Shabz Diary

Shabz Diary ....where i keep all my random thoughts

 #লন্ডনজীবন২২লন্ডনে সেমিস্টার চলাকালীন সময়ে আমার একস্ট্রা উপার্জনের একমাত্র পথ ছিলো টেসকোতে রবিবারে ওভারটাইম করা। ওইদিন ...
24/12/2025

#লন্ডনজীবন২২

লন্ডনে সেমিস্টার চলাকালীন সময়ে আমার একস্ট্রা উপার্জনের একমাত্র পথ ছিলো টেসকোতে রবিবারে ওভারটাইম করা। ওইদিন পাবলিক হলিডে থাকায় ডাবল পেমেন্ট করতো! তাই যখনই ওভারটাইম অফার করতো আমি লুফে নিতাম। অবশ্য শুধু আমি না, স্টোরে অন্য সবাই যাদের রবিবারে পারমানেন্ট শিফট ছিলো না, তারা সবাই ডাবল পেমেন্টের অফার পেলে লুফে নিতো! আট ঘন্টা কাজ করলে এক শিফটেই তখন আশি পাউন্ডের মতো চলে আসতো! আর নিজেকে তখন মনে হতো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী মানুষ।

এছাড়াও এই এক্সট্রা টাকা হাতে আসা মানে আমি মন চাইলেই দশ, বিশ পাউন্ড ইচ্ছে হলেই এদিক ওদিক খরচ করতে পারি। অঞ্জন দত্তের একটা গান ছিলো- "চেপে চেপে রাখা, মান অভিমান, টিপে টিপে খরচা"! নিজের টাকা খরচের অবস্থা তখন অনেকটা এমনই ছিলো। সে সময় আমি প্রায়ই ভাবতাম, জীবনে অঢেল টাকা চাইনা, কিন্তু অন্তত এই পরিমান চাই যেন মনে যখন যা ইচ্ছা হবে, কোন চিন্তাভাবনা না করেই খরচ করে ফেলতে পারি। কখনো কারো কাছে যেন চাইতে না হয় বা কৈফিয়ত দিতে না হয়।

তো রবিবারে সন্ধ্যা ছয়টাতেই স্টোর বন্ধ হয়ে যেতো! কাজ শেষে উইকেন্ডের ট্রেইন ধরে যখন ইস্টহ্যাম স্টেশনে এসে পৌঁছাতাম, তখন দেখা যেতো সন্ধ্যা সাতটা বা সাড়ে সাতটা বেজে গেছে। স্টেশনে থেকে আবার একটা লোকাল বাস ধরে বাসায় পৌঁছানো লাগতো! বাসের জন্য অপেক্ষা করতে করতে প্রায়ই দেখতাম দুই/তিনজন ইস্টার্ন ইউরোপীয়ান, মোস্ট প্রোবাবলি রোমানিয়ান একটা গ্রুপ একটা বল আর তিনটা কাপ দিয়ে কি যেন একটা গেইম খেলতো। তাদের খেলা দেখতে আবার কিছু লোকজনও আশেপাশে জমা হয়ে যেতো। গেইমটা অনেকটা এমন ছিলো, লোকটা ছোট একটা বল একটা কাপ দিয়ে ঢেকে দিতো! পাশে আরও দুইটা খালি কাপও ঠিক সেরকম ভাবেই রাখতো। তারপর দ্রুততার সাথে তিনটা কাপ এদিক ওদিক করে যে গেইমটা খেলতে আগ্রহী তাকে বলতে বলবে বলটা কোন কাপের নিচে আছে। যদি ঠিকমতো বলতে পারে সে তখন বিশ পাউন্ড জিতে যায়। আর না পারলে বিশ পাউন্ড উল্টা ফেরত দিতে হয়! আমি প্রায়ই দেখতাম ইস্টার্ন ইউরোপীয়ান লোকজন খেলছে আবার টাকা জিতেও যাচ্ছে।

তো একদিন আমার নিজেরও শখ হলো খেলার। সেদিন রবিবার ওভারটাইম করে আসায় মন খুব ফুরফুরে হাতে এক্সট্রা টাকা আসবে ভেবে! আর অন্যদের জিততে দেখে আমি নিজেও বেশ কনফিডেন্ট ফিল করছিলাম। প্রথম দানে খেলতে গিয়ে বিশ পাউন্ড জিতেও গেলাম। আমি যতনা খুশী তারচেয়েও বেশি অবাক হয়েছিলাম নিজের উইনিং লাক দেখে। এর আগে দোকান থেকে স্ক্র‍্যাচ কার্ড কিনে একবার সর্বোচ্চ জিতেছিলাম দুই পাউন্ড। সেই ফাটা কপাল নিয়ে বিশ পাউন্ড জিতে যাওয়া আমার জন্য অবিশ্বাস্য! এরপর মনে হলো আচ্ছা আর একবার দেখি! দ্বিতীয় দান খেলতে গিয়ে বিশ পাউন্ড উল্টা হেরে গেলাম। তারপর গেলো জেদ চেপে, ভাবছি এটলিস্ট বিশ পাউন্ড জিততেই হবে! তৃতীয়বারও হারলাম! আশেপাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করা লোকজন কৌতুহলি হয়ে হয়তো আমার পাগলামি দেখছিলো! ভাবলাম শেষ আর একবার ট্রাই করবো! কারন এরচেয়ে বেশি পাউন্ড হারা এফোর্ড করতে পারবো না! ফাইনালি চতুর্থবারও আরও বিশ পাউন্ড হেরে বাস ধরলাম। সেইদিন মোট আশি পাউন্ড হেরে গিয়েছিলাম। আমার মতো দিন আনি, দিন খাই স্টুডেন্টের জন্য সেটা যে কি বিশাল জেনেশুনে গচ্চা খাওয়া সেটা আমি নিজেও তখন রিয়েলাইজ করিনি!

পরে অবশ্য জেনেছিলাম এটা একটা গ্যাম্বলিং/স্ক্যাম গ্রুপ! জীবনে সেই প্রথম আর শেষ আমার গ্যাম্বলিং করা, তাও না বুঝে! যাইহোক এত্তোগুলো পয়সা নষ্ট করেও আমি যে আনন্দ পেয়েছি সেটার মুল্য ছিলো আমার কাছে আরও বেশি! আর তাছাড়া টাকাপয়সা, হিসাব নিকাশের বেলায় আমি বরাবরই উদাসীন, ভুলে ভরা! তার আরেকটা বড় উদাহরণ হচ্ছে, লন্ডনে যতদিন ছিলাম, প্রতিবছর ট্যাক্স রিফান্ডের সময় স্টুডেন্ট বা লো আর্নার হিসেবে ট্যাক্স রিফান্ডের যে অপশন ছিলো, সেটা আমি কোনদিনই ইউটিলাইজ করিনি। প্রথমত, আমি এই ব্যাপারটা জানতামই না! দ্বিতীয়ত, নিজের 'লোনার' স্বভাবের কারনে মানুষজনের সাথে মিশতামও কম, আর মিশলেও এই টাকাপয়সা সম্পর্কিত কথাবার্তা হতোই না! আর তৃতীয়তো, জগৎসংসার বা পার্থিব ব্যাপারে খুব বেশী মাথা ঘামাতে আমার বিরক্ত লাগতো! গরীব অবস্থায় ধনীদের প্রবলেম যাকে বলে! লন্ডন ছেড়ে আসার পর এই ট্যাক্স রিফান্ডের ব্যাপারটা যখন জেনেছিলাম, তখন কি যে আফসোস হয়েছিলো! ব্যাপারটা তখন জানা থাকলে অন্তত এক/দুই সেমিস্টারের টাকা জোগাড়ের জন্য এতো চিন্তা করা লাগতো না!

তবে সেই ঘটনার এতো বছর পার করেও টাকাপয়সার ব্যাপারে আমার চিন্তাভাবনার খুব যে পরিবর্তন হয়েছে, তাও না। আমি এখনো টাকাপয়সা উপার্জন করি আমার যা করতে ইচ্ছে হয়, সেটা চিন্তাভাবনা না করেই করে ফেলার জন্য! 'পরে করবো' এই ভাবনাটাই আমার ভালো লাগেনা। তো এই তাৎক্ষনিক শখ পূরণের স্বভাবের কারনে, জীবন কখনো আমাকে অসাধারণ অভিজ্ঞতা দিয়েছে, অথবা কখনো লেসন, কিন্তু শখ পুরন করতে না পারার আফসোস করতে দেয়নি!

