Shabz Diary

Shabz Diary ....where i keep all my random thoughts

ধরা যাক, দুই বছরের কেলি আর চার মাসের জ্যাককে নিয়ে মা বাবার সুন্দর সংসার। কোন ঝামেলা, ঝগড়াঝাটি নেই! সুন্দর সুখী পরিবার। এ...
07/09/2026

ধরা যাক, দুই বছরের কেলি আর চার মাসের জ্যাককে নিয়ে মা বাবার সুন্দর সংসার। কোন ঝামেলা, ঝগড়াঝাটি নেই! সুন্দর সুখী পরিবার। একদম পিকচার পারফেক্ট ফ্যামিলি যাকে বলে। এমনই নির্ঝনঝাট জীবনে কোন একদিন সকালে পুলিশ এসে দরজায় কড়া নেড়ে যদি বলে তাদের কাছে কিছু তথ্য আছে বাচ্চাদের বাবার ব্যাপারে। আর সে তথ্য ইন্ডিকেট করছে বাবা অনলাইনে চাইল্ড প/র্নো/গ্রাফি এ্যাক্সেস করেছে। সাথে অনলাইনেই কোন একজনের সাথে নিজের দুই বছরের মেয়েকে সে/ক্সু/য়া/লি এ্যা/বি/উজ করার ব্যাপারে আলোচনাও করেছে। তখন একজন স্ত্রী আর মা'এর কেমন লাগতে পারে!

পুরো রিপোর্টটা প্রফেশনালি নিয়েও শেষ পর্যন্ত কেন যেন মনে হলো এই মা'কে কিছু বলে সান্ত্বনা দেয়া দরকার। এই রকম ভয়াবহ সিচুয়েশনের মধ্যে দিয়ে যাকে যেতে হচ্ছে, মন শক্ত করে নিজের স্বামী, যাকে জীবনের চেয়েও বেশি বিশ্বাস করতো, নিজের সন্তানের বাবার এই কুৎসিত দিকটা যখন নিজেকেই রিপোর্ট করতে হচ্ছে, এরচেয়ে বড় অসহায়ত্ব মনে হয় আর কিছু হতে পারেনা। কিন্তু নিজেও বুঝে উঠতে পারছিলাম না কি বলে এই ইয়াং মা'কে সান্ত্বনা দেয়া৷ যায়! শুধু বলছিলাম, তুমি অনেক সাহসী। যা করছো আর যা করেছো তাও এমন কঠিন একটা সময়ে, তারজন্য তোমাকে praise করতেই হবে। হয়তো এই সামান্য recognition, সামান্য empathy ই দরকার ছিলো মেয়েটার। কান্না আর চেপে রাখতে পারলো না।

ফোনটা রাখার আগে শুধু জিজ্ঞেস করলাম, তোমার মা, বাবা, ফ্রেন্ড কেউ আছে, যে তোমাকে এই সময় মোরাল আর ইমোশনাল সাপোর্ট দিতে পারে? কাঁদতে কাঁদতেই বললো, বহু বছর হয়ে গেছে নিজের মা বাবার সাথে কোন সম্পর্ক নেই। সম্পুর্ন একা সে। শুনে আমি আরও নির্বাক! বললো, আমার সাথে কথা শেষ করে কাউন্সিলিং নেয়ার জন্য ফোন দিবে। Infact আর কার সাথেই বা শেয়ার করবে এসব কথা!
পশ্চিমের 'individualistic' সমাজে এমন হরহামেশাই হয়। মা বাবার সাথে বনিবনা নেই, সম্পর্কের টানাপোড়ন বা toxic family environment এড়াতে অনেকেই ফ্যামিলির কাছ থেকে দূরে সরে আসে। বললো ফ্রেন্ডও তেমন কেউ নেই। তাতেই বুঝে গেলাম, মেয়েটার ফোকাস ছিলো শুধুই স্বামী আর সংসার।

শুনে মনটা এতো খারাপ লাগছিলো! এতো খারাপ লাগছিলো! মেয়েটার চাওয়াতো খুব সামান্যই ছিলো। স্বামী আর সন্তানদের নিয়ে নিজের একটা সংসার। একটা জগৎ। অথচ সামান্য এই চাওয়াটা এই পুরুষটা এতো কুৎসিতভাবে ভেঙে না দিলেওতো পারতো! নিজের সাথে সাথে আরও তিনটা জীবনকে এভাবে ভেঙেচুড়ে না দিয়ে গেলেওতো পারতো। এই বাচ্চাগুলো বড় হয়ে নিজের বাবা সম্পর্কে কি জানবে! নিজেদের সম্পর্কেই বা কি অনুভব করবে! কত প্রজন্ম ধরে এই অভিশাপ তাদের বয়ে বেড়ানো লাগতে পারে, বাবাটা কি একবারও চিন্তা করেছিলো!

আমি ভীষন লজিক্যাল মানুষ। মানুষের ভালো বা মন্দ কোন দিককেই শুধু আবেগের চোখে দেখিনা। আবেগ দিয়ে বিচারও করিনা। কিন্তু বাবা/ মা হিসেবে একজন মানুষ যখন তার 'মন্দ' কে 'অস্বাভাবিক' পর্যায়ে নিয়ে যায়, সে মা বাবার সন্তানের জন্য পৃথিবীটা আর কখনোই স্বাভাবিক হয়না। যে সন্তানের জীবনে মা/বাবা নিজেই 'ঘাতক' হয়ে যায়, সে জীবন সন্তানের জন্য আজীবন বোঝা ছাড়া আর কিছুই হয় না।

ফোন রেখে নিজেকেই বোঝাচ্ছিলাম, এমনতো না যে এরচেয়ে নোংরা বা এরচেয়ে খারাপ কোন রিপোর্ট আমার হাতে আসেনি। কিন্তু তারপরও কিছু কিছু সময় আসে যখন আমার মতোন desensitized soul ও, মানুষের একাকীত্ব,অসহায়ত্ব, মনের গহীনে লুকানো জটিলতা, কুটিলতা আর নোংরামীকে উপেক্ষা করতে পারেনা। মনে হয় মানুষতো এমন না হলেও পারতো!

