06/06/2026
রহিমের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পকুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান রহিম। অভাবের কারণে সপ্তম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় তার পড়াশোনার ইতি ঘটে। জীবিকার টানে মাত্র ১৫ বছর বয়সে সে রাজধানী ঢাকায় পাড়ি জমায়। শুরুতে একটি ওয়ার্কশপে দৈনিক ৫০ টাকা মজুরিতে হেলপারের কাজ নেয়।
সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি, আর রাতে ওয়ার্কশপের স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে ঘুমানো—এভাবেই কাটতে থাকে তার দিন। কিন্তু রহিম কখনো নিজের স্বপ্নকে ম্লান হতে দেয়নি। কাজের পাশাপাশি সে কাজের ফাঁকে ফাঁকে যন্ত্রাংশ ও গাড়ির মেকানিক্যালের কাজ নিখুঁতভাবে শিখতে থাকে। সময়ের সাথে সাথে সে হয়ে ওঠে একজন দক্ষ মেকানিক।কাজের প্রতি সততা আর একাগ্রতা দেখে একসময় তার মহাজন তাকে বড় পদে উন্নীত করেন।
রহিম তার উপার্জনের টাকা থেকে অল্প অল্প করে জমাতে শুরু করে। প্রায় ১০ বছর অক্লান্ত পরিশ্রমের পর, জমানো কিছু পুঁজি আর ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে সে নিজের এলাকাতেই ছোট একটি ওয়ার্কশপ চালু করে। আজ সে শুধু নিজের ভাগ্যই বদলায়নি, বরং তার ওয়ার্কশপে এলাকার আরও ১০ জন বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে।
রহিমের এই গল্প আমাদের শেখায়, ইচ্ছা শক্তি ও সততা থাকলে শূন্য থেকেও সফলতার শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।রহিমের মতো অনেক মানুষের বাস্তব জীবনের আবেগপূর্ণ ও প্রেরণাদায়ক গল্প শুনতে পারেন, যা জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে সাহায্য করবে।