© মুনলীন

ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়াতে ফুল সামার। অথচ এখানে বসে, গরমে ঘামতে ঘামতে আমি দেশের শীতের ঘ্রাণ পাই। আমার মন হালকা খারাপ হয়! শী...
21/12/2025

ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়াতে ফুল সামার। অথচ এখানে বসে, গরমে ঘামতে ঘামতে আমি দেশের শীতের ঘ্রাণ পাই। আমার মন হালকা খারাপ হয়! শীতের পরন্ত বিকেলটা সবসময় কেমন একটু মন খারাপ করা। কিন্তু সেটা আমি অস্ট্রেলিয়ার গরমে কেন অনুভব করি!

মানুষ হলে মন, মগজ, হৃদয়ের কত যুদ্ধের মাঝ দিয়ে যেতে হয়! লাস্ট দেশে গিয়েছিলাম দু'বছর আগে। খুব বেশীদিন আগেও না! কিন্তু মনে হচ্ছে হাজার বছর ধরে আমি দেশের ঘ্রান পাইনা। দেশের মানুষ দেখিনা। দুই বছর আগের আমি, আর এই আমিও কত বদলে গেছি। জীবন বদলে গেছে। আমার অবচেতন মন এই বদলে যাওয়া কি বুঝতে পেরেছিলো! তা না হলে সে বছরের সব ভিডিও, ছবিতে আমি প্রানপন দেশকে, দেশের মানুষকে ধরে রাখতে চেয়েছিলাম কেন! কেন বারান্দা থেকে দেশের শব্দ, গাড়ি, মানুষের ছবি তুলতে, তুলতে ক্যাপশন লিখেছিলাম 'হয়তো কোন এক সময় আর ফেরা নাও হতে পারে'!

বাংলাদেশ পুরোপুরি ছেড়েছি বিশ বছরের উপরে হবে! যদি ষাট, সত্তুরেও মারা যাই, তারপরও জীবনের বেশিরভাগ সময় আমার দেশের বাইরেই কাটানো হবে। অথচ তারপরও দেশ কেন আমাকে এতো টানে আমি বুঝিনা। মানুষ যা পায়না, তাকেই আরও বেশী আঁকড়ে ধরতে চায়! এ কারনেই কি দেশ নিয়ে আমার মাঝে একটা রোমান্টিসজম কাজ করে!অথচ সেদিন নিজেই ভাবছিলাম পৃথিবীতে সবচেয়ে ইউজলেস একটা অনুভূতি হচ্ছে এই 'রোমান্টিসিজম'!

কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে মনে হচ্ছে, এই অনুভূতিটা আসলে এতো ফেলনাও না! ভালোবাসা ব্যাপারটাকে আপাতদৃষ্টিতে খুব 'দূর্বল', 'ভঙ্গুড়', 'ঝড় আসলেই খুব সহজে ভেঙে পরা' টাইপ মনে হলেও, ব্যাপারটা আসল তেমন না। তা না হলে যেই দেশের সাথে আপাতদৃষ্টিতে আমার তেমন কোন সম্পর্ক নেই, স্মৃতি নেই, নেই কোন বন্ধুবান্ধব, সেই দেশ কেন ডিসেম্বর আসলেই আমাকে নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত করে! কেন আম্মুর মুখে 'শীত পরছে' শুনলেই এই দূরদেশে আমাকে বিষন্নতা ঘিরে ধরে! কেন মনে হয়, যে জীবন আমার কাটানোর কথা ছিলো, সে জীবন বোঝার আগেই কোন ফাঁকে হাত গলে বেরিয়ে গেলো, কেন টেরই পেলাম না!

© মুনলীন

আমি মাঝে মাঝেই তীব্র 'ভাল্লাগেনা' রোগে আক্রান্ত হই! এটা মোটেও ভালো কোন রোগ না। নিজেকে বারবার বুঝাই ভালো না লাগার মতো কিছ...
17/12/2025

আমি মাঝে মাঝেই তীব্র 'ভাল্লাগেনা' রোগে আক্রান্ত হই! এটা মোটেও ভালো কোন রোগ না। নিজেকে বারবার বুঝাই ভালো না লাগার মতো কিছু হয়নি, জীবন জীবনের মতো কখনো স্থবির, কখনো চঞ্চল। সুতরাং এই তাৎক্ষনিক অনুভূতি নিয়ে এতো মাথা ঘামানোর কিছু নেই! কিন্তু তারপরও 'ভাল্লাগেনা' ব্যাপারটা কাটে না।

আমার এক ফ্রেন্ড একবার বলেছিলো আমার জীবনে হয়তো অন্য কোন সমস্যা নাই, তাই আমার এই 'ভাল্লাগেনা' বিলাসিতা! আসলেই কি তাই! সমস্যা ছাড়া কি কারো জীবন হয়! আমার বিশ বাইশ বছরের স্ট্রাগলিং জীবনেওতো এই অনুভূতি হতো! নেক্সট সেমিস্টার ফি কিভাবে যোগাড় করবো, নেক্সট সপ্তাহের বাড়ি ভাড়া কিভাবে দিবো, এতোসব ভাবনা আর 'ভাল্লাগেনা' অনুভূতি নিয়ে আমি তখন একা একা লন্ডনের অলিগলি ঘন্টার পর ঘন্টা হেঁটে বেড়াতাম।

আমার কথা বলতে ভালো লাগেনা। একদমি না। কথা বলাটা খুব ক্লান্তিকর। মৌসুমী ভৌমিকের গাওয়া আমার প্রিয় গানটার মতো-"তোমার আমার ক্লান্ত দেহ, শব্দে, কথায় ভারাক্রান্ত"!
কিন্তু কথা শুনতে আমার ভীষন ভালো লাগে। মাঝে মাঝে মনে হয় একটা 'কথা শোনার দোকান' খুলে বসি! যার যত কথা আছে মনে, সব শুনে যাই! মনের আগল খুলে কথা বলার অপেক্ষায় আমরা সবাই একটা জীবন পার করে দেই, কিন্তু কথা শোনার মতো কাউকে পাইনা।

পৃথিবীতে মানুষের 'একাকীত্ব' নাকি এখন এপিডেমিক পর্যায়ে চলে গেছে। এতো, এতো শব্দ, কথা, টেক্সট, ফোন কলেও যদি আমাদের একাকীত্ব না কাটে, সে কি আসলে আমাদের শব্দ খেলার দোষ! নাকি এ আমাদের মানবজাতীর জন্ম থেকে জন্মান্তরে বয়ে চলা Collective Disorder! আর 'ভাল্লাগেনা' ব্যাপারটা যদি একাকীত্বের সমার্থক হয়, তাহলে মানুষের ভীড়েও কেন সেই একাকীত্ব কাটেনা!

© মুনলীন

দেশের নোংরা, কুৎসিত রাজনীতির খবর পড়তে পড়তে ভেবেছিলাম সবকিছুর ব্যাপারেই ইমিউন হয়ে গিয়েছি! তাই ওসমান হাদী নামের ছেলেটার মা...
14/12/2025

দেশের নোংরা, কুৎসিত রাজনীতির খবর পড়তে পড়তে ভেবেছিলাম সবকিছুর ব্যাপারেই ইমিউন হয়ে গিয়েছি! তাই ওসমান হাদী নামের ছেলেটার মাথায় গুলি করার সংবাদে মন খারাপ হলেও কোন রিএক্ট করতে বা 'আমিও হাদী' টাইপ কোন পোস্ট শেয়ার করতে ইচ্ছে করেনি।

আর সত্যি কথা হচ্ছে, ছেলেটাকে গুলি করা না হলে ওর জুলাই রিলেটেড কর্মকান্ড নিয়ে খুব একটা ওয়াকিবহালও ছিলাম না। হাদীর মব করা, ধানমন্ডি ৩২ ভাঙায় উস্কানি দেওয়া, রাজনীতির মাঠে অকথ্য গালাগালির প্রচলন করা, আক্রমণাত্মকভাবে নজরুলের কবিতা আবৃত্তি করা, আরও কত কি! তো সব মিলিয়ে ওসমান হাদী আমার পছন্দের মানুষ হওয়ার মতো কেউ না। এমনকি আমার আগ্রহ জাগানোর মতোও কোন ব্যাক্তিত্ব না। কিন্তু তারপরও এই তরতাজা প্রানটাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার বিভৎসতা আমার মন ভারী করেছে! যেহেতু দেশটা বাংলাদেশ তাই সে পর্যন্ত ব্যাপারটা মেনেও নিয়েছিলাম।