©মুনলীন

দেখতে দেখতে সিডনিতে স্প্রিং চলে এসেছে। আর প্রতি বছর আমাদের স্প্রিং উদযাপন করতে এই 'চেরি ব্লসম' ফেস্টিভালে যাওয়াটা মাস্ট!...
30/08/2026

দেখতে দেখতে সিডনিতে স্প্রিং চলে এসেছে। আর প্রতি বছর আমাদের স্প্রিং উদযাপন করতে এই 'চেরি ব্লসম' ফেস্টিভালে যাওয়াটা মাস্ট! অন্যান্যবার বাসার কাছের এই এক সপ্তাহের সেলিব্রেশনে বেশ কয়েকবার গেলেও এবছর ব্যাস্ততায় আর পেরে উঠিনি। আজকেই শেষ দিন তাই ঘুরে আসলাম।
দেখতে দেখতে বছরও শেষ হয়ে যাচ্ছে। অথচ কাজ ছাড়া অন্য কিছু করা বা ভাবার সুযোগ পাইনি। এইজন্যই কি এতো ক্লান্ত লাগছে কিনা জানিনা। উইন্টার শুরু হওয়ার পর থেকে শরীর খারাপ আর ক্লান্তিভাব এতো চেপে বসেছিলো, ভেবেছিলাম সামার আসলে হয়তো ভালো লাগবে। সামার পুরোপুরি না আসলেও, চারপাশে স্প্রিং এর রোদ ঝলমলে দিন দেখতে ভালোই লাগে। কিন্তু তারপরও ক্লান্তিভাব কোন ভাবেই ছেড়ে যাচ্ছে না। কি করলে যে ছেড়ে যাবে তাও জানি না। লাইফ মনে হচ্ছে কাজ, বাসা এই চক্রেই পারমানেন্টলি আটকে গেছে। তারমাঝেই এই ক্ষনজন্মা চেরি ফুল দেখে কিছুক্ষণের জন্য ক্লান্তি ভুলে থাকা।🌸

সেদিন এ্যামেরিকান এক ফুড ভ্লগারের ভিডিও দেখছিলাম। সে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় অদ্ভুত সব অখাদ্য, কুখাদ্য খাবারের এক্সপেরিয়ে...
16/08/2026

সেদিন এ্যামেরিকান এক ফুড ভ্লগারের ভিডিও দেখছিলাম। সে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় অদ্ভুত সব অখাদ্য, কুখাদ্য খাবারের এক্সপেরিয়েন্স নেয়ার জন্য ঘুরে বেড়ায়। তো তেমনি এক পর্বে সে খুঁজে বের করেছে ইন্দোনেশিয়ান এক ট্রাইবের স্পেশাল খাবার 'গরুর গোবর'! গরুকে জবাই করার আগে পাঁচদিন ধরে শুধু প্রিমিয়াম ঘাস খাওয়ানো হয়। জবাই এর পর গরুর পাকস্থলী কেটে যে ঘাস পাওয়া যায়, সেই ঘাসকে একটা প্লাস্টিকের ব্যাগে নিয়ে চিপেচিপে সেই ঘাস থেকে সবুজ জুস বের করে। সেই জুসের সাথে গরুর পাকস্থলীর নিজস্ব এ্যাসিডও মিশে একসাথে বের হয়। তারপর সেই জুসকে বড় একটা পাত্রে বিভিন্ন ধরনের সবজি, শাক, মটরশুটি, টমেটো, লেমন গ্রাস আর নামানোর আগে কোকোনাট মিল্ক আর ওদের নিজস্ব কি একটা নাট এ্যাড করে তারপর পরিবেশন করে। রান্নার সময়েই ফুড ভ্লগার বলছিলো সে অনেক অদ্ভুত ধরনের জিনিস ট্রাই করলেও, এই আইটেমের মতো এক্সট্রিম কিছু আগে কখনো খায়নি। তো রান্না শেষে যখন খাওয়ার পালা, তখন বেচারা প্রথম স্পুন মুখে দিয়েই বলছিলো, সে গোবরের গন্ধ পাচ্ছে। চিবানোর সময় নাকি ঠিকঠাকই ছিলো, কিন্তু গেলার পরই নাকি আবার সেই গোবরের গন্ধ এসে একটা ধাক্কা দিয়েছিলো। শেষমেষ এই জিনিসের সাথে ট্রাইবদের নিজস্ব একধরনের স্ট্রং এ্যালকোহল দিয়ে সেই খাবার তার গলধঃকরণ করতে হয়েছিলো!

তো এতো লম্বা ভূমিকার কারন হলো গতকাল আমার জিম্বাবুইয়ান ফ্রেন্ড এ্যালিসের বাসায় ওর হাতে বানানো ওদের নিজস্ব ট্র্যাডিশনাল একটা খাবার ট্রাই করলাম।বাংলায় বলতে গেলে বলা যায় অনেকটা 'গরুর মাংসের শুটকি'র মতো। যদিও আমি দেশে কখনো গরুর মাংসের শুটকি খাইনি।
এ্যালিস যেটা করে, গরুর কাঁচা মাংসকে পাতলা পাতলা স্লাইস করে কেটে, ভিনেগারে ২৪ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখে। তারপর বিভিন্ন রকম স্পাইসের সাথে মিক্স করে, তিন/চারদিন ধরে এয়ারড্রাই করে স্ন্যাকস হিসেবে খায়।তবে সত্যি কথা বলতে প্রথমে এই জিনিস মুখে দিয়ে একটা ধাক্কার মতো লেগেছিলো। যেহেতু এই ফ্লেভারের সাথে আমি একদমিই পরিচিত না, সাথে গরুর মাংসের একটা 'র' স্মেলও ছিলো। আর মুখে দেয়ার সাথে সাথে একটা সল্টিনেসের ধাক্কা। কেউ যদি 'ফুডি' বা ফুডের ব্যাপারে adventurous না হয়, তারজন্য এই জিনিস খাওয়াটা শুরুতে একটু কষ্টসাধ্যই হবে। কিন্তু আমি, ওমর দুজনই বিভিন্ন ধরনের, বিভিন্ন জায়গার ফুড ট্রাই করতে পছন্দ করি। তাই প্রথম ধাক্কাটা কেটে যাওয়ার পর পটাপট বেশ কয়েকটা খেয়েছিলাম দুজনে।

