23/05/2025
একটি জাতির না বলা কান্না:
তিনি ছিলেন এক সুশৃঙ্খল সেনানায়ক, এক সাহসী মুক্তিযোদ্ধা, এক দূরদর্শী রাষ্ট্রপতি। যিনি যু*দ্ধ করেছিলেন অ*স্ত্র হাতে, আর শান্তি এনেছিলেন কলম হাতে। যিনি ১৯৭১ সালে রেডিওতে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে গোটা জাতিকে জাগিয়ে তুলেছিলেন, আজ ইতিহাসের পাতায় তাঁর নামটি মুছে ফেলার চক্রান্ত চলে!
১৯৮১ সালের ২৯ মে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে নয়, জনগণের নেতা হিসেবে তিনি পা রাখলেন চট্টগ্রামের মাটিতে। তাঁর নিজের গো*য়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই তাঁকে আগেই সতর্ক করেছিল, সেখানে ষ*ড়যন্ত্র চলছে। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেছিলেন, নিজের ওপর, নিজের সহযোদ্ধাদের ওপর, নিজের দেশের ওপর।
তিনি প্রটোকল নেননি, কারণ তাঁর বিশ্বাস ছিল, যদি একজন নেতা নিজের জনগণের মধ্যে নিরাপদ না থাকেন, তবে সে নেতৃত্বের কোনো মূল্য নেই। এই বিশ্বাসই তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল সেই অন্ধকার রাতের দিকে, যেখানে অপেক্ষা করছিল বিশ্বাসঘাত*কতা, ষ*ড়যন্ত্র আর মৃত্যু।
জেনারেল আবুল মনজুর, যিনি ছিলেন তাঁরই নিযুক্ত, তাঁরই আস্থাভাজন, তাঁরই কাঁধে রাষ্ট্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, সেই মনজুরই এক ভয়ঙ্কর চক্রে জড়িয়ে ষ*ড়যন্ত্র করেন। যে চক্রে নেতৃত্ব দিয়েছিল এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী নারী, যার হাতে গ*ণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছিলেন জিয়া নিজেই। তিনি বোঝেননি, যাদের তিনি জীবন ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, তারাই একদিন তাঁর জীবন কেড়ে নেবে।
সেই রাতেই বজ্রঝড়ের মধ্যে তিনি শেষবারের মতো ফোন করেন তাঁর স্ত্রী, প্রিয়তমা বেগম খা*লেদা জি*য়াকে, যিনি আজ “গ*ণত*ন্ত্রের মা” হিসেবে পরিচিত। তিনি শুধু বলেছিলেন,
“আল্লাহ চায় তো সকালে চলে আসব।”
কিন্তু ভাগ্য তখনই হয়ত লিখে রেখেছিল তাঁর বিদায়ের প্রতিটি লাইন। সেটিই ছিল তাঁর জীবনের শেষ ফোনকল, শেষ বার্তা, একজন স্বামীর, একজন বাবার, একজন রাষ্ট্রপতির।
রাত আড়াইটায়, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে হা*মলা হয়। রকেট ল*ঞ্চার, এস*এমজি, গ্রে*নেড, সবকিছু দিয়ে সশস্ত্র বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রেসিডেন্টের ঘুম ভাঙে বিস্ফো*রণের শব্দে। একে একে তাঁর নিরাপত্তা কর্মকর্তারা প্রাণ দেন। শেষ পর্যন্ত জি*য়াকে লক্ষ্য করে চালানো হয় একের পর এক গু*লি। হ*ত্যাকারী লে. কর্নেল মতিউর রহমান দুটি ম্যাগাজিন খালি করে দেয়, শরীর আর মুখ একেবারে গু*লিতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। একজন রাষ্ট্রপতির দেহ নয়, বাংলাদেশের আত্মাকেই যেন গু*লি করে ছিন্নভিন্ন করা হয়েছিল।
তিনি রাষ্ট্রপতি ছিলেন. কিন্তু জীবনযাপন ছিল সাধারণ মানুষের মতো। রাষ্ট্রপতি জিয়া বিশ্বাস করতেন, “যদি কৃষক বাঁচে, দেশ বাঁচবে।” তাঁর জীবন ছিল পরিশ্রম, ত্যাগ আর আদর্শের প্রতিচ্ছবি।
জি*য়াউর রহমান ছিলেন সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকা এক রাষ্ট্রনায়ক।
যখন বাংলাদেশ সদ্য স্বাধীন, ক্ষত-বিক্ষত, তখন তিনি শুধু রা*জনীতি নয়, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও ভবিষ্যতের দিকেও দৃষ্টি দিয়েছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে পরিকল্পনা করা হয়েছিল যে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ নিজস্ব রকেট উৎক্ষেপণ করবে, মহাকাশ প্রযুক্তির দিকে এগিয়ে যাবে।
তিনি চেয়েছিলেন, বাংলাদেশ যেন শুধু কৃষি নির্ভর না থেকে, টেকনোলজি ও ইনোভেশনের পথ ধরে এক আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়। এই লক্ষ্যেই তিনি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ওপর জোর দেন, এবং বিজ্ঞানমনস্ক নেতৃত্ব গঠনের উদ্যোগ নেন।
তার সময়েই দেশে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প ও আইটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরির পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়, যার ভিত্তিতে পরবর্তীকালেও ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা সম্ভব হয়েছে।
এই মানুষটিই আজ ইতিহাসের সবচেয়ে নি*র্মম ষ*ড়যন্ত্রের শিকার। তাঁকে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল অজানা এক গ্রামে, অচেনা এক কবরস্থানে। কিন্তু ইতিহাস কি ভোলা যায়?
না, জিয়াকে ভোলা যায় না।
জিয়াউর রহমান কে ছিলেন?
→ রাষ্ট্রপতি
→ মুক্তিযুদ্ধের বীর সেক্টর কমান্ডার
→ স্বাধীনতার ঘোষক
→ বীর উত্তম
→ সেনাবাহিনী প্রধান
→ বহুদলীয় গণতন্ত্রের স্থপতি
→ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদের প্রবর্তক
→ SAARC ধারণার জন্মদাতা
→ OIC সদস্যপদ অর্জনের কারিগর
→ কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির বিপ্লবী নেতা
→ পার্বত্য শান্তির স্থপতি
→ বিশ্বদূত হয়ে চীন, সৌদি আরব ও আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক সুসম্পর্ক গড়ে তোলা নেতা
তিনি যখন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনই দে*শবি*রোধী শক্তির গায়ে আগুন লেগে যায়। কারণ তারা জানত, এই মানুষটি বেঁচে থাকলে, বাংলাদেশ কখনো পরাধীন হবে না।
তার মৃত্যু শুধু একজন মানুষকে হারানো ছিল না, একটা স্বপ্নের অপমৃত্যু, এক আদর্শের বেদনার উপাখ্যান। আজও যারা দেশকে ভালোবাসে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করে, নে*তৃত্বের সৎ রূপ খোঁজে তাদের হৃদয়ে জি*য়াউর রহমান চিরজীবী, চির অম্লান।
এই জাতি হয়তো অনেক কিছু ভুলে যেতে পারে, কিন্তু এক অন্ধকার রাতে শহীদ জি*য়ার সেই রক্তস্নাত আত্মবলিদান, তা ইতিহাস হয়ে থাকবে, এক বিশ্বাসঘাতকতার জ্বলন্ত দলিল হয়ে।