কিন্তু তারপরও, মন কখন যে কোন ঘটনায় কিভাবে রিএক্ট করে কে জানে! তাই ওসমান হাদীর গ্রামের এই টিনের বাড়ি আর সেখানে চুরি হওয়ার নিউজটা পড়ে কেন যেন নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। সারাদিন মন/মাথা কেমন ভার হয়ে ছিলো! বারবার ভাবছিলাম এই সামান্য টিনের বাড়িতে চুরি করার মতো কি এমন ধন সম্পদ পাওয়া যেতে পারে! সাথে এটাও ভাবছিলাম দেশের মানুষ এতো এতো অসততা, দুর্নীতি আর মিথ্যা দেখে অভ্যস্ত যে তাদের মনে হয়তো এই সামান্য চুরির ব্যাপারটা কোন ইম্প্যাক্টই ফেলবে না! তাহলে আমি কেন কিছুতেই এই হতদরিদ্র বাড়ির চেহারাটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারছি না!

বাড়িটা ঠিক যেন আমার সামনে ওসমান হাদীর প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে! ক্ষুদ্র, অসহায়, দরিদ্র কিন্তু মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা এক বাংলাদেশির ছবি! যে একেবারেই ক্ষমতাহীন! যাকে চাইলেই ক্ষমতাবানরা দুমড়ে মুচরে ফেলতে পারে। যাকে চাইলেই ভেঙেচুড়ে পিষে ফেলা যায়!

ওসমান হাদীকে আমি চিনতাম না। আমার মতো অনেকেই হয়তো আছে যারা চিনতো না! কিন্তু তাকে নির্মমভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়াই আজ হাদীকে চিনিয়ে দিয়েছে! হাদী নির্বাচনে হয়তো জিততোও না! হয়তো কয়েকশো ভোট পেতো! হয়তো আবার সেই গালাগালি, ভাংচুর এর রাজনীতিতে ফেরত যেতো! কিন্তু তাতে অন্তত দেশের নির্লজ্জ রাজনীতিবিদদের ওসমান হাদীর 'ক্ষমতাহীনতার' কাছে হেরে যেতে হতো না।

হাদীকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিয়ে শেষমেষ এটাইতো প্রমান হলো রাজনীতির নোংরা ময়দানে ওসমান হাদীর মতো চুনপুটিরাই মরে গিয়ে, ঝরে গিয়ে, সাদিক কায়েম, আসিফ মাহমুদ ভুঁইয়াদের মতো ভুঁইফোর রাঘব বোয়ালদের সংসদে জায়গা করে দেয়! যাদের অনেকেই নির্বাচনে জেতার জন্য ১৪ আর ১৬ই ডিসেম্বর ঘৃনাভরে পালন করবে, দেশের জনগণের লাইক,লাভ কুড়াবে! আর সংসদে গিয়ে দেশের ইতিহাস, কৃষ্টি, কালচার বদলে দেওয়ার জন্য দরকারমতো অসংখ্য হাদীকে মেরেও ফেলবে!

©মুনলীন

এক্সাক্টলি দশ বছর পর এরি মামী আবার অসট্রেলিয়া আসলো! এবার আসার আগেই বলেছিলো সে অস্ট্রেলিয়ান সামার ফ্রুটস খেতে চায়! বিশেষ ...
09/12/2025

এক্সাক্টলি দশ বছর পর এরি মামী আবার অসট্রেলিয়া আসলো! এবার আসার আগেই বলেছিলো সে অস্ট্রেলিয়ান সামার ফ্রুটস খেতে চায়! বিশেষ করে আম। সেজন্য আগে থেকেই বিভিন্ন ফল কিনে ফ্রিজ ভর্তি করে ফেলেছিলাম। মামীও মন ভরে ফল খেয়েছে। বেচারি খায় খুবই সামান্য। বলতে গেলে পাখির আহার! সেই খাওয়া দেখে মন তৃপ্ত হয়না।

তারপরও হালকা পাতলা দেশি রান্না করেছিলাম। প্রথমদিন এসেই স্যামন, বারামান্ডি মাছের সাথে গরুর ভুড়ি ভুনা করেছিলাম। দেখি খেয়ে খুব মজা পেয়েছে। একবার এর জায়গায় দুবার নিয়েছে। এবং লেফট ওভার ভুড়িও আগ্রহ করে খেয়েছে। বাংলাদেশে থাকতে মামী কখনো এই আইটেম খেয়েছিলো কিনা জানিনা। কিন্তু এবার এসে বুঝে, শুনে সজ্ঞানে ভুড়ি খেয়ে মামী খুব এঞ্জয় করেছে।

তালিকার দ্বিতীয় আইটেম ছিলো ঘরে বানানো চটপটি। দেশে গেলে এরি মামী রাস্তাঘাটের ধুলাময়লা দিয়ে ভরা চটপটি, ফুচকা প্রতিদিন খেতো! এই এক খাবারের বেলায় তার কখনো না ছিলো না। আর ২০০৭ এ শেষ পর্যন্ত এই জিনিস খেয়েই অসুস্থ হয়ে লং টার্মের জন্য তাকে দেশ ছাড়তে হয়েছিলো। জাপানের ডাক্তাররা বলেছিলো পানিতে থাকা জীবানুর কারনেই নাকি তার শরীর খারাপ হয়েছিলো। দেশে থাকতে কাউকে বুঝতেও দেয়নি বা বলেওনি যে তার শরীর খারাপ। কিন্তু জাপান ব্যাক করে সরাসরি মামীকে হসপিটালে ভর্তি হতে হয়েছিলো। এরপর আর মামীর দেশে ফেরা হয়নি, চটপটি ফুচকাও খাওয়া হয়নি। এই দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৫ এ এসে মামীর জন্য যখন বাসায় চটপটি করলাম আর দুধের সাধ ঘোলে মিটানোর জন্য ফুচকার বদলে পানিপুরি নিয়ে আসলাম, মামীর ইউজ্যুয়ালি নির্বিকার চেহারায় সেকি খুশি! টেবিলে বসে পানিপুরি নিচ্ছে আর নিজেই সবকিছু মিক্স করে ফুচকা বানিয়ে টপাটপ মুখে দিচ্ছে। এই দ্বিতীয়বারের মতো দেখলাম আগ্রহ আর উৎসাহ নিয়ে মামী গপাগপ ফুচকা খাচ্ছে! মামীর এতো ফুচকা প্রেম দেখে এক প্যাকেট রাঁধুনি চটপটি মশলার প্যাকেট আর রেডি টু ফ্রাই ফুচকার প্যাকেট দিয়ে দিলাম। সাথে কোন তেঁতুল কিনতে হবে আর কিভাবে টক বানাতে হবে, তার ইন্স্ট্রাকশনও দিয়ে দিলাম। পরে জেনে নিবো কেমন হলো তার চটপটি মেকিং।

আর লিস্টের তিন নম্বরে ছিলো সৌদি কাবসা! মামী নিজেই যথেষ্ট ভালো বাংলাদেশি বিরিয়ানি রান্না করতে পারে। জাপানে আমাদের রান্না করে খাইয়েওছিলো! তাই আর দেশি বিরিয়ানি না করে ভাবলাম নতুন কিছু খাওয়াই। সে ভেবেই এই সৌদি বিরিয়ানি। দেখলাম এই জিনিসও মামী খুব পছন্দ করেছে। ফ্লেভার যদিও দেশি বিরিয়ানির তুলনায় অনেক মাইল্ড! কিন্তু ভিন্ন স্বাদের কিছু ট্রাই করতে চাইলে এই রেসিপির জুড়ি মেলা ভার! আমার মেয়েরও দেশিটার চাইতে এই সৌদি বিরিয়ানি বেশি পছন্দ!

তো সব মিলিয়ে মামীর এইবারের অস্ট্রেলিয়া ট্রিপে মামীকে খাওয়ানোর জন্য আমার করা লিস্টের সব কিছু যেমন ফুলফিল হয়েছে, আই হোপ মামীরও ভালো লেগেছে!