আর লাঞ্চে যে জিনিসটা দেখে ভীষন খুশী হয়ে গিয়েছিলাম, সেটাকে জিম্বাবুয়ের ভাষায় বলে 'শাযা'। মেইয/কর্ন (maize) এর গুড়ো দিয়ে তৈরি অনেকটা থকথকে সুজির হালুয়ার মতো। কিন্তু সাদা ভাতের মতো টেইস্টলেস। ইউটিউবে নাইজেরিয়ান ফুড 'ফুফু' দেখে আমি একবার এ্যালিসকে জিজ্ঞেস করেছিলাম সেইম জিনিস ওরা খায় কিনা। তাহলে আমি ট্রাই করে দেখতে চাই। রেস্টুরেন্টে গিয়ে অর্ডার করে যদি খেতে ভালো না লাগে! তাই আগে থেকে চেখে দেখার জন্য।
তো এবার দেখলাম সেই ব্যাবস্থাই করেছে এ্যালিস। তবে বললো, 'ফুফু' আর 'শাযা'র স্বাদে নাকি পার্থক্য আছে। 'ফুফু' তৈরি হয় কাসাভা প্ল্যান্ট থেকে। আর সেটায় নাকি একধরনের হালকা ফ্লেভার আছে। এ্যালিস ওই ফ্লেভারে অভ্যস্ত না। ওর কাছে 'শাযা'ই ভালো লাগে। শাযার সাথে খাওয়ার জন্য ছিলো বিফ আর চিকেন ভুনা। ওদের বিফ আর চিকেন রান্নার স্পাইসটা একটু ভিন্ন। টমেটো, ক্যাপসিকাম, গোলমরিচের আধিক্য বেশি। আর সেটা দিয়েই মেইন গ্রেভিটা হয়। কিন্তু খেতে ভালো। আমরা মজা করে খেয়েছি। দেশে যেমন পরোটা দিয়ে মাংস খাই। সেরকম ভাবেই 'শাযা' ওই মাখামাখা গ্রেভি আর মাংসের সাথে খেতে হয়। খুবই এঞ্জয় করেছি রেসিপিটা। আসার সময় এ্যালিস আবার এরিশার জন্যও একটু 'শাযা' আর বক্সে করে বিফ, চিকেন দিয়ে দিয়েছিলো। এরিশাও দেখলাম দারুন মজা করে খেয়েছে ডিনার।

আর এতোসব এক্সপেরিমেন্টাল খাবার খেয়ে আমার ইচ্ছে হচ্ছিলো দেশিয় নতুন কোন রেসিপি ট্রাই করতে। ওমরকে বাজার থেকে চাল কুমড়া বা জালি কুমড়া (কোনটা সঠিক নাম জানি না) আনতে বলেছিলাম। ইউটিউব ঘেটে একটা রেসিপি দেখে পছন্দ হওয়ায়, আমিও কুমড়ো ভেজে সরিষা বাটা দিয়ে ভুনা করলাম। এত্তো মজা লেগেছে রেসিপিটা। নতুন কোনকিছু ট্রাই করে সেটার আউটকাম ভালো হলে, আরও বেশি আনন্দ লাগে। আর রান্না করতে করতেই এই 'গোবর' কাহিনী মাথায় ঘুরছিলো! একটা প্রবাদ আছে না-'এক দেশের বুলি, আরেক দেশের গালি'? আর আমি ভাবছিলাম 'এক দেশের গোবর, আরেক দেশে জবড়'😁

©মুনলীন

একবার অফিসে কোন এক প্রোগ্রাম উপলক্ষে দেশি জর্দা বানিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম। সবাই খেয়ে খুব প্রশংসা করেছিলো। বাসায় ফেরার আগে লে...
12/08/2026

একবার অফিসে কোন এক প্রোগ্রাম উপলক্ষে দেশি জর্দা বানিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম। সবাই খেয়ে খুব প্রশংসা করেছিলো। বাসায় ফেরার আগে লেফট ওভার যতটুকু ছিলো ভারতীয় ম্যানেজার ভীনাকে বাসায় নিয়ে যেতে বলেছিলাম ওর হাজব্যান্ডের জন্য! সেটা খেয়ে নিখিলও নাকি এই জর্দা খুব পছন্দ করেছিলো।
তো সেদিন অফিসে ভীনা আমার জর্দা রেসিপির কথা জানতে চেয়ে বলছিলো, সে নাকি আগেরবার দেয়া আমার রেসিপি অনুযায়ী রান্না করেছিলো, কিন্তু সেটা একদমই ভালো হয়নি। ওর হাজব্যান্ড নিখিল নাকি মুখে দিয়েও দেখেনি। ভীনাকেই সব খেতে হয়েছে।

ভীনাকে আমি খুব পছন্দ করি। বয়সে আমার মা'র কাছাকাছি বা তার চাইতে একটু ছোট হতে পারে। কিন্তু ভীনা, নিখিল দুজনের কারোরই বয়স খুব একটা বোঝা যায়না। দেখলে মনে হবে ৫০/৫২ এর মতো। নিঃসন্তান দম্পতি। ভীনা ৩২ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়াতে পড়াশোনা করতে এসে, কোন এক ট্রেইন স্টেশনে নিখিলের মাথাভর্তি লম্বা, কোকড়ানো চুল দেখেই নাকি প্রেমে পরে গিয়েছিলো। এরপর ৩৮ বা ৪০ বছর বয়সে ভীনা নিখিলকে বিয়ে করে। ভীনার যে সন্তান হবে না, তা জেনেই নিখিল বিয়ে করেছিলো। কারন নিখিলও সন্তান চায়নি। ভীনা নাকি তারপরও সন্তান চেয়েছিলো আর নিখিলকে সারোগেসির মাধ্যমে সন্তান নেয়ার কথা বলেওছিলো, কিন্তু নিখিল রাজি হয়নি। তাই এখনো তাদের হাজব্যান্ড, ওয়াইফের টোনাটুনির সংসার।

