলা হয়েছে:
وَمَصُّ ثَدْيِ امْرَأَةٍ لَا يَحِلُّ؛ لِأَنَّهُ جُزْءٌ مِنْ آدَمِيٍّ، وَجَزْءُ الْآدَمِيِّ مُكَرَّمٌ
(রদ্দুল মুহতার, কিতাবুল কারাহিয়াহ)
অর্থ:
কোনো নারীর স্তন চোষা হালাল নয়; কারণ এটি মানুষের দেহের অংশ এবং মানুষের দেহাংশ সম্মানিত।
৫. অনিচ্ছাকৃতভাবে দুধ মুখে চলে এলে
যদি স্বামী স্ত্রীর স্তনে মুখ রাখার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে দুধ বের হয়ে আসে, তাহলে—
ইচ্ছাকৃতভাবে দুধ পান করা উচিত ছিল না
তবে যদি পান করেই ফেলে—
৬. এতে কি নিকাহ ভেঙে যাবে?
না।
ফিকহে হানাফির মতে—
স্ত্রীর দুধ পান করলে নিকাহ বাতিল হয় না
স্বামী–স্ত্রীর সম্পর্ক হারাম হয়ে যায় না
কোনো ধরনের রিদাআত (দুধ-সম্পর্ক) সাব্যস্ত হয় না
৭. করণীয়
যদি এ ধরনের কাজ সংঘটিত হয়ে যায়, তাহলে—
আল্লাহ তাআলার কাছে খাঁটি তাওবা করা
নিয়মিত ইস্তিগফার করা
এটি শরীয়তের দাবি।
উপসংহার
স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে ঘনিষ্ঠতার অনুমতি থাকলেও শরীয়ত সেখানে সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। ফিকহে হানাফির আলোকে স্ত্রীর দুধ পান করা নিষিদ্ধ হলেও এতে বৈবাহিক বন্ধনে কোনো প্রভাব পড়ে না। তবে একজন মুসলমানের জন্য শরীয়তের সীমা রক্ষা করা ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা অপরিহার্য।