08/08/2026
মরার পর যা হওয়ার হবে, তা নিয়ে আমি ভাবি না"
এই কথাটি যত সহজে বলা যায়,
এবং কথাটি ঈমানদারের ভাষা হতে পারে না।
এর পরিণতি ততটাই ভয়াবহ হতে পারে।
আপনি কবর দেখেছেন, কিন্তু কবরের আজাব দেখেননি। তাই বলে কি কবরের আজাব নেই? আগুনে হাত না দিলেও যেমন আগুন পোড়ায়, তেমনি না দেখলেও আখিরাতের শাস্তি সত্য।
মৃত্যু মানেই সবকিছুর শেষ নয়; বরং প্রকৃত জীবনের সূচনা। কবর কোনো গল্প নয়, এটি এমন এক বাস্তবতা যেখানে প্রত্যেক মানুষকে একদিন একাকী প্রবেশ করতে হবে। আমরা কবর দেখেছি, জানাজা দেখেছি, দাফনও দেখেছি কিন্তু কবরের আজাব কিংবা নেয়ামত চোখে দেখিনি। তাই বলে তা নেই--এমনটি ভাবার কোনো সুযোগ নেই।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
"প্রত্যেক প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে। অতঃপর তোমাদেরকে আমাদের কাছেই ফিরিয়ে আনা হবে।"
📖 সূরা আল-আনকাবূত: ৫৭
আরও বলেন:
"প্রত্যেক প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর কিয়ামতের দিনই তোমাদেরকে তোমাদের প্রতিদান পূর্ণরূপে দেওয়া হবে।"
📖 সূরা আলে ইমরান: ১৮৫
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"কবর হলো আখিরাতের প্রথম ঘাঁটি। যদি কেউ এতে সফল হয়, তাহলে পরবর্তী ধাপগুলো তার জন্য আরও সহজ হবে। আর যদি এতে সফল না হয়, তাহলে পরবর্তী ধাপগুলো আরও কঠিন হবে।"
📚তিরমিযি, হাদিস: ২৩০৮ (হাসান)
রাসূলুল্লাহ ﷺ কখনো কবরের আজাবকে হালকাভাবে নেননি। বরং প্রতিটি সালাতের শেষে তিনি আল্লাহর কাছে কবরের আজাব থেকে আশ্রয় চাইতেন এবং উম্মতকেও তা শিক্ষা দিতেন।
📚 সহিহ আল-বুখারি: ১৩৭৭, ১৩৭৮
📚 সহিহ মুসলিম: ৫৮৮
আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, রাসূলুল্লাহ ﷺ দুটি কবরের পাশ দিয়ে যেতে যেতে বলেছিলেন, "তারা দুজনই শাস্তি পাচ্ছে..."—একজন চোগলখোর ছিল, আর অন্যজন পেশাব থেকে পবিত্রতা অর্জনে অবহেলা করত।
📚 সহিহ আল-বুখারি: ২১৮, ১৩৬১
📚 সহিহ মুসলিম: ২৯২
তাই "মরার পর যা হওয়ার হবে"—এই উদাসীন মানসিকতা একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। একজন মুমিন মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নেয়, তাওবা করে, সালাত প্রতিষ্ঠা করে, হালাল উপার্জন করে, সুন্নাহ আঁকড়ে ধরে এবং আল্লাহর রহমতের আশা করে।
আজও সময় আছে। মৃত্যুর আগে নিজেকে বদলে ফেলুন। কারণ কবরের দরজা একবার বন্ধ হয়ে গেলে আর আমল করার সুযোগ থাকবে না।
✍️ আবদুস সোবাহান বিন ইসমাইল