02/04/2026
এক অপ্রিয় সত্য: ধর্ম কি ভিক্ষা শেখায়?
পৃথিবীর প্রতিটি ধর্মের নিজস্ব ঐতিহ্য এবং উপাসনালয় নির্মাণের আলাদা পদ্ধতি রয়েছে। আপনি যদি গভীরভাবে লক্ষ্য করেন, তবে দেখবেন-ইহুদি, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ কিংবা হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা সাধারণত জনসম্মুখে মাইক বাজিয়ে বা রাস্তাঘাটে মানুষের কাছে হাত পেতে (ভিক্ষা করে) তাদের উপাসনালয় নির্মাণ করে না। তাদের প্রতিটি স্থাপনা তৈরি হয় নির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং সুশৃঙ্খল ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমরা আমাদের প্রিয় ধর্ম 'ইসলাম'-এর ক্ষেত্রে ভিন্ন এক চিত্র দেখতে পাচ্ছি। ইসলাম ত্যাগের ধর্ম, আত্মমর্যাদার ধর্ম। অথচ আজ মসজিদ নির্মাণের নামে যা হচ্ছে, তা অনেক সময় আমাদের ধর্মীয় ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
কেন এটি আজ একটি সংকটে পরিণত হয়েছে?
অনেক সময় দেখা যায় লম্বা দাড়ি, বাহারি টুপি আর সুন্নতি লেবাস ধারণ করে একদল মানুষ মাইক বাজিয়ে রাস্তাঘাটে মানুষের গতিরোধ করে টাকা তুলছেন। যা অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মসজিদ হবে একটি এলাকার প্রাণকেন্দ্র। অথচ সঠিক পরিকল্পনা না থাকায় বছরের পর বছর রাস্তাঘাটে চাঁদা তুলে নির্মাণ কাজ চালাতে হয়। শ্রেষ্ঠ ধর্ম হিসেবে ইসলামের অনুসারীদের উচিত ছিল তাদের দানকে গোপন রাখা এবং সুশৃঙ্খলভাবে সম্পদ ব্যবস্থাপনা করা। কিন্তু জনসম্মুখে এভাবে হাত পাতা ইসলামি দাওয়াতের সৌন্দর্যের সাথে কতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ? মসজিদ আল্লাহর ঘর, আর সেই ঘর নির্মাণের জন্য আমরা যদি 'ভিক্ষাবৃত্তি'র আশ্রয় নেই, তবে তা আমাদের জন্য যেমন লজ্জার, তেমনি কষ্টের। আমাদের উচিত এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ পদ্ধতিতে দ্বীনি কাজ আঞ্জাম দেওয়া।
আত্মমর্যাদাবোধ ইসলামের অন্যতম শিক্ষা। আসুন, আমরা আবেগের চেয়ে বিবেককে বেশি প্রাধান্য দেই।
Nazrul Islam
#মসজিদ #জাগরণ #বিবেক #মনুষ্যত্ব #ধর্মীয়_শিক্ষা