জুলাই রিলেটেড যে কোন খবরে দেশের মানুষের 'হা হা' রিএক্ট দেখলে এখন খারাপ লাগেনা। বরং খুশীই হই!  কিন্তু এই নিউজটা দেখে কেন ...
26/11/2025

জুলাই রিলেটেড যে কোন খবরে দেশের মানুষের 'হা হা' রিএক্ট দেখলে এখন খারাপ লাগেনা। বরং খুশীই হই! কিন্তু এই নিউজটা দেখে কেন যেন খারাপ লাগলো! একটু বেশীই খারাপ!

জুলাই এ অন্য সবার মতো আমাকেও মুগ্ধ'র মৃত্যু প্রচন্ডভাবে নাড়া দিয়েছিলো! শুধু আমাকে না! আমার মেয়েকে যখন মুগ্ধর ভিডিওটা দেখিয়েছিলাম, আমার সাথে সাথে ও নিজেও কাঁদছিলো! একজন তরতাজা মানুষকে মেরে ফেলা কত সহজ, সেটা এতো কাছ থেকে না দেখলে হয়তো বিশ্বাস হতো না!

মুগ্ধর মৃত্যু আমাকে ক্ষুদ্ধ করেছিলো! বলতে বাধ্য করেছিলো 'শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছাড়তেই হবে'! শেখ হাসিনাও মানুষের অনেক ক্ষোভ, ঘৃনা সাথে নিয়ে ক্ষমতা ছেড়েও গেলো! আর তার সাথেসাথে কি দেখতে পেলাম! গণভবন লুটপাট, ফেলে যাওয়া অন্তর্বাস হাতে 'ধর্মপ্রান মুসলিম'দের উল্লাস আর ধানমন্ডি ৩২ ভাঙার সে কি পৈশাচিক আনন্দ! আর সাথে গুঞ্জন আন্দোলনের ছেলেপেলেরা নাকি সব জামাত শিবিরের! নাহ, প্রথমে বিশ্বাস করিনি! হয়তো বিশ্বাস করতে চাইওনি! কিন্তু খাল কেটে যে কুমিড়কে পুরো দেশ মিলে এনেছে, সেই কুমিড়কে উপেক্ষা করা কার সাধ্য!

জামাত শিবির ইহজীবনে যা কল্পনা করতে পারেনাই। তারাই এখন 'গনতন্ত্রের' কথা বলে, 'ইনসাফ' এর কথা বলে, তাদের শয়নে, স্বপনে 'ঘৃনিত' যে দেশ, সেই দেশের অতীত ইতিহাস ধ্বংস করে, সেই দেশ শাসন করতে চায়! কারন মুগ্ধ'র মতো কিছু প্রান তাদের সে সুযোগ করে দিয়েছে।
স্নিগ্ধ এখন মন্ত্রী, এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখে। ভাই না মরলে কি এই সুযোগ জীবনে আসতো! মুগ্ধর লাশ না পরলে, যোগ্যতাহীন আসিফ মাহমুদ সচিবালয়ের আশেপাশেই কি যেতে পারতো! উপদেষ্টা হওয়াতো দূরের ব্যাপার!

সেদিন কার কাছে যেন শুনলাম, জামাত/শিবিররা নাকি লীগের পালিয়ে যাওয়া নেতাকর্মীর স্ত্রী, মেয়ে, পরিবারের নারী সদস্যদের 'গনিমতের মাল' হিসেবে ভোগ করার কথা বলছে! খুব একটা বিশ্বাস হয়নি! কতজনই তো কত কথা বলে। কিন্তু মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতেও পারিনি! জুলাইতেও তো এই ভয়ংকর দলটার কথা বিশ্বাস করিনি! কিন্তু এখন কি দেখছি!

যে দলের লোকজন এ দেশের জন্মলগ্নে নিজের দেশের মানুষকে হত্যা, ধর্ষন করতে পারে, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য 'লীগ' সেজে ১৭ বছর পার করে দিতে পারে, নিজেদের আদর্শের বিপরীতে গিয়ে 'মোনামি ম্যাডামের' মতো নারীকে 'পোস্টার গার্ল' হিসেবে ইউজ করতে পারে, সর্বমিত্রের মতো কাউকে দিয়ে 'আদিবাসী' কার্ড খেলতে পারে, দল থেকে 'হিন্দু' সম্প্রদায়ের একজন কে নমিনেশন দিতে পারে, তারা সুযোগ পেলে 'শত্রু' পক্ষের নারীদের এতো সহজে ছেড়ে দিবে! কক্ষনো না!

তাই হয়তো এত শিশু, কিশোর, তরুণ প্রান হারিয়েও, দেশের প্রধানমন্ত্রীকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেও, শেষমেষ এই জুলাই এর আউটকাম হলো 'জুলাই স্তম্ভে' সাধারণ জনগনের আগুন দেয়া, শহীদ মীর মুগ্ধর ছবিতে কালিঝুলি মাখানো, আর জুলাই এর সব নিউজে 'হা হা' দেয়া! শুনে হাসি ঠিকই! কিন্তু মন খারাপও হয়! মুগ্ধর জন্য একটু বেশিই! ছেলেটা কার জন্য প্রান দিলো, কিসের জন্য দিলো, সেকি নিজেও বুঝতে পেরেছিলো!

©মুনলীন

 #অপ্রিয়কথা নিউইয়র্ক এর মেয়র পদে যোহরান মামদানির জয়ে আমাদের দেশের অনেককেই দেখেছি 'মুসলিম' মামদানির জন্য খুশি হতে! অনেক জ...
17/11/2025

#অপ্রিয়কথা

নিউইয়র্ক এর মেয়র পদে যোহরান মামদানির জয়ে আমাদের দেশের অনেককেই দেখেছি 'মুসলিম' মামদানির জন্য খুশি হতে! অনেক জ্ঞানীগুনি বিজ্ঞজন এমনও বলেছেন, মামদানি যেমন করে বোরখা, হিজাব পরা আন্টিদের সাথে মিশেছেন, সেটা নাকি আমাদের দেশের প্রগতিশীলরা করেন না। তো বিজ্ঞজনরা যখন মামদানির সামাজিক,কালচারাল কনটেক্সট বিচার বিবেচনা না করে সেই জ্ঞান বাংলাদেশি সংখ্যাগরিষ্ট মুসলিম সমাজে এপ্লাই করতে চান, সেটা তখন দেশে মামদানির মতো মানুষের বদলে, বেশি বেশি 'ত্বহা হুজুর' আর তার সাগরেদ বাড়ানোতেই বরং মুখ্য ভুমিকা রাখেন!

নিউইয়র্কের বোরখা হিজাব পরা আন্টি আর মাথায়, দাঁড়িতে টকটকে লাল মেহেদি লাগানো আংকেলরা সেখানে যে সোসাইটিতে বাস করেন, সেটা তাদের জন্য আসলেই বৈড়ি।কারন সেখানে তারা ক্ষমতাহীন মুসলিম। আর বাংলাদেশি মুসলীমরা যতদিন ক্ষমতাহীন ততদিন তারা আদর্শ মুসলিম! নিজেদের ধর্ম, কর্মে মন দেওয়া 'সভ্য, ভদ্র মুসলিম'।

উনারা সেখানে চাইলেই আশেপাশের সবার কানের পর্দা ফাটিয়ে ওয়াজ মাহফিল করতে পারেন না। পাঁচ দশটা মাইক সেটাপ করে বিকট শব্দে প্রতিদিন পাঁচবার করে আযান দিতে পারেন না। চাইলেই যাকে তাকে নাস্তিক, মুরতাদ, ধর্ম অবমাননাকারী বলে ঘৃনা ছড়াতে পারেন না। ঠিক একারণেই শুধু নিউইয়র্ক না, বাংলাদেশের বাইরে পৃথিবীর সব জায়গায় বাংলাদেশি মুসলিম আংকেল, আন্টি, ভাইয়া, আপুরা খুব ভদ্র, সভ্য, শান্ত! কারন এছাড়া তাদের উপায়ও নাই। জীবন, জীবিকা আর গ্রীনকার্ডের লোভেই তাদের স্বভাবসুলভ দেশি ধর্মীয় হিংস্রতা আড়াল করে রাখতে হয়! আর এইজন্যই আমেরিকাতে তারা থাকতে পারছেন। মামদানির বিজয়ে 'মুসলিমের জয়'' বলে আনন্দ উল্লাস করছেন।

অথচ বাংলাদেশের দিকে তাকালে ঠিক উল্টো চিত্র দেখা যায়। সংখ্যাগরিষ্ঠ 'শান্তির ধর্ম' পালনকারী দেশ হিসেবে আর নিজেদের 'সাচ্চা মুসলমান' দাবী করেও এরা নিজেদের ধর্ম, কর্ম বাদ দিয়ে, অন্যের জীবনকে দুর্বিষহ করতে বরং বেশি আগ্রহী। দেশকে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের দেশ না বানিয়ে, শরীয়া আইন আর জংগী দেশে পরিনত করতেই এদের যত উৎসাহ আর কর্মকান্ড! তাই আপাতদৃষ্টিতে এবং সমাজের চোখে গ্রহনযোগ্য দাঁড়িটুপিওয়ালা 'সাচ্চা মুসলিম' ব্যাক্তি ইচ্ছা হলেই রাস্তার ধারের সারি সারি বকুল গাছ কেটে ফেলতে পারে। কারন এই মুসলিমদের মনে সৌন্দর্য্যবোধের কোন জায়গা নাই। এই 'সাচ্চা মুসলিম' দের মতে নাচ, গান, আনন্দ, ফুর্তি, নববর্ষ উদযাপন সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া উচিৎ। কারন এইসব 'হিন্দুয়ানী' কালচার আর তাতে নাকি ধর্মেকর্মে মনোযোগও থাকেনা। কিন্তু ধর্ম রক্ষার নামে এইদেশি 'সাচ্চা মুসলিমরা' গরু জবাই এর মতো মানুষ জবাই করে ঠিকই আনন্দ খুঁজে পায়।

ইহুদি মরলে নিউজের কমেন্ট বক্স এদের 'আলহামদুলিল্লাহ' দিয়ে ভরে যায়। নিজেদের দেশে মাজার, কাদিয়ানি, সুফি, সাধু, হিন্দু, খ্রিষ্টান, শিয়া সবাইকে নিয়ে এদের সমস্যা! আর শুধু কি সমস্যা। এদের মতবাদের বাইরের যে কোন কিছু নিশ্চিহ্ন করে দিতে এই 'শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশি মুসলিম' সম্প্রদায় এক পায়ে খাড়া! অথচ ব্যাপার যখন নিজেদের স্বার্থ রক্ষার, তখন মামদানি শিয়া না সুন্নি, তার মা যে হিন্দু আবার 'কামাসুত্র'র মতো মুভির পরিচালক, তার স্ত্রী মুসলিম হয়েও বোরখা হিজাব পরেনা, সে গে/লেসবিয়ান/ ট্রান্সজেন্ডার সাপোর্ট করে কি না সেটা তখন 'সমস্যা' না! কারন দেশটা বাংলাদেশও না। আর তারা ক্ষমতাবানও না।

এইসব বাংলাদেশি 'সাচ্চা মুসলিম' দের সাথে আপনি গান, কবিতা, সাহিত্য নিয়ে কোন আলাপ, আলোচনা, গল্প করতে পারবেন না। কিন্তু শাড়ি, টিপ পরাদের নিয়ে গালি দেন, রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে নোংরা কথা বলেন, জাতীয় সংগীত পরিবর্তন এর কথা বলেন, এদের সাথে দারুন বন্ধুত্ব হয়ে যাবে। কারন সম্মিলিত ঘৃনার চাষাবাদই এদের মূলমন্ত্র!

তাই এইসব বাংলাদেশি 'সাচ্চা মুসলিম' যারা নিজেদের হঠাৎ করেই অপ্রত্যাশিত ভাবে দেশের হর্তকর্তা ভাবা শুরু করেছেন, তাদের নিয়ে একটা ভাবনাই আসে- এরা হয়তো ভুলে গেছে আমরা জাতিগতভাবেই সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মান্তরিত মুসলিম! যতই অস্বীকার করতে চাই না কেন, আমাদের পূর্ব পুরুষরা কিন্তু একসময় আসলে নিম্নবর্ণের হিন্দু, বৌদ্ধই ছিলো। তাই রক্তে, জিনে কোথাও না কোথাও সেই ছিটেফোঁটা এখনো রয়ে গেছে। আর হয়তো সেইজন্যই বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত পাকিস্তান, আফগানিস্তান হয়ে যায় নাই।

যে জিহাদি উল্লাসে আজ দিনরাত আপনাদের এতো আস্ফালন, যেই মরুদেশের জীবনচারন আপনারা দিনরাত আঁকরে ধরতে চান। আপনি শেষমেশ কোনদিনই তা না। একজন আরব মুসলিমকে তার কালচার, ধর্ম, তার বংশানুক্রমিক জীবনাচরনের জন্য যতটা স্মার্ট, আত্মবিশ্বাসী লাগে। আপনাদের নিজ দেশ, সংস্কৃতি, মাটি, পুর্বপুরুষ ভুলে প্রানপন 'আরব মুসলমান' হতে চাওয়াটা ঠিক ততটাই আপনাদের হীনমন্যতা, মুর্খতা আর 'দ্বিতীয় শ্রেণী'র মুসলমানিত্বই প্রমান করে।

©মুনলীন

 #লন্ডনজীবন২১ইস্টহ্যামে থাকতে আমার একটা পছন্দের কাজ ছিলো, উইকেন্ডে বাসে করে গ্যালিয়ন্স রিচের বিশাল টেসকোতে ঘুরতে যাওয়া। ...
15/11/2025

#লন্ডনজীবন২১

ইস্টহ্যামে থাকতে আমার একটা পছন্দের কাজ ছিলো, উইকেন্ডে বাসে করে গ্যালিয়ন্স রিচের বিশাল টেসকোতে ঘুরতে যাওয়া। আমি কাজ করতাম সিটি Metro তে! যেটাকে বলা যায় মাঝামাঝি সাইজের ব্রাঞ্চ। Metro এর চাইতেও ছোট ব্রাঞ্চগুলোকে বলা হতো Tesco Express! কিন্তু গ্যালিয়ন্স রিচে যাওয়ার আগে পর্যন্ত আমার কোন ধারনাই ছিলো না যে এতো দানবিয় সাইজের টেসকোও আছে! আসলে শহরের বাইরে অন্য কোন টেসকোর কথা জানতামও না। এগুলোকে বলা হয় Tesco Extra।সিলেটি ভাইসাবের বাসা ভাড়া নেওয়ার পর, আমি টেসকোতে কাজ করি শুনে, উনার ওয়াইফ প্রথম আমাকে এই ব্রাঞ্চের কথা বলেছিলো যে ফ্যামিলির জন্য ওখানে শপিং করতে যায়!

তো সেই আপুর কথা শুনেই একদিন ৩৬৬ নাম্বার বাস ধরে চলে গেলাম গ্যালিওনস রিচ। ওই জায়গাটা তখনও পুরোপুরি 'হ্যাপেনিং প্লেস' হয়নি আসলে। টেসকো ছাড়া অল্প কিছু বড় বড় দোকান ছিলো, তার মধ্যে 'নেক্সট' এর কথা মনে আছে। মাঝে মাঝে ঘুরতে যেতাম। এফোর্ডেবল আর কোয়ালিটি কাপড়চোপর পাওয়া যেতো! যদিও 'নেক্সট' আমার জন্য তখনও এফোর্ডেবল ছিলো না। আমি লন্ডনের পুরো সময়টাই ফাস্ট ফ্যাশনের জন্য পরিচিতি আর পপুলার 'প্রাইমার্কের' ক্রেতা ছিলাম। দুই, তিন, পাঁচ, দশ পাউন্ডেই যে কত কত সুন্দর সুন্দর জামাকাপড় পেতাম! কোয়ালিটিও খারাপ মনে হতো না। আবার আমার সাধ্যের মাঝেই ছিলো!

যাইহোক এমনই কোন একদিন গ্যালিওনস রিচ টেসকোতে শপিং আর ঘুরাঘুরির জন্য বের হয়েছিলাম। কোন কারনে হয়তো খুব আনন্দ লাগছিলো তাই সেজেগুজে, সাড়ে তিন বা চার ইঞ্চির হাইহিল পরে বের হয়েছিলাম। এই হিল পরে হেঁটে গিয়ে বাসে উঠতে একটু কষ্ট হলেও খুব একটা পাত্তা দেইনি। তো ঠিকঠাক মতোই টেসকো পৌঁছালাম। বিশাল মলে হিল পরে ঘোরাটা খুব আরামের কিছু না। সেই প্যারাও ইগ্নোর করলাম। ঘুরাঘুরি আর হালকা কেনাকাটা শেষ করে বাস নিয়ে ফেরার পথে ভাবলাম বাসার কাছাকাছি ASDA নামে অন্য আরেক সুপারমার্কেট আছে সেটাও ঘুরে যাই! সেখানে গিয়ে আরও কিছু খাবারদাবার কিনলাম! তারপর একগাদা ব্যাগ নিয়ে বাস স্টপের দিকে যেতেই দেখি বাস চলে এসেছে!

সাবার্বান এই লোকাল বাসগুলো ছুটির দিন অনেক্ষন পরে পরে আসে। তাই বাস ধরার জন্য দিগ্বিদিক ভুলে হাতের সব শপিং ব্যাগ আর হিলজুতা পরেই দিয়েছিলাম দৌঁড়। কিছু বুঝে উঠার আগেই কিভাবে যে ফুটপাথ থেকে পাটা স্লিপ করলো! আর বাপায়ের গোড়ালি মচকে প্রচন্ড ব্যাথায় ব্যাগট্যাগ সব নিয়ে ফুটপাতেই বসে পরেছিলাম। আর অজান্তেই হয়তো চোখে পানি চলে এসেছিলো। আমাকে ওইভাবে বসে কাঁদতে দেখে ভীনদেশি দুই মা, মেয়ে এসে জিজ্ঞেস করেছিলো কিছু হয়েছে কিনা! পা মচকানোর কথা শুনে জিজ্ঞেস করলো এম্ব্যুলেন্স কল করবে কিনা। সেই মুহুর্তেও এ্যাম্বুলেন্সের কথা শুনে ব্যাথা ভুলে মাথায় আগে আসলো অন্য চিন্তা যে এ্যাম্বুলেন্স কে পয়সা দেওয়া লাগবে! হসপিটালের খরচ কত দিতে হবে! কিভাবে দিবো! কাজে যেতে না পারলে ইনকাম আসবে কোত্থেকে!

এতোসব টেনশনেই হয়তো মনে হচ্ছিলো যেভাবেই হোক আগে বাসায় যেতে হবে! ফুটপাথে বসেই অনেক্ষন ধরে পা ম্যাসাজ করলাম। তারপর জুতা খুলে হাতে নিয়ে, শপিং ব্যাগ সব সাথে নিয়ে বাস স্টপেই বসে নেক্সট বাসের জন্য অপেক্ষা করলাম। ৩০০ নাম্বার বাস আসলে পরে, দাঁত কামড়ে ব্যাথা চেপে সবকিছু নিয়েই বাসে উঠে বসলাম। এরপর কোনমতে বাস থেকে নেমে খোঁড়াতে খোঁড়াতে বাসায় ঢুকে রুমে এসেই জাস্ট বিছানায় শুয়ে পড়েছিলাম। একটু পর দেখি গোড়ালি ফুলে আক্ষরিক অর্থেই ঢোল হয়ে গেছে। নাড়াতে পারছি না। নিজের পা দেখে নিজেই ভয় পেয়ে যাচ্ছিলাম! ওই পা নিয়েই আপুর কাছে গিয়ে বরফ চাইলাম। আপুও পায়ের অবস্থা দেখে শকড! বরফ পায়ে চেপে ধরে দেশে ফোন দিলাম আম্মুকে। কি করবো, ব্যাথা কিভাবে কমবে কিছুই বুঝতে পারছিনা। আম্মুর হয়তো মনেও নাই এই ঘটনা। কিন্তু আমি চিৎকার করে কাঁদছিলাম, একদিকে পায়ের ব্যাথা, অন্যদিকে এই পা নিয়ে কয়দিন আমার কাজ বন্ধ রাখতে হয় সেই চিন্তা! কিভাবে রেন্ট আর অন্য সব বিল ম্যানেজ করবো, কিভাবে সেমিস্টার ফি সেইভ করবো, হাজারো টেনশন!

আম্মুর সাথে কথা বলতে বলতেই দেখি গোড়ালি ফুলে আরও ঢোল। মানে পায়ের পাতা পর্যন্ত ঢেকে গেছে ফুলে! আমার কান্নাকাটি শুনে আর রুমে এসে পায়ের অবস্থা দেখে আপু বললো সে এ্যাম্বুলেন্স কল করছে। কিছুক্ষণ পর এ্যাম্বুলেন্স এসে আমাকে নিউহ্যাম হসপিটালের ED তে নিয়ে গেলো! হুইলচেয়ারে বসে অনেক্ষন অপেক্ষা করা লাগলো ডাক্তারের জন্য! ফাইনালি যখন ডাক পড়লো ডাক্তার এক্সিডেন্টের হিস্ট্রি শুনে আমাকে বললো হুইলচেয়ার থেকে নেমে তার দিকে হেঁটে যেতে। বরফ দেয়াতেই হয়তো তখন পেইনটা হালকা কম ছিলো! খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেঁটে গেলামও! ডাক্তার দেখে বললো গুড নিউজ যে ফ্র‍্যাকচার হয়নি। জাস্ট সফট টিস্যু, লিগামেন্ট স্ট্রেইন হয়েছে। পেইনকিলার খেতে বললো আর কয়দিন কাজ থেকে ছুটি নিয়ে পা রেস্টে রাখতে বললো!

ডাক্তারের কথা শুনে নিজেও কিছুটা যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। হসপিটাল থেকেই পেইনকিলার দিয়েছিলো! ট্যাক্সি করে বাসায় ফিরে টেসকোতে ফোন দিয়ে জানালাম যে নেক্সট তিনদিন কাজে যেতে পারবো না। আমি নিজেই চাইনি তিন দিনের বেশি কাজ বন্ধ রাখতে। পেইনকিলার খেয়ে ব্যাথা সহনশীল পর্যায়ে আসতেই ব্যাক করেছিলাম রুটিন লাইফে। টেসকোতেও কাজ শুরু করেছিলাম খুঁড়িয়ে, খুুঁড়িয়ে! কাজ, ক্লাসের প্রয়োজনে চষে বেড়িয়েছি পুরো শহর!

আমার এই পা মচকানোর পর আর কোনদিনই আমি হীল জুতা বিশেষ করে পেন্সিল হীল পরতে পারিনি। আর এই ব্যাথা এখন পর্যন্ত হঠাৎ হঠাৎ আমাকে ভোগায়। কেন যেন ঠিক এই ব্যাথা পায়েই কতবার যে আবার ব্যাথা পেয়েছিলাম তার ইয়ত্তা নেই।

তবে এ কথা স্বীকার করতেই হবে, আমার জীবনের এই ছোট একটা ঘটনাই আমাকে শিখিয়েছিলো যে মানুষের জন্য একা সার্ভাইভ করাটা আসলে খুব অসম্ভব কিছুনা। আমরা বেশিরভাগ মানুষ ভাবি সংগী বা আপনজন ছাড়া জীবনে চলা অসম্ভব। কিন্তু মনের জোড় যে কত শক্তিশালী হতে পারে তা আমি নিজেকে দিয়ে বুঝি। আর বুঝি আপনজনরা ছড়িয়ে থাকে পুরো পৃথিবী জুড়ে! শুধু সময়ের অপেক্ষা! সময়ে আমরা সবাই সবাইকে ঠিকই খুঁজে নেই!

ওহ, বাই দা ওয়ে, আমাকে এ্যাম্বুলেন্স আর হসপিটাল ভিজিটের জন্য কোন পেমেন্ট করতে হয়নি। লন্ডনেকে ভালোবাসার অসংখ্য কারনের মধ্যে এটাও একটা বিশাল কারন।

©মুনলীন (চলবে)

10/11/2025

বেশ কয়েক বছর আগেও প্রিতম হাসান কে খুব একটা পছন্দ করতাম না। মনে হতো বাচ্চা পোলাপান আর গানও করে পোলাপানদের জন্য! কথা বলার স্টাইলটাও মনে হতো ইম্যাচিওর!

কিন্তু শাহতাজ নামের মেয়েটাকে বিয়ে করার পর প্রিতমের একটা সাক্ষাৎকার দেখেছিলাম, যেখানে শাহতাজের সাথে ওর সম্পর্ক, বিয়ে, শাহতাজের সিম্পলিসিটি, সৎ আর সরল মানসিকতা নিয়ে অনেক কথা বলেছিলো! আই থিংক, সেই প্রথম আমি প্রিতমকে মনোযোগ দিয়ে শুনি! এরপর বেশ কয়েকটা প্রোগ্রামে দেখি ওয়াইফের বেলায় সে কত সিনসিয়ার, প্রোটেক্টভ আর পার্টনার হিসাবে কি দারুন ম্যাচিওরড চিন্তাভাবনা করে! তারপর থেকেই একটু একটু ওর গান শোনা শুরু করলাম। আর কোক স্টুডিওর কারনে পুরাই ফ্যান হয়ে গেলাম!

গতকালকে সামনে থেকে প্রিতমকে দেখে 'ফ্যান মোমেন্ট' এর চাইতেও, কেন যেন বেশি 'মায়া মোমেন্ট' কাজ করেছে। মনে হচ্ছিলো এই শুকনা পাতলা, বাচ্চা কিন্তু ট্যালেন্টেড ছেলেটা কি দারুনভাবে দেশকে রিপ্রেজেন্ট করছে। একদমই টিপিক্যাল বাংলাদেশি 'বয় নেক্সট ডোর লুক' আর কি সুন্দর পুরো স্টেজ হেঁটে হেঁটে গান গাচ্ছে, অডিয়েন্সের সাথে কানেক্ট করছে। মনে হচ্ছিলো যেন নিজের আপন ছোট ভাই বা সন্তানের মতো!

অনেকদিন দেশে যাওয়া হয়না। তাই হয়তো কিছুটা নষ্টালজিয়া, কিছুটা মন খারাপ আর ফেলে আসা সময়ের জন্য হাহাকার, সব মিলিয়ে অদ্ভুত এক জগাখিচুরি অনুভূতি কাজ করছিলো!
তাই হয়তো প্রিতমের চোখে মুখে দেশ দেখছিলাম! দেশের মানুষ দেখছিলাম! প্রিতম কত ভালো গেয়েছে, সবাইকে কেমন নাচিয়েছে, সবাই কত মজা করেছি, তার চাইতেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ অনুভূতি হয়তো এই যে প্রিতম হাসান আমার কাছে দেশকে নিয়ে এসেছিলো! সাথে দেশের মায়াভরা তারুণ্যকে!

 #লন্ডনজীবন২০লন্ডনে আমার খুব পছন্দের একজন শিক্ষক ছিলেন আনান্দ ওয়ালসার। ইনফ্যাক্ট ক্লাসের বেশিরভাগ স্টুডেন্টদেরই পছন্দের ...
04/11/2025

#লন্ডনজীবন২০
লন্ডনে আমার খুব পছন্দের একজন শিক্ষক ছিলেন আনান্দ ওয়ালসার। ইনফ্যাক্ট ক্লাসের বেশিরভাগ স্টুডেন্টদেরই পছন্দের শিক্ষক বললে ভুল হবেনা। খুব সম্ভবত ভারতীয় তামিল ব্যাকগ্রাউন্ডের এই মানুষটাকে হাসিমুখ ছাড়া কখনো দেখিনি। আর সাথে ছিলো তার প্রানবন্ত, তারুন্যে ভরপুর ব্যাক্তিত্ব। সবসময় মনে হতো খুব আনন্দে আছে বা পার্টি মুডে আছে। হেভিমেটাল ব্যান্ডের ভক্ত হওয়ায় প্রায়ই Metallica, Linkin Park, Iron Maiden এর টিশার্ট পরতো।
তো ইউনিতে লাস্ট সেমিস্টারে, আনান্দ আমাদের ব্যাচকে একদিন, একরাতের ট্রিপে ওয়েলসে একটা ম্যানেজমেন্ট ওয়ার্কশপের জন্য নিয়ে গিয়েছিলো! রুটিনের বাইরে আলাদা কিছু করা সাথে টিম ওয়ার্ক, ক্রিয়েটিভিটি, কমিউনিকেশন, প্রেজেন্টেশন স্কিল,টাইম ম্যানেজমেন্টও শেখা!
প্রথমে ভেবেছিলাম যাবো না। কিন্তু আমার টার্কিশ ফ্রেন্ড গুলজান এতো উৎসাহ দিচ্ছিলো যে শেষ পর্যন্ত রাজী হয়েই গেলাম। তো স্টুডেন্টদের রোডট্রিপের জন্য বিশাল ইন্টারস্টেট কোচ ভাড়া করা হয়েছিলো। তারপর একদিন বৃষ্টিভেজা সকালে ব্যাচের সবাই মিলে ওয়েলসের পথে রওয়ানা দিলাম। আনান্দ ছাড়াও সাথে ছিলো অন্য আরেকজন লেকচারার-পিটার। খুব সম্ভবত আইরিশ ব্যাকগ্রাউন্ডের পিটার ছিলো খুবই ফানি আর স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড! ওর ক্লাসে হাসি আটকানো কষ্টসাধ্য ছিলো!
তো সেই প্রথম আমার লন্ডন শহরের বাইরে যাওয়া। কি যে দারুণ উত্তেজনা কাজ করছিলো! যদিও সেই সময় আমার আরেক ফ্রেন্ড আলফি'র সাথে কথা বন্ধ ছিলো। এ অবশ্য নতুন কিছু না। আমাদের মাঝে মাঝেই কথা বন্ধ থাকতো! বেশিরভাগ সময় কারনটা ছিলো পাকিস্তানি গ্রুপের পোলাপানের সাথে আলফির গায়ে পড়ে মিশতে যাওয়া! ওই গ্রুপে ফয়সাল নামে একটা লম্বা চওড়া, বড়সর ছেলে ছিলো। স্বাস্থ্যের কারনে মনে হয় এমনিতেও সে নিজেকে 'বিগ ব্রাদার' টাইপ কিছু মনে করতো। ফয়সালের এই attitude আমি সহ্যই করতে পারতাম না। তাই এই গ্রুপের সাথে নিজেও মিশতাম না। চাইতাম না আলফিও মিশুক। আর সেই কারনেই ওই গ্রুপের সাথে আলফিকে আড্ডা দিতে দেখলেই কথা বলা বন্ধ থাকতো।
যাইহোক তিন ঘন্টা জার্নি করে ওয়েলস এর Gregynog গিয়ে যখন পৌঁছালাম তখন লাঞ্চ টাইম হয়ে গিয়েছিলো। গিয়েই সবাই মিলে লাঞ্চ করতে বসে গেলাম। এরপরই বিশাল হলরুমের মতো একটা জায়গায় গিয়ে দেখি গ্রুপ ওয়ার্কশপের জন্য আলাদা আলাদা টেবিল চেয়ার পাতা। লাঞ্চের পর থেকে বিকেল পর্যন্ত চললো টানা ওয়ার্কশপ আর প্রেজেন্টেশন!
তারপর সবাই চলে গেলাম যে যার রুমে শাওয়ার আর রেস্ট এর জন্য! আনান্দ আগেই বলে রেখেছিলো রাত আটটা থেকে হলরুমে শুরু হবে ডিসকো পার্টি! আমরাতো সবাই এক্সাইটেড!
Gregynog এ আমি আর গুলজান শেয়ার করেছিলাম একটা রুম! ঢুকতেই মনে হচ্ছিলো যেন কয়শো বছর পেছনে চলে এসেছি! পুরানো বিল্ডিং, পুরানো ডিজাইন, এস্টেটের চারপাশে গাছপালা, জংগল! আশেপাশে নেই কোন মানুষজন, ঘরবাড়ি! হলরুম থেকে ঘুমানোর রুম পর্যন্ত আসার পথটা এতো বেশি নির্জন যে সন্ধ্যার দিকে কিছুটা ভয় ভয়ও লাগছিলো!
যাইহোক আটটা, সাড়ে আটটা বাজতেই আমি আর গুলজান রেডি হয়ে হলরুমে চলে গেলাম। গিয়েতো দেখি সবাই অলরেডি হৈ হুল্লোড় শুরু করে দিয়েছে! লাউড মিউজিক, নাচানাচি, হৈচৈ! পুরোই যেন জমজমাট ক্লাব! আমি এমনিতেও খুব একটা নাচুনে বুড়ি না। আমার মতো আরও কয়েকজন তাই কর্নারে দাঁড়িয়ে অন্যদের নাচানাচি দেখছিলাম আর নিজেরা নিজেরা গল্প করছিলাম।
রাত যত বাড়ছিলো পার্টি তত জমছিলো! একটু পর দেখি আনান্দ নিজেই স্টুডেন্টদের সাথে ডান্স ফ্লোরে জয়েন করেছে! তখন যেন সবার জোশ আরও বেড়ে গেলো! আর ডান্স ফ্লোর কিভাবে দখল রাখতে হয় সেটা যে আনান্দ কত ভালো জানে তার প্রমান ছিলো সেই রাত! স্টুডেন্টদের সাথে সে কি নাচ! আর আমরা যারা দর্শক তারা দূর থেকে দেখছিলাম আর হাসছিলাম! একসময় দেখি আলফিও নাচতে নেমে গেছে! ওর চিংড়ি ড্যান্স দেখেতো হাসি আরও আটকাতে পারছিলাম না! কি যে দারুন মজায় কেটেছিলো সেদিনের সন্ধ্যাটা!
রাত এগারো বা বারটায় পার্টি শেষে রুমে ব্যাক করে, ক্লান্ত শরীরে এক ঘুমে রাত পার করেছিলাম! পরদিন সকালে দেখি UK এর চিরাচরিত ঝিরিঝিরি বৃষ্টিভেজা ওয়েদার! এই থামে এই শুরু হয়! সকালের নাশতা করে হাতে কিছু সময় থাকায়, সবাই যে যার বন্ধুদের সাথে গ্রুপ করে এস্টেটের আশেপাশের সাইটগুলো ঘুরে দেখতে বের হয়েছিলো। আমি আর গুলজানও ঘুরে ঘুরে দেখেছিলাম। এস্টেট থেকে জংগলে যাওয়ার রাস্তাটা যে কি দারুন ছিলো! ভীষন সুন্দর এস্টেটের ভেতরটা। মনে হচ্ছিলো ওয়েদার ভালো থাকলে আর আরও টাইম নিয়ে ঘুরতে পারলে পুরো জায়গাটা এক্সপ্লোর করা যেতো।
ঘুরাঘুরি শেষ করে ব্যাচের সবাই মিলে আবার এক জায়গায় জড়ো হলাম। আনান্দ রোল কলের মতো নাম ধরে ডেকে মিলিয়ে নিচ্ছিলো সবাই এক জায়গায় আছি কিনা। এরপর একটা গ্রুপ ফটো আর তারপরই লন্ডনে ব্যাক করার জন্য একে একে কোচে উঠা! আর এভাবেই বুঝে উঠার আগেই ইতি টানলাম আমাদের স্টুডেন্ট লাইফের মোস্ট মেমোরেবল একটা ডে'র! তখনও অনুধাবন করিনি যে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা, বিভিন্ন ভাষাভাসির সেই ব্যাচ এর স্টুডেন্টদের সেটাই ছিলো একসাথে শেষ ছবি তোলা।
আনান্দ এর সাথে এখনো আমার ফেইসবুকে যোগাযোগ হয়। সেদিনও কথা হচ্ছিলো আমাদের এই ওয়েলস ট্রিপ নিয়ে। বলছিলাম এখনও মিস করি আনান্দ এর ক্লাস। স্টুডেন্টদের সাথে ওর খুঁনসুটি! মনে হলো আনান্দ ও কেমন নস্টালজিয়াতে আক্রান্ত হয়ে গেলো! বললো "believe it or not, i miss those days too! Especially the students"! ইউকে ভিসা, এডমিশন কঠিন হয়ে যাওয়ায়, এখন নাকি আমাদের মতো অল্প বয়সী, ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ খুব একটা পায়না। বেশিরভাগ ম্যাচিওরড এইজ, লোকাল স্টুডেন্টস! তাই স্টুডেন্টদের শেখানোর বা হেল্প করার স্কোপও কম। আনান্দ এর স্টুডেন্ট হিসেবে আমি জানি শিক্ষক হিসেবে সে কতটা engaged আর interactive! তাই হয়েতো আনান্দ এর কথায় হালকা বিষন্নতার আঁচ পেলাম। মনে হলো এ যেন ওর ফেলে আসা দিনকে খুঁজে না পাওয়ার বিষন্নতা! সময় আর তারুন্যকে পেছনে ফেলে আসার বিষন্নতা! 'যায় দিন ভালো, আসে দিন খারাপ' টাইপ বিষন্নতা! আমি নিজেও কি মাঝে মাঝে এ বিষন্নতায় আক্রান্ত হই না!
©মুনলীন (চলবে)

ইরানিয়ান 'আমু হাজি'-পৃথিবীর সবচেয়ে নোংরা মানুষ হিসেবে পরিচিত! মারা গেছেন ২০২২ সালের অক্টোবরে, ৯৪ বছর বয়সে! বেঁচে থাকতে স...
01/11/2025

ইরানিয়ান 'আমু হাজি'-পৃথিবীর সবচেয়ে নোংরা মানুষ হিসেবে পরিচিত! মারা গেছেন ২০২২ সালের অক্টোবরে, ৯৪ বছর বয়সে! বেঁচে থাকতে সাবান, পানির ব্যাপারে ছিলো উনার তীব্র ফোবিয়া। ইংরেজিতে যাকে বলে Ablutophobia! উনি বিশ্বাস করতেন পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকলেই রোগশোকে উনি কাবু হয়ে যাবেন। তাই জীবনের দীর্ঘ ৬০ বছর 'World's Dirtiest Man' হিসেবেই উনি বেঁচে ছিলেন!

গোসল বা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকার ব্যাপারে আমু হাজি'র এই তীব্র ভীতি শুরু হয়েছিলো যুবক বয়সে, হৃদয় ভাঙার বেদনা থেকে। উনি বিশ্বাস করতেন পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা উনার জীবনে শুধু দুর্ভাগ্য আর রোগশোকই বয়ে আনবে! আর সেই ভাবনা থেকেই এই সন্যাস জীবন বেছে নেওয়া!

আর শুধু কি পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা! খাওয়াদাওয়ার জন্য বেছে নিয়েছিলেন মৃত পশুপাখির পচা মাংস! বিশেষ পছন্দ ছিলো সজারুর মাংস। পানি পান করতেন ডোবা, জলাশয় বা জং ধরা তেলের পাত্র থেকে। ধুমপানের জন্য ব্যাবহার করতেন পশুপাখির বিষ্ঠা দিয়ে ভরা পাইপ! থাকতেন নিজ হাতে খোঁড়া মাটির গর্তে! চুলকে বাগে আনা হতো আগুনে পুড়িয়ে! শরীরের চামড়া ছিলো কালিঝুলি আর পুজে ভরা! গ্রামবাসীরা খাবার, পানি বা নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য দিতে চাইলেও তিনি তা গ্রহণ করতেন না। উল্টো এতে নাকি তার মন খারাপ হতো!

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই পরিমান নোংরা, অপরিচ্ছন্ন জীবন যাপন করেও জীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি সুস্থভাবেই বেঁচে ছিলেন। ইরানের এক এসোসিয়েট প্রফেসর (প্যারাসাইটোলজি) হাজি'র হেলথ চেকআপ করে দেখেন, হাজির শরীরে কাঁচা মাংস খাওয়ার কারনে এক ধরনের প্যারাসাইটিক ইনফেকশন ছাড়া অন্য কোন ধরনের অসুস্থতা নেই। আর তারচেয়েও অত্যাশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে, গ্রামবাসীর উৎসাহ আর প্ররোচনায় দীর্ঘ ৬০ বছর পর আমু হাজি যখন প্রথম গোসল করেন, তার ঠিক কয়েক মাস পরই তিনি মারা যান! আর তাই আমু হাজির জীবনের এই সত্য ঘটনা পড়ে আবারও মনে হয়েছে 'বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর'!

©মুনলীন

Address

Barangaroo, NSW

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Shabz Diary posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Shabz Diary:

Share