20/07/2025
#মহাসমাবেশে_মহা_ইতিহাস_সৃষ্টি..( #পড়বেন_প্লিজ)
প্রিয় ভাইদের সাথে জামায়াতের মহাসমাবেশে উপস্থিত হলাম। নিজের পকেটের টাকা খরছ করে গিয়ে মাথার উপর উত্তপ্ত ☀ সূর্যের প্রচন্ড তাপদাহে বসে বসে অসুস্থ হয়েছি। তবু ঘন্টার পর ঘন্টা একজায়গায় বসে থেকেছি আবার দাঁড়িয়েও থেকেছি। পায়ে ব্যাথা নিয়ে অনেক পথও হাটতে হয়েছে। সব মিলিয়ে বলা যায় প্রছন্ড কষ্ট হয়েছে আমার মতো সবার। কিন্তু... মনে কোন কষ্ট ছিলোনা। ছিলো বুক ভরা খুশি আর মন ভরা আনন্দ। আলহামদুলিল্লাহ
আর মহাসমাবেশের শেষটা তো ছিলো এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস! শরীরের প্রতিটি ক্লান্ত রক্তকনিকা যেন মুহুর্তেই জেগে উঠেছে। জামায়াতের আমীর যখন দুই দুইবার মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলো। লাখো লাখো নেতা-কর্মী তখন মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। সকলের সকল কষ্ট আর ক্লান্তি যেন মুহুর্তেই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। মনে হচ্ছিল পাখির মতো উড়ে গিয়ে উনাকে জড়িয়ে ধরি। প্রিয় আমীরের খেদমতে নিজেকে লুটিয়ে দেই। তিনি উঠে দাঁড়ালেন, মনে হলো, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ উঠে দাঁড়িয়েছে।
অন্য দলের নেতাদের মতো তাৎক্ষণিক হাসপাতালে ছুটে না গিয়ে তিনি জাতির উদ্দেশ্যে কথা বলেছেন। সারা দেশ থেকে ছুটে আসা কর্মীদের কষ্টের কথা বলেছেন। কর্মীরাও বিক্ষিপ্ত ভাবে ছোটাছুটি না করে যার যার জায়গায় নীরব দাঁড়িয়ে ছিলো। তিনি দাঁড়িয়ে পারছেননা তবু বসে কথা বলেছেন। আর সফলভাবে এই মহাসমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন।
মনে হলো, কোন এক যাদুকরের যাদু দেখছি। মুগ্ধ হয়ে গেলাম, অবাক আর আশ্চর্য হলাম। পাশের ভাইটির হাউমাউ কাঁন্না দেখে তাকে শান্তনা দিতে গিয়ে বুঝলাম; আমারও তো চোঁখদুটো ভিজে গেছে। এটি শুধুমাত্র একটি ঐতিহাসিক সমাবেশ হয়নি। ইসলামী আন্দোলনের সকল নেতা-কর্মীর জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক শিক্ষাও বটে।
জামায়াত ইসলামীর নেতা কর্মীরা কেনো মৃত্যুকে ভয় করেনা তা এই সমাবেশে জামায়াতের আমীর ডাঃ শফিকুর রহমানকে দেখে আবারো নিশ্চিত হলাম। জামায়াতে ইসলামীকে নিশ্চিহ্ন করতে গিয়ে কতো নেতাকে জালিম সরকার ফাঁসি দিয়েছে। জেলে ভরেছে, জুলুম করেছে। কিন্তু জামায়াত তাতে আরো জাগ্রত হয়েছে। ইসলাম আর ইসলামী আন্দোলনকে ধমাতে পারে এমন শক্তি পৃথিবীর বুকে কারো নেই। এই মহাসমাবেশ তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এই মহাসমাবেশে আমি পুরো বাংলাদেশের মানুষের একটি মানচিত্র দেখেছি। পুরোটা ঢাকা শহর জুড়ে ছিলো মানুষের প্লাবন। যা ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় রচিত হয়েছে। একসাথে ৬৪ জেলার মানুষ আমি আর কখনোই দেখি নাই। অনেকের সাথে কথা বলেছি, অনেকের কিছু কথা বুঝেছি কিছু কথা বুঝিনি। আমি তাকে চিনিনা তিনিও আমাকে চিনেনা অথচ নিজের খাবার আমাকে দিচ্ছেন আমি আমার পানির বোতল তাকে দিচ্ছি।
আমাকে অসুস্থ দেখে একজন ডাক্তার আমাদের পেশার মেপেছেন। একজন ডাক্তার কাদা মাটির উপর শুয়ে আছেন৷ একে অন্যের প্রতি এতোটা আন্তরিক, দেখে অভিভূত হয়ে গেলাম। আঞ্চলিকতার ভিন্নতায় পরস্পর ভিন্ন হলেও আদর্শিক চেতনায় কোন ভিন্নতা নেই। এজন্যেই বলে জামায়াত ইসলামীর নেতা-কর্মীরা পরস্পর ভাই ভাই।
আমি বিশ্বাস করি,এই মহাসমাবেশের মধ্যেদিয়ে জামায়াত ইসলামী আরো অধিক শক্তিশালী হবে। কর্মীরা আরো বেশী ইসলামী আন্দোলনের দিকে ধাবিত হবে। সাধারণ জনগনের মাঝে জামায়াত ইসলামী আরো বেশী জনপ্রিয় হবে। এবং এভাবেই একদিন বাংলার আকাশে কালেমার পতাকা উড়বে। ইংশা-আল্লাহ।
বিজয় হোক ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লার। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। জামায়াতে ইসলামী জিন্দাবাদ।
✍️লেখকঃOmar Shorif Mitu