আমার জীবনে দেখা অসম্ভব ভালো মনের কোন ভারতীয়র কথা উল্লেখ করতে হলে আমি ভীনার নাম নেবো! এতোটা মানবিক, এতোটা সেল্ফলেস আর এতো সহজ মনের মানুষ যে এ যুগে হতে পারে, তা আমার ধারনাই ছিলো না। আমি যখন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হসপিটালে ভর্তি হলাম। ভীনা কতবার যে আমাকে দেখতে এসেছিলো! কোন দরকার ছিলো না, তারপরও এসেছিলো।
শুধু আমি না, অফিসের সবাই ভীনাকে ভীষন পছন্দ করে। যদিও আমি মাঝেমধ্যেই ওকে বলি overload না নিতে। অন্যের কাজও নিজের মনে করে, নিজের কাঁধে না নিতে। কিন্তু এটাই আসলে ভীনার অভ্যাস-নিজের ১৫০% দেয়া। আর যে মানুষটা অন্য সবার জন্য এতো যে নিজেকে বিলিয়ে দেয়, তারজন্য সামান্য একটু জর্দা রান্না করাতো কিছুই না!

তাই আমিও গত রবিবার ভীণা, নিখিলের জন্য জর্দা রান্না করেছিলাম বক্স ভরে দিয়ে দেওয়ার জন্য। মনে হচ্ছিলো ওদের সন্তান থাকলে নিশ্চয়ই সেও তাদের পছন্দের খাবার রান্না করে খাওয়াতো! অফিসে আমাদের দুজনের একসাথে যাওয়ার ডেইট মেলাতে পারছিলাম না, তাই আজকে হাজব্যান্ড, ওয়াইফ দুজনে বাসায় এসে বক্স পিকআপ করলো। আবার আসার সময় আমার জন্য এক বক্স ইডলি, সাথে সবজি ডাল আর টমেটো, নারকেলের চাটনির মতো কি যেনো একটা কিনে এনেছে।

ইডলি জিনিসটা আমার আগে কখনো ট্রাই করা হয়নি, কিন্তু প্রথম খেয়ে মনে হলো দারুণ মজা। অনেকটা নোনা ভাপাপিঠার মতো। সাথের ডাল আর চাটনিটাও খুব টেস্টি ছিলো। ভীনাও ঘন্টাখানেক আগে মেসেজ দিয়ে জানিয়েছে, ওরা দুজন মজা করে Orange Rice (জর্দা) খাচ্ছে! তারপর থেকেই মনটা ভালো লাগছে। একজন ভালো মানুষের জন্য খুব সামান্য কিছু করতে পারাটাও দারুন ভালো লাগার একটা অনুভূতি এনে দেয়। And that's how kindness spreads throughout the world. আমি খুব ভাগ্যবান বলেই হয়তো ঘরের বাহিরে ভীণার মতো কিছু kind মানুষকে চেনা, জানা, তাদের সংস্পর্শে আসার সুযোগ হয়েছে। হয়তো একারনেই ঘরের চাইতে বাহির আমায় বেশি টানে! মনে হয় সমস্ত পৃথিবীটাই আমার ঘর!

©মুনলীন

03/08/2026

রুনা লায়লার গান ভালো লাগে, শুনে বড় হয়েছি, কিন্তু কনসার্ট দেখতে যাওয়ার মতো আগ্রহ খুব একটা ছিলো না। তাই উনার অস্ট্রেলিয়ায় শো করার কথা শুনলেও খুব একটা উৎসাহ দেখাইনি। কিন্তু কবে যেন দেশে আম্মুর সাথে গল্প করতে গিয়ে কনসার্ট প্রসঙ্গ উঠায়, আম্মু নিজে থেকেই দেখি আগ্রহ আর উৎসাহ নিয়ে বললো আমি যেনো উনার কনসার্টটা দেখি। এইরকম বড় শিল্পীতো আর কেউ নাই দেশে। তারউপর বয়সও হয়েছে উনার। দেশে আম্মুরও উনার শিল্পকলার কনসার্ট দেখার ইচ্ছা ছিলো। কিন্তু সময় করে উঠতে পারেনি।

যাইহোক, আম্মুর উৎসাহেই টিকেট কাটলাম। তাছাড়া ভাবনায় ছিলো রুনা লায়লার মতো শিল্পীকে এবার না দেখলে, এ জীবনে আর সে সুযোগ হবে কিনা কে জানে! তাই শেষমেষ তিনজনের টিকেট করেই ফেললাম। মেয়েকে বললাম বাংলাদেশ থেকে legendary artist আসবে, সুতরাং এই কনসার্ট দেখতেই হবে। মিউজিক, কনসার্ট এসব ব্যাপারে মেয়েও খুব একটা না করেনা।

তো গতকালকে এই শ্রদ্ধেয় শিল্পীকে দেখার আর শোনার সুযোগ হলো। উনার বেশ কয়েকটা হিট এবং পপুলার গান গেয়েছিলেন। পুরো শো ঠিকঠাক থাকলেও, উনার সময়ে এসেই সাউন্ড সিস্টেম কেন যে কিছুটা অবাধ্যতা শুরু করেছিলো! তা না হলে আরও বেশ কয়েকটা গান শোনা যেতো।

