05/04/2026
❑ বিবাহের পথের সকল বাঁধা দূর করার আমল—
প্রাচীনকাল থেকে আজ অবধি, অসংখ্য মুসলিম–
সূরা ফুরকানের ৭৪ নম্বর আয়াতের মাধ্যমে তাদের বিবাহের পথে সকল বাধা দূর করেছেন। তাই আমাদের পর্যবেক্ষণ অনুসারে, সূরা ফুরকানের ৭৪ নম্বর আয়াতের মাধ্যমে আপনি বিবাহ সম্পর্কিত ১০টি সুবিধা পেতে পারেন ইংশাআল্লাহ্।
১)আপনার বিবাহ শীঘ্রই সম্পন্ন হবে।
২)আপনার পছন্দের বিবাহে আপনি সফল হবেন।
৩)আপনার বাবা-মা আপনার বিবাহে সম্মত হবেন।
৪)মেয়ের শীঘ্রই বিবাহ হবে।
৫)মেয়ের পছন্দের বিবাহ প্রস্তাব পাবেন।
৬)আপনার একটি সমৃদ্ধ সম্পর্ক থাকবে।
৭)আপনি খারাপ নজর, কালো জাদু এবং শত্রুদের হাত থেকে মুক্তি পাবেন।
৮)বিয়ের পরে আপনার জীবনে ভালোবাসা এবং আশীর্বাদ সর্বদা থাকবে
৯)একজন বিধবা তার পছন্দের স্বামী পাবেন
১০)তালাকপ্রাপ্ত মহিলা শীঘ্রই বিবাহ করবেন।
আমরা আপনাকে সূরা ফুরকানের ৭৪ নম্বর আয়াতের বিবাহ সম্পর্কিত ১০টি সুবিধা বলেছি, তাই এই ১০টি সুবিধা পেতে আপনাকে সূরা ফুরকানের ৭৪ নম্বর আয়াতের ওযিফা করতে হবে।
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
❑ বাংলা উচ্চারণ : রাব্বানা হাবলানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া জুররি-ইয়্যাতিনা কুররাতা আয়ুনিওঁ-ওয়াজআলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।
❑ অর্থ : হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন ,
যারা আমাদের চক্ষু শীতল করে দেয়! আর আমাদের মুত্তাকিদের নেতা বানিয়ে দিন। (সূরা : ফুরকান, আয়াত : ৭৪)।
ওয়াল্লহু আলাম।
❑ এছাড়াও দ্রুত বিয়ের জন্য কার্যকরী আমল:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
বিয়ের বিষয়ে আন্তরিক দোয়া ও প্রচেষ্টা সত্ত্বেও যখন বিলম্ব ঘটে, তখন হতাশ না হয়ে আল্লাহর দিকে আরও দৃঢ়ভাবে ফিরে যাওয়া উচিত। নিচে কিছু পরীক্ষিত ও কল্যাণকর আমল সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
১. ইস্তিগফারে অভ্যস্ত হওয়া।
যথাসম্ভব সারাক্ষণ আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা চাইতে থাকা। চলাফেরা, কাজকর্ম, উঠা–বসা, সব অবস্থায় ইস্তিগফার জারি রাখা।
২. নেক জীবনসঙ্গীর দোয়া পড়া।
ফরজ নামাজের পর এবং সুযোগ পেলেই গভীর মনোযোগসহ পড়া সূরা আল-ফুরকানের ৭৪ নম্বর আয়াত—
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
৩. আল্লাহর অনুগ্রহ কামনায় দোয়া করা, নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বেশি বেশি পড়া, বিশেষভাবে সূরা আল-কাসাসের ২৪ নম্বর আয়াতটি পড়া যায়,
رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
৪. দোয়া কবুলের সময়গুলো কাজে লাগানো।
সিজদা, ফরজ নামাজের পর, ফজরের সময়, জুমার বিশেষ মুহূর্ত—কোনো সময়ই যেন দোয়া ছাড়া না যায়।
৫. হালাল পন্থায় পাত্র/পাত্রীর সন্ধান চালু রাখা।
আমল ও দোয়ার পাশাপাশি বাস্তব উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি।
৬. রুকইয়ার প্রতি মনোযোগী হওয়া,
হিংসা, কু-নজর বা জাদু-সিহরের আশঙ্কা থাকলে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহভিত্তিক রুকইয়া করা।
৭. নিয়মিত সদকা করা, অল্প হলেও ধারাবাহিক সদকা আল্লাহর রহমত ও সহজতা ডেকে আনে।
৮. অন্য মুসলিম ভাইবোনের জন্য বিয়ের দোয়া করা।
ইসলাম এতটাই সুন্দর যে, অন্যের জন্য যে দোযা করবেন, তা নিজের জন্য ডাবল হয়ে ফিরে আসে। নিঃস্বার্থ দোয়া দ্রুত কবুল হয় এবং নিজের জন্যও কল্যাণের দরজা খুলে দেয়।
৯. মা–বাবার সন্তুষ্টি অর্জন।
তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ ও সম্পর্ক বজায় রাখা আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
আর যদি দোয়ার সঙ্গে নিরন্তর চেষ্টা সত্ত্বেও বিবাহের কোনো সুব্যবস্থা না হয় এবং নফসের কামনা প্রবল হয়ে ওঠে, তবে ধারাবাহিকভাবে রোজা রাখাকে অভ্যাসে পরিণত করা উচিত। দৃষ্টিকে হারাম থেকে সংযত রাখা, নিজেকে উপকারী কাজে ব্যস্ত রাখা এবং সর্বদা আল্লাহ তাআলার জিকিরে মশগুল থাকা আবশ্যক।
রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন,
يا معشر الشباب! من استطاع منكم الباءة فليتزوج؛ فإنه أغض للبصر وأحصن للفرج، ومن لم يستطع فعليه بالصوم؛ فإنه له وجاء.
হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিবাহ করে নেয়। কারণ তা দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে। আর যে সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা রাখে; কেননা রোজা তার জন্য ঢালস্বরূপ। [মিশকাতুল মাসাবীহ: ৩০৮০; বুখারী: ৫০৬৬]