06/07/2026
ট্রাম্প আজকে আবারও কী বলেছে জানেন? খামেনির শেষকৃত্যানুষ্ঠানে কোটি মানুষের সমাবেশ দেখে সে বলেছে
- Its a huge crowd ( এখানে প্রচুর লোকের সমাগম হয়েছে।)
লাখ লাখ মানুষের কান্না দেখে এরপর সে আবারও বলেছে
- Maybe it's fake tears ( হয়তো এগুলো কৃত্রিম অশ্রু)
এরপর বলেছে মূল কথা। মানে Trump being Trump! ( সে যেভাবে কথা বলে আরকি) সে বলেছে
- The funeral presents a military opportunity ( শেষকৃত্যানুষ্ঠানটি একটি সামরিক সুযোগ তৈরি করেছে)
এরপর বলেছে
- They are all there. One shot, and we can take them all out (ওরা সবাই সেখানে আছে। একবার হামলা চালালেই সবাইকে শেষ করে দেওয়া যাবে)
সব শেষে বলেছে
- আমরা এটা করছি না। কারন তাহলে তো আলোচনা করার জন্য আর কেউ বাকি থাকবে না!
ট্রাম্পের কথায় পরে আসছি। এই ছবিটা নিয়ে বরং আলোচনা করি আগে। সিএনএন-এর সাংবাদিক ফ্রেডরিক এই মুহূর্তে তেহরানে আছে। ফ্রেডরিককে চিনি ২০১৬ সাল থেকে। তখন আমি পিএইচডি করছিলাম। যেহেতু আমার পিএইচডি থিসিসের বিষয়বস্তু ছিল De-coloniality (সাম্রাজ্যবাদমুক্ত কিংবা উপনিবেশবাদমুক্ত চিন্তা ভাবনা)। মূলত ইউরোপের শরণার্থী এবং ডি-কলোনিয়ালিটি নিয়েই আমার কাজ কারবার।
তো, ওই সময়টায় ইউরোপের ইতিহাসে সব চাইতে বড় শরণার্থী ক্রাইসিস চলছিল। মানে হাজার হাজার সিরিয়ান শরণার্থী পায়ে হেঁটে, সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ইউরোপের গ্রিস, ইতালি, স্পেন এইসব দেশে আসার চেষ্টা করছিল। অনেকেই সমুদ্র পথে মারা গেছে। তখন একটা বাচ্চার ছবি ভাইরাল হয়েছিলো। এই বাচ্চাটার মৃতদেহ ভেসে এসছিল সমুদ্র পাড়ে।
প্রথম দিকে কোন পশ্চিমা গণমাধ্যম এই ছবিটা দেখাতে চাইছিলো না। ওই সময়টায় আমার গবেষণার কাজে এবং যারা তুরস্ক বর্ডার পার হয়ে গ্রীসে আসছিল; তাঁদেরকে সাহায্য করার জন্য ভলেন্টিয়ার হিসেবে গ্রীসের একটা শরণার্থী শিবিরে ছিলাম। কত শত শরণার্থীর জন্য আমি নিজ হাতে রান্না করেছি হিসেব নাই। কিছু ছবি আছি। পরে এক সময় আপলোড করবো। তখনই ফ্রেডরিকের সাথে পরিচয়। ওকে বললাম
- এই ছবিটা যদি তুমি কোন ভাবে সিএনএনে দেখাতে পারো; তাহলে ইউরোপের দেশগুলো হয়ত এই আশ্রয়হীন মানুষগুলোকে আশ্রয় দেবার চিন্তা ভাবনা করবে। এদের তো কোথাও যাবার জায়গা নেই।
সে আমাকে বলেছিল
- আমি চেষ্টা করছি।
ওই সময় সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো মাঝে বিরোধের জেরে সিরিয়ায় রীতিমত গৃহযুদ্ধ চলছিল। মানুষগুলোকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। একদিন দেখি সিএনএন বাচ্চাটার ছবি সহ প্রকাশ করেছে। পুরো পৃথিবীতে ওই ছবিটা ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল। মূলত এরপরই জার্মান সরকার লাখ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে রাজি হয়েছে। আমি জানি না, আপনাদের মনে আছে কিনা এই ঘটনাটার কথা।
এত কথা লিখছি এই কারনে যে, ফ্রেডরিক এই মুহূর্তে তেহরানের আছে। খামেনির শেষকৃত্যানুষ্ঠান কাভার করছে। সে আজকে সিএনএন-এ রিপোর্ট করে বলেছে
- এখানে লাখো মানুষ নাকি কোটি মানুষ ঠিক বুঝতে পারছি না! মানুষ আর মানুষ। সবাই কাঁদছে।
মজার বিষয় হচ্ছে, এদের প্রায় সবাই অ্যামেরিকার বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে। ফ্রেডরিক নিজেই এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে
- কেউ কি অ্যামেরিকান হিসেবে ফ্রেডরিককে একটা বাজে মন্তব্যও করেছে?
