26/05/2026
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় এলাকায় গরুর মাংস বিক্রিতে বাধা ও কসাইকে হু'মকির অ'ভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আলমগীর কসাই নামে এক মাংস ব্যবসায়ীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর লিখিত আবেদন জমা দেন। পরবর্তীতে আবেদনটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু আলোচনা-সমালোচনা। তবে পুলিশ প্রশাসন ও অভিযুক্ত কর্মকর্তা এ বাধার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ ও ‘অতিরঞ্জিত’ বলে দাবি করেছেন।
ভাইরাল হওয়া আবেদনে আলমগীর কসাই উল্লেখ করেন, তিনি মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দক্ষিণ জলিরপাড় বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের পাশে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর চাহিদা অনুযায়ী গরুর মাংস বিক্রি করে আসছেন। তার অভিযোগ, গত ১৫ মে (শুক্রবার) দুপুরে সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার আওরঙ্গজেব সেখানে গিয়ে তাকে গরুর মাংস বিক্রি বন্ধ করতে বলেন এবং এ সময় তাকে ভ'য়ভী'তি ও হু'মকি দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর থেকে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে দাবি করে আলমগীর কসাই আগের মতো মাংস বিক্রি সচল রাখতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেন।
তবে অ'ভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার আওরঙ্গজেব। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে এ ধরনের কোনো কথাই বলিনি। মাননীয় সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান স্যারের নির্দেশনায় সেখানে গিয়েছিলাম। স্যার জানতে চেয়েছিলেন, জলিরপাড় এলাকায় অনেকদিন গরুর মাংস বিক্রি হয় না; এখন কে বিক্রি করছেন। সে বিষয়ে খোঁজ নিতে এবং ভবিষ্যতে মাংস বিক্রির আগে যেন আমার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। মূলত এই বিষয়টিই বলতে গিয়েছিলাম।’ এর বাইরে অন্য কোনো হু'মকি বা আ'পত্তিকর কথা বলা হয়নি বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কসাই আলমীগীর বলেন, গত শুক্রবার থেকে আমার গরুর মাংস বিক্রি করা বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসে আমাকে এখানে গরুর মাংস বিক্রি করতে নিষেধ করে গেছেন। তিনি বলেছেন, এখানে গরুর মাংস বিক্রি চলবে না, কারণ এটি স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) নির্দেশ। আমি যদি এখানে পুনরায় গরু জ'বাই করি, তবে আমার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আমাকে কোর্টে দাঁড় করানো হবে বলে হু'মকি দেওয়া হয়েছে। অথচ আমি যে দোকানে ব্যবসা করি, সেটি মসজিদ কমিটির কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া ঘর। আর মসজিদের পেছনেই গাং নদী, যার পাড়ে সম্পূর্ণ ধর্মীয় নিয়ম মেনে র'ক্ত ও ময়লা পরিষ্কার করে এনে আমি মসজিদের সামনে দোকানে মাংস বিক্রি করি। আমি তো কোনো হিন্দুর জায়গায় বা সীমানায় গিয়ে গরু জ'বাই করিনি।