তবে অন্য আর যে গানই শুনিনা কেনো, কনসার্টের শেষে এসে উপমহাদেশের এই লেজেন্ডারি শিল্পীর গলায়, সামনে বসে যখন 'মাস্ত কালান্দার' শুনলাম, জাস্ট মনে হলো আমার জীবন স্বার্থক! এরপরে আর কখনো যদি উনাকে সরাসরি শোনার সুযোগ নাও হয়, তারপরও আফসোস থাকবেনা! সে কি অসাধারণ গায়কী, পারফরম্যান্স, সুরের ধ্যানে ডুবে যাওয়া। What a surreal & mind blowing experience! আমরা অনেক ভাগ্যবান বলেই হয়তো উনার মতো শিল্পী এই দেশে জন্মেছেন। সাথে আফসোসও হয়েছে। সত্যি কথা বলতে, উনি পাকিস্তান বা ভারতে থাকলে বা জন্মালে আশা ভোঁসলে বা লতা মুঙ্গেশকার পর্যায়ে চলে যেতেন! হয়তো বাংলাদেশ বলেই তা হয়ে উঠেনি। তারপরও অসম্ভব শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা উনার জন্য।

এরপর বলতেই হবে কনসার্টের বাকি দুই পারফরম্যান্স এর কথা। পিন্টো ঘোষ এর কন্ঠের আমি দারুন ফ্যান সেই 'চিরকুট' এর সময় থেকেই। ভীষন disappointed হয়েছিলাম যখন উনি ব্যান্ড ছেড়ে বের হয়ে আসলো। যদি না আসতো তাহলে হয়তো উনি আরও বেটার পজিশনে থাকতে পারতেন আর্টিস্ট হিসেবে। যেটা উনি deserve ও করেন। চিরকুটের অনেক গানই আমার মনে হয়, পিন্টোর ভোকালে আরও বেশি ফুটতো। কারণ এই রেঞ্জের, নিখুঁত ভোকাল 'চিরকুট' এ অন্য কারও নাই। Pinto was excellent as usual & loved his down to earth, humble soul.

পিন্টোর পরে Bengal Symphony নিয়ে ইমন চৌধুরী যখন মঞ্চে আসলো, জাস্ট মনে হলো মঞ্চে আগুন ধরে গেছে। What a GEM he is!! Too good! Too perfect! Words aren’t enough to describe what an extraordinary performer he is. বিদেশের মাটিতে বসে দেশের কোন ব্যান্ড এর এতো নিখুঁত, এতো প্রফেশনাল পারফরম্যান্স আমি আগে দেখিনি। আমার মেয়ে সবচেয়ে বেশি এঞ্জয় করেছে Bengal Symphony'র পারফরম্যান্স। ইমনের ইন্স্ট্রুমেন্টস বাজানো শুনেই মেয়ে বুঝে গেছে what a genious musician he is. Hats off!

এবারের এই শো এর মতো একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পয়সা উসুল করা দেশিয় কনসার্ট আমি এর আগে এক্সপেরিয়েন্স করিনি। অর্গানাইজারদের সে জন্য একটা বিশাল ধন্যবাদ দিতেই হবে। I hope, its not just a one time fluke thing. বার একবার হাই হয়ে গেলে, সেটা ধরে রাখতে পারাটাই আসল ক্রেডিট।

গত কয়দিন ধরে শরীর খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। অসুস্থতা কেমন আসি আসি করছে গা ম্যাজম্যাজ আর চোখ দিয়ে ক্রমাগত পানি পরার মধ্যে দিয়ে। সে জন্য কনসার্টে যাওয়ারও খুব একটা এনার্জি পাচ্ছিলাম না। কিন্তু শো শেষে বাসায় ফেরার পথে মনে হচ্ছিলো, it was indeed a great decision to purchase the tickets. Coz, mums are always right 😊

©মুনলীন

দেখতে দেখতে অগাস্ট চলে আসছে। ২০২৬ এর অর্ধেকেরও বেশি শেষ হয়ে গেছে। এভাবেই দেখতে দেখতে বছরের বাকি চার মাসও চোখের পলকে শেষ ...
29/07/2026

দেখতে দেখতে অগাস্ট চলে আসছে। ২০২৬ এর অর্ধেকেরও বেশি শেষ হয়ে গেছে। এভাবেই দেখতে দেখতে বছরের বাকি চার মাসও চোখের পলকে শেষ হয়ে যাবে। আবার নতুন বছর শুরু করবো। একটু একটু করে আমাদের জীবন, মৃত্যুর দিকে আগাতে থাকবে। এভাবেই চলতে চলতে হয়তো অকালে কোন বন্ধু হাড়াবো, বা কোন বায়োজ্যেষ্ঠ, কোন সহকর্মী, গুরুজন, খুব কাছের বা দুরের বা হয়তো কোন ফেইসবুক বন্ধু!

সময়ের এই দ্রুত চলে যাওয়াকে উপলব্ধি করে আজকে হঠাৎ করেই মনে হচ্ছিলো-কি করলাম এই জীবনে! বয়স যখন এগারো, বারো ছিলো তখন মনে হতো সময় যেন কিছুতেই কাটছে না। বয়স কোন ভাবেই বারোর কোঠা পার হতে চাইছে না। আর এখন ধেইধেই করে প্রতি বছর ধাম করে একবারে দশ বছর যেন নাই হয়ে যাচ্ছে।

একসময় মনে হতো আমি হয়তো ষাট পার হলেই মারা যাবো। হয়তো তা চাইতামও! আমার ফ্যামিলির বহু মানুষ ষাটের কাছাকাছি বা তার আগেই মারা গেছে। হয়তো সেখান থেকেই এ ধারণা হয়েছিলো। কিন্তু এখন কেনো যেনো এতো জলদি পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে ইচ্ছে হয়না। যদিও আমার বন্ধু রাজিকের মৃত্যুটা আমাকে একটা ধাক্কা দিয়ে গেছে! বারবার নিজেকে প্রশ্ন করতে বাধ্য করছে- এই যে এক জীবন পেলাম, কি করলাম সে জীবনে! জন্মালাম, বড় হলাম, পড়াশোনা, বিয়ে করলাম, মা হলাম, কাজ করলাম, এখনো করছি, এরপর একসময় টুপ করে মরে যাবো, এটাই কি জীবন!