করে নাই। এটাই ইরান। সভ্যতা কত প্রকার ও কী কী ট্রাম্পের উচিত সেটা ইরানের কাছ থেকে শেখা। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মারান্ডি বলেছেন
- এই যে ট্রাম্প ওপেনলি এক Shot-এ সবাইকে শেষ করে দেয়ার কথা বলেছে। এটা যদি ইরান কিংবা গ্লোবাল সাউথের (উন্নয়নশীল দেশগুলোর) কেউ বলতো। তখন তাঁকে বলা হতো সন্ত্রাসী!
সব চাইতে মজার ব্যাপারটা বলেছেন অ্যামেরিকান অধ্যাপক জেফ্রি সাক্স। তিনি বলেছেন - ধরে নিলাম কোটি কোটি ইরানিরা ফেইক কান্না কাঁদছে। তিনি প্রশ্ন করেছেন
- How many Americans would gather and mourn their own president like that? (কয়জন অ্যামেরিকান তাঁদের প্রেসিডেন্টের জন্য এভাবে কাঁদবে?)
তিনি এটাও বলেছেন
- If America still had that capability, Trump would have done it. It doesn't anymore. (এই অনুষ্ঠানে হামলা করার সামর্থ্য যদি ট্রাম্পের থাকতো। ঠিকই হামলা করতো। কিন্তু এই সামর্থ্য অ্যামেরিকার এখন আর নাই)
এটাই বাস্তবতা। হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন। সভ্যতার বুলি আওড়ানো সাম্রাজ্যবাদী অ্যামেরিকা এমনকি একটা শেষকৃত্যানুষ্ঠানেও ঠিকই হামলা চালাতো। সভ্যতা ওদের কাছে দেশে দেশে সাম্রাজ্য বিস্তার করার হাতিয়ার। ওরা সেটা করতে পারছে না। কারন ইরান নিজেদেরকে সেই জায়গায় নিতে পেরেছে।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মারান্ডি আজকে একটা চমৎকার কথা বলেছেন। এই বিষয় নিয়ে পরবর্তীতে আরও বিস্তারিত লিখবো। আজকে বরং ছোট করে বলে এই লেখাটা শেষ করছি। তিনি বলেছেন
- অ্যামেরিকা এত সভ্য দেশ। অথচ সেখানে অনেক শহরের রাস্তায় গৃহহীন মানুষ দেখা যায়। সেই অ্যামেরিকা ইরানকে বছরের পর বছর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। তবুও ইরানের রাস্তায় তেমন কোন গৃহহীন মানুষ দেখা যায় না।
কেন দেখা যায় না? তিনি বলেছেন
- কারন ইরানের সরকার এই মানুষদের দায়িত্ব ঠিকই নিয়েছে।
আর অ্যামেরিকার সরকার? এইসব সাম্রাজ্যবাদী সরকার কিছু বুর্জোয়া এপস্টিন ক্লাসের জন্য সব কিছু করে। এরা দেশে দেশে যুদ্ধও বাঁধায় ঠিক এই জন্যই। এতে করে অস্ত্র ব্যবসা করা এলিটদের অনেক লাভ! নিজ দেশের সাধারণ নাগরিকদের নিয়ে এদের কোন ভাবনা নেই। ওদের সাধারণ মানুষ ব্যাংক লোন শোধ করতে করতেই একটা জীবন পার করে। তবুও শোধ করতে পারে না।
সাম্রাজ্যবাদীদের জন্য "সভ্যতা" নামক শব্দটা কেবলই নিজেদের এলিট-বুর্জোয়া শ্রেণীর সম্পদ বাড়ানোর হাতিয়ার। তাই সাম্রাজ্যবাদকে "না" বলুন। অথচ দেখেন- ইরান এত নিষেধাজ্ঞার পরও নিজ দেশের সকল নাগরিকদের যতটুকু পারে, দেখভাল করছে। এই জন্যই কোটি কোটি মানুষ রাস্তায় নেমে চোখের পানি ফেলছে। একেই বলে হাজার বছরের পুরনো সভ্যতার দেশ।
কপি পোস্ট