09/06/2026
একদিন এমন একটি সময় আসবে, মানুষ আপনাকে কবর পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে চলে যাবে। পরিবার, বন্ধু, আত্মীয়,সবাই ফিরে যাবে নিজ নিজ ঘরে। আর আপনি একা হয়ে যাবেন। সেই অন্ধকার কবরেই শুরু হবে আখিরাতের প্রথম ধাপ
নবী মুহাম্মদ সঃ বলেছেন,
কবর হলো আখিরাতের প্রথম منزل (ধাপ)।
তাই একজন মুমিনের উচিত শুধু দুনিয়ার জীবন নিয়ে নয়, কবরের জীবন নিয়েও চিন্তা করা। কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাওয়ার আমল। নবী ﷺ নিজেই নিয়মিত আল্লাহর কাছে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাইতেন এবং উম্মতকেও তা শিক্ষা দিয়েছেন।
তাশাহহুদ (আত্তাহিয়্যাতু) পড়ার পর সালাম ফিরানোর আগে এই দোয়াটি পড়া সুন্নত
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিন আযাবি জাহান্নাম, ওয়া মিন আযাবিল কবর, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাত, ওয়া মিন শার্রি ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জাল।
অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জাহান্নামের আযাব, কবরের আযাব, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা এবং দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল
হাদিসে এসেছে, নিয়মিত সুরা মুলুক তিলাওয়াতের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। কিছু হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, এটি পাঠকারীর জন্য কবরের আযাব থেকে সুরক্ষার কারণ হতে পারে। তাই প্রতিরাতে ঘুমানোর আগে সূরা আল-মুলক তিলাওয়াত করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। শুধু আমল নয়, জীবনও বদলাতে হবে। কবরের আযাব থেকে বাঁচার জন্য শুধু কিছু দোয়া মুখস্থ করাই যথেষ্ট নয়।
✔ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের যত্ন নিতে হবে।
✔ মানুষের হক আদায় করতে হবে।
✔ গুনাহ থেকে তওবা করতে হবে।
✔ হারাম থেকে দূরে থাকতে হবে।
✔ কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন গড়তে হবে।
শেষ কথা,,, আমরা সবাই একদিন কবরের যাত্রী। আজ যে কবরস্থানের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি, একদিন হয়তো সেখানেই আমাদেরও স্থান হবে। তাই কবরের আযাব থেকে নিরাপত্তার জন্য আজ থেকেই দোয়া, ইবাদত ও তওবার জীবন শুরু করুন। কারণ বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে মৃত্যুর আগে মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য প্রস্তুতি নেয়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবরের আযাব থেকে হেফাজত করুন এবং কবরকে জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান বানিয়ে দিন। আমিন।