28/05/2026
বাংলাদেশের অভিনবত্ব সম্ভবত একটা জায়গাতেই, গরুর মাংস। গরুর মাংসের জন্য সংগ্রাম, আন্দোলন এবং রক্ত দিতে হয়েছে, এমন ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে আর নেই। বনী ইসরাইলের সামেরির পরে ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গরু হল পূর্ব বাংলার গরু। পূর্ব বাংলার মুসলমানদের জন্য গরুর মাংস অধিকার, স্বাধীনতা, এবং সম্মানের প্রতীক। এই প্রতীকের জন্ম কোনো একদিনে হয়নি; এর পেছনে রয়েছে শত বছরের সংঘাত, নিষেধাজ্ঞা, প্রতিরোধ, রক্তপাত এবং অবশেষে মুক্তির ইতিহাস।
সিলেটের রাজা গৌড় গৌবিন্দ সম্পর্কে কম বেশি সবারই জানা। শেখ বোরহানউদ্দিন নামে একজন ব্যক্তি উনার শিশুপুত্রের আকিকার জন্য গরু কুরবানী করেছিলেন। এতে ক্রুদ্ধ হয়ে গৌড় গোবিন্দ শেখ বোরহানউদ্দিনের হাত কেটে দেয় এবং শিশু পুত্রকে হত্যা করেন। বোরহানউদ্দিন সুলতান শামসউদ্দিন ফিরোজ শাহের কাছে গিয়ে বিচার প্রার্থনা করেন। ফিরোজ শাহ উনার ভাতিজা সিকান্দার গাজীর নেতৃত্বে একটা সেনাবাহিনী পাঠান। গৌড় গোবিন্দের শক্তিশালী বাহিনীর কাছে সিকান্দার গাজী দুইবার পরাজিত হন। তৃতীয়বার প্রধান সেনাপতি নাসিরুদ্দিনের নেতৃত্বে আবারও অভিযান প্রেরণ করা হয়। এই জিহাদে ৩৬০ জন দরবেশকে নিয়ে হযরত শাহজালাল (র.) নাসিরুদ্দিনের বাহিনীর সাথে যোগ দেন। এবার গৌড় গোবিন্দ পরাজিত হয় এবং সিলেট মুসলিম সালতানাতের সাথে যুক্ত হয়। সময়টা ছিল ১৩০৩ সাল। এখানে গরুর কোরবানি কেবল একটি ধর্মীয় রীতি নয়; এটি ছিল নতুন সামাজিক বাস্তবতার সূচনা।
একই ধরনের ঘটনা ঘটে মুন্সিগঞ্জে। তবে আরো আগে। ১১৭৮ সালে এখানে ইসলাম প্রচার করতে আরব থেকে আসেন দরবেশ হযরত আদম (র.)। তিনি একটি গরু কোরবানি করেন। এতে রাজা বল্লাল সেন ক্রুদ্ধ হয়ে স্বসৈন্যে হযরত আদম (র.) এর বিরুদ্ধে অভিযানে নামেন। বল্লাল সেন আদম (র.)কে অত্যন্ত নৃশংস ভাবে হত্যা করেন। এর প্রতিক্রিয়াতে মুন্সিগঞ্জও মুসলিম সালতানাত প্রতিষ্ঠা হয়। এগুলো পূর্ব বাংলার মুসলমানদের মানসিক ইতিহাসে একটি স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে।
১৭৫৭ সালে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্ত যায়। ব্রিটিশ ফিরিঙ্গিদের আমলে সূর্যাস্ত আইন, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তসহ বিভিন্ন আইনের কারনে প্রায় সব মুসলিম জমিদার পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়। তাদের স্থানে বসানো হয় হিন্দুদের। হিন্দু জমিদাররা পুনরায় তাদের পূর্বোক্ত গৌড় গৌবিন্দ, বল্লাল সেনদের মত গরু কোরবানির উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেয়।
মুসলমানরা এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, সংগ্রাম করে, ব্রিটিশ সরকার