16/02/2026
১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণকারী ওসমানী ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মজীবন শুরু করেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু বাঙালির ওপর রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন ও বৈষম্যের প্রেক্ষাপটে তিনি স্পষ্ট অবস্থান নেন স্বাধীনতার পক্ষে।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তাঁকে বাংলাদেশ বাহিনীর (মুক্তিবাহিনী) সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত করা হয়। তাঁর নেতৃত্বে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে সেক্টর কমান্ডারদের মাধ্যমে যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল নির্ধারণ করা হয়—যা ছিল সুপরিকল্পিত সামরিক কাঠামোর এক ঐতিহাসিক উদাহরণ।
প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয়, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত যুদ্ধপরিকল্পনায় তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে যৌথবাহিনীর সমন্বিত অভিযানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের পথ সুগম হয়। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১-এর বিজয়ের পেছনে তাঁর সংগঠিত সামরিক নেতৃত্ব একটি মৌলিক ভিত্তি নির্মাণ করে।
স্বাধীনতার পরও তিনি রাষ্ট্রগঠনের প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং জাতীয় রাজনীতিতেও যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি ইন্তেকাল করেন।
জেনারেল ওসমানী কেবল একজন সামরিক কর্মকর্তা নন; তিনি ছিলেন জাতির সংকটকালে দৃঢ় সিদ্ধান্তের প্রতীক, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের অনন্য উদাহরণ। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের অঙ্গীকার হোক—মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় আপসহীন থাকা। তাঁর স্মৃতি জাতির প্রেরণা হয়ে চিরজাগরুক থাকবে।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানী–এর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা।