29/12/2025
শীতের রাতে কাঁপছে অবহেলিত শিশু
#শিশু_সুরক্ষা_কোথায়?
JM Jabed
কনকনে শীতের রাতে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সড়কের পাশে বসে থাকা চার বছরের আয়েশা ও দুই বছরের মোরশেদ আমাদের সমাজের সামনে একটি কঠিন প্রশ্ন তুলে ধরেছে।শিশু সুরক্ষা কোথায়? এই দৃশ্য শুধু দুটি শিশুর অসহায়ত্ব নয়, বরং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্বহীনতার প্রতিচ্ছবি।
বারখাইন ইউনিয়নের মাজারগেট এলাকা থেকে সিএনজি চালক মহিম উদ্দিন শিশু দু’টিকে উদ্ধার করে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো- যেখানে বাবা-মা, পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব থাকার কথা, সেখানে একজন সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে হয়।
সন্তান আল্লাহর দেওয়া আমানত। তাদের নিরাপত্তা, লালন-পালন ও সুরক্ষা বাবা-মায়ের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব। দারিদ্র্য, পারিবারিক কলহ কিংবা সামাজিক সংকট।যে কারণই থাকুক না কেন, তার বোঝা কখনোই অবুঝ শিশুদের ওপর চাপানো যায় না। শিশুদের রাস্তায় ফেলে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়।শিশু সুরক্ষা শুধু আইন বা নীতিমালার বিষয় নয়, এটি নৈতিকতার প্রশ্ন। আইন থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগ না হলে শিশুরা নিরাপদ থাকে না। পরিবার দুর্বল হলে সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়।
আজ মানবিকতা যেন ব্যতিক্রম হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অথচ শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। ব্যক্তিগত উদ্যোগ প্রশংসার হলেও, শিশু সুরক্ষার জন্য প্রয়োজন প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সমাজকর্মীদের সমন্বিত ভূমিকা।
এই ঘটনা যেন শুধু আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। আজ যদি আমরা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হই, তবে আগামীর সমাজ আরও অনিরাপদ হয়ে উঠবে। শিশুদের প্রতি দায়িত্বশীলতা মানেই একটি মানবিক, নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার অঙ্গীকার।