আমাদের সবারই হয়তো সবার জীবন নিয়ে কোন না কোন আক্ষেপ আছে। আমার এ জীবন হয়তো অন্য কারও কাছে স্বপ্নের মতো। আবার অন্য কারও জীবন আমার কাছে স্বপ্নের মতো। তারপরও কেন যেন মনে হয়, যে জীবন আমি যাপন করতে চেয়েছি সে জীবন আমি পাইনি! ঘুরে ঘুরে, উড়ে উড়ে যে জীবন আমি নিজের মতো কাটাতে চেয়েছি, তা পারিনি। লন্ডনে আমি আমার জীবনটা অপূর্ন রেখেই চলে এসেছি। সে আফসোস আমার কখনো যাবেনা। সে আক্ষেপ হয়তো মৃত্যুশয্যায়ও রয়ে যাবে। নিজের মনকে না শোনার আক্ষেপ! নিজের চাওয়াকে গুরুত্ব না দেওয়ার আক্ষেপ!

অফিস থেকে ফেরার পথে গাড়ি চালাতে চালাতে লক্ষ্য করলাম আকাশে বিশাল চাঁদ দেখা যাচ্ছে। আমি যেহেতু বিশ্বাস করি মানুষের শরীর, মন, প্রকৃতি, মহাবিশ্ব সব একিই ছন্দে উঠানামা করে। তাই হয়তো এতো স্পষ্ট চাঁদ দেখে, মনের ভেতরের চেপে রাখা অনুভূতিগুলোও আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠছিলো! তা না হলে কেনো বারবার মনে হচ্ছে-আবার যদি নতুন করে সবকিছু শুরু করার সুযোগ থাকতো, আমি ২০০৭ এর লন্ডন জীবনকে ফেরত পেতে চাইতাম। ঠিক সেখান থেকে আবার নতুন করে জীবনকে শুরু করতে চাইতাম, যেখানে জীবনকে সত্যিকার ভাবেই পরিপূর্ণ মনে হয়েছিলো! Cause, my heart wants to start over again to live the life i was always meant to.

©মুনলীন

সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্পর্ক টেকানো নিয়ে জ্ঞান দেয়া মানুষজনদের আমি সবসময়ই সন্দেহের চোখে দেখি। এই মহিলার জামাইয়ের কথাবার্তা মা...
28/06/2026

সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্পর্ক টেকানো নিয়ে জ্ঞান দেয়া মানুষজনদের আমি সবসময়ই সন্দেহের চোখে দেখি। এই মহিলার জামাইয়ের কথাবার্তা মাঝেমাঝেই এতো গ্রাম্য,অশিক্ষিত, আর ধর্মান্ধ লাগতো যে সহ্য করা যেতো না। আর মহিলা ইনায় বিনায় সেগুলো সমর্থনও দিতো! এদের সম্পর্কের প্রমানিত ব্যার্থতা আবারও প্রমান করলো সম্পর্ক টিকানোর কোন পারফেক্ট ফর্মূলা নাই।

কথায় আছে 'ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়'। ইচ্ছা দুই পক্ষের থাকতে হয়। আবার ইচ্ছা থাকলে, টিকে থাকলেই যে সেইটা পারফেক্ট হয়। সেই গ্যারান্টিও কেউ দিতে পারেনা। মানুষ হিসেবে আমাদের মানব জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হচ্ছে, আমাদের জীবনের সব উত্তর জানা নাই। কোনদিন জানতে পারবও না। যখনই মনে হবে আমরা ইশ্বরের কাছাকাছি পৌঁছে গেছি! ইশ্বর তখন নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে দূর থেকে বসে মজা দেখবে।

বেশিরভাগ মানুষ এভারেজ। চিন্তাভাবনাও এভারেজ। তাই তারা স্কলার/হুজুর/মনীষী/বুদ্ধিজীবী এদের কাছে ছুটে যায় 'আন্সার' এর জন্য। ভুলে যায় তারাও মানুষ। আর মানুষ কখনো পারফেক্ট না। আমাদের জীবনের 'আন্সার' আমাদের নিজেরই খুঁজে বের করতে হয়। ভুল হোক, সঠিক হোক তা নিয়েই বাঁচতে হয়।জীবন মানে শুধুই চিন্তা, ঝামেলাবিহীন মসৃন পথ না। উঁচু, নিচু, সফলতা, ব্যার্থতা, পাওয়া, না পাওয়া সবকিছু নিয়েই আমাদের এ মানব জীবন।

©মুনলীন

সিডনির Vivid night এ প্রথম গিয়েছিলাম ২০১১ তে। তখন খুব ভালো লেগেছিলো। এরপর গেলাম এই ২০২৬ এ। এরিশার প্রথম Vivid দেখা। ওর ন...
31/05/2026

সিডনির Vivid night এ প্রথম গিয়েছিলাম ২০১১ তে। তখন খুব ভালো লেগেছিলো। এরপর গেলাম এই ২০২৬ এ। এরিশার প্রথম Vivid দেখা। ওর নাকি ভালো লেগেছে। আর আমি ততটাই disappointed হয়েছি। 'যায় দিন ভালো, আসে দিন খারাপ' এই নীতি ফলো করে কিনা কে জানে! নাকি যা কিছু প্রথম, তাই সুন্দর আর মুগ্ধতা জাগানিয়া কিনা কে জানে! যদিও প্রথম সবকিছু সুন্দর বা প্রথম দেখায় প্রেম হওয়া এসব কোনটাই আমি বিশ্বাস করিন। কিন্তু দুঃখ লাগছে এই ভেবে যে মন আর আগের মতো সহজে সবকিছুতে ভালো লাগা খুঁজে পাচ্ছে না। যা এতোদিন বড়দের মুখে শুনে এসেছি, তা এখন নিজের ক্ষেত্রেই উপলব্ধি করছি। আমি কি তাহলে ফাইনালি বড় হয়ে যাচ্ছি!

যাইহোক ভিভিড নাইটে হাঁটাহাটি করে আরও বেশি ক্লান্ত লাগছিলো। কোনভাবেই চেহারা থেকে সরাতে পারছিলাম না সেই ক্লান্তি। এই আরেক সমস্যা! রাগ, ক্ষোভ, ভালো লাগা, খারাপ লাগা সব যদি মুখ দেখেই সবাই বুঝে যায় তাহলে আর আধুনিক যুগের nonchalant ভাব কিভাবে ধরবো! যাইহোক, সকালে ঘুম ভেঙেও রাতের ক্লান্তি কোনভাবেই যাচ্ছিলো না। আর বের হওয়ারও কোন ইচ্ছা ছিলো না। কিন্তু দিনটা এতো সুন্দর আর চকচকে ছিলো যে ওমরের উৎসাহে বের হতেই হলো। বের হওয়ার সময় গাইগুই করলেও, সমুদ্র পাড়ের ঠান্ডা বাতাস, শীতের মিষ্টি রোদ আর সিডনির ঝকঝকে নীল আকাশ শরীর, মনেকে সতেজ করেছে।

বয়স যত বাড়ছে ততই বুঝতে পারছি জীবন মানে ভালো, খারাপের মাঝামাঝি কিছু একটা। মানুষেরাও তাই। অংকে একশতে একশো পাওয়ার মতো পারফেকশন আমাদের মাঝে ঢোকানোর চেষ্টা করা হলেও, আমৃত্যু আসলে ইমপারফেক্টই থেকে যাই। আমার কিন্তু ব্যাপারটা ভালোই লাগে। পারফেক্ট কোন কিছুই আমাকে কেন যেন টানে না!

©মুনলীন

এবারের ঈদটা কেন যেন একটুও ঈদ, ঈদ মনে হচ্ছেনা। ফেবুতে ঢুকেও সেইম ব্যাপারটা অনুভব করছি। এতো হত্যা, ধর্ষন, শিশু মৃত্যু ব্রে...
28/05/2026

এবারের ঈদটা কেন যেন একটুও ঈদ, ঈদ মনে হচ্ছেনা। ফেবুতে ঢুকেও সেইম ব্যাপারটা অনুভব করছি। এতো হত্যা, ধর্ষন, শিশু মৃত্যু ব্রেইন আর নিতে পারছে না। কেমন দম বন্ধ লাগছে। সাথে গাও গুলাচ্ছে।

নিজের প্রফেশনের কারনেই হয়তো মানুষের বহু অন্যায়, অবিচার, নোংরামির খবর গা সওয়া হয়ে গেছে। কোন কিছুতেই আর চমকে উঠিনা। মনে হয় এ আর নতুন কি! মন্দের ভালো হিসেবে ব্যাপারটা শুধুই কর্মক্ষেত্রে আবদ্ধ ছিলো।

কিন্তু গত কয়দিন ধরে ফেবুতে প্রতিনিয়ত ধর্ষন, হত্যার ভিডিও, নিউজ দেখতে দেখতে এখন মনও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে ঘরে, বাইরে, দেশে, বিদেশে শুধু ট্রমা আর ট্রমা। কেউ ট্রমার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। কেউ শুনে শুনে বা দেখে দেখে ট্রমাটাইজড হচ্ছে। আশা বা পরিবর্তনের কথা কেউ আর বলছে না। সম্মিলিতভাবে সবাই 'যা হওয়ার তাই হবে' স্রোতে ভেসে যাচ্ছে। কারও কিচ্ছু করার নেই! কি ভয়ংকর এক আশাহীনতার ভেতর দিয়ে আমরা যাচ্ছি ভাবতেই শিউরে উঠছি!

গতকাল সন্ধ্যায় আম্মুর সাথে ফোনে দীর্ঘক্ষন গল্প করতে করতেই বললাম 'তুমি বেঁচে আছো বলে তাও কথা বলতে পারছি, তানা হলে কি করতাম'! মন চাইলেইতো আর যাকে তাকে নিজের ভালো না লাগার কথা বলা যায়না। মন চাইলেই যার তার কাছে দৌড়ে ছুটে যাওয়া যায়না। আর সবচেয়ে ভয়ংকর লাগে যে আম্মু না থাকার নিস্তব্ধতা আমি এখনি কল্পনা করতে পারি। অনুভব করতে পারি। এই নিঃসংগতা আসলে ভাষায় প্রকাশ করা যায়না। আমার মতো 'তাল মিলিয়ে' চলতে না পারা মানুষের জন্য সে এক ভয়াবহ শাস্তি। কথা বলার মানুষের এতো অভাব! নাহ, ভুল বললাম। আসলে, কথা বলে মন ভালো করার মানুষের এতো অভাব! ৮ বিলিয়ন মানুষের এই পৃথিবীতে জীবন মানে হয় শুধু নিঃসংগতা, না হয় কুৎসিত বেঁচে থাকা, না হয় বীভৎস মৃত্যু হতে পারেনা! কিন্তু মুক্তি কিভাবে মিলবে, কোথায় মিলবে সে উত্তরও জানি না।

©মুনলীন

গত দু/তিন বছর ধরে শীতে আমাদের বাসায় একটা mandatory আইটেম হচ্ছে খাসির পায়া। দেশে থাকতে এই জিনিস শুধু কোরবানির পর খাওয়া হত...
23/05/2026

গত দু/তিন বছর ধরে শীতে আমাদের বাসায় একটা mandatory আইটেম হচ্ছে খাসির পায়া। দেশে থাকতে এই জিনিস শুধু কোরবানির পর খাওয়া হতো বাসায়। কি যে মজা লাগতো। কিন্তু সেটা হতো গরুর পায়া। আর অস্ট্রেলিয়ার গরু যেমন বিশাল তার পায়ের সাইজও বিশাল। আমার বাসার ছোট পাতিলে আটবে না বলে কখনো রান্না করা হয়নি।
তবে দেশের পায়া আর এখানেরটার পার্থক্য হচ্ছে, এখানে পা এর চামড়া সহ বিক্রি হয়। দেশে চামড়া সহ খেয়েছি বলে মনে পড়ে না। আমার কাছে যদিও এই চামড়াসহটাই খেতে মজা লাগে সবচেয়ে বেশি। ওমর প্রথমবার একটু অস্বস্তিতে ছিলো ব্যাপারটা নিয়ে। কিন্তু এখন সেও মজা পেয়ে গেছে।

তো এবছরে পায়ার দ্বিতীয় ব্যাচ রান্না করে এরিশার ঘানাইয়ান টিউটর জোয়ানাকে দিয়েছিলাম খেতে। যদিও আগে জিজ্ঞেস করে নিয়েছিলাম ও গোট খায় কিনা। স্যুপের কথা শুনে বললো Goat feet soup ওরাও বাসায় খায়। তারপর আমি যখন আমার দেশিয় স্টাইলে রান্না করা স্যুপ দিলাম, খেয়ে বললো she loved it! ঝালটা অন্যান্য সময়ের চাইতে একটু বেশি হওয়ায় ভাবছিলাম খেতে পারে কিনা। শুনে নিজে থেকেই বললো 'dont worry, i am African. We can handle chillies'.

জোয়ানাকে নিয়ে আগেও একবার লিখেছিলাম। মেয়েটার hard working, responsible ক্যারেক্টারটা আমি খুব পছন্দ করি। সিডনি ইউনিতে নার্সিং এ পড়ার পাশাপাশি আরও ছয়টা স্টুডেন্টকে বাসায় গিয়ে পড়ায়। সাথে একটা প্রাইভেট হাইস্কুলে টিচার্স এইড হিসেবেও কাজ করে।

সেদিন কথায় কথায় বলছিলো স্কুলের কাজটা নাকি ওকে বেশি ক্লান্ত করে ফেলে। স্কুলের ছেলেগুলো এতোবেশি আনরুলি আর অবাধ্য যে কাজ করা নাকি টাফ। এই প্রবলেমের কথা অবশ্য শুধু জোয়ানা না, এখানকার বেশিরভাগ টিচাররাই বলে। এখানকার স্কুলগুলোতে স্টুডেন্টের নেগেটিভ আচরণকে, পজিটিভে পরিবর্তন করার স্ট্র্যাটেজি হচ্ছে reward system.
যেমন, কোন এক স্টুডেন্ট হয়তো বারবার বলার পরও ঠিকমতো ইউনিফর্ম পরে আসছে না। কিন্তু হঠাৎ যেদিন সে মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঠিকঠাক ইউনিফর্ম পরলো, সেদিন তাকে good behavior এর স্টিকার দেওয়া হবে। তার এই পজিটিভ চেইঞ্জকে এনকারেজ করার জন্য। তো জোয়ানা বলছিলো ওর এই রিওয়ার্ড সিস্টেম পছন্দ না। কারন এতে করে স্টুডেন্টদের মিনিমাল এফোর্টকেই উৎসাহিত করা হচ্ছে। ওর কথা হচ্ছদ স্টুডেন্টদের কাছে স্কুলের এক্সপেক্টেশন এতো লো থাকবে কেনো!

ব্যাপারটার সাথে আমিও আসলে দ্বিমত করতে পারলাম না। এখানকার অস্ট্রেলিয়ান বাচ্চাদের মধ্যে বড়দের প্রতি রেসপেক্ট ব্যাপারটা এতো কম যে এর আগে এখানকার এক সিনিয়র কলেজের প্রিন্সিপাল আমাকে বলেছিলো সে আরব বা এশিয়ান কান্ট্রির ছেলেমেয়েদের স্টুডেন্ট হিসেবে বেশি প্রেফার করে। কারন শিক্ষকদের তারা সম্মান দিতে জানে।
এমনকি জোয়ানাও তার স্কুলের একটা এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করলো যেখানে ছেলেটা মিসবিহেইভ করছিলো। ক্লাসটিচার যখন জোয়ানাকে স্টুডেন্টের সাথে কথা বলতে বললো, সে জোয়ানাকে বলেছে তার চোখের দিকে না তাকিয়ে কথা বলতে। কারন ডিরেক্ট আই কন্টাক্ট তার পছন্দ না। জোয়ানাকেও বাধ্য হয়ে স্টুডেন্টের সাথে সাইডে তাকিয়ে কথা বলতে হয়েছে।
আমাকে বাসায় এসে বলছিল, জোয়ানার বাবা মা হলে টিচারের সাথে এই বেয়াদবির জন্য ভীষন শাসন করতো। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান বাবা মা'রা জীবনেও তা করবেনা। কথা কিন্তু সত্য!
এখানকার টিচারদের জন্য আসলেই আমার মায়া হয়, স্টুডেন্টকে নিয়ে পজিটিভ ফিডব্যাক দিতে তারা বাধ্য। কারন তাদের নেগেটিভ ফিডব্যাক যদি স্টুডেন্টের মেন্টাল হেলথের উপর কোন ইম্প্যাক্ট ফেলে, তাহলে বাবা মা এসে সেই টিচার আর স্কুলের বারটা বাজায় ফেলবে। আর এতে করে যা হচ্ছে অসংখ্য entitled কিডস আর এ্যাডাল্টে এই সমাজ ভরে যাচ্ছে।

আর আমাদের দেশে উল্টো সমস্যা। শিক্ষিকরা কতরকমভাবে ছাত্রদের সাথে অন্যায় আচরন করে। কেউ কেউ নাকি পিটাতে পিটাতে ছাত্র মেরেও ফেলে। আবার ছাত্র যদি ছাত্রনেতা হয় সে তখন শিক্ষকদের নানারকম ভাবে অপমান, অপদস্থ করে। এর কোনটাইতো আসলে কাম্য না। আমি অস্ট্রেলিয়ান পলিসিকেও যেমন ১০০% এ্যাপ্রিশিয়েট করিনা, দেশেরটাও না। সমাধানতো আসলে ব্যালান্সে। আর ব্যালান্স মেইনটেইন করার দায়িত্বতো আসলে সবার! কিন্তু কয়জন সে দায়িত্ব পালন করে সেটাই আসল প্রশ্ন।

©মুনলীন

Address

Barangaroo, NSW

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Shabz Diary posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Shabz Diary:

Shortcuts

Share