17/06/2025
নিচের লিস্টটা দেখে ভাবছিলাম আসলেইতো কয়টা লাক্সারি আছে আমার জীবনে! কথায় আছেনা 'জীবন খাতায় হিসাব নিকাশ মেলানো'! সেটা মেলাতে গিয়েই মনে হলো, আরে, খাতাতো একদমই শুন্য না!
১.সময় কার হাতে কতটুকু আছে সে কেই বা জানে। ২৫ বছরের টগবগে যুবক বা যুবতী, কি নব্বই বছরের অশতিপর বৃদ্ধ বা বৃদ্ধা, কে যে কার আগে যাবে তা ভাগ্য ছাড়া আর কারই বা নিয়ন্ত্রণে আছে! হয়তো আপাতঃদৃষ্টিতে বয়স যত কম, তার হাতে সময় তত বেশি! কিন্তু আসলেই কি তাই! সময় হাতে থাকলেই কি মানুষ সবকিছু তার মনমতো পূরণ করতে পারে!
২. আমার হেলথ কম্প্লিকেশনের পুরোটাই একটা অনিশ্চিত যাত্রা! কিন্তু তারপরও আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ, কারন চাইলে এরচেয়েও বেশি খারাপ অবস্থায় আমাকে রাখতে পারতেন! বা হয়তো আমার সময়টা আরও আগেই কেড়ে নিতে পারতেন! সে হিসেবে আমিতো আসলেই অনেক ভাগ্যবান!
৩. অসুস্থতা আর একটা দীর্ঘ সময় হাসপাতালে কাটানোর অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে কিভাবে মন শান্ত রাখতে হয়! আর মন শান্ত বলেই হয়তো মানুষ বা চারপাশের জগৎকে পড়তে বা অবজার্ভ করতে ভালো লাগে। মনেহয় অনেক কিছুর ইকুয়েশন অনেক সহজে এখন মিলে যায়।
তারপরও পারিপার্শ্বিক বা বাইরের অনেক প্রভাবক এখনো আমাকে মাঝেমধ্যেই অস্থির করে তোলে। প্রাণপন চেষ্টা করছি সে অস্থিরতা থেকে বের হয়ে আসার। সো এটা এখনো লাক্সারি না।
৪. স্লো মর্নিং এর লাক্সারি এখনো ভাগ্যে জুটেনি। সাতসকালে উঠেই মেয়ের স্কুলের নাশতা বানানো, স্কুলে ড্রপ করা, সকালের ব্যাস্ত ট্রাফিক পার হয়ে আবার ড্রাইভ করে বাসায় ফেরা, কাজ শুরু করা, সবমিলিয়ে মর্নিং একদমি স্লো না।
৫.আলহামদুলিল্লাহ! ট্রাভেল করার মতো শারীরিক সক্ষমতা এখনো আছে। এটা যে কত বড় সৌভাগ্য! কোনদিন বাংলাদেশে যেতে পারবো না ভাবলেই আমার নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় মানুষ মনে হয়!
৬.ইয়েস! কোন গিল্টি ফিলিং ছাড়াই আমি ইচ্ছেমতো রেস্ট করতে পারি! ওমর এর উপর ঘরের সব কাজ ছেড়ে দিয়ে ইচ্ছেমতো ঘুমাতে পারি! ওমর এসে মাঝেমধ্যে চা বানিয়ে দিয়ে যায়। বা খোঁজখবর নেয় কিছু লাগবে কিনা! He is a great homemaker আলহামদুলিল্লাহ!
৭. শরীর খারাপ না থাকলে ইউজ্যুয়ালি আমার রাতের ঘুম ভালোই হয়! কিন্তু কোন কারনে যদি ঘুম ঠিকঠাক না হয়, তাহলেই আমার বারোটা বেজে যায়। অল্প ঘুমিয়েও সুন্দরমতো ফাংশন করতে পারা মানুষ আমি না!
৮.জীবনের দুই তৃতীয়াংশ পার করে দিয়ে, ফাইনালি 'calm' এবং 'boring days' এর মর্মার্থ আমি উপলব্ধি করতে পেরেছি! And I actually love my absolutely boring & calm days! সুখ বা আনন্দ বলতে যারা সবসময় হৈচৈ, এক্সাইটমেন্ট বা মিনিংলেস সম্পর্কের মাঝে ইনভেস্ট করা বোঝে, তাদের কাছে অবশ্য এগুলো লাক্সারি না। কিন্তু ঘুরেফিরে শেষ পর্যন্ত সবাইকেই হয়তো এর মর্মার্থ বুঝতে হয়! জীবন কাউকেই ছাড় দেয়না!
৯.দুঃখজনকভাবে আমি এখন পর্যন্ত দেশে থাকা বা দেশে এডাল্ট লাইফ পার করে আসা কোন বাংলাদেশি মানুষ পাইনি, যার সাথে মিনিংফুল কনভারসেশন চালানো যায়! যাদের সাথে চেষ্টা করেছি, খুব অল্প সময় পরেই বুঝে গেছি তারা শুধু কিছুক্ষণের জন্য 'তাল মেলানোর' চেষ্টা করছে বা শুধুই নিজেকে জাহির করার চেষ্টা করছে। কনভারসেশনটা আর টু-ওয়ে থাকেনি তখন। মিনিংফুলতো না ই না!
কিন্তু বাংলাদেশিদের বাইরে অনেক মানুষ পেয়েছি যাদের সাথে আমি লং-টাইম মিনিংফুল কনভারসেশন চালাতে পেরেছি, পারি! এদের মাঝে কিছু বাংলাদেশি আছে যাদের জন্ম দেশের বাইরে বা যারা খুব ছোটবেলায় দেশ ছাড়ায়, ভিন্ন ভাবে ভাবতে পারে! এরা সবাই আমার ভাবনার জগতকে সমৃদ্ধ করেছে, করছে! আমি তাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞ!
১০. আমি রান্না করতে ভীষন ভালোবাসি। আমার নানী (বরিশালের মেয়ে ছিলেন), দাদীর বাড়ি (শরিয়তপুর) আর নিজের হাতের রান্না করা খাবার অনেক পছন্দ! বাংলাদেশ, কলকাতার বিভিন্ন ট্র্যাডিশনাল (নানী, দাদীর রান্না) আমি ট্রাই করতে পছন্দ করি। সো হোম কুকড মিলের লাক্সারি আমার আছে, আলহামদুলিল্লাহ! মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যেনো আমি নিজে রান্না করে খেতে পারি এটাই আমার চাওয়া!
১১. আমার ভালোবাসার মানুষরা আমার চারপাশেই থাকে। এরিশা, ওমর, আম্মু, আমার বোন, আমার অফিস কলিগরা! আমার ভালোবাসা আমি খুব একটা প্রকাশ করতে পারিনা। কিন্তু তারপরও এরা আমাকে ভালোবাসে! ব্যাপারটা ভাবলেই আমার অবাক লাগে!
১২.ফ্যামিলির বাইরে আমার কলিগদের দেখেছি, কি প্রবলভাবে তারা তাদের ভালোবাসা আমার জন্য প্রকাশ করেছে যখন আমি অসুস্থ ছিলাম। আমার সিলেটি লন্ডনি ফ্রেন্ড, কাশেম-বিলিভার না হয়েও দিনরাত আমার জন্য দোয়া করেছে, এমনকি মা'কে নিয়ে হজ্ব করতে গিয়ে, আমার জন্য ওমরাহ করে এসেছে! আমার অল্প কদিনের লেখক জীবনের দু একজন পাঠক, আমার স্কুল ফ্রেন্ডস যাদের সাথে হয়তো স্কুল লাইফে খুব কাছ থেকে মেশাও হয়নি, কিন্তু তাদের ভালোবাসা দূর থেকেও আমি অনুধাবন করতে পেরেছি!
©মুনলীন