03/06/2025
পর্ব ০৩: BHMS কোর্সের পরীক্ষা পদ্ধতি
আপনাদের মধ্যে অনেকেই BHMS কোর্স কারিকুলাম এবং এর পরীক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন।
আজকের পর্বে আমরা জানবো BHMS এর পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে।
বাংলাদেশের অন্যান্য মেডিকেল কলেজের পরীক্ষা পদ্ধতির মতোই সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ এর পরীক্ষা পদ্ধতি চারটি ধাপে বিভক্ত : আইটেম, কার্ড, টার্ম ও প্রফ।
✅ আইটেম : এটি ১০ নম্বরের একটি মৌখিক বা লিখিত পরীক্ষা । শিক্ষক তাঁর লেকচারের ওপর শ্রেণিকক্ষে এ পরীক্ষা নিয়ে থাকেন। আইটেমকে মেডিক্যাল পাসের ‘মৌলিক একক’/ building blocks বললেও ভুল হবে না। প্রতিটি বিষয়কে ছোট ছোট আইটেমে ভাগ করে পড়ানো হয়। পাস নম্বর ছয়।
একটা টপিক খুব সুন্দরভাবে আয়ত্ত করতে হলে আইটেমগুলো সিরিয়াসলি দেয়ার কোনো বিকল্প নেই, কারণ পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে আস্তে আস্তে সিলেবাস আরো বাড়তে থাকে, details এ পরার enough time পাওয়া মুশকিল হয়ে যায়।
✅ কার্ড : সময় ও গুরুত্বের ওপর নির্ভর করে এই পরীক্ষা নেওয়া হয়। একটি কার্ডের অধীনে অনেক আইটেম থাকে, যা পাস না করলে কার্ড ফাইনালে বসা যায় না। কার্ড ফাইনাল পরীক্ষা হবে কি না এটা নির্ভর করে কার্ডের গুরুত্বের ওপর। যেমন এনাটমি বিষয়টিকে ছয়টি কার্ডে ভাগ করা হয়েছে। সব কয়টি কার্ডেই কার্ড ফাইনাল হয়। তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষে গেলে কার্ড পরীক্ষাটা জরুরি নয়। তবে টার্ম ফাইনাল পরীক্ষার মুখোমুখি হতেই হবে। এ পরীক্ষায় পাস করতে না পারলেই বিপদ। পেশাগত পরীক্ষায় বসা যাবে না। পিছিয়ে পড়তে হবে অনেকটা সময়।
✅ টার্ম ফাইনাল : অনেকগুলো কার্ড মিলে একটি টার্ম ফাইনাল। একটি টার্ম শেষ হলে টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা। এতে পাস না করলে পেশাগত পরীক্ষা বা প্রফ-এ বসা যাবে না। টার্ম ফাইনালে বসতে হলেও সব কয়টি আইটেম শেষ করতে হবে। টার্ম ফাইনালকে অনেকটা ছোটখাটো প্রফ এক্সাম এর মত বলা যায়।
✅ পেশাগত পরীক্ষা : ডাক্তার হওয়ার মূল পরীক্ষা। চারটি পেশাগত পরীক্ষা হয়। টার্ম শেষ না হলে পেশাগত পরীক্ষায় বসা যায় না।
BHMS কোর্সে কলেজভিত্তিক পরীক্ষাগুলোয় ৬০ শতাংশ নম্বর পেয়ে পেশাগত পরীক্ষার জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। পাঁচ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৫৫০০ নম্বরের ৪টি Professional (পেশাগত) পরীক্ষায় উত্তীর্ন হতে হয়। সাফল্যের সঙ্গে পড়াশোনা শেষ করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন এর মাধ্যমে সার্টিফিকেটর (BHMS) ডিগ্রি প্রদান করে। এরপরে আপনার নামের আগে যুক্ত হবে বহু আকাঙ্ক্ষিত Dr. নামক পদবিটি।
✅ সাপ্লি: কোন পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে সে ক্ষেত্রে আরেকটি অতিরিক্ত পরীক্ষা যুক্ত হয় যার নাম সাপ্লিমেন্টারি(Supplementary) এক্সাম, সংক্ষেপে সাপ্লি(Supple)।
মেডিকেলে সাপ্লি খাওয়াটা খুবই নরমাল ব্যাপার। নতুন পরিবেশ, হতাশা, অসুস্থতা (শারিরীক, মানসিক), সঠিক পরিচর্যার অভাব সহ আরো বহুবিধ কারণে একজন মেধাবী মেডিকেল শিক্ষার্থীও সাপ্লি খেতে পারে। তাই এটাতে হতাশ না হয়ে পূর্ণোদ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